Showing posts with label প্রলাপ সিরিজ. Show all posts
Showing posts with label প্রলাপ সিরিজ. Show all posts

Wednesday, 18 October 2017

প্রলাপ - ১০

প্রলাপ - ১০
ইমেল নাঈম

ভুলে যাওয়া আস্তিনের ভাজে... কপাল চুইয়ে নামে দুঃখ
বিষণ্ণতা লিখতে বসে হারিয়ে ফেলেছি গতজন্মের আনন্দকে
কুড়িয়ে পাওয়া পাতার ভিড়ে লিপিবদ্ধ সহজাত প্রবৃত্তি
হ্যাশট্যাগের ভিড়ে হারিয়ে যাচ্ছে আমাদের মনের ক্ষুধা

প্রেমিকের চিঠি এখন আর ঘুমোয় না গল্পের বইয়ের ভাজে
দুপুরের ভাতঘুমে নেমে আসেনা চিরচেনা কোনো গান
মুঠোফোনে ভেসে আসে মেঘদল আর পিংকফ্লয়েড

বিকেলে পাড়ার টঙ দোকানে লিখে রাখছি
কিশোর মনের রাজকন্যার ছবি, অদক্ষ হাতের কারুকাজ...
ক্যানভাসজুড়ে প্রহসনের জন্ম লিখি। উড়ে যায় নিকোটিন
এক কাপ উষ্ণ চায়ের মাঝে লিখছি দৈনন্দিন পরাজয়।

বিগত সময়ের কোরাস গাই, ইশকুল মাঠে লিখি শূন্যতা
কিশোর কিশোরীদের ভিড় নেই, সেখানে আছে মায়ার ফানুশ
আইসক্রিমের ফাঁকে পেরিয়ে গেছে অজস্র হেমন্তকাল
অট্টালিকার ভিড়ে অভিজ্ঞ হয়েছি না পাওয়াগুলো নিয়ে।

প্রকাশকালঃ ৩ কার্তিক ১৪২৪

Saturday, 14 October 2017

প্রলাপ - ৯

প্রলাপ - ৯
ইমেল নাঈম

মখমলি ঘাসে শুয়ে আকাশ দেখি। আশ্বিনে উড়ছে মেঘের ভেলা। উড়ুক্কু মনের অভিসন্ধি, বুঝতে বুঝতে হারাচ্ছে সৃষ্টির সকল ছলাকলা। মোজার্টের সুর নামছে আযানে। নিঃসঙ্গতার গান গাইছে গঙ্গাফড়িং। কাচপোকাদের প্রেম দেখতে বসে প্রেমিক হচ্ছি রোজ। অচেনা আকর্ষণে মোহিত হচ্ছি বারবার।

মুখবইয়ের বাইরে দেখিনি তোমায়। তুমিও নও আমাকে। প্রেম নয়, আবার অপ্রেমও নয়। বন্ধুত্বের সংজ্ঞা অচেনা। ঠিক বুঝতে পারিনা নিজেকে। তোমাকে তো অসম্ভব। সন্ধ্যার নিয়ন জ্বললে মানুষের ডিপ্রেশন দেখি। নিজেকে বেচে দিচ্ছে সুলভ মূল্যে।

রাত বাড়লে পোষা বিড়ালটির সাথে দুঃখ ভাগাভাগি করি। মনের মাঝে ভর করে সুফিজম। খৈয়ামের রুবাইয়াৎ আওড়াতে পেরিয়ে যায় সময়টুকু। সিগারেটের ধোঁয়ায় বিলীন হচ্ছে আমার ভেতর। আমি শূন্যতার বহিঃপ্রকাশ, অবয়বের বাইরেও অন্য এক আমি ঘুরছে মুখোশ পরে।

বিমূর্ত মুহূর্তগুলোকে রাঙিয়ে নিই কাল্পনিক বিন্যাসে। মেঘের রঙ বদলে দিই অসুন্দরে। নিজের সাথে চলছে জেহাদ। দিনের শেষে রয়ে যায় আবেশ। রাসায়নিক বিক্রিয়ার শেষে টিকে থাকে ত্রিভুজাকার রহস্য। নিজের বলে কিছুই থাকেনা। নিজেকেও মনে হয় নিলামে ওঠা কোনো জিপসি প্রেমিক।

প্রকাশকালঃ ২৯ আশ্বিন ১৪২৪

Friday, 13 October 2017

প্রলাপ - ৮

প্রলাপ -
ইমেল নাঈম

মৃত্যুর পর অভিমানী কিছু শব্দ জেগে ওঠে
নাব্যতাহীন নদীর গতিপথে জন্মায় কাশফুল
প্রান্ত ভুলে যাওয়া মুখের ভিড়ে অচেনা হই
অভিমানের পারদ গলে জন্মায় মায়ার বাঁধন।

ছিঁড়ে ফুঁড়ে গিলছি সামাজিক রীতিনীতি
অসহায়ত্বের সম্বল হিসেবে নিলামে উঠাই...
নিজেকে নিয়ে আগ্রহ দেখি দুপক্ষের।
গুরুত্ব বুঝে বসে থাকি। অবাক হই কেবল।

আততায়ী সময় পেরিয়ে যেতে থাকে সামনে
বালুঘড়ির খেল উলটে যায় নির্দিষ্ট সময় পরে
দিনশেষে মূল্যহীন হয়ে তাকিয়ে থাকি।
অনিশ্চিত গন্তব্যতে হারাই প্রবেশাধিকার।

উড্ডীন সময়ের ভাজে, কবিতারা গল্প হয়
সবাই ভুল বানানে লিখে রাখে তোমাকে।
চাইলেও জবাব দিতে পারোনা, কিছুকথা
বাকী ছিলো তোমার, ছিলো গাঝাড়া দেয়ার।

অদৃশ্যকালিতে লিখে রাখছো নিজ অতীত
ভবিষ্যতও লিখতে চাইছো একই কালিতে
আগে রপ্ত করো নিষ্প্রাণ চোখের ভাষা
ও'টি অধরা থাকলে অসমাপ্ত থাকবে প্রেম।

প্রকাশকালঃ ২৮ আশ্বিন ১৪২৪

Sunday, 8 October 2017

প্রলাপ ৭

প্রলাপ - ৭
ইমেল নাঈম

আমি খুব একটা ভালো বন্ধু হতে পারিনি। ভীষণ অসামাজিক। নিজেকে নিয়ে এতো ব্যস্ত, দেখাই হলোনা পাশের মানুষের টাঙ্গাইলি শাড়ির সাথে ম্যাচ করে টিপের কারিশমা। ওইপ্রান্ত থেকে অভিযোগ উড়ে এলে চুপচাপ শুনি। উত্তর নেই। যেনো ঝড়ের পূর্বাভাষ। নিজের উপর ধিক্কার হয়। বেশি তো চায়নি, চেয়েছিলো একটু পাশে থাকি। একটু সময় দিই। অবসর গলে দুটো মিনিটের খুনসুটি।

মুখবইতে অজস্র কমেন্ট তবুও মনে হয় কবিতা পড়ে থাকে অবহেলিত। পড়িনি বলেই ঝরছে পারিজাত। স্তূপীকৃত হচ্ছে মলিন মুখের অভিমান নিরুত্তাপ সময়ের ভাজে। অলিখিত বরফ গলছে, শোকার্ত মুহূর্তগুলো বারবার জানান দেয় অসহায়ত্ব। রুটিনমাফিক ব্যস্ত সময় কাটে। ম্যাসেঞ্জার খোলা। অবসর নেই একরত্তি। কেবল ছুটছি... দৌড়ছি আর নিজেকে মাপছি অর্থের মূল্যায়নে।

কিছু জিনিস অব্যাখ্যাত থাকে আবার কিছু অনুভবকে ব্যাখ্যাও করা যায়না। নিজেকে নিয়েই ব্যস্ত থাকতে থাকতে ভুলে গেছি বন্ধুত্বের দাবীদাওয়া আর চাওয়াপাওয়া। অতটা দায়িত্বহীন নই তবুও মুখোশের আড়ালে জন্মান্তর হয় উপলব্ধি। বাইরে থেকে দেখতে মনে হয় অবিকল মানুষের মতো। আসলে বদলে ফেলা সময়ের হাতেখড়িতে স্লেটে লেখা কিছু কাব্যিক লাইন।

ভাগ্যিস কবি নই। কথিত আছে  সমাজে কবিদের প্রেমিক প্রেমিকা থাকলেও বন্ধুর খুব অভাব। আমি বিমূর্ত দৃশ্যপটে লিখে রাখি, আমি মানুষ হিসেবে মন্দ নই... মুখোশের ব্যবহার শিখিনি এখনো... আর এও জেনে রেখো তোমরা আমি ভালো বন্ধু হতে পারিনি।

প্রকাশকালঃ ২৩ আশ্বিন ১৪২৪

প্রলাপ - ৬

প্রলাপ - ৬
ইমেল নাঈম

উত্তাপের বিনিময়ে কিনে রাখি তোমাকে
নিরুত্তাপ সময়ের কাটাকুটিতে বিবর্ণ গল্পের জন্ম হয়
বিনিদ্র সময়ের পাঠে চলে একাকীত্বের বেচাকেনা

প্রভাবক মুছলে শুধু থাকে প্রাণহীন সম্পর্কের ফসিলস
আবেশের স্তর থেকে ফিরতে পারেনা প্রেমিক
চোখের ভাষা পড়তে গিয়ে অন্ধ হয় কবি
নির্ভুল হিসেবের ভিড়ে বড় ভুলটাই অলক্ষে থাকে

অনুমানের ভিত্তিতে লিখে রাখি জাদুবাস্তবতা
নিসর্গের বিনিময়ে লিখছি ইট সিমেন্টের গল্প
না পাওয়ার ক্ষোভে চুপসেছে অভ্যন্তরীণ অনুভূতি

থমকে যাওয়ার বিনিময়ে মেলেনা কোনোকিছুই
জাদুর শহরে লিখছি তাসের ঘরের হ্যালুসিনেশন
উপরির বিনির্মাণে চাষাবাদ হয় কোমল নিঃসঙ্গতার

সামলে চলো... পথের বিনিময়ে লিখছি অপ্রেম।

প্রকাশকালঃ ২৩ আশ্বিন ১৪২৪

Thursday, 5 October 2017

প্রলাপ -৫

প্রলাপ - ৫
ইমেল নাঈম

ভেসে আসে প্রাচীন কালের কোনো সঙ্গীত। মূর্ছনায় মেতে উঠেছে চিরকালীন উৎসব। সৃষ্টির আনন্দে মেতে ওঠে কবি। কোজাগরী রাত জেগে আছে, রাজপথে হাঁটছি একাকী। বৈষম্য'র স্তরে স্তরে দেখছি প্রেমিক প্রেমিকার আনন্দ উল্লাস। নিয়নবাতির আয়োজনে কবিতা লিখা হয়, উপচে পড়া ভিড়ে লিখে রাখি নিজেকে।

ব্যস্ত সড়কে হুল্লোড় সঙ্গীত। সামনাসামনি তুমি। ট্রাফিকের ভিড় গলে এগুচ্ছে পাবলিক ট্রান্সপোর্ট। চোখের চশমার প্রতিবিম্ব বলে দেয় মুখবইয়ের নীল নেশায় আসক্ত তুমিও। কানে ভাসে সুফিবাদ। নিঃসঙ্গতার বিপরীতে হাঁটতে ইচ্ছে করে। কোলে জড়িয়েছ ইশকুল ব্যাগ। কিন্তু মুখাবয়ব বলে দেয় ইশকুল পেরিয়েছো অনেক আগেই।

ইতিমধ্যে বিলীন হতে শিখে গেছি। মর্চে ধরা হৃদয়টা চনমন করে উঠে। চাঁদটিকেও ম্লান মনে হয়। প্রথম দর্শনে প্রেমে বিশ্বাসী নই। তবুও এই দেখাকে অস্বীকার কীভাবে করে প্রেমিক মন।

প্রেম নয়, আবার অপ্রেমও নয়। আড়দৃষ্টিতে লিখছো অব্যক্ত অনুভূতি। আমি অনুবাদ করছি তোমার চোখ। চশমায় দেখিনি পুরোটা। আবার যা দেখিছি তাতেও জন্ম নেয়নি নাইটকুইন। অনুবাদ শেষে লিখা হয় ভাব সম্প্রসারণ। তার সারমর্ম সম্পূর্ণ ঝাপসা, স্পষ্ট নয় প্রেম নাকি আবেশ...

তুমি নামলে আমার আগের স্টপেজে। মনে হলো এইমাত্র কণকচাঁপা চাকমা আঁকলেন বিষণ্ণতার পোর্ট্রেট। তারপর ছুঁড়ে মারলেন আকাশের দিকে। সেখান থেকে জন্ম নিলো প্রেম আর অপ্রেমের মাঝামাঝি অবস্থান। উপরে তাকিয়ে দেখি চাঁদটা এখনো ম্লান। হেডফোনে বাজছে সঙ্গীত... একটা অদ্ভুত ভাললাগা নিয়ে ফিরছি।

প্রকাশকালঃ ২০ আশ্বিন ১৪২৪

Wednesday, 4 October 2017

প্রলাপ ৪

প্রলাপ ৪
ইমেল নাঈম

থমকে গেছে আয়োজন, নিপুণ হাতের খেল
ব্যস্ত সময়ে স্বার্থপর হয়ে ঘুরছি দরজায়
খিল সাঁটানো সময়ের ধারাপাতে ক্লান্ত হই
নিরুত্তাপ দৃষ্টিতে লেখা হয় কবিতার জন্ম

পথের ধারে ঝরেছে অজস্র শিউলি
ফুটপাথ ঢেকেছে শহর স্নিগ্ধ মাদকতায়
চোরাবালিতে ডুবেছে সময়ের হিসেবনিকেশ
কল্পনারা সত্যি হয়ে ফেরে ভুল সময়ে

অভিমানের খাতায় লিখা নেই তোমাকে
সব রঙ মাখিয়ে রাখি আঁকবো আলপনা
মুঠোফোনে ভেসে আসে অবান্তর আড়ি
নীরবতা লিখবে আমাদের যাবতীয় রসায়ন।

চুপচাপ রাত নেমে আসবে, কথারাও নিশ্চুপ
প্রলাপের মতো উড়ছে বায়বীয় অভিমান
প্রথাহীন মুখদুটিও ভাঙছে নিবিড় আলিঙ্গন,
প্রলেতারিয়ায় ভাসছি মুড়িমুড়কির মতো,
নাড়ছি কড়া ঠিক দরজায়, ভুল সময়ে।

প্রকাশকালঃ ১৯ আশ্বিন ১৪২৪

Sunday, 1 October 2017

প্রলাপ - ৩

প্রলাপ - ৩
ইমেল নাঈম

প্রহসনের বাতি নিভে গেলে জেগে ওঠে চোখ
অনেক রঙচঙে স্বপ্নের বিনিময়ে কেনে নিজেকে।
বিশ্বাসের আদিম ঘোড়া পালিয়ে যায় দূরান্তে
জীবন ব্যালেন্স শিটের হিসেবে মোড়ানো খাতা

প্রান্ত বদলানো মিছিলে বইছে শুধু শোকসঙ্গীত
লাল কাপড়ে বাঁধা চোখ, আলোর থেকে দূরে
সাইরেন বাজলে বুঝি ক্রমান্বয়ে বাড়ে ঘড়ির বয়স
মিথ্যে শ্লোগান বুকে জড়িয়ে হাঁটছে বুড়ো যুবক

দৃপ্তকণ্ঠে নিজের অধিকারটুকু বুঝে নিতে চায়
ভুল মানুষের কাছে এসে হাত পাতে দিনশেষে
হতাশার মোড়কে বাজারজাত হচ্ছে মানবিকতা
কর্পোরেট বিজ্ঞাপনে দেখি চোখ ধাঁধানো অফার

নিজেকে এড়িয়ে যেতে চাই নীরবতার শ্লোগানে
কবিতা নিজেকে ব্যতীত কাউকে দেয়নি কিছু
চুপসে গেলে গ্যাস বেলুন ফিরে আসে নীড়ে
আকাশ চেনেনা আবীর, আবীর চেনেনা সন্ধ্যা

টঙ দোকানে বসে দেখি ম্লান সময়ের হাতেখড়ি
নিজের কাছে অচেনা লাগে ধূসর চারপাশ।

প্রকাশকালঃ ১৭ আশ্বিন ১৪২৪

Tuesday, 26 September 2017

প্রলাপ - ১

প্রলাপ - ১
ইমেল নাঈম

সুস্পষ্ট অভিমানের মেঘ, হারিয়ে যাবার পূর্বের প্রস্তুতি
শূন্যতার পরে থোকায়থোকায় সাজানো মিথ্যে প্রহসন

তুরীয় সময়ে নানা খানাখন্দ দেখে নিতে পারো
মৌলিক সময়ের আয়োজনে ব্যস্ত নিঃসীম অন্ধকার।
বাতিঘরে নেই শ্লোগান, পিছুটানে পেরুচ্ছি শেকড়
শিখরে ওঠার অভিপ্রায়, সত্যমিথ্যার হিসেব কবিতায়।

গড়িয়ে যাচ্ছে সময়, বদলে যাচ্ছে প্রেক্ষাপট
সাজঘর নেই, আলগা কোনো আস্তরণও লাগেনি
তবুও সার্কাসের ক্লাউন আর রিংমাস্টারের অভিনয়
দিনশেষে হাতে তালি মেলাটাই একমাত্র সম্বল

ভিতরের বিষটুকু উপড়ে নিলে কী থাকে অবশিষ্ট
জানা নেই মানব বিজ্ঞানের জন্মকথা, গুহাবাসীর
নানান আঁকাজোকায় খুঁজে নিচ্ছো শৈল্পিক আবরণ

কর্পোরেট মূকাভিনেতা নিজেকে উজাড় করে দেয়
দুবেলা আহারের সন্ধানে। প্রেমিকার চুম্বনগুলোকে
লিপিবদ্ধ করিনি কবিতায়, দিনান্তের গল্পে কেবল ভুল,
যাপিত জীবনের বিনিময়ে রাখিনি কোনো অভিযোগ।

প্রকাশকালঃ ১০ আশ্বিন ১৪২৪