Showing posts with label পত্র. Show all posts
Showing posts with label পত্র. Show all posts

Wednesday, 13 December 2017

লিজাকে লিখা চিঠি

প্রিয়তা,

কথারা থেমে যায়। চুপচাপ ভাবতে বসো, শেষ কবে গা এলিয়েছো বারোয়ারি বাতাসে? ভাবছো, শুরুটা হতে পারতো ফর্মালিটিজ মেনে। প্রথমে সম্ভাষণ, অতঃপর প্রযত্নে... অথচ তার কিছুই নেই এখানটায়। শুরুতে একথা বলতেই হয় তুমি একটা মহাপাজি। নিজে চিঠি লিখছোনা আর  আমাকে বলছো লিখতে। লিখতেই হবে? ভাবছি এই নগরে যে কবি কখনো প্রেমে পড়েনি, সে কাকে চিঠি লিখবে? কেনোইবা লিখবে? কেউ তো নেই অপেক্ষায়? সেও তো জানে কোনোদিন কোনও চিঠি ভুল করে উড়ে আসবেনা তার ঠিকানায়... অদ্ভুত হলেও সত্য সেই মানুষটা চিঠি লিখতে ভালবাসে।

শীতে চারটে জ্যাকেট কিনলে শুনলাম। এতোগুলো! ভাবছি... উষ্ণতার জন্য তোমারও কী মানুষ দরকার। তোমার শহরে তো উৎসবের মাস। বড়দিন, বর্ষবিদায়, নববর্ষের আগমনী গান। দোকানে দোকানে দিয়ে রেখেছে স্পেশাল অফার। কিনেছো বুঝি অনেক? আচ্ছা তুমি কী গান গাইতে পারো? নাচতে? ছবি আঁকতে? পারো না বুঝি! আমার তো তোমার মুখের দিকে তাকালেই মনে হয় সব্যসাচী আর্টিস্ট। যে কথা বললে গাছ থেকে খসে পড়বে শিউলিফুল। লজ্জাপতিরা কুঁচকে যাবে লজ্জায়, আবার দূর্বাঘাস ভিজিয়ে দিতে চাইবে পা। কুয়াশা, শিশিরে মিলেমিশে একাকার। এসব সবটাই আনুমানিক।

এতোটুকু লিখেও ভাবছি কী লিখবো তোমায়? কোনো কথাই তো বলা হলোনা। প্রান্তিক সময়ের অলিগলিতে থেমে থাকে সময়। তুমি লুকোচুরি খেলতে ভালবাসো। দেশে এসে ঘুরে যাও, মুখবইতেই দেখি...সামনাসামনি সাক্ষাত হয়না আমাদের। দেখা হবে কিনা সেটাও জানিনা। যখন আমি এই চিঠি লিখছি তখন প্রায় তিনটে। লাঞ্চ করেই লিখতে বসলাম। এতোক্ষণে তোমার ঘড়ি মধ্যরাত পেরিয়েছে। হয়তো লেখাটা পুরোপুরি শেষ হতে হতে তুমি ঘুমিয়ে পড়বে। তারমানে তোমার অভিব্যক্তি জানতে আমার রাত নামবে। ভাবছি অবাক হবে নাকি বিরক্ত।

কিছু উশখুশ রেশ থাকুক মনের কাটাকুটিতে। জ্বলছে সিগারেট। ভাবনার অবকাশে সুখে বিলীন হচ্ছে এলোমেলো বাতাস। বরফ জমা শহরে আমার উষ্ণতা পাঠালাম। গায়ে, মুখে, বুকে মেখো যতনে।
বরফে ঢেকে গেছে চারপাশ, সান্টার আগমনী গান
শোনাতে শহরজুড়ে নেমেছে শীতকালীন বাতাবরণ
নির্ভয়ে চালাও আঙুল, হে প্রেমিক পিয়ানোবাদক
আমি ভাসছি — প্রেমে, অপ্রেমে কিংবা তোমাতে।
চুপিসারে নেমে আসবে আমার শহরে রাত। গল্পের মোহনা হতে মুছে যাবে নাম। দিনশেষে আমিও ডুবে যাবো কবিতার বইয়ে। তুমি ব্যস্ত অফিসের কাজে আর সকালের কফির কাপে...এরমাঝে একটু দাবী তো থাকে...চাওয়া পাওয়ার বাইরেও থাকে কিছু শিহরণ, স্পর্শ, অনুনাদ। আর থাকে প্রেম আর অপ্রেমের মাঝের স্বরলিপি, তুমি সেগুলোকে অলংকার বানিয়ে রেখো নিজের মাঝে।

ইতি,
রোদ্দুর
চট্টগ্রাম, বাংলাদেশ

Friday, 24 November 2017

অনিন্দ্য'র চিঠি -১

অনিন্দ্য'র চিঠি - ১
ইমেল নাঈম

প্রথম চিঠি লিখছি। জানিনা ওয়েভ যুগে, ওয়াইফাইয়ের সব ফাঁক গলে এই চিঠি আদৌ পৌছবে কিনা তোমার ঠিকানায়। ঠিকানাটাও পেয়েছিলাম হুট করেই। কাকে যেনো ঠিকানা পাঠাতে গিয়ে ভুল করেই আমার ইনবক্সে পাঠিয়ে দিলে। অতঃপর নীরবতা দেখে বুঝতে পারলে ভুল জায়গায় ফেলেছো নোঙ্গর। অথচ আমি তখন লিখতে বসে গেলাম এই চিঠি। বলতে পারো জুয়া খেলছি আনাড়ি খেলোয়াড় হয়ে। তোমার শহরে কোন সময় মানে ঋতু কোনটা জানিনা। আমার এখানে হেমন্ত। সকালের মিষ্টি ঠাণ্ডা, জানালার ফাঁক গলে এক চিলতে আকাশ চলে আসে উড়ে উড়ে। ঘড়ির কাটায় ঘুমোচ্ছে ব্যস্ত চঞ্চল মানুষগুলো। খানিকবাদেই সব ক্লান্তি ঝেড়েঝুড়ে ছুটতে শুরু করবে আপন মহিমায়।

দিনের শুরুর এই সকালটা সত্যি মধুময়। আকশজুড়ে পাখির কলতান। ভাড়াবাড়ির ছাদ উন্মুক্ত নয় আমাদের মতো ভাড়াটের জন্য। জানালায় তাকিয়ে পাখির গান শুনি। মোজার্ট নামে বুকের ভিতরে। সুরের ব্যঞ্জনায় ভাসতে থাকি অনাবিল সময়ের নায়ে চড়ে। বদলে গেছে আমার শহর সবুজ মাঠ নেই হতে হতে বিলীন উঁচু দালানের ভিড়ে। কর্ণফুলীতে সাম্পানের শরীরে চাপিয়ে দিয়েছে কে যেনো ইঞ্জিন। আধুনিকতার নামে লৌকিক হয়ে উঠছি। এই শহর ভালবাসতে ভুলে গেছে।

তোমার আকাশ মানেই তো প্রাচুর্য। জ্যাকসন হাইটের সুবিশাল রাস্তার পরিপাটী ভাজ দেখে হয়তো তোমার চোখ জুড়ে যায়। শীতের সকাল আসতে কতো দেরি? নাকি এসেও চলে গেছে সে। আকাশ দেখা হয়? নাকি প্রবাস জীবনের আয়োজনে বুঝি আকাশের রঙ যে প্রেম আর বিরহের সংমিশ্রণ তাও খেয়াল করোনি।

কবিতা লিখছোনা অনেক দিন। মুখবইতে নানা ছবির ভিড়ে ক্লান্ত লাগছে আমার। কবিতা, শুধু কবিতাই পারে এই ক্লান্তির কাছ থেকে পরিত্রাণ দিতে। ছবিঘরের বাইরেও জীবন আছে? সেই জীবনটাকে কখনো আবিষ্কার করতে পারিনি। মুখবইতে একটাই সুবিধা কী সুন্দর নিজের ব্যক্তিগত দুঃখ কষ্ট লুকিয়ে রেখে প্লাস্টিক হাসি হেসে বলা যায় বেশ ভালো আছি। অথচ আমার এটুকুতে পোষাবেনা। আমি চাই তার পুরোটা। সেজন্যই চিঠি লিখা। যদিও আমি নিশ্চিত নই এই চিঠি বাংলাদেশ ফেলে সেই আমেরিকায় পৌছবে কিনা আর পৌছলেও তোমার ঠিকানা সে খুঁজে পাবে কিনা। আর পাবার পর তোমার রিয়েকশন কী হবে সেই চিন্তায় ভয়ে কুঁকড়ে যাচ্ছি।

সময় পেলে তোমার শহরের গল্প শুনিও। শুনতে চাই আমেরিকার আকাশ কী আমার আকাশের মতো, নাকি অন্যরকম। চিঠির শুরুতে সম্বোধন দিলাম না। আসলে বুঝতে পারছিনা কী বলে ডাকবো তোমাকে।

ইতি,
অনিন্দ্য
চট্টগ্রাম, বাংলাদেশ

(বিঃদ্রঃ ইতি শব্দটায় খুব অরুচি। কারণ ইতি মানেই শেষ। আর শেষটা বলতেই ইচ্ছে করছেনা একদমই)

Monday, 20 March 2017

চৈত্রে বৃষ্টির চিঠি


প্রিয়তা,
তুমি এখন অনেক দূরে। এখানে চৈত্র মাসে তুমুল বৃষ্টি। পথের সীমারেখা টানতে টানতে হাঁপিয়ে উঠেছিলাম আমরা দুজনেই। বৃষ্টি আমার খুব প্রিয়। বৃষ্টির শেষে পড়ন্ত বিকেলে নরম ঘাসের উপর খালি পায়ে হাঁটতে তুমি খুব পছন্দ করতে, কারণ পা ভেজানো এই আর্দ্রতা তোমার খুব প্রিয়। এই মুহূর্তে তুমুল বৃষ্টি পড়ছে না। চৈত্রের দিনে বৃষ্টি কাম্য নয়। তবুও তো আসে, ভিজছে বাহিরে এবং ভিতরে।

অফিসের জানালা দিয়ে চোখ মেললে ব্যস্ত সড়কের দিকে চোখ যায়। সাধারণত কর্মব্যস্ত মানুষের ঢল কমেনা এইখানে। আমিও নয়টা সাতটার নিয়ম মেনে দৈনন্দিন কাজ কারবারে পার করে দিচ্ছি ব্যস্ত ঘড়ির কাঁটার। অবকাশ নেই, অথচ এই বৃষ্টিতে কাজে মন টেকেনা। কবিতাপ্রেমীদের জন্য এই বিকেলের গল্পটা অন্যরকম হয়। তারা রবীন্দ্র সঙ্গীতে মন ডুবিয়ে ঝালমুড়ি খেতে খেতে প্রেমের কবিতা লিখে। আর আমি সবটাই অনুমান করে লিখছি, অফিসের কাজকর্ম ফাঁকি দিয়ে।

প্রিয়তা বৃষ্টি দিন এখন তোমার কেমন কাটে? আগের মতো? মানে বৃষ্টিতে ভিজে ভিজে হাঁটতে ভালবাসতে, পরের দিন ঠাণ্ডা, সর্দি, জ্বর বাঁধিয়ে একাকার। মানা করলেই বলতে ধুর কিছুই হবেনা। কিন্তু হতো, আর তোমার সাথে আমার দৈনন্দিন সাক্ষাতটা কমে গিয়ে নেমে যেতো তিন দিনে একবার। তবে তোমার ঘরে যাবার অজুহাত হিসেবে এটি অবশ্য মন্দ ছিলোনা। একদিন আমি বলেছিলাম বৃষ্টির সাথে ঠাণ্ডা, সর্দি, জ্বরের কোনো সম্পর্ক নেই। শুনেই তুমি খুশিতে টুপ করে গালে এঁকে দিয়েছিলে ভালবাসার পরশ। পরক্ষণেই লজ্জা পেয়েছিলে। আর আমি গোবেচারার মতো দরজার দিকে তাকাচ্ছিলাম। কেউ দেখেনি তো!

এই স্মৃতি আমার চোখে জ্বলজ্বল করতো। আমি অনুভব করতাম। তুমি জানো, এটিই প্রথম চুমুর স্বাদ নয় কিন্তু এটিতে লুকিয়ে ছিলো অন্যরকম একটা স্পন্দন। সেইথেকে এখনো নীরবে বাজছে আমার শরীরজুড়ে একটা শিহরণ। এখনো সেই স্মৃতি খুব চোখের সামনে দৃশ্যমান না হলেও কিন্তু খুব একটা অস্পষ্ট নয়। চৈত্র দিনে আমিও বৃষ্টি কাতরতায় ভুগছি। অনেক কথাই বলার ছিলো, শোনারও ছিলো অনেক শব্দ। অনেক শব্দ অল্পতেই উলটে গেছে গতিপথ ভুলে। কোনো অভিমান নেই, সুখ স্মৃতি অনেক কিছুই এঁকেছে। যদিও গল্পের শেষে আমি ফিরে যাই একলা, আর তুমি ছুঁয়ে থাকো কারো হাত।

হাত ধরার গল্পটাও তো বসন্তের। সেই গল্পটায় আমার নামে কোনো অধ্যায় নেই। আমার পুরোটা জুড়ে তুমি নেই। তবুও, তুমি আছো স্মৃতি বিস্মৃতির ডামাডোলে তুমি লুকিয়ে আছো গোপন এক অধ্যায়ে। এমন অনেক ছোটছোট গল্পের মাঝেই আমার শ্বাস প্রশ্বাস, অলিন্দের স্পন্দন।  আর সেইসব গল্পের রেশ নিয়ে আমি প্রতিবার থামি। থেমে যেতেই হয় আমাকে ঠিক আজকের মতো।

ইতি,
রোদ্দুর।
৬ চৈত্র ১৪২৩।

Sunday, 4 December 2016

প্রাপক, তোমাকে

প্রাপক, তোমাকে
— ইমেল নাঈম

এক চিলতে আকাশ ধরে রাখছি। আসলে, আজ আমার বলে কোনো শব্দ নেই। হারিয়ে ফেলেছি নিজেকে গত সন্ধ্যায়। প্রেম জিনিসটা এমন কেন? কোনোকিছুই আমার নয়, সবকিছু আমাদের হয়ে যায়। নিজেকে গুছিয়ে উঠিনি কোনোদিন, অন্যকে গোছানোর স্বপ্নও দেখিনা। ভাবিনি টুপ করে প্রেমে পড়ে যাবো, ভাবতাম এ কেবল সিনেমার  কোনো দৃশ্য, কিংবা উপন্যাসের কোনো টানটান দৃশ্যপট। যেদিন তোমায় দেখি, কলেজ ক্যাফেটেরিয়া, একটা ম্যাড়ম্যাড়ে সকাল। ক্লাস ফাঁকি দিয়ে বন্ধুদের সাথে আড্ডায় কাটিয়ে দেয়া সাধারণ দিনের মতো। আমি সেকেন্ড ইয়ার আর তুমি কিসে পড়ো জানতামই না। হা করে তাকিয়ে থাকা দেখতে না দেখতে বন্ধুদের টিটকারি কানে ভেসে এলো।

চোখ নামিয়ে নিলাম খুব কষ্টে, তোমার তৃতীয় চোখ সে কি বুঝেছিলো এই দৃষ্টিপাত। এরপর খবর নেয়া, একে একে বেরিয়ে এলো তোমার সম্পর্কে। তুমিও কিভাবে যেনো জেনে ফেলেছিলে আমার সম্পর্কে। কলেজ লাইব্রেরি থেকে শুরু করে ক্যাম্পাসের বাকি সময় তোমায় অনুসরণ করতে করতে আবিষ্কার করলাম নিজেকে একটা বন্ধুহীন মানুষ হিসেবে। এও কী সম্ভব! আমি বন্ধুদের আড্ডা বাদ দিয়ে এভাবে পিছুপিছু ঘুরঘুর করছি।

এর মধ্যে উড়ু খবর এসেই গেলো.... কিছুটা পজিটিভ আবার কিছুটা নেগেটিভ। সবচেয়ে অদ্ভুত লাগলো, তুমি নাকি এমন বলেছো, আমি ভীতু তাই তোমার সামনে এসে দাঁড়াতে পারিনি। বিশ্বাস করবে এই লাইনটির জন্যই আমি অপেক্ষা করেছিলাম এতোটা সময়। সেই মুহূর্তে মনে মনে ঠিক করে ফেললাম দেখা করি। দেখা হোক প্রিয় ক্যাম্পাসে।

পরের দিন নাম ধরে ডাক দিতে তোমাকে ক্যামন যেনো নার্ভাস লাগছিলো। ভিতর টা আমারও অল্পস্বল্প কাঁপছিলো, এটা কী ট্যালিপ্যাথি! হতেও পারে হয়তো। নাহ, তোমার আর আমার আড়ষ্টতা কাটতে সময় লাগেনি বেশিক্ষণ। এরপর অনেক আড্ডায় এগিয়ে গেলো সময়। আড্ডা শেষে বুঝলাম একটা বন্ধুত্ব কেবলমাত্র জন্ম নিলো। এই বন্ধুত্বই প্রেমের প্রথম ধাপ, তা হয়তো তুমি জানো, হয়তো জানোই না।

এরপর কথা হওয়া শুরু, মানে ম্যাসেঞ্জারে আর হোয়াটসঅ্যাপে। এটি আরো চার/পাঁচ বছর আগের কথা, তখন কলিং অপশন ছিলোনা সামাজিক মাধ্যমে, এখনকার প্রেমিক যুগল এইদিক দিয়ে খুব ভাগ্যবান। চাইলেই কথা বলতে পারে, ইচ্ছে হলে মুখটিও দেখতে পারে। আমাদের আলাপন তখনও চলছে মহাসমারোহে। একদিন তুমি হঠাৎ করে বললে কেনো এতো খবর নেই তোমার। শুনে খারাপ লেগেছিলো, সত্যি তুমি বুঝোনি, নাকি বুঝতে চাও নি। পরমুহূর্তে বললে দেখা করতে, কেইবা জানতো সেই দেখাটি একটা বন্ধুত্বের মৃত্যু হবে আর সৃষ্টি হবে নতুন অধ্যায়ের।

যদিও আমার চোখে তুমি এখনো একজন ভালো বন্ধু।

ইতি,
তোমার বন্ধু

Saturday, 22 October 2016

প্রিয়তাকে চিঠি

প্রিয়তা,

মাঝে বয়ে গেলো অনেক সময়। শরতের আকাশ ডুবে গেলো হেমন্তের বুকে। অনেক রাত পেরিয়ে গেছে নির্ভার স্বপ্নে। বাঁধা ছিলো না প্রজাপতির। ভাবি, শান্তিনিকেতনি কুয়াশা বুঝি প্রতি বিকেলে পা ভিজায় প্রিয়তার। দীর্ঘ বিরতি লিখে রাখে অনেক না বলা অভিমান। আমিও রেখেছি কিছুটা তার। বাকিগুলো ঝরে গেছে সকালের শিউলির মতো। লিখতে বসে অবিরত এটাই ভাবছি, প্রিয়তা অবসরে কী তুমি জীবনানন্দ পড়ো নাকি জীবনের আনন্দ কে পাঠ করো সারা সময় ধরে! মনে কী পড়ে বলেছিলে কবিতার বাঁধনে আঁকড়ে ওঠা রোমাঞ্চকর কোনো অধ্যায়ের নাম!

তোমার চিঠি বহুকাল পাইনি, শারীরিক অসুস্থতাও অনেকটা দূরে ঠেলে দিয়েছিলো আমায়। আমিও লিখতে পারি নি অনেক দিন। আসলে অনেক দিন বললে বাড়িয়ে বলা হয় খুব। মাত্র দুমাস। কিন্তু মনে হয় কতকাল। পুরোনো চিঠিগুলো পড়ছিলাম হসপিটালের সিটে বসে। কত স্নেহ, আবেগ আর ভালবাসা এসে জড়ো হলো চিঠিগুলোতে। জানো তো আমি স্বপ্নবিলাসী। কবিতার রঙে তোমাকে সাজাতে থাকি অনবরত। মুখবইয়ের মাঝেও অনুপস্থিত এই কয়েকদিন। প্রতিদিনই যেনো নতুন করে বাঁচার এক আনন্দ।

কোনো এক ডাকপিয়ন বলেছিলো তোমার মন খারাপ। বিশ্ববিদ্যালয়ের অভ্যন্তরীণ সমস্যা। ছাত্ররাজনীতি। তৃতীয় বিশ্বে আদর্শিক রাজনীতি কোনোকালেই কি ছিলো? আমার মনেই পড়ছে না। এখানের রাজনীতিকদের বাদ দিয়ে যদি প্রথম বিশ্বের দিকে তাকাও, দেখো হিলারি ক্লিনটন আর ডোনাল্ড ট্রাম্প ক্ষমতার লোভে কী নির্লজ্জভাবে আক্রমণ করছে একে অপরকে। এরাই আবার পৃথিবীকে সভ্যতা শেখাতে কত বড়বড় ডায়লগ ঝাড়বে ক্ষমতায় আসার পর। আর পৃথিবীও ভদ্রতার নামে মেনে নেয় তাদের সব কথা। কখনো বলে না তাদের এইসব নোংরামোর কথা। কবিতা ভালবাসি, তাই রাজনীতিও। আমারও সাম্যের গান গাইতে ওই মিছিলে হাঁটতে ইচ্ছে করে। অন্যায়ের বিরুদ্ধে সুউচ্চ কণ্ঠস্বর শুনে আমি ভাবি কোকিলের ডাক, সামনেই অনাগত এক বসন্ত।

সাম্প্রতিক সময়ে নোবেল নিয়ে ঝগড়া দেখলাম মুখবইয়ের কল্যাণে। আমার নিজেরও প্রিয় ছিলো হারুকি মুরাকামি। নাহ, উনি নন। পেলেন বব ডিলান। পুরোই থমকে গেলাম এই খবরটা দেখে। এরপরই শুরু হলো নোবেল প্রাইজ নিয়ে নানা ট্রল। আমি তো হতবাক। তবুও ভালো হাসপাতালের শেষ কয়েকটা দিন ভালোই কেটেছে বিতর্ক প্রতিযোগিতা দেখে। ওহ, আমাদের এখানকার প্রথম সারির একটা পত্রিকা একটা মজার কাণ্ড করেছে। নাম টা বলছি না, তবে পত্রিকাটে আমি দৈনিক সুবহে সাদিক নামেই ডাকি। ওনারা বব ডিলানের একটা গান কে বিচ্ছিরি ভাবে অনুবাদ করেছে। এইটা মানে গানটা তোমাকে হোয়াটস আপে পাঠাবো। আমার অবাক লাগে এতো উপরের মানুষ এতো খারাপ অনুবাদ কেমনে করে?

বাবা আশাকরি ভালো আছেন। আর এতোদিনে তোমার মেঠোপথের ক্যাম্পাসে ছাত্রছাত্রীদের পদচারণায় প্রাণোচ্ছল হয়ে উঠেছে। গান কেমন চলছে? কতদিন শুনিনি। জানোই তো মাত্র মেডিক্যাল ফেরত, সেভাবে সময় দেয়া হয়নি তোমাকে। আর তোমার মন খারাপের পরিমাণ কমবে আশাকরি এখন থেকে। আমার পরীক্ষাও কাছিয়ে এলো। কিছুই পড়িনি। সামনে যে দুর্যোগের ঘনঘটা। অবশ্য আমি একাডেমিক পড়াশোনাকে এতোটা গুরুত্বও দিই না। তাই ওটা নিয়ে ভাবছিও না খুব একটা। পড়াশোনার দরকার মননের জন্য, মানুষ হয়ে ওঠার জন্য।

তোমার নতুন চিঠির অপেক্ষায় রোদ্দুর। প্রিয়তা জানো তো, সব কবিতার মানে হয় না। প্রতিটা ভালবাসিও কেনো জানি বাসি হয়না। প্রতিটি মুহূর্ত মুহূর্তের মতোই কথা বলে। আসলে কবিতার মোড়কে যাই লিখে যাই তার সবটাই তোমাকে ভালবাসার গল্প।

ফিরে আসা
রোদ্দুর
চট্টগ্রাম।

Wednesday, 13 April 2016

চিঠি

প্রিয়তা

তোমার ঠিকানা জানি, শুধু অধিকার নেই বলেই আকাশের ঠিকানায় চিঠি দিলাম। রুদ্রের মতো তোমার কোনো আকুতি ছিলো না। আকাশের ঠিকানায় চিঠি দেয়ার। তবে আমি ভালো থাকি সে তুমি বিচ্ছেদের দিনেও শুনিয়েছিলে। সেই থেকে আমি ভালো আছি। ভালো থাকতেই হয়। এই সমাজে খারাপ আছি বলাটা যে পাপ তাও আবার প্রেমের জন্য। আসলে কিছু ব্যথা বুকে পুষে বড় করেছি। আর সেগুলো এখন বিশালাকৃতির ফলন দিচ্ছে।

রুদ্রের কবিতার মতোই এক মুঠ অন্ধকার নিয়ে বসে আছি। অন্ধকারই তো। প্রেমহীন বেঁচে থাকাটাও অন্ধকার নিয়ে বাঁচা। শূন্যতা নিয়ে পেরিয়ে যাওয়া একেকটি মাইলফলক। আমাদের স্বপ্ন দেখাটা অমূলক ছিলো না। কেউ কাউকে ছেড়ে যাবো তেমন ভাবি নি। বিচ্ছেদের মন্ত্র পড়ি নি কেউই। তবুও ছুটে চলার নিরিখে ছুটে চলি। মাঝেমাঝে ভাবি আমাদের দেখা হয়েছিলো ভুল সময়ে। নইলে এতোটা কাছে এসে কিভাবে হারিয়ে গেলে অবেলায়।

অংকে আমি খুবই কাঁচা। কাঁচা বলেই সহজেই তৃপ্ত হয়ে যেতাম। আমার এই অল্পতুষ্টি সত্যি আমাকে অবাক করে। তোমার অনেক কিছুই আমি বুঝতে পারি না এখন আর তখন আমি এই জিনিসগুলো বুঝতেই চাইতাম না।
ব্রেইলে লিখা অনেক প্রেম আমি পড়তে পারি নি
আঙ্গুলের ইশারা অজানা বলে তোমায় চিনি নি।
তোমাকে চিনি নি। যে দিন এসেছিলে আমার জীবনে সেদিন আর যেদিন চলে গেলে সেদিনও আমি তোমাকে চিনতে পারি নি। মাঝে কয়েকদিন কেটে গেলো তোমাকে আবিষ্কারের অজানা মোহে। আগেই বলেছিলাম অংকে আমি কাঁচা আর তোমার শরীর জুড়ে যেই কলা আর অনুর্বর মস্তিষ্ক কিছুতেই আবিষ্কার করতে পারে নি।

প্রিয়তা তুমি আকাশ হও নি। আসলে আকাশ তোমার জন্য নয়। জীবনের টানে তুমি এখন আমার থেকে অনেক দূরে। অন্য কোনো মহাদেশে সুখের সংসার পেতেছো। আমার হাত ছেড়ে যার হাত ধরেছিলে তাকে তুমি কি দিয়ে বোঝালে। মানে সেও তো পায় নি তোমাকে তার মতো করে। নাকি সেও আমার মতো করে বলেছিলো সুখী হোক তোমার আগামী।

বরফ শীতল দেশে তোমার পহেলা বৈশাখ কেমন কাটে। তুমিহীন বৈশাখ আমার ভালোই কাটে। প্রথম বার কেমন জানি অসহায় লেগেছিলো। মনে হচ্ছিলো গতবার তুমি ছিলে। সন্ধ্যে নামলে রয়েলহাটে খেতে বসে বিশাল জনারণ্যে একা হতে আমরা ছাড়া আর কেইবা পারতো। এখন অবশ্য সমস্যা হয় না। মানিয়ে নিয়েছি। বিশ্ব ভালবাসা দিবস নিয়ে এখন আর কোনো উচ্ছ্বাস নেই। অন্য পাঁচ দশটা দিনের মতোই একটা দিন। অথচ এই দিনটা আমাদের জন্য কতো আনন্দের, কত প্ল্যানিং, কত হিসাব নিকাশের বিষয় ছিলো।

আমাদের নদী খুব ভালো লাগতো। আমার এখনো লাগে। আমাদের সম্পর্কের শুরু কিন্তু কর্ণফুলীর বুকে। সাম্পানে চড়তে চড়তে কখন যে ছুঁয়েছিলাম হাত কেউ জানে না। আমরা কেউ কখনো কাউকে বলি নি ভালবাসি। অথচ প্রেম, সে তো হয়ে যায়। আমার এখন মন খারাপ হলে কর্ণফুলীতে রেখে আসি সব দুঃখ। তোমার নদীটি এখন শুধুই আমার। আমার দুঃখ কষ্ট সবকিছুর একমাত্র ভাগীদার সে। তোমার যান্ত্রিক শহরে কি কোনো নদী আছে? নাকি সবকিছু ভুলে গিয়েছো ক্যারিয়ার নামক মিথ্যে মোহে।

প্রিয়তা, জানো এইবার চিঠি উৎসব হচ্ছে। সবাই সবার প্রিয় মানুষকে চিঠি দিচ্ছে। এরপর উড়িয়ে দিচ্ছে বেলুনে ভরে। আমিও তোমায় নিয়ে লেখা চিঠিটা উড়িয়ে দিবো। তোমার ঠিকানা আকাশ জানে। সেই হয়তো পৌছে দিবে তোমার ঘরে। তুমি জানবে না আমার চিঠির কথা। আবার আকাশ নিজেই রেখে দিতে পারে এই চিঠি। তারও তো আমার মতোই দুঃখ। বরং তোমার কোনো দুঃখ নেই। তুমি বুঝতে পারবে না কতটা পাহাড় ধ্বসে একটা প্রেমের চিঠি বিরহে রূপান্তর হয়। তুমি সুখে থাকো। এরপরো বলি সুখে থাকো।  সুখী হোক তোমার জীবন সংসার।

ইতি,
তোমার রোদ্দুর
১৩ এপ্রিল, ২০১৬
চট্টগ্রাম।

Sunday, 3 April 2016

আই পোয়েট

প্রিয়তা,

অনেক দিন পরে ডাক যোগে তোমার সান্নিধ্য এলো। কতদিন দেখা হয় না আমাদের। তোমাকে আমি অনুভব করি প্রতিদিনের মতো। আমাদের পরিচিত সব রাস্তাঘাট, মুঠো ফোনের ব্যস্ত সময়টুকু এখনো অবিনশ্বর, চোখের সামনে ভাসছে। পরিণতি সবসময় মনের মতো হয় না। বাস্তবতার সাথে অসম এক যুদ্ধে নিজেকে পরাজিত বীর মনে হয়। আর পরাজিত বলেই এই সফর আমার। মরুর দেশে। মধ্যপ্রাচ্যে। এই শহরটা প্রেম করতে জানে না। জানে না বলেই শুষ্ক বালুতে আটকে গেছে তাদের পথ ঘাট।

প্রিয়তা, কেমন আছো? প্রশ্ন টা অনেক পরেই করছি তোমাকে। মাঝের এই দূরত্বটুকু দাঁড় করিয়ে দিচ্ছে অপরিসীম যন্ত্রণা। যন্ত্রণাকে আড়াল করে থাকি তোমার হাসিমুখ কল্পনায় এঁকে। সকাল ৬ টা থেকেই এখানের জীবন শুরু হয়। এরপর মরুভূমির মাঠ, তীব্র গরম, লূ হাওয়ার মাঝে একফোঁটা শান্তির জন্য খেজুর গাছের নিচে অলস পার করে যাই, পকেটের মানি ব্যাগে কোনো টাকা নেই, শুধু তোমার ছবি আছে বলেই আমি অনেক ধনী, একদম আরব শেখের মতো। জানি ও'প্রান্তে তুমিও এতোটা অস্থির পায়চারী করে সময় পার করো। আমাদের মুঠোফোনে থাকা অনেক বার্তা তোমাকে শান্তি দেয়। ভাবছি এই শীতে দেশে ফিরে আসবো। হয়তো আর কখনোই ফিরে আসবো না প্রাণহীন এই শহরে।

ভাবছো বাস্তবতার কথা। চিঠি পড়ে হাসবে, আর বলবে আবেগ জিনিসটা খুব খারাপ যা মানুষকে অন্ধ করে দিতে পারে। হয়তো চোখের কোণে জল ঠেকিয়ে বলবে আসা লাগবে না। তোমাকে একটা গল্প বলেছিলাম। ফ্রিজিয়ান শহরের দুই বুড়োবুড়ির গল্প। অভাব ছুঁয়ে ছিলো তাদের। মাথার উপরে ছাঁদ ছিলো না। ছাদ বলতে ছিলো নলখাগড়ায় ছাওনি। সেখানেই সেই বুড়ো দম্পতি বসবাস করেন। সেখানেই তারা বছরের পর বছর পার করে দিলো অভাব নিয়ে শুধু মাত্র প্রেম আর ভালবাসাকে সাথী করে। তুমি হয়তো বলবে পৌরাণিক কাহিনী, জীবন তো পুরাণ মেনে চলে না। প্রেম জিনিসটা জীবনের সবচেয়ে কঠিনতম পর্যায়। তোমার আমার এই আবেগটুকু, তাকে কী করে ব্যাখ্যা করবে! সে তো নির্বাক অনেক আগেই। 

প্রিয়তা, দৈব জিনিসে একদম বিশ্বাস নেই আমার। আমি বিশ্বাস করি না, আমাদের প্রেমের কারণে এই শহরে সবচেয়ে সুন্দর কোনো প্রাসাদতুল্য বাড়ির মালিক হয়ে যাবো। এটা কিন্তু সত্য মৃত্যুর অনেক পরেও আমরা একে অপরকে ভালবেসে যাবো। কিন্তু আমাদের এই ভালবাসার স্মরণে কোনো গল্প কাহিনী রচিত হবে না ওভাবে। দরিদ্র পথিকের বেশে ঈশ্বরও নেমে আসবেন না মাটিতে। এসব কারণে হয়তো তুমি বলবে ওখানেই থেকে যেতে। দুবেলা ভাত আর একটু ভালো থাকার জন্য তুমিও বিসর্জন দিয়ে দিচ্ছো নিজের সবটা আনন্দ। 

আরো কিছু কথা জমে আছে এখানে বুকের ঠিক মাঝখানে। কবিতা কেমন আছে – এই শব্দটা জিজ্ঞেস করে আর বিব্রত করো না। লিখছি না, বলতে পারো আসছে না। এই প্রাণহীন শহর কোনো কবিতা পেতে পারে না। আর তুমিহীন স্বর্গ যেন নরক। সব কিছু থেকেও কি যেন নেই, শান্তির বুকে পুঁতে দেয়া অশান্তির বীজ। যেখানে টাকার পিছনে দৌড়চ্ছে দোপেয়ে যন্ত্র মানব। আর দৌড়তে দৌড়তে কখন যে হারিয়ে ফেলছে নিজের সত্ত্বা তাও জানে না। 

প্রিয়তা, আসলে অনেক কথাই বলার থাকে। লিখতে বসলেই সব কিছু গুলিয়ে ফেলি। আর সেই কারণেই অনেক কথাই তোমাকে জানানো হয় না। লিখা শেষ করার পর মনে হয় একথা সেকথা এখনো লিখা হয় নি। কতবার অর্ধেক লিখে কেটে দিয়েছি আর কতবার লিখা শেষ হবার পরে মনে হলো ওই কথা এখনো লিখা হয় নি। এই যে শেষ পর্যায়ে এসে মনে হলো তোমাকে দেয়া গত জন্মদিনে আমার দেয়া উপহারের কথা…কেমন আছে সেটি। খুব বড় হয়ে গেছে বুঝি। শোনো সামনের বার দেশে এলে কর্ণফুলী তে সাম্পান ভাসাবো। আর বেসুরো গলায় শ্যাম সুন্দর বৈষ্ণবের প্রেমের গান গাইবো। তুমি অপেক্ষায় থেকো বন্ধু, শীত আসতে আর বেশি দিন বাকি নেই। ৩ থেকে ৪ মাসের মতো বাকি। 

আজ আর নয়। ভালো থেকো। দূরে বলেই কিন্তু তুমি দূরে নও। বুকের ঠিক এইখানটায় তুমি এখনো সদা হাস্যোজ্জ্বল ভাবে প্রাণিত করে চলেছো।

ইতি,

রোদ্দুর

জেদ্দা, সৌদি আরব
০৩ এপ্রিল ২০১৬।

Saturday, 13 February 2016

রোদ্দুরের প্রেমের চিঠি

প্রিয়তা,

আজ তোমার প্রতি কোনো অভিমান নেই। কোনো অভিযোগেই তোমাকে রক্তাক্ত করে ছিন্নভিন্ন করার প্রয়াস নেই। আজ ফেব্রুয়ারির ১৩, আমার ভালবাসা দিবস। প্রিয়তা বাসন্তীরঙা শাড়ীটা পরো প্লিজ। কতদিন ভাসাই না সাম্পান কর্ণফুলীর জলে। তোমার হাত ধরে আঁকি না এবস্ট্রেক্ট কোনো পেইন্টিং।

প্রিয়তা, জানোই তো সব সুর ছিঁড়ে যাওয়ার পরে যে পাগলামো টা মাথাচাড়া দিয়ে ওঠে তার নাম প্রণয়। তার নাম এও হতে পারে সর্বহারার আনন্দ। আজ অভিযোগের সকল আয়োজন বৃথা। হাত ধরাধরির এই দিনে আমি চাইছি এক মৌন সন্ধ্যা। শহরের কোলাহল পেরিয়ে লোকালয়ের আড়ালে সমুদ্র বুকে।

প্রিয়তা, পথ বেঁকে গেছে অনেক আগেই। জানি নানান অজুহাতে এড়িয়ে যেতে পারো আমাকে। তুমি তো শিখে গেছো রাস্তা পারাপারের সকল কায়দা কানুন। এখন কিছুতেই ভয় পাও না। তোমার কি মনে পড়ে না....সেই প্রথম বছরের পহেলা ফাল্গুনের কথা। আমার তো গভীর ক্ষত, পুরো শরীর জুড়ে পোস্টমর্টেম। রিপোর্ট পেলেই বুঝবে প্রেমে শহীদ, এর বাইরে কোনোকিছুই ঝুলবে না গায়ে।

তোমার তো পাহাড় খুব প্রিয়। নির্জনতা বিলাসী। আমার বিপরীত মুখেই তোমার অবস্থান। তুমি ভুলে গেছো একটা রোদ্দুর কিভাবে মিলিয়ে যায় বিশালতার মাঝে। তুমি তো জানই একটা রোদ্দুর কতটা ভালবাসার কাঙাল হয়ে প্রতি সকালে পৃথিবী কে জানান দেয় শুভ সকাল বলে। আমি সকাল সন্ধ্যা হাজিরা দেওয়া প্রেমিক। কত দ্বারে হাজিরা দিয়ে আটকে গেছি ভুল সময়ের কাছে।

সময়! তাকে নিয়ে আয়োজন অনেক। প্রিয়তা তুমি কি এখনো গান গাও? কতদিন তোমার কণ্ঠস্বর শুনি না। তোমার খালি গলায় গাওয়া প্রিয় রবি দাদুর গান। রবীন্দ্রনাথ কে দাদু বললেই তুমি রেগে যেতে। বলতে রবীন্দ্রনাথ প্রেমিক, দাদু নয়। আমি বলতাম তাহলে আমি কি? তুমি অভিমান নিয়ে বলতে জানি না। আর আমিও তোমার সামনে বেশি দাদু বলেই ডাকতাম।

তোমাকে নিয়ে কবিতাগুলোকে একীভূত করলে চার ফর্মার কয়েকটা কবিতার বই হয়ে যাবে। আমি সেগুলো কখনো কোথাও প্রকাশ করি নি। আমি চাই নি প্রকাশিত তুমি আমার থেকে ছড়িয়ে পড়ো দশের কাছে। আমি তোমাকে আমার করে পেতে চাই আর একবার। চাই আরো একবার কবিতা হয়ে ওঠো আমার কাছে। আমি লিখতে চাই আরো কয়েকটি কবিতা। আমার কলম জানে তোমার বুকের তিলের সুখ।

শীতের সময় গোধূলি বড্ড গাঢ়তর হয়। আর এমন রোমাঞ্চকর পরিবেশকে দেখতে চাই হাতে হার রেখে। নেভালে উন্মুক্ত বাতাসে উড়িয়ে নিয়ে যাক তোমার এলোকেশী। তোমার চোখে গভীর বিস্ময় নামুক আজ বিকেল ৪ টায়। আসো আর একবার কবিতা হয়ে ওঠো দেবী আমার। আমি আরো একবার প্রেম নামক চোরাবালিতে ডুবে যেতে চাই।

আমি আছি অপেক্ষায় তোমার প্রিয় গমরঙা পাঞ্জাবি তে...

অপেক্ষায়,
রোদ্দুর

১৩/১২/২০১৬

রোদ্দুরের প্রেমের চিঠি

আজ তোমার প্রতি কোনো অভিমান নেই। কোনো অভিযোগেই তোমাকে রক্তাক্ত করে ছিন্নভিন্ন করার প্রয়াস নেই। আজ ফেব্রুয়ারির ১৩, আমার ভালবাসা দিবস। প্রিয়তা বাসন্তীরঙা শাড়ীটা পরো প্লিজ। কতদিন ভাসাই না সাম্পান কর্ণফুলীর জলে। তোমার হাত ধরে আঁকি না এবস্ট্রেক্ট কোনো পেইন্টিং।

প্রিয়তা, জানোই তো সব সুর ছিঁড়ে যাওয়ার পরে যে পাগলামো টা মাথাচাড়া দিয়ে ওঠে তার নাম প্রণয়। তার নাম এও হতে পারে সর্বহারার আনন্দ। আজ অভিযোগের সকল আয়োজন বৃথা। হাত ধরাধরির এই দিনে আমি চাইছি এক মৌন সন্ধ্যা। শহরের কোলাহল পেরিয়ে লোকালয়ের আড়ালে সমুদ্র বুকে।

প্রিয়তা, পথ বেঁকে গেছে অনেক আগেই। জানি নানান অযুহাতে এড়িয়ে যেতে পারো আমাকে। তুমি তো শিখে গেছো রাস্তা পারাপারের সকল কায়দা কানুন। এখন কিছুতেই ভয় পাও না। তোমার কি মনে পড়ে না....সেই প্রথম বছরের পহেলা ফাল্গুনের কথা। আমার তো গভীর ক্ষত, পুরো শরীর জুড়ে পোস্টমর্টেম। রিপোর্ট পেলেই বুঝবে প্রেমে শহীদ, এর বাইরে কোনোকিছুই ঝুলবে না গায়ে।

তোমার তো পাহাড় খুব প্রিয়। নির্জনতা বিলাসী। আমার বিপরীত মুখেই তোমার অবস্থান। তুমি ভুলে গেছো একটা রোদ্দুর কিভাবে মিলিয়ে যায় বিশালতার মাঝে। তুমি তো জানই একটা রোদ্দুর কতটা ভালবাসার কাঙাল হয়ে প্রতি সকালে পৃথিবী কে জানান দেয় শুভ সকাল বলে। আমি সকাল সন্ধ্যা হাজিরা দেওয়া প্রেমিক। কত দ্বারে হাজিরা দিয়ে আটকে গেছি ভুল সময়ের কাছে।

সময়! তাকে নিয়ে আয়োজন অনেক। প্রিয়তা তুমি কি এখনো গান গাও? কতদিন তোমার কণ্ঠস্বর শুনি না। তোমার খালিগলায় গাওয়া প্রিয় রবি দাদুর গান। রবীন্দ্রনাথ কে দাদু বললেই তুমি রেগে যেতে। বলতে রবীন্দ্রনাথ প্রেমিক, দাদু নয়। আমি বলতাম তাহলে আমি কি? তুমি অভিমান নিয়ে বলতে জানি না। আর আমিও তোমার সামনে বেশি দাদু বলেই ডাকতাম।

তোমাকে নিয়ে কবিতাগুলোকে একীভূত করলে চার ফর্মার কয়েকটা কবিতার বই হয়ে যাবে। আমি সেগুলো কখনো কোথাও প্রকাশ করি নি। আমি চাই নি প্রকাশিত তুমি আমার থেকে ছড়িয়ে পড়ো দশের কাছে। আমি তোমাকে আমার করে পেতে চাই আর একবার। চাই আরো একবার কবিতা হয়ে ওঠো আমার কাছে। আমি লিখতে চাই আরো কয়েকটি কবিতা। আমার কলম জানে তোমার বুকের তিলের সুখ।

শীতের সময় গোধূলি বড্ড গাঢ়তর হয়। আর এমন রোমাঞ্চকর পরিবেশকে দেখতে চাই হাতে হার রেখে। নেভালে উন্মুক্ত বাতাসে উড়িয়ে নিয়ে যাক তোমার এলোকেশী। তোমার চোখে গভীর বিস্ময় নামুক আজ বিকেল ৪ টায়। আসো আর একবার কবিতা হয়ে ওঠো দেবী আমার। আমি আরো একবার প্রেম নামক চোরাবালিতে ডুবে যেতে চাই।

আমি আছি অপেক্ষায় তোমার প্রিয় গমরঙা পাঞ্জাবি তে...

অপেক্ষায়,
রোদ্দুর

১৩/১২/২০১৬