Thursday, 11 August 2016

কয়ো ওগাসাওয়ারা

কয়ো ওগাসাওয়ারা
— ইমেল নাঈম

জীবনের কিছু আয়োজন ভুল হিসেবেই গন্য। কেউ ভাবে নি তাদের কথা। ঐশিক বাণী থামে ভুল দরজায়। অপ্রস্তুত সময়ের বৃন্তে ফোটা কিছু পাপড়ি নষ্ট হয়ে গেছে মিথ্যে স্পর্শে। মানবতাকে ঢালাই করছে অপরিপক্ব হাত। তার চোখে লিপিবদ্ধ নেই।

চোখ ঢেকে দিয়েছে কালো কাপড়ে। অত:পর শেখানো হলো বিতঘুটে অন্ধকারইই সত্য। আর সত্যকে প্রতিষ্ঠার জন্য পাপকর্ম সাধনই পুণ্যের কাজ। হ্যামিলনের বাঁশি বাজিয়ে ঘুমিয়ে পড়েছেন অদৃশ্য ছায়া। তার পিছনে ছুটে চলেছে যে নাঙা তরবারি — তার আঙুল ছুঁয়ে উপচে পড়ছে নিজ ভাইয়ের রক্ত।

ধর্মকে ব্যাখ্যা করতে বসে অজস্র গল্প লিপিবদ্ধ হয়ে যায়। সততা হারিয়ে মনগড়া শব্দজটে ঘুরতে থাকে অন্ধ পথিক যাকে ক্রমাগত শেখানো হয়েছে ধর্মের নামে হিংসার জন্মদান প্রক্রিয়া। ঈশ্বরের নামে মানুষ হত্যাকে জায়েজ করে দিয়েছেন জাগতিক ক্ষমতার ঈশ্বর।

প্রিয় কয়ো ওগাসাওয়ারা, আপনাকে নিয়ে আমার কোনো কথা নেই। এই পৃথিবীর পথে আপনাকে আমি চিনি নি একদম। একটা পাপিষ্ঠ সন্ধ্যারাত আপনার সামনে পুরো একটা জাতিকে দাঁড় করিয়ে দিলো অপরাধীর চরিত্রে। অথচ হাতে গোণা কুলাঙ্গার যারা ঈশ্বরকে আবিষ্কার করতে গিয়ে হারিয়ে ফেললো নিজ সত্তাকে তারা এখনো লুকিয়ে আছে গুপ্ত ঘাতকের বেশে

এভাবেই হয়তো অনেকের মতো ঈশ্বরকে ঘৃণা করতে শুরু করেছেন আপনিও।

ক্লডিও কাপেল্লি

ক্লডিও কাপেল্লি
- ইমেল নাঈম

প্রান্তবর্তী সন্ধ্যায় রক্তাক্ত ইকেবানা মরে যায়
খুলে পরে তার যত সাজসজ্জা, নির্লজ্জের
জয়গান লেখা হয় শান্তিরমাসে, বদ্ধ শয়তান
সেও খেলছে এক্কাদোক্কা - লাশের উপর
মৃতের পাহাড় জন্ম নেয় অকারণ ছদ্মবেশে

বিভক্তি আমাদের জিনগত বৈশিষ্ট্য, নিজেরা
আঁকি বিভাজন রেখা, নিজেকে প্রকাশ করি
কথার মারপ্যাঁচ, গোলকধাঁধায় ফেলি সবাইকে
খুব দ্রুতই ভুলে যাচ্ছি রক্তপাতের কথা।
আগাচ্ছে না আমাদের স্বপ্নদেখার পরিসীমা।

স্বপ্ন দেখার বন্ধুরা চলে গেলো অসময়ে
কালো কাপড়ের হায়েনারা নামলো নিরাপত্তার
চাদরে ঘেরা পৃথিবীতে, শুয়োরের হুক্কাহুয়া
ডাকে অসহায় মানুষের চোখ খুব অসহায়
ঈশ্বরের নাম সহজেই বিক্রি হয় ভণ্ডের হাতে।

বানোয়াট গল্পের পিছনে লুকোনো ধ্রুব সত্য
তাকে আড়াল আঁকতে গিয়ে নির্বাক পিকাসো
এঁকে ফেলছিলেন ক্লডিও কাপেল্লির পোট্রেট।
উনি শান্তির পায়রা আঁকার জায়গায় আঁকলেন
ধ্বংস স্তূপের মাঝে দাঁড়ানো অসহায় পৃথিবীকে।

Wednesday, 10 August 2016

রুই সামান্থা

রুই সামান্থা
- ইমেল নাঈম

সূর্যোদয়ের দেশেও সূর্যাস্ত হয়
বন্ধুত্বের উষ্ণতা মাপতে হারিয়ে যায়
পরিচিত মুখ। অপ্রকাশিত ব্যথা
বারবার রক্তাক্ত করে লালসবুজ।

নির্মাণ শিল্পে অবদান নাকি প্রহসন -
প্রশ্নের সামনে দাঁড়ায় নি সাধারণ
অপরাধী নয়, তবুও মাথা নিচু

লিখে দেওয়া মৃত্যুর পরোয়ানায়
প্রেরকের নাম অলিখিত থাকে
ঈশ্বরের নামেই হালাল হয় অপরাধ;

পিছনের পথে এগিয়ে যায় চাকা
প্রবৃদ্ধি থেমে যায় এমন দৃশ্যপটে
চিত্রকল্পে ঈশ্বর প্রশ্নবিদ্ধ নন,
মানুষকে প্রশ্ন করি ঘুরেফিরে,
বিভাজন রেখা টানেন সেই মানুষই

অন্ধকে আলো দিতে নেই, দেখেও
তারা দেখেনি অনেক কিছুই
দৃষ্টিবানকে সমৃদ্ধির পথ দেখাতে
গিয়ে হারিয়ে গেলেন রুই সামান্থা

নানা খবরের মাঝে শিরোনামঃ
আহত হয়ে ঝরলো গোলাপ ফুল...

Tuesday, 9 August 2016

সাইফুল ইসলাম চৌকিদার

সাইফুল ইসলাম
- ইমেল নাঈম

একটি রক্তস্নাত সন্ধ্যা জ্বালিয়ে দিলো সন্ধ্যাবাতি
কারখানার হুইসেল থেমে গেছে
ব্যস্ত মানুষের ঢল ফিরছে আপন সান্নিধ্যে
ধর্মীয় উৎসব কড়া নাড়ছে ঘরের দরজায়
ইফতারপার্টির আয়োজন ভুলে গেছে দৈনিক শ্রম।

উৎসব প্রবণ যুবকের চোখে বিপণীবিতান মুখী
বন্ধুবান্ধবদের দৈনিক আড্ডায় ক্রমাগত
উঠে আসছে ছুটিরর দিনের নানান পরিকল্পনা
এমন এক সন্ধ্যার শেষে নারকীয়তা লিখে দিলো
অনাকাঙ্ক্ষিত মৃত্যুর মিছিল -

দেখে যেতে পারলো না অনাগত সন্তানের মুখ
বাড়তে থাকে মানুষের ভিড় সাইফুলের বাড়িতে
এমন প্রস্থানে কিংকর্তব্যবিমূঢ় সাধারণ চোখ
সামিয়ার চোখের জল শুকিয়ে যায় প্রতিদিনই
স্ত্রী হারিয়ে ফেললেন তার একমাত্র আশ্রয় কে

মৃত্যুর হিসাব কেউ লিখে নি, কারণটিও নয় স্পষ্ট
সবাই একে অপরের মুখদর্শন করেন নির্বিকার
আর সর্বশক্তিমান ঈশ্বর তার অসীম ধৈর্য'র সাথে
দেখছেন পৃথিবী নামক নরকের শেষ ফয়সালা।

বিষণ্ণতার কবিতা

প্রাত্যহিক জীবনের স্পন্দন, ছুঁড়ে ফেলা সময়ের বেশ। প্রান্তিক সময়ের হাঁসফাঁস। উত্যক্ত জীবনের রেশ, ভুল পথে উড়ে চলা রঙিলা ফানুশ। আমাদের স্বপ্নের পরিধিতে আঁকা কালো দাগ। কিছুটা দুঃখের অনুরণনে বাকিটা স্মৃতির রোমন্থন। রোমাঞ্চকর পরিবেশে কিছুটা শৈল্পিক আঁচড়। ভ্যানগঘের কানকাটার গল্প। সাঁওতালী অন্ধকার নেমে আসে পাহাড়ি পাদদেশে। লাল মাটির বুকে জল জমে না অনেক বছর।

কোনো রাবিন্দ্রিক বিকেল, টুংটাং সময়ের হাতেখড়ি। মেঘ জমে আসে স্বপ্নের কৃষ্ণচূড়ায়। একটা লাল পাড়ে শাড়ি। নানান রঙ এর কল্যাণে প্রেমিক সন্ন্যাসজীবনে ব্রত। আবৃত করে রেখেছো নিজের সবটুকু কোমলতা। ইদানীংকাল, আমার বলে কোনো শব্দ নেই। যা ছিলো তাও লিখে নিয়েছে কোনো প্রেমিক পুরাণের গল্পে। আমার তীর্থ পথে কোনো যুদ্ধের ইতিহাস নেই। পানিপথের যুদ্ধে লিপিবদ্ধ সব রক্তের ইতিহাস। জলতরঙ্গের মায়ার মোহে আমিও পথে থাকি সূর্যাস্তে।

সন্ধ্যা নামলে থেমে যায় আমাদের আয়োজন। হারিয়ে যাও তুমিও। চোখের আড়াল শব্দটিও মূল বিন্দুতে এসে দাঁড়ায়। ক্লান্ত আমি ফিরে যাই পিছনের পথে। দাঁড়িয়ে থাকতে থাকতে ঐকতান হারায় গিটারের সবগুলো তার। অবহেলিত পিয়ানোর সুরে বিষণ্ণতার জয়গান। পরিচিত অনেকের ভিড়ে আমি পালিয়ে যাই দূর থেকে দূরে। দূরত্ব দিয়েই পরিমাপ হয় প্রেমের গল্পের। দাঁড়াতে দাঁড়াতে থেমে যায় আদিবাসী চাঁদ। পাহাড়ি মদের আয়োজন। থামতে থামতে থেমে যায় অকর্ষিত স্বপ্ন।

চুপচাপ শেষ হয় সাঁওতালি রাত, কোনো এক প্রেমিক কবির দৈনিক রুটিনে সকাল নামে না। তার সবটুকু সময় পার হয় অন্বেষণে। এভাবেই ব্যস্ত কবি তার কলমকে ছুটি দেন প্রেমহীন জীবনের আলিঙ্গনে।

Sunday, 7 August 2016

পাখিদের বন্ধু দিবস

পাখিদের কোনো বন্ধু দিবস নেই। তারা ব্রহ্মচারী, হয়তো আরব্য বেদুইনের মতো বোহেমিয়ান স্রোতে ভেসে যায় অচেনা পথে। আবার ফিরেও আসে। মরূর বুকের লু হাওয়া শান্ত করে দেয় ধুলোঝড়। পথ কে অচেনা করেছে যে মোহ, তাকে অবেলায় শুনিয়ে দাও ঘুম পাড়ানো গান। বেশি দূরের পথে উড়ে যেতে নেই। পথ হারিয়ে ফেলে কাঙাল পাখি। নিজের পথ ভোলে না কেউ কখনো। কিছুটা ঋণ থেকে যায় ভৌগোলিক হিসেব নিকেশে।

রাত্রিপ্রহরে শীতলতা আর আর্দ্রতাহীন জলবায়ু হাঁপিয়ে দিয়ে যায় নাগরিক প্রাণ। সান্ধ্যকালীন চায়ের কাপে তুমুল আড্ডায় কোনো বন্ধুর জীবনে প্রেম নামে অবেলায়, আর বাকিদের টিপ্পনী সুরকে অবহেলায় উড়িয়ে দিতে দিতে কোনো এক পাখি গেয়ে চলেছে প্রেমের গান। পৃথিবীর মধ্যভাগে ঝিঁঝিঁর ডাকাডাকি নেই, পূর্বের দখলে নিয়েছে তারা। মানুষের জীবন বড্ড অদ্ভুত। তারা মুখোশের আড়ালে বন্ধুত্ব পাতে। অলক্ষ্যে এক ঘা বসিয়ে দেয়। ঘড়ির পেণ্ডুলামের মতো দোদুল্যমান সত্তা নিয়ে তারা পালন করে বন্ধুত্বের আয়োজন।

পাখিদের বুকে কোনো যতিচিহ্ন নেই, তারা সামনে আগাতে শিখেছে, ইন্দ্রিয় দিয়ে বুঝতে শিখেছে জীবনের আনন্দপাঠ। সৃষ্টিসুখ তাদের নেই, প্রকৃতির সুর তাদের মোহিত করে রাখে। আমরা থেমে যাই, তারা থামে না। আনন্দের সুখে আমরা ধ্বংস করি অন্যের বাগান। নিজেদের শ্রেষ্ঠত্ব গাইতে বসে কৌলীন্য বরণ করে নিই। পাখিদের কোনো বন্ধু দিবস নেই, মানুষের আছে। পাখিরা কাউকে শত্রু ভাবতে শিখে নি, মানুষ নিজেকে পাখির বন্ধু ভাবতে বসে কারাগারে আটক করছে, সৃষ্টির আনন্দ আর নিজের বিলাসিতায় ধ্বংস করছে নিজের বন্ধুদের।

পাখিরা যাযাবর, তারা উষ্ণতা খুঁজতে ফিরবে কোনো শীতকালীন সকালে।

Saturday, 6 August 2016

অ্যাডেল পাগলিসি

অ্যাডেল পাগলিসি
- ইমেল নাঈম

অসমাপ্ত উপন্যাসের শেষ শব্দ হয় মৃত্যু। বরণীয় নয়, তবুও আসে অলক্ষ্যে। তুমিও চাও নি এমন দিনের সূচনা, তোমার চারপাশের অন্যমুখটিও নয়। মৃত্যুকে নিয়ে কোনো কবিতা লেখা হয় নি। প্রেম আর দ্রোহের মানচিত্রে তাকে নিয়ে খুব একটা কবিতা লিপিবদ্ধ নেই।

কর্মব্যস্ত দিন, উৎসবের ছুটি পাশাপাশি এসে মিশে যায় এমন দিনে। আততায়ী রূপে ঢুকে পড়ে ধর্মের সেবকরূপী ভণ্ড। তুমিও আতঙ্কিত চোখে দেখছো শয়তানকে। ঠিক মানুষের মতো, কিন্তু মানুষ নয়। তারা অবিরাম ছুটে চলেছে রক্তের খোঁজে। এরবেশি কিছু জানা হয় নি তোমার। বুলেট নিয়ে গেলো প্রাণের অস্তিত্ব।

ঈশ্বরকে পাবার জন্য, তাগুত শব্দের মাহাত্ম্য গাইতে গাইতে ঈশ্বরকে অপরাধীর তালিকায় বসিয়ে দিচ্ছেন অন্ধ সেবক। ধর্ম প্রতিষ্ঠায় প্রাণ, জেহাদের ভুল ব্যাখ্যা কিংবা স্বর্গের অপ্সরী, অমেধাবী মেধাকে ক্রমাগত ভুল পথে নিয়ে যাওয়া কালকাঠি নাড়ানো চরিত্র অচেনা থেকে যায়।

পোশাক শিল্পের চাকা আটকায় অহেতুক স্পন্দনে। থমকে দাঁড়ায় ষোলো কোটি প্রাণ। অ্যাডেল পাগলিসি স্বর্গ খুঁজে পেতে আর কতটা পথ হাঁটবেন আপনি? ঈশ্বরের দেখা পেলে জেনে নিবেন ওনার থেকে প্রেম আর অপ্রেমের সংজ্ঞা।

Friday, 5 August 2016

তুমি, রকস্টার আর মেঘবৃষ্টি

তুমি, রকস্টার আর মেঘবৃষ্টি
-ইমেল নাঈম

দূরত্ব বাড়ছে প্রতিটি নিঃশ্বাসের। থেমে যাওয়া প্রতিবিম্ব
রেখা টানতে গিয়ে ক্লান্ত হয়ে ফিরছে অভিমান ভেঙে
উপচে পড়া ভিড়, ক্লান্ত হয়ে আমরা ফিরি পিছনের
পথে- কাদাজল, এক পশলা বৃষ্টি, ভ্যাপসা গরমের
বিনিময়ে শুধু তোমার চলে যাওয়াই দেখছি কিছুক্ষণ।

অভিমান ভাঙার কোনো গান হয় না, দূরের পানশালা
আমার মতো একাকীত্ব ফেরি করে ফিরে প্রতি সন্ধ্যায়
আমি এখনো বৃষ্টিতে ভিজি, প্রতি ফোটা বিন্দু কণা
জানিয়ে দেয় আনন্দের বিউগল সবার জন্য নয়
কিছুটা মুহূর্ত আমার কাছে ফিরে আসে অচেনা হয়ে।

দুঃখ বিলাসী গান গাইতো পরিচিত এক রকস্টার
সুরেলা গলায় সেও লিখে রাখতো তার প্রেমিকার নাম
বৃষ্টি এলে আমি তার একমাত্র স্রোতা বনে যেতাম
একদিন রাস্তায় দৌড়ে বেড়ানো কুকুর দেখিয়ে
বললাম তার জন্য গাওয়া হোক নতুন একটি গান
বিনিময়ে অবাক দৃষ্টিপাত ছাড়া অন্যকিছু আসতো না।

দুঃখের বিনির্মাণ হলে বৃষ্টিপাতের দরকার হয় না
সারা বছর সিনেমার বিচ্ছেদ দৃশ্য ভাসতে থাকে
বছর পেরুলে ভুলে যাই সেই দৃশ্যপট, মাঝে অবিরাম
মেঘবৃষ্টি হলে সামনে আসো তুমি বা সেই রকস্টার।

আমার শহরে বৃষ্টি

আমার শহরে বৃষ্টি
- ইমেল নাঈম

আমার শহরে প্রতিদিন বৃষ্টি নামে,
ফুটপাত ভেসে যায় অকৃত্রিম আনন্দে।
আমি সখ্য পাতি ল্যাম্পপোস্টের কাকের সাথে
ভিজতে ভিজতে সে গেয়ে নিয়েছে বাদল দিনের গান

শহরের বৃষ্টি মানে প্রতিটি কিশোর একেকটি প্রেমিক
ফুচকার দোকান খালি, হুডখোলা রিকশায়
কাকভেজা প্রেমিক প্রেমিকার অভিসার। বাঁধাহীন
মন আরো কিছু খুঁজে নিতে আড়াল খোঁজে।

অভিজাত পাড়ায় বৃষ্টি মানে কিশোর ছেলে
কানে হেডফোন দুলিয়ে ছাতাবিহীন দৌড়ে যায়
অপেক্ষায় থাকে কোনো সুন্দরী ক্যাফেটেরিয়া
দামাল ছেলের দল পিচ ঢালা পথে অবিরাম
আনন্দসুখে ভিজতে থাকে, ফুটবল ভিজে মাঠে।

বৃষ্টি প্রথম ফোঁটা আজও আমাকে প্রেম শেখায়
ফুটপাথ দৌড়ে চলা কিশোর ছেলেটি একদিন
প্রেমিক হবে, কবিতা লিখবে তোমায় নিয়ে
দিন শেষে কফি মগে জানালায় দাঁড়িয়ে বুঝে নিবে
বৃষ্টির ফোটায় লেখা প্রেমের নামে শ্লোকসমগ্র।

পথিকের গল্প

পথিকের গল্প
- ইমেল নাঈম

মজা পুকুরে জমে থাকা শ্যাওলাদের প্রচারণা
শেষে থামে শূন্যতার আবেদন। একটি দাগ
অজস্র স্পন্দন নিয়ে আসে অচেনা শহরে।
বাড়াবাড়ি নেই, মৌন জীবনজুড়ে বেঁচে থাকে
কিছু রঙবেরঙের ক্ষত'র প্রলাপ।

আবেশের মতো ক্ষণস্থায়ী, উষ্ণতার সান্নিধ্য
পেলে যেটুকু আকর্ষণ জন্মে, তাও মিলায়
দূরতম কোনো প্রণয়ের হাতছানিতে।
মিথ্যে গল্পের পিছনে জীবনের উপকরণ,
আমি নিত্য সাঁতার কাটি নামহীন গন্তব্যে।

অসময়ে আটকে যায় দেয়াল ঘড়ির কাঁটা
হোঁচট খেতে খেতে ক্লান্ত হয়ে ফিরছি,
পথিক নই... পথ মাপি নি যাত্রাপথের
গন্তব্য খুঁজে পেলে নতুন পথের হাতছানি

ছুটে চলা আমাদের জীবনের অলিখিত গল্প।
গন্তব্য বলে কোনো শব্দ নেই অভিধানে
কাঁটার আঘাতে শুশ্রূষাহীন পথ বাড়াতে হয়
তপ্ত গরমে নির্বাক মরীচিকা জমাট বাঁধে
রক্তকণিকায়, তবুও থামতে নেই পথিকের।

Thursday, 4 August 2016

ভাঙাগড়া খেলা

ভাঙাগড়া খেলা
- ইমেল নাঈম

সমসাময়িক আলাপনে কেটে যায় প্রহেলিকা সময়
কঠিন সময়ের হাত ধরে আগাচ্ছিল কিশোর মন
চুপচাপ সময়ের অগোচরে জন্মে কিছু অভিমান
অবহেলায় পেরিয়ে যায় প্রান্তিক সুখের ব্যবচ্ছেদ।

আদরের ইকেবানাতে রয়ে যায় সুর আর সৃষ্টি
জীবাশ্ম মুছে যায় মাটির প্রলেপে, প্রত্নতাত্ত্বিক স্বপ্ন
মাথাচাড়া দিয়ে ওঠে গভীর ক্ষত। ঠিক পিছনপথে
অবহেলায় উড়ে যায় অনাকাঙ্ক্ষিত পরিযায়ী সুখ

অনাবৃষ্টি রেখে দেয় দৌড়ে চলা সময়ের বনবাদাড়
পাহাড়ী পথ টেনে নেয় দূরের এবড়োখেবড়ো পথ
গাড়ীর জানালায় অবিরাম নাচছে বৃষ্টির বিন্দু জল
থেমে যাই পথের কোনো বাঁকে, তাকালেই দেখি
প্রকৃতির নৈঃশব্দ্য পুনরপি। প্রতিশব্দ'র ভাষা নেই...

মুহূর্ত ধরে রাখে আমাদের অনেকগুলো আঙুল
ফিরে আসা সময়ের গল্পগুচ্ছরা অসহায় খুব
প্রতীক্ষার অন্তরালে কিছু রক্তক্ষরণ সোভাবর্ধন
শিল্পে বনসাইয়ের মতো শরীরে লেগে থাকে,

ক্ষরণের বিনির্মাণ দেখতে দেখতে পরিমাপ করি
বিগত বছরের মলিন বইয়ের মোড়কে লেখা
অনেক গল্পের হিসাব নিকাশ আজও রয়ে গেছে
অবহেলায় শুকিয়ে যাওয়া গোলাপের পাপড়ি
আপন মনে খেলে যাচ্ছে নতুন ভাঙাগড়ার খেলা।

Wednesday, 3 August 2016

ব্যর্থ সংলাপ

ব্যর্থ সংলাপ
— ইমেল নাঈম

প্রিয় ইসাবেলা, ভ্রান্ত সময়ের ফেলে আসা
পদধ্বনি এখনো কানে বাজে, চার্চের ঘণ্টা
থেমে গেছে। খানিক আগেই ইটের সলিং
পেরিয়েছে একটা দুরন্ত কিশোর সাইকেল।

মিশনারি ইশকুল ফেলে খানিকটা পথ বাকি
এই পথে পরতে পরতে জমে আছে কৃষ্ণচূড়া
গ্রীষ্ম পেরিয়ে যায়, পথের দৈর্ঘ্য কমে না

মধ্যবিত্ত সমাজ আর মফস্বলের ঘ্রাণ
বাজিয়ে তোলে ভিতরের গোপন অর্কেস্ট্রা
প্রতিনিয়ত আমাতে সুর তুলছো তুমি...

দু'ধারে গাছের সারি, থেমে যেতে শুনি
অচেনা কোনো পাখির ডাক, মুহূর্তে 
কান পেরোয় শব্দসুর, আকাশে মেঘ নেই
গুমোট আবহাওয়ায় নেই স্মারকচিহ্ন।

প্রথম দর্শনের মতো হারিয়ে যাও তুমি
প্রেম আর অপ্রেমের মধ্যে বিভ্রমরেখা টেনে,
সন্ধ্যার আজান শোনেনা কান্নার ডাক
ছুঁড়ে ফেলা খাতাজুড়ে শুধু ব্যর্থ সংলাপ।

Tuesday, 2 August 2016

জাকির হোসেন শাওন

জাকির হোসেন শাওন
- ইমেল নাঈম

অংকে খুব কাঁচা, এতোটা তফাৎ কেনো বাস্তব চিত্রে
পিঠে বিক্রেতা মা সারাদিন খোঁজাখুঁজি করে ক্লান্ত
জানেনা শাওনের খোঁজ। গরিব পেট ধর্ম বোঝে না,
সারাদিন শেফের সাহায্যকারী হিসেবে দিন কাটায়।

মাসের শেষে হাজার চারেক টাকা আর পিঠেপুলি
বিক্রির টাকাই একমাত্র সম্বল, তার বাবা রিকশায়
প্যাডেলে চাপ দিতে ভুলেছে। ছোটো ভাই তিন জন,
অভাবী সংসারের সব খরচ জোটে দু'জনের আয়ে।

সন্দেহভাজন চোখ সন্দেহ করে নির্দোষ অনুভূতিকে
সেই তালিকায় উঠেও ওঠে নি তার নাম, যদিও
ভেসে এসেছিলো নির্যাতনের রোজনামচা, আমলে
নেয়নি হতাশাগ্রস্ত কোটি চোখ। সত্য প্রকাশেও অনড়
আতঙ্কিত মন, নিজের দোষ খুঁজতে খুঁজতে ক্লান্ত।

তারিখ ১, রক্তাক্ত গুলশান। ঈশ্বরের নামে হত্যাকাণ্ড
মরে গেলো অনেকেই কারণ বোঝার আগে, কেউ
পালায় সুযোগ বুঝে। শাওনের শরীর ক্ষতবিক্ষত।
বেঁচে থাকার জীবন যুদ্ধে মরে ফিরে যায় কিছু প্রাণ
ঈশ্বর বোঝেন কিছুটা, উনিও পান পরাজয়ের স্বাদ।