Thursday, 10 December 2015

অরণ্য

কে অরণ্যের বুকেও অনেক দুঃখ আছে 
আছে তার কষ্টের গোপন ক্যানভাস 
লালন করে চলেছে লুপ্ত অভিসার 
পুষেছে শীতল ব্যথা স্যাঁতসেঁতে বুকে। 
নিঃসঙ্গতা জানে ভয়ের পোট্রেটজুড়ে 
সাদাকালো ডোরাকাটা দাগের কী অর্থ ! 
অভিমানী অরণ্য জানে রাত নামলে 
ক্যাঙ্গারু শাবক কত একা, অসহায়। 

অরণ্য চেয়েছিলো একটু নীল সঙ্গ 
সবুজ বুকে হরিতকী গাছের ছায়া 
নিম গাছের তলে প্রাণবন্ত বাতাস 
নির্ভেজাল অক্সিজেনের আসা যাওয়া 
বেশি নয় সে চেয়েছিলো কোমল হাত 
চেয়েছিলো মন খারাপ দিনে বন্ধুতা।

প্রকাশিতঃ বুক পকেট

Wednesday, 9 December 2015

ঋতু

পেরিয়ে যেতে যেতে দূরে সরে গেলাম
চোখ মেলে আজো দেখি নি সময়টাকে
পালাতে গেলে বদলে যায় ঋতুচক্র
চক্রপথে ঘুরতে থাকে লাটিম প্রাণ।

স্পর্শ ভুলে গেছি ঠিকানা সহ, হারিয়ে
ফেলেছি শেষ সম্বলটুকু, ছিঁড়ে জুতো
আরো কয়েকভাগ হলে নির্লজ্জ চাঁদ
পরিচয় লুকোলে জিপসি মনে হয়

নিজেকে দশের চে' আলাদা মনে হয়
সমভাষী একই বর্ণের মানুষের
চোখে বিস্ময় খেলে যায় গবেষণায়
উৎসুক মন হাঁক ডাকে জোরেশোরে

যাযাবর পখিরা শুধু উষ্ণতা খোঁজে
এর বাইরে অন্য কোনো কিছুই নয়
ওম পেলে তারা পোষ মানে শীতকাল
প্রেম পেলে উড়ে বেড়ায় উঠোন জুড়ে

ঋতু বদলে গেলেই চলে যায় দূরে
আর ফিরে না কখনো, ফেরানো যায় না
জিপসি'রা প্রেম ভুলে যায় অতিদ্রুত
তার চেয়ে দ্রুত ভুলে নিজস্ব ঠিকানা।

Tuesday, 8 December 2015

অন্ধকার ৪

আকাশ বন্ধ করে দাও বোতাম টিপে। বিকল্প পথযাত্রীদের রক্তাক্ত করো নানা অযুহাতে...কথায়...চোখে...মুখে...অঙ্গভঙ্গিতে। ঘুম ভাঙলেই খুঁজে পাওয়া যায় রহস্যের ঘেরাটোপ, শিঘ্রি আলো আসবে অথচ দৃষ্টিসীমায় আলোকবর্তিকা নেই। মাস্তুল জুড়ে অন্ধকার চাদরে ঢেকে দিয়েছে। নিরাপদ যাত্রাপথের এটাই এক অভিন্ন উপায়।

টিভি দেখি না বিজ্ঞাপন গিলতে হবে বলে। এরই মাঝে টি.আর.পি'র অংকে সামনে চলে আসে নানা অপ্রীতিকর খবর। ম্যানহোলে ডুবে যাওয়া শিশু, সড়ক দুর্ঘটনায় মৃত শরীর, বিল্ডিং ধ্বসে কোনো কিছুই অবশিষ্ট থাকে না। ক্ষত বিক্ষত শরীরে কেউ হয়তো ফিরে, বাকিরা নয়...জনগণের বন্ধু বলে পরিচিত মুখগুলোর আচরণ শত্রুর মতো। নেভি ব্লু চোখ রাস্তার মোড়ে মালবাহী ট্রাকের দিকে তাকিয়ে থাকে দিনের অনেকটা সময়।

সেবক শব্দটাকে বড্ড অসহায় মনে হয়। ঠিক আভিধানিক অর্থটা মেলাতে পারি না। তারা নিজেদের নিয়ে প্রচারে এতো মগ্ন, ভুলে গেছেন প্রকৃত কাজ। কক্ষপথ হীন একটা কণা খুঁজে ফিরে তার মূল কেন্দ্র।

এ'দিকে দখল হয়ে যায় খেলার মাঠ। কিশোর ছেলেটির ভিতরের পশুটিও প্রকাশ পায় সুযোগ বুঝে। আটাশ দিনের বাচ্চা শিশুটিও পরীক্ষাকেন্দ্রে। কে বোঝায়? এই শহরে আজ সব রাজার শাসন। সবাই নিজেকে নিয়ে এতো মগ্ন যে দেখেনি তার চারপাশের প্রকৃতি। নিজের দোষ ঢাকতে চলে যায় পিছনের পথে। বন্ধ করে দেয় সব দরজা জানালা।

মতের অমিল মানেই আঘাত করো সজোরে। ছিন্নভিন্ন করে দাও সেই সকল মুখ। আত্মপ্রচারের এটাই অতি উত্তম পথ। পথিক হিসেবে আমি দেখি ঝরে যাওয়া কতগুলো পাখির পালক যারা গান লিখতে বসে হারিয়ে গেছে অজানা পথে।

Monday, 7 December 2015

রাত এবং সকালের উপলব্ধি

আঙুল ছুঁয়ে থাকে আঙুলের গল্প। মৃত্যু ছুঁয়ে থাকে ইতিহাস। আটকে গেছে জগদ্দল পাথরে স্বপ্ন গাঁথা। নিজের একান্ত ব্যক্তিগত বিষয়াদির আড়ালে অনেক দুঃখ লুকিয়ে। ব্যস্ততার ফাঁক গলে এখন সময়ের জোয়ার ভাটায় ভেসে আসে পরিযায়ী সময়েরা। রাত বাড়ে টিক টিক শব্দে। ডিজিটাল ঘড়ির ঘণ্টা কালীন এলার্ম। জেগে থাকা একটা রাতের গল্প। অভিমানী কথারা পায়চারি করে সারাটা লন জুড়ে। জানালা খুলে দিলেই দেখি নিয়ন জ্বলে পোস্টের চূড়ায়। সেই আলোতে আবছায়া একটা খেলার মাঠ। সেও আমার মতো রাত পাহারায়, চারপাশের ব্যস্ততা নেই। শুধু পায়চারি করা ছাড়া।

খাবার ঘরে একটা ডিম লাইট জ্বলছে। লাইট টা কেনো জ্বলে জানি না, তবে আমি অন্ধকার ভয় পাই না। আলোকে এড়িয়ে চলতে বসে হারিয়ে ফেলেছি অনেক পাঠ। সকাল হলেই ছাদে যাবো। কতদিন ছাদে যাই না। একসময় প্রায় যেতাম। ভাল না লাগার যে সংবেদ আমার চেয়েও বেশি জানে না কেউ। ক্রমশ নিজের ভিতরের সত্ত্বাটা প্রশ্ন করে চলেছে অর্বাচীন সুখে। তার প্রশ্নবাণে ক্ষতবিক্ষত হই, রক্তাক্ত হই। তবুও জল নেই চোখে। মেনে নেয়ার তীব্র আনন্দ সুখ তাড়িয়ে মারে নীরবে। আমি বারবার উঠে দাঁড়ানোর চেষ্টা করি। পা ফসকে যায়, ব্যথায় কুঁকড়ে উঠি। আবার দৌড়ে বিছানায় ফিরি।

সকালের বিছানা ছেড়ে উঠি। প্রাতঃস্নানে আয়নার নিজের প্রতিচ্ছবি দেখি। অচেনা একটা মানুষ সারাটা রাত পায়চারি করে কাটিয়ে দিয়েছে নিজের সাথে আনমনে এক ভাবনায়। প্রতি রাতেই নিজের ভিতরের অন্য আমি'কে আবিষ্কার করতে এখন আর ক্লান্ত লাগে না। বরং নিজেকে যুদ্ধ শেষে ক্ষতবিক্ষত এক অতিসাধারণ সৈনিক মনে হয়। যে সর্বস্বান্ত হয়ে ফিরেছে নিজের ঘরে। 

Saturday, 5 December 2015

অন্ধকার ৩

অন্ধকার ঘর। অন্য দশ জন ঠিক আমারই মতো। কেউ দাঁড়িয়ে, কেউ বসে, কেউ দেয়ালে ঠেস দিয়ে বসে আছে। নানান জন নানান সমস্যায় এখানে। কেউ এখানের দশ বছরের অতিথি, কেউ আজীবনের সদস্য। নানান ঘটনায় আমরা আজ মুখোমুখি। কেউ আমার মতো নয়, আর বাকিরা সবাই প্রায় একই রকম। একই ঘটনার পথ যাত্রী।

আমার বিপরীতে আজ সব হৈহুল্লোড় করা আয়োজন। ঈশ্বরের বিপক্ষে লিখতে চাওয়ার জন্য এই দুর্বিনীত খড়গ। ছিদ্র করে দিয়ে যায় বুকের প্রান্ত। আমি সত্য লিখতে বসেই লিখে ফেলেছি তেল কূপের কথা। আমি সত্য কে ধারন করতে গিয়ে বলে ফেলেছি বিলাসিতার নির্মম বাক্য। আমার বিরুদ্ধে অভিযোগ সবটাই শুধু ব্যক্তি স্বার্থের আঘাতে।

আমি অন্ধকার ঘরে খাতা আর কলম চাই। আমি লিখতে চাই অন্ধকারের কবিতা। পাতা ভর্তি থাকুক সত্যে। কেউ জানবে না এই খাতায় কি লিখা হয়েছিলো। ঈশ্বরকে লিখে দিবো খোলা চিঠি। আমি রাজা বাদশাহ কে লিখে দিবো তেল নিয়ে মিথ্যে অহংকারের ইতিবৃত্ত। আমি লিখে যাবো মৃত্যু পথ যাত্রার সকল আয়োজন।

বেশি দিন আর নেই, খাতার পাতা গুলো অধিকাংশই খালি রেখে যাবে। কাল কোনো অচেনা জিপসি কবি লিখে ফেলবেন কিছু অংশ। খাতায় লিখা থাকবে কৃষ্ণাঙ্গ হাতের ছোঁয়া, দক্ষিণ এশিয়ার উজ্জ্বল শ্যামল কোনো কবির আঙুল। শ্বেতাঙ্গ কবিরাও সোচ্চার হবে এই শূন্যস্থান পূর্ণতার পথে। আমার মৃত্যু খুলে দিবে অনেক জীবনের বন্ধ দরজা।

Thursday, 3 December 2015

অন্ধকার ২

চলো শান্তির পায়রা উড়াই। সাদা পায়রা ওড়ানোর পরেই আয়োজন করি মোমবাতি জ্বালিয়ে এক মিনিটের নীরবতা পালনের উৎসবের। এরপর রবীন্দ্র সঙ্গীত গাই সকল অপচেতনা দূরীভূত করার প্রয়াস। আসো এই মৃত্যু উল্লাসে কবিতা লিখি। কবিতা লিখি প্রতিটি বোমার বিপরীতে। জীবনের স্বাদ আস্বাদনের নিমিত্তে কবিতা লিখি। আগেও বলেছিলাম, বস্তুবাদের জগতে কবিতার কোনো শক্তি নেই। যদিও মধ্য পৃথিবীর প্রিয় সহযাত্রী একই অভিযোগে মৃত্যুর পথে এগিয়ে যাচ্ছে। কবিতার লিখার অভিযোগে মৃত্যুদণ্ড। আমরা কবিতা পড়ছি এরপর।

কতগুলো বোমার আঘাতে একটা মানচিত্র ঠায় দাঁড়িয়ে থাকে। হিসাব কষে ফেলে লাভ ক্ষতির মুনাফা। প্রাকৃতিক সম্পদের লুটপাট করলেই ঠাণ্ডা হয়ে যাবে ভূখণ্ড। এখানে শান্তির জন্য কবিতা নয়, বোমারু বিমান বরাদ্দ করেছে ঈশ্বর। অতঃপর আঘাতের পর আঘাতে ঝাঁঝরা করে দাও সব সমান্তরাল জায়গা। বোকাবাক্সে প্রচারিত করো নিজেদের ক্ষমতা। ক্ষমতায়নের এই দুঃসময়ে নিজেকে প্রচার করার জন্যই এই প্রেসকিপশনেই বিশ্বাস তোমার। ও'দিকে সন্ত্রাসী মরে, বয়স ওদের কতই আর বারো...চৌদ্দ...ষোল...সন্ত্রাসের আস্তানা উড়ে যাওয়ার পর জানা যায়, ওটাকে ইশকুল নামেই চিনতো সবাই।

ওখানের মানুষ সকাল দেখে না। মসজিদে যায় না, অফিসে যায় না, হাটবাজারেও যায় না। শুধু পালিয়ে বাঁচতে চায় অন্য কোনো সীমান্তে। তাদের জন্য দাঁড়িয়ে থাকে কয়েক প্লাটুন পুলিশ। শিশুর মৃতদেহ মিলে যায় সমুদ্র সৈকতে। আমরা শান্তির জন্য মসজিদে যাই, গির্জায় ধর্না দিই, মন্দিরে যাই। আর তারা বোমা মারে, নিরপরাধ মানুষ মারে, অথচ সন্ত্রাসী নয় একদমই।

চলো আমরা কবিতা লিখি, মোমবাতি জ্বালাই। মৃতদেহের স্মরণে এক মিনিটের নীরবতা পালন করি। এটাই অক্ষম লোকের একমাত্র ক্ষমতা। আমরা নৈতিকতার কারণে শান্তির কামনায় দাঁড়িয়ে থাকি ভুল সময়ে, ভুল দরজায়।

Wednesday, 2 December 2015

অন্ধকার ১

পরতে পরতে মিথ্যে লুকিয়ে। আত্ম অহংকার সরিয়ে দেয় পা মাটির অনেক উপরে। ক্রমশ অক্সিজেন শূন্যতায় ছিঁটকে পরে মাটির অনেক উপরে। বুদ্ধিমান চোখ যখন অন্ধ সাজে, তখন ছড়াতে থাকে কানকথা।  আত্মসম্মানবোধের তীব্রতায় পুড়ে যায় দর্শন। ভস্মটুকু আঁকড়ে ধরে রাখে একদল বানোয়াট মুখ। পুড়ে ফেলা কবিতায় ভুল বানানে আটকে দেয় সেফটিপিন।

ছোট্ট ছিদ্রগলে আলো ঢুকে, সেইসাথে ঢুকে পড়ে দুষিত বাতাস। পত্রিকার পাতায় লিখা থাকে আত্মপক্ষ বিশ্লেষণ। আবেগ দিয়ে ভাসিয়ে নেওয়ার পরও ফাঁক গলে বেরিয়ে আসে নিগুঁঢ় বাস্তবতা। এটাকে অস্বীকার করলেই উড়ে আসতে থাকে উটকো ঝামেলা।

বিকল্পপথে আমাদের পৃথিবী খোলা। সেই পথে আমরা শ্বাস নিই প্রতিদিন। রাগ অভিমানও ঝাঁড়ি, পুনরায় ছুটে চলার অদম্য নেশায়। আমাদের সকালগুলো স্বপ্নমাখা। আঘাতের পরেও উঠে দাঁড়াই, সেফটিপিনটাকে ছুঁড়ে ফেলি রাস্তায়।

আমরা সর্বহারাদের দলভুক্ত নই। তবুও সাহসটুকু বুকে নিয়ে চলি। বারবার শুধরে নিই সঠিক পথ। অথচ...আমাদের জন্য সর্বভুকের মতো হা করে তাকিয়ে আছে নিঃসীম অন্ধকার।

স্বপ্ন

ভুল বৃত্ত। ভাঙার আগেই ক্ষত শরীরের পায়চারী
মাত্রা ভাঙার নিমিত্তে হাঁক ছেড়ে ওঠে বারবার ,
নগর দারোয়ান চিৎকার করে জানান দেয়
রাতের সঙ্গী হিসেবে কুকুর তাড়ানোর আয়োজন
রাত বাড়লে, ম্লান হয় না সাদাকালো স্মৃতিপট,

ছিঁড়ে খায় আমাদের সবটা রঙ, নগর রাজপথে
বেওয়ারিশ প্রাণের হাহাকার, হুশিয়ার সাবধান
বলে হুইসিল বাজায়। চাঁদের লজ্জা ভাঙলে
কোজাগরী ঈশ্বরের সামনে গিয়ে দাঁড়াতে পারি।

আমি শয়নকক্ষে বিছিয়ে দিই সুগন্ধি ফুল
ছিটিয়ে দিই, দামী গোলাপ জল, পারফিউম
সুঘ্রাণের তীব্রতায় ঘুমটুকু পালিয়ে যায়
সুবহেতারার আগমনে মসজিদ হতে ভেসে
আসা আজানের ধ্বনি, পথে আলো আসে নি।

সূর্যোদয়ের পরপরই আমি ঘুমিয়ে যাই,
এই যাত্রাপথে কোনো স্বপ্ন লেখা থাকে না
সুগন্ধিও না, নগর দারোয়ানের হুইসিল
কুকুরের হাঁকডাক কিছুই থাকে না,
তবুও অনেক মানুষ পাশে দাঁড়িয়ে থাকে।

সকালের সুর


ভুলে যাওয়া গিটারের ছয়টি তারে
এখনো ভেসে আসে টুংটাং। আশ্চর্য!
সংশয় ভুলে মুখ লুকাও, গর্ত খোঁজ
অকারণ আবেশে, হিসাবের অংক
ভুলে গেছো প্রাপ্তির অংশ নিয়ে।

মঙ্গলবারটাও বদলে যায় কুয়াশায়
কার থেকে পালাচ্ছো সারা সময়
নিজেকে চিনতে দাঁড়াতে পারো
আয়নার সামনে, প্রশ্নের পর প্রশ্ন
করে যাচাই করে নাও অবস্থান।

জয়ী ভাববার আগে একটু দাঁড়াও
বুকে হাত দিয়ে দেখো একবার
গভীরের শ্বাস গুলো কতো অসহায়
অসম, দোদুল্যমান প্রহসনে আজ
শান্ত হয়েছে, কুয়াশার সকালে।

থেমে যেতে যেতে ভাবতে পারো
সকাল মানে পরাজয়ের নামতা
সালতামামি জুড়ে আছে মরীচিকা
সামনে পথ চলেছো অনেকদূর
তবুও আগানোর খাতায় নেই প্রাপ্তি
এখনো অহংকারে ভাসাও নৌকা

মেঘ নেমে এলো, ঝড় নামবে এবার...

উপলব্ধি

চাপা আতঙ্ক আর আশঙ্কা আগামীর পথে ঘাটে...
সবাই নীরব, কারো মুখে কথা নেই, গিলে খাচ্ছে
সব অভিমান। পত্রিকার পাতা জুড়ে মিথ্যে বুলি
দেখেও দেখে না কেউ। কোনো কথা নেই। শুধু সহ্য...

লড়তে গিয়ে মরেছে প্রাণ তাকে নিয়ে রাজনীতি...
আমাকে কে শেখালো বাঁচার মন্ত্র, হার না মানার
বিশাল অঙ্গীকার। আগুন জ্বালিয়েছি ভুল পথে।
কারো কণ্ঠে ঝরতে দেখি নি, জীবনের সংগ্রাম।

অন্ধকার মুখ গিলে খায় আমাদের স্বপ্ন সুখ,
এখানে সৃষ্টির চাষবাস বন্ধ, ছেঁড়া তমসুক
জুড়ে স্তব্ধ করা নীরবতা। বোকাবাক্স দিয়ে যায়
অবাস্তব জ্ঞান বিতরণ, অবান্তর প্রদর্শনী।

প্রচণ্ড প্রিয় এ' রাজপথ, শ্লোগানে মুখর সন্ধ্যা
নিষ্প্রাণ পৃথিবী হাতছানি দেয় রক্তের প্লাবনে।

অপমৃত্যু

যে ফুলগুলো ঝরে পড়েছে অনাদরে তার জন্য
এক মিনিট জুড়ে বিভ্রান্তি ছড়ানো নাটুকে ছল
চোখ ঢেকে দাও বিজ্ঞাপনে, মুখে লাগুক লাগাম
স্বপ্নগুলো বেহাতে হারায়, পচে দুর্গন্ধ ছড়ায়।

প্রশ্নের জবাবে প্রশ্ন আসে, উত্তরের বিনিময়ে
অদ্ভুত নীরবতা বাঁচিয়ে রাখে কৌতূহলী মন।
সকাল কতদিন আসে নি, যারা আলোর পথিক
তাদের রক্তে বয়ে চলেছি রাজপথের মিছিল।

প্রবঞ্চনা আর প্রহসন - খুব কাছ থেকে দেখি
শোনা যায় আস্ফালন, বেঁচে থাকার গভীর ইচ্ছে
নগর সর্দার দরজায় বসাও কড়া প্রহরা
তোমার ভুলে ঝরছে ফুল, রক্তাক্ত হয় বাগান।

ফুলহীন বাগান জঙ্গল মাত্র। স্বপ্নহীন প্রাণ জানে
ধ্বংসের শেষ প্রলয়ে থাকে, সভ্যতার অপমৃত্যু।

Tuesday, 1 December 2015

উপলব্ধি

নীলচে অনুভব ছুঁয়ে দিলেই বৃষ্টি হয়
সময় অসময়ের ফাঁকফোকরে
বখে যাওয়া দিনের স্বরলিপি।
বৃষ্টি নামলেই ঠাণ্ডা নামে না এখানে
কুয়াশায় ঢাকা সকালের ইতিউতি-তে
কিছু মেদহীন স্বপ্ন হঠাৎ বাষ্পীভূত...

চেয়ারটা খালি পড়ে আছে দীর্ঘদিন
ড্রেসিংটেবিল জুড়ে দীর্ঘশ্বাস
চুড়িগুলো ঝুলছে সারিবদ্ধ
বেলজিয়াম মিররে টিপগুলো অসহায়
কবিতা গুলো এখনো কথা বলে
প্রতি সন্ধ্যায় তাদের উল্টেপাল্টে দেখি।

একান্ত ব্যক্তিগত বলে কিছু নেই
বড়জোর কিছু অফিসিয়াল ডকুমেন্টস
নাহ, হোয়াটস আপ আর ম্যাসেঞ্জারেও
তেমন কোনো ড্যাটা জমা নেই
তবুও তুমিহীনতায় কত্ত বিশাল ফারাক।
গত বছর ছিলে, আজকের দিনে নেই
আগামী কাল থাকবে না, সেটা জানাকথা।

এমন কোনো রোম্যান্টিক আলাপন নেই
দরকার ব্যতীত কোনো জিজ্ঞাসা নেই
রসায়নের বুকে তীব্রতার দহন নেই
নতুন প্রাপ্তির খাতায় কোনোকিছু নেই
তবুও তো অনেক শীতকাল, অনেক বৃষ্টি
বিনা বাক্যালাপে পার করে দিলাম।

আর কিছুদিন থেকে গেলে কী এমন হতো!

অবগাহন

ভুল পথে অনেকটুকু আগানো হলো। প্রত্যাশার বুকে ছুঁড়ি চালালো কে, এতো কঠিন উল্লাসে। ভ্রান্তি ছুঁড়ে ফেলে দিই পিছনের পথে। ঠিক এভাবেই এগিয়ে চলেছি পিছন ফেলে দীনতা। মায়াবী আবেগ টুকু লাগাম টনতে টানতে হয়ে গেছি ঘোড়সওয়ার। কোনো আরব্য ঘোড়ার পিঠে চড়ে ছুটে চলেছি দিগ্বিদিক। জানি না এর শেষের কাঙ্ক্ষিত মিলনের বিন্দু।

যাযাবর জীবনের পথে পথে দৌড়তে গিয়ে হারিয়ে ফেলেছি অনেক। যা কিছু পেয়েছি নাগাল জুড়ে, তার পুরোটা মরীচিকা। শেষের রেশটা বিরহ সহকারে বৃষ্টি নামায়। আভিজাত্য নিয়ে মুখে হাসি ফোটাই। ক্ষত বুকে প্রলেপ মাখি। আটকে রাখি নিজেকে, সব মিথ্যে মিথলজির আবরণে।

আমার গল্পগুলো সত্যের মতো, তবে সত্য নয়। আংশিক মিথ্যে এসে তাঁবু গেড়েছে তার সাথে। মিশে গেছে প্রণয়ের অন্তরালে। দুষিত হয়ে পড়ছি ক্রমশ। মুক্তির অপেক্ষায় এখন আর দুরবিনে চোখ পাতি না। আপেলের অর্ধেক অন্ধকার। বাকি অর্ধেকে মুখোশ পড়া কোনো হলোকস্ট।

ক্রুসেডের মতো নীল হচ্ছি একটু একটু করে। ছড়িয়ে পড়ছে পচন সমগ্র শরীরে। একদিন সবটুকু রক্ত ঝরে গেলে নিষ্প্রাণ দেহটুকুও রক্ষা পাবে না। ছিঁড়ে ছিন্নভিন্ন করে বিজয় উল্লাসী ধ্বনিতে লিখা হবে পরাজয়ের সুনিপুণ এক কারুকার্য।