Sunday, 19 February 2017

হিসাব নিকাশ


ভেসে আসে। যেটুকু আসার নয়, তাও নিয়েছে মুঠো ভরে।
প্রাপ্তির খাতা জুড়ে আঁকছো বিষণ্ণতা, উড়ুক্কু সাময়ের
হাতেখড়ি, স্পর্শদের মুছে দিয়েছে সময়। আযান থামে।
সূর্য হেলে গেছে পশ্চিমে, চাঁদ ব্যস্ত নিঃসঙ্গতার বিজ্ঞাপনে।

দৃশ্যমান নয় তবুও নীড়ে ফিরে পাখিদল — পথের শেষ দৃশ্য
আঁকছেন কোনো কবি — অবেলায়, লিখছেন কেবল শূন্যতা
প্রশ্ন করো না, কিছু প্রশ্নের উত্তর অজস্র বিস্ময়ের জন্মদাতা
আহত হলে ঢেকে রাখো চোখ, লুকোতে শেখো আবরণে
সান্ত্বনা দাও — কী হবে ইজেলে মিথ্যে রঙ তুলীর সমাবেশে

প্রান্তিক জীবনের এক মুঠো প্রলাপ — তাকে মুছে ফেলো
প্রয়োজনে শিখে নাও পুতুল নাচের সকল আয়োজন।
অবসাদের তর্জমায় নেমে আসতে পারে বিস্ময়কর রাত
ব্রাত্যদের জিপসি হলে মানায়, পেরিয়ে যেতে পারো দূরে

অদ্ভুত সাজে সজ্জিত রাত, ফুরোবার নয় ঘড়ির অস্থিরতা
নির্ঘুম রাত, নির্মোহ নয় একদম, প্রাপ্তির অংক শিখায়
যদিও ভুল অংকেই মিলিয়ে দিচ্ছি জীবনের হিসাব নিকাশ

Wednesday, 15 February 2017

সমুদ্র ভ্রমণ

সমুদ্র ভ্রমণ
— ইমেল নাঈম

ফাঁক গলে মিলিয়ে যায় এক চিলতে দুপুর। অর্কেস্ট্রা তোমায় কে বাজায়? ভাত ঘুমের তন্দ্রা কাটিয়ে উঠতে পারিনি এখনো। যদিও মোলায়েম কিছু সুর কানকে জানিয়ে যাচ্ছে শুভ বিকেল। হাতঘড়িটিও অবশ, সেকেন্ডের কাটা আটকে গেছে দৃশ্যমান অদৃশ্য কোনো চিত্রপটে। কল্পনায় আঁকা সন্ধ্যা, চাইলেই উড়িয়ে দিতে পারি গাংচিল।

সন্ধ্যার বুকেও খেলে ফেলা যায় লুকোচুরি। নিজের কাছ থেকে লুকোতে লুকোতে চলে যাই সঙ্গীতের কাছে। সঙ্গীত —  তুমি আমায় আর মোহিত করো না। আবিষ্ট করো না ভুল মানুষকে, ঠিক এইভাবে ইন্দ্রজালে বেঁধো না আর। অন্ধকার ভয় পাই। জানি না, সন্ধ্যার পরের গল্পের সম্মোহনীয় গোপনতা।  পেরিয়ে যাওয়া যায় সিঁড়ি ধরে অনেক পথ। যাবার সময় কেইবা সাজিয়ে রেখেছিলো এই পথ বেলি আর পলাশে।

আমি তো চিনিনা নিজেকেই। কী করে তোমায় চিনবো! অদৃশ্য গল্পের পথে কেনো আঁকছো বৃত্ত। আমি হাটতে হাটতে পেরিয়ে যাচ্ছি উঠোন। গন্তব্যের ইতিটুকু জানি না। অথচ, চলে যেতেই হবে দূর। যেতে যেতে একদিন সমুদ্রের সামনে এসে দাঁড়াবো, আর বুঝে নিবো সঙ্গীতের সকল আয়োজন।

প্রকাশ কালঃ ৩ ফাল্গুন ১৪২৩

Friday, 10 February 2017

পর্বতারোহী

"তোমার স্তনে হাত রাখলে মনে হয় যে  একটা
                      ছোট্ট পাখি চেপে ধরেছি মুঠোর ভিতরে
জোরে চেপে ধরলেই ম'রে যাবে – "
– শমসের আনওয়ার

পর্বতারোহী
– ইমেল নাঈম

হয়তো পৌঁছে যেতে পারি স্বর্গ উদ্যানে, যেমন করে পেরিয়ে গেছে
সোনাজ্বলা প্রহর। গত রাতের গল্প বলিনি, অলিখিত শব্দ সোপান
ঘিরে ধরেছিলো আমাদের স্পর্শগুলো, অংকের সমীকরণে
বিদ্ধ করে নিচ্ছিল গোলাপের সুবাস আমিও কৃষকের মতো
চাষাবাদ করে নিয়েছিলাম আবাদি আবাসন। প্রান্তিক সুর
থেমে গেছে, সুবহে তারা নির্লজ্জ হলেই ঘেমে যায় সকাল।

তোমাকে পুরোটা চিনি, শরীরের প্রাণীবিদ্যা থেকে মনের রসায়ন...
সবটাই আওতাধীন। পঞ্জিকাবর্ষ উল্টালে সালতামামির জন্ম হয়,
ব্যর্থতার প্রলেপে আটকে পড়া কৌণিক প্রহসন, ত্রিভুজে জন্মানো
যতসব বিক্রিয়া, যেগুলো ভুলেও জায়গা পায়নি রসায়নের বইয়ে।
ঠিক তাদের ভেবেই কাটিয়ে দিলাম সারা রাত – অর্থহীন।

সকাল হলেই আবিষ্কার করি অনুভূতিহীন সময়ের, কোনো পাখি
নেই, যা আছে শক্ত প্রাণ – যা ক্রমশ বড়ো হতে হতে মিশে গেছে।
ক্ষেত্রবিশেষ প্রেম প্রাণহীন হয়, তাতেও প্রেম লুকিয়ে। গতরাতে
পর্বতারোহণ পর্বে কোনো পাখি নয়, একটা বসতির দেখা পেলাম।

Monday, 6 February 2017

বখাটে স্পন্দনকে

বখাটে স্পন্দনকে
— ইমেল নাঈম

বখাটে স্পন্দনে মুছে গেছে গল্পকথা
রেখে যাওয়া শ্রান্ত চোখের ঘুমন্ত সুর
থামো... তুমি অন্তত এবার থামো

অবেলায় এভাবে জর্জরিত করো না
অবহেলায়
    অনাদরে
        আঘাতে
আহত করার কোনো মানে নেই।

স্লেটে লেখা শিরোনাম মুছে দিয়েছে
এখানে কোনো চিহ্ন জমা নেই
আর চলতে ফিরতে পেরিয়ে গেছি
অসময়ের বিউগল... ক্রমশ ছুটছি...

ক্যানেস্তারার সুর বাজছে কই?
আমাকে গ্রহণ করো প্রকৃতি
মিশে গেছি ধুলোর আবরণে
আছি জলের কণার নীলাভ সবুজে
আঘাতে তুচ্ছ প্রাণের কী এমন ক্ষতি

বলছি বখাটে স্পন্দন থামো এবার
অতটা আঘাত নিয়ে পেরোতে শিখি নি
ঐকতানে সুর নেই, শ্রান্ত বাতাসে
উড়ে বেড়ায় প্রকাশিত ব্যর্থ প্রণয়।

Saturday, 4 February 2017

wrong - সঙ কবিতা

wrong - সঙ কবিতা
ইমেল নাঈম


আপনি বই লিখুন, নাম দিন ঢেকে রাখো প্রকাশিত শূন্যস্থান
গোপন আশীর্বাদে ঠিকই জুটে যাবে সাহিত্য পুরস্কার

বিক্রি বাট্টা নিয়ে ভাববেন না, ওসব আমার মতো
ছায়াহীনরা ভাবে, আপনি লিখুন কতটুকু ঢেকে রাখবো
কতটুকু প্রকাশ করতে হবে। হাসা যাবে তো প্রকাশ্যে?
নাকি নাক মুখ খিঁচে ধৈর্য পরীক্ষায় বসতে হবে,
আমি স্বরগ্রাম বুঝি না, গান-ফান শিখি নি। আড্ডায় স্বর
বেড়ে চলে যায় দশে, এরপর শতে, শত পেরিয়ে হাজারে।

আপনি ঠিক করে দিন, পোশাকের রকমফের
কোন বয়সে কী রকমের পোশাক চলবে, প্রসাধনীর
খবরাখবরও দিয়ে রাখতে পারেন বইয়ের ভাজে
আপনার ফ্যাশন দুস্তর প্রতিভাটা এতদিন কীভাবে
লুকিয়ে রেখেছিলেন। আসলে আপনি পারেনও বটে!

উৎসর্গ পাতায় লিখবেন নবীন, প্রবীণ, সমসাময়িক,
পাতি, খুচরো সব কবির জন্যই এই বই প্রযোজ্য।
কোড অব কন্ডাক্টের উপর আর কেউ লিখে নি আগে

নেক হলো এবার আপনি কবিতা লিখা বাদ দিন,
বরং অন্যকে এথিকস শেখান, নিজের কদ্দুর জানেন
তা মূখ্য বিষয় নয়। বই হোক অন্যের পোশাকআশাক,
আচার ব্যবহারের উপর। কে জানে আরেকটা সাহিত্য
পুরস্কার আপনার জন্য অপেক্ষারত এই উছিলায়...

(বিঃদ্রঃ বিভাস রায় চৌধুরী কবি শ্বেতা চক্রবর্তীর পোশাক নিয়ে প্রকাশ্যে সমালোচনা করায় তাৎক্ষণিক প্রতিবাদ স্বরূপ এই কবিতাটা।)

Thursday, 2 February 2017

একাকীত্ব


“অবশেষে জেনেছি মানুষ একা !
জেনেছি মানুষ তার চিবুকের কাছেও ভীষণ অচেনা ও একা !"
আবুল হাসান

একাকীত্ব
ইমেল নাঈম

মুহূর্তে হারিয়ে গেলো অনেকগুলো শঙ্খচিল, নোনা জল, শ্রান্ত সাগর পাড়ে
রেখে যাওয়া স্মৃতিচিহ্নে অজস্র গল্প লিখে রেখেছিলাম নাবিক বুকে
বুভুক্ষুর কাছে এসে জেনেছি নিঃসঙ্গতার প্রথম সোপান হিসেবে গিলে নেয়
অপার আনন্দ অশ্রু। দীর্ঘল রাত বারবার ফিরে আসে পিছনের পথে
আর টেনে নেয় সাগরের গভীরে, শান্ত সাগর আর কিচ্ছুটা করে না
শুধু ভাসিয়ে নিয়ে যায় জোয়ার ভাটার সব গণিতকে ভুল প্রমাণ করে।

ভাসতে ভাসতে ভেসে যায় অনেক কিছু, কাছের সব ক্রমশ দূরবর্তী
সিগন্যাল নেই, বাতিঘরের আলো আমায় এখন স্পর্শ করছে না একদমই
ভাসতে ভাসতে ডুবে যাবার প্রস্তুতি হিসাবে সঙ্গীত পাঠ করছি অনবরত
আমি কারণ জানি না, মন্ত্র ভুলে যাওয়া নাম তান্ত্রিক সুরে বেজে ওঠো
হয়তো শেষবারের মতো জপে নিতে পারবো অলিখিত বর্ণন।

মানুষ কী সত্যি একা? একা, তবে কেনো ভাবছি ফুরিয়ে যাবার গল্প
স্মৃতির আলাপনে বুঝলাম একাকীত্ব বলে কোনো শব্দ নেই অভিধানে
মানুষ নিজেকে চিনতে পারে না কোনো কালেই , তবুও সে একা নয়
গভীর বিচ্ছেদের পরেও সে একাকীত্বের ব্যাজ বুকে নিতে পারে না
তাকে ছুঁয়ে যে গভীর ব্যথা, তাকে সঙ্গীহীন করেছে কে? কোথায়? কবে?

ব্যথা কমে গেলে আবার নোঙ্গর ফেলে। আলবাট্রস দেখতে দেখতে
একসময় গাংচিলের সাক্ষাত মিলে জীবনের খাতায় , কবিতার পাতায়...
নিঃসঙ্গ আলাপনের ফাঁকে কী মনলোগে শিহরণ জাগায় নি স্মৃতির বিভ্রম!
মানুষ কখনো একা নয় , কিছু স্পর্শ চুপচাপ তার বুক ঘেঁষে দাঁড়ায়
একটা বুনো ঘ্রাণ তাঁকে ছুঁয়ে থাকে সর্বক্ষণ... মানুষ একা হতে শিখে নি

একাকীত্ব চর্চা করা মানুষের কাছে রয়ে গেছে বকেয়া ঋণ পৃথিবীর...

Monday, 30 January 2017

আবিষ্কার

আবিষ্কার
— ইমেল নাঈম

বিমুগ্ধতার কোনো সংজ্ঞা নেও, কাচ ঘেরা ঘরের
নেই কোনো গোপনীয়তার সনদ, সাবধানতার
মন্ত্র পাঠ করতে গিয়ে হারিয়ে গেছি বিপরীত পথে
পাহাড়ের কাছে ফেরার পথে হারিয়েছে ঠিকানা
সর্বহারার দলভুক্ত অথচ কোনো আফসোস নেই।

কার স্পর্শে খুঁজছি পড়ন্ত বিকাল, সূর্য ডুবে যায়
বৃদ্ধ নগরীতে, মৃত নদীতেও স্বপ্ন লুকিয়ে রাখি
কারুকার্যের প্রলেপের অন্তরালে বিনিসুতোয়
রেখেছি অষ্টাদশী স্বপ্ন, ঋণ নেই হিজলের কাছে
দীর্ঘদিন নাগরিক পাখিদের কণ্ঠের গান শুনিনি

পাহাড় প্রিয় নয়, জলও নয়, উষ্ণতা ব্যতীত অন্য
কোনো কিছু কখনোই আমাকে আকৃষ্ট করেনি
কিন্তু, উত্তাপহীন ক্ষত নিয়ে পরিব্রাজক রূপে
পালিয়ে যাচ্ছি আগামীর পথে, বেদুইনের চোখে
আঁকতে বসেছিলো পোর্ট্রেট, ইজেলে শুধু ছড়িয়ে
যাচ্ছে রঙ, ক্রমশ দুলছি অদৃশ্য সময়ের পেন্ডুলামে

আকাশের রূপ দেখে কোনো পূর্ব অনুমান নেই
মিলিয়ে যায় পশ্চিমের রাগ, হারাচ্ছে বিকেল
খানিক বাদেই রাস্তার নিয়ন আলো জ্বলবে, টঙ
দোকানে দৈনন্দিন চা সিগারেটের ভিড়ে আবিষ্কার
করি অসহায়ত্ব, জনারণ্যে মিলিয়ে নিই ধ্রুবসত্য —

এভাবেও হারিয়ে যাওয়া যায়, দৃশ্যমান কিন্তু অদৃশ্য...

Friday, 20 January 2017

2 kobita

অসুখ
ইমেল নাঈম


ছিপ ফেললেই উঠে আসে না কিছুই
উৎকণ্ঠা নিয়ে পেরিয়ে যায় সুর্য
ভরদুপুরে তেমন তাড়া থাকে না

বুক পকেটে লিপস্টিকের দাগটি
শুকিয়ে যায় অভিযাত্রিক পথে
আমার পথ চাওয়াতেও সুখ নেই

কৌণিক হিসাব অনুসারে বিকাল
নামলে ছিপ তুলে বাড়ী ফিরে যাই...
ঝোলায় ঝুলছে কেবল শূন্যতা

জামার লিপস্টিক শুকালেও সন্দেহ
করে না এখন কেউ আমাকে, কিন্তু
মনের ঘরে পাপবিদ্ধ হচ্ছি প্রতিমুহূর্ত।


বর্ষাকাল
ইমেল নাঈম


একটা ছেলে সবুজ রঙের বৃষ্টি আঁকছিল
তোমার উঠোনে, হয়তো দেখেছিলে
তার রঙ পেন্সিলজুড়ে লেপটে থাকা
প্রেমের উপাখ্যান। ছেলেটি আর আসেনা।

বৃষ্টি নয়, প্রেম আঁকার পর চলে গেল
যাবার সময় ফেলে গেলো জলতরঙ্গ
পট আর জলরঙ বৃষ্টিতে ভিজেনি এখনো
ছেলেটি প্রেম নয় বৃষ্টি আঁকতে এসিছিলো

তুমি অপেক্ষায় থাকতে থাকতে খেয়াল
করলে না কখন যে বর্ষাকাল চলে এলো।

Wednesday, 18 January 2017

পূর্বাভাষ

পূর্বাভাষ
— ইমেল নাঈম

থেমে যাওয়ার আগ মুহূর্তে শুনি বিষণ্ণতার সাইরেন
ঝড়ের পূর্বাভাষ বারবার ভুল হলেও থাকে আতঙ্ক
লাল মাটির শক্ত পলিও জানে মিলিয়ে যাবার মন্ত্র।
নিশ্চিহ্ন হবার পূর্বক্ষণে হাত পা ছুঁড়ে ব্যর্থ প্রতিবাদ
শিখেনি যে যুবক তাকে কেন বলেছিলে ভালবাসি!

অহেতুক চ্যাঁচামেচির শেষে উল্লাসের কারণ জন্মায়।
সুখের নামতা শেখা যুবক বুকেও সৃষ্ট শিহরণটুকু
হঠাৎ করে ঘুমিয়ে যায় প্রশান্ত মহাসাগরের মতো।
গভীরতা আর নীলাভ আঁচলের মায়াঘোর কাটাতে
চাইলে পিছনের দিকে চলে যেতে পারো — চিরতরে।

নাবিক জীবনের গল্প লিখে রেখেছি মানচিত্রজুড়ে
কম্পাসের মলীন চোখ ফিরেছে বন্দরের পর বন্দরে
তিরের নিশানা ভুলে গেছে দূরবীক্ষণ যন্ত্র, কাছের
চিত্রপট ঘোলাটে আর ধোঁয়াটে হতেই জ্বলে ওঠে
মাস্তুলের বাতি। নিদ্রারত সময়ের পথে শ্রান্ত নাবিক।

সকাল আসে স্রোতের দেখা পাই, রয়ে যায় রেশ
ঘড়ির কাটা জানে সময় আপেক্ষিক, ভ্রমণ ধ্রুব সত্য।

Tuesday, 10 January 2017

নাগরিক আর্তনাদ

নাগরিক আর্তনাদ
— ইমেল নাঈম

পিছন ফিরে তাকাই, কুয়াশায় ঢেকে গেছে জনপদ
সূর্যের নিচে দাঁড়িয়ে বুঝি সকাল হতে অনেক দেরি

প্রত্নতাত্ত্বিক গবেষণায় আটকে ফেলেছি নিজেকে
ডাইনোসরের জীবন ব্যবস্থা জানতে গিয়ে ভুলেছি
দিনপঞ্জির ছুটির হিসাব নিকাশ। হাহাকার চাপা দিই
নিজেকে সান্ত্বনার সমারোহে, এরবেশি কিছু জানিনা...

মাঠের চাদর জুড়ে কুয়াশা মুছে যায়। কর্মব্যস্ত
নগরী নিজেকে আবিষ্কার করে বাঁচার তাগিদে
উদ্দেশ্যহীন পথ চলা মুখেদের সমারোহে রয়ে যায়
চাপা কষ্ট, মুখের নতুন কোনো বিজ্ঞাপন নেই...

ভাষা ভুলে গেলে যা বাকি থাকে তার নাম জীবন
এসবের মাঝে ফোঁস করে ওঠা শব্দগুলোকে ভাষার
আদলে ঢাকতে গেলে জন্মায় নাগরিক আর্তনাদের।

Monday, 9 January 2017

পান্ডুলিপির কবিতা

গণতন্ত্র পাঠ
ইমেল নাঈম


সেদিনও গণতন্ত্র বলতেই ভেসে আসতো একটি নিরাপত্তা বলয় আবিষ্ট বাড়ী, কিছু বালুর ট্রাক আর পুড়ে যাওয়া মানুষের শবযাত্রা। তোমরা মাটি ভালবাস বলেই পুড়িয়ে দিচ্ছিলে সবকিছু। মাটি পুড়লেও মানচিত্র বাঁচে তাই আজও মাটি কামড়ে চলেছ তা দিনের পর দিন।

দাবী পালটা দাবী, মিশন- ভিশন, সবকিছুই কি লোক দেখানো। জনগণের স্বার্থে পুড়িয়ে ফেলেছিলো আমাদের। বাতাসে ক্রমান্বয়ে বেড়েছিলো পোড়া গন্ধ। স্বস্তির খোঁজে দৌড়চ্ছিলাম দিগভ্রান্ত হয়ে। একদিকে নিরাপত্তা দিতে ব্যর্থ অন্যদিকে আন্দোলনের সংজ্ঞা না জানা একদল লোক।

কারো কারো জীবনের সব আয়োজন চলেছিলো ঘরের ভিতরের মনোরম পরিবেশে। হুকুম দিতে অন্ধ চোখে। মায়াকান্নার রোলে সাজাতে নতুন নাটক। তথ্য জানার অধিকারে টুঁটি চেপে ধরেছিলে নিজেদের স্বার্থে। সত্যি তুমি মহান, তোমার থেকেই শিখে নিয়েছি অত্যাধুনিক গণতন্ত্রের পাঠ।

ছিলো সকাল থেকে সন্ধ্যাবধী অনিশ্চিত এক জীবনের হাতছানি। এখনো ভয়ে থাকি আবার যে কোন দিন ফিরবে এমন গণতন্ত্র। যদিও পাশের ঘর থেকে এখনো ভেসে আসে শব্দগুচ্ছ, "ডেমোক্রেসি ইজ আ গভর্নমেন্ট অব দ্যা পিপল, বাই দ্যা পিপল এন্ড ফর দ্যা পিপল।"

আমি তাড়াতাড়ি আটকে দিই দরজা জানালা। এই কথাটুকু ভুলে যেতে চাই অনেক ভুলের যাওয়ার মাঝে।


এভাবেও বেঁচে থাকা যায়
ইমেল নাঈম

প্রতিদিন কে যেন বলে কিছু লিখো, অনেকদিন নিদ্রা যাপন আর বিরতিতে কাটিয়ে দিলে অব্যক্ত ফাগুন। খুব গভীর সেই ডাক। বলে অনেক উপেক্ষা আর অপেক্ষার আবরণে বলিদানের উৎসব হচ্ছে খুব।

প্রতিদিনই ভাবি আজ কিছু লিখবো। আত্মনিমগ্ন হতেই চোখে ভাসে জ্বলে যাচ্ছে মানচিত্র। ছাই হয়ে যাওয়া বাস আর তার অবশিষ্ট নিথর কৃষ্ণ কালো সেই দেহগুলো।

একদিন আমরা সবাই বেরিয়ে এসেছিলাম রাস্তায়। মাসটা ফেব্রুয়ারী, সাল দুই হাজার তেরো আর তারিখের ঘরে পাঁচ। আমরা এখন আর বের হই না। জাগরণের নাম কারা যেন দিয়েছিলো প্রহসন। পরিচিত নামগুলো অপ্রকাশিত থেকে যায়, ইচ্ছায় কিংবা অনিচ্ছায়।

নিজেকে বয়ে চলেছি এতোটা পথ। প্রতিটা দিনকে মনে হয় অতিরিক্ত জীবনের আবির। সবাই পুড়লে তো অন্তত আমি ভালো আছি!

এভাবেও বেঁচে থাকে মানুষ...এভাবেও বাঁচে একটা দেশ...

মৃত্যুপুরী
ইমেল নাঈম

এখানে লাল বর্ণে রঞ্জিত হয় স্বপ্ন। ভিন্ন কিছু চিন্তা করা পাপ। বলতে গেলেই ঝুলে পড়ে মগজের ঘিলু। নির্বাক দর্শকেরা আলোচনায় মাতে। মোমবাতির ব্যবসাও হয়। লেখকেরা ঘুমাতে যায় দুঃখকে বুকে জমা রেখে। তারা অভিমানকে জুড়ে দেন সামাজিক মাধ্যমে, কেউ লেখেন কবিতা, আবার কেউ ছবি ঝুলিয়ে রাখেন প্রচ্ছদ হিসেবে।

কিছু মানুষ এই চলে যাওয়াতে নির্বিকার থাকেন। এমন ভাব যেন কিছুই ঘটেনি, প্রতিদিন কত মানুষ আমাদের ছেড়ে যান, ঠিক তেমন ঘটনাই ভেবে বসেন। তারা দল বেঁধে এটিকে সমাজ যুদ্ধ হিসেবে প্রমাণ করতে চান; আস্তিক, নাস্তিক, সরকারী দল কিংবা বিরোধী দলের আবরণে। ছড়িয়ে দেন দ্বিধাবিভক্তি দলের মাঝে। সাধারণ মানুষ জানে না, এতে তাদের কী লাভ! হয়ত গোপনে মাখনটা ঠিকই নিয়ে যান!

কবে থেকে চলে যাওয়া শুরু কেউ জানে না। এটা জানে গদি আঁকড়ে ধরা মানুষটি। বরাবরই নিশ্চুপ থেকে যায় এমন মৃত্যুর পরে।

২৭/০২/২০০৪; চলে গেলেন বহুমাত্রিক লেখক, ভাষা বিজ্ঞানী।
১১/০২/২০১২; চলে গেলেন সাংবাদিক দম্পতি।
২৭/০২/২০১৫; চলে গেলেন বিজ্ঞান লেখক।
৩১/১০/২০১৫; চলে গেলেন ফয়সল আরেফিন দীপন। আঘাত বুকে নিয়ে আজও হাসছেন আহমেদুর রশিদ টুটুল।

এসব হিসেবের বাইরেও মিছিলে অনেক মুখ, এতো রক্ত আর হিংস্রতা নিয়ে কিভাবে তুমি অন্ধ সাজো?

গণতন্ত্র পাঠ
ইমেল নাঈম

সেদিনও গণতন্ত্র বলতেই ভেসে আসতো একটি নিরাপত্তা বলয় আবিষ্ট বাড়ী, কিছু বালুর ট্রাক আর পুড়ে যাওয়া মানুষের শবযাত্রা। তোমরা মাটি ভালবাস বলেই পুড়িয়ে দিচ্ছিলে সবকিছু। মাটি পুড়লেও মানচিত্র বাঁচে তাই আজও মাটি কামড়ে চলেছ তা দিনের পর দিন।

দাবী পালটা দাবী, মিশন- ভিশন, সবকিছুই কি লোক দেখানো। জনগণের স্বার্থে পুড়িয়ে ফেলেছিলো আমাদের। বাতাসে ক্রমান্বয়ে বেড়েছিলো পোড়া গন্ধ। স্বস্তির খোঁজে দৌড়চ্ছিলাম দিগভ্রান্ত হয়ে। একদিকে নিরাপত্তা দিতে ব্যর্থ অন্যদিকে আন্দোলনের সংজ্ঞা না জানা একদল লোক।

কারো কারো জীবনের সব আয়োজন চলেছিলো ঘরের ভিতরের মনোরম পরিবেশে। হুকুম দিতে অন্ধ চোখে। মায়াকান্নার রোলে সাজাতে নতুন নাটক। তথ্য জানার অধিকারে টুঁটি চেপে ধরেছিলে নিজেদের স্বার্থে। সত্যি তুমি মহান, তোমার থেকেই শিখে নিয়েছি অত্যাধুনিক গণতন্ত্রের পাঠ।

ছিলো সকাল থেকে সন্ধ্যাবধী অনিশ্চিত এক জীবনের হাতছানি। এখনো ভয়ে থাকি আবার যে কোন দিন ফিরবে এমন গণতন্ত্র। যদিও পাশের ঘর থেকে এখনো ভেসে আসে শব্দগুচ্ছ, "ডেমোক্রেসি ইজ আ গভর্নমেন্ট অব দ্যা পিপল, বাই দ্যা পিপল এন্ড ফর দ্যা পিপল।"

আমি তাড়াতাড়ি আটকে দিই দরজা জানালা। এই কথাটুকু ভুলে যেতে চাই অনেক ভুলের যাওয়ার মাঝে।

টক শো
ইমেল নাঈম

লাইট, ক্যামেরা, একশন বলা মাত্র টিভির পর্দা ছিঁড়ে শুরু হয়ে গেলো সার্কাস পার্টি। হাস্যোজ্বল উপস্থাপক এগিয়ে দিলেন দাবার ঘুটি ডানে। আলোচক বলেই যাচ্ছেন টিয়া পাখির মুখস্থ করা নামতা। বাম প্রান্ত দিয়ে প্রতিউত্তরে ক্ষোভ আর শ্লেষ ভেসে আসে। মাঝের জন বারবার থামিয়ে দেন আর মিটিমিটি হাসেন।

কার আছে কতো জোর, তা নিয়ে টেবিল চাপড়ে চলেছেন ক্রমান্বয়ে। খানিকটা উত্তাপ বাড়লেই আসছে বিজ্ঞাপন বিরতি।

ও'দিকে বিরামহীন পুড়ছে আটষট্টি হাজার গ্রাম, ভাতের দাম বাড়ছে ক্রমান্বয়ে...না খেয়ে মরেই গেলো কোন এক রহিমুদ্দিন। ঘরছাড়া হলেন গ্রাম্য নাপিত হরি রঞ্জন। সালিশি ব্যবস্থায় বলীর পাঠা হয়ে গেলো মাত্র পেকে ওঠা কৈশোর। মাওলানারূপী ভন্ডটা ধর্মের নামে চালিয়ে দিলো ব্যবসা। চতুর শিয়ালটা খেয়ে দিলো কৃষকের নির্মল হাসি।

Sunday, 8 January 2017

মায়াজাল

মায়াজাল
— ইমেল নাঈম

হারিয়ে যাবার আগে বেজে ওঠে সাইরেন
হুইসিল পেরিয়ে গেছি সময়ের সাথে
নানাবিধ উপমায় বাঁধা আজ স্বপ্নিল অবয়ব।
কার দিকে তাকালে নামে ঘোর অন্ধকার...

ছবি কথা বলে, বুঝিনি স্বরলিপি তার
আমার কাছে লিখিত কিছু স্বপ্ন ছিলো
মাত্রাজ্ঞান সীমিত বলে হারিয়ে ফেলেছি
নিজের কাছে রাখা যাবতীয় অক্ষর,

শব্দবিন্যাসের উপর দখল নেই
কেনো পুষেছো চোখে এতো আগুন
লেলিহান শিখায় বাঁধা প্রান্তিক অবয়ব
গণিতের মাপে কষে রেখেছো ছক
যেনো সুযোগ পেলেই খামচে ধরবে

উড্ডীন পথেরও হিসাব রেখে দিই
মায়াজাল নেই, তবু রক্তক্ষরণ অনেক
সকালের অপেক্ষায় তাকাই সামনে
বেঁধে রাখি নিজেকে সামনের দিকে

হায় অনন্তকাল, তোমারও কী মায়াজাল!
বেঁধে রেখেছো সময়ের কাছে বন্দী করে...

Tuesday, 3 January 2017

হারানো বিউগল

হারানো বিউগল
— ইমেল নাঈম

থেমে যায় অপরিণত প্রান্তরের রক্তাক্ত ক্ষতচিহ্ন...
বুকের খোলা বোতাম , সার্টের আস্তিন জুড়ে
টিকে থাকে অপরিপক্ব এক জোড়া হাহাকার।
সন্ধ্যার মেঘের প্রলেপে বুক বিদীর্ণ করা
শব্দ রোলে হারিয়ে ফেলেছি শঙ্খধ্বনির রেশ।

কেমন করে সব মিলে যায়। রূপকথার অলিখিত
শব্দমালা নিয়ে পালিয়ে গেছে,পলাতক আগন্তুকও
বাঁশির সুর নিয়ে হারিয়ে গেছে দূরের গতিপথে
হাহাকার নিয়ে বেঁচে আছি আনত রাতের কাছে

গল্পের বেশে প্রহসন নিয়ে যা বাঁচে তাই স্বপ্ন
এটিকে জড়িয়ে ধরতে গিয়ে আটকে ফেলেছি
অনেক গল্প শেষে ক্লান্তির রাত আসে পৃথিবীতে
দীর্ঘ ঘুম জীবনের গল্প লিখি রাখি ছেঁড়া পাতায়
ঘুম ভাঙতেই দেখি রাতও অনেক বেশি দীর্ঘ...

ছদ্মবেশী রাত নীচে নামাতে নামাতে নিয়ে যাচ্ছে
অতল কোনো গহ্বরে, অবেলায় তাল হারিয়ে
ফেলা বাঁশিটিকে খুব মনে পড়ে, বারবার
মনে হয় কোথায় কী যেনো হারিয়ে ফেলেছি!