Sunday, 3 July 2016

হিজরত

হিজরত
ইমেল নাঈম

চারপাশটাকে খুব অচেনা লাগে, নিজের সাথে লড়তে
থাকা সর্বহারা যোদ্ধার শেষ রক্তকণাও খসে যায়
মুখ খুলে তাকাতে ভয়, অস্বীকার করতে হয় সত্য
জানলে হারিয়ে যায় আমাদের আনন্দ আয়োজন
এখানে থেমে থেমে বৃষ্টি নামে, দিন বদলায় অকারণে।

সরাইখানাকে র‍্যাড দিলে ভাল খাবারের সন্ধান মেলে
অপ্রতুল চোখ, ক্ষুধার্ত পেটে দু আনা দানা জুটলেই
ভুলে যেতে পারি অতীতের শীতনিদ্রার দুঃস্বপ্ন'র গল্প
সেই সাথে জুটে যেতে পারে, আগামী দিনের ঘুম
রুমালে ঘাম ছাড়াতে গেলে আরো বেশি ঘামিয়ে উঠি।

ভ্যাপসা গরমে দমবদ্ধ করা নিশ্বাসে প্রতিদিন লুকাই
নিজের ব্যর্থতা, তবুও স্বীকার করি না, মেনে নিতে
শিখিনি অন্ধের মতো প্রলাপগুলোকে। ব্যতিক্রমী গল্প
সাজাতে গিয়ে নিজেই হয়ে উঠি গল্পকার, শেষ লাইন
লিখে নিজেকে আবিষ্কার করি নতুন এক গল্পের সামনে

সর্বহারা যোদ্ধা নিজের সবকিছু বিলিয়ে দিয়ে জিতে
আমি শুধু এক প্রান্ত হতে অন্য প্রান্তে অতিক্রম করি
এই হিজরতে কোনো যুদ্ধ জয়ের ইতিহাস লেখা নেই
শুধু নিজেকে পালিয়ে যাবার চিত্রনাট্য লিপিবদ্ধ আছে।

Friday, 1 July 2016

বিবর্তিতের বিবর্তন

বিবর্তিতের বিবর্তন
ইমেল নাঈম
১।

ডারউইন পড়তে পড়তে আবিষ্কার করলাম
মেঠোপথ কে কবেই ছুঁয়ে দেখেছে রাজপথ
প্রত্যাশার সীমারেখা টানতে গিয়ে পালটে
গেছে আশা, আকাঙ্ক্ষা, চাওয়া, পাওয়া

বদলাতে চাই নি, সময় শুধু জুয়াড়ি সাজলো...

২।

আলতা দেয়াটা শখ ছিলো, কত আনন্দের
সাথে মাখতে তুমি পায়ের গোড়ালি ছুঁয়ে
লাল রঙ মানেই রক্ত নয়, স্বপ্ন হয় কারো
তুমুল অসম বৃষ্টিতে মুছে গেলো পায়ের দাগ

বদলে যাওয়া দেখতাম চোখের কোণে...

৩।

ইশকুল পালালে খেলার মাঠ হাতছানি দেয়
খেলতে গেলে তোমাকে মনে পড়ে,
সাপ্তাহিক হাটবার এলে মনে পড়ে
আলতার শিশির কথা, অপেক্ষায় কাটে
মধ্যমা জীবন। কৈশোর তুমিও খুনে প্রেমিক...

৪।

তখনো বৈদ্যুতিক খুঁটি বাসা বাধেনি জনপদে,
সন্ধ্যা নামলে কুপি বাতি জ্বালিয়ে পড়তে
বসতাম, আর অপেক্ষায় থাকতাম নির্জন
ইশারার। কাছারিঘর পেরুলে খেলাধুলোর
আসর, সেখান থেকে দৃশ্যমান তোমার ঘর।

৫।

চুল বাঁধতে বাঁধতে বিকাল নামিয়ে আনো
এখানে দেখি সন্ধ্যা নেমে আসে অবেলায়।

৬।

পালকি এলো একদিন, সবার আয়োজনে
মত্ত সারাবাড়ী, আমার কোনো উত্তাপ নেই
সারাদিন যাত্রী দেখি, তোমাকে অচেনা লাগে

সম্পর্কটা পালটে গেলো, বাহ্যিক সবই ঠিক
বিচ্ছেদটা কেউ জানলো না, ব্যথা তো নয়ই...

৭।

মুখবইয়ের সেলফিতে তুমি আজও অচেনা।

Monday, 27 June 2016

সমুদ্র যাত্রা

সমুদ্র যাত্রা
- ইমেল নাঈম

সন্ধ্যার ক্যানভাসে পারিজাত ঝরে যায় অবহেলায়
করতল জুড়ে বিষণ্ণতা নামে ফ্যাকাসে বন্দরে
ঢেউয়ের মাতমে সাইরেনে বাজে বিপদের সানাই

দ্রাক্ষালতা তুমিও গোপনেই রাখো প্রাপ্তবয়স্ক প্রেম
হারাবার কিছু নেই, তারপরেও জলে নামতে ভয়
সময় পেরিয়ে যায়, রাত বাড়লে মাস্তুল জ্বালিয়ে
আলো ফেলতেই আবিষ্কার করি "আমি অন্ধকার"

ভুল কম্পাসে চোখ রাখে নাবিক, ঝাপসা দুরবিনে
কোনো ইশারা নেই, শান্ত সমুদ্র চিনেছে গভীরতা
জেগে থাকি পাটাতনে চোখ রেখে, অজস্র প্রণয়
পেরিয়ে যায় অজানা মোহে, সুখের শ্রাদ্ধানুষ্ঠানে
এক দৃশ্য মূকাভিনয় আঙুল নাড়িয়ে বলছে প্রেম...

ক্ষুধা জমলে আনন্দ'র রেশ বন্ধ হয়ে যায় সীমান্তে
কম্পাস ও দুরবিনের চোখে চোখ রাখতে রাখতে
অলক্ষ্যেই সমুদ্রের ঝড়োহাওয়া আঘাত করে যায়।

Saturday, 25 June 2016

শীলালিপিতে অস্পষ্ট নাম

শীলালিপিতে অস্পষ্ট নাম
ইমেল নাঈম

চুপচাপ বেঁচে থাকা বৃক্ষও সময়ের পরে দুর্বোধ্য কিছু শব্দমালার জন্ম দেয়। অহর্নিশ বেঁচে থাকার প্রয়াসে মুখ লুকোনো শামুক জীবন নীরবে তাকিয়ে থাকে হাস্যোজ্জ্বল চোখে। পরিণতি মেনে অংকের খাতায় কাটাকুটি খেলতে বড়ো হয় নি একদম। মেনে নিতে নিতে থামতে হয় আমাদের। অসহায়ত্বের মোড়কে বাণিজ্যিক উপাদান খুঁজে পাই বারবার। বেচাকেনার হিসেবে লাভের অংক শিখেছে খুব।

চাকচিক্যের আবরণে ভিন্ন কোনো খোলসে বন্দী মোহের কারণে তাকিয়ে থাকি আকাশের দিকে। নীলচে আকাশে মেঘঘুড়ি কাটাকুটি খেলা দেখতে দেখতে ক্লান্ত হয় চোখ। মেঘের কোনো ক্লান্তি নেই, খেলে যায় নির্মোহ কাটাকুটি খেলা। সুর্যের প্রখরতা কমলে বিবর্ণ হতে থাকে চোখের সামনে চারপাশ। কমলা রঙা আকাশ সুন্দরের পশরা সাজায়, যাবার আগ মুহূর্তে উপহার বলেই তড়িঘড়ি এমন আয়োজন। আমার নতুন কোনো কথা থাকে না।

নির্বাক হাঁটা চলায় অনেক সাতকাহনের জন্ম হয়। নির্বাক সময়ের পাঠশালায় লালমাটির বুকে সবুজের আবাসন স্বর্গীয় সুরেলা কবিতার জন্ম দিয়ে যায়। মোজার্টের পিয়ানোর সুর যেন লিখে রেখেছে আমাদের নাম। দেখা হয় না আমাদের কখনো, হয়তো কখনো হবে না। বিপরীত মেরুতে বেঁচে থাকি কাল্পনিক স্পর্শের কল্যাণে। অদ্ভুত বিচ্ছেদ বুনে রাখি সুঁই সুতোর বুননে, বিমূর্ত প্রেমের শীলালিপিতে অস্পষ্ট নামটি অচেনা হয়ে যায়।

Tuesday, 21 June 2016

নিঃসঙ্গতা

নিঃসঙ্গতার বিজ্ঞাপন
— ইমেল নাঈম

থেমে যেতে যেতে মাথাচাড়া দিয়ে ওঠে যে প্রণয়
তার রূপরেখা নিয়ে চা দোকানে শোরগোল হয়না
ওইদিকে চাঁদটিও নির্লজ্জের মতো খুলে দিয়েছে
সবটা আব্রু, পুড়ে যেতে যেতে ভাবতে বসে যাই
পাওয়া না পাওয়ার হিসেবে নিকেশের দোলাচল।

দুলতে দুলতে মুঠোফোনের বার্তায় পৌছে যায় —
সঙ্গীত দিবসের যত কথোপকথন, আমাদের
দুজনের জন্য তেমন কোনো আলাদা দিবস নেই,
শিখি নি পঞ্জিকার তারিখগুলোতে বিভাজন করতে।
রাত বাড়লে তামাক খোরেরা একা হয়ে যায় খুব
চা খেতে খেতে পত্রিকার পাতা উল্টেপাল্টে দেখে।

রাতবিরেতে তন্দ্রাহীন সময় পারও বিলাসিতা
হাজারটা অদ্ভুত কথার ভিড়ে চুপসে যায় বেলুন
অহেতুক সময় ঘড়ি বয়ে চলে স্মৃতিরর কার্নিশে
আমার সুখের অসুখ, পালিয়ে যাওয়া স্মৃতিকথারা
তোমরাই বলো, সুবহে সাদিকের কতক্ষণ বাকি?

ভাসমান, পুড়ন্ত চাঁদটা ছাড়া আর কেউ জানে না
রাতের ক্যানভাসজুড়ে এখন বিষণ্ণতার স্বরলিপি।

Friday, 17 June 2016

রক্তস্নাত মিছিল

রক্তস্নাত মিছিল
- ইমেল নাঈম

গিরগিটির চামড়া গায়ে লাগিয়ে দিব্যি সাহিত্য চর্চা
করে যাচ্ছে নাগরিক ইঁদুরগুলো, গর্ত না থাকলে
যেমন হয়, ঠিক তেমন অবস্থা তাদের -
এর ওর পিছে লেগে থাকে টিকে থাকার অবলম্বন
ভেবে, ঘরকুনো স্বভাবে বসে থাকে মুখ গুঁজে,
বের হতে চায় না নিজের আঙ্গিনা ভুলে, যদি খসে
পড়ে কৃত্রিম পালক, দ্বিধা টেনে নেয় পুরোটা চিত্র।

বিচক্ষণ চোখ সবটা বোঝে। বুঝেও পাশে দাঁড়ায়,
ঠিক পাশাপাশি বসে, আর চা খেতে খেতে গুণতে
থাকে আমি...আমি... আমি, অতঃপর নীরবে হাসে।
চোখেরা এসব নিয়ে কিছু ভাবে না, অতো সময় নেই...

আঁধার ছেড়ে আলোয় আসতে যাদের ভয়, তাদের
নিয়ে নির্ভার হওয়াই ভালো। পিঁপড়ে থেকে শিখে
নেওয়া দলবদ্ধ জীবনের ভুল প্রয়োগে দ্রুত ধ্বংস
হয় নিবিড় সাধনা। এদিকে পুড়ছে হরিৎ বনাঞ্চল।

একে একে ছেড়ে যায় তাদেরকে সবকিছু, অলৌকিক
বার্তায় খুলে যায় তাদের মুখোশ, মুখোশহীন মুখের
কুৎসিত আবরণ দেখে মুখ লুকোয় না কেউ এখন।
মেনে নিয়েছে এতো আস্ফালন, নিজের গা বাঁচিয়ে।

আর, রক্তস্নাত মিছিলে রক্তাক্ত কবিতার রাজপথ...

বিষণ্ণতার কোরাস

বিষণ্ণতার কোরাস
- ইমেল নাঈম

ইদানীং আমি মাঝরাত্রিতে বিষণ্ণতার বৃষ্টি কিনি...
ভারসাম্য'র পরিবর্তনে আষাঢ়িয়া দিনের বৃষ্টিও
গচ্ছিত রাখে প্রকৃতির আঁচল - সময় পালটেছে,
মানুষ চুপ হতে হতে হারিয়ে ফেলেছে অক্ষর।
চাপিয়ে দিতে দিতে কিনে ফেলেছে কৃত্রিম বাতাস

হাপিয়ে ওঠা সময়ের বৃত্তে মানুষ এক মুসাফির মাত্র
পেরিয়ে পেরিয়ে যাচ্ছে ভূগোল, মানচিত্র বদলে
গেলে মানুষও বদলে যায়। বদলে যাওয়া চিহ্নে
কাঁচা হাতে আঙুল ঘোরালেই সভ্যতার সাক্ষাত
হয়ে যায় গ্লোবাল ওয়ার্মিংকে বুকে আগলে রেখে।

প্রণয়ের ভাজে লুকিয়ে রাখো হাজারটা প্রহসন
দিন পঞ্জিকায় আলাদা বলে কোনো দিন নেই,
দিনগুলোর আবেদন সর্বদা একহলেও বদলে যায়
আমি বদলে যাওয়া হিসেবে প্রেমিকাকে আঁকি
গ্লোবাল ওয়ার্মিং গ্রাস করে ফেলে নিজস্ব সত্ত্বা।

প্রাচীনপন্থী মন, আহাজারি করতে থাকে সময়ের
বিপ্রতীপ কোণে, এর বাইরে স্মারক চিহ্ন নেই
ছিঁড়েফেলা চিরকুটে কেউ লিখেছিলো সর্বনাশ...

বিষণ্ণতার কোরাস

বিষণ্ণতার কোরাস
ইমেল নাঈম

ইদানীং আমি মাঝরাত্রিতে বিষণ্ণতার বৃষ্টি কিনি...
ভারসাম্য'র পরিবর্তন আষাঢ়িয়া দিনে বৃষ্টি রেখে
দেয় প্রকৃতির আঁচলে - সময় পালটে গেছে,
মানুষ চুপ হতে হতে হারিয়ে ফেলেছে অক্ষর।
চাপিয়ে দিতে দিতে কিনে ফেলেছে কৃত্রিম বাতাস

হাপিয়ে ওঠা সময়ের বৃত্তে মানুষ এক মুসাফির মাত্র
পেরিয়ে পেরিয়ে যাচ্ছে ভূগোল, মানচিত্র বদলে
গেলে মানুষও বদলে যায়। বদলে যাওয়া চিহ্নে
কাঁচা হাতে আঙুল ঘোরালেই সভ্যতার সাক্ষাত
হয়ে যায় গ্লোবাল ওয়ার্মিংকে বুকে আগলে রেখে।

প্রণয়ের ভাজে লুকিয়ে রাখো হাজারটা প্রহসন
দিন পঞ্জিকায় আলাদা বলে কোনো দিন নেই,
দিনগুলোর আবেদন সর্বদা একহলেও বদলে যায়
আমি বদলে যাওয়া হিসেবে প্রেমিকাকে আঁকি
গ্লোবাল ওয়ার্মিং গ্রাস করে ফেলে নিজস্ব সত্ত্বা।

প্রাচীনপন্থী মন, আহাজারি করতে থাকে সময়ের
বিপ্রতীপ কোণে, এর বাইরে স্মারক চিহ্ন নেই
ছিঁড়েফেলা চিরকুটে কেউ লিখেছিলো সর্বনাশ...

Thursday, 16 June 2016

বোঝাপড়া

বোঝাপড়া
- ইমেল নাঈম

চিরব্যর্থ কিছু সংলাপ আওড়ানোর পর
একটা নায়িকা সকাল সামনে এসে দাঁড়ায়।
বেড টি ঢালতে ঢালতে তোমার মোবাইলে
রুটিনমাফিক বেজে উঠে হেভি মেটাল গান,
প্রতিবারই চমকে উঠো অত্যাধুনিক যন্ত্রের
কারুকার্যে। চমকে উঠলেও ওই শরীর জুড়ে
খেলে যাওয়া বিদ্যুতকে আমি প্রহসন ভাবি।

বিছানা দিয়ে আকাশ দেখা যায় না একদম
বাইরে চোখ পড়তেই দেখি ল্যাম্পপোস্টটি
বন্ধুসমেত কাক ভিজা ভিজেছে অসময়ে
তার শরীরের তাপমাত্রা মাপতে গিয়ে
অনুধাবন করি আসলে জ্বর বলে কিছু নেই

বারোমাস যারা রোদে আর বৃষ্টিতে ভিজে
তাদের শরীরের রোগ প্রতিরোধ ক্ষমতাও
এই বিরহ বিলাসীদের চেয়ে অনেক বেশি
কিন্তু প্রতিদিন সকালে বেজে ওঠা সঙ্গীতে
তোমার শরীরে খেলে ওঠা রহস্যময় বিদ্যুৎ
আমাকে দাঁড় করায় নগ্ন আয়নার সামনে।

Wednesday, 15 June 2016

পরামর্শ

পরামর্শ
ইমেল নাঈম


রাজনীতি সুদূরের পথ। এরচেয়ে ভালো হয় বিজ্ঞাপন নির্মাতা হলে। সেটা না হলে কোনো পলিটিকাল পার্টি অফিসে চা বিস্কুট আনা নেওয়া আর ছোটোবড়ো  ফুটফরমাশ খাটতে পারেন। তাতে যদি ইতস্তত বোধ করেন আর পড়াশোনার জোর যদি থাকে তবে এড ফার্মে নয়টা থেকে সাতটা কাজ জুটিয়ে নেয়াই মঙ্গল। এইসব পরামর্শ ফুঁ দিয়ে উড়িয়ে দেয়ার আগেই বসে যেতে পারেন "ভাই ভাই কবিতা" সমবায় সমিতির ভার্চুয়াল মিটিং এ। পিঠ চুলকে দিতে পারেন একে অপরের। আলোচনায় আহ উহ করতে করতে সন্ধ্যা নেমে আসবে।

সন্ধ্যায় টঙ দোকানে এককাপ চা আর দুইটা টোস্ট বিস্কুট চাবাতে চাবাতে ফাঁকা বুলি ছাড়তেই পারেন রাজনীতির বিপরীতে, নিজেকে প্রমাণ করতে পারেন আপনি বা আপনারা অথবা আপনার ঈশ্বর কেউ রাজনীতি করেন না। কেউ খতিয়ে দেখবে না সত্যতার নিক্তিতে। ঈশ্বর একসময় ভালো কবিতা লিখতেন, এখনো হয়তো...  বর্তমানে ভালো বিজ্ঞাপনদাতা হিসেবে নাম কুড়াচ্ছেন। সুযোগ পেলেই নিজ কীর্তন ছাপিয়ে দেয় মুখবইয়ের প্রথম পাতায়।

কলমে যদি শব্দ না থাকে তবে বিনে পয়সায় ক্যানভাসিং করতে পারেন ঈশ্বরের। ঈশ্বরও পিঠ চাপড়ে দিবেন খুশি মনে। আপনাকে মাথায় তুলে রাখতেও পারেন আনন্দ চিত্তে। এতে করে নিজেকে কবি ভাবলেও কোনো অসুবিধে নেই, এমনকি মহানায়কও ভাবতে পারেন। অনেক পেশার সন্ধান এখনো অনুল্লিখিত আছে। খুঁজে দেখলে পেয়েও যেতে পারেন। যারা এসবের বাইরে কলমেরর সাধনায় মগ্ন তাঁদের হাতেই কবিতাকে ছেড়ে দিন। দলবাজি আর মোসাহেবি করে পচে যাওয়া মাথায় অন্তত কবিতার জন্ম হয় না।

Monday, 13 June 2016

অসময়ের মেঘ

অসময়ের মেঘ
ইমেল নাঈম

ছালবাকল খুললে নতুন কোনো বাতাবরণ থাকে না। পরিযায়ী মেঘেরা ঘরে ফিরে গেলে দিনভর ঘ্যানঘেনে বৃষ্টির ছলাকলায় সূর্যহীন একটা সন্ধ্যা নামে। ময়ূরাক্ষী ছলাৎছলাৎ বয়ে যায় অনেক দূর। সেখানে ডিঙি নৌকো ভাসে অদম্য কিশোরের বুকে। প্রেম নয়। বরং একগুচ্ছ পাখির পালক। সন্ধ্যায় লোডশেডিং এর শহরে কুপি বাতি জ্বলে। সন্ধ্যাদীপ, তাকে নিয়ে কুসংস্কার যতটা লুকোনো ঠিক সেই পরিমাণে কিম্বা তার চেয়েও বেশি রয়ে যায় পারিবারিক রীতিনীতি।

জ্যৈষ্ঠ'র প্রখরতা খুব একটা গায়ে লাগেনা। টানা বৃষ্টিতে নরম মাটি লেপটে গেছে কাদায়। মনে পড়ে কৈশোর। মনে পড়ে আরো গভীর সময়কাল। বুকের বাপাশে তিলটাকে এখন আর আড়াল করি না। শৈশবে বাঁধনছেঁড়া কোনো ফড়িং এর মতো উড়ে বেড়ানোর অনন্য স্বাদ আজও লেগে আছে মননে। ধান কাটা শেষ হলে নাড়া ক্ষেতে সবাই যেন ক্রিকেটার। লম্বা এক টুকরো কাঠের ব্যাট, আর টেনিস বলের আয়োজন।

ভাঙা আধপাকা ইশকুল ঘর। সেখানেই চাষাবাদ হতে থাকে স্বপ্ননিনাদের। বাবা মার খেয়ালে নেই এতকিছু। হয়তো তারা বুঝতেও চাননি অতোটা। খেয়াল বেখেয়ালের বার্তাবহন করতে করতে সময় চলে যায় ছোটো গলি হতে বড় সড়কের দিকে। এইযে শৈশব আর কৈশোরকে নিয়ে এতো জল্পনাকল্পনা তার পিছনেও একটা সূক্ষ্ম কিন্তু লুকিয়ে, যা কখনোই বলা হয় নি আপনাকে, এমনকি তাকেও। না বলা জীবন পার করে দিতে বসে উৎযাপন করছি অসময়ের এই বৃষ্টি বিলাস।

Friday, 10 June 2016

জীবিকা

জীবিকা
ইমেল নাঈম

আংগো শহরে বেশি কথা নাই। ঘাসফুলগুলান
মইরা গেছে হেই কবে! দুই ছটাক স্বপ্ন ছিলো,
গ্যালো বন্যায় ভাইসা গ্যাছে...মাথার উপর ছাদ
দিয়া আসমান দেহা যায়, হানি ঢুকে বৃষ্টি হইলে।

বেয়াইন্না নুন দিয়া ভাত খাই, হুকনা ছালম আর
হোড়া মরিচ, এই নিয়াই কাইটা যাইতেছে দিন
কাচারি ঘরের সামনে চা দোয়ানের ভিড় ঠেইলাই
আগাইতে হয় ফ্রতিদিন। হেইহানে আড্ডায় কথা
জমে বাকির খাতায় নামডাও শক্ত হইতেছে।

কামহীন চইলা যায় জীবন...দুচোহে শুধু আন্ধার
হকেটে ট্যায়া নাই, ট্যায়া না থাকলে নিজেরে
হানির দরে মনে হয়, মনে হয় দরদামহীন ফ্রাণ।

কামের অভাবে দুপুরে বা রাইতে খাওন হয় না
কদিন হরেই হয়তো ঘাস চিবাই বাঁইচতে হইবো,
বাজেমালের দোয়ানে বাকির খাতাও আগায় না
জ্যোৎস্না আইলে চাঁদডারে বড্ড বেয়াড়া লাগে
ক্ষুদা হ্যাডে কোনো রোমান্টিসিজম জন্মায় না...

Wednesday, 8 June 2016

মদ্যপ

মদ্যপ
ইমেল নাঈম

গতরাত্রে পানশালায় মদ খাচ্ছিলেন যে ঈশ্বর
তার প্রেমিকা ছিলো না, যিনি ব্রোথেলে উঁকিঝুঁকি
দিয়ে দিরহাম ভাঙাতে না পারায় দরজার হুঁক
খুলতে পারেনি, তাকে উপাসক ভাবলেও বেশি...

কবিতা লিখতে বসে কবি যখন এঁকে ফেলে
নগ্ন নারী, তখনই সেন্সর বোর্ডে আটকে যায়
শব্দ, ঈশ্বর আর উপাসকের তীব্র বিরোধিতাও...

এখনো ভালো মন্দ বুঝতে শিখি নি, পথ হাতড়ে
তেমন পরিবর্তন খুঁজে নেই, বিভ্রান্তি ছুঁয়েছে
পাশাপাশি ছুঁয়েছে বিভ্রম, সাধারণত মাতাল
না হলে এমন ফিউশন দেখে না কোনো প্রেমিক।

ইসাবেলও কী মদ খেয়ে বেশুমার হয় চাঁদনী রাতে
আমার জানতে ইচ্ছে করে ঈশ্বরীও কি মদ্যপ...
নাকি আমি আমার মতো ভুল জানি জগত সূত্র।