Saturday, 19 December 2015

জ্বর

তাপমাত্রা পরিবর্তন এখন অনুভূতির শূন্যতা
ছাড়া আর কোনো আবেদন রাখে না
এন্ড্রোয়েডের হেডফোনে ভেসে আসে ব্লুজ
গিটারের ছয় তারে যেন ভিন্ন সুরের খেলা

নিজের কাছে অচেনা হলে ফেরার পথটি
মিশে যায় অনেকগুলো পথের মাঝে,
নিজের বলে কোনো কিছুই থাকে না।
অধিকার, প্রাপ্তি, অপ্রাপ্তি, ঈর্ষাবোধ, সখ্য
এসব শব্দগুলো হারিয়ে যেতে থাকে
অভিধান থেকে অনেকদূর...

ঠাণ্ডায় লেপ কাঁথার ভিড়ে ঋতু কাঁপানো
সময়টাও গ্রহণে অপারগ শরীরে দেখি
মানুষের উঁকিঝুঁকি, মুখবই জুড়ে ব্যক্তিগত
প্রচারণায় চোখে পড়ে দেখা সাক্ষাৎ,
ব্যক্তিগত সুখদুঃখ, অচেনা মানুষের ছবি
গেট টুগেদার কিংবা আড্ডামুখর মুখ

আমার হেড ফোনজুড়ে বাজতে থাকে
এক্সপেরিমেন্টাল রক,
প্রোগ্রেসিভ রক,
অল্টারনেটিভ রক,
ব্লুজ অ্যান্ড জ্যাজ রক,
আর টেবিলের এক কোণায় পরে আছে
উৎপলকুমার, একফ্লাক্স উষ্ণ পানি,
অর্ধেক খালি এক পাতা প্যারাসিটামল।

Saturday, 12 December 2015

ডাক

প্রতিবিম্বের ঘোর কেটে আসে দুঃস্বপ্ন
আলটপকা সময়ের কার্নিশজুড়ে
স্মৃতিদের আনাগোনা। ঘাসেদের ছুঁয়ে
ঝরে পড়ে একগুচ্ছ অবন্তিকা ফুল ।

রাত বাড়লে নীরব হয় ল্যাম্প পোস্ট
হেমন্তের কুয়াশা আর শীতের ছায়া
মনহরা সবকিছু, তবুও শূন্যতা।
ভিতরটা শুনশান, বাতিটা জ্বলছে...

ল্যাপটপে খসখস শব্দে আত্মনিষ্ঠ
এক শিল্পী নীরবে গড়ে যান স্থাপত্য।
এশট্রে জুড়ে ছাই, তবুও বেনসন
পুড়ে যায় ক্রমাগত, কফির পেয়ালা
ধোঁয়া ছড়াতে ছড়াতে ক্লান্ত নয় আর

কবিতার পাতা ভরে গেলে বেজে ওঠে
ক্লেডারম্যান, ইউটিউবে মগ্নতার
শীর্ষচূড়া ছুঁলেই রাত গভীর ঘুমে
আচ্ছন্ন হয়ে পড়ে ক্লান্তির ভিড় ঠেলে

তখন কান পেতে একটি বার শোনো
মায়াবতী নারী কণ্ঠ ক্রমশ ডাকছে
দেবাশীষ... দেবাশীষ... দেবাশীষ বলে...

ইমেল নাঈম'র কবিতা ভাবনা

কবিতা ভাবনা ও গুচ্ছ কবিতা ঈমেল নাইম কবিতা বললেই আমি হেলাল হাফিজের উৎসর্গ কবিতাটাকেই মনে করি। কবি নিজেই বলেছেন কবিতা অবিকল মানুষের মতো, চোখ, মুখ, বিবেকের কথা।

কবিতা মানুষের জীবনগাঁথা, সভ্যতার শ্লোগান। কবিতা নষ্ট সময়ে জ্বলে ওঠা এক প্রদীপ, যে কিনা ভুল পথের পথিক কে পথ দেখায়। কবিতা অচেনা এক নারী, প্রথম প্রেমের স্পন্দন। কবিতা নদী, কষ্ট ভুলে থাকার একমাত্র অবলম্বন। কবিতা একটা ইঙ্গিত, একটা চিত্রপট। ভ্যানঘগের আঁকা ল্যান্ডস্কেপ। ফেরদৌসি প্রিয়ভাষিণীর নিপুণ আঙুলে তৈরি কোন স্থাপত্য কলা। এক কথায় কবিতা কবিতাই। কবিতা বলতে কবিতাই বুঝি। অন্যকিছু বুঝে উঠি নি।

কবিতা আটকে নেই নির্দিষ্ট কোনও বলয়ে। সে বৈশ্বিক। বৃত্ত, বৈভব, ক্ষেত্রফল, ব্যঞ্জনা, উৎকর্ষতা কোনও কিছু নিয়ম মেনে চলে না, অথচ তার মাঝেই খুঁজে পাওয়া যায় এইসব মৌলিক উপাদান। শব্দের পিঠে শব্দ বসিয়ে অদ্ভুত এক ছন্দের খেলা যা প্রতি মুহূর্ত আলোড়িত করে যায় পাঠককে। কবিতা কে ঠিক মতো আঁকা যায় না, অনুভব করতে হয়। অনুভব জিনিষটাও স্রষ্টার সমান্তরালে নাও যেতে পারে। তবুও পাঠকের মস্তিষ্কের সামান্য যেই বোধটুকু নাড়িয়ে দেয় সেটাকে নিয়েই দাঁড়ায় একটি কবিতা।

কবিতা হলো কবির মৌলিক দর্শন। কবি তার বিশ্বাস কে প্রকাশ করেন নানাবিধ আকার ইঙ্গিতে। এই দর্শনে অস্তিত্বগত ঐতিহ্যের উপলব্ধি, সংবেদনশীলতা ও নির্ভরশীলতাকে পক্ষপাতহীনভাবে ফুটে উঠে। কবিতা যেহেতু বোধের চরিতার্থকে আদর্শমণ্ডিত করে, চিন্তার স্তর বিন্যাস উন্নত করে, সৃষ্টির পথে চেতনার অস্তিত্বের অবয়ব দেয়, পূর্ণাঙ্গ করে সম্মোহন শক্তির মাধ্যমে, তাই এখানে প্রতিনিয়ত সে শব্দ-ভাষা শক্তির রূপান্তর ঘটিয়ে চলছে। নিজের অস্তিত্বে, শব্দে, পরিভ্রমণ করছে সময়, কাল, যুগ-ক্ষণ।

একটা কবিতা গড়ে ওঠে কি করে? এমন প্রশ্ন প্রায়ই নাড়া দিয়ে যায়। কবিতা গড়ে ওঠে তার চারপাশ, একজন কবির বেড়ে ওঠা সমাজ ব্যবস্থা, অবক্ষয়, রাজনৈতিক অবস্থা, স্বপ্ন আশাবাদ সব কিছু মিলেই গড়ে ওঠে একটা কবিতা। কবি তার লেখাকে বারবার ভাঙেন আবার গড়েন, প্রতিটা মুহূর্তই শুদ্ধতার পথে হেঁটে যান। তার এই হেঁটে যাওয়ার পথটি অনন্তকালের, বন্ধুর পথে একাকীত্বের শ্লোগান।


প্রকাশিতঃ বুক পকেট

বোহেমিয়ান

পরম বন্ধু ভেবে ছায়ার কাছে এসে বারবার ভুল করি
প্রাচীন দেয়ালের সাথে সখ্য পাততে গিয়ে অনুভূত হয়
মহাশূন্যের নীরব এক এস্রাজ কে, আত্মনিমগ্ন স্রষ্টাকে।
পলেস্তারার খসে পড়া শব্দে, ধুলো ঝড়, খড়কুটো জীবন

ভুল উপত্যকা ভ্রমণে অবিরাম ছুটে বোহেমিয়ান প্রেম,
আরব্য রজনীর রূপকথা, নিঃসঙ্গ রাজকন্যার আহ্বান
প্রতিবন্ধকতার আড়ালে হাসা অদ্ভুত হাসি — তাকেও ভয়,
চিন্তার ভাজে সকালের রোদ্দুরে ঝরে বিরক্তির উপাখ্যান

জিপসি যাযাবর, পথের পাশে পাতানো আমার সংসার
তাঁবুর ভিতরে অবিরাম ঢুকছে রাতের শীতল হাওয়া
দিনের তপ্ত বালুকণায় উটের পিঠে খাদ্যের অন্বেষণ
সময় পেরোলে যাবো নতুন কোনো শহরে জীবনের খোঁজে

প্রতিবার ভালবাসার কাছে অবহেলিত হয়ে হেরে যাই
তবু… নিক্কণের শব্দ, অদেখা হাসি, ভাবায় আমার পথকে।

প্রকাশিতঃ বুক পকেট

অঙ্গার

আলো আঁধারি খেলা, মুছে যায় পূর্বের অস্তরাগ
নিয়ন বাতির শহর, নীরবতা ভাঙার শব্দ
ক্লান্ত মুখ ছুঁয়ে যায়, মলিন পাতার স্পর্শ ধ্বনি
মর্মর করে ভেঙে পড়ে, চেয়ে থাকে অবাক চোখ।

এই দৃষ্টিপাতে ক্লান্তি নেই, শুধু মৌন রক্তপাত
অশ্রুকণা ঝরে, যেটুকু ব্যথা সম্পূর্ণ নৈসর্গিক
অপেক্ষারত এক তুমুল ঝড়, অদৃশ্য ভাঙন
পৃথিবী শান্ত হলেও ঠিকই উত্তাপ থেকে যায়।

ভঙ্গুর শরীরে উঠে দাঁড়াই, অবাধ্য যোগফল
প্রাপ্তির নিরিখে হেরে যাওয়া এক নাবিক মাত্র
প্রশ্ন করো না আর, উপভোগ্য হোক এ’ পরাজয়
কঠিন বাস্তবতার মাধ্যমে, বিজেতার কণ্ঠে স্তুতি।

পুড়ে যাওয়া হৃদয়, রক্তপাতে ভাসমান দুঃখ
জ্বালিয়ে অঙ্গার করে, গোপন রাখে নি বাকী কিছু।

প্রকাশিতঃ বুক পকেট

অন্ধ পথিক

কোথায় আগুন, শান্ত স্থবির সবটুকু
বিভ্রান্ত সময়ের সাথে ছুটে চলা পথ
ঘূর্ণন গতিতে দৌড়ে চলেছে ঘড়ি
ঘণ্টার কাটা শোনা যায় বারবার।

ভাবুকতা নিয়েই পড়ে থাকে মন
গল্পের শেষে টিকে থাকে অস্থির রাত
পূর্ণ চাঁদ অবহেলায় হেসে ওঠে

শোনা যায় দূরের সাইরেন, গাড়ীর হর্ন
ট্রেনের কুঝিকঝিক সুর তোলা ধোঁয়া
রাস্তার ধারে পড়ে থাকে অচেনা ফুল
থাকে অব্যাখ্যাত কী সব যুক্তি বিদ্যা!

কোথায় আগুন? শান্ত সব অলিগলি…
অহর্নিশ ডাকাডাকি, রাতবিরাতে
অন্ধ পথিক পথ খুঁজে নিশীথ রাত্রিতে।

প্রকাশিতঃ বুক পকেট

Friday, 11 December 2015

অন্ধকার ৫


এটাকে ঠিক কবিতা বলা যায় না। প্রতিবাদও না। অধিকার আদায়ের কোনো বক্তব্য লিপিবদ্ধ নেই খাতায়। তবুও আপনার বিপরীতে দাঁড়িয়ে। একদম সন্মুখে চোখে চোখ রেখে শান্ত ভাষায়, দৃঢ় চিত্তে, নির্ভীক মননে কিছু কথা আপনার সামনে বিড়বিড় করতেই হয় আমাদের। শোনার মতো সময় নেই আপনার, আর হবেই বা কি করে, আপনার এখন কতো কাজ। পুরো একটা নিশান আপনার আঙুলে নাচে, উড়ে, ঘুরে, ফিরে।

অজস্র কথা চাপিয়ে দিয়েছেন আমাদের উপরে। স্বপ্ন দেখাচ্ছেন দিন রাত চব্বিশ ঘণ্টা। কিন্তু ইঁদুর বিড়ালের খেলার মতোই খেলে যাচ্ছেন পুরোটা সময়। আপনার কথাগুলো ক্রমশ মিথ্যে প্রতিশ্রুতিতে পরিণত হচ্ছে। আর একের পর এক ঘটনা আপনাকে করে তুলছে প্রশ্নবিদ্ধ। পত্রিকার পাতা খুললে এখন ভেসে আসে দুর্ঘটনার সংবাদ। তালহীন ঘুড়িটিও আকাশের ঠিকানা পেলে নিজেকে রাজা মনে করে বসেন। আর ক্রমশ সুতোর সান্নিধ্যটুকুও ভুলে যান।

ভূমিকার বাইরে এসে কিছু কথা বলার থাকে। বলতে গেলে সাতান্ন এসে জগদ্দল পাথরের মতো আটকে ঘরে। ঘর থেকে বেরোই না, চুয়ান্ন শব্দটা খুব পরিচিত। যুদ্ধাপরাধীদের বিচার করায় আপনাকে ফুলেল শুভেচ্ছা। যদিও আপনার আত্মীয়স্বজন অনেকের বিরুদ্ধে এমন অভিযোগ ঘুরে ফিরে আসে বারবার। আপনি তাদের বিপক্ষে সবসময় মিস্টেরিয়াস নীরবতা পালন করেন। আমি চিমটি কেটে পরীক্ষা করি চেতনার থার্মোমিটার।

পেপার খুলেই চমকে উঠলাম। মুক্তিযোদ্ধার তালিকায় অনেক চিহ্নিত রাজাকার, অমুক্তিযোদ্ধারাও এখনো পেয়ে যাচ্ছেন ভাতা। এরচেয়ে বেশি কিছু বলার নেই। আমি শালা মধ্যবিত্ত ঘরের ছেলে। সবসময় বেঁচে থাকার লড়াইয়ে মেতে থাকি। আমার কপাল অনেক ভালো, অন্য দশজন ছেলের মতো চাকরি নামের সোনার হরিণের খোঁজে ব্যস্ত থাকতেও পারতাম। আমিও তো ম্যানহোলে পড়ে নেই হয়ে যেতেও পারতাম, হয়ে যেতে পারতাম গুম, মধ্যরাতে লাশ পাওয়া যেতো কোনো ঝোপঝাড়ে। কিংবা চুরির অভিযোগে গণপিটুনিতে মরেও যেতে পারতাম।

এইযে আমার বেঁচে থাকা, মধ্যবিত্ত মানসিকতার লড়াই...এটা নিয়েই বেঁচে থাকতে চাই আগামীর পথ।


Thursday, 10 December 2015

কিছু মুখ

প্রাচীনকালে গল্পগুলো অন্যরকম ছিলো
রূপকথার মিহি শিল্প, উপদেশের ভাজে
খোদাই করা কিছু মুখ, হাসি, দৃষ্টিকোণ।  

সূর্যের আলোতে পরিণত হয় চিন্তাজগত
রূপকথামালা হারিয়ে যায়, শূন্য পূর্ণ হয়
অন্যকোনো রসালো প্রাপ্তবয়স্ক উপকরণে,
সেলুলয়েড ফিতার দিনগুলো বড্ড টানে।  

এই শহরের নিষ্প্রাণ সাজ বৃষ্টি দিনে,
জমাটবদ্ধ পানি, পাতাদের নীরব ঝরে পড়া
ফাঁকা রাস্তা, কেউ রাখে না হাত কারো হাতে
আয়নার সামনে নিজেকে অচেনা লাগে  

চোখের সামনে যা কিছু দেখি কঠিন বাস্তব
চাকচিক্যময়তা থমকে দিয়েছে চারপাশ
কিছু নিভৃতচারী মুখ, হাসি, ইশপের গল্প
সাজিয়ে আমার দিকে তাকিয়ে আছে।

প্রকাশিতঃ বুক পকেট

মেহমান

দীর্ঘ প্রবাস জীবন শেষ করে আপনি এলেন।
দেখুন, এই সেই বিশাল মাঠ যেখানে বর্ষায়
কাদাজল লুটোপুটি খেতো, আমরা শীতের রাতে
আগুন জ্বালিয়ে পান করতাম মদ —চন্দ্রালোকে।

গ্রীষ্মের রাতে জ্যোৎস্নার আলোতে মনোমুগ্ধকর
পরিবেশে অজস্র বিনিদ্র রাত— মনে আছে আজো!
ঠিক পিছনে ছিলো একটা জীর্ণশীর্ণ ছোট্ট ঘর,
ছিলো বৃষ্টিফোটা, সূর্যের আলোর পূর্ণ বিচরণ

বদলেছে অনেক কিছু। সবুজ বদলে দ্রুতই—
গড়েছে ইট সিমেন্ট সভ্যতা, ঘরের আকারও
বদলেছে। দীর্ঘ অভিজ্ঞতার কারণে আপনার
স্মৃতির কার্নিশে আজো উজ্জ্বল ভাসমান নক্ষত্র।

অত্যাধুনিক জিনিষপত্র। প্রত্যেকের আলাদা ঘর।
শুধু… আপনার আয়োজনটাই বাদ পড়ে গেছে!

প্রকাশিতঃ বুক পকেট

কাঁটাতার

ভাষা নিজেই টেনে দেয় এক বিশাল বিভাজন
এপার ওপারেই বদলায় জানাশোনা ভূগোল
শিকর আঁকড়ে ধরা মানুষ ক্রমশ নামহীন,
মাছি ভেবে দুরদুর করেই তাড়ায় অহেতুক।

জমিদারি প্রকাশের উপযুক্ত সময় এখন
প্রচারিত হোক নিজ কীর্তন, যাদের গা লেপটে
আছে মাটির ঘ্রাণ, যারা পেরুলো সীমানা দেয়াল
তাদের কে অবাঞ্ছিত করে দাও ও’ ভদ্রপল্লিতে

অচ্ছুত সমাজ, ছুঁলেই চলে যায় সম্মানবোধ
তাদের দিয়ে দাও উপমা, অন্ধ বিশ্বাসের ‘পরে
নিজেকে তুলে ধরো নড়বড়ে ভ্রান্ত বিলাসিতায়
উপমাটুকু টিকে থাকুক আভিজাতিক মোড়কে

প্রাচীরসম কাঁটাতারের পাশে — অভদ্রপল্লির
নাম হয় ‘বেড়া টপকানো মাল’, কিম্বা ‘মালাউন’।

প্রকাশিতঃ বুক পকেট

উৎসব

সমুদ্র গর্জন শান্ত হলেই আমরা বাড়ী ফিরি
ফেরার সময় রেখে আসি, অলিখিত তাপ — চাপ
ভবঘুরের মিছিলে বিশাল মুহূর্তগুলো একা
তারুণ্যের ক্ষয় মুঠোফোন আর ভ্রান্ত অন্তর্জালে

মন্দিরের ঘণ্টার আশ্বাসে সময়ের ডাকাডাকি
গির্জার ও’প্রান্ত থেকে যিশুর ছলছলে আহ্বান
ইমামের পাঞ্জাবি জুড়ে সুরমা আতরের ঘ্রাণ
দৈনন্দিন প্রার্থনায় ভিক্ষুর উদাত্ত নিমন্ত্রণ।

ওদিকে চলছে উৎসব শ্রেষ্ঠত্বের আয়োজনে
কে কাকে ছাড়িয়ে তা নিয়েই এক যুদ্ধযুদ্ধ খেলা
অবিশ্বাসী কলম ভুলেছে মৈত্রীর সব বন্ধন
পবিত্র গ্রন্থাদির লেখাগুলো ক্রমশ মুছে যায়।

অজস্র রক্তক্ষরণের শেষে শান্ত সমুদ্র তীর
ভেসে ওঠে ফসিল, জীবিত চোখের মিথ্যে বিশ্বাসে।

প্রকাশিতঃ বুক পকেট

এপিটাফ

শ্রাবণে… ঝরঝরে রোদ বৃষ্টির আকস্মিক খেলা 
কে বা কারা যেন রেখে গেছে সুগন্ধি আতরদানি 
পলক ফেলে দাঁড়িয়ে যায় নির্ভেজাল সব চোখ 
ঘুমের ঘোরে নতুন করে কোন ডাকাডাকি নেই 

পাশে দাঁড়ানো সুপারি গাছ, নিঃসঙ্গতার শ্লোগান 
অবিরাম ছায়া দিয়ে ক্লান্ত নতজানু ভ্রান্ত মুখ 
রেখে গেছে জেসমিন আর রজনীগন্ধার স্টিক 
মাঝেমাঝে বকুলের ঘ্রাণ পাই, রিক্ততার স্বপ্নে।

নিয়মিত আয়োজনে ব্যস্ত, মনে রাখার কৌশল 
ভুলে যাওয়া কিছুনাম স্মৃতিপটে আঁকছে ছবি 
কারো কারো অভিমানী মুখজুড়ে আফসোস শুধু 
কৈশোর পেরোনো মেয়েটি বুকে চেপে রাখে কবিতা

সামনে দাঁড়ালে নামফলকে ভাসে করুণ নাম 
অবহেলায় শোয়া… প্রেমিকটি লেখেছিলো কবিতা  

প্রকাশিতঃ বুক পকেট

আগুনের ধারাপাত

মাঝেমাঝে থেমে যাও, রাখো কিছু স্পর্শ 
জারি থাক আঁকিবুঁকি, নরম পেলবে 
পায়ের চিহ্ন… বলো কতো রক্তাক্ত হবো? 
রক্তকণিকা চিনে, অলিখিত বিচ্ছেদ 
পরিচিত চিত্রপট, আস্ত কুঁড়ে খায় 
দুপুরের কষ্ট চিনেছে সকাল ঘড়ি 
সময়ের সমানুপাতিক শান্ত স্রোতে 
চেনা আগুন… কতো পোড়ালে থাকে ছাই 

অবশিষ্ট ছাইভস্ম বোঝে পুড়ে গেলে 
যা কিছু থাকে তার ডাক নামই মোহ 
সন্দেহের ব্যতিরেকে রয়ে যায় ছায়া 
পিছু লাগা নক্ষত্র জানে পথের মানে 
রুক্ষ পাথরও আঁকতে শিখেছে প্রেম 
দেখো… ক্ষত নিয়ে লীন হওয়া আগুন

প্রকাশিতঃ বুক পকেট