Showing posts with label কবিতা. Show all posts
Showing posts with label কবিতা. Show all posts

Friday, 22 February 2019

বিক্রয় মূল্য

বিক্রয় মূল্য
ইমেল নাঈম

ঢেকে যাচ্ছে দূরের আলাপন। মেঘ ছুঁয়ে যাচ্ছে ভ্রান্তিকাল।
মুহূর্ত মুছে যাচ্ছে, নিয়ে যাচ্ছে অহেতুক কালিমা—
পথ এঁকে নিচ্ছে নির্বাক সময়ের নির্যাস—
হাতের রেখায় মুছে যাচ্ছে প্রান্তিক আলাপের দুঃখ।

ছুঁয়ে দেখছি নিজের জন্য রাখা সময়গুলোকে
ভুলো মন ভুলিয়ে দিচ্ছে, হারিয়ে ফেলছি নিজেকে।
ক্রোধের সংজ্ঞায় রেখে দিচ্ছি নীরবতার ভাষা...।
ক্রান্তিকালে লিখে রাখছি জীবনের কিছু আয়োজন

মুছে যাচ্ছে জীবনের দিনপঞ্জি, গৎবাঁধা রুটিনের
ফাঁকে অশ্রুজলে ভিজিয়ে নিচ্ছি দিনের ক্লান্তি
থাকুক কিছু সময়— কথারাও বিমূর্ত হয় শুধু—
জীবন আঁকড়ে ধরছি, বিনিমিয়ে অপ্রাপ্তির খাতা
ভর্তি হচ্ছে মহাকালের নামে, মূর্খমুখ মূক নই।

বধিরতা কেটে যাচ্ছে— নিয়ে যাচ্ছে দূরের পথে
নিজেকে নিয়ে আয়োজনগুলো ক্রমাগত ব্যর্থ হয়
মূর্ছনা থেমে যাক— ঢাকবো নিজেকে কালো কাপড়ে...

মুহূর্তে, বিমূর্ত আলাপনে টিকে থাকে কাহিনির শেষে
আবরণে ঢেকে থাকে অচেনা প্রচ্ছায়া, নিজেকে ফেরি
করছি, বেচে দিচ্ছি চোখের জলে, গায়ে ক্রয়মূল্য লেখা—
যেন অপ্রাপ্তির জীবন তাড়া করে পলাতক আসামি...

Monday, 21 January 2019

নিষ্প্রাণ নগরী

নিষ্প্রাণ নগরী
ইমেল নাঈম

গাছেরা কবিতা পড়ে না বলেই সিমেন্টের গাছ পুঁতছ নগরজুড়ে...
আপত্তিগুলো এখনো মাথাচাড়া দিয়ে জানান দেয়, 'আছি'
মাঝে বয়ে যায় অজস্র না জানা নহর, চোরাবালির সৈকত
অপেক্ষায় পেরিয়ে যাচ্ছে হরিত দৃশ্যপট, খুঁড়ে ফেলেছি রাস্তা...

নদীর পানিতে কারখানার ক্যামিকেল, নাব্যতাহীন নদীর
আছে ফেলে আসছি জাগতিক অভিমান, অভিনয় শেষে
হিসাব করিনা, কে সুখী? কতটা পারদ উঠলে উষ্ণতা
মাপা যায় অসুখের। বিত্তের পিছনে দৌড়ছে দোপেয়ে।

অর্থ দিয়ে কিনছে সামাজিক সম্মান, প্রভাব প্রতিপত্তি।
পাড়ায় পাড়ায় বাড়ছে উপাসনালয়, বাড়ছে অন্যায়
তার সমান্তরালে পাল্লা দিয়ে? কিশোর চোখ ডুবেছে
মুঠোফোনে, অন্তর্জালের খেলায়, সামাজিক মাধ্যমে...

কারো কাছে নেই অভিযোগ, অন্ধকারের পথে ছুটছি শুধু
আলো নেই, দূরের টানেলে কেবলই বিভীষিকার মরিচীকা
বিনিদ্র জীবন যেন এক্সিবিশন, আমরা সবাই ক্লাউন...
বিচিত্র অঙ্গভঙ্গিতে ঢেকে দিচ্ছি শৈশবের সকল আয়োজন।

মুছে যাচ্ছে সবুজের পাঠ, কৃত্রিম আবেশ ছড়াচ্ছে সৈকত,
বুকের জমিনে অনন্য এক হাহাকার, অভিধানজুড়ে শূন্যতা।

Friday, 18 January 2019

ক্ষরণ

ক্ষরণ
ইমেল নাঈম

দরজার ওপাশে কেউ অপেক্ষায় থাকে
বিমূর্ত শব্দগুলো খেলছে— দূরত্ব আঁকা
শেষ হলে অচেনা হই আমরা।

দিনান্তের সিগন্যালগুলো ধ্রুপদী স্পন্দন
নিয়ে থেমে যায়— ফানুশ ওড়া আকাশ
লিখে রাখছে নিঃসঙ্গতার মুহূর্ত।

প্রসঙ্গ বদলে যাক। আমাদের হিসাব
গোপনে রেখে দিচ্ছি— মুচলেকায় রেখেছি
পালিয়ে যাবার সব উপকরণ—
বিনির্মাণে লুপ্ত হচ্ছে বাসনা—

মুখস্থ বিদ্যায় রাখছি জীবন,
প্রজাপতি নয়, উড়ে যাচ্ছে ডানা
শান্ত নদীর কাছে পেতেছি হাত—

বয়ে যাচ্ছে শ্রান্ত, ক্ষান্ত জীবন
ক্ষয়ে যাওয়া পাড়ের মতো।

Thursday, 6 December 2018

মনোলগ

মনোলগ
ইমেল নাঈম

সম্ভাবনার দ্বার খুলে যায় প্রলয়ঙ্করী ঝড়ে
রাতের ক্যানভাসে দৃশ্যত কিছুই নেই
ত্রিভুজ সাইনে ফিরে ভুলের বহর
রক্ষাকবচের জোরে আটকে ফেলি একবৃত্তে
নির্বাসন লিখে রাখছি রু'এ...পালিয়ে যাচ্ছি...

দুর্বোধ্য কিছু সাংকেতিক চিহ্ন, মানে খুঁজতে
বসে পার করে দিচ্ছি দিনের সিংহভাগ
মনোটনাস একটিভিটি, প্যারানরমাল টার্মসে
ফিরে আসছে রিউইন্ড করে আমার কাছে
গর্জন শুনি সাগরের, প্রতিধ্বনি পাহাড়ের।

ছিঁড়ে ফেলেছি যত বাঁধন, প্রশ্ন করছি
না নিজেকে এভাবে। উত্তর খুঁজছি না।
তোমার জন্য নীলপদ্ম...
প্রহসনের পড়ন্ত বিকাল...
দিনের হিসাবের ব্যর্থতা...

দিনশেষে শূন্যতার যাপন হয় বিবর্ণ মনোলগ।

Sunday, 2 December 2018

মিউজিক

মিউজিক
ইমেল নাঈম
(উৎসর্গঃ শবরী শর্মারায়)


থেমে যায় হুটহাট— সময় হয় নি যদিও থামবার

শিহরণ মেপে রাখি, সুরেলা সকালের হাতছানিতে
এলভিস নয়, আজ খেলছে অন্য কোনো মুখ

ব্যারিকেডে দিনান্তের প্রাচীর টানা, শূন্যঘরে বিনিদ্র
অবয়বে নস্টালজিক মিউজিক উড়ে বেড়ায়,
এ'ঘরে ও'ঘরে ঘোর জাগানিয়া, মন কেমন করা
একটা রেশ টেনে থেমে গেছে হাওয়াই গিটার।

শূন্যতা...এরপর থেকে শূন্যতার গান গাইছি
পিয়ানোতে ভেসে আসে সকালের নৈঃশব্দ্য
শরত সকাল নিজেই যেন ব্লুজ অ্যান্ড রক
ভিজিয়ে দেয় তোমার চোখ, কপাল, বুক

আত্মসুখে আমিও নীরবে দাঁড়িয়ে থাকি
গিটার নিশ্চল— কেবলই পিয়ানোতে টুংটাং—
গান হয়ে বাজছে দূরবর্তী ভালবাসার সিগন্যাল।

Saturday, 1 December 2018

সিস্টেম

সিস্টেম
ইমেল নাঈম

ডার্ক হিউমারে চেপে আসে গোলাপি দুঃখ
লাইক চাই — কমেন্ট হলে আরো ভালো
নারীদেহকে জীববিজ্ঞানের প্রেকটিক্যালে
কাঁটাছেঁড়া করতে বসি সুযোগ পেলেই।

সাইবার সেলের কর্মক্ষমতায় হাসির রোল
চার থেকে ষাট, সবটাই কেবল মাংসপিণ্ড
স্ট্যান্ডার্ড স্ট্যান্ডার্ড খেলায় মুখবইয়ের
অভিযোগের খাতা অজুহাত হয়ে ফেরে।

বুকের পাটা বেড়ে দাঁড়ায় সাড়ে বত্রিশ
অহংকারে খেলে যায় আগাগোড়া
সমাজ শেখাচ্ছে অসহিষ্ণুতার পুরাণ,
আইনের হাত লম্বা হয়ে নাগালছাড়া
পঞ্জিকা পালটায় সাড়ে আঠারো মাসে

পত্রিকার কাটতি বাড়ে — মুখবইয়ে আড্ডা
মোমবাতি জ্বলে, কালো পতাকাও ওড়ে।
মধ্যবিকালে নামে মিছিল, অন্যকিছু নয়।

ডার্ক হিউমার মিম, তাতে ছড়ায় দুর্গন্ধ
নারী শত্রু নারীর, পুরুষ ব্যস্ত মাপজোখে
রাস্তায় বাড়ছে কুস্পর্শ — শরীর মাংসপিণ্ড
আর মুখবইতে কিছুদিনের চিৎকার...

কবির কবিতারা ব্যর্থ রোজকার মিছিলে
দিনশেষে শুয়োরেরা গায় মানবতার গান।

Friday, 30 November 2018

রোজনামচায়

রোজনামচায়
ইমেল নাঈম

১।
বিচ্ছেদ আঁকা হলে শ্বাশ্বত প্রেমগুলো খসে পড়ে
প্রাচীন দেয়ালের পলেস্তারার মতো, নীরবতা
ছুঁতে চায় আমাদের কাল্পনিক অবসাদ।
অথচ আমরা প্রতিদিন সঙ সাজি নৈঃশব্দ্যে।

২।
পাললিক বিন্যাসের তিনটি স্তরে লুকানো প্রেম
ছুটে চলে চেনাজানা গলিপথ বেয়ে, পরের
তিনটি স্টপেজ পেরোলেই খালি উদ্যান
ত্রিমাত্রিক ডাইমেনশনে শুধু শূন্যতা গায় গান।

৩।
চুপচাপ এঁকে ফেলছি দুর্বোধ্য সব চিত্রশিল্প
অথচ ফাইন আর্টস নিয়ে ধারণা নেই আজো,
নিবেদিত প্রেমের কথা শুনে গেছি আজতক
দেয়াল ঘড়িতে রেখে দিচ্ছি নাগরির উষ্ণতা।

৪।
মুছে যাচ্ছে জীবনের সরল সমীকরণ, প্রান্তিক
মানুষগুলো নিজেদের নিয়ে খুব ব্যস্ত থাকে
ডান হাত রাখে না বাম হাতের কোনো খবর
বাম অলিন্দের ব্যথা বুঝতে পারেনা ডান
দূরন্ত হিসাবে বেহিসাবি থাকে দৈনিক প্রেম।

৫।
সব শেষ হলে পাখিদের ভাষাও হয় ক্যাকোফনি।

Thursday, 29 November 2018

বিভ্রান্তি মাখা প্রেম

বিভ্রান্তি মাখা প্রেম
ইমেল নাঈম 


তবে কী শুধুই বিভ্রান্তি লেখা! কোথাও কী নেই আলো?
ছুটে চলেছি প্রশ্নের পিছনে। উত্তর নিয়ে ভাবি নি।
নিজেকে দাঁড় করাই নি কোনো কাঠগড়ায়,
নীরবতার মানচিত্রে মৌন হয়ে ফিরছি
শব্দহীন মিউজিকে ভেসে আসে দিন বদলের গান।

অনুভব করো গোপন চোখ দিয়ে, তৃতীয় চোখে ভেসে
আসবে চাওয়া-পাওয়ার সূক্ষ্মাতিসূক্ষ্ম সব অংক
মিলবে না অনেক কিছুই, তবু ভ্রান্ত আশ্বাস
দেবে তোমাকে ঝাউ বনের স্নিগ্ধ অনুভব।
অকারণেই তুমি বুঝে নিবে সুখ মানে অন্যকিছু।

মানে খুঁজতে খুঁজতে নিজেকে নিয়ে যাবে ভুল পথে
ঈশ্বরকে প্রশ্ন করতে চাইবে। জায়নামাজজুড়ে
শান্ত এক ফল্গুধারা, নিজেকে নিয়ে ব্যস্ততম
দিনের সূচনা হবে অস্থিরতার কোরাসে।
মন্দিরে, গির্জার ঘণ্টায় থাকবে শান্তির আহ্বান,

দিনশেষে আমরা ছুটে যাবো এই ঘর থেকে অন্য ঘরে
ঘোরে, মোহে রেখে যাবো প্রেম নামের ব্যর্থতা,
মুছে যাবে সব নাম, আমরা অমরতার লোভে
চাষাবাদ করে যাবো ভুল প্রেমের মন্ত্র।
ইশকুল ঘরের দেয়ালে ঝুলবে কবিতার লাইন

অথচ, সবটাই বিভ্রান্তি মাখা, কোথাও নেই আলো।

Wednesday, 28 November 2018

নির্জনতার ক্যানভাসে

নির্জনতার ক্যানভাসে
ইমেল নাঈম


দ্রুত পেরিয়ে যাচ্ছি অন্ধকারাচ্ছন্ন অলিগলি
নম্রতার ব্যাকরণ ভুলেছি— হারিয়েছি অবিধান
ওল্ড টেস্টামেন্টে লেখা নেই কিছু... ধূসর...

মুখের দেশে মূকাভিনয়ের জয়োল্লাস শুনি
ক্লান্তিকর যাত্রায় লিখে রাখছি দিনের পরাজয়
কোমলতা ভুলেছি... আকর্ষণহীন এক স্পর্শকে
উপভোগ করি নির্জনতম একাকীত্বের আসরে

চুপিসারে বদলে যাচ্ছে আমাদের ভাষারীতি
নীতি বাক্যগুলো গেছে পুরনো বইয়ের ভাঁজে
হাহাকার জন্মানো জীবনকে খুঁজে চলেছি—
লাজহীন একটা সত্তা ছুটছে কবিতার মোড়কে

অনন্ত সময়ের হাতেখড়িতে লিখে রাখি নাম
প্রতিদানে মিলে গেছে প্রহসনের সুরের ব্যঞ্জনা
যাত্রা শেষ হয়—
মূর্ছনা থেমে যায়—
বিনয়ের মোড়কে ফিরে আসে কালচে অহংকার

ক্ষতবিক্ষত শরীরে লিখে রাখি পতনের সিম্ফনি
পিয়ানোর সুরে বেজে যায় মন ভাঙা গান
মঞ্চে উপস্থিত সুন্দর মুখের ভিড়ে চুপচাপ
বেরিয়ে আসে শরীরের ম্লান, উষ্কখুষ্ক আবরণ।

Tuesday, 27 November 2018

নির্জনতার ক্যানভাসে

নির্জনতার ক্যানভাসে
ইমেল নাঈম


দ্রুত পেরিয়ে যাচ্ছি অন্ধকারাচ্ছন্ন অলিগলি
নম্রতার ব্যাকরণ ভুলেছি— হারিয়েছি অবিধান
ওল্ড টেস্টামেন্টে লেখা নেই কিছু... ধূসর...

মুখের দেশে মূকাভিনয়ের জয়োল্লাস শুনি
ক্লান্তিকর যাত্রায় লিখে রাখছি দিনের পরাজয়
কোমলতা ভুলেছি... আকর্ষণহীন এক স্পর্শকে
উপভোগ করি নির্জনতম একাকীত্বের আসরে

চুপিসারে বদলে যাচ্ছে আমাদের ভাষারীতি
নীতি বাক্যগুলো গেছে পুরনো বইয়ের ভাঁজে
হাহাকার জন্মানো জীবনকে খুঁজে চলেছি—
লাজহীন একটা সত্তা ছুটছে কবিতার মোড়কে

অনন্ত সময়ের হাতেখড়িতে লিখে রাখি নাম
প্রতিদানে মিলে গেছে প্রহসনের সুরের ব্যঞ্জনা
যাত্রা শেষ হয়—
মূর্ছনা থেমে যায়—
বিনয়ের মোড়কে ফিরে আসে কালচে অহংকার

ক্ষতবিক্ষত শরীরে লিখে রাখি পতনের সিম্ফনি
পিয়ানোর সুরে বেজে যায় মন ভাঙা গান
মঞ্চে উপস্থিত সুন্দর মুখের ভিড়ে চুপচাপ
বেরিয়ে আসে শরীরের ম্লান, উষ্কখুষ্ক আবরণ।

Wednesday, 21 November 2018

একগুচ্ছ নিঃসঙ্গতা

একগুচ্ছ নিঃসঙ্গতা
ইমেল নাঈম

১।
কেউ ফিরে আসে, আবার কেউ চলে যায়
প্রলোভন আটকে ফেলে কোনো এক প্রেমিককে
এরপর অপেক্ষা...সম্মোহনী শক্তিকে পাশ
কাটিয়ে চলে যায় ঘড়ির উল্টো পথে

২।
একোরিয়ামের বিলাসিতা পেট বুঝতে পারে না
শুধুই হিসেব করে— সাদা খাতায় পেন্সিল
দিয়ে আঁকিবুঁকি খেলে, ইরেজারে মুছে দেয়
দাগ মুছে গেলে শুরু হয় সান্ধ্যকালীন ক্লাস
আমি শিখে নিই নিঃসঙ্গতার শৈল্পিক অনুরণন।

৩।
পথে নামতে অনীহা। তবু তুচ্ছ কিছু শব্দের
কাছে নতজানু হয়ে থাকি, ঘাড় নিচু, শব্দহীন
আকাশ বদলে গেছে, মেঘ জমছে তুলোর মতো
ভ্যাঁপসা গরমে টলমল করছে শিরা উপশিরা
হাতঘড়িতে সময় মাপছি জীবনের দামে।

৪।
পালটে যাওয়ার সহজ সূত্রগুলো আওড়াই
গাণিতিক বিন্যাসে রেখাপার করি একাকীত্ব
ক্যালকুলেটরে হিসেব করে ফেলি অবসর
নীরবে সহবস্থান ছেড়ে সরে যায় দূরে,
পথে ঝরেছে পারিজাত, ইরানি জাফরান...

৫।
নিঃসঙ্গতা পড়া শেষে বাকি থাকে আরো
এক অধ্যায়— যা আগাগোড়া মোড়ানো
থাকে সাসপেন্স আর অজানা শিহরণে।
বরাবরই অধ্যায়টি অপঠিত থেকে যায়...

Tuesday, 20 November 2018

কবিতা

কবিতা
ইমেল নাঈম

অনেক দিন কেটে গেছে, প্রাচীর টেনেছি সম্পর্কে।
রুক্ষতা আঁকা শেষ হতে বিষণ্ণ ময়ূরকণ্ঠী ভাসে
জলটুকু এঁকে নিচ্ছে কবি তার কবিতায়
তার উপর কল্পনায় ভাসিয়ে দিচ্ছে পানকৌড়ি
মাছরাঙার আহার দৃশ্য, মাছের লুকোচুরি খেলা

বিমূর্ত ব্যাপারগুলো পানসে হয়ে ওঠে একলহমায়
একলব্য ঐকতান, উড্ডীন বেদুইন পাখির ঝাঁক,
নিজেকে নিয়ম করে ব্যবচ্ছেদ করা হয় না আর
এখানে গা ভাসিয়ে দিচ্ছি হাওয়ার অনুকূলে
এভাবে ভাসতে ভাসতে মিলে যেতেও পারে নীড়

অভ্যস্ত কবিতার বাঁকে কিছু মরীচিকা প্রলোভন
হাতছানি দিয়ে ডাকে ধ্রুপদী সংগীতের আহ্বানে
সাড়া দিতে গিয়েও পিছুটানে ফিরছি বারবার
পিছুটানে আটকে ফেলেছি, সময় আটকে গেছে
নিজেকে নিয়ে ব্যস্ত হবার মন্ত্রে ভুলে যাচ্ছি সব

হলদে সোডিয়াম নগরীতে মফস্বলি ঘ্রাণ আসে,
আকাশছোঁয়া অট্টালিকার পাশে বসিয়ে দিই
টিনশেডের ঘর, কাল্পনিক বিন্যাসে অম্লান সব
সব হারানোর মিছিলে অনেক কিছুই জুড়ি
সব মিলাতে গিয়ে দেখি এক গভীর অমানিশা
হা করে তাকিয়ে আছে গিলে খাবার জন্য...

Sunday, 18 November 2018

মেয়াদ উত্তীর্ণ মেডিসিন

মেয়াদ উর্ত্তীণ মেডিসিন
ইমেল নাঈম

ভুলে গেছি— মনে রাখি না অনেককিছুই
হাহাকারে পুড়েছে আমার যাপিত জীবন
আস্তানা ছেড়েছে মধ্য দুপুরের দুঃখ
বিবর্ণ বুকে নীরবতা লিখছি আনমনে,
ভুল প্রাচীরের পলেস্তারা খসে যায় শুধু।

প্রচারণার বাইরে অন্য এক জীবন ডাকে
প্রতি পরতে লিপিবদ্ধ মৌন দুঃখমালা
নীরবতাকে মিলিয়ে নিচ্ছি কবিতায়—
ডায়রিতে অবহেলার ধুলো, মোবাইল
স্ক্রিনে হাহুতাশ, কিবোর্ড থামে অবেলায়
জীবন মানে দাঁড়ায় বিষণ্ণ রূপক,

রূপকথায় আটকে ফেলেছি নিজেকে
প্রাচীরে খোদাই করা বাক্য, যোগ অংক
শ্যাওলা জমা ইটের সলিং, কুয়াশা
ভেজা পিচ্ছিল পথ, রূপকের ভিড়ে
নির্মম সত্য উঁকি দেয়— পরীক্ষা করে

নৈতিকতার পাঠ চুকেছে অনেক দিন
এরপরও গিলাফ জড়ানো বই রেখে
যাও সামনে— খুলে দেখি নি, ভিতরটা
আজো বুঝতে পারি নি, মন মাজারে
অবহেলার পাপপুণ্যর হিসাব করি শুধু

প্রাপ্তিফলে অবহেলার স্তূপ জমেছে
মেয়াদ উত্তীর্ণ মেডিসিনে।

Friday, 16 November 2018

ভুলের মাশুল

ভুলের মাশুল
ইমেল নাঈম

হাওয়া বদলে যায়, হয় ঋতুর পরিবর্তন
কোনো ভুলের মাশুল বুকে চেপে অপেক্ষায়,
কার্নিশে জমেছে ধুলো, অপেক্ষমাণ শব্দের
পরে বসে থাকি অন্যের স্মৃতির পাতায়।

নিজের জন্য সময়গুলোকে ছুটি দিয়ে দিই
প্রায়শ্চিত্ত করতে হয় রোজকার অভিনয়ের,
হাঁপিয়ে যাচ্ছি— ক্লান্তিহীন ছুটে চলায়
নিজেকে প্রশ্ন করছি, উত্তর খুঁজছি কেবল

গতজন্মের পাপের হিসেব করি, আজন্ম
ভুলের মানুষ, মাশুল দিতে দিতে ব্যস্ত সময়
পার করি, ভাবি— অর্থহীন সময়ের মূল্য...

ভাবলেশহীন মুহূর্তের কাছে পেতেছি ঋণ,
আক্রমণ প্রতি আক্রমণে বদলেছে দিনকাল
করিডোরে পায়ের ছাপ দেখে আতঙ্কিত
নিজেকে তুচ্ছ ভেবে হীনমন্যতায় ভুগছি

শুধরে নেওয়ার পালা, আমার অতর্কিতে
ঢুকে পড়া ভদ্র মানুষের আবাসে, দক্ষিণা
জানালায় ঘোরলাগা বাতাসে ঋণপত্র লিখি
নিজেকে হারানোর পরে বাকি নেই কিছু।

মিছিলে মিছিলে লিখি অচ্ছুতদের হারমনি
সর্বহারার গান গাই— আঙিনায় আঙিনায়।

Thursday, 15 November 2018

দুঃখ বিতান

দুঃখ বিতান
ইমেল নাঈম

প্রত্যাবর্তনের গন্ধ গায়ে লেগে থাকে। অপেক্ষা...উপেক্ষা...
পেরিয়ে যাওয়া শহুরে জ্যাম, তার বিবরণীতে ঘুরেফিরে
উড়ে আসে একই কথা। এলফেবেটিক্যাল বিন্যাস নয়,
এখানে লিপিবদ্ধ যা কিছু তার সবটাই প্রাগৈতিহাসিক।

প্রহসনগুলো শুনেছি এমনই হয়, রঙ মাখানো আবরণে...
সত্য নয়, ঢেকে রাখি মায়াবী মিথ্যেগুলো, সলতে আলোয়
ঢাকা পড়ে যায় পুরনো সবকিছু। স্মৃতি হাতড়ে দেখি
মুসাফিরজীবন চলে যায় হেঁটে রাস্তা ধরে দূরে বহুদূরে।

আমাদের জীবন সর্বোচ্চ এক হাজার টাকার প্রাইজবন্ড
নিজের জন্য ব্যস্ত সময় কাটাই, পৃথিবী হলো সরাইখানা।
নিজ ঘরেই নিচ্ছি অবসর, অবকাশ শেষে কিছুই থাকেনা
নিজের মতো, সাজিয়েগুছিয়ে নিচ্ছি নিজস্ব মালামাল...

প্রতারক সময়ের কাছে ধর্না দিই, হারাচ্ছে সুখসমগ্র
ভরছে প্রতিটি পাতা দুঃখদের খণ্ডকালীন আসাযাওয়ায়
সুনিপুণ সম্পর্কগুলো দেখি নিজেকে মাপছে নিক্তিতে
আজ তারা পাকা জহুরি, সবটুকুই মেপে নিবে নির্ভুল।

দুঃখদের সমাবর্তনে দেখি অসুখী মুখেরা অভিনয়ে ব্যস্ত
ক্রমশ আলাদা হয়ে পড়ি তাদের থেকে। মূকাভিনতা নই,
গড়েছি দুঃখ বিতান, নিজেকে স্বল্প মূল্যে বেচবো বলে।

Wednesday, 14 November 2018

স্বেচ্ছা নিঃসঙ্গতা

স্বেচ্ছা নিঃসঙ্গতা
ইমেল নাঈম

লারেলাপ্পার মতো ছুটে চলা, খেলাচ্ছলে
হারিয়ে ফেলছি নিজের সবটুকু
ভুলের মাশুল গায়ে চাপিয়ে ছুটছি
চলছে মুঠোমুঠো প্রেম আর চোখভর্তি
নিঃসঙ্গতার পাশাপাশি একান্ত সমাবেশ —

গল্পের মতো হারিয়ে ফেলেছি প্লটগুলো
নায়ক নায়িকার ভিড়ে পার্শ্বচরিত্রটিও
মুখ্য হয়ে ওঠে। আর; প্রান্তিক সংলাপে
মুখরিত হয়ে উঠে আমাদের মুখোশ।
বলে, শব্দ নয়, প্রতীক্ষা নয়, শুধুই
আস্ফালন... আর ব্যর্থতার মন্ত্রবিলাপ।

হেঁটে যাওয়া হয় রোজ, মখমলে ঘাস
পেরিয়ে যেতে যেতে আয়োজন করি
একাকীত্বের, ব্যস্ত সড়কে ব্যস্ত ফুটপাতের
মানুষগুলো একেকটি নিঃসঙ্গতার বিজ্ঞাপন
প্রেমিকার প্লাস্টিক হাসি দেখে বিমর্ষ হই
প্রেমিকের চোখজুড়ে থাকে নীল প্রতারণা।

মন যাপনের মুহূর্তগুলো বন্দী সিগারেটে
প্রতি ধোঁয়ায় উড়ে যায় চলমান দুঃখবোধ
ক্রমাগত শূন্য হয় ফুসফুস, বেরিয়ে আসে
ভিতরের হতাশাগুলো, কিছুটা সময়
নিজেকে বিক্রি করে দিই স্মৃতির কোলাজে

বদলে যাওয়া মানুষগুলোকে মমি করে
রাখি বুকের বাঁপাশে, নিঃসঙ্গতার সমান্তরালে।

Sunday, 11 November 2018

একগুচ্ছ কোরাস

একগুচ্ছ কোরাস
ইমেল নাঈম

১।
বিক্রি করে দিচ্ছি নিজেকে,
মানে নেই করেও এড়িয়ে যাচ্ছি খুব
অপ্রাপ্তির খাতায় এখনো বিষণ্ণতা
উঁকি দিয়ে যায় পলাতক সাইরেনে।

২।
এড়িয়ে যেতে যেতে অচেনা হবো
একদিন থাকবে না কারো পদচিহ্ন
জীবনের রঙধনু রঙ মলিন হয়ে
ঝুলবে শুধু চিত্রাঙ্কন খাতায়

৩।
থেমে যাচ্ছি আবার দৌড়াচ্ছি...
হাঁপাচ্ছি কিন্তু গন্তব্য পাচ্ছি না খুঁজে
অদ্ভুত একটা চক্রযাপনে আটকে
ফেলেছি নিজেকে, শেষ দেখবো
বলে দৌড়াচ্ছি শুধু একই চক্রব্যূহে।

৪।
নীরবতাও একটা ভাষা, কথা বলে
সে ধ্রুপদী সংগীতের মতো, ঈজেলে
আঁকা ছবির মতো সেও প্রাণবন্ত
প্রেমিকের হৃদয় ভাঙলে পরিপূর্ণতা
পায়, শেষ হয় ভাষা শিক্ষার ক্লাস।

৫।
প্রেমিক হবো বলে এখনো অপেক্ষায়...
মুখ শীতের সকালের চেয়েও রুক্ষ
নিজেকে প্রেমিক ভাবছো, অথচ
জীবন গাইছে নিঃসঙ্গতার কোরাস।

Saturday, 10 November 2018

নিলাম

ছুটে চলার মন্ত্রটুকু আওড়ে নিই সবার অলক্ষ্যে
দোদুল্যমান দশার পুণরাবৃত্তি দেখছি শুধু
প্রান্তিক দৃশ্যপট মলিন হয়ে ওঠে

কিছু শিহরণ মুকুলে ঝরে যায় অকাল বাতাসে
তেজহীন পৃথিবীকে কিনে ফেলছি পেট্রোডলারে
বখে যাওয়া মানুষগুলোর হাসি জানান
দেয়— নাগরিক বিষণ্ণতা।

উপড়ে ফেলেছি শিকড়, শিখরে যাবার অদম্য
ইচ্ছেটাও ইঁচড়েপাকা অনুভব নিয়ে পালায়
নাগরিক রাজপথ শীতের বৃষ্টিতে ভিজে
অদৃশ্য কালিতে লিখে ফেলে নৈসর্গিক কালিমা

রাত বাড়লে হাসি নির্জনতাকে আবিষ্কার করে
ভুল বৃত্তে ঘুরেফিরে আসি শুরুর বিন্দুতে
নির্বাক শব্দের শেষে প্রহসনের মুহূর্ত
জেগে থাকে একক সঙ্গি হয়ে।

নিথর হয় প্রকৃতি। আটকে যায় মধ্যবিত্তের
ঘড়ি— অসহায়ত্বের মাপকাঠিতে
নিজেকে তুলে দিই বেনামী নিলামে।

Friday, 9 November 2018

গালগল্প

গালগল্প
ইমেল নাঈম

দিনের শেষে কাল্পনিক গল্পের আনাগোনা হয়
ভুলের পাহাড় চেপে উড়ে যেতে পারে
আমাদের দৈনন্দিন দুঃখের চাষাবাদ
বিনিময়ে কিছুই থাকছে না হাতের মুঠোয়।

প্রাঞ্জল কিছু অনুভূতি ব্যর্থ হয়ে ফিরছে,
গোল্ডফিশের মত স্মরণশক্তি, ভুলে যাচ্ছি
হিসেবের বাইরের যাবতীয় হিসাবনিকাশ
স্বল্প স্বল্প করে রুদ্ধ করে ফেলছি নিজেকে

পাহাড়ের রুক্ষ্মতা পড়া হয় নি আমার
নীলাভ আকাশকে এখনো চেনা হয় নি
নীরবতার ভাষা বুঝতে বুঝতে ভুলে
যাচ্ছি চেনাজানা ভাষা, চোখের ব্যাকরণ।

কম্পাসে আঁকছি, শূন্যতার বৃত্ত। দূরবর্তী
মাস্তুলের আলোর চিহ্নকে মুখস্থ করছি
বিষণ্ণতার ভাষাকে আয়ত্ত্ব করার জন্য
রাতদিন বসে থাকি, বিবর্ণ মুখের ইশারায়।

বিবরণে লিখে রাখছি নির্বাক কিছু প্রহসন
চুপিসারে একানে ওকানে রটে যায় গালগল্প।

Thursday, 8 November 2018

ব্যক্তিগত কড়চা

ব্যক্তিগত কড়চা
ইমেল নাঈম

ভাবতে ভাবতে কেটে গেলো বেলা, থেমে যাবার
আগে একবার দেখো ডানে-বামে
আত্মবিশ্বাস না থাকলে পা চালিয়ো না
বরং অপেক্ষা করো, একটু ভিড় কমুক
আর তখনই না হয় পেরিয়ে যাবে দৃষ্টিসীমা

আমি মুগ্ধ দর্শক, সার্কাস ভেবে বসে পড়েছি
ভুল করে, তোমাকে দেখে আটকেছে মনোজগৎ
আর সবকিছু তুচ্ছ, ব্যস্ততার বিজ্ঞাপনে
একদণ্ড স্বস্তি নেই, শুধুই প্রচার প্রচারণা...
স্পষ্ট যা কিছু ক্রমাগত ঝাপসা হয়ে আসছে।

ফোকাল পয়েন্ট থেকে সরে যাচ্ছে মনোযোগ
আর শূন্যস্থানে জায়গা করে নিচ্ছে অন্যকিছু
ট্রাফিক সিগন্যালে আটকেছে যানবাহন
রাস্তা পারের বিশাল ভ্রমণ শেষ করলে তুমিও

নিষিক্ত অনুভবে শুষ্কতা মাপছি অবেলায়
দক্ষতার মাপকাঠিতে অপরিপক্ব খেলোয়াড়
নিজেকে নিয়ে উঁচুদরের ভাবনা নেই
দাঁড়িয়ে থাকা ছাড়া আপাতত কাজ নেই
প্রতীক্ষা নেই, কল্পনা নেই, সবই নিরুত্তাপ...

আমাদের ব্যক্তিগত পরিভ্রমণে কেউ কাউকে
অতিক্রম করে যাই নি, দুজনেই ছুটছি
ভিন্ন কোনো কক্ষপথে, ব্লু মুনের মতো
দীর্ঘ অপেক্ষার পরে পাশাপাশি এসে দাঁড়াই,

দেখা হয় আমাদের অল্প কিছু মুহূর্তের জন্য
আর ভাবি, হরিত বিষণ্ণতাও কত সুন্দর!