Thursday, 14 July 2016

ইশরাত আখন্দ, আপনাকে

ইশরাত আখন্দ, আপনাকে
ইমেল নাঈম


আপনাকে আমি দেখি নি, আপনিও আমাকে... একই দেশের দুজন নাগরিক, কেউ কাউকে চিনি না। সবকিছু ঠিকঠাক থাকলে হয়তো আমাদের দেখা হতো না কোনো দিন। হলেও আপনাকে জানাশোনা হতো না আজকের মতো। এখন আর আমাদের কখনো দেখা হবে না কোনোদিন। আপনার কথা প্রথম শুনি বায়বীয় জগতের মুখবইয়ের কল্যাণে। মানুষের অভিব্যক্তি দেখে নিজেকে খুব ছোটো মনে হচ্ছিলো, কেনো যে চিনলাম না আপনাকে!

আচ্ছা বলুন তো সেইদিন যখন একজন বাঙালি আপনাকে হিজাবের জন্য চাপাতি দিয়ে গলায় কোপ দিয়েছিলো, আপনার মনে কি একবারও আসে নি এও অসম্ভব! একজন বাঙালি অন্য একজনকে হত্যা করতে পারে... আপনার অপরাধ বলতে এক টুকরো কাপড়, যা আবৃত করে রাখে আপনার মাথা বা মুখ। ওরা কি আপনাকে কালেমা জিজ্ঞাস করেছিলো? তখনও আপনি স্বপ্ন দেখছিলেন, আর ভাবছিলেন এও কী সম্ভব বাংলাদেশে!

ধর্ম মাদকের সমান্তরালে দাঁড়িয়ে আছে আজ এখানে। অর্থ, অস্ত্র, সবকিছুতেই দাঁড়িয়ে গেছে এর ঠিক পিছনে। আমরা যত্ন করে বড়ো করেছি বিষবৃক্ষ, তার প্রথম প্রতিদান মনে হয় আপনি। অথচ এর জন্য আপনাকে কোনোরূপে দায়ী করা যায় না। আপনি এসবের সাতপ্যাঁচেও ছিলেন না। কিন্তু তারা ছাড়ে নি। আপনার মুণ্ডু আলাদা করে ভাসিয়ে দিয়েছিলো, প্রকাশ করেছিল বীভৎস সব ছবি। আর ইসলাম প্রতিষ্ঠা করতেই তারা এই কাজ করেছিলো।

ভাবছি আপনি আজও বাংলাদেশকে ভালবাসেন! ক্ষতবিক্ষত, আদর্শচ্যুত এই দেশকে এখনো ভালোবাসতে ইচ্ছে করে আপনার? আপনার শরীর থেকে ঝরে যাওয়া রক্ত নিঃশেষ হয়ে যায়, অসাড় দেহে আপনি বলে যান ট্রাজেডি। আর আমরা বেঁচে থাকা মানুষের শরীর থেকে রক্ত ক্ষরণ হয় না। তারা নীরবে হজম করে। মুখ ফুটে বলে না, রাষ্ট্রযন্ত্র শীতঘুম কাটিয়ে দেখলো স্বর্গ নয়, নরকের খুব কাছে দাঁড়িয়ে।

আড়ম্বর ভাঙলো, মানুষেরা দুঃখের শ্লোক গাইছে। আর সোচ্চার হয়েছে বলে নড়েচড়ে ওঠা সুখনিদ্রা কাটিয়ে। আমরা জানি না, যুদ্ধ খেলার গল্লের শেষ কোথায়, জানি না কতদিন পরে আবার হাসবে বাংলাদেশ। শুধু জানি আমরা ভালো নেই, বাংলাদেশ ভালো নেই।

ইশরাত আখন্দ, আপনাকে

ইশরাত আখন্দ, আপনাকে
ইমেল নাঈম

আপনাকে আমি দেখি নি, আপনিও আমাকে... একই দেশের দুজন নাগরিক, কেউ কাউকে চিনি না সবকিছু ঠিকঠাক থাকলে হয়তো আমাদের দেখা হতো না কোনো দিন। হলেও আপনাকে জানাশোনা হতো না আজকের মতো। এখন আর আমাদের কখনো দেখা হবে না কোনোদিন। আপনার কথা প্রথম শুনি বায়বীয় জগতের মুখবইয়ের কল্যাণে। মানুষের অভিব্যক্তি দেখে নিজেকে খুব ছোটো মনে হচ্ছিলো, কেনো যে চিনলাম না আপনাকে!

আচ্ছা বলুন তো সেইদিন যখন একজন বাঙালি আপনাকে হিজাবের জন্য চাপাতি দিয়ে গলায় কোপ দিয়েছিলো, আপনার মনে কি একবারও আসে নি এও অসম্ভব! একজন বাঙালি অন্য একজনকে হত্যা করতে পারে... আপনার অপরাধ বলতে এক টুকরো কাপড়, যা আবৃত করে রাখে আপনার মাথা বা মুখ। ওরা কি আপনাকে কালেমা জিজ্ঞাস করেছিলো? তখনও আপনি স্বপ্ন দেখছিলেন, আর ভাবছিলেন এও কি সম্ভব বাংলাদেশে।

ধর্ম মাদকের সমান্তরালে দাঁড়িয়ে আছে আজ এখানে। অর্থ, অস্ত্র, সবকিছুতেই দাঁড়িয়ে গেছে এর ঠিক পিছনে। আমরা যত্ন করে বড়ো করেছি বিষবৃক্ষ, তার প্রথম প্রতিদান মনে হয় আপনি। অথচ এর জন্য আপনাকে কোনোরূপে দায়ী করা যায় না। আপনি এসবের সাতপ্যাঁচেও ছিলেন না। কিন্তু তারা ছাড়ে নি। আপনার মুণ্ডু আলাদা করে ভাসিয়ে দিয়েছিলো, প্রকাশ করেছিল বীভৎস সব ছবি। আর ইসলাম প্রতিষ্ঠা করতেই তারা এই কাজ করেছিলো।

ভাবছি আপনি আজও বাংলাদেশকে ভালবাসেন! ক্ষতবিক্ষত, আদর্শচ্যুত এই দেশকে এখনো ভালোবাসতে ইচ্ছে করে আপনার? আপনার শরীর থেকে ঝরে যাওয়া রক্ত নিঃশেষ হয়ে যায়, অসাড় দেহে আপনি বলে যান ট্রাজেডি। আর আমরা বেঁচে থাকা মানুষের শরীর থেকে রক্ত ক্ষরণ হয় না। তারা নীরবে হজম করে। মুখ ফুটে বলে না, রাষ্ট্রযন্ত্র শীতঘুম কাটিয়ে দেখলো স্বর্গ নয়, নরকের খুব কাছে দাঁড়িয়ে।

আড়ম্বর ভাঙলো, মানুষেরা দুঃখের শ্লোক গাইছে। আর সোচ্চার হয়েছে বলে নড়েচড়ে ওঠা সুখনিদ্রা কাটিয়ে। আমরা জানি না, যুদ্ধ খেলার গল্লের শেষ কোথায়, জানি না কতদিন পরে আবার হাসবে বাংলাদেশ। শুধু জানি আমরা ভালো নেই, বাংলাদেশ ভালো নেই।

Tuesday, 12 July 2016

বিভ্রমের আলাপন

বিভ্রমের আলাপন
- ইমেল নাঈম


আলিঙ্গনের হিসেবে মৌন থাকা যায় না। উড়ে যাওয়া পাখির মতো সেও নীড়ে ফিরে একদিন। সবকিছু মিথ্যে বলে হাওয়ায় ভাসানো ঠিক নয়। ছিঁড়ে ফেলা বইয়ের মলাটে ভুল নামের কবিতা পাঠও অচেনা হয়ে যায় দৈনন্দিন অভ্যাসে। মেঘের দল, বিচ্ছেদ মালা, পেঁজা তুলোর মতো শুভ্রতা ছড়িয়ে পালিয়ে যায়, পথিক রাস্তায় নামা মাত্রই বুঝতে পারে সে মূলত একা।

মলিন, নির্ভেজাল সময়ের হাতেখড়ি, ছিঁড়ে যাওয়া নাটাই ঘুড়ির সম্পর্কে উড্ডয়মান মেঘ আর বিষাদ তার সমান্তরালে খাঁখাঁ করা জ্যৈষ্ঠের পিচ ঢালা পথ, হাপিত্যেশে হাঁসফাঁস করা মুহূর্ত বিস্বাদ - এতো ঋণ মেখে এপথে সূর্য ডুবে যায়, যাবার পথে রাস্তার বাঁকে টঙ দোকানে লেবু চা গিলতে গিলতে পুড়ে যাওয়া এক দেশলাই শলাকা। এরবাইরে কোনো প্রতিধ্বনি নেই।

রাত বাড়লে একটা কোমল হাত আমার কপাল ছুঁয়ে থাকে। মমতা পেলে দু'চোখে আনন্দ অশ্রু গড়িয়ে যায়। গভীরতার পরিমাণ আরো বাড়লে একটা রুক্ষ হাত আমার কাঁধ ছুঁয়ে থাকে। আঙুলের কড়ে বিষাদ গোণা মানুষ এতোটা অনুভব করতে পারে না। সে প্রেম আর ক্রোধের তফাৎ আলাদা করতে করতে বুঝতে পারে, কোনোদিন কারো আঙুল তার কপাল বা কাঁধ ছুঁয়ে যায় নি।

বিভ্রমের পর আরো অনেকগুলো বিভ্রমে, তার স্বপ্ন নৌকা ভেসে চলে শীতকালীন অবকাশে।

জাহাজে একদিন

জাহাজে একদিন 
- ইমেল নাঈম

থেমে যেতে হয় পরিচিত বন্দর ছেড়ে
গভীরতা বারলে বেয়াড়া আলবাট্রস জানিয়ে যায়
পথের শুরুতে অজস্র রোমান্টিসিজম লুকিয়ে
ঝড় ঝাপটা এখন আর গ্রাস করে না, অদূরে
সিল মাছ ধরার ট্রলারটিও ভাসছে অজানা পথে

পাটাতনের উপরে এক কিশোর কবি একুইস্টিক
হাতে গায়ক হয়ে গেলেন আজ, পাশের গায়কটি
হয়ে গেলেন কবি। সদ্য বিবাহিত একজুটি
মুহূর্তেই অবিবাহিত প্রেমিক প্রেমিকার মতো
প্রেম করা শুরু করলো এক কোণায় বসে,

ডলফিন দেখবে বলে এক কিশোর গালে হাত
দিয়ে সারাদিন বসে ছিলো ঠিক ওইখানটায়,
জলের দিকে তাকিয়ে ছিলো নিরলস,
বিকালবেলায় এক বৃদ্ধ দাদুও আমাদের সাথে
যোগ দিলেন, আমরা ক্রমাগত গেয়ে চলেছি...

সন্ধ্যার পর চাঁদ পূর্ণতা পেলে, কারা যেনো দিয়ে
গেলো বিদেশী মদ, আমরা গান থামিয়ে খেতে
গেলে চিৎকার করে ওঠে এক প্রৌঢ় মহিলা,
বলছেন এখন মদ্যপানের সময় নয়, সৃষ্টিতে দাও
মনোযোগ। মাঝে তাকিয়ে দেখি গায়ক বন্ধুটি
লিখে ফেলেছে অনেক গান। আর আমিও
বেসুরে গলায় গেয়ে নিয়েছি অনেক কবিতা...

কেউ জানলো না, জাহাজটি কত দ্রুত একজন
কবিকে সঙ্গীত আর গায়ক কে কবিতা শেখালো
আর বাকিরা ঘুমিয়ে যাবে, খানিক বাদে,
আমরাও ঘুমিয়ে পড়বো, গান আর কবিতা মুগ্ধ
করে যাবে সৃষ্টির নেশাতে আগামী সকাল পর্যন্ত।

Monday, 11 July 2016

যান্ত্রিক পৃথিবীর এলিজি

যান্ত্রিক পৃথিবীর এলিজি
- ইমেল নাঈম

কে রেখেছে কার খবর - এমন প্রশ্নবাণে আহত
পাখিটিও শীতকালের অপেক্ষায় থাকে নিরুত্তর।
ভুল আয়োজনে ব্যস্ত পৃথিবীর দায় নেই কোনো

আগেই পাঠ করেছি দায়মুক্তির করুণ কবিতা
অক্ষর বৃত্ত মেনে চারের নামতায় পর্বের বিন্যাস
চোখ কান খোলা রেখে পথ চলতেই দেখি
পায়ে হেঁটে নেমে আসছে এক গভীর অন্ধকার।

বাতি নিভে গেলে তেমন কেউ আমাকে চেনে না
আমিও চিনিতে পারি নি নতুন করে কাউকে
আসলে ক্ষত শরীরে ব্যান্ডেজ, সূক্ষ্মতর ব্যথার
নিপুণ বিজ্ঞাপনে অচেনা প্রলোভন মুখ তুলে দেখে

জন্মান্তরে বিশ্বাস নেই, তাই স্বপ্নের পরিধিজুড়ে
তোমার নামে কোনো চিত্রপট আঁকা নেই, যেটুকু
অংকিত প্রলাপ তার পুরোটাই হারিয়ে গেছে

শরতের মেঘের ভাজে কুক্ষিগত বৃষ্টির চাহনি
পরিবেশ বদলায় অকারণ সৃষ্টি আর ধ্বংসের
ইশারায়। পৃথিবীও বদলেছে ঐকতানের সংকটে।

কেউ দায় রাখে না কারও, আহতদের জন্য হয়না
স্নিগ্ধ পরশ, আগুন শুধু চিনেছে ধ্বংস করতে,
প্রেমিকের জন্য রাখে নি একটু পরিমাণের আঁচ।

যান্ত্রিক পৃথিবীতে এখনো ব্যস্ত এক জাদুকর
নিক্বণের ছন্দে সারাদিন ধ্বংসের মাতম তুলছেন।

Saturday, 9 July 2016

প্রতিবিম্ব

প্রতিবিম্ব
- ইমেল নাঈম

মানবিক রাষ্ট্র বলে কিছু হয় না, বইয়ের পাতায় লিপিবদ্ধ
সীমারেখাগুলো চুরি হয়ে গেছে আধিপত্য বিস্তার প্রকল্পে
তৃতীয় বিশ্বে কোনো ঈশ্বর নেই, আর প্রথম বিশ্ব নিজেই
ঈশ্বর সেজে টুঁটি চেপে ধরেছেন অসহায় মানুষের উপর।

সাদা কালো বিভেদের টাটকা বাণিজ্যে মার খায় একদল,
রাষ্ট্র ভক্ষক সেজে ক্রমাগত আঘাত করছে তাদের উপর।
অসহায় শ্লোগানে মুখরিত জীবন পাঠের ভরসা খোঁজে
একদল কালো মানুষ, যাদের বাঁচার ইচ্ছে মিলিয়ে যাচ্ছে
দূর থেকে দূরান্তে। কালো বলেই কালোরাত নেমে আসে

পৃথিবীজুড়ে দরজায় করাঘাত শুরু হয় একের পর এক,
নিরপরাধ মানুষেরা শুধু রঙ চেনে বলেই মৃত্যুপথযাত্রী
কেজি দরে মানবাধিকার বিক্রেতারা সবাই বসে আছেন
তৃতীয় বিশ্বের দিকে চোখ মেলে, সেখানের টিআরপি'র
উড্ডীন গ্রাফের ভাজে ভাজে বোকাবাক্সে মুখদর্শন ফ্রি,

কালো দেহের ভিতরেও প্রবহমান লোহিত রক্ত কণিকা
অণুচক্রিকা ঠিকই জমাট বাঁধায় শরীরের কালোর ক্ষত
গুলির বিনিময়ে রাস্তায় পতিত নিথর দেহটি আমার ভাই
মানবতা তুমি ডলার চিনেছো, আঘাত হেনেছো দুর্বলের
ঘাড়েভুত সেজে নিজের বিজ্ঞাপন দিতে, নিয়ম কানুনের
ফাঁক গলে আয়নায় নিজের চেহারা দেখো না কতদিন?

বিম্বে তোমাকে দেখে চমকে উঠতে পারে অনেক প্রাণ...

Friday, 8 July 2016

পাখির চোখে

পাখির চোখে
- ইমেল নাঈম

শঙ্খ ধ্বনি বাজলে প্রজাপতি ওড়ে আমার বাগান থেকে
প্রতিধ্বনি গুলো অযাচিত ফিরে আসে নিজের কানে
বিশ্বাসের নূপুর পায়ে যে মেয়েটি অবিরাম নেচে চলেছে
তাকেও অবচেতন মননশীলতায় ঘৃণা করতে শিখেছি
স্মৃতি পাতার দৃশ্যপটেরা ঝাপসা হতে হতে হারিয়ে গেছে।

শৈশবের স্মৃতি বিস্মৃতির আলাপনে অনেক রূপকথার
সাক্ষাত মিলে যায় রাত বিরেতে। অমাবস্যা তিথির
কল্যাণে শীলা পাথরে হায়রাটিক লিপিতে কবিতা পাঠ
হয় অন্ধকারের, কবি প্রেমিকার জয়গান করতে বসে
বুঝে নেন প্রেম বলে মিথলোজিগুলো মিথ্যে বানোয়াট...

দৈনিক পাললিক সভ্যতা আঁকার নিমিত্তে যে সকল
কল্পনাপ্রসূত অনুমানকে সম্ভাব্যতার নিরিখে সাজাই
সেগুলো মধ্যরাতে ঈশ্বরের দিব্যি জানিয়ে আহত করে
আমিও বোকার মতো অনুমানকে তাড়া করি অকারণ।
খুব নিশিতে ক্লান্ত শরীর নিয়ে ঘুমের বুকে এলিয়ে দিই

শুনেছি এমন ঘুম এলেই তোমার সাথে সাক্ষাত মিলে
অবশিষ্ট সময়টুকু বাকহীন সভ্যতা আঁকতে আঁকতে
ফুরিয়ে যেতে দেখি অচল দেয়াল ঘড়ির আনন্দ উৎসব।

Thursday, 7 July 2016

নটেবর

নটেবর
- ইমেল নাঈম

অদৃশ্যে ইশারা ফেলে দাও কল্পিত মানচিত্রের বুকে
আড়াল থেকে নাড়তে থাকো দুঃস্বপ্নের কলকাঠি
হুজুগের ভিড়ে কোনোদিন আসবে না তোমার নাম।
ধর্মের কাটাছেঁড়া শেষে তারা দোষ রটায় ধর্মেরই
নিজের ব্যাখ্যা দাঁড় করিয়ে দেয় শিখরের পরিণতি।

ওদিকে ঈশ্বর পাঠিয়ে দিচ্ছেন বিশাল যুদ্ধজাহাজ,
এসবের মাঝে কেউ কেউ খুঁজে পায় মলিন শ্বাস
ভাবতে থাকে সমস্যার সমাধান বুঝি ঘনিয়ে এলো
আরো এক ইশ্বর সবার অলক্ষ্যে হাসতে থাকেন।
আসলে ওনার কার্যক্রমে কেউ আঙুল তুলেন না

মুক্তমনের চোখ ধর্মের বৃত্তে আটকে গেছে, বাইরে
তাকানোর সময় পাচ্ছেন না, দেখতে পাচ্ছেন না
বিশালাকৃতির সত্যকে। ধর্মপ্রিয় প্রাণ ধুঁকে মরছে
অস্তিত্বহীনতায়। নিজের ভিতরে সংকীর্ণতা বাসা
বাঁধছে পারিপার্শ্বিক চাপে। তারা সব বুঝেও চুপ...

তৃতীয় বিশ্ব আজো বলতে শেখে নি অনেক কথা
ঘুমিয়ে কাটিয়ে দিচ্ছেন আমাদের স্বপ্নদ্রষ্টা সুখ
দায়িত্ব এড়াতে এড়াতে নীরবে ঘটছে এই মুণ্ডুপাত
স্বস্তির নয়, নাভিশ্বাস জেগে উঠছে ওনার ইশারায়
আমরা মেনে নিয়ে পঞ্জিকায় কাটছি লাল দাগ...

এসব নিয়ে ঈশ্বর মাতেন ভিলেনের অট্টহাসিতে
নটেবর বাবু নিভৃতে পার পান এতো অপরাধের পর...

২৩ আষাঢ় ১৪২৩

Wednesday, 6 July 2016

ক্রুসেড

ক্রুসেড
-ইমেল নাঈম

ঝোলাবাটি খুললে ঘর ঘর খেলার দৃশ্য মনে পড়ে যায়
নকল স্বামী স্ত্রী খেলায় প্রতিবেশীও মিলেছে খুব
রোজকার দিনের পুতুলের সংসার নিয়ে পেরুচ্ছে
যেই শিশু মন তার চোখ দুটোকে ঢেকে দাও ভুল স্বপ্নে

কিশোর মনের গতি প্রকৃতি বোঝার আগেই বিশাল
বইপত্রের বোঝায় হারিয়ে খুঁজে কমিকস বুকের পশরা
তার কিছুদিন পরের গল্পটা অন্যরকম হতেও পারে...
পাঠ্যবই'র ফাঁকে তিন গোয়েন্দা সিরিজের আসে না
বেনটেন দেখতে দেখতে বোকা বাক্স স্তব্ধ করে চোখ।

এরপরের গল্পটা আরো সামান্য গল্পের পরেই জন্মায়
একটা একুইস্টিক বা উকেলেলে নিয়ে বন্ধু সমাজে
ভাব দেখানোর ছলে মূল শিক্ষা থেকে দূরে সরে ক্রমশ
হুমায়ুন আহমেদের রম্য রচনা চোখকে আরও বধির
করে তোলে, নিয়ে যায় বাস্তব থেকে দূর থেকে বহুদূর

এরবাইরে চোখ খুলে দেখে নি সেই মুখ। আধুনিকতার
খোলসে অন্তর্জালে নীল চ্যানেলের ঠিকানা মুখস্থ করে
কলার উঁচিয়ে হাঁটে মধ্যরাতে পাঁচতারা হোটেলে
প্রেমিকা নিয়ে নাচতে নাচতে কয়েক পেগ জল পেটে
চালান করে দিলে জাগতিক ঈশ্বর নেমে আসেন ধরায়।

বাবা মা জানে না এইসব গল্প, তারা খবরও নেয় না খুব
খবর মিলে যায়, ক্রুসেড ক্রুসেড খেলার নামে ধর্মের
নামে তৃতীয় পক্ষের প্ররোচনায় মানব হত্যার নেশায়।

Tuesday, 5 July 2016

শার্লক হোমস

শার্লক হোমস
- ইমেল নাঈম

থেমে গেলে ঝনঝন, ষোলো কোটি চোখ জেগে ওঠে
অস্বচ্ছ কাচের ভিতর প্রকাশিত দৃশ্যপটকে
মনগড়া কাঁটা ছেঁড়া শেষে সর্দি ঝাড়েন প্রত্যেকে,
গলার কণ্ঠস্বরের রুক্ষতা জানান দেয় শ্লেষ।
সবাই কাঁধে নেয় রহস্য নির্মূলের দায়ভার।

ব্যক্তিগত বিশ্লেষণের পরে আসামি নিয়ে হৈ চৈ
নিরপরাধ আর দোষী নিয়ে কাটাকুটি খেলায়
ফাঁক গলে বেরিয়ে যায় অমোঘ সম্পর্ক, হায়না
আর বাঘ নির্ণয়ের সূত্র আবিষ্কারের পূর্বেই
পৌঁছে যায় আরো কিছু দুঃস্বপ্নের ইতিউতি কথা

কর্মহীন চোখের গল্পে অকাজ করেই চলেছি
কাদা ছুঁড়াছুঁড়ির শেষে প্রান্তিক গল্পের সমাপ্তি
টানতে গিয়ে বুঝতে পারি ভুলে যাবার মন্ত্রণা।
অক্ষরবৃত্ত আঁকতে বসে ফিরে যাই ভালবাসায়।

দমবদ্ধ পরিবেশে পুনর্জন্ম' স্বাদ মিলে যায়
প্রেমের কবিতা লিখেই মৃত্যু হয় গোয়েন্দাগিরি।

শার্লক হোমস

শার্লক হোমস
- ইমেল নাঈম

থেমে গেলে ঝনঝন, ষোলো কোটি চোখ জেগে ওঠে
অস্বচ্ছ কাচের ভিতর থেকে প্রকাশিত দৃশ্যের
মনগড়া কাঁটা ছেঁড়া শেষে সর্দি ঝাড়েন প্রত্যেকে,
গলার কণ্ঠস্বরের রুক্ষতা জানান দেয় শ্লেষ।
সবাই কাঁধে নেয় রহস্য নির্মূলের দায়ভার।

ব্যক্তিগত বিশ্লেষণের পরে আসামি নিয়ে হৈ চৈ
নিরপরাধ আর দোষী নিয়ে কাটাকুটি খেলায়
ফাঁক গলে বেরিয়ে যায় অমোঘ সম্পর্ক, হায়না
আর বাঘ নির্ণয়ের সূত্র আবিষ্কারের পূর্বেই
পৌঁছে যায় আরো কিছু দুঃস্বপ্নের ইতিউতি কথা

কর্মহীন চোখের গল্পে অকাজ করেই চলেছি
কাদা ছুঁড়াছুঁড়ির শেষে প্রান্তিক গল্পের সমাপ্তি
টানতে গিয়ে বুঝতে পারি ভুলে যাবার মন্ত্রণা।
অক্ষরবৃত্ত আঁকতে বসে ফিরে যাই ভালবাসায়।

দমবদ্ধ পরিবেশে পুনর্জন্ম' স্বাদ মিলে যায়
প্রেমের কবিতা লেখায় শেষ হয় গোয়েন্দাগিরি।

Sunday, 3 July 2016

হিজরত

হিজরত
ইমেল নাঈম

চারপাশটাকে খুব অচেনা লাগে, নিজের সাথে লড়তে
থাকা সর্বহারা যোদ্ধার শেষ রক্তকণাও খসে যায়
মুখ খুলে তাকাতে ভয়, অস্বীকার করতে হয় সত্য
জানলে হারিয়ে যায় আমাদের আনন্দ আয়োজন
এখানে থেমে থেমে বৃষ্টি নামে, দিন বদলায় অকারণে।

সরাইখানাকে র‍্যাড দিলে ভাল খাবারের সন্ধান মেলে
অপ্রতুল চোখ, ক্ষুধার্ত পেটে দু আনা দানা জুটলেই
ভুলে যেতে পারি অতীতের শীতনিদ্রার দুঃস্বপ্ন'র গল্প
সেই সাথে জুটে যেতে পারে, আগামী দিনের ঘুম
রুমালে ঘাম ছাড়াতে গেলে আরো বেশি ঘামিয়ে উঠি।

ভ্যাপসা গরমে দমবদ্ধ করা নিশ্বাসে প্রতিদিন লুকাই
নিজের ব্যর্থতা, তবুও স্বীকার করি না, মেনে নিতে
শিখিনি অন্ধের মতো প্রলাপগুলোকে। ব্যতিক্রমী গল্প
সাজাতে গিয়ে নিজেই হয়ে উঠি গল্পকার, শেষ লাইন
লিখে নিজেকে আবিষ্কার করি নতুন এক গল্পের সামনে

সর্বহারা যোদ্ধা নিজের সবকিছু বিলিয়ে দিয়ে জিতে
আমি শুধু এক প্রান্ত হতে অন্য প্রান্তে অতিক্রম করি
এই হিজরতে কোনো যুদ্ধ জয়ের ইতিহাস লেখা নেই
শুধু নিজেকে পালিয়ে যাবার চিত্রনাট্য লিপিবদ্ধ আছে।

Friday, 1 July 2016

বিবর্তিতের বিবর্তন

বিবর্তিতের বিবর্তন
ইমেল নাঈম
১।

ডারউইন পড়তে পড়তে আবিষ্কার করলাম
মেঠোপথ কে কবেই ছুঁয়ে দেখেছে রাজপথ
প্রত্যাশার সীমারেখা টানতে গিয়ে পালটে
গেছে আশা, আকাঙ্ক্ষা, চাওয়া, পাওয়া

বদলাতে চাই নি, সময় শুধু জুয়াড়ি সাজলো...

২।

আলতা দেয়াটা শখ ছিলো, কত আনন্দের
সাথে মাখতে তুমি পায়ের গোড়ালি ছুঁয়ে
লাল রঙ মানেই রক্ত নয়, স্বপ্ন হয় কারো
তুমুল অসম বৃষ্টিতে মুছে গেলো পায়ের দাগ

বদলে যাওয়া দেখতাম চোখের কোণে...

৩।

ইশকুল পালালে খেলার মাঠ হাতছানি দেয়
খেলতে গেলে তোমাকে মনে পড়ে,
সাপ্তাহিক হাটবার এলে মনে পড়ে
আলতার শিশির কথা, অপেক্ষায় কাটে
মধ্যমা জীবন। কৈশোর তুমিও খুনে প্রেমিক...

৪।

তখনো বৈদ্যুতিক খুঁটি বাসা বাধেনি জনপদে,
সন্ধ্যা নামলে কুপি বাতি জ্বালিয়ে পড়তে
বসতাম, আর অপেক্ষায় থাকতাম নির্জন
ইশারার। কাছারিঘর পেরুলে খেলাধুলোর
আসর, সেখান থেকে দৃশ্যমান তোমার ঘর।

৫।

চুল বাঁধতে বাঁধতে বিকাল নামিয়ে আনো
এখানে দেখি সন্ধ্যা নেমে আসে অবেলায়।

৬।

পালকি এলো একদিন, সবার আয়োজনে
মত্ত সারাবাড়ী, আমার কোনো উত্তাপ নেই
সারাদিন যাত্রী দেখি, তোমাকে অচেনা লাগে

সম্পর্কটা পালটে গেলো, বাহ্যিক সবই ঠিক
বিচ্ছেদটা কেউ জানলো না, ব্যথা তো নয়ই...

৭।

মুখবইয়ের সেলফিতে তুমি আজও অচেনা।