Tuesday, 8 November 2016

নভেম্বরের কবিতা ২

বিচ্ছেদ নগরীর কবিতা
ইমেল নাঈম

একটা অহেতুক গল্প হা করে তাকিয়ে থাকে
ভেসে আসে দামী মুঠোফোনে উড়ে আসা
কিছু সংলাপ, হাপিত্যেশ বাড়ানো আগন্তুক
গল্প সমগ্রের পরিণাম ভাবতেই নামে সন্ধ্যা

শীত নামলে পানাম নগরে যেতে ইচ্ছে করে,
ওখানে কেউ নেই, তুমিও ছিলে না কখনো
কবিতার ডায়রির পাতাগুলো খালি থাকে
কেনো জানি লিখা হয় না, নভেম্বরের বৃষ্টিরা
থেমে গেলেও একটা অনুরাগ থেকে যায়
চোখে ভাসে প্রবীণ সাধকের সাধনার দৃশ্য

সব দেখাই সত্য হয় না, যেমন হয়নি অতীত
ভবিষ্যৎ বলতে শিখেছি এক নারীর সান্নিধ্যে...
ভুল সময় কাটিয়ে বুঝেছি, ডিসেম্বর'র আগে
শেষ জের টেনে দিয়ে মিলিয়ে দিতে হবে
ব্যালেন্স শিটের সকল হিসাব, মুদ্রাস্ফীতির
সাথে সাথে কমে যায় নদীর জোয়ারভাটা

সম্পর্কহীন সবকিছু, তবুও কাকতালীয় মিল...
অস্তিত্বহীন, লারেলাপ্পার মতো বারবার
আঙুল ছুঁয়ে নেমে যায় শেষ বিন্দুতে, বেশি
টানাহেঁচড়া করলে ছিটকে যায় অনেক দূরে

আমি তখন কবিতা পাঠ করি বিচ্ছেদ নগরীর।

Saturday, 5 November 2016

নভেম্বরের কবিতা ১

নভেম্বরের কবিতা ১
ইমেল নাঈম

অনেক কান্নার কোনো মানে থাকে না
কিছু প্রশ্নের কোনো ব্যাখ্যা নেই জমা
রাতের আঁধারে ঢেকে যায় পুরো মানচিত্র
স্বপ্ন দেখার জন্য অস্থির ফজরের আকাশ

রাতের আকাশে কারা আলো জ্বালায়
আবার কারা যেন পুড়িয়ে দেয় ঘরদোর
রাজনীতি তাকে ঘেন্না করিনা, দেখো
সেই পুড়িয়ে ফেলছে আমার পৃথিবী,
ব্যাখ্যা খুঁজিনি, শুধু মাথার ঠাঁইটুকুন...

দুবেলা আহার, এরবেশি স্বপ্ন দেখেনা
চোখের সামনে পুড়ে যায় নিজ পরিচয়
কীইবা থাকে পুড়ে গেলে? মানবতা?
তাকে ঘুম পাড়িয়ে দেয় স্বার্থের ইয়াবা।

পবিত্র কিতাব খুলে দেখো, কোথায় তুমি?
হঠাৎ হঠাৎ সরীসৃপের দেখা মিলে যায়...
মানুষ হতে কশেরুকা থাকতে হয় জানি
কবির কলম নীরব, মরচেধরা কলমে
কান্না আঁকার জন্য নেই কোনো শিল্পী

বিনোদন দাতাদের অল্পতেই মেলে বাড়ী
পুড়ে যাওয়া ঘরের হিসাব কেইবা জানি
ধর্ম দিয়ে কীইবা হয় যদি মানুষই না থাকে!

এতকিছুতেও গল্পটা অপরিবর্তিত থাকে
আলোর দিকে তাকিয়ে নিঃসীম অন্ধকার।

Friday, 4 November 2016

s

পৃথিবীটা আজ খুব অসুস্থ। হানাহানিতে ভরে গেছে মাটি, সহিষ্ণুতার জায়গায় ধান্ধা, ধৈর্যশক্তি নেই হয়ে গেছে। মানুষ আগে হুজুগে লাফাতো, আর এখন লাফানোর জন্য কোনো হুজুগই লাগেনা। ধর্ম পালনে নিয়মিত নয়, অথচ ধর্ম রক্ষায় কি প্রচেষ্টা। হাসিও পায়, কষ্টও লাগে।

Tuesday, 1 November 2016

সত্তা

সত্তা
— ইমেল নাঈম

পেঁজা তুলোর মতো উড়ছি সারাদিন— গন্তব্য জানিনা,
বিবেকের কাঠগড়ায় দাঁড়িয়ে এক অদৃশ্য অপরাধী
প্রান্তিক চোখে বুনে রাখে গোপন ব্যথা আর জিঘাংসা

বিচারক গোপনে সারছেন বিচারকার্য, অদৃশ্যকালিতে
লিখলেন দৈনন্দিন জীবনের অপরাধের জটিল হিসাব
আমি অন্ধ কিন্তু জগত দেখি স্পষ্ট চোখে। অন্তরাত্মা
ঘুমিয়ে অনেকদিন। ডাকিনি কখনো, আবার ডেকেও
ভাঙাতে পারিনি জীবনের গানে আর গল্পের মোহনায়
পাপ ঢাকতে আয়োজন করি লোক দেখানো উৎসব
পরিনামে বাড়তে থাকে লৌকিকতা, নির্বাক দূরত্ব।

প্রেম নিয়ে প্রত্যাশার পারদ কমে আজ শূন্যের কোঠায়
ভালবাসতে গিয়ে আবিষ্কার করি স্বার্থপর এক মুখ
গির্জার যিশু ছলছলে চোখে তাকিয়ে দেখে মানুষ
আমার চোখেমুখে জ্বলজ্বল করে লোভ আর লালসা
আমি হিসাব রাখিনি প্রেমের অংকের, প্রতিদান নেই
বলেই  হয়তো একমুখো প্রেম আজ স্বর্গ নরকে এসে
কড়া নেড়ে জানাচ্ছে প্রেম সরে গেছে অনেক দূরে।

হায় মুহাম্মদ, কোথায় এতো প্রেম, যেখানে লালসা
গিলে খাচ্ছে আমাকে, পৃথিবীতে কেইবা আছে বাকী
যে আমাকে শেখাবে ভালবাসার মন্ত্র, আমি ঈশ্বর
থেকে সরে গেছি অনেক দূরে, যেখানে নিজের ছায়া
ব্যতীত অন্য কোনো সত্তাকে খুঁজে পাওয়া যায়না।

Saturday, 29 October 2016

সেপ্টেম্বরের চিঠি

সেপ্টেম্বরের চিঠি
ইমেল নাঈম

সেপ্টেম্বরের চিঠিগুলো অকারণেই পরে থাকে
সময় পেরিয়ে যায়, সামনের পথে দাঁড়িয়ে
কেউ নেই, তবুও অপেক্ষা থাকে, অবসরে
চায়ের কাপে একমুঠো বিষণ্ণতা লিখে রাখি।

এরই মাঝে ব্যস্ত সড়কের পাশে স্পেনিশ গিটার
বাজিয়ে গান গাইতে থাকা ভিক্ষুকটিও হাতের
ভাজ খুলে খেললো টুয়েন্টি নাইনের ট্রামকার্ড।
সেপ্টেম্বর, শুধু সেপ্টেম্বরই জানে প্রতীক্ষারত
কবি দুরবিন চোখে তাকিয়ে থাকে সামনে।

সেপ্টেম্বর জানে, চিঠিগুলোর কোনো প্রাপক নেই
উড়োচিঠির মতো উড়তে উড়তে আজ এখানে
আমি প্রত্নতাত্ত্বিক, সারাদিন মাটি খুঁড়ে বের করি
প্রেমের উপাখ্যান। এখনো ব্যর্থ নাবিকের মতো
হিসেব করি জোয়ারভাটার স্রোতের বেগ,

পাটাতনে বসে সময় কাটাই, একাকি সময়ে সঙ্গ
দেয় সেপ্টেম্বরের চিঠিগুলো, প্রেরক খুঁজে
পায়নি প্রাপকের নাম, আমি খুঁজে বের করে
সাজিয়েছি তাদের, সেখানে আমার অতীতের
কোনো গল্প নেই, স্মৃতিপটে মুছে গেছে সব নাম...

চিঠি

চিঠি
— ইমেল নাঈম

প্রিয় বাংলাদেশ খুব ইচ্ছে করে ওমরের মতো একটা চিঠি লিখি তোমাকে। নীলনদকে লিখেছিলো ওমর, আমি লিখবো তোমাকে। ওমর ছিলো খলিফা, আমিও রাষ্ট্রের মালিক যদিও বাস্তবে নই, শুধুই খাতা কলমে। ওমরের ক্ষমতা ছিলো অনেক, আমার কলম ছাড়া আর কোনো ক্ষমতাই নাই। 

আমার খুব ইচ্ছে একটা চিঠি দিই তোমাকে। শুনেছি কিশোরীর তাজা রক্তে নাকি নীলনদ ভরে উঠতো জলে। না পেলে শীতকালে অকারণেই শুকিয়ে চৌচির। চিঠির ভিতরে কি লিখা ছিলো আমি জানি না, শুনেছি নীলনদ চিরদিনের জন্য পানিতে ভরে উঠেছিলো ওই চিঠি পেয়ে।

চিঠি লিখতে বসে শুরু করলাম, কিন্তু শুরুর লাইনটা কি হবে সেটা জানি না। প্রযত্নে কাকে দিবো — সেটাও অজানা। একবার এক আল্লামার কণ্ঠে শুনেছিলাম, নীলনদকে লেখা চিঠির লাইনবিশেষ। আমিও ওটার অনুকরণে লিখা শুরু করলাম, হে বাংলাদেশ যদি তুমি মহান আল্লাহ্'র ইচ্ছায় নারী নির্যাতন, ভিন্নধর্মাবলম্বীদের উপরে এহেন নির্যাতন করো আমার কিছু বলার নাই, যদি তোমার স্বেচ্ছায় এমন হয় তবে আল্লাহ্'র কসম তোমার মতো....

বাকি অংশটুকু আমি আর লিখতে পারি না। আমার খুব ইচ্ছে হয় ইদানীং বাংলাদেশকে একটা চিঠি দিই, নীলনদকে যেভাবে দিয়েছিলো ওমর।

Tuesday, 25 October 2016

পাঁচ বছরের জন্য এলিজি

পাঁচ বছরের জন্য এলিজি
ইমেল নাঈম

পাঁচ বছরের জন্য কোনো কবিতা হয়না
পাঁচ বছর জানেনা জীবনের অর্থমূল্য
পাঁচ বছর থাকে জীবন মৃত্যুর সন্ধিক্ষণে
অপরাধ বোঝেনা, কিন্তু সে অপরাধী...

পাঁচ বছর এককাতারে দাঁড় করায় পৃথিবী
পাঁচ বছর কী জানে অন্যায়কারী অনেকে
মুখোশের আড়ালে লুকিয়েছে জনারণ্যে!

পাঁচ বছর জানেনা সাইফুল্লাহরা জন্মেছে
কারো পেট ফুটো করে, পাঁচ বছর বোঝেনা
সাইফুল্লাহরা আঁচলে ঘাম মোছে কপালের
উনত্রিশ বছর বোঝেনি সাইফুল্লাহদের
অসুস্থ মানসিকতার আগাগোড়া বিশ্লেষণ,

উনত্রিশ বোঝে পাঁচের মানে হয়না অংকে
হতে পারে সেটা আড়াই কিংবা সাড়ে তিন
হতেও পারে সাত বা আট বছরের পৃথিবী

উনত্রিশ বছর জানে এতকিছুর পরেও
সাইফুল্লাহরা বেঁচে থাকে অন্যায় নিয়ে
মরে পচে যায় পাঁচ বছরের অনেক গল্প।

Saturday, 22 October 2016

প্রিয়তাকে চিঠি

প্রিয়তা,

মাঝে বয়ে গেলো অনেক সময়। শরতের আকাশ ডুবে গেলো হেমন্তের বুকে। অনেক রাত পেরিয়ে গেছে নির্ভার স্বপ্নে। বাঁধা ছিলো না প্রজাপতির। ভাবি, শান্তিনিকেতনি কুয়াশা বুঝি প্রতি বিকেলে পা ভিজায় প্রিয়তার। দীর্ঘ বিরতি লিখে রাখে অনেক না বলা অভিমান। আমিও রেখেছি কিছুটা তার। বাকিগুলো ঝরে গেছে সকালের শিউলির মতো। লিখতে বসে অবিরত এটাই ভাবছি, প্রিয়তা অবসরে কী তুমি জীবনানন্দ পড়ো নাকি জীবনের আনন্দ কে পাঠ করো সারা সময় ধরে! মনে কী পড়ে বলেছিলে কবিতার বাঁধনে আঁকড়ে ওঠা রোমাঞ্চকর কোনো অধ্যায়ের নাম!

তোমার চিঠি বহুকাল পাইনি, শারীরিক অসুস্থতাও অনেকটা দূরে ঠেলে দিয়েছিলো আমায়। আমিও লিখতে পারি নি অনেক দিন। আসলে অনেক দিন বললে বাড়িয়ে বলা হয় খুব। মাত্র দুমাস। কিন্তু মনে হয় কতকাল। পুরোনো চিঠিগুলো পড়ছিলাম হসপিটালের সিটে বসে। কত স্নেহ, আবেগ আর ভালবাসা এসে জড়ো হলো চিঠিগুলোতে। জানো তো আমি স্বপ্নবিলাসী। কবিতার রঙে তোমাকে সাজাতে থাকি অনবরত। মুখবইয়ের মাঝেও অনুপস্থিত এই কয়েকদিন। প্রতিদিনই যেনো নতুন করে বাঁচার এক আনন্দ।

কোনো এক ডাকপিয়ন বলেছিলো তোমার মন খারাপ। বিশ্ববিদ্যালয়ের অভ্যন্তরীণ সমস্যা। ছাত্ররাজনীতি। তৃতীয় বিশ্বে আদর্শিক রাজনীতি কোনোকালেই কি ছিলো? আমার মনেই পড়ছে না। এখানের রাজনীতিকদের বাদ দিয়ে যদি প্রথম বিশ্বের দিকে তাকাও, দেখো হিলারি ক্লিনটন আর ডোনাল্ড ট্রাম্প ক্ষমতার লোভে কী নির্লজ্জভাবে আক্রমণ করছে একে অপরকে। এরাই আবার পৃথিবীকে সভ্যতা শেখাতে কত বড়বড় ডায়লগ ঝাড়বে ক্ষমতায় আসার পর। আর পৃথিবীও ভদ্রতার নামে মেনে নেয় তাদের সব কথা। কখনো বলে না তাদের এইসব নোংরামোর কথা। কবিতা ভালবাসি, তাই রাজনীতিও। আমারও সাম্যের গান গাইতে ওই মিছিলে হাঁটতে ইচ্ছে করে। অন্যায়ের বিরুদ্ধে সুউচ্চ কণ্ঠস্বর শুনে আমি ভাবি কোকিলের ডাক, সামনেই অনাগত এক বসন্ত।

সাম্প্রতিক সময়ে নোবেল নিয়ে ঝগড়া দেখলাম মুখবইয়ের কল্যাণে। আমার নিজেরও প্রিয় ছিলো হারুকি মুরাকামি। নাহ, উনি নন। পেলেন বব ডিলান। পুরোই থমকে গেলাম এই খবরটা দেখে। এরপরই শুরু হলো নোবেল প্রাইজ নিয়ে নানা ট্রল। আমি তো হতবাক। তবুও ভালো হাসপাতালের শেষ কয়েকটা দিন ভালোই কেটেছে বিতর্ক প্রতিযোগিতা দেখে। ওহ, আমাদের এখানকার প্রথম সারির একটা পত্রিকা একটা মজার কাণ্ড করেছে। নাম টা বলছি না, তবে পত্রিকাটে আমি দৈনিক সুবহে সাদিক নামেই ডাকি। ওনারা বব ডিলানের একটা গান কে বিচ্ছিরি ভাবে অনুবাদ করেছে। এইটা মানে গানটা তোমাকে হোয়াটস আপে পাঠাবো। আমার অবাক লাগে এতো উপরের মানুষ এতো খারাপ অনুবাদ কেমনে করে?

বাবা আশাকরি ভালো আছেন। আর এতোদিনে তোমার মেঠোপথের ক্যাম্পাসে ছাত্রছাত্রীদের পদচারণায় প্রাণোচ্ছল হয়ে উঠেছে। গান কেমন চলছে? কতদিন শুনিনি। জানোই তো মাত্র মেডিক্যাল ফেরত, সেভাবে সময় দেয়া হয়নি তোমাকে। আর তোমার মন খারাপের পরিমাণ কমবে আশাকরি এখন থেকে। আমার পরীক্ষাও কাছিয়ে এলো। কিছুই পড়িনি। সামনে যে দুর্যোগের ঘনঘটা। অবশ্য আমি একাডেমিক পড়াশোনাকে এতোটা গুরুত্বও দিই না। তাই ওটা নিয়ে ভাবছিও না খুব একটা। পড়াশোনার দরকার মননের জন্য, মানুষ হয়ে ওঠার জন্য।

তোমার নতুন চিঠির অপেক্ষায় রোদ্দুর। প্রিয়তা জানো তো, সব কবিতার মানে হয় না। প্রতিটা ভালবাসিও কেনো জানি বাসি হয়না। প্রতিটি মুহূর্ত মুহূর্তের মতোই কথা বলে। আসলে কবিতার মোড়কে যাই লিখে যাই তার সবটাই তোমাকে ভালবাসার গল্প।

ফিরে আসা
রোদ্দুর
চট্টগ্রাম।

Friday, 21 October 2016

শিক্ষালাভ

শিক্ষালাভ
ইমেল নাঈম

ঈশ্বর আমি তোমার সাথে প্রেম করতে চাই

আমার অষ্টাদশী প্রেম ভাসে আবেগে,
তোমার সাথে গড়তে চায় অলিখিত বন্ধন।
শিখিনি আকৃতির তত্ত্ব, প্রশ্ন করিনি অস্তিত্বে
আনন্দ খুঁজতে মাথা পেতে দি' তোমার বুকে।

নিজেকে খুঁজে পেতে চাই লোক লোকারণ্যে
দামী মন্দিরে কিংবা শানবাঁধানো গির্জাতে নয়
মসজিদের মিম্বারে অথবা প্যাগোডার শান্ত
অবয়বে তোমাকে খুঁজিনি আমি কোনোদিন।

আমি সকালের স্নিগ্ধতার আবেশে খুঁজি,
রেখে দেওয়া প্রাণান্তকর পৃথিবীর পথেঘাটে
প্রাণের ভিতরের স্পন্দন খেলছে আপন মনে
তার প্রতিটি স্তরে খুঁজে পাই তোমার স্পর্শ।

তোমাকে খুঁজতে দেখি — সকাল সন্ধ্যা টাকার
গোলাম ভাঙাচ্ছে ডলারের বাণ্ডিল, ধর্মের
নামে ব্যবসা করে ফিরছে ভণ্ড প্রতারক,
তোমাকে আপন করতে গিয়ে ক্রমশ দূরে
সরে যায় মানুষ, তোমার থেকে অনেক দূরে

প্রতি বেলার আযান আমাকে প্রশান্তি দেয়
বুদ্ধের অহিংস নীতি আমাকে করে সজীব
সন্ধ্যার উলুধ্বনি আমাকে ভাবতে শেখায়
ক্রিসমাসের আনন্দে আমিও ভাসতে জানি
ধার্মিক মানুষের সান্নিধ্য আমাকে তৃপ্তি দেয়

আমি তোমার কাছেই প্রতিদিন প্রেম শিখি
অপূর্ব পৃথিবীর রূপে কতভাগ দিলে তুমি
আমি প্রকৃতির সৌন্দর্য দেখে অনুভব করি
তোমার রূপের মহিমা। আমি প্রেম শিখি...

তোমার সাথেই প্রেম করতে চাই পরমেশ্বর।

Thursday, 20 October 2016

একগুচ্ছ অন্ধকার

একগুচ্ছ অন্ধকার
ইমেল নাঈম

১।

অন্ধকার তাড়াতে ঢুকে পড়ি
ভুল কোনো গলিতে

ল্যাম্পপোস্টের আলোতে
তাড়াই নিঃসীম আঁধার

রাতের আলোয় সব দৃশ্যমান

তবু, আমি আলোর অপেক্ষায়
হাঁটছি অন্ধকারের অলিগলি।

২।

দু হাত বাড়াই, আঁকড়ে ধরতে
চাই শিকড়, মুহূর্তে মিলিয়ে যায়।

পথের গল্পে শেষ বিন্দুতে কিছুই
থাকেনা বর্ণিত, নিরাকার সুর
তাকে বাঁধতে গিয়ে হারিয়ে যাই

আলিঙ্গন করি পাপ, দায়ভার
কমানোর অংক করলে বুঝি
আলোর পথ অনেক দূরে।

৩।

সিরাত ডুবে গেছে, আলো নেই।
অন্ধকার ছুঁয়ে গেছে চারপাশ
নিঃসীম আঁধারে কী থাকে আমার
ক্রমাগত খুঁজে চলেছি তোমাকে...

৪।

তাকিয়ে থাকি অনির্ণীত গন্তব্যে
আলোর সন্ধ্যানে হাঁটি অন্ধকারে।

Saturday, 15 October 2016

আর্জি

আর্জি
ইমেল নাঈম

কোজাগরী চাঁদ আস্ত গিলে খায় আমাকে
বিন্দুর শেষ রেশ টানতে বসে অজানায় হারাই
মিউজিক প্লেয়ারে ভেসে আসে অস্কার পেটারসন...

আজ নেশা করতে আপত্তি নেই সিন্ডারেলা 
আমায় জুতো হারাবার গল্প শুনিও না আর
দুঃখের প্রলেপে জমে গেছে অহেতুক প্রশ্ন
নিজেকে মিথলজির কাল্পনিক চরিত্রে খুঁজছি না

তোমরা কেউ কখনো চাঁদটিকে ডুবতে দিওনা 
আমৃত্যু থেকে যাক প্রবারণা, আকাশে উড়ুক
নানা বর্ণের ফানুশ। কবিরা ফানুশ দেখে 
বেঁচে থাকে নতুন কোনো কবিতা লেখার জন্য।

নির্লজ্জ চাঁদ তুমি আর গিলে খেয়ো না আমাকে
পাত্রের শরাব শেষ হয়ে এলো প্রায়, যদিও আমি
ঘোরলাগা চোখে সৌন্দর্য পান করছি এখনো।

Thursday, 13 October 2016

দুঃসপ্নের খসড়া

দুঃসপ্নের খসড়া
— ইমেল নাঈম

বাবেল মান্দেব খুলে গেলে আর কোনো অবয়ব থাকে না
নিশ্চল দেহের নিরাকার ছোটাছুটি, প্রাণবন্ত উড়ে বেড়ায়
রুহ জানে প্রিয় মানুষের কান্নার রঙ, কেবলমাত্র রুহ চেনে
পাপ পুণ্যের অংকের বেসামাল হিসেবে নগন্য এক দেহকে

ভেসে আসে আজানের ধ্বনি, খানিক আগেই কিছু লোক
খাটিয়া নিয়ে গেছে এ'পথে, কার ডাক এলো— জানা হয়নি
ভাবতে থাকি মুক্তির নাকি নতুন করে পুনঃ পরাধীনতার
শৃঙখলে আবদ্ধ হবার মন্ত্র, বারবার চেষ্টা করি কার মুখ
নিজের মুখ দেখে কাঁপতে থাকে দেহ। ঘাম জমে কপালে।

রাতের ম্লান সিরাত, কোথাও বাজছে সুকরুণ এক বেহালা
গভীরতা বাড়লে দরজার এ'পারে কোনো শব্দ ভাসে না
ভূগর্ভের প্রহরী অনবরত হিসেব করছেন পাপ আর পূণ্যের,
ডান কাঁধের অংক মিলে যায় অল্পেই, বাম কাঁধ দেখে ভয়ে
মুষড়ে উঠি বারবার—কল্পনাতেই শিউড়ে ওঠে পুরো শরীর।

আতঙ্কে ঘুম ভাঙতেই বুঝি, রাত শেষভাগ এসে চুমু খায়
আমিও দুঃস্বপ্নে আর ভয়ে বিড়বিড় করে পড়তে থাকি
লা ইলাহা ইল্লাল্লাহু মুহাম্মাদুর রাসুলুল্লাহ্, এরপর ঘুম...
ঘুম ভাঙলেই ক্রমাগত ঈশ্বরের থেকে দূরে শটকে যাই।

(নোটঃ বাবেল মান্দেব আরবি শব্দ, মানে মৃত্যুর দরজা। সিরাত ফার্সি শব্দ, মানে চাঁদ)

Wednesday, 12 October 2016

তোমার জন্য লেখা

তোমার জন্য লেখা
— ইমেল নাঈম

তোমায় নিয়ে লেখা কবিতাগুলোর কোনো উপমা নেই
সাদামাটা, অথচ আমার চোখকে মনোযোগী করে রাখে
সমগ্র শরীরজুড়ে বিচরিত অজানা একটা জাদুর খেলা
আমার বুকের প্রেম পাখিকে আবিষ্ট করে পুরো সময়,
আমিও উড়তে শেখা চড়ুই বারবার বসতে চাই বুকে
আর ক্রমশ ডুবেতে থাকি গহীন অরণ্যের সমারোহে।

চুপ করে সময়কে আলিঙ্গন করতে থাকি, সব মনকাড়া
দৃশ্যপট একে একে অচেনা হয়ে যায়, তুমি সুন্দর থেকে
আরো রূপবতী হও, কাছ থেকে ইচ্ছে করে ছুঁয়ে দেখি।
তুমি আড়াল ভালবাসো গঙ্গাফড়িং-এর মতো, পালিয়ে
যাও আমাকে শুরুতে রেখে, আমি আগাতে গিয়ে থামি।

গল্পের মতো শিহরণ, না না সবটা বলি নি এভাবে খুলে
কিছু গল্প অজানা থাকুক রোমাঞ্চকর অনভিজ্ঞতায়
সিরিয়াল কিলারের মতো ঠাণ্ডামাথায় আঘাত করছো
ব্যথার তীব্রতা বুঝতে পেরেও চুপ করে বসে থাকি
তোমার শরীরের ঘ্রাণ নিতে পারা প্রজাপতিকেও ঈর্ষা...

তুমি সকালে আসো আবার মিলিয়ে যাও খানিক বাদে
আমি তীর্থেরকাক, শুধু নীরবে আসা যাওয়া দেখি।