Showing posts with label দিনলিপির আয়োজন. Show all posts
Showing posts with label দিনলিপির আয়োজন. Show all posts

Sunday, 24 December 2017

দিনলিপির আয়োজন - ৬

দিনলিপির আয়োজন - ৬ 
ইমেল নাঈম

বিচ্ছেদের গল্পে গলে পড়ে মোম। গচ্ছিত উচ্ছিষ্টাংশটুকুও জমে থাকে অব্যবহৃত। ব্যাবচ্ছেদে জন্ম নেয়া নিঃশ্বাসটুকু মুছে যায় অবহেলায়। ছাড়পত্র পেলে উড়ে যেতে পারে পোষা জাপানিজ ক্রিস্টেড। পৃথিবী ছোটো, অল্পেই মিশে যায় ধুলোয়। বিবর্ণ সময়ের মারপ্যাঁচে ক্রুর সময় এগিয়ে চলে মধ্যবিত্ত সমাজের হাতেখড়িতে।

বুকে শীতকালীন উষ্ণতা। মাফলার জমানো ঠাণ্ডায় ইট পাথরের সভ্যতায় কেবলই কাঁটা ছেড়া। সময় মাপছি। নিজেকে নিয়ে মেডিটেশন। মনছবিতে কেবলই রূপকথা। মনোযোগ হারিয়ে ফেলেছি তান্ত্রিক মন্ত্রের মাঝখানে। এরপর চোখ বন্ধ করে সুরারোপ করছি মনের। নিজের মাঝে ঐকতানে বাজে অপ্রাপ্তি, হতাশা, দৈনন্দিন জীবনের যুদ্ধ, আর যুদ্ধবিরতির সাইরেনে বাজে নির্লিপ্ত ঘুম।

সকাল হলেই ক্যানেস্তারা। চুপচাপ দৌড়ে নামি। বাঁচার জন্য দৌড়। নিজেকে প্রতিনিয়ত এগিয়ে নিচ্ছি সামনের দিকে। হুমড়ি খেয়ে পড়ছি, আহত হচ্ছি, রক্তাক্ত হচ্ছে চারপাশ। নিজেকে নিয়ে দুটো মিনিট ভাবার সময় নেই। প্রশ্নবোধক! বিশাল প্রশ্নবোধক গড়ছে রোজকার ভাগ্য।

দিনান্তের গল্পে নিজেকে নিয়ে বেশি উচ্চাকাঙ্ক্ষা নেই। খুব বেশি হলে নিজেকে সার্কাসের ক্লাউন ভাবি। হাসি ফোটানোর জন্য কিম্ভুতকিমাকার অঙ্গভঙ্গি ছড়াই। ভাগ্য এরচেয়েও ভালো হলে সার্কাসের রিং-মাস্টার। পয়েন্টারে লিপিবদ্ধ করছি নিজের ভাগ্য। মধ্যবিত্ত মনে এরচেয়ে বেশি কিছু নেই। স্বপ্ন নেই, পাবার আকাঙ্ক্ষাও নেই। তার একমাত্র সফলতা হলো নির্লিপ্ততা।

Friday, 22 December 2017

দিনলিপির আয়োজন - ৫

দিনলিপির আয়োজন - ৫
ইমেল নাঈম

জানালা জুড়ে সুনসান নীরবতা। বারান্দায় নেই আলো।
শৈশব পেরিয়ে দুঃখরাও এখন প্রাপ্তবয়স্ক, তারা এখন
সহজে আহত হয়না, কাঁদেনা, দুমড়েমুচড়েও যায়না;
প্রবলে উৎসাহে দ্বিগুণ শক্তিতে ক্ষতবিক্ষত করে শুধু

এরপর স্বপ্ন দেখার আকাশ ছোটো হয়। মাঠ নয় —
বাড়ীর সামনের উঠোনও নয় — বারান্দাও নয় —
জানালা খুলে কেবল দেখি শূন্যতা ভর্তি আকাশ।

ইদ, পূজা, পার্বণ, সান্টা কতো এলো আর কত গেলো
যাবার সময় চুরি করে নিয়ে গেলো অলিখিত স্বপ্ন
খণ্ডিত সময়ের হিসাবে আকশটিও ভগ্নাংশ স্বরূপ...
আমাকে দেবার মতো অবশিষ্টাংশ নেই তার কাছে।

তবুও নিয়ন আলো দেখলে উৎসুক মন উঁকি দেয়
ল্যাম্পপোস্টের নিচের মানুষের আসাযাওয়া দেখি
তাদেরও কী অনাদরে স্বপ্ন পুড়েছে আমার মতন
চাঁদ দেখলেই বলে উঠি আহা কী অপরূপ দৃশ্যপট
অথচ আমি নিজেও অন্যের শক্তিতে নিভুপ্রায়,

খর্বিত শক্তিতে হাসছি লৌকিক পৃথিবীতে, উপলব্ধি
করছি স্বাধীনতার ভিতরে লুকোনো পরাধীনতাকে
বিনিময়ে মিলছেনা ব্যক্তিগত কোনো হিসেবনিকেশ,
সান্টা আসেনা, ইদের কোলাকুলি, পূজা পার্বণ
কেবলই একটি দিন, বাকিটা শুধু নীরব হাহাকার।

Sunday, 17 December 2017

দিনলিপির আয়োজন — ৪

দিনলিপির আয়োজন — ৪ 
ইমেল নাঈম

উড়ে যায় বিষণ্ণ মেঘ, অভিধান থেকে খসছে শব্দ।
নির্বাণ করছি। বিনির্মাণ দেখি সুবিশাল মেঘমালার,
দেখছিনা কত সুন্দরে তারা মিশছে পূবালী বাতাসে
নির্ভার সময়ের প্রান্তে কিছু ঋণ লিখেছি অজান্তে।

নির্বাক হয়েছে গল্পের শেষ অধ্যায়ের প্রতিটা বাক্য
অতিকল্পিত চিত্রায়নে ঢেকেছে প্রান্তিক মনের কোণ
পাললিক কারুকাজে উড়ে আসে পরিযায়ী পাখিরা
ক্যানভাসের তৈলচিত্রে শৈল্পিক মন হয় বিমোহিত।

হিসাবের খাতায় মেলেনা বেপরোয়া হিসাব নিকাশ,
সালতামামিতে শুধু শব্দহীনতা — নির্বাক, চুপচাপ
রাস্তার নিয়ন আলোয় আঙুলজুড়ে নামে বিষণ্ণতা
পথিকের আসাযাওয়া দেখতে দেখতে লিখে ফেলি
দৈনন্দিন জীবনের সাপ লুডু, অর্থহীন কাটাকুটি

প্রতীক্ষার বিনিময়ে মেলেনা কিছুই, পরিভ্রমণকে
সময়ক্ষেপণ হিসেবে ধরে নিই, শেষ ট্রেন চেপে
চলে গেছি অনেকপথ। অপেক্ষমাণ নদী জীবনী।

ব্যস, থেমে যেতে যেতে ভুলে গেছি শুরুর বিন্দু
বিবর্তনে উড়ে আসে কেবল বিষণ্ণ মেঘের গল্প।
নিঃসঙ্গতার পাঠে থেকে যায় আঙুলের স্পর্শ...