Showing posts with label গদ্য কবিতা. Show all posts
Showing posts with label গদ্য কবিতা. Show all posts

Saturday, 8 December 2018

জীবনের সাপলুডু

জীবনের সাপলুডু
ইমেল নাঈম


হঠাৎ থেমে যেতে পারে জীবনের আয়োজন। কথার বাঁকে জমাটবদ্ধ ঋণের বহর। বদলে যাবার মন্ত্রে বদলে যাচ্ছে গোটা শহর। ক্লান্ত অবসাদগ্রস্ত পৃথিবীর জন্য রেখে গেলাম কয়েকগুচ্ছ কবিতা। যেখানে আবেগের তোড়ে ভেসে যাওয়ার গল্প নেই। নেই কোনো প্রতিশ্রুতি। সস্তা কথার পাবলিসিটি নেই। বইয়ের ভাঁজে অদৃশ্য কালিতে দৃষ্টি বিনিময় আছে। আছে মেঘের সাথে প্রণয়ের লুকনো ছাপ।

লুকোচুরিতে পেরিয়ে যাচ্ছে স্বর্ণালি সময়। প্রলেপে ঢেকে দিচ্ছি খসে যাওয়া পলেস্তারা। নির্বাক জীবনের বাঁকে মুহূর্তগুলো দামী হয়। তারা আপন মনে খেলতে থাকে। ধ্বংসের সামনে দাঁড়িয়ে থাকি, ভেসে যায় আমাদের জীবনের ভেলা। স্রোতের সাথে মিলেমিশে যায় যাই, স্পষ্ট কোনো গন্তব্য লেখা নেই। পরিণতি ভাবতে ভাবতে সমূহ বিপদ নিয়ে ভাবা হয়ে ওঠে না কারো। অথচ সাবধানতার খোলসে আটকে ফেলেছিলাম নিজেদের।

চেকপোস্টে প্রহরী, সামনে যাওয়া নিষেধ। আইন অমান্য হলেই সাজা। নিজেকে গিনিপিগ ভেবে বসে থাকি। ঘড়িতে সময় মাপি। দিনের হিসাবে অপরীক্ষিত থাকে সকল আয়োজন। ভেসে যেতে যেতে পেতেছি সংসার— অথৈ সাগর নাকি ধূধূ বেলাভূমি— আজো যাচাই করে উঠতে পারি নি। ঐকতানে সুর নেই, তাল কেটে গেছে খঞ্জনির। উদাত্তকণ্ঠটিও থেমে গেছে অবেলায়।

নিজের জন্য শোকগাথা লিখছি। কাল্পনিক একটা আবেশ ঘিরে রেখেছে আমাকে সবসময়। নিজেকে বেঁধে ফেলছি আর ছুটে চলেছি পায়ে শিকল পরা হাতির মত। প্রজাপতির দিকে চোখ পড়লে নিজেকে অসহায় মনে হয়। কিছুই তো নেই সাথে তবুও গায়ের সাথে লেপটে থাকে অনেককিছু। যেমন একরাশ ধূসর সময়, কিছু মলিন স্মৃতি আর একটা নষ্ট হওয়া ক্যানভাস। আমার তো আর কিছুই নেই তোমাকে দেয়ার...

Monday, 26 November 2018

প্রান্তিক দুঃখবোধ

প্রান্তিক দুঃখবোধ
ইমেল নাঈম


পরম্পরা। নিজেকে নিয়ে লিপিবদ্ধ কবিতাগুলো বিষণ্ণতার বিজ্ঞাপন দেয়। কত সুন্দর, সুশৃঙ্খল অথচ বাস্তব। দূর থেকে দেখলে সাজানো গোছানো। কাছে গেলে মেলে না কিছু। হিসাবের খাতায় কিছু মলিন দাগ, রঙ পেন্সিল অব্যর্থ হয়। স্কেচে ভরে ওঠে প্রাত্যহিক জীবনের হিস্যা। লুকোচুরি খেলে দূরে পালিয়ে যায়। নিজেকে খুঁজে দেখছি অন্তঃ লীন অনুভবে। বিবর্ণ ভালোবাসা ঝরে যায় দূরের ক্যানভাসে।

আঁকছি নিজেকে। প্রতিবিম্ব ঝুলছে দেয়ালে। পোর্ট্রেট ফটোগ্রাফি আমাকে দেখে অবজ্ঞার হাসি হাসে। বড্ড তির্যক সে হাসি। নির্মাণ করছে অবজ্ঞার অট্টালিকা। মোটের উপরে ঝুলতে থাকে নির্বাক জীবন। মর্মান্তিক জীবনে কিছু ছবি কথা বলে। টেনে হিঁচড়ে নিয়ে যাউ পিছন পথে। মুহূর্ত রঙিন হয়। অথচ প্রাণহীন রঙিন। ফেরি করে চলেছি ব্যক্তিগত দুঃখবোধ। মিছিল নয়, জনসমাবেশ নয়, লক্ষ্য, উদ্দেশ্য নয় পরিষ্কার। তবু ছুটে চলেছি পিছুপিছু একটা মোহের টানে।

ছুটে চলা মানুষ, কিছু চিহ্ন রেখে দাও আঙুলে। ভুলের প্রাচীর টেনে নিয়ে যায় আমাকে দূরে। কাছের মানুষগুলো গান গায়। নিজেকে নিয়ে ব্যস্ত সময় কাটাই। দুর্নিবার আকর্ষণে আমরা ছুটে যাই। মলিন মুখে ক্ষতচিহ্ন আঁকি। রক্তিম সিংহাসনে আঁকা হয় দুঃখবোধ। চুপিসারে পালিয়ে যাচ্ছে, কেবল ছুঁতে চাইছি নিজেকে।

প্রান্তিক জীবনের গল্প মলিন হয়। অনিঃশেষ জীবন, ছুটে চলেছি ভ্রান্ত পথে। বিভ্রান্ত সময়ের গ্যাঁড়াকলে নিজেকে ব্যস্ত রাখি সময়ের দোলাচলে। অনির্বাণ সময়ের সাক্ষী, পিছুটানে মুহূর্তগুলো মনের ক্যানভাসে আঁকা তৈলচিত্রের মতো জ্বলজ্বল করে। ধ্রুপদী হাহাকার বাড়িয়ে দেয় মনের ক্ষুধা। উড়িয়ে চলি নিজের ভিতরের হতাশা। সৌখিন অবসাদে ডুবে গেলে জীবনের মানে বদলে যায়। তাসের রঙয়ের মতো হাতে হাতে ঘুরে। ছুঁড়ে দিলেই বদলে যায় প্রেম, ভালোবাসার মানে...

Saturday, 24 November 2018

প্রত্যাবর্তন ও মুহূর্তের গল্প

প্রত্যাবর্তন ও মুহূর্তের গল্প
ইমেল নাঈম

প্রত্যাবর্তনের পথে নিজস্ব কিছু চিহ্ন থাকে। তারা একেবেকে চলে যায় গন্তব্যের দিকে। গৎবাঁধা নিয়মের বাইরে গোপনে দাঁড়ায় অন্যরকম নিয়ম। আইনের ফাঁক সর্বদা অট্টহাসি হাসে। বিনয় মুছে গেলে কিছুই থাকে না অবশিষ্ট। ফাঁকফোকরে বেরিয়ে আসে আসল রূপ। রঙিন পৃথিবী সাদাকালো হয়, মলিন হয়।

পর্দা টেনে দিচ্ছি সম্পর্কের। অভিমানগুলো ক্রমাগত মাথাচাড়া দিয়ে ওঠে। নিজেকে নিয়ে মুঠোয় রাখা কথাগুলো বলা এখনো হেসেখেলে উঠে। জামায় ঢেকে রেখেছি গায়ের ক্ষত। শেষ হয়ে যাচ্ছে নীরবতার সব অধ্যায়। ক্লান্তিকর যাত্রায় জিরিয়ে নেবার সময় নেই। অদৃশ্য ছায়া তাড়া করে ফিরছে সবসময়।

বিষণ্ণতার সব রঙ এক। কথপোকথন শেষে আমরা হিসাব করি, দুরন্ত সময় পেরিয়ে যায় মাটির ক্যানভাস। পলিমাটির তুলিতে আঁকছি বেলেমাটির রঙ দিয়ে। ধ্রুপদী দুঃখদের নিয়ে নতুন কোনটা বাক্য নেই। তাদের ভেবে অভিমানগুলো বৃথাই মন খারাপ করে। অর্থহীন কিছু ইশারার পিছনে ছুটছি।

তামাম সম্পর্ক একদিকে হেলে পড়ে
পাড়হীন নদী এঁকে নিচ্ছে জল রসায়ন
আমি মুসাফির। ক্রমাগত ছুটে চলেছি প্রধান সড়ক দিয়ে। প্রান্তিক মুহূর্তে শেষ বিন্দু দেখার জন্য অপেক্ষায়। প্রাণান্তকর প্রচেষ্টায় দাঁড় করাই এক প্রতিবিম্ব। বালু ঘড়িতে পালটে যায় সময়। বিম্বটিও খসে পড়ে জটিল গাণিতিক হিসাবের শেষে। আমার সামনে দাঁড়িয়ে থাকে অপেক্ষমাণ মুহূর্ত।

Tuesday, 20 November 2018

বিমূর্ত অঙ্গিকার

বিমূর্ত অঙ্গিকার
ইমেল নাঈম

বিমূর্ত রাত ডেকে চলে নীরবতার হুইসিলে। শুনশান শহর। নিজেকে নিয়ে ব্যস্ত থাকার আপ্রাণ চেষ্টা। প্রচেষ্টাগুলো দামী হয় খুব। নিজেকে নিয়ে গল্পকথা শুনি খুব। প্রাত্যহিক জীবনে ডাকাডাকি আর তার বিনিময়ে হেসে ওঠে প্রাগৈতিহাসিক মুহূর্ত। রূপরেখা নেই, শুধুই উড়ে যায়। অভিযোগের তিরগুলো আহত করে। বোকার হাসি হেসে জানিয়ে যায় আমার অবস্থান।

দিনের হিসেবে নিজেকে নিয়ে ব্যস্ততার মন্ত্র পাঠ করি। নির্বাক শব্দের কাছে ফিরে যাই অন্ধ ঘোড়সওয়ার হিসেবে। তাসের রঙ খেলে যায় দিনান্তের সুরে, দাবার মন্ত্রী নিশ্চল দাঁড়িয়ে থাকে। হাহাকার খেলে যায় আভিজাতিক সত্তায়। মুসাফিরের মতো ছুটে চলি এই দরজা থেকে অন্য দরজায়। আয়নায় প্রতিবিম্ব দেখে ঘাবড়ে গেছি, অচেনা হতে হতে হারিয়ে ফেলেছি ঠিকানা।

দুঃখদের নাম জানা নেই, তারা পাপারাজ্জির মতো পিছনে ছুটে চলে। নীরব থেকে অনুসরণ করে। গোপনে তুলে রাখে আমার ব্যক্তিগত সুখ। আনন্দের রঙগুলো শুষে নেয়, বিনিময়ে লিখে রাখে চুলচেরা বিশ্লেষণ। পাপের পাহাড়, বোঝাগুলো আষ্টেপিষ্টে আকটে ফেলে আমাকে। নড়চড়হীন একটা পৃথিবী ঘোর অন্ধকারে আমায় ডেকে চলেছে মহাজাগতিক শূন্যতায়।

নির্বাক জীবনের গণিতে কেবলই পরাজয় লিখে রাখে। ছুটে যেতে থাকি দূরের পথে। উইন্ড-চাইমে আসা হাওয়াদের গল্প শুনি, ভিজিয়ে দিয়ে যায় আমার উঠোন, উষ্ণতায় ভিজে গেছে দূরের ক্যানভাস। রঙতুলিতে জমাটবদ্ধ প্রহসন। স্পর্শ ভুলে যাওয়া শরীরে এঁকে নিচ্ছো দুইশ বছরের দুঃখ। প্রান্তিক জীবন ডেকে চলে দূরের কক্ষপথে ছায়াদের মিছিলে।


Wednesday, 14 November 2018

মৌন বেলা

মৌন বেলা
ইমেল নাঈম

পেরিয়ে যাচ্ছে মৌন বেলা। রকমারি আয়োজন। জমাটবদ্ধ কিছু শিহরণ। শীতকালীন অবকাশের পর নেমে আসে বৃষ্টি। উপচে পড়া গল্প, আর সারিবদ্ধ আনন্দের মাঝে গোপনে লুকোনো কিছু হরিত সকাল। মলিনতা ছুঁতে পারেনি আমাদের। সাতসকালের নাগরিক শীত। কোথাও তো থেমে যেতে হয়। শহর প্রাণহীন। শীতে কাবু হয়নি এখনো। এরই মধ্যে মিথলজির আবরণে আসবে নতুন কিছু উপাদান।

উড়ে যাচ্ছে সকল হিসাবনিকাশকে তুচ্ছ করে। নিষেধের বাধাকে এড়িয়ে দিয়ে, সামগ্রিক পরিস্থিতিকে তুড়ি মেরে উড়িয়ে দিয়ে তফাৎ করে দিয়ে। অথচ পরিচয়ের প্রথম অধ্যায়ের শেষ পরিচ্ছেদটা অন্যরকম। মনকেমনিয়া সুরে ভিজে যায় গত শতাব্দীর সকল শোকসংগীত। অলস চার্চের গ্রেভ-ইয়ার্ডে কিছুটা নির্জনতা কেনা যায়। তবুও পরাজিত সাজতে হয় নতুন অধ্যায়ের পাঠের পূর্বে। জয় পরাজয়ের এই খেলা আপেক্ষিক। নিজেকে নিয়ে পেরিয়ে যায় ভাবনার মেঘ।

বিভ্রান্ত সময়ের পাড়ি দিই। আস্থার জায়গা নেই। নিজেকে খুঁজে যাই। ব্যস্ত সময়ের রুটিনে ঘড়ি জীবন। সময়ের কাঁটা বদলে যায়। চাওয়া পাওয়ার হিসেব বদলে যায়। মুহূর্তগুলো রঙিন হয়। ধ্রুপদী সংগীতের আয়োজনে বিমূর্ত কিছু শব্দের কাছে ছুটে চলি। নির্বাক চলচ্চিত্র। মূকাভিনয়ের শেষ পরিচ্ছেদে আটকে ফেলি জাগতিক জীবনের লাল নীল নকশায়। আর ভাবি, জীবনের রঙগুলো কেমন করে বদলে যাচ্ছে।

অজস্র গল্পের ভিড়ে ঠিক ঠাহর করতে পারিনা। সত্য-মিথ্যার কুণ্ডলী পাকায়। আর নিজেকে নিয়ে মুহূর্তগুলো উড়ে যায় ন্যাপথালিনের মতো। গল্পের বইয়ের ভাঁজে গচ্ছিত শিশু গোলাপটিও মলিন হয়, শুকিয়ে মর্মর হয়। প্রাপ্তির খাতায় ঋণ বাড়ে। নিজেকে নিয়ে গল্পের শেষটুকু লিখতে হয়। দূরত্বের নিরূপণে কিছু সময় থাকে একান্ত ব্যক্তিগত— যা শুধু নিজের সাথে নিজের কথোপকথন করে যায়।

ভুল বিক্রিয়া...

ভুল বিক্রিয়া... 
ইমেল নাঈম

সময়ের আলাপনে দিগভ্রান্ত হই। সুর কেটে যাওয়া কোনও গানের কলি এসে কানে জানিয়ে যায় ভুল ঋতুর সন্নিবেশের কথা। নিজেকে নিয়ে ব্যস্ততার মন্ত্র পড়ি, ঘড়ির কাঁটায় মেপে নিচ্ছি দুপুরের একাকীত্ব। খোলা জানালায় দৃষ্টি, মেঘ নেই, ফকফকা আকাশ, তবুও বিষণ্ণতা। গণতান্ত্রিক দুঃখগুলো বিরোধী দলের মতো— মিটিং, মিছিল, আল্টিমেটাম আর হুশিয়ারি জানিয়ে যায় জীবনের গাড় অধ্যায়ের বাঁকে।

সংলাপ, নাকি আত্মসমর্পণ। বারবার চুপসে যাই। মায়া জাগানিয়া শব্দের কাছে অভিমান জানাই। আয়নার ওই পাশের মানুষটাকে দেখে গালি দিই। ব্রিগেড ছুটে বুকের ভিতরে। সমাজতান্ত্রিক দাবিদাওয়া বুকে। সুখের মন্ত্র শিখি স্বৈরশাসকের কাছ থেকে। পুরনো মুখগুলোকে এঁকে ফেলি মোবাইল অ্যাপে। এরপরে রেখে দিই গোপন কুটিরে। পাসওয়ার্ড দিয়ে আটকে দিই, ব্যথাগুলো আমারই থাকুক।

বৈদ্যুতিক আবেশের দরকার নেই। পজিটিভ নেগেটিভের সন্নিবেশ না হোক আগের বারের মতো। সেগুলোকে সাজিয়ে রাখছি বুক সেলফে, রেকে তুলে রাখছি। কর্পূর দিয়ে অবহেলাগুলোকে যত্ন করে রাখছি। সপ্তাহে দুইদিন ঝেড়ে মুছে নিচ্ছি। রাতে ঘুম না এলে, খুলে দেখছি তাদের। ভালোবাসাগুলোর বিপরীতে কী দাঁড়ায়— অবহেলা নাকি ঘৃণা। এই সহজ সমীকরণটুকু বুঝতে পারছি না।

কত সহজে দ্বিতীয় পক্ষ মিলিয়ে নিয়েছিলো জটিল সব হিসেব। ভালোবাসার প্রথম পাঠেই দেখলাম বনসাই বৃক্ষ আর ইকেবানার বাণিজ্যিক সমাহার। অলংকারে ভরে গিয়েছিলো ভালোবাসার ঘর। আকাশ দেখতে অলিখিত নিষেধ এই ভালোবাসার, হাঁপিয়ে উঠছিলো পাখি মন। মুক্তির সংজ্ঞায় ইতিহাসের বইয়ে যা কিছু লিপিবদ্ধ তার পুরোটাই প্রহসন।

আমি ঠায় দাঁড়িয়ে আছি, পেরিয়ে যাচ্ছি সব রাস্তাঘাট। সুসজ্জিত দুঃখরা সঙ্গ দিচ্ছে। আমি বুঝে নিচ্ছি ভালোবাসার নীল মোহর— প্রভাবকের ভুল বিক্রিয়ায় যে কখনো মিলিত হয়নি কাঙ্ক্ষিত বিন্দুতে।

Monday, 5 November 2018

কনফেসন

কনফেসন
ইমেল নাঈম

চুপচাপ পেরিয়ে যাচ্ছে সময়। পাঁচিল টপকালে অবশিষ্ট কিছুই থাকে না আমার। বারোয়ারি মেঘ উড়ে যায় শরৎ আকাশে। নির্বাক কিছু দৃশ্যের জন্য অপেক্ষমান। নিজেকে নিয়ে ব্যস্ত, কাছের মানুষগুলো দূরত্ব শিখে নিচ্ছে। গোপন, সূক্ষ্ম দৃষ্টিগুলো মুছে যাচ্ছে দ্রুত।

আঁচলে ঢেকে যায় মুখ। কোথাও রেখে দিচ্ছি পুরনো স্মৃতি। বিভ্রমে ঢেকে যায় চোখ। অচেনা পথ পাড়ি দিচ্ছি শুধু। নিজেকে নিয়ে আর কোনো প্রত্যাশা নেই। কাল্পনিক হিসাবগুলো ধ্রুব সত্য হয়ে উঠছে। প্রতিদিন পেরিয়ে যাচ্ছি নিজের আঙিনা।

সুর থেমে যায়। প্রাচীন কিছু বাক্যের কাছে গচ্ছিত অনেক ঋণ। প্রাপ্তি বাড়লে বিনিময়ে কিছুই নেই। নিজেকে নিয়ে বাস্তুসংস্থান, চক্রাকারে ঘুরতে থাকে পারম্পরিক গল্পের প্লট। সুরের পাখিরা থেমে যায়। নিজেকে নিয়ে ব্যস্ত সময়সূচি, এরবেশি প্রত্যাশা নেই।

বালু ঘড়িতে পেরিয়ে যাচ্ছে সময়। ভাবনার প্রলেপে রেখে দিচ্ছি শোকসভা। ভিতরের মানুষটার সাথে প্রত্যহ কথা হয়, সঙ্গোপনে কেটে যায় মৌন বেলা। হাতের ভাঁজে কথিত গল্পে থাকে অপ্রকাশিত ভালবাসা। বেজে ওঠে অপেরার সেক্সোফোন। গাইতে থাকি, ওয়ান ডে উই উইল মিট এগেইন, মাই ডিয়ার লাভ... ওয়ান ডে উই উইল মিট....

Saturday, 3 November 2018

নভেম্বর রেইন

নভেম্বর রেইন
ইমেল নাঈম

নভেম্বর রেইন, একটা কিশোরের নায়ক হবার গল্প মাথাচাড়া দিয়ে ওঠার সময়। পরিত্যক্ত গির্জা, সামনে গিটার হাতে স্ল্যাশ... সাধারণ একটা দৃশ্য গভীরে ছাপ ফেলে দিয়েছিলো নব্বইয়ের মাঝামাঝিতে। যদিও ঘরে ফিতার ক্যাসেটে বেজে উঠতো ওয়ারফেইজ, সঞ্জয় কামরান। আমার দৌড় ছিলো জাস্ট এটুকুই।

অনুভুতির দালানে অনেক প্রলেপ পড়েছে। আস্তরে আস্তরে পেরিয়ে গেছে সময়। পুরোনোদের ভিড়ে নতুনরা এসে বেঁধেছে বাসা। ক্যাসেট বদলেছে সিডিতে, প্রযুক্তির কল্যাণে সেও এখন জাদুঘরে। অথচ কৈশোরের প্রথম স্মৃতি দগ্ধ করে যায় প্রতিদিন, প্রতিমুহূর্ত।

হারিয়ে ফেলা অনেক কিছুই খুঁজতে থাকি। কল্পনায় বাসা বাঁধি, সুরেলা মুহূর্তগুলো বেজে ওঠে। নীরবতাকে আঁকড়ে ধরি। স্পন্দন এঁকে যায়। নদীর মতো এঁকেবেকে চলে যায় অসীমে। শূন্যতায় আঁকা আমার নভেম্বর। হেমন্তের বৃষ্টি, মোটেও নয় চিত্তাকর্ষক।

তবুও, আসে। বেজে ওঠে। নাগরিক পথঘাট ভিজিয়ে দেয়। আমি ভাবতে বসি হারিয়ে ফেলা কতকিছুর মাঝে কী কী জিনিস আজো অম্লান তাকিয়ে আছে। শিহরণ মুছে যায়। পালটে যায় রীতিনীতি। মোহ কাটিয়ে উঠার ব্যর্থ চেষ্টা করি।

বিমূর্ত কিছু অবয়ব, যা শুধুই কাল্পনিক। এখনও বৃষ্টি নামে আমার শহরে। অথচ, নভেম্বর রেইনে কোনও বৃষ্টি ছিলো না। অপেরার মেয়েদের কোরাস ছিলো সেইসাথে রোজের পিয়ানোর মূর্ছনা ছিলো। এসবে, ঈশ্বরকে খুব কাছ থেকে দেখা হয়ে যায় আমার। আমি জন্মান্তর লিখে ফেলি ভুল বানানে।

Saturday, 27 October 2018

উপেক্ষিত সন্ধ্যা

উপেক্ষিত সন্ধ্যা
ইমেল নাঈম

উপেক্ষিত হয়ে যেতে হয়। অসমাপ্ত বাক্যগুলো বহন করে চলেছি কেবল। ভুলের বৃত্তে আটকে গেছি। নীরবতাকে সাক্ষী করে লিখে রাখছি ডেথ সেন্টেন্স। শপথ নামায় নতুন কোনও রসদ নাই। ছুটে চলার বিনিময়ে কাল্পনিক কিছু বিম্বকে দাঁড় করাই। নিজেকে নিয়ে ভাবছি না একদম। কতো মুখের ভিড়ে কতো ভাবনা হারিয়ে যায় অকাতরে।

নির্বাক জীবনের ধারাপাতে যাই শিখেছি তার পুরোটাই বিভ্রমের। কেটে যাচ্ছে আমাদের অনাদরের সময়টুকু। ব্যস্ত আঙিনায় মেলে দিচ্ছি পড়ন্ত বিকেলের শ্লোক। ব্যস্ত সড়কের ক্যাকোফনি আর যাদুকরী বিভ্রম নিয়ে স্বপ্নগুলো মুছে যাচ্ছে। দূরান্তের প্রতিধ্বনিতে শুধুই জেগে ওঠে বিমর্ষ আর্তনাদ। ফরিয়াদ শেষে, অদৃষ্টকে চাপড়াই। ছুঁড়ে দিই ক্ষোভ, শ্লেষ।

পথের ক্যানভাসের সব রঙ বিবর্ণ হয়ে যায়, বিষণ্ণ পিয়ানোর তাল কেটে যাচ্ছে শুধু। সন্ধ্যাটি লিখে রাখছে অন্যকিছু। স্পষ্ট নয়, আবছা... আংশিক মানে বুঝি, বাকিটা নয়। নির্বিবাদে কেটে যায় আমার দিন। প্রহসনের মুহূর্তগুলো নিজেকে নিয়ে ব্যস্ত। কমলারঙের দিনগুলোর মানে অন্বেষণে কেটে যায় বিষাদের দিন।

সপ্তাহান্তের সুর বেজে ওঠে। করুণ, গভীরে ক্ষত... আঁচড়ে দেয়, আহত করে যায় শুধু। নিজেকে নিয়ে এতোটা অবহেলা কখনো কেউ করে নি। সীমান্তের বাইরেও সীমারেখা আঁকি। ছুটে যায় আমার সান্ধ্য কালীন পাবলিক বাস। স্বপ্নহীন কিছু চোখ ক্রমাগত হতাশাকে গিলে খাচ্ছে। আমি নিজেও তাদেরই একজন, অথচ চোখে মুখে হতাশা নেই।

সব হারানোর মিছিলে যাযাবর হয়ে ফিরে আসি, নিজের বৃত্তে ঘুরপাক খাই। বিনিময়ে জমে যায় অপমানের ঘাম। বিবর্ণ কবিতায় ঢুকে যায় একফালি চাঁদ আর নিঃসঙ্গতার সালোকসংশ্লেষ।

Tuesday, 9 October 2018

বৃষ্টিদিন, জানালার কবিতা

বৃষ্টিদিন, জানালার কবিতা
ইমেল নাঈম

একটা মন কেমন করা সকাল দৌড়ে গেলো বৃষ্টি গায়ে মেখে। উদাসী চোখ তখনো আঁকছে দিনযাপনের সালতামামি। প্রেমের ইশতেহারে চুম্বনই শেষ কথা। প্রেমিক মাত্রই ভীষণ স্বেচ্ছাচারী। দিনকে বানায় রাত আর রাতের বেলায় অর্ধ নেশায় জুড়িয়ে নেয় চোখ। ক্লান্তি নামে তোমার দু'চোখে। আপেল বাগানটিও শান্ত। পাইন বনে ঝড়ের পূর্বাভাষ নেই। যদিও অবচেতনে এক কবি তোমাকে লিখে রাখছে  নীরবে। তার কবিতায় তোমার একাকীত্ব কবিতায় অবসাদ হয়ে ঝরে।

পুড়ে যায় নিকোটিন মুহূর্ত। অদৃশ্য ধূমায়িত কফির মগে লিখে রাখছো আত্ম ভাবনা। কাল্পনিক কিছু শব্দ জটের কাছে নতজানু হচ্ছ দুজনেই। কবি পড়ছে তোমাকে। আর তুমি? কাকে পড়ছো? কী ভাবছো? কিছুই জানা হলো না আমার। আমি কবি আর তোমার মাঝে দাঁড়ানো অন্য এক সত্তা, যে নিজেকে আজো চিনতে পারে নি। ত্রিভুজের মতো সম্পর্ক বজায় রাখছে প্রতিটা রেখার সাথে। শুধু ছেদকের থেকে পালিয়ে যাচ্ছে।

কবিতার শেষে নৈঃশব্দ্য কাটে পাখির গানে। আর নৈঃশব্দ্য কাটলে কেউ কারো নয়। তুমিও নও কবির, কবিও ভাবে না তোমায় একমুহূর্ত। আমিও হঠাৎ সব হারানো যুবকের মতো ফ্যালফ্যাল চোখে তাকিয়ে থাকি সম্মুখে। ভাবি এটা কি ইলিউশান? ডেভিড কফারফিল্ডের আকাশে উড়ে বেড়ানোর মতো মজাদার কিছু? নাকি সিনেমার আবেগময় এক দৃশ্যের শেষে অশ্রু আপ্লুত দর্শকের চোখ?

ভাবতে ভাবতে থেমে এলো বৃষ্টি। যদিও আকাশ ঢেকে আছে মেঘে। নীরবতা ভেঙে তুমিও চলে যাও জানালা ফেলে দূরে। কবিকে খুঁজে পাচ্ছি না অনেকক্ষণ। ভাবছি, সব চলে যাওয়ার পরে আর কেন অপেক্ষায় থাকা? আমার তো কোনো কারণ নেই দাঁড়ানোর। চোখের কবিতা নিয়ে ফিরে গেলে তুমি। প্রাপ্তির খাতায় কী পেলে কেইবা জানে? আমি তো কর্পূর, গোপনে এখানে এমনি এসে দাঁড়াই তোমার, কবি আর কবিতার রসায়নটুকু উপভোগ করতে, আর রোজই মিলিয়ে যাই ঘ্রাণ ছড়াতে ছড়াতে।

Wednesday, 26 September 2018

জিপসির কবিতা

জিপসির কবিতা
ইমেল নাঈম

একদিন হুট করেই পালিয়ে যাবো। দূরের পথে অনাদরে পড়ে থাকা বুনো ফুলের দলকে মাড়িয়ে চলে যাবো দূরের পথে। ঝরে যাবে পরিচয়ের প্রতিটি ধাপ। অচেনার বেশে— জিপসি প্রেমিকের মতো নীরবে পাঠ করে যাবো শরীরের প্রতিটা বাঁক। হারিয়ে ফেলা পথে পথে ঘুরবো। সবটুকু ঘুরে আবার দাঁড়াবো পুরোনো জায়গায়।

পলাতকা সময় আঁকবো, নীরবতার বুকে ছুড়ি চালিয়ে পলাতক হবো। মানে খুঁজবো অকারণে। উপশম দেখে খুশিতে তালগোল পাকিয়ে ফেলবো। মফস্বলের ঘ্রাণটুকু বুকে, চিবুকে, চোখে, মুখে লাগিয়ে হাসতে হাসতে অবহেলার মন্তব্য শুনিয়ে ফেলবো।  অদ্ভুত হাসি হেসে জানান দিবো নিজেকে।

পথ হারিয়ে ফেলা মানুষের মধ্যে নিজেকে অচেনা মনে হবে না। শান্তির পায়রা উড়ে যাবে আকাশসীমায়। অথচ আকাশ আমার নয়। মাটি কী আমার? উত্তর জানি না। শুধুই জানি উদ্দেশ্যহীন উদ্দেশ্যে বেরিয়ে গেছি। নির্বাক সময়ের হাতেঘড়িতে কিছুটা ভুল অবধারিতভাবে নেমে আসবে আমার আঙুলে।

বিনির্মাণের ফাঁকে অনেক কিছুই জানা হবেনা আমাদের। রক্ষিত আলিঙ্গনগুলো পুরোনো হিসাব মেলাতে ব্যস্ত হবে।  আর তার মাঝে কিছু প্রহসনের মুহূর্ত গান গাইবে হেঁড়ে গলায়। প্রান্তিক সুখে কিংবা মৃদু বিলাসিতায় ভেসে যাবে শহর থেকে অনেক দূরে।

জিপসিরা পাখিদের মতো, পাখিরা বেহায়া। উড়ে যায় সকালে আকাশ থেকে। ফিরে আসে আবার সন্ধ্যায়। মাটিটিকেও আমার নয়, বরং আশ্রিতের চোখে দেখে ফেলি পৃথিবীর রূপ, ব্যঞ্জনা।

Thursday, 20 September 2018

দূরের হুইসেল

দূরের হুইসেল
ইমেল নাঈম

মুহূর্তগুলো রঙিন হয়। ধূসরে বাঁধা পৃথিবীটাও কেমন যেন সেজে ওঠে হঠাৎ। আবীর বিকেলগুলো রাঙিয়ে নেয় নিজেকে। দূরের জংশনে এসে থেমে যায় পৃথিবীর সকল যান। শীতল বাতাস বিনেদী কায়দায় এসে হুড়মুড় করে ভিজিয়ে দিয়ে যায় আমায়।

সান্ধ্যকালীন নীরবতাকে ছুঁয়ে দেখার এই মুহূর্তটুকু অমূল্য। দীর্ঘ আক্ষেপে পুড়ে যায় আমাদের চাওয়া পাওয়ার সব হিসাব। দৈনন্দিন চাহিদাগুলো মলিন হয়ে যায়।আকর্ষণহীন পড়ন্ত বিকাল হ্যালুসিনেসন ছড়াতে ছড়াতে লুকিয়ে যাচ্ছে ব্যস্ত সড়ক ফেলে জারুল বনের দিকে।

এই সুযোগে এই শহরের মানুষগুলোকে চিনে নিচ্ছি সিগারেটের ধোঁয়ায়, চায়ের কাপে বিষণ্ণতার দাম এখন ছয় টাকা মাত্র। প্রেমিকেরা চুমু খেতে ভয় পায়। সন্ধ্যাটিও সাদাকালো হয়ে উঠছে বেখেয়ালি আচরণে।

জাগতিক বিষণ্ণতা মাপা শেষ হলে উঠে দাঁড়াই। সৌখিন মানুষের কান্নার রঙ আঁকতে বসে হারিয়ে ফেলেছি সঙ্গীতেএ ভাষা। বখাটে যুবকের প্রেম দেখে হেসে ফেলেছি ভুল করে।

নিজেদের ভুলে অনাকাঙ্ক্ষিতভাবে আমরা সরে যাচ্ছি কাল্পনিকতার উপরে ভর করে। অথচ দূরের ইস্টিশন থেকে ভেসে আসে হুইসেল— অনাদরে, অবহেলায়।

Saturday, 8 September 2018

অবাস্তব অনুভূতি

অবাস্তব অনুভূতি
ইমেল নাঈম

জীবনের অসমাপ্ত আয়োজন থেমে যাক অবেলায়। কোথাও থেমে যায় আয়োজন। দাঁড়াও রেখে যাও। কিছু স্পর্শ প্রজাপতি হয়ে ওড়ে। ক্লান্তি থামে, দূরের দেশে থেমে যায় বিরহ সঙ্গীত। ক্লান্তি নামে দুচোখে। দূরত্বের সাইরেন থেমে যায়, কিছু মুহূর্ত জেগে ওঠে বালুচরের মতো। সৈকতে থামে প্রহসনের সব অংক।

অঙ্কিত সব দৃশ্য, মোহনিয়া কিছু বাতাস এখনো উঁকি দেয় মনের বারান্দায়। রেশ টেনে আটকে দিয়েছি পিছনের দরজার। সামনে কেবলই ধূসর... নিজেকে নিয়ে ভাবছি না আর! বিশাল প্রশ্নবোধকের কাছে এসে থেমে যাই। নিজেকে প্রশ্ন করি। বিনিময়ে বেরিয়ে আসে একই ফলাফল। বিনিদ্র রাতের সঙ্গীতে সঙ ধরে যায় ভিতরের মানুষটি।

যাত্রাপথের শেষটুকু আজও জেগে আছে সবটা নিয়ে। ভ্রান্তি ছড়াচ্ছে শুধু। কল্পনার প্রেমগুলো রঙিন থেকে ক্রমশ সাদাকালো হচ্ছে, সাদাকালো থেকে আবছা... নিজেকে নিয়ে অনেক ভুলভাল খেলা হলো। সময় অপচয় করে থেমে গেছি শেষ প্রান্তে এসে, প্রান্তিক শিল্পীর মতো নীরবতার সন্ন্যাসে ব্রত হয়ে গেছি।

মোহ ভাঙলে নিজের জন্য কিছুই থাকে না। এশট্রেতে জমাটবদ্ধ ছাই, আর মুঠোফোনের জমে থাকা বার্তা। এরবাইরে ঘামের গল্প, আবেগের কাব্য, বাস্তবতার অংক। বহুত প্যারামিটার এসে থমকে দেয় আমার চারপাশ। অন্ধকার গভীর হলে কিছু সুর নিজের কাছে ফিরে আসে— কল্পনায়, অবাস্তব অনুভূতি নিয়ে। চোখ মুছতে মুছতে সকাল আঁকতে থাকি।

Wednesday, 29 August 2018

ব্যর্থতার সঙ্গীত

ব্যর্থতার সঙ্গীত
ইমেল নাঈম

কিছু দাগ জামার সাথে আটকে যায়। কিছু ক্ষত এখনো উঁকি দিয়ে যায় পিছনের বারান্দায়। সঙ্গীতের শেষে কিছু রেখা অর্থহীন হয়ে উঠে। ড্রয়িং পেপারের এলোমেলো কিছু আঁকা। দিনের শেষে থেমে যেতে হয় শুনেছি অনেকবার। কারণটা আজও অজানা রয়ে গেলো। তড়িৎ আবেশ মুছে গেছে আকর্ষণহীন হয়ে পড়ে নীলাভ আকাশ। মেঘ ছুঁতে চাওয়ার অপরাধে এখনো স্মৃতিকাতরতায় ভাসতে থাকি।

বিপ্রতীপ স্থানে দাঁড়িয়ে কেবলই দূরত্ব মাপি। ঘোলাটে চোখের মাঝে অজস্র ব্যাকরণ লুকিয়ে সুখ আঁকে। বিমূর্ত শব্দচারণে উঠে আসে ধূসর কিছু মুহূর্ত। প্রিজমের মতো দুর্বোধ্য হয়ে ওঠে ওপাশের বিম্বটা। কিছুতেই মিলে না আলপিনের সমাবেশ। সব যেন ছন্নছাড়া দ্বীপের মতো একে অপরের থেকে সরে যাচ্ছে আরও দূরে। দূরত্বের ধ্রুবক মান লিপিবদ্ধ নেই পাঠ্যবইয়ের কোনও অধ্যায়ে।

এড়ানোর মন্ত্রটিও ভুলে যাই, রোজ পুরনো হচ্ছি। কপালের রেখারা স্পষ্ট হচ্ছে, আঙুলের কড়ে শব্দগুলো মৌন হতে শিখে নিয়েছে এমনই করে। তবুও থমকে যাই, অসময়ের ঝড়ো বাতাস আসলে উদ্বিগ্ন হয়ে পড়ি, অল্প আঘাতে বিমর্ষ হই। হাঁটছি একা অথচ কবিতায় যাপন করছি না। মন নেই নীরব সাধনায়। একটা ভাঙচুরকে উপভোগ করছি নিকট দূরত্বে দাঁড়িয়ে।

এই ভাঙচুরের খেলায় নিজেকে মনে হচ্ছে জুয়ারি। হাতের ভাঁজে লিখছি প্রণয় সংক্রান্ত ব্যর্থ উপমা, অবশিষ্ট দিনের রোজনামচায় শুধুই কাটছি পাপ। ভরে যাচ্ছে কবিতার খাতা ব্যর্থ কিছু শব্দে।

Wednesday, 22 August 2018

নৈঃশব্দ্য কোলাজ

নৈঃশব্দ্য কোলাজ
ইমেল নাঈম

করতলজুড়ে দুঃখ, বিনিদ্র রাতের গল্পে কোনো নায়িকা নেই। জীবনের প্রতি স্তরে থোকায়থোকায় রহস্যগুলো এখনো হেসে ওঠে হুট করে। নিজেকে নিয়ে প্রশ্ন করে উঠি অবচেতন মনে। রহস্য মুছে যায় দূরের দেশে। মুহূর্তগুলো বিমূর্ত অবয়বে হেসে ওঠে চুপচাপ।

আমাদের দিনগুলো মলিন হয়ে যাচ্ছে দিন দিন। রাফখাতায় লিখিত প্রেমের ভাঁজে প্রহসন, নিজেকে নিয়ে ভাবনায় আটকে ফেলেছি দ্রুত। ছুটে চলা পাখির মতোন। মার্বেলের মতো ছুটে যাই অকারণে। লারেলাপ্পার মতো ছুটে যাচ্ছি অবহেলা নিয়ে।

কোথাও তো থেমে যাবার সময় থাকে। শুভ্রতাটুকু নিয়ে হেরে যাওয়ার আগমুহূর্তে কিছু রেশ টিকে থাকে। মূর্ছনা কেটে গেলে নিঠুর বাস্তব আজো হেসে ওঠে। নিজেকে নিয়ে পেরিয়ে যাচ্ছি আল্পস পর্বত। পৃথিবীকে আগলে রাখছি দিনের সব হিসাবটুকু নিয়ে। মরুর কঠোরতা আজো হেসে ওঠে।

কৃষকের মুখ দেখে হিসাব করতে বসো না, পলির জমাটবদ্ধ ঋণগুলো। নির্বাক জীবনের ক্যানভাসে টিকে থাকে কিছু স্পর্শ। খড়িমাটিতে লিখে রাখা কিছু দাগ, নিজেকে নিয়ে প্রশ্ন করতে করতে মিলিয়ে যাচ্ছি অঝোর শূন্যতায়। দিনের হিসাবে রেখে যাচ্ছি মুহূর্তকালীন নৈঃশব্দ্য।

Sunday, 22 July 2018

নিভৃত প্রেম

নিভৃত প্রেম
ইমেল নাঈম

দেশলাইয়ের বাক্সের মতো ভেঙে যায় সকল প্রতিরোধ। অর্থহীন শব্দের প্রলেপ সেঁটে দিয়ে বসে থাকি জানালার পাশে। শহুরে বাতাসগুলো বদলে যাচ্ছে দ্রুত— মানুষের মতো বদলে যাচ্ছে তারা। দক্ষ অভিনেতার মতো দ্রুতই মানিয়ে নিচ্ছে নিজের চরিত্র। এতই সুনিপুণ যে গভীর পর্যবেক্ষণেও উঠে আসছে না, কে প্রেমিক আর কে ধোঁকাবাজ।

রাতের সিম্ফনি, বিমূর্ত কিছু গল্পের মাঝে নাঙা তরবারির শান দেয়। ক্রমশ কেটে ফেলে বুকের ভিতরের সবটুকু অনুভব, আবেগ, মায়া, অন্যকারো প্রতি সফট কর্নার। নিজেকে প্রশ্ন করার সময় নেই কারো। প্রেম এখন দু অক্ষরের খেলা, যেখানে মানুষ অন্ধকারে পনেরো মিনিটের উত্তেজনাকে কিনে ফেলে।

নতুন সময় মানে শর্টকাট পদ্ধতি মেনে চলা। প্রেমগুলো মিগ২৯ বিমানের মতো ঢুকে পড়ে বিপদসীমার ভিতরে, এরপরে শানিত অস্ত্রে ঘায়েল করে নেয় কাঙ্ক্ষিত লক্ষবস্তু। কিন্তু স্লো পয়জন, ধীরে ধীরে গ্রাস করে নেওয়ার মাঝের কাব্যিক স্বর্গীয় সুখটুকু জানে না অনেকে। প্রযুক্তির কল্যাণে তিন অক্ষরের চিরকুট মুছে গেছে, ল্যান্ডফোনটিও ছুটি নিয়েছে প্রযুক্তির কল্যাণে। প্রেম হয়েছে দেশলাইকাঠি। জ্বলেই নিভে যায়, নিভলেই হারিয়ে যায়...

ঋতুর রঙ বদলেছে, গ্লোবাল ওয়ার্মিং, ইন্টারন্যাশনাল ইস্যুর ভিড়ে আমরা সচেতনার মোড়কে স্বার্থপর হয়ে গেছি। গ্রামগুলো ভেঙে হয়েছে ভগ্নাংশ, গরু নেই, ধানের স্বাদও নেই, সাঁকো নেই, পুকুর ভরাট হয়েছে নানাভাবে। আর অপেক্ষার মোড়কে বেড়েছে শ্লোগান, ব্যথাতুর হৃদয়ে কেবলই ডেকে যাচ্ছে।

অপেক্ষার সবটা প্রহর ভেঙে যায়, দুর্বার এক শক্তি, সাইরেন বাজিয়ে ভাঙে নীরবতা, হুইসিলে ভাঙে নীরবতা, মধ্যরাতে উপচে উঠে নিহত কিছু পাখির দৃশ্য। হায় প্রেম... হায় নিভৃত নিঃসঙ্গতা, কোথাও তো রাখো নি পায়ের ছাপ...

Monday, 25 June 2018

বৃষ্টি দিন

বৃষ্টি দিন
ইমেল নাঈম

বৃষ্টি হলে আমার কবিতা পায় না, প্রেম পায় না। দূরের দৃশ্যে ভেসে যাওয়া দেখি। জলমগ্ন আবহাওয়া। ঋণের বোঝায় যুক্ত নেই কোনও নাম। মুষলধারায় বৃষ্টি হলে আমি জানালায় দাঁড়াই, ব্যস্ত সড়কের ব্যস্ততা মাপি। রিকশাওয়ালাদের ছুটে চলা দেখতে দেখতে জ্বালিয়ে ফেলি সিগারেট। আর ইশকুল ফেরত বাচ্চাদের উৎফুল্লতা মনের ঘরে আঁচড় কাটে। এই কাটাকুটির কারণটাও আমার জানা হয় নি। পাড়ার দামাল ছেলেরা ফুটবল খেলে, বলের পিছনে দৌড়চ্ছে শৈশব। আমি শুধুই দেখি।

বৃষ্টি এলে আমার কবিতা লিখতে ইচ্ছে করে না। আনমনে তাকিয়ে থাকি শুধু। মাঝে মাঝে হুডতোলা রিকশাই নয়, জল ভেঙে ছুটে চলে মোটর যান। আমি ভাবি কেন এই ব্যস্ততা? যদিও এটুকু খেয়ালে রাখি নি, নিজের জন্য অবকাশটুকুকে কিনে নিচ্ছে নামীদামী কর্পোরেট কোম্পানি। আর, একদল লোক জীবনের তাগিদে ছুটে বেড়ায় রাস্তায়। দেখতে দেখতে দেখি এলাকায় জল জমে গেছে। বৃষ্টির মানে বদলে যায়, বাইরের দৃশ্যপটে স্থবির হতে থাকে ক্রমশ। ভিতরে? কেইবা রাখে তার খবর?

বৃষ্টিতে কেউ কেউ নাকি ঝালমুড়ি খায়, খিচুরি পাকায়... আমার ওসবে মন নেই। কেন জানি ভালো লাগে না। ইউটিউবে রবীন্দ্র সঙ্গীত লাগিয়ে চুপচাপ দাঁড়িয়ে বৃষ্টি মাপে। যারা রবীন্দ্র সঙ্গীত শোনে না তারা শোনে প্রেমের গান। বৃষ্টি কী কেবলই প্রেমের কথা বলে? বিচ্ছেদ, ভাঙচুর এসব কী নেই বৃষ্টিতে? নেই হবে হয়তো! এতো খবর তো রাখি নি। নইলে এতো আনন্দ কীভাবে মশগুল হয় মানুষ? অজস্র প্রশ্নবোধকে আটকে যাচ্ছে আঙুল।

বৃষ্টি হলে আমার কবিতা পায় না, প্রেম পায় না। কেবল বারান্দায় দাঁড়িয়ে দেখতে ইচ্ছে করে বৃষ্টির রঙ, মৌন ভাষার ব্যাকরণ বোঝার আদিম ইচ্ছেটা মাথাচাড়া দেয় মুষলধারায়, বৃষ্টির ছন্দে নৃত্তটুকু উপভোগ করতে থাকি, অলক্ষ্যেই বেজে ওঠে মোজার্ট। চোখের সামনে ভাসে মার্কো রথকো'র আঁকা অবহেলিত ছবি, যাকে কিনে নিতে চাইছো এখন কোটি টাকায়।

Friday, 22 June 2018

স্মৃতির জার্নাল

স্মৃতির জার্নাল
ইমেল নাঈ

'ভালো আছি ভালো থেকো / আকাশের ঠিকানায় চিঠি লিখো।’— স্মৃতির জার্নালে লেখা কবিতাগুলো আকাশ আঁকছে। দিনের কষ্টগুলো কোথাও তো স্পেস খুঁজে, চায় নির্ভরতার স্থান। দিন শেষে গাইতে চায় প্রেমের গান। অভিমান ঝরে পড়ে, বহুগামী মন থমকে যায়, ওয়াল পেইন্টিংসে ভরে যায় দেয়ালগুলো। অথচ অদৃশ্য দেয়ালটা জেগে থাকে চোখ মেলে।

হাতের পরশ মুছে যাওয়ার প্রলোভনে রেখে দিয়েছি যাবতীয় ভাব, আবেগ। কতটা পথ একসঙ্গে হাঁটা হলে প্রেমিক ভুলে যায় প্রেম? এই প্রশ্নের উত্তর নেই। কেবলই একটা বিস্ময়, তাড়া করে ফিরছে আমাকে। পথ ভুলে যাওয়া প্রেমিকের মতো খুঁজে যাচ্ছি। এপাশ-ওপাশ করেও পাচ্ছি না, আড়মোড়া ভাঙতেই দৃশ্যত ভাঙনের জলছবি খেলছে। নীরবে মুছে যাচ্ছে আমাদের সকল কথা।

আমার লেখা সবগুলো কবিতাই লাল, তারা আরো রক্তাক্ত হচ্ছে। রক্তক্ষরণের ইতিহাস লিখে রেখেছো চোখের কোণায়। নির্বাক অনুভূতিগুলো জেগে থাকে ধ্রুপদী কিছু হাহাকার নিয়ে। উড়োচিঠিতে শোনা যায় কানাঘুষা, মুঠোফোনের কথাগুলো হাপিত্যেশ ঝরায় কেবল। তুমিও অপমানটুকু নিয়ে জেগে থাকো। কোথাও কোনো প্রশ্ন নেই। দীর্ঘশ্বাসে লিপিবদ্ধ হয় নীরবতার বিউগল।

চুপ থাকার অভ্যাসটুকু আয়ত্ত হয়ে গেছে আমাদের। পলেস্তারা খসা শ্রীহীন দেয়ালের মতো দাঁড়িয়ে আছি আমরা দুজনেই— উদ্দেশ্যহীন। ভ্রান্ত ধারণাগুলো ছড়িয়ে ছিটিয়ে যাচ্ছে। হাতে হাত রাখা দুটো মানুষ একাকীত্বকে তারিয়ে তারিয়ে উপভোগ করছে।

Wednesday, 25 April 2018

বিষণ্ণময়ী'র ভালবাসা

বিষণ্ণময়ী’র ভালবাসা
ইমেল নাঈম

ভালবাসতাম। এখনো বাসি। কবিতাও লিখতাম। লিখতে তুমিও। দুজনের লেখা কতশত যুগল কবিতা ছড়িয়ে ছিটিয়ে আছে মনের কোণায়। তোমার লেখনীতে ভর করতো বিষণ্ণতা, যেন একটা ভোকাট্টা ঘুড়ি পাক খেতে খেতে পড়ে যাচ্ছে ইলেকট্রিক খাম্বার তারের উপর। তারপিছে দৌড়ে চলেছে একদল কিশোর।

আমি তারিয়ে তারিয়ে উপভোগ করতাম। তোমার গা থেকে ভেসে আসতো দামী পারফিউম। আমি মুগ্ধতার শেষটুকু নিয়ে তাকিয়ে থাকতাম। তোমার শান্ত চোখ কত অব্যক্ত কথা বলতো তখন, মৃদু হাসিতে অদ্ভুত নির্ভরতা পেতাম। তোমার চওড়া বুকে মাথা পাতলে যেন এক স্বর্গীয় অনুভূতি। আমাকে টেনে হেঁচড়ে নিয়ে যেত আমার থেকে অনেকদূরে।

আমার কবিতাগুলো পড়ে তুমি মুচকি হাসতে। আর মুগ্ধতায় বাহ বলে উঠতে। বিশ্বাস করো আমি কবিতার ক বুঝতাম না তখন। অথচ আমার চোখে খেলে যেতো বিস্ময়ের সুর। তুমি বলতে আমার লেখায় সারল্য আছে। যা সহজে আকৃষ্ট করে সবাইকে। আমি বলতাম এই সারল্যটাই আমার সম্পদ।

একদিন ভিতরে ঘোর বৃষ্টি হলো। বাইরে উজ্জ্বল দিন। কী অদ্ভুত বৈপরীত্য! নিজেকে এতোটা অপরাধী মনে হয়নি। তুমি বলেছিলে থেমে যাওয়ার দরকার। অথচ, আমরা থামার জন্য পথ চলিনি। খুঁটিয়ে খুঁটিয়ে নিজের দোষ বের করতে চাইলাম। পেলাম না। আয়নার সামনে দাঁড়িয়ে বুঝতে চাইতাম, কতখানি বদলে গেছি। নিজের প্রতিবিম্ব ছাড়া আর কিছুই পেলাম না।

দিন কারো জন্য বসে থাকেনা। ঝড়ের পরে লণ্ডভণ্ড প্রকৃতিও আবার সাজিয়ে নেয় নিজেকে। নীরবতা ভেঙে গেয়ে ওঠে পাখি। আমিও গুছিয়ে নিয়েছি নিজেকে। চোখে কাজল দিই, ইচ্ছে হলে শাড়ি পরি, কপালে টিপও দিই। এখনো ভালবাসি তোমাকে, আসলে ভালবাসাটা একটা অভ্যাস মাত্র। ভালবাসতে কোনও কারণ লাগেনা।