Showing posts with label গুলশান- এলিজি. Show all posts
Showing posts with label গুলশান- এলিজি. Show all posts

Tuesday, 16 August 2016

নবুরিহো কুরুসাকি

iনবুরিহো কুরুসাকি
- ইমেল নাঈম

রয়ে যায় আর্তনাদের ভাষা, অকুণ্ঠ সমর্থনে
মুহুর্মুহু হাতেতালি, বারবার আঘাত হানে
দক্ষিণের দরজায়, দুর্গন্ধ ছড়াচ্ছে ক্রমশঃ
দূরের শহর - ওই শহরে সবাই অতিথি
দায় নেই, বন্ধ দরজা ঢাকা কালো কাপড়ে

নিথর দেহ, প্রাণহীন স্পন্দন, কঠিন বাস্তব
দাঁড় করিয়ে দেয় অচেনা ভূমি, পরাজয়ের
নামতা গুনতে বসে হারিয়ে ফেলেছি বিজয় মিছিল
হন্তারক পালিয়ে যায় পুনরায় ফিরবে বলে
জিঘাংসার বিজ্ঞাপনে দুলছে পুরো মানচিত্র।

একটা রক্তস্নাত সন্ধ্যা, হামাগুড়ি দিয়ে জানায়
চলে যাওয়া মানুষগুলো আমাদের অপরিচিত
ঘুম ভাঙতে দেখি কর্কশ শ্লোগানে মুখরিত
বন্ধ্যাপথে ফলন নেই, অকর্ষিত জমিতে আগাছা।

এই শহরে নিষিদ্ধ হচ্ছে সৃষ্টির আয়োজন
কাফেলার সাথে চলে গেছে প্রতারক চোখেরা
ক্রুসেডের কল্যাণে ঘড়ি ছুটছে উলটো পথে
রাজনীতিবিদ খেলছেন দাবা ক্ষমতার অংকে

নিবুরিহো কুরুসাকি চলে গেছেন প্রাণাঘাতে
ষোলোকোটি মুখ সুরেলা কণ্ঠে পাঠ করছেনঃ
তোমার ধর্ম তোমার কাছে, আমার ধর্ম আমার...

Monday, 15 August 2016

ভিনসেঞ্জো ডি'অ্যালেস্ট্রো

ভিনসেঞ্জো ডি'অ্যালেস্ট্রো
ইমেল নাঈম

ভেলভটমের জামা আর পোশাকি আচরণ, রেখে দাওয়া এক আঁজলা উষ্ণতা। বর্গী আসে না দেশে। তাই দেশের মানুষই সাজে বর্গী। ভুল ব্যাখ্যায় অতিবাহিত হয় রঙচঙে বিজ্ঞাপন। বিশ্বাসকে আঘাত করে ফিরছি প্রতিদিন। অন্যকে নামিয়ে দিচ্ছি নিচে, সিঁড়িটা আকাশ ছোঁয় নি, মাটিতেই লাগানো তার পা। কাল্পনিক শূন্যতায় আঁকা সিংহাসন।

রক্ত ধারা বয়ে যায় অচিনে, কেউ কখনো আঁকে নি সৌহার্দ্যর আলিঙ্গন। আমাদের অনেক ভুল পথের আবেশ থেকে যায়। ছিঁড়ে খায় নিজের ভিতরকার জমাটবদ্ধ আলপনা। ঠিক করে জানা হয়নি সাজানো পথ কিভাবে অপরিচিত হয়ে যাবার আয়োজনটুকু। তারিখ বলে না সারাদিনের সালতামামি। কোনো কোনো তারিখ নিজেই হয়ে ওঠে অচেনা।

ভিনসেঞ্জো ডি'অ্যালেস্ট্রো, আপনার শরীর বেয়ে পড়ে যায় রক্তধারা। ধর্মের মোড়কে বাঁধা আততায়ী গুলি কেড়ে নিয়েছে আপনার প্রাণ। আপনি অসহায় ভাবে হয়তো স্মরণ করার চেষ্টা করছিলেন জেসাস কে।  ইসাও খুব অসহায়। নির্বিকার শুনে গেলেন আপনার গোপন প্রার্থনা।

দিন ফুরোলে সবাই বলে উঠে শান্তির কথা। শাদা পায়রা উড়ে যায় দূরে। তারা ফিরেও আসে। এরইমাঝে রক্তের দাগ শুকিয়ে গেছে, ভুলে যাওয়ার অনেক কিছুর মাঝে আজও মনে রেখে দিই, একটা গভীর অন্ধকারের পথে চলে যাওয়া যাত্রীকে আলোর পথে আনতে অন্ধকারেই পথ হাতড়াচ্ছে ষোলোকোটি স্বপ্নিল প্রাণ।

Saturday, 13 August 2016

মকোতো ওকামুরা ও তার সহযাত্রীরা

মকোতো ওকামুরা ও তার সহযাত্রীরা
ইমেল নাঈম

নির্মানশিল্পের ভারিক্কী ভারিক্কী যন্ত্রপাতি - সবটাই তোমার চেনা
অংকের মাপে কঠিন হিসেবগুলো পুরোটাই রেখেছো গোপনে
শুনেছি ইস্পাত হৃদয়ের মানুষরা সহজেই হাসতে জানে না
তারা কাজের হিসেবটুকু বুঝে নিয়ে পালিয়ে যায় নিজ দেশে।

ঘড়ির কাটা ব্যস্ত রাখে প্রাত্যহিক জীবনযাপন, পিঁপড়ে শ্রমে
গড়ে তুলছো অচেনা নগরীতে বিশালাকৃতির অট্টালিকা,
কর্মসূত্রে অথবা বন্ধুত্বের অছিলায় সখ্য গড়ে ওঠে দশের
হিসেবটুকু বদলে যায় কোনো এক ব্ল্যাক ইভনিং এর গল্পে

দিনটি বদলে যেতে পারে। এমনটি দেখো নি আগে কখনো,
ভেসে যাওয়া স্বদেশী বন্ধুদের মৃতদেহ, নিজের তীর্থ গমণ
অন্যান্য মানুষের অসহায় আত্মসমর্পণ, অন্যদের পাশবিক
চরিত্রায়ন দেখে ক্লান্ত হতে হয় নি, বিচারহীনতার দেশে
আমরাও মেনে নিয়েছিলাম সংখ্যালঘুদের লাশ, ভিন্ন মতের
শরীরের ছুঁয়ে যাওয়া রক্তের উত্তপ্ত প্লাবনে সবাই চুপ ছিলাম।

জুলাইয়ের ব্ল্যাক ফ্রাইডে শেষে দেয়াল ছুঁয়েছে পিঠ, আমাদের
ঘুরে দাঁড়ানোর গল্পটা শুরু ঠিক সেদিন থেকে, নড়েচড়ে ওঠা
রাষ্ট্রীয় ঈশ্বর, রক্তের নহরে যার পা'কে স্পর্শ করে নি এতকাল
তারা আড়মোড়া ভাঙতেই বুঝতে পারলেন, ক্ষতবিক্ষত দেশ,

তার শরীর জুড়ে বয়ে যাচ্ছে রক্তধারা, তার চিকিৎসাতেই
ব্যস্ত সময় কাটছে আমাদের সবার, এখনো চাপাতির
মিছিলের খবর আসে, সুযোগের অপেক্ষায় অন্ধ সেবক...
ভুল ব্যাখ্যায় ধর্ম পালন, আর্থিক ঈশ্বরের কাছে লুটোচ্ছে
যে প্রাণ, তার বিপক্ষে জিহাদের খবর ছাপা হয় পত্রিকায়।

ঘুরে যাওয়া মন্ত্র জানি, বহুদিন পর চোখ খুলে দেখতেয়
পাবো অন্যরকম এক সকালের গল্প, শুধু দেখবে না
মকোতো ওকামুরা ও হলি আর্টিজানের তার সহযাত্রীরা।

Friday, 12 August 2016

মারিয়া রিভোলি

মারিয়া রিভোলি
ইমেল নাঈম

সাধারণত ব্যবসায়ী চোখে স্বপ্ন ভাসে না একদম
দুঃস্বপ্ন কখনো আঘাত হানেনি তাদের করিডোরে
যোগ অংকের পারদর্শী, লাভের গণিতে ভালো
সভ্যতার দ্বারপ্রান্তে গুটিসুটি পায়ে এগুই আমরা
ধীরগতির পথচলায় অলিখিত একরাশ অনুরণন।

বন্ধুত্বের হাত বাড়িয়েছিলো লাল সবুজ, বিনিময়ে
কি পেলে সেই হিসাব কখনো করতে বসো না
বাণিজ্যের আড়ালে যেই ভালবাসা লিখেছিলে
তাকে অবচেতনে আড়াল করতে পারেনি মানুষ।

প্রতিদানে ভালবাসা পেলে তার চেয়েও বেশি
অপেক্ষমাণ বিস্ময়কে অস্বীকার করতে পারোনি
সন্ধ্যার শেষে মুসল্লির দল পূণ্যের খোঁজে ব্যস্ত
অন্যদিকে ধর্ম প্রতিষ্ঠাকল্পে অন্যায্য মানব হত্যা

ধর্ম প্রতিষ্ঠার নামে মানুষ হত্যা যায়েয করলো
নরপিশাচের দল, নির্বিচারে গুলি ঝরলো সেদিন
লুটিয়ে পড়লো মুহূর্তে অনেকগুলো দেহাবশেষ,
চামড়া আর ধর্ম দেখে মারা হলো সবাইকে।

মারিয়া রিভোলি, আপনি বুঝি অবাক হন নি
এই বাংলাদেশ দেখে, নাকি তার সুযোগই পাননি।
আমি সাধারণ চোখে ঈশ্বরের লভ্যাংশ খুঁজছি...

Thursday, 11 August 2016

কয়ো ওগাসাওয়ারা

কয়ো ওগাসাওয়ারা
— ইমেল নাঈম

জীবনের কিছু আয়োজন ভুল হিসেবেই গন্য। কেউ ভাবে নি তাদের কথা। ঐশিক বাণী থামে ভুল দরজায়। অপ্রস্তুত সময়ের বৃন্তে ফোটা কিছু পাপড়ি নষ্ট হয়ে গেছে মিথ্যে স্পর্শে। মানবতাকে ঢালাই করছে অপরিপক্ব হাত। তার চোখে লিপিবদ্ধ নেই।

চোখ ঢেকে দিয়েছে কালো কাপড়ে। অত:পর শেখানো হলো বিতঘুটে অন্ধকারইই সত্য। আর সত্যকে প্রতিষ্ঠার জন্য পাপকর্ম সাধনই পুণ্যের কাজ। হ্যামিলনের বাঁশি বাজিয়ে ঘুমিয়ে পড়েছেন অদৃশ্য ছায়া। তার পিছনে ছুটে চলেছে যে নাঙা তরবারি — তার আঙুল ছুঁয়ে উপচে পড়ছে নিজ ভাইয়ের রক্ত।

ধর্মকে ব্যাখ্যা করতে বসে অজস্র গল্প লিপিবদ্ধ হয়ে যায়। সততা হারিয়ে মনগড়া শব্দজটে ঘুরতে থাকে অন্ধ পথিক যাকে ক্রমাগত শেখানো হয়েছে ধর্মের নামে হিংসার জন্মদান প্রক্রিয়া। ঈশ্বরের নামে মানুষ হত্যাকে জায়েজ করে দিয়েছেন জাগতিক ক্ষমতার ঈশ্বর।

প্রিয় কয়ো ওগাসাওয়ারা, আপনাকে নিয়ে আমার কোনো কথা নেই। এই পৃথিবীর পথে আপনাকে আমি চিনি নি একদম। একটা পাপিষ্ঠ সন্ধ্যারাত আপনার সামনে পুরো একটা জাতিকে দাঁড় করিয়ে দিলো অপরাধীর চরিত্রে। অথচ হাতে গোণা কুলাঙ্গার যারা ঈশ্বরকে আবিষ্কার করতে গিয়ে হারিয়ে ফেললো নিজ সত্তাকে তারা এখনো লুকিয়ে আছে গুপ্ত ঘাতকের বেশে

এভাবেই হয়তো অনেকের মতো ঈশ্বরকে ঘৃণা করতে শুরু করেছেন আপনিও।

ক্লডিও কাপেল্লি

ক্লডিও কাপেল্লি
- ইমেল নাঈম

প্রান্তবর্তী সন্ধ্যায় রক্তাক্ত ইকেবানা মরে যায়
খুলে পরে তার যত সাজসজ্জা, নির্লজ্জের
জয়গান লেখা হয় শান্তিরমাসে, বদ্ধ শয়তান
সেও খেলছে এক্কাদোক্কা - লাশের উপর
মৃতের পাহাড় জন্ম নেয় অকারণ ছদ্মবেশে

বিভক্তি আমাদের জিনগত বৈশিষ্ট্য, নিজেরা
আঁকি বিভাজন রেখা, নিজেকে প্রকাশ করি
কথার মারপ্যাঁচ, গোলকধাঁধায় ফেলি সবাইকে
খুব দ্রুতই ভুলে যাচ্ছি রক্তপাতের কথা।
আগাচ্ছে না আমাদের স্বপ্নদেখার পরিসীমা।

স্বপ্ন দেখার বন্ধুরা চলে গেলো অসময়ে
কালো কাপড়ের হায়েনারা নামলো নিরাপত্তার
চাদরে ঘেরা পৃথিবীতে, শুয়োরের হুক্কাহুয়া
ডাকে অসহায় মানুষের চোখ খুব অসহায়
ঈশ্বরের নাম সহজেই বিক্রি হয় ভণ্ডের হাতে।

বানোয়াট গল্পের পিছনে লুকোনো ধ্রুব সত্য
তাকে আড়াল আঁকতে গিয়ে নির্বাক পিকাসো
এঁকে ফেলছিলেন ক্লডিও কাপেল্লির পোট্রেট।
উনি শান্তির পায়রা আঁকার জায়গায় আঁকলেন
ধ্বংস স্তূপের মাঝে দাঁড়ানো অসহায় পৃথিবীকে।

Wednesday, 10 August 2016

রুই সামান্থা

রুই সামান্থা
- ইমেল নাঈম

সূর্যোদয়ের দেশেও সূর্যাস্ত হয়
বন্ধুত্বের উষ্ণতা মাপতে হারিয়ে যায়
পরিচিত মুখ। অপ্রকাশিত ব্যথা
বারবার রক্তাক্ত করে লালসবুজ।

নির্মাণ শিল্পে অবদান নাকি প্রহসন -
প্রশ্নের সামনে দাঁড়ায় নি সাধারণ
অপরাধী নয়, তবুও মাথা নিচু

লিখে দেওয়া মৃত্যুর পরোয়ানায়
প্রেরকের নাম অলিখিত থাকে
ঈশ্বরের নামেই হালাল হয় অপরাধ;

পিছনের পথে এগিয়ে যায় চাকা
প্রবৃদ্ধি থেমে যায় এমন দৃশ্যপটে
চিত্রকল্পে ঈশ্বর প্রশ্নবিদ্ধ নন,
মানুষকে প্রশ্ন করি ঘুরেফিরে,
বিভাজন রেখা টানেন সেই মানুষই

অন্ধকে আলো দিতে নেই, দেখেও
তারা দেখেনি অনেক কিছুই
দৃষ্টিবানকে সমৃদ্ধির পথ দেখাতে
গিয়ে হারিয়ে গেলেন রুই সামান্থা

নানা খবরের মাঝে শিরোনামঃ
আহত হয়ে ঝরলো গোলাপ ফুল...

Tuesday, 9 August 2016

সাইফুল ইসলাম চৌকিদার

সাইফুল ইসলাম
- ইমেল নাঈম

একটি রক্তস্নাত সন্ধ্যা জ্বালিয়ে দিলো সন্ধ্যাবাতি
কারখানার হুইসেল থেমে গেছে
ব্যস্ত মানুষের ঢল ফিরছে আপন সান্নিধ্যে
ধর্মীয় উৎসব কড়া নাড়ছে ঘরের দরজায়
ইফতারপার্টির আয়োজন ভুলে গেছে দৈনিক শ্রম।

উৎসব প্রবণ যুবকের চোখে বিপণীবিতান মুখী
বন্ধুবান্ধবদের দৈনিক আড্ডায় ক্রমাগত
উঠে আসছে ছুটিরর দিনের নানান পরিকল্পনা
এমন এক সন্ধ্যার শেষে নারকীয়তা লিখে দিলো
অনাকাঙ্ক্ষিত মৃত্যুর মিছিল -

দেখে যেতে পারলো না অনাগত সন্তানের মুখ
বাড়তে থাকে মানুষের ভিড় সাইফুলের বাড়িতে
এমন প্রস্থানে কিংকর্তব্যবিমূঢ় সাধারণ চোখ
সামিয়ার চোখের জল শুকিয়ে যায় প্রতিদিনই
স্ত্রী হারিয়ে ফেললেন তার একমাত্র আশ্রয় কে

মৃত্যুর হিসাব কেউ লিখে নি, কারণটিও নয় স্পষ্ট
সবাই একে অপরের মুখদর্শন করেন নির্বিকার
আর সর্বশক্তিমান ঈশ্বর তার অসীম ধৈর্য'র সাথে
দেখছেন পৃথিবী নামক নরকের শেষ ফয়সালা।

Saturday, 6 August 2016

অ্যাডেল পাগলিসি

অ্যাডেল পাগলিসি
- ইমেল নাঈম

অসমাপ্ত উপন্যাসের শেষ শব্দ হয় মৃত্যু। বরণীয় নয়, তবুও আসে অলক্ষ্যে। তুমিও চাও নি এমন দিনের সূচনা, তোমার চারপাশের অন্যমুখটিও নয়। মৃত্যুকে নিয়ে কোনো কবিতা লেখা হয় নি। প্রেম আর দ্রোহের মানচিত্রে তাকে নিয়ে খুব একটা কবিতা লিপিবদ্ধ নেই।

কর্মব্যস্ত দিন, উৎসবের ছুটি পাশাপাশি এসে মিশে যায় এমন দিনে। আততায়ী রূপে ঢুকে পড়ে ধর্মের সেবকরূপী ভণ্ড। তুমিও আতঙ্কিত চোখে দেখছো শয়তানকে। ঠিক মানুষের মতো, কিন্তু মানুষ নয়। তারা অবিরাম ছুটে চলেছে রক্তের খোঁজে। এরবেশি কিছু জানা হয় নি তোমার। বুলেট নিয়ে গেলো প্রাণের অস্তিত্ব।

ঈশ্বরকে পাবার জন্য, তাগুত শব্দের মাহাত্ম্য গাইতে গাইতে ঈশ্বরকে অপরাধীর তালিকায় বসিয়ে দিচ্ছেন অন্ধ সেবক। ধর্ম প্রতিষ্ঠায় প্রাণ, জেহাদের ভুল ব্যাখ্যা কিংবা স্বর্গের অপ্সরী, অমেধাবী মেধাকে ক্রমাগত ভুল পথে নিয়ে যাওয়া কালকাঠি নাড়ানো চরিত্র অচেনা থেকে যায়।

পোশাক শিল্পের চাকা আটকায় অহেতুক স্পন্দনে। থমকে দাঁড়ায় ষোলো কোটি প্রাণ। অ্যাডেল পাগলিসি স্বর্গ খুঁজে পেতে আর কতটা পথ হাঁটবেন আপনি? ঈশ্বরের দেখা পেলে জেনে নিবেন ওনার থেকে প্রেম আর অপ্রেমের সংজ্ঞা।

Tuesday, 2 August 2016

জাকির হোসেন শাওন

জাকির হোসেন শাওন
- ইমেল নাঈম

অংকে খুব কাঁচা, এতোটা তফাৎ কেনো বাস্তব চিত্রে
পিঠে বিক্রেতা মা সারাদিন খোঁজাখুঁজি করে ক্লান্ত
জানেনা শাওনের খোঁজ। গরিব পেট ধর্ম বোঝে না,
সারাদিন শেফের সাহায্যকারী হিসেবে দিন কাটায়।

মাসের শেষে হাজার চারেক টাকা আর পিঠেপুলি
বিক্রির টাকাই একমাত্র সম্বল, তার বাবা রিকশায়
প্যাডেলে চাপ দিতে ভুলেছে। ছোটো ভাই তিন জন,
অভাবী সংসারের সব খরচ জোটে দু'জনের আয়ে।

সন্দেহভাজন চোখ সন্দেহ করে নির্দোষ অনুভূতিকে
সেই তালিকায় উঠেও ওঠে নি তার নাম, যদিও
ভেসে এসেছিলো নির্যাতনের রোজনামচা, আমলে
নেয়নি হতাশাগ্রস্ত কোটি চোখ। সত্য প্রকাশেও অনড়
আতঙ্কিত মন, নিজের দোষ খুঁজতে খুঁজতে ক্লান্ত।

তারিখ ১, রক্তাক্ত গুলশান। ঈশ্বরের নামে হত্যাকাণ্ড
মরে গেলো অনেকেই কারণ বোঝার আগে, কেউ
পালায় সুযোগ বুঝে। শাওনের শরীর ক্ষতবিক্ষত।
বেঁচে থাকার জীবন যুদ্ধে মরে ফিরে যায় কিছু প্রাণ
ঈশ্বর বোঝেন কিছুটা, উনিও পান পরাজয়ের স্বাদ।

Sunday, 31 July 2016

রুই সিমোদাইরা

রুই সিমোদাইরা
- ইমেল নাঈম

১।

কিছু ঋণ অপরিশোধিত থাকে,
বন্ধুত্বের বিনিময়ে এমন প্রাপ্তিতে স্তম্ভিত
হয় নি ষোলোকোটি মুখ। মূকাভিনয়
দেখতে দেখতে বুঝতে পারে নি
প্রতিবাদের ভাষা কতটা জরুরি।
আর্টিজান শব্দটা আমাকে বোঝালো
নীরবতা মানে অন্ধকারের দিকে যাওয়া।

২।

সন্ধ্যা হারালে কবিতাদের বিষণ্ণতা নামে
মুখ বইয়ের পাতাজুড়ে ব্যক্তিগত বিজ্ঞাপন,
ঝুলতে থাকে কবিতার মতো অনেক
আবেগময় কথারম্ভ। পচন দেখতে পাইনি;
খসে পড়ছে পলেস্তারা। নির্মাণকুশলতায়
প্রখর বলে হিসেব করে বলতে পারো
ইট, সিমেন্ট, পাথর আর রডের পরিমাণ।
অন্ধ হওয়ায় জন্ম নিলো এতো রক্তপাত।

৩।

ঠিকই হিসেব করছো ইট পাথরের হিসাব
অন্যদিকে মৃত্যুর হিসাব আঁকছে কেউ
মাহাত্ম্য গাইতেই মৃত্যু পরোয়ানা জারী
ঈশ্বর তার জন্যই এতো আয়োজন, কাকে
দেয় বাঁধা কাকে। কেইবা শোনায় ধর্মবাণী।

বিবেক অন্ধ হলে তার দায় ঈশ্বরের নয়
তার পুরোটা দায়ভার মানুষের। কিছু
অপরাধ কবিতার কাঁধে। বিষণ্ণতার
পাশাপাশি সে লেখেনি মানবতার বিজ্ঞাপন।

৪।

রুই সিমোদাইরা,
নিজ অপরাধ ঢাকার জন্য নয় এলিজি নয়।
পচে যাওয়া শরীরের রক্তক্ষরণ বোঝাতে
আর ধর্মের নামে অধর্মের বিস্তারে নীরবতাকে
আঙুল দিয়ে দেখাতে দুই একটা শোঁকচিহ্ন
আঁকছি মানবতাকে বুড়ো আঙুল দেখিয়ে।

Thursday, 28 July 2016

হিরোশি তানাকা

হিরোশি তানাকা
- ইমেল নাঈম

থেমে যায় আর্তনাদের চেনাজানা উপকরণ
বিভ্রান্তি নামে কলমের নিবে,  মৃত্যু আঁকতে
খুবই অপ্রস্তুত নয় মধ্যবিত্ত কবি ও কবিতা

রক্তের প্রপাতে ভেসে গেলো চতুর্দশপদী
কবির কাজ নয় ঘৃণাকে আঁকা, তবু আঁকি...

স্বভাষী অথচ স্বীকার করি না, এক ভূগোল
চেনা মানুষ, একই স্বরাঘাত, তবুও হাঁটি
বিপরীত পথ ধরে। মুখোশ দেখে অভ্যস্ত
আলাদা করতে পারি নি, দুর্বৃত্তের চেহারা।

রাজনৈতিক বক্তা ঘুমোয় গৎবাঁধা বক্তব্যে
খেয়াল করেনি কখন যে বাসা বেঁধেছে
অসুখ, বাড়তে বাড়তে আজ মহামারি
ঘুম ভেঙে দেখেন তির্যক হাসি অসুরের
অসহায় ষোলোকোটি মুখ প্রলাপ বকছে।

মৃত্যুর পর এলিজি ছাড়া সঙ্গীত নেই
পাখি হওয়া প্রাণ পুনরায় ফিরে আসে না,
শোকপ্রকাশ মানেই ব্যর্থতার আস্ফালন
নিরীহ প্রাণ জানে আজ সে কতো অসহায়

সভ্যতা আটকে যায় মানুষের করাঘাতে
চাকা বন্ধ হয়, দালানকোঠা ভাসে রক্তে,
অস্থায়ী চুনকাম ভেঙে বেরোয়নি কুশ্রীরূপ
ঈশ্বরের গল্প চাপা পরে ঈশপের কাছে

হিরোশি তানাকা এইসব গল্প ব্যতিরেকে
নতুন গল্প নিয়ে ফিরে গেছেন; ঈশ্বরকে
শোনাচ্ছেন পাখি প্রাণের প্রায়শ্চিত্ত

Wednesday, 27 July 2016

ইয়কো সাকাই

ইয়কো সাকাই
- ইমেল নাঈম

একপ্রস্ত প্রলয় ঝড় নোঙর ফেলে অচেনা বন্দরে
একটা সাধারণ দিন অচেনার মতো সামনে আসে
ভাঙাগড়ার কোনো হিস্যা লিপিবদ্ধ নেই
কেউ ভাবেনি দিনশেষে অপেক্ষমাণ বিভীষিকাকে
অতিথিশালায় আগত মেহমানদের জীবনচক্রে
পুনর্জন্ম বলে কোনো শব্দ নেই —

চাকা ঘুরলেই দাঁড়ায় মানচিত্র, রেশ নিয়ে ফিরতে
হয় অনেক সময় পিছনের পথে, আগানোর
গল্পটা আক্রান্ত হলে থমকে যায়, উড়াল ট্রেনের
মতো বিকটশব্দে আর্তনাদ জানায় মানুষ
ছিঁড়তে থাকে প্রাসঙ্গিক বিষয়, ধর্মের আড়ালে

পড়ে দেখে নি ভিতরে কী — শুধু লিখছে রচনা
মানবসত্ত্বার বাইরের সত্ত্বাটি জাগলে পুড়ে যায়
তিলোত্তমা, ঈশ্বরের বাইরেও এক ঈশ্বরের বাস
অর্থ গড়ে দেয় তার খুঁটি, তার খোঁজটিও অচেনা
চেনা জানাদের মধ্যে পড়ে থাকে ইয়কো সাকাই
যদিও তাকে চিনতে পারি নি গত রাতে...

শৈশব বলে মানুষ মরলে ঈশ্বরের কাছে যায়
একই গল্প শোনা ইয়কো সাকাইও হয়তো
এতোটা ভালোবাসা খুঁজেন নি তাঁর থেকে।

Tuesday, 26 July 2016

রবিউল করিম ও তাঁর ফুল

রবিউল করিম ও তাঁর ফুল  
- ইমেল নাঈম

ফুল ফোটার আগেই মরে গেলো স্রষ্টা
তার শরীর জুড়ে ঝরে পড়া রক্তস্রোত

ধর্মের বাড়াবাড়ি আর চাপিয়ে দেয়ার
প্যারামিটার নেই, নেই ন্যায় অন্যায়ের
মাপকাঠি, আছে ইচ্ছেমত ভুল প্রয়োগ
আমি কখনো ঈশ্বরের চোখ দেখি নি,
জানি না এসবে চোখ তুলে কী তাকান!

জ্বলছে পৃথিবী আগ্নেয়াস্ত্র'র ব্যবহারে
ওনার নির্লিপ্ত দৃষ্টি ভাবায় অবস্থান
মৃত শরীর জানে না মরছে কেনো
হন্তারক জানেনা আঙুলের ইশারা কার!

অঘটনের পর, শুনি ওনার গুণকীর্তন
উনি সামনে নেই, পিছনেও নেই
সাথে বা আড়ালেও নেই, ধৈর্য পরীক্ষায়
ওনাকেই মনোযোগী ছাত্র মনে হয়।

ধর্মের শরীর জুড়ে ফিনকি দিয়ে ওঠা
রক্ত, দেখে যেতে পারলো না ফুল
বাগানজুড়ে হাহাকার, জানলো না
পিতা নামক স্রষ্টার শ্রেষ্ঠত্ব অমরগাঁথা।

সালাউদ্দিন খান

সালাউদ্দিন খান
- ইমেল নাঈম

অন্যায়ের প্রাচীরের নিচে ডুবে যাওয়া একটি নাম
ভাবিনি এইভাবে দৃশ্যপট বদলে সামনে এসে দাঁড়াবে!
রোমাঞ্চকর প্রেক্ষাপট নেই, জয়পরাজয় নয় মুখ্য।
অপরাধের স্তূপের নিচে শায়িত মহানায়ক, বাড়িয়ে
বলছি না, অতীত মুছতে গেলে মুছে যাবে গল্পগুচ্ছ।

ইতিহাস পাঠ আজ অপঠিত থাকুক, অন্য হিসেবের
লেখা লিখবো ভিন্ন কোনো সময়ের আলিঙ্গনে।
বছরের মধ্যভাগে সন্ধ্যা পেরুলে ছুটে গেলেন...
গন্তব্য গুলশান, এরপরের অংশটুকু সবারই জানা,
মৃতদেহ কোনো কথা বলেনা, তার কোনো দাবী নেই।

ইশ্বরের প্রতিষ্ঠায় আয়োজন এই নিষ্ঠুর ধ্বংসলীলার
সংখ্যাগরিষ্ঠ ধর্মকে প্রতিষ্ঠাকল্পে মানুষ হত্যা জায়েজ,
এটি সম্ভবত একবিংশ শতাব্দীর বিশুদ্ধ বিনোদন।
নিঃসংকোচে আত্মাহুতিও দেয় স্বর্গ পাবার নেশায়
বায়বীয় জগতে ধর্ম'র ভুল ব্যাখ্যা একদম ফ্রি,
তার ফাঁকফোকরে হয় মগজধোলাই পর্বের মঞ্চায়ন।

আশঙ্কা নিয়ে ফিরে যাই প্রতিদিন, মৃত্যু মানে সমাপ্তি
নেই হতে পারে অনেক কিছু, মৃত্যুর মিছিল বাড়ছে
স্বর্গ থেকে
     ঈশ্বর হাসছেন,
             কাঁদছেন,
                    প্রলাপও বকছেন
                           অথচ নিজেকে প্রকাশে খুব অনীহা

উনি মিথোলজির চরিত্রের মতো বিনোদন খুঁজছেন
সালাউদ্দিনের রক্তে, অদূর ভবিষ্যতে আমাদের রক্তেও।

Monday, 25 July 2016

মার্কো তান্ডট

মার্কো তন্ডাট
- ইমেল নাঈম

ফেলে আসা সময়ের আর্তনাদ, অনুনাদ ভাঙা প্রহর।
নুহের নৌকা বড্ড অসহায়, মৃত্যু লিখে দেয় অক্ষমতা
পাহাড় সম ঢেউ, কেউ দেখে না উচ্চতা, মিথ্যের
অংকগুণে ভোর আসে, সেইসাথে কাঁপুনি দিয়ে জ্বর

ছিঁচকাঁদুনী সময়ের প্রতিবিম্বে ঘড়ির কাটা উলটো
পথে হাঁটতে হাঁটতে খুঁজে পায় নরকের ত্রিসীমা
মৃত্যু অমোঘ, তরিকা অনাকাঙ্ক্ষিত, কালো তালিকা
ভাঙলে গভীর এক চোরাবালি, স্বার্থপর বিশ্ব নগ্নতার
প্রদর্শনীতে বুঝিয়ে দিচ্ছে স্বার্থপরতার মাপকাঠি।

ছিঁড়ে ফেলো আবেগ, এতোসব এলিজি তার সবটা
মিথ্যে, বিশ্বাস করো না বাণিজ্যর পথ রুদ্ধ হোক
বারবার আঘাতের পর আঘাতে ক্ষতবিক্ষত শরীর
আর আঘাত করো না ধর্ম ব্যবসায়ী, তোমার অন্ধ
বানিজ্যের জন্য প্রাণ হারালো পোশাক ব্যবসায়ী।

নিথর মার্কো তন্ডাট ফিরে গেছেন ইটালিতে, রেখে
গেছেন অজস্র অবজ্ঞা, কতটা সইবে লাল সবুজ
কতটুকু হিস্যা বাকি ঈশ্বরের, ব্যবসায়ীদের জন্য
প্রতি কণা রক্ত সাক্ষ্য দিচ্ছে দীর্ঘ বৃষ্টিতে লিখা
কবিতাগুলো ক্রমাগত নষ্টদের দখলে চলে গেলো।

Friday, 22 July 2016

নাদিয়া বেনেদেত্তি

নাদিয়া বেনেদেত্তি
- ইমেল নাঈম

এমন একটি আঘাত বন্ধ করে দিতে পারে শিল্পের চাকা
পৃথিবীর সব দরজা উন্মুক্ত, খোলা নয় কিন্তু সব পথ
সবাই লাল সবুজ চিনেছে রঙবেরঙ পোশাকআশাকে
বিশ্ব পরিক্রমায় আপনি আমাদের সহকর্মী, বাণিজ্যিক
সীমারেখায় সবটা অর্থের মাপজোখের নিরিখে হয় না।

সাপ্তাহিক ছুটির দিন, ব্যস্ততাকে ছুটি দেয়ার অপেক্ষায়
সন্ধ্যা মানে শহরের রেস্তরাঁয় ইফতারির ভোজ উৎসব
বন্ধু আর সহকর্মীদের মাঝে সময়ের খানিক আলাপ
এরপর ইদ আয়োজনে শপিংমলের দোকানে দোকানে।

অভিজাত রেস্তরাঁ, খুব মানুষের ভিড় নেই, যারা আছেন
তারাও ব্যস্ত নিজেদের নিয়ে, ক্লান্তি শেষে ফিরবেন ঘরে
পালটে যায় সবকিছু, হঠাৎ শুরু হয় বিভীষিকা পর্ব
কেউ জানেনা দোষ ত্রুটি, পরে থাকে ক্ষতবিক্ষত শরীর
অস্ত্রের আঘাতে, শুধু বুঝতে পারছিলেন বদলেছে সময়

ঈশ্বরের নামে গণহত্যা, ঈমানী দায়িত্ববোধ। রক্তেমাখা
সময়ের পেগাসাসে চড়ে চলেছেন নাদিয়া বেনেদেত্তি।
তাঁর দেখা পেলে যুদ্ধ খেলার জয় পরাজয়ের হিসেব
খুঁজবেন না, শুধু চোখের দিকে কড়া দৃষ্টিতে তাকাবেন।

হিদেসি হাসিমতো

হিদেসি হাসিমতো
- ইমেল নাঈম

আতঙ্কিত সময়ের এস্রাজে আজ দানবের আঙুল...
অকৃত্রিম বন্ধু, আপনি এসেছিলেন খুব খারাপ সময়ে
আনন্দমুখর জাতি বুঝতে পারেনি তার শরীরজুড়ে
ছড়াচ্ছে নীরব মহামারি, ক্রমশ গিলে খাচ্ছে সবটুকু।

কাজ শেষে সামান্য বিরতি, নাশতা পানির ফাঁকগলে
ঢুকে পড়েছে অচেনা দৃশ্যপট, মুহুর্মুহু বারুদের শব্দে
আতঙ্কিত হবার আগেই অনবরত গুলির শব্দপাঠে
নিস্তেজ হয়ে পড়েলেন আপনি ও আপনার সহবন্ধুরা

হয়তো সেই কথোপকথনে উঠে আসছিলো আগামী
কর্ম পরিকল্পনা, নির্মাণশিল্পের নতুন খুঁটিনাটি বিষয় !
সব উলটে দিলো ধর্মের নামে অধর্ম, মানবিকতার
বিপরীতে দাঁড়ানো কিছু অন্ধ মানুষ। গুলির বৃষ্টিতে
ঝাঁঝরা হওয়া শরীরে কি ভাবছিলে পরিবারের কথা?

এই পৃথিবীতে ঈশ্বরের মতো অসহায় আর কেউ নেই
তার দিকে আঙুল তুললে কাপুরুষের সব হত্যাযজ্ঞ
জায়েজ। একদল লোক কিছু অল্প বিদ্যায় এগোয়
মৃত্যুর দিকে, স্বর্গ ভেবে নরকের দরজায় কড়া ফেলে

মানবিক মানুষেরা খুব অসহায়, আলোর অন্বেষণের
ব্যস্ততার মাঝে হারিয়ে ফেলছে প্রিয় মুখগুলোকে
আপনার মতো বন্ধুকে হারিয়ে ক্রমাগত অসহায় হয়ে
পড়ছি আমরা, মানবিক বিশ্বকে এর আগে এতো
গভীর অমাবস্যাতে ডুবতে দেখে নি কেউ কখনো...

হিদেসি হাসিমতো, আপনি ভালো থাকুন,
আমরা আলোর সন্ধ্যানে এগুচ্ছি সামনের দিকে...

Thursday, 21 July 2016

ক্লডিয়া মারিয়া দান্তানা

ক্লডিয়া মারিয়া দান্তানা
- ইমেল নাঈম

ওহ ক্লডিয়া, বুলেট টি যখন ছিঁড়ে ফুঁড়ে বেরোলো শরীর
ভেদ করে, কতটা যন্ত্রণা সহ্য করে তাকিয়েছিলে বলো তো?

তুমি বুঝতেই পারো নি, মৃত্যুর রূপ ঠিক মানুষের আদলে
প্রাণঘাতী বুলেট টি শরীর ছেদ করার আগ মুহূর্তেও কী
ভেবেছিলে ঈশ্বর পৃথিবীতে যত্ন করে নরক সাজিয়েছেন।

তুমি চলে গেলে, এরপর তোমার মুঠোফোন থেকে ছড়ালো
বীভৎস সব চিত্রকল্প, আঘাতের পর আঘাতে মৃত্যু এসে
কড়া নাড়ছিলো তোমার সহযাত্রীদের, তুমি তখনো হয়তো
ভাবছো, তোমার অপরাধ, বাকটুকু কেড়ে নিলো বুলেট,
কল্পনাশক্তি মিশে গেছে ধুলোয়, নৃশংসতা কেড়েছে স্বর।

ক্লডিয়া, ও ক্লডিয়া, তুমি জানলে না পৃথিবীর মানচিত্রজুড়ে
মানবিক মানুষেরা আরো অসহায় হয়ে গেছে, কোণঠাসা
হয়ে মুখের লাগাম টেনে ধরেছে, নানা বেশে মানুষ মরছে
বিনা কারণে, ক্ষমতা আর ধর্মের মোড়কে পৃথিবীজুড়ে রক্ত
ঝরছে, তোমার মতো তারা সবাই জানে না অপরাধটুকু...

পৃথিবীতে তিনভাগ জল আর একভাগ রক্তেলাল, এখানে
কোথায় খুঁজো ধর্ম, সাগরের কোথায় ভাসে পবিত্র ধ্বনি?