Sunday, 20 March 2016
সিঁড়ি
Sunday, 13 March 2016
আকুতি
ইমেল নাঈম
খুলে যায় অলিখিত পর্দা, অর্গল ভাঙলো সুখে
জমাট স্তব্ধতা ছিঁড়ে খেলো দায়দায়িত্বের বোঝা
সত্য এড়াতে পারি না, আড়ালে হাসে বিধাতা
কিভাবে এলাম পাশাপাশি, জানে না দেয়াল ঘড়ি।
সবটা ছুঁড়ে ফেলে, ছোটার কোন ডাক নাম নেই।
এটাকে পাগলামো বললে বড্ড বাড়াবাড়ি হয়।
তবুও ঘোর। জাগে না সন্ধ্যা, বিকাল আসলে স্তব্ধ
হয়ে যায় সূর্য। থেমে যাও তুমিও—বিভ্রান্তি নিয়ে।
হাত রাখার মানে জানি না। হয়তো ধ্বংস যাত্রার
প্রথম স্তর, যুদ্ধের শেষে রক্তাক্ত শরীর থাকে...
এরপরে নতুন প্রস্তুতি, সেখানে স্পন্দন নেই
দৈনিক জীবনের আলাপ গিলে খাচ্ছে মৌন সুখে।
থামতে চাইলে এক তুড়ি। ছুটতে গেলে ডেকো না
পালাবার সূত্র নেই, আছে তীব্র দহনের খেলা।
Friday, 11 March 2016
আলোর ভিড়ে হারানো রোদ
ইমেল নাঈম
সকাল দশটা, কলেজ ক্যাম্পাস ব্যস্ত আঙিনা
মামার দোকানে ধোঁয়া ওড়া চা, বন পাউরুটির
ফাঁক গলে উঠে আসে এক শলাকা নিকোটিন...
মনে হয় কী যেন নেই আজ - সবকিছু ফাঁকা!
আজ কেনো সে এলো না? প্রশ্নের উত্তর নেই
তবুও জানতে ইচ্ছে করে। মুঠোফোনে মুখবইয়ে
উঁকিঝুঁকি করি সংকেত বা খবরের আশায়।
শরীর খারাপ করলো না তো? দৌড়ে জানতে
ইচ্ছে করে নিচের শ্রেণির রুটিন। বুকের বাঁপাশে
তুমিহীনতায় কেটে যায়, সংকোচ বেঁধে দেয় পা।
হঠাৎ করে একটি হুডখোলা রিকশা এসে থামে
তাও আবার মামার দোকানের ঠিক সামনে
একটি কোমল হাত পার্টস থেকে টাকা দেয়
মুখটা কার জানতেও ইচ্ছে করে না একদম।
চিন্তায় মাথা জ্যাম, অন্য কিছুর ভাবার সময় নেই
নামতেই আমার দিকে এক চিলতে হাসি
পিছনে বন্ধুদের অট্টহাসিতে টিটকারি ভাসে
নিজেকে সেই মুহূর্তে বড্ড রবীন্দ্রনাথ মনে হয়
তার হাসিটাকে মোনালিজা নয়, এরচেয়েও
সুন্দর যা অনুভব করা যায়, ব্যাখ্যা নয়।
অস্থিরতা নেমে যায় অদ্ভুত ভালোলাগায়
বালিকার চোখ ভাসতে থাকে দৃষ্টির সীমানায়।
Thursday, 10 March 2016
সায়কের জন্য কবিতা
ইমেল নাঈম
আপনাকে অনেক আগে সায়কের কথা বলেছিলাম
মনে আছে তো, নাকি ভুলেই গেছেন ব্যস্ততার মোড়কে।
কবিতা পাগল ছেলে। প্রায়ই বলতো কম লিখছি,
বেশি লিখা আমার আসে না। একটা কবিতা লিখতে
বসলে প্রচণ্ড মাথাব্যথা আর মনে দ্বিধা কাজ করে।
আর দ্বিধার বশে একের পর এক শব্দ বসাতে থাকি
কিন্তু সহজ শেষ লাইনটা আর আঁকতে পারি না।
ছেলেটি দারুণ লিখতো। প্রায় বলতাম লেখা ছেড়ো না...
মাঝে অনেক দিনের এক যাত্রাবিরতি। কোনো খবর নেই
প্রযুক্তি কখনো মানে নি কাঁটাতার। আমার তো পাখি মন
উড়ে বেড়ানোর খুব সাধ। শুধু ক্ষমতার অভাবটুকু
জানান দেয় যোগ্যতার বিন্দু। কখনো দেখা হয়নি,
তাকে আমি অনুভব করি অকৃত্রিম এক বন্ধু আমার।
অনেকদিন বাদে ইমোতেই কথা হলো আবার।
বদলে যাওয়া সায়ক কে দেখে নিজেই চমকে উঠি।
কবিতা পাগল ছেলেটি এখন আর কবিতা লিখে না
তার ব্যস্ত সময় কাটে ছোট্ট একটা ব্যবসা প্রতিষ্ঠানে
সে রেইলের টিকেট কাটে, বিদ্যুৎ বিল পরিশোধ করে
ইএসবি ফ্যাসিলিটি দেয়, কিন্তু কবিতা লিখে না একদম
শুধু জেনে রাখুন সায়ক একসময় দারুণ কবিতা লিখতো
সে এখন ভাতের হিসেবটুকু লিখে রাখে খাতায়...
এর বাইরে নতুন করে একটি শব্দও লিখে না
আপনাকে তো অনেক আগে সায়কের কথা বলেছিলাম।
Tuesday, 8 March 2016
বার্তা
শব্দহীনতা খুব প্রিয়, তাই আটকে দিতে চান কণ্ঠ
পৃথিবী নির্বাক হলেই আপনার সুখ,
অন্য মতামতকে চাপিয়ে দিন ধর্মের মোড়কে
নিরপেক্ষতার জায়গায় বসিয়ে দিন অনুগত চর।
দিনে দুপুরে জিভ কাটার বিল মাত্র পাঁচ লাখ।
ধর্মের মোড়কে রেখে দিন সবটুকু মানবতাবোধ
আস্তে আস্তে প্রসার বাড়ুক জাতীয় দাঙ্গাবাজ
ধর্ম নামক মাদকের প্রসারে বাড়ান ভোট
জিতলেই শুরু হবে নতুন কোনো উন্মাদনা।
পেটোয়া বাহিনী আছে, আছে অন্ধভক্তের দল।
পিটিয়ে উড়িয়ে দিতে পারেন অন্য দলের লোক
সমস্যা নেই সুনিপুণ ভাবে বাড়ছে সেই সংখ্যা,
দুর্নীতি নিয়ে কোনো কথা নেই, সন্ত্রাসবাদ তো
নিজের মাঝেই লুকিয়ে, গড়ে তুলেন মন্দির...
গির্জা জ্বলুক আগুনে, গরুর নামেই নগ্ন দলিত।
রাত ফুরলেই আইনজীবীর দল আইন ভুলে
সন্ত্রাস হয়ে ফিরবেন ঘরে, এরপর অত্যাচার
নিপীড়ন, এতো অনেক সহজ ঘটনা।
আমরা ভুলি না নিপীড়ন, দুঃখ ক্লেশের দিন।
অন্যায়ে চুপ না করার অভ্যাস আমাদের পুরনো
চাইলেই আপনি বদলাতে পারবেন না ঐতিহ্য।
রক্তস্রোতে ভেসে যাওয়া আমাদের এই ভূমিতে
কাঁধে রাখা কাঁধ গড়ে তুলেছে বিশাল প্রাচীর
বিশাল রক্তস্রোতের বিনিময়ে লিখা ইতিহাসে
সমূহ পতন বোঝে না নেশায় আচ্ছন্ন গিরগিটী।
Thursday, 3 March 2016
বোধ
ইমেল নাঈম
আছি, শব্দটি আবেদন হারালে অনেক শব্দ টেক্সটবুকের
ভারি শব্দের মাঝেই খুঁজে পাওয়া যায়, যদিও বাস্তবতা
অস্বীকার করতে করতে নিজের নগ্নলেজ টুকু বেরোয়
অচেতন অবয়বে—এই নিগূঢ় বাস্তবতার কোনো উত্তর নেই।
প্রশ্ন কোরো না পুনঃপুন, এতো প্রশ্নোত্তর শিখি নি
উত্তর দেয়ার আগে ভাবতে দাও, থাকার উপকারিতা
না থাকলে কীইবা এমন ক্ষতি, প্রাপ্তির মোড়কে
ভুলভাল শব্দের কাছে গচ্ছিত আছে অনেক ঋণ
তীব্র দহনের পরে ছাইও মাঝেমাঝে দলিল হয়ে ওঠে।
অনেক গল্পের শেষে সেখানে আবছা প্রবঞ্চনা থাকে
এতোটা সূক্ষ্ম অবয়বে কেউ আঘাত করে নি আমাকে
বিষণ্ণতায় ঘুমের ট্যাবলেটেরও থাকে নিরবচ্ছিন্ন অবসর
অবসাদের ভাষা শিখতে বসেছে একুরিয়ামের গোল্ড ফিশ
এরবাইরে দিনগুলো সাদামাটা। এই থাকা — না থাকার
তফাতে টিকিয়ে রাখতে পিছাতে পিছাতে শক্ত দেয়ালের
খোঁজ পেয়ে যাই। অথচ জ্বলে পুড়ে যাওয়া ছাইগুলোর
নীরবতা একবারও ভাবায় নি আমাকে। আমি আছি...কিন্তু...
স্থান, কাল, পাত্রভেদে অনুভব করতে পারছি না একদম।
Monday, 29 February 2016
চৌকাঠ
মেঝেতে শুকিয়ে পড়া পাপড়ি, তুমি কার কথা বলো?
ওই যে রোলিং চেয়ার, তাতে যে ষোড়শী দোল খেতো
তার ছুটি মিলেছে অনেক আগে। এখনো অপেক্ষায়!
না চাইতেই ছুঁড়ে ফেলা যায় যাকে, তার জন্য এভাবে
বসে থেকো না আর। এরচেয়ে চলো পাপড়ি সরাই
মরে যাওয়া স্মৃতিদের সরিয়ে দিই আমরা একসাথে
ভুলে যেও না, কিছু স্পর্শ যা মোছে না আপনাআপনি
ঘর জিনিষটা খুব অদ্ভুত, সব আঁকড়ে ধরার প্রবণতা
আমাদের প্রান্তিক উঠোন, খুব একটা ধুলো জমে না
তবুও আমরা প্রত্যহ ঝাড়ামোছা করি রুটিন মাফিক,
এতে ক্ষতস্থান গুলো প্রকটভাবে দৃশ্যমান হয়ে ওঠে
রোলিং চেয়ারে মাঝেমাঝে কীসের ছায়া খুঁজে পাই
মেঝেতে শুকিয়ে পড়া পাতারা জানে না ইল্যিউশন
আমিও ছুটতে ছুটতে পেরিয়ে যাই অন্য চৌকাঠে।
Saturday, 27 February 2016
প্রাতঃভ্রমণ
এখানে গাছের আড়ালে যে সকল যুগল
প্রকাশ্যে চুমুটুমু খাচ্ছিল, তাদের বাঁধা দিই নি।
আমি শুধু বাগানের ভিতর দিয়ে হেঁটে আসি
হাঁটতে হাঁটতে পেরিয়ে যাই সবটা আড়াল পথ
মাঝে মাঝে মনে হয়, কাউকে ঠিক তোমার মত
এরপরও আমি হাঁটতে থাকি এই পথ জুড়ে
জানুয়ারি মাসে ব্যাপক তুষার জমে এখানে
বৃক্ষাদি লজ্জাহীন হয়, শীত প্রবণ কাতরতায়
তখনও পলাশ বাগানে হাঁটতে বের হই একা
দেখি তাদের চুম্বনে এখানে নদীটি মরে গেছে...
Friday, 26 February 2016
কবিতা যাপন
গত বসন্তে যেই লোকটি ভুল করে ঢুকে পড়েছিলো এলিট শ্রেণির সম্প্রদায়ে। তাকে ধ্বসে দেয়ার খেলায় নির্ভুল গুটি চালানোয় পারঙ্গম খেলোয়াড় ঠিকই মিলে যাবে। তারাই হাসতে হাসতে সাহিত্য রক্ষায় নামেন প্রতিনিয়ত। হাস্যোজ্জ্বল ভাবেই ব্যক্তিসম্পর্কের জের টানতে থাকেন, যেন কমার্শিয়াল মুভির শেষ দৃশ্য। আর সম্পর্কের এদিক সেদিকের সূক্ষ্ম ট্রাজেডিটা কেউ দেখে না। অনেকেই জানে না গভীর দুঃখ থেকে উড়ে আসা হাসির রহস্য।
কর্ণফুলীর জলে লীন হবারও কিছু স্বপ্ন থাকে। সেগুলো বিনা অনুমতিতেই ছিন্নভিন্ন করে ফেলে আমাকে। সুযোগ পেলেই কাঁটা ছেঁড়াই তাদের একমাত্র কাজ। আমি নির্জনতা বিলাসী। নির্জনতা পেলেই আমি ধ্যানে বসি। শব্দের সাথে গড়ে তুলি তীব্র সহবাস। এরপর জন্ম নেয় আমার অপরিপক্ব শস্য খেত।
আমার শব্দমালা। আমার কবিতারা। বাণিজ্যিক মোড়কে আর কত অপমান সহ্য করবো। কর্পোরেট কালচারে আর কতো অপমান সহ্য করলে রূপকথা সত্য হয়ে ধরা দ্যায়।
বলো...
পর্যায়কাল
শোনো, তীব্র দহনের পর শুদ্ধ কোনো সুর থাকে না...
আমরা এখনো ছোটোবেলার মতো মারবেল খেলি,
খেলার উপকরণ বদলাতে থাকে। যদিও স্বপ্ন'র আঘাতে
জর্জরিত হতে থাকি দিনভর। আজ শহরে বৃষ্টি নেই।
গতকাল ভিজে গেছে আমার শহর। রাজপথ ধরে নৌকো
ছুটে চলেছিলো, আর তোমার কারণে অকারণে ছোটাছুটি
বন্ধ করে বাধ্যগত ছাত্রীর মতো কাঁথা মুড়িয়ে বৃষ্টি বিলাস
উৎযাপন টা মন্দ নয় । এই সময় খুব মিস করি মফঃস্বল।
টিনের টুংটাং শব্দ ঝুম বৃষ্টিতে অনেক কথাই মনে পড়ে
বেলায় অবেলায় কিম্বা অবহেলায় যাদের হারিয়েছি
তাদের ভুলতে গিয়ে আরো জড়িয়ে যাই মায়ায়। মিথ্যে
মায়ার বাঁধনটুকু আলগা হয়ে খসে পরেনি কখনো।
কবিতা কবিতা খেলতে খেলতে অনেক সময় চলে গেলো
দিনের পর দিন ব্যর্থ প্রলেপে সময় পার করেই দিলো
অবহেলিত কলম, খাতা, মোবাইল, নোটপ্যাড, ল্যাপটপ।
ওদিকে তুমি এখন হেঁসেলে চুল্লিতে আগুন পরিমাপ করো
অনুশাসনের নিয়মে নিয়মিত কাঁচাবাজারের ফর্দ লিখো
এর বাইরে কোনো কিছুই লিখো না...এমন কি কবিতাও।
Thursday, 25 February 2016
জলজ জীবন
জলজ জীবনচক্রে যে সকল জলফড়িংদের নিয়ে বিস্তর আলোচনা হয়, তার অনেক বেশি জলফড়িং টিকে থাকে আলোচনা থেকে বহু দূরে —নিভৃতে। কেউ জানে না এদের কোনো খবর। তবে আশাব্যঞ্জক খবর কুমির, হাঙ্গর আর তিমিদের সমাবেশে কেনো জানি এই ফড়িংদের গল্পই ফুটে ওঠে বারবার।
Wednesday, 24 February 2016
প্রথম দেখা
বন্ধুদের বাড়াবাড়িতে মিলিয়ে গেল মুহূর্তেই।