Tuesday, 7 June 2016

প্রতিবিম্ব

প্রতিবিম্ব
ইমেল নাঈম


সময়ের দিব্যি। ভুল পথে চলে এলো শব্দরা। এভাবে চাইনি, এইটুকুন পরিমাণেও নয়, হিসেবের খাতায় ভুল বৃত্ত আঁকা ছাড়া আমার তেমন কোনো কাজ নেই। সৃষ্টির নেশাতে বুদ হবার সম্ভাব্যতা শিখে নি কলম। কলমদানি জুড়ে শুধুই হাহাকার - ব্যথায় রক্তাক্ত হয়ে ফিরছে। সবটুকু প্রকাশিত নয়, অনেক গল্প থাকে অব্যক্ত। শিহরণ কাটতে কাটতে ফিরে যায় কিশোর উপন্যাসে। অল্প করে প্রতিদিনই আহত হই, সময়ের সরল রেখায় তা বৃদ্ধি পেয়ে সৃষ্টি করে অনেক বড় পরিসর। ছুটে চলার মানসিকতায় ভাটা পরে না দৃষ্টির সীমানায়।

আকাশ ভালবাসি, নীলরঙও আমার অনেক প্রিয়। জানিনা বিষণ্ণতার সাথে নীল কে কেনো মিলিয়ে নেয় সবাই। হয়তো আকাশের বিশালতায় শূন্যতা লুকিয়ে। আমি বুঝতে পারিনি কিম্বা বুঝতে শিখিনি। পত্রিকার পাতার হাহাকার দেখে ভাবি আকাশ দেখা অনেক মঙ্গল। গ্রীষ্মকালীন আকাশে খুব একটা মেঘ থাকে না, সাদামাটা আকাশ দেখতে কোনো সুখ নেই, যদিও মন্দের ভালো হিসেবে মেনে নিয়েছি তাকে।

ঋতুপরিবর্তন চোখে পড়ে তোমার। আমার পরিবর্তন কিম্বা তোমার নিজস্ব পরিবর্তন; সেগুলো কখনো মেপে দেখো নি খাতা কলমের ব্যকরণে। স্পর্শকাতর বিষয়াদি নিয়ে বেশি খোঁচাতে নেই। রক্তাক্ত হয়ে যেতে পারি তুমি আমি দুজনেই। এরচেয়ে ভালো মুখবইয়ের বিজ্ঞাপন মুখস্ত করি। নানান মুখ দেখো, পরিমাপ করতে শেখো মানুষকে। মুখোশ দেখো, রঙ খেলানো বিবর্ণ চেহারা দেখো। আতঙ্কিত হয়ো না দেখে। আয়নার সামনে দাঁড়াও, পলেস্তারা খসে পড়া নিজেকেই দেখবে অসময়ের মারপ্যাঁচে।

Monday, 6 June 2016

আকাশ

আকাশ
ইমেল নাঈম

নামহীন শহরে কেউ পথ হাঁটে অকারণে
কারো স্পর্শে লেগে থাকে একবিন্দু সমবেদনা
ছিঁড়ে ফেলা প্রশ্নপত্রে প্রণয় থাকে লুকিয়ে
এরবেশি জানায় নি আমায় শরতের আকাশ

উড্ডীন্ন পাখিদের ভিড়ে আবেদন থাকেনা,
প্রলেপে আটকে গেছে সময়ের হিসাব,
স্বপ্নের পরিসীমা আঁকতে গিয়ে বাচ্চা শিশুর
রঙ পেন্সিল হারানোর তীব্র কষ্টের গল্পটা
বেশিরভাগ সময় চোখের জলেই আঁকা হয়।

বিচ্ছিন্ন দ্বীপের মতো আমরা খুব আলাদা
সবাই পাশে কিন্তু কেউ কারো কাছে নই
দুই হাত পার্থক্যেও একটা বিশাল গল্প থাকে

কেন্দ্রীভূত স্বপ্নের বুকে হাহাকার জন্মায় নি
সেখানে আমাদের ঈর্ষান্বিত হবার কথা নয়
বরফ জমলে এখানে পশ্চিমা টোন বাজেনা
তবুও টানাহ্যাঁচড়ায় একটা মধ্যাহ্ন বিন্দু থাকে

আমার আকাশ আর কতই বড় হতে পারে,
তবুও সেখানে নিয়ম করে সকাল আসে।

Saturday, 4 June 2016

ইমেল নাঈম'র যুগল কবিতা

অসুখ

ছিপ ফেললেই উঠে আসে না কিছুই
উৎকণ্ঠা নিয়ে পেরিয়ে যায় সুর্য
ভরদুপুরে তেমন তাড়া থাকে না

বুক পকেটে লিপস্টিকের দাগটি
শুকিয়ে যায় অভিযাত্রিক পথে
আমার পথ চাওয়াতেও সুখ নেই

কৌণিক হিসাব অনুসারে বিকাল
নামলে ছিপ তুলে বাড়ী ফিরে যাই...
ঝোলায় ঝুলছে কেবল শূন্যতা

জামার লিপস্টিক শুকালেও সন্দেহ
করে না এখন কেউ আমাকে, কিন্তু
মনের ঘরে পাপবিদ্ধ হচ্ছি প্রতিমুহূর্ত।

বর্ষাকাল

একটা ছেলে সবুজ রঙের বৃষ্টি আঁকছিল
তোমার উঠোনে, হয়তো দেখেছিলে
তার রঙ পেন্সিলজুড়ে লেপটে থাকা
প্রেমের উপাখ্যান। ছেলেটি আর আসেনা।

বৃষ্টি নয়, প্রেম আঁকার পর চলে গেল
যাবার সময় ফেলে গেলো জলতরঙ্গ...
পট আর জলরঙ বৃষ্টিতে ভিজেনি এখনো
ছেলেটি প্রেম নয় বৃষ্টি আঁকতে এসেছিলো

তুমি অপেক্ষায় থাকতে থাকতে খেয়াল
করলে না কখন যে বর্ষাকাল চলে এলো।

Friday, 3 June 2016

নদীজন্ম

নদীজন্ম
ইমেল নাঈম

বৃষ্টি হলেই আমার পোষা বিড়ালটি জানালার সামনে করুণ চোখে তাকিয়ে থাকে। তার দৃষ্টি দেখে অনুমান করি পাপের জন্মে সে হয়তো কবি ছিলো। রাস্তার দিকে তাকিয়ে সে কি দেখে সেটা আজও বুঝতে পারি নি।

আমি পিছনে আরাম কেদারায় বসে হাই ভলিউমে পুরনো দিনের গান চালিয়ে ভাবতে থাকি হারানো দিনের গান আর হারিয়ে ফেলা সময়ের গানের পার্থক্য। এরই মাঝে ভিতরে একটা নদী জন্মের গল্প শোনা যায়। নদী নিয়ে ভাবি না। আমি ডিঙি নৌকার জীবনী নিয়েই বেশি আগ্রহী।

এরই মাঝে একজন বয়স্ক জেলের সাথে দেখা হয়ে যায় কল্পনায়। জাল ফেলে বন্দী করে নিচ্ছেন আহার। হাটবারে বেচাকেনা হলেই ওনার ঘরে সপ্তাহের মোটা চাল আর ডাল কেনার সম্ভাব্যতা মিলে যায় শতভাগ।

এসব ভাবতে ভাবতে মাছেদের কথা মনে পড়ে। মাছ হয়তো জানে না তার সাথে জেলের সম্পর্ক? অথচ নদী সে শিখে নিয়েছে সবকিছু। তাকে নিয়ে কখনো কবিতা লিখি নি।

জানালায় বৃষ্টি দেখতে গিয়ে আমিও হঠাৎ একটা নদীজন্ম অনুভব করি।

Tuesday, 31 May 2016

স্পর্শ

স্পর্শ
ইমেল নাঈম 

কলম পুষে রাখে অস্বস্তিকর কিছু মুহূর্ত। লিখতে চাইলেও লেখা যায় না অনেক কিছু। যতি চিহ্নের খামখেয়ালিপনায় নিজেকে গুটিয়ে নিই শামুকের খোলসে। দাঁতে দাঁত চেপে শরীরের উপর দিচ্ছি অমোচনীয় প্রলেপ। মান অভিমানের অপঠিত অধ্যায় নেই আহত জীবনের পালকে।

অবিধানে প্রেম শব্দটা আজও অব্যাখ্যাত, বড়োজোর উষ্ণতা খুঁজতে গা ঘেঁষে থাকা ছাড়া নতুন কোনো শব্দ নেই। এটুকুতেই পাড়ি দিয়ে দিচ্ছো মহাদেশ। মুখে একদানা শস্য, আর তাতেই রটে যায় প্রেম কাহিনী। সেখানে চলে তৃমাত্রিক এনিমেশন ফিল্ম। আমাদের প্রলেপ শক্ত হয়ে ওঠে ফ্যান্টাসি খুঁজতে খুঁজতে।

সাহিত্যের পাতায় অমর সব সৃষ্টি বিরহের। অতো ফ্রাস্ট্রেশন বুকে চেপে কিভাবে পাতার পর পাতা লিখেছিলেন, সেটা সত্যি চিন্তার খোঁড়াক দেয়। প্রেমহীন জীবনে চড়ুইভাতির আয়োজন করি কালবোশেখির দিনে। বলতে না পারার অংকে আমিও ফেইল করা কোনো ছাত্র। নিজের ভবিষ্যৎ নিয়েই ভ্রুকুটি এখনো সংকুচিত করি নি।

একা থাকা আর একা রাখার মাঝে তফাৎ গড়ে দেয় স্পর্শ।

দৌড়

দৌড়
ইমেল নাঈম

সমুদ্রের বুকে একটা স্পন্দন লেখা থাকে। ঐকতানে বেঁধে দেওয়া সুর টুংটাং শব্দে খেলে যায় দূরের পথে। ক্লান্তি আজ একাই খেলছে খেলাঘরে। নিক্বণের শব্দ পাঠ নেই। নেই নীরবতা ভাঙানো স্রোতের কণার উল্লাস। ফেলে আসা সবটুকু যেনো মিথ্যে পরিচয়। একটা পৌরাণিক ব্যাপার হয়তো লুকিয়ে। স্প্যানিশ গিটারের ধ্রুপদী শব্দ নেই, একই বৃত্তে ঘুরপাক খাচ্ছেন নিলয় কুমার দাশ। ঈশ্বরের কোনো কাজ নেই, দীর্ঘ ভ্রমণ শেষে এক প্রশান্তির ঘুমে ব্যস্ত। 

সাগর পাড়ে একা কেউ আসে না। যখন আসে তখন আঙুলে ঝুলতে থাকে কৃষ্ণচূড়া ফুল। এর বাইরে কেউ এতোটা রোম্যান্টিক হতে শিখে নি। ছুপছুপে বৃষ্টি নামলে চুপচাপ ভিজতে থাকে গিটার। গানের গলা নেই, বুকে প্রেম আছে অলিখিত। দৃষ্টির অগোচরে স্বপ্নের পরিসীমায় ত্রিকোণমিতির সূত্র আঁকতে বসেন নি মিসরীয় কুমারী। এরকম অজস্র সুপ্ত অথবা প্রকাশিত কোনো প্রেমই পাঠ্যবইয়ের সিলেবাসে পাওয়া যায় না। 

ঐতিহ্যগতভাবে কোনো স্বর্ণযুগ নেই পৃথিবীর। যেগুলো আছে তার গায়েও চুনকাম করে দেয়া যায় অর্ধ-অবচেতন সুখে। প্রেম নিয়ে সবগুলো কবিতাই যেনো কক্ষপথ হারিয়ে পৃথিবীতে নেমেছে। এরপর মানুষের মাঝে চাষাবাদ, ধীরে ধীরে গ্রাস করেছে সবটুকু সত্ত্বা। আমি বা আমার প্রাক্তন প্রেমিকারা কেউ কখনো প্রেম শিখে নি। 

আর না শেখা জিনিসের পিছনে এখনো সবাই দৌড়চ্ছে সময় আর অসময়ের মারপ্যাঁচে।

বিষণ্ণতার ক্যানভাস

বিষণ্ণতার ক্যানভাস
ইমেল নাঈম

মৃত্যুকে ছুঁয়ে দেখি। প্রাণহীন অশ্বথ গাছে লেখা থাকে ইতিহাস। লাকড়ির চুলোত বেঁধে রাখা প্রেম আর অভিমান। আকাশটা বড় বেহায়া। শরতের মেঘ কেটে উড়ে বেড়ায় বর্ণিল ঘুড়ি। ঘুড়ির যত গল্প তার পুরোটা আমিময়। নিজস্ব বিজ্ঞাপনের বাজারি কোনো শব্দ থাকেনা, মান অভিমান নিয়েই লিপিবদ্ধ সামাজিক ক্যানভাস।

অবসরে আকাশ আঁকি। সবুজ রঙা আকাশ কালচে মেঘে ঢেকে দিই। ফুরিয়ে গেছে আনন্দের যত আয়োজন। কতদিন রোদ বৃষ্টিতে ভেজেনি পড়ন্ত বিকাল। ছবির মতো মুখ, তেলরঙের আঁকিবুঁকি। অন্যরকমের মায়া, অথচ মুখে কোনো হাসি নেই। শুকনো মুখ আটকে রেখেছে এক বিকেল অভিমান।

অভিনয়ের সংলাপ মুখস্থ করি, আওড়ে চলি আয়নার সামনে। কথার পিঠে চড়ে পেরিয়ে যায় সময়। সামনাসামনি হলেই ভুলে যাই উদ্দেশ্য - বিধেয়। ব্যাকরণ বুঝি না ঠিক, সময়ের নির্যাসে রাখিনি হাত কোনো হাতে।

ফাগুন বিলাস নামক কোনো অসুখে আক্রান্ত করি নি নিজেকে। পিছুটান আর মেঘ পোড়ানোর গল্প, আসি করেও না আসা একটা প্রতিবিম্ব, কিম্বা বোঝার আগেই নীরব প্রস্থান, সেই গল্পগুলো অমীমাংসিত থাকুক....

....ইদানীংকালে, পৃথিবীতে প্রতিদিনই একটা বিষণ্ণ সন্ধ্যা নেমে আসে।

Saturday, 28 May 2016

পতন পরিক্রমা

থেমে যেতে হয়... নদীর পারে নৈঃশব্দ্যের জয়গান। নেমে যাও ধীরে — পতনের শব্দে যেন ঘুম না ভাঙে গায়ক কোকিলের। ঝিঁঝিঁরাই জানে কারা যেনো আততায়ী বেশে বসন্তের নীল সীমারেখার পা ভেঙে খোঁড়া করে দিয়েছে বৈচিত্র্যহীন সন্ধ্যায়।

স্বপ্নের বাসরে কার্বন ডাই অক্সাইড খেলে যায় অবলীলায়। হড়কে ওঠা সময়ের বৃত্তে আটকে গেছে ঋতু। পা ফসকানো পর্বতারোহীর পতনে কোনো লাইট... ক্যামেরা... অ্যাকশন... থাকে না। পতনের পরে কাট শব্দটি উচ্চারণ করে কেউ হাতে তালি বাজিয়ে শুভেচ্ছা জানায় না। এই ধরনের দৃশ্যের গোপন দর্শক খুব বেশি।

এরকম অদৃশ্য কাটাকুটি শেষে ব্যক্তিগত শব্দটাকে ক্যামন অচেনা লাগে। গ্রামের ভগ্নাংশ বিদ্যায় মুখস্থ করে নিচ্ছি বোকা বাক্সের সকল বিনোদন। বৃক্ষের কাছে নতজানু হতে গিয়ে মুষড়ে পড়ি অনির্বাণ সুরে।

শৈশবে মুখোশ আমার খুব প্রিয় ছিলো। বনের পথে মৌয়ালদের ছুটোছুটিতে দেখতাম। মুখোশ মুখের পিছনে বাঁধা। মুখ সামনে, ঠিক তার পেছনেই  মুখোশ.... দৃশ্যটা এখনো চোখে বাজে।

বর্তমানে প্রাকৃতিক মুখোশের ব্যবহার দেখে থমকে যাই। বৈসাদৃশ্য শুধু একটাই। মুখোশ সামনে মুখ পিছনে। আর এই জিনিসটা বোঝার জন্য আপনাকে একবার পর্বতারোহণ করতে হবে।

Wednesday, 25 May 2016

মনোভাব

মনোভাব
ইমেল নাঈম

মুখোশের আড়ালে লুকিয়ে আরো একটা মুখোশ
হাসির আড়ালে চাপা পড়েছে অনির্ণীত দুঃখ
প্রশ্নের বিপরীতে প্রশ্ন করতে ভুলেছে নবীন মুখ
ফানুশ ওড়ালেই ষোলকলা পূর্ণ হয় সবার
পরাজয় মানতে শেখেনি শরতের মেঘ
শুধু জেনেছে অচেনা গন্তব্যে ভাসিয়ে দিতে

মুখবইয়ের বিজ্ঞাপনে ঢেকে যায় উচ্ছল মুখ
রকমারি চাকচিক্যে ডুবে যায় অচেনা মানুষ
শরীরকে পণ্যের বেশি ভাবতে শেখেনি মধ্যবিত্ত
প্রেম শব্দে আধুনিকতার নামে হন্তারকের সাথে
সাক্ষাৎ হতে পারে আর্টেফেসিয়াল সুন্দরীর

সম্ভবত এর বাইরেও দেয়া নেওয়া চলতে থাকে
ইচ্ছেবশত ভুলে যাই মন নামক শব্দের উপস্থিতি
মাঝেমাঝে পত্রিকার পাতায় ভাসে স্বেচ্ছামৃত্যু
দোষ খুঁজতে গেলেও অপরাধীর তালিকায়
বেঁচে থাকা মুখ নয়, মৃত মুখটি সামনে আসে।

অদ্ভুত হলেও সত্য, অনিশ্চিত যাত্রা তাকে একটু'
স্বাধীনতা দেয়নি, বাঁচার সময়ে জিততেও শেখায়নি।

Tuesday, 24 May 2016

হত্যার গল্প

হত্যার গল্প
ইমেল নাঈম

একটা সম্ভাবনা আর তাঁকে ছুঁয়ে থাকা কোমল লিলি
প্রেম আর কামের মধ্যস্থতায় অনাবিল মেঘমেদুর
সকালের বৃষ্টিস্নান শেষে পিয়ানোর সুরে নতুন
কোনো অভিব্যক্তি থাকে না। সঙ্গীতের ঝঙ্কার শেষে
মধ্যাহ্নের ভাতঘুম। লারেলাপ্পার জীবন আয়োজন।

স্বপ্নের ঘোরে কত কী দেখা হয়ে যায়, অর্ধ অবচেতন
শরীরে কবিতা এসে দোলা দেয়, চোখ খুলে দেখতে
ইচ্ছে করে না। সময় বাড়লে কবিতা ফিরে পিছনে
ওয়ার্ড ফাইল জুড়ে সাদা পাতা, কোনকিছু লেখা নেই
আমি মৃত্যু দেখি অনেক শব্দের, অনেক কথামালার...

অবিশ্বাস্য হলেও সত্য, অনেক শব্দকে মেরে ফেলি
নিজেকে মোটেও হত্যাকারী মনে হয়না, সৃষ্টি সুখে
খুনকে জায়েজ ভেবে বসেছি অনেককাল আগেই
অপরাধবোধকে নান্দনিকতার ভাষায় লেপটে দিই
মেদহীন জিরো ফিগারের অবয়বে ঝুলছে সৃষ্টি
কষ্টের কোনো সুরঙ্গ থাকে না, তারা ধুঁকছে ভিতরে...

সকাল হলে আমি ভুলে যাই অদৃশ্যমান হত্যাযজ্ঞ
অজস্র শব্দের মৃত্যুর বিনিময়ে কবিতার জন্ম,
নান্দনিকতার অবয়বে আমি এখন প্রাণ খুলে
হাসি, কাউকে বলি না অনিচ্ছাকৃত হত্যার গল্প...

Sunday, 22 May 2016

ক্যানভাস

ক্যানভাস
ইমেল নাঈম

মাঝেমাঝে দেখা হয়, এরপর নির্বাসনে কাটতে থাকে
সাক্ষাতবিহীন হেমন্ত। দক্ষিণা বাতাস দালানকোঠায়
বাড়ি খেয়ে গতিপকৃতি পালটায়। প্রেমিক কম্পাস
হাতে দিক নির্ণয়ে ব্যস্ত খোলা চোখের ইশারার।

দৃষ্টিকে পটে আঁকতে চেয়ো না, চোখ পড়ার
ব্যাকরণ আজও আবিষ্কৃত হয় নি। আটপৌরে
দৃশ্যগুলো অকালের বৃষ্টিতে ভিজে মিশে একাকার
ঋতু বৈচিত্র্য হারিয়ে স্বপ্নহীন দু'চোখ জল রঙা
দৃশ্যপট আঁকতে আঁকতে বুঝতে শিখেছে ক্লান্তি

পরিব্রাজন শেষে আমাদের উঠে দাঁড়াতে হয়
হেমন্ত আর ঘরে ফিরে আসে না, জলের উপরে
প্রতিবিম্ব নেই, সবটুকু গ্রাস করেছে আমার।

তুমি চোখ আঁকতে যেও না; অতো পরিপক্বতা লাভ
করে নি চিত্রকলা, একনাগাড়ে দহনের দিকে দেখো,
কত সুন্দর টকটকে লাল দাগের আঁকিবুঁকি...
কত মোলায়েম উথলে পড়া আর্দ্র রঙচ্ছটার অবয়ব...

তুলির আঁচড় কাটলে এখানে রক্তক্ষরণের জন্ম হয়।

Saturday, 21 May 2016

সীমা পরিসীমা

সীমা পরিসীমা
ইমেল নাঈম

শূন্যস্থানের সামনে দাঁড়িয়ে অযথা সময় নষ্ট কোরো না
একক চিত্র প্রদর্শনীর শেষে মন্দলাগা রোগে চেপে ধরে
চারপাশে যতটা সবুজ তার সবটাই যনো অসহনীয়...
রূপান্তর ঘটাতে ঘটাতে হারিয়ে গেছে মঞ্চের নায়ক
মেঘলা দিনের সংলাপ, আমায় নাড়িয়ে দিয়ে যায়।

অর্থহীন কিছু শব্দের মানে খুঁজি, কৈশোরের ফেলে
আসা রঙপেন্সিল, অংকের খাতা এখনো বেড়াতে
আসে আমার চারপাশে। আমি বৃদ্ধ হয়েছি- মানতে
চায় নি সবুজ ঘাসফড়িঙ। গ্রাম্যপথ ভগ্নাংশ শিখেছে
ইটের সলিং, পেয়ারা বাগান, টিনের ভাঙা ইশকুল বাড়ী
লুকিয়ে লুকিয়ে আমাকে সাঁঝ বিকেলে প্রেম শেখায়।

মফঃস্বলের আকাশ খুব ছোটো, অল্প কিছু ঘুড়ি ওড়ে
আমার কৈশোর কেটেছে ঘুড়ি গোণার নামতা বিদ্যায়
অল্পতেই তুষ্ট তাই পেরিয়ে যায় সময় দ্রুত, বড় হচ্ছে
ক্ষুদ্র আকাশ। অংকে পাকা কিন্তু গুণতে ভুলে গেছি,
আমি অংক করি কিশোর আকাশের বড়ো হবার,
আর উত্তর এলেই ছিঁড়ে ফেলে দিই প্রাপ্ত ফলাফল।

অবাক হয়ে ভাবি, এই সীমা পরিসীমার অদল বদল...

Thursday, 19 May 2016

ব্যাখ্যা

ব্যাখ্যা
ইমেল নাঈম

স্বপ্নের বুকে হাতকড়া, অবশিষ্ট কোনো শব্দ নেই
ছাড়তে গেলেও বাঁধা, কুঁকড়ে খায় নীল ফানুস
মায়া - অমৃত অসুখে বেঁধে রেখেছো চারপাশ
স্বপ্ন দেখি না, তাই কবিতাগুলো ভীষণ প্রাণহীন।

ভাতের অংকে কোনো রোমান্টিসিজম থাকেনা
ফার্সি ভাষার দুঃখকে বাঙলায়ন করতে থাকি
এই দেখো আমিও বৃষ্টির মতো দুঃখ বিলাসী
নানান রঙের ও বর্ণের দুঃখের প্রদর্শনী চালাই।

এতোটা হিংসুটে বুকে ভালবাসাটুকু খুঁজি নি
খুঁড়তে বসলে খুব গভীরের প্রত্নতাত্ত্বিক নিদর্শন
ছিঁড়েফুঁড়ে বেরিয়ে আসে - এখান প্রায় সবাই
ইতিহাস ইতিহাস করে মরছে। আমি বর্তমানের
পথে প্রান্তরে অকারণ  ঘোরাঘুরিতে বড্ড ক্লান্ত।

নিজেকে বৃদ্ধ, পরিশ্রান্ত ভাবলেই আমার কানে
অ্যান সেক্সটেনের অট্টহাসি ভেসে আসে।
আমি এই হাসির পিছনে গোপন সূক্ষ্ম দুঃখকে
বোঝার চেষ্টা করি - ব্যাখ্যা করি নানারকম।

দুঃখ নিয়ে বলতে গিয়ে একটা কথা বলতে
ভুলেই গেছি, অতীতে আমার নামে সুখ ছিলো
যাকে এখন আমি দুঃখের জননী বলেই ডাকি।