Wednesday, 15 March 2017

রুমাল আর নকশা

রুমাল আর নকশা 
― ইমেল নাঈম 

রুমালে ভুল বানানে লেখা ভুলনা আমায়। একটা আবেগের আধার এই রুমাল। প্রতীক্ষায় রেখে দেওয়া এক রাশ শব্দমালার কাছে এরচেয়ে বেশি দাবী নেই। মনের অব্যক্ত অজস্র কথার ভিড়ে একটি শব্দ লিখে রাখা রুমালের পাতায়। ঠিক তার উপরে বিনি সুতোর ফুল আঁকা। শেষ কবে দেখা হয়েছিলো জানা নেই। কোনো একদিন সুন্দর সকালে চলে গেছে একটা রূপকথার গল্পকে সাথে নিয়ে। যাবার সময় পরম ভালবাসায় হাতে ধরিয়ে দিয়েছিলো এই রুমাল। 

এরমানে প্রতীক্ষার জন্ম। মাসের শেষে একটা খাম এলো ঘরের ঠিকানায়। দেরি হলে পোস্ট অফিস আর পিয়নের খোঁজ। টাকা গুঁজে দেয়া সময়মত চিঠির প্রত্যাশায়। মনে ধরে রাখা একটা উশখুশ ভাব, সন্দেহের দানা…. অভিযোগের তীর হাঁকিয়ে বলা  চিঠি পৌছায় না উৎকোচের অভাবে। আবদারের চেয়ে স্পর্শের মূল্য বেশি। উপহারের চেয়ে হাজার মাইল দূর থেকে আসা ভুলে ভরা চিঠির মূল্য বেশি। প্রতীক্ষায় যে বধূ স্বপ্ন বুনে আবার দেখা হবে তাকে কেউ কখনো বাঁধেনি কবিতায়। 

ওইদিকের অপেক্ষার গল্পটা জানা নেই আমার। প্রযুক্তির কল্যাণে অলস হয়ে ফিরছি আমরা। চিঠির পাতা দখলে নিয়েছে স্মার্টফোনের নানান আয়োজন। না চাইলেই মুখ দেখে কথা বলা যায়। সব সময় পাশে থাকা যায়। কেউ এখন লিখেনা রুমালে অপ্রকাশিত প্রেমের ব্যক্তিগত বিজ্ঞাপন। প্রযুক্তি বদলে দিয়েছে আমাদের প্রকাশভঙ্গি আর অভিব্যক্তি। কেউ এখন চিঠির অপেক্ষায় থাকেনা, আবার কেউ এখন আর চিঠি লিখেও না। 

প্রকাশকালঃ ১ চৈত্র ১৪২৩ 

Monday, 13 March 2017

দিন যাপনের গল্প

দিন যাপনের গল্প 
– ইমেল নাঈম 

চমকে ওঠা সময়ের দিব্যি নিজেকে নিয়ে লুকোচুরি খেলোনা – বেলা অবেলায় পেরিয়ে গেছে মধ্য দুপুর। ভ্রান্তি ছড়িয়েছে সামনের পথে, পিছনে লিপিবদ্ধ সোনালি সোপান। ক্লান্তি নেমে আসে চোখজুড়ে। তোমাকে চিনতে পারিনি , তাই বয়ে আসা সময়ের ফাঁকে রেখে দিয়েছি স্বর্ণকমল। 

বনসাই সভ্যতায় আকাশ ছুঁয়ে দেখছো মাটি থেকে অনেক দূরে। খুব সহজেই ইঞ্জিন চালিত নৌকায় পাড়ি দিচ্ছো কর্ণফুলী। সাম্পান বদলে যাচ্ছে – আকারে নয় , প্রযুক্তির কল্যাণে। আমিও পাল তোলা নৌকায় চড়িনি একবারও। ডিঙ্গি নৌকাটি অলস দিনযাপনের গল্প লিখে শান বাঁধানো শান্ত পুকুরে। 

অপেক্ষার প্রহর মিষ্টি নয়। জন্ম দিতে পারে বিচ্ছেদের গোপন অসুখ। খুব কম সময়ের জন্য হলেও একটা রেশ থেকে যায়। কাকে বাঁধা দিচ্ছ এই অবেলায়। যে হরিণ হৃদয় দৌড়ে চলে যাচ্ছে তোমার স্পর্শের বাইরে – তাকে বগলদাবা করতে যেও না প্রেমিক – দেখবে তোমার বুক রক্তাক্ত হয়ে গেছে তীব্র ক্ষরণে। 

বদলে গেছে জীবন যাত্রার পথ ঘাট। বাকী সব আয়োজনে রেখে দিয়েছি দৃষ্টির বিভ্রম। শ্লেষ ঝরছে তোমার গলায়। উড়াল সেতু, উঁচু অট্টালিকার ভারে তুমিও বেশ বদলে গেছো চারপাশটা নিয়ে। 

যদি নিজের চারপাশটা এখনো অচেনা লাগে, তবে বেরিয়ে পড়ো নতুন গন্তব্যে, আর পিছনে তাকিয়ে প্রশ্ন করো না – কেন, কোথায়, কী জন্য, কীভাবে, কার জন্যে... এই প্রশ্নের উত্তর জানে না আগামীর পথ। 

প্রকাশকালঃ ২৯ ফাল্গুন, ১৪২৩

Saturday, 11 March 2017

দূরত্বের গান

দূরত্বের গান
― ইমেল নাঈম

আপনাদের ওখানে বৃষ্টি কেমন হচ্ছে? প্রশ্নটা শুনেই বলে উঠতে পারলাম না। কোথায় বৃষ্টি , পুরো খাঁখাঁ করা মরুভূমি। নিজের ভিতরের চেপে রাখা মুহূর্ত―বিষণ্ণতা গিলতে গিলতে হারিয়ে গেছি পুরনো শব্দের কাছে। কবিতার খাতায় কিছু না লিখেও শেষ করে ফেলছি কালি। আহত জীবনের মায়ায় লিখে ফেলেছি প্রান্তিক জীবনের গল্পপাঠ। পাখির সন্ধানে চোখ রাখি জানলায়…. স্প্যাঙ্গল ডমপেড, বাডজি, কাকাতুয়ার জীবনের স্পন্দন আঁকা হয়ে গেছে।

জানি না আমার শহর ভিজেছে কিনা বসন্তের বৃষ্টিতে। বিকালের ঝালমুড়ি আর কফির কাপে নেমে আসা ছুটির দিনের বিশ্রাম। কবিতার বইয়ের পাতা বারবার জাগিয়ে দিয়ে যায় আমাকে অলীক কল্পনার জগত থেকে। আমি বেঁচে উঠি সবটা নিয়ে। তাকিয়ে দেখি বেলকনি জুড়ে অস্ট্রেলিয়ান  পাখিদের। নাগরিক সভ্যতায় দোয়েল নেই, জাপানিজ ক্রিস্টাল ঠিকই শোভাবর্ধন করছে অতিথিশালায়।

এই শহরে বসে আপনি জানতে চাইছেন বৃষ্টির কথা…. যেখানে নিজেকে খুঁজতে হয় অ্যাকোরিয়ামের মাছের আদলে। আকাশ বলতে মনে হয় ছয় ফুটি মেঘমালাকে। দুষ্টু ছেলের দল এখন কোথাও মার্বেল খেলে না। লাটিম আর ইয়োইয়ো খেলার প্রাচীন সংস্করণ লারেলাপ্পার মতো হারিয়ে যাচ্ছে অনুভূতিরা। পাখিরা উড়তে শিখেছে নির্দিষ্ট গণ্ডির মাঝে। সেখানে তুমুল বৃষ্টিতে নিজেকে পাবার মতন মুঠোফোনের বার্তায় বৃষ্টি নয়, ধূধূ মরুভূমি বেঁচে থাকে দুজনার মাঝে।

প্রকাশকালঃ ২৬ ফাল্গুন, ১৪২৩

Tuesday, 7 March 2017

পলাশের অপেক্ষা
― ইমেল নাঈম 

দুপুরবেলা। এলেবেলে পায়ে কেউ বুঝি এলো পলাশের ভিড়ে। জানালা খুলে দিই সুবাতাসের অপেক্ষায়। কোনো কারণ নেই অপেক্ষার। প্রেমের পরিমাপক যন্ত্রের নাম আবিষ্কার করতে ব্যস্ত  ভূগোলবিদ। সংজ্ঞাহীন থাকার মাঝেও একটা জিপসি আনন্দ আছে। অদ্ভুতুড়ে সাজে সজ্জিত কোনো এক ষোড়শী মেয়ে। গলায় পরেছে নক্ষত্রখচিত কাঠের হার। আমি আনমনে তাকিয়ে দেখি দূরান্তের দৃশ্যপট।

শহরতলী পেরিয়ে যেতে হয় পলাশের গাছের সন্ধানে। মন ― তাকে প্রবোধ দিই কী করে... উড়ুক্কু সময়ের খড়িমাটিতে লিখা একটি শব্দ। বারবার পড়ার চেষ্টা করি ― ব্যর্থ হই। সান্ত্বনার ভাজে ভাজে নিজেকে সিক্ত করি। হাপিত্যেশ ঝড়ানো প্রলেপে অপেক্ষায় থাকি। কেউ কী এলো পলাশ পেরিয়ে। এমন কারো দেখা মিললো যাকে দেখি নি আগে কখনো এই পথে।

থেমে যেতে হয়, তবুও থামি না। সকালের কুয়াশায় ঝরে যায় অজস্র পাপড়ি। তাদের কে বাঁধিয়ে রাখি বুকে? মেঠো পথ, লাল মাটির পরতে পরতে ছড়িয়ে ছিটিয়ে থাকা আহ্বান, সেসব কী প্রেমের কোনো বিজ্ঞাপন নয়! জিপসি সমাজ, অদ্ভুত আয়েশে পালিয়ে যায় আমার থেকে।

সবকিছুই মনের ভুল। কোনো ভাবেই এড়ানো যায় না। ঝরে যাওয়া পলাশও আমার মতো আক্ষেপ নিয়ে বাঁচতে শিখেছে। আগন্তুকের মুখ দেখতে না  পেয়ে ফিরে গেলো সবাই ― শুধু পলাশ সে এখনো প্রতীক্ষায় রয়ে গেলো।

প্রকাশকালঃ ২৩ ফাল্গুন ১৪২৩

Monday, 6 March 2017

তিতির কবিতা

তিতির কবিতা
― ইমেল নাঈম

একটা নীল খামে চিঠি এসেছিলো অনেক আগে। সময়ের উলটো স্রোতে ভাসতে গিয়ে হারিয়ে ফেলেছি নাম ঠিকানা। ছুটতে গিয়ে হারিয়ে গেছি। দোদুল্যমান পেন্ডুলাম হয়ে ফিরছি অনামা রাতের কাছে। কে শুনে যায় এমন বিরহী সঙ্গীত? বেপরোয়া রাত কাটে ভ্রান্ত আলাপনে। সাত নং পায়ে নয় নং জুতো পরে দৌড়ে চলেছি পুরো পথ।

চারপাশে কেউ হাসছে। কেউ দেখছে আমার এমন অদ্ভুত পাগলামো, মুঠোফোনে ভেসে আসে রিজওয়ান আর বিধুর ভালবাসি তোমায়.... মন কেমন করা দিনে অনেক শব্দই মুছে গেছে বলতে না পারার অনিচ্ছাকৃত অপরাধে। অকালের বৃষ্টিতে ভিজেছে দূরের শহরে। সবটুকুই তো প্রকাশিত, অপ্রকাশ্য কথারা এখনো টিকে আছে মায়ার বন্ধনে।

আমি বসন্তের সকালে এক ফুলওয়ালি ছোট্ট শিশুকে খুঁজি। মালা কিনে পরিয়ে দিবো তোমার খোঁপায়। তাকে দেখিনা ইদানীং। হারিয়ে যাবার পূর্বে শেষ মালাটা আমিই কিনেছিলাম দুটো রজনীগন্ধার বিনিময়ে। আমি তার চোখে মুখে আঁকছিলাম অনন্য এক হাসি। আজও চোখে ভাসে সেই মুখ আর হাসি।

একটা নীল খামের জন্য এখনো প্রতিদিন রঙ তুলির আঁচড়ে ছবি আঁকতে বসি জানালায়। আর সেই ছবির নাম দিই তিতির। তিতির জানে চিঠির অপেক্ষা ফুরবার নয়, তবুও অপেক্ষায় বসে থাকি এমন হরিত বিকেলগুলোতে।

প্রকাশকালঃ ২২ ফাল্গুন ১৪২৩

Sunday, 5 March 2017

রাকা তোমায় ভেবে কবিতা

রাকা, তোমায় ভেবে কবিতা 

― ইমেল নাঈম 


তোমায় নিয়ে আমার কোনো কবিতা নেই, চোখের ভাষায় কিছু শিহরণ থাকে ― বলি নি তাদের কথা কখনো। প্রশ্ন করিনি কখনো চুলের ভাজে নেমে আসে তিমির রাতের গল্প। চোখের কথা অনেক বারই বলেছি। সরাসরি ― কোনো উপমায় আঁকি নি আমাদের এই বন্ধুত্ব। 

রাকা, অবিশ্বাসী তুমি আযানের শব্দে, নামাজের সারিবদ্ধ আয়োজনে খুঁজে পাও শিল্প। আমি অবাক হই ― তোমার মতো করে কখনো খুঁজি নি। খুব গভীরে গিয়ে আঘাত করি নি নিজেকে। আয়নায় দাঁড়িয়ে প্রতিবিম্ব আঁকতে বসি নি রঙ পেন্সিলে। তুমি দূরের কেউ নও। খুব কী কাছের একজন ― এই ছোট্ট বাক্যাংশের কোনো জবাব নেই আমার কাছে। 

বড্ড উষ্ণতা পিয়াসী তুমি। শীতলতায় তোমার মাঝে বাস করে অদ্ভুত এক অবসাদ। তুমি শীত থেকে দূরে সরে যেতে যেতে চলে যাও সীমানার বাইরে। ব্যক্তিগত কোনো কথা নেই। দরজার ও’প্রান্তে কেউ হয়তো বুনে যায় অসময়ের নকশিকাঁথা। অজস্র কবিতার ভিড়ে কোনো কোনো মুখ কবিতা হয়। আর কোনো কোনো চোখ কবিতার জন্ম দেয়। 

তোমার চোখগুলো কে খুব ঈর্ষা করি। আর চুলগুলোকে ভালবাসি। এই ঈর্ষা আর ভালবাসার মাঝে প্রেম শব্দটার জন্ম হয়নি ব্রহ্মাণ্ডে। আমিও সূত্রের বাইরে সূত্র করে দেখি, কক্ষপথেরও বাইরে অন্য কোনো পৃথিবীর সান্নিধ্য মিলে যেতে পারে হুট করেই। 


প্রকাশকালঃ ২০ ফাগুন ১৪২৩ 

Friday, 3 March 2017

পাখি বৃত্তান্ত

পাখি বৃত্তান্ত
― ইমেল নাঈম


মানচিত্র ভুলে এখনো উড়ে যায় কিছু পায়রা। ঘরে ফেরেনা তাদের কিছু অংশ। জ্বালালি কবুতর তারও একটা ইতিহাস আছে স্মৃতিপটে। লেপটে গেছে অপ্রকাশিত স্পন্দনগুলো। কার পিছনে তাড়া করে ফিরছি ভুলপথে। কেনোই বা এ’ অবেলায় সাজানো পথে থোকায়থোকায় ফুটে আছে বুনোফুল।

তুমি গাইতে ভালবাসো। আমি শুনতে। তুমি গাইতে গাইতে হঠাৎ দেখলাম আমার রংধনু পাখিটা নাচতে তার ঘরের ভিতরে আনন্দে। সেও বুঝে গেছে তোমার আমার রসায়ন। তোমার সখের ব্লু স্কাই পাখিটির নাম দিয়েছিলাম নীলাকাশ। খুব আদুরে আর আহ্লাদ খেতে খেতে তার দিন কাটে খাঁচার বৃত্তে। অথচ উদাস দৃষ্টিতে তারও একটা প্রতীক্ষার গল্প থাকে অপ্রকাশিত।

আবদ্ধ প্রাণ তারও অনুনাদ স্পর্শ করে যায় আমাদের প্রাণ। তারা খুঁজে নেয় নিজের আনন্দ। সুখ দুঃখের অন্তরালে তারাও ভাগ করে নিতে জানে নীরবতা। মৌন আহবান রেখে যায় অব্যক্ত কথামালা। শব্দপুঞ্জে কোনো শিহরণ নেই। জ্বালালি কবুতরের মতো বাকবাকম করতে করতে পেরিয়ে যায় ফেলে আসা মুহূর্তগুলো।

সখের পাখি, প্রেম আর অপ্রেমের মাঝেও কীভাবে যেনো টেনে দিলো রেখা পথ।


প্রকাশকালঃ  ১৮ ফাগুন ১৪২৩।

Wednesday, 1 March 2017

স্মৃতি চারণ

 স্মৃতি চারণ 
― ইমেল নাঈম

অনুভূতিহীন শূন্য চাদরে আটকে গেছে যাবতীয় ভালোবাসা... বেশি শব্দ জমা নেই। ভ্রান্তি ছুঁয়ে গেছে আমার আকাশ জুড়ে। সৈকতের পায়ের ছাপের মতো দিনের গল্প দিনেই মুছে যায়। কিছুটা ঋণ থাকা ভাল, মনে রাখবে সেই সময়টুকু। হারিয়ে যাবার ব্যর্থ প্রয়াসে কেইবা আটকে রেখেছিলো নিজেকে। জানিনা এখনো ওপ্রান্তে মুঠোফোনের মিউজিক প্লেয়ারে ভেসে আসে এই নীল মণিহার। স্মৃতির মলাটে আর কিছুই রেখো না। সোনালী সন্ধ্যাও মিলিয়ে ম্লান হবে, কিছু পায়ের চিহ্ন অমলিন রবে হিসাবের ব্যারিকেড ভেঙে।

চলে যাচ্ছ পুরনো পথ ধরে অনেক দূরে। তোমার শহরে রাত কখনোই ঘুমোয় না। জেগে থাকে মলিন কিছু ঘটনাকে সাক্ষী করে। নিকোটিন সময় পেরিয়ে যায়। ক্যাম্পফায়ার জ্বালিয়ে বসে থাকি একা। কারাওকে ভেসে আসে পাশ থেকে। আমি দূর থেকে তাকিয়ে দেখি আনন্দঘন কিছু মুহূর্তকে। কোনও মলাটে বদ্ধ নেই, কেউ লিখে রাখে নি এমন কিছু মুখ আর মানুষকে। ফানুশ জীবনের বাঁকে বাঁকে শুধুই খেলাঘর। খেলে যাচ্ছি প্রত্যেকেই। হাসির আড়ালে প্রত্যেকেই দুঃখের কারিগর।

ওখানের আকাশ কতটা ম্লান জানি না। তুমি আমার বিপরীত মেরুতে। আমার রাত মানেই তোমার ঝলমলে দিন। আমি উৎসবের রেশকে জের টেনে গুনগুণ করে গাইছি.... "আমায় ডেকো না, ফেরানো যাবে না... ফেরারি পাখিরা গোলায় ফেরে না..."

হয়তো দৃষ্টিসীমার ওপারে দাঁড়িয়ে তুমিও... 


Tuesday, 28 February 2017

ভাত ঘুমের অবসরে

ভাত ঘুমের অবসরে
― ইমেল নাঈম

বাতাবি লেবুর খোসা ছাড়াতে ছাড়াতে হিসেব করে নিতে পারো সুখ দুঃখের। প্রহসনের মায়াজালে কখনো প্রশ্ন করো না সামর্থ্যের। বেঁচে থাকাটাই অনেক বড়ো হয় মাঝেমাঝে। কতটা ভালো, কতটা মন্দ তা নিয়ে করে ফেলতে পারো অজস্র ক্যালকুলাস। প্রশ্নেই ভুল, উত্তর মিলবে সেই প্রত্যাশা করো না। ফুল মার্কসের বদলে শূন্যতা আঁকতে পারেন পিকাসো। প্রতিদানে প্রশ্ন করো না, উত্তর জানলেও মাপতে বসো না ভুলত্রুটি।

অবেলায় আকাশ দেখতে যেও না ছাদে। লূ হাওয়াদের সুদিনে তাল কেটে গেছে শরতের আকাশের। বেতালে নাচছে যে সর্বনাশী গঙ্গাফড়িং তার দিকে বিমুগ্ধ দৃষ্টিতে তাকাও। তবে দু' পা এগিয়ে দেখার ইচ্ছেকে পুঁতে ফেলো মাটিতে। কাছে যাবার মানে কিন্তু স্পর্শের আনন্দ নাও হতে পারে। হতে পারে অলক্ষ্যে রয়ে যাওয়া এক মুঠো বিষণ্ণতা। ছুঁতে গেলেই তোমাকেও গ্রাস করে নিবে এমন পড়ন্ত বিকালে।

ভাত ঘুমের আয়োজনে কোনো চিহ্ন রাখিনি। হিসেবের খাতায় প্রেম নেই, অথচ হারানোর বিবরণ অনেক। লিখে চলেছি দিস্তার পর দিস্তা। শেষ ভাবলেও শেষ হয়ে ওঠেনি সব গল্প। প্রেম আর প্রহসনের মাঝে দাঁড়িয়ে তর্জনী আর মধ্যমা। কতো কাছাকাছি অথচ বিপরীত অবস্থান। আরব্য রজনীর উপন্যাসের মতো লিখে চলেছি নির্ঘুম হাজার রাতের রূপকথা। সত্য নয়, অথচ কত সাধনার সময়।

এতো আয়োজনের মাঝের সময়ের ব্যর্থ আস্ফালনটুকু চোখে পড়ে না কখনোই...কারো...

প্রকাশকালঃ ১৬ ফাল্গুন ১৪২৩। 

Monday, 27 February 2017

অপেক্ষা

অপেক্ষা 
― ইমেল নাঈম

শুরুটা একই রকম মনে হয়। কারণ নেই তবুও খুঁতখুঁতে চোখে তাকিয়ে থাকি। উদ্দেশ্য ― বিধেয় কোনো কিছুই আমাকে আর তাড়া করছে না। তবে পালিয়ে বেড়াচ্ছি কার থেকে? পথ জানা নেই অথচ পথিক। দৃষ্টির ফাঁক গলে এড়িয়ে গেছে গত সময়ের খোয়াবনামা। জানি না তাই জোর নেই কোনো। হাপিত্যেশ নেই, হতাশা অনেক। রয়ে সয়ে যাওয়া কিছু গল্পের ভাঁজে রেখে দিয়েছি অপূর্ণ কিছু উপলব্ধি। 

সকাল পেরোলে পাতাবাহারের কোনো আবেদন থাকে না। পিচ ঢালা পথ একচ্ছটা মরীচিকার জন্ম দেয় আলোর বিচ্ছুরণে। বারবার পথ ভুলে ঢুকে পড়ি সেই কক্ষপথে। বেরোবার পথ জানা নেই। আলোর দিকে ছুটতে গিয়ে ঢুকে গেছি চোরাবালিতে। মোহ! সেতো গিলে খাচ্ছে আমাকে রাত দিন। অলিক কল্পনায় ভাসিয়ে দিচ্ছি ডিঙ্গি। মাছরাঙার মতো দাঁড়িয়ে থাকি পানির মাঝে।

রাত বাড়লে চাঁদের প্রতিবিম্ব এসে ছড়িয়ে দেয় আলো। নীলাভ আলোয় আমি লীন হই। গুণগুণ করে গান গাইতে থাকি। ক্রমশ ভুলে যেতে থাকি অপ্রাপ্তি আর হতাশাগুলোকে। প্রার্থনা করি রাত দীর্ঘায়ত হোক। আর কাল সকালে ঝুল বারান্দায় অপ্রত্যাশিতভাবেই যেনো নয়নতারা ফুটুক।

কখনো মাছরাঙার চোখে, কখনো পিচ ঢালা পথের গোলকধাঁধা বুকে নিয়ে আমি কতকাল এমন সকালের অপেক্ষায় তাকিয়ে আছি। 

Sunday, 26 February 2017

আত্মনিমগ্ন গান

আত্মনিমগ্ন গান 
― ইমেল নাঈম 

আযান শেষ হয়ে গেছে অনেক আগেই। পাখির কলতানে মুখরিত সাম্পান সকাল। শীতের কুয়াশার ভাজে ভাজে বাজাচ্ছে পিয়ানো এক অচেনা মুখ। বধির নই, তবুও সঙ্গীতায়োজন কানে ঢোকে না। সুরের খেলায় ভাসছি জানি, কোথায় থামবে তা জানে না ঘুড়ি জীবন। 

উৎসবের পরেও মুখরিত মুখের মাঝে অক্ষত সব বর্ণমালা এখানে টিকে থাকে। প্রাণ খুলে হাসতে থাকা মানুষজন, বাতাসে উড়তে শেখা ঘাস ফড়িং আর মৃদু ছন্দে দুলে ওঠা ঘাসফুলের মুখ দেখে কেউ বুঝবে না এখানকার ঝড়ের পূর্বাভাষ। 

বলি বলি করেও বলি নি, আমার সীমাবদ্ধতা অনেক। আমি প্রবেশ করতে পারি না সকল জায়গায়। অনেক জায়গায় আমার কোনো অধিকার নেই। আমি নানান রকমের রূপ ধারণ করি সান্নিধ্য পাবার লোভে। প্রজাপতি হই সকালের দূর্বাঘাসের মাঝে। রোববারের গির্জার ঘণ্টায় দেয়ালে ঝুলন্ত জিশুর কাছে জানিয়ে আসি বিগত দিনের নালিশ। 

এসবের কারণ আমার জানা নেই ― তোমার কাছে গেলেই নিজেকে শূন্য মনে হয়। আমি ভুলে যাই পাপ পুণ্যের হিসাব নিকাশ। নিঃসঙ্গ রাতের প্রতিদিনের অতিথি, রাতবিরেতের সকাল গুলো তুমি লিখে রাখো পবিত্র রজনীর রূপকথার ভাজে ভাজে। 

প্রকাশকালঃ ১৪ ফাল্গুন ১৪২৩।

Saturday, 25 February 2017

অপেক্ষা

অপেক্ষা
― ইমেল নাঈম

সূর্যাস্তের গল্প বলেছিলাম গতকাল সন্ধ্যায়। মনের ফ্ল্যাশব্যাক এতোটা অতৃপ্ত নয় যে দু এক কথায় মিটে যেতে পারে আমাদের সুখের বিন্যাস। মাটির সরল পথ, পাহাড়ি জনপদ, বিকালের ছিমছাম রোদের আত্মকথা। হাবিজাবি কথার ভিড়ে মখমলে দিনের শ্রুতি কথাও থাকে ― নীরবে। কোলাহল ছেড়ে দাঁড়ায় এখান থেকে অনেক পথ দূরে। বাতাসের বুকেও আঁকিবুঁকি খেলা যায় এমন দিনে। সুযোগসন্ধানী আমিও সংলাপের পর সংলাপ লিখে শেষ করে দিই একেকটা অসমাপ্ত বর্ণনা।

শুরুর দিকে কোনো কথা থাকে না, অদ্ভুত মৌন সুর খেলতে থাকে কলমের নিব জুড়ে। হাহাকারের কোনো ¯পর্শ থাকে না। উপচে আসা কথাদের মাঝেও রেখে দিই জাফরান। পরের গল্পে অন্যরকম ― সেখানে ক্রমশ উর্বর শব্দের কাছে অনুর্বর অনুভূতিদের পরাজয় নামে। যেন অদৃশ্য যুদ্ধের পর দৃশ্যমান এক রিফুজি ক্যামম্প। দাঁড়িয়ে আছি রেড ক্রিসেন্টের গাড়ীর জন্য একা, আমার সামনে দাঁড়িয়ে উপেক্ষার সন্ধ্যা আর পিছনে সোনা ঝরা পাতাদের কলরব।

নৈঃশব্দ্যের কাছে ফিরে যাই অন্য এক সুরে। উষ্ণতার সান্নিধ্যে রেখে দিই অমায়িক গল্পের হাতছানি। নিজেকে সামলে নিই পাহাড়ের বুকে। ধৈর্য ধরতে ধরতে কখন যে পায়ে লেগেছে বেড়ি একটুকুও টের পাই নি। চুপ থাকতে থাকতে ভুলে গেছি মানুষের মুখ। বাস্তব মূকাভিনয়ে ব্যস্ত আমি দেখিনি আয়না কতকাল! দাঁড়িয়ে আছি প্রত্যাশা নিয়ে, যদিও ভুলে গেছি প্রয়োজনীয় নাম আর ঠিকানাটুকু।

প্রকাশ কালঃ ১৩ ফাল্গুন ১৪২৩

Tuesday, 21 February 2017

কাঁঠালচাঁপার জন্য

কাঁঠালচাঁপার জন্য
― ইমেল নাঈম


থেমে যেতেই আবিষ্কার করি কাঁঠালচাঁপা গাছটি আমার ছিলো, অথচ গতকাল পর্যন্ত তার অস্তিত্ব আমাতে ছিলো না। এরপর কয়েক মিলিগ্রাম আক্ষেপের জন্ম হয়। সময়ে সময়ে সেগুলো কিছুটা বাড়ে, পুনরায় কমেও যায়।

কিসের মায়াজাল। পুরনো একটা আঙিনা, কেনোইবা টেনে নিয়ে যায় স্মৃতির মিনারে। কাঁঠালচাঁপা সেও তো মিশে যেতে চায় কুয়াশার চাঁদরে। আমি তো প্রতিজ্ঞাবদ্ধ নই বিগত সময়ের ধুলোমাখা স্মৃতির কার্নিশের কাছে। তবুও এক্কাদোক্কা খেলা, বায়স্কোপের ফাঁক গলে ভেসে ওঠা নায়ক নায়িকাদের ছবি। বাতাসা আর শনপাপড়ির মোহনীয় দুপুর সেও কেনো কড়া নাড়ে আমার দরজায়।

নাটকের সংলাপের মতো নিজেকে আওড়ে ফিরি, কোনো মানে নেই জেনেও বারবার হাতঘড়ির সময় দেখি। মফস্বলের সন্ধ্যায় রেখে দিই পুরনো সব আলিঙ্গন। চেনা ইশকুলের মাঠ, তার মাঝে আঁকাবাঁকা মেঠো পথ, দূরের হাতছানি দেখে কার ছবি আঁকছো পড়ন্ত  বিকালে।

সাইরেন থেমে যায়, নিয়মানুগ ঘণ্টা বাজে কারখানার। জীবনের বাঁক নদীর মতো সরল নয়, অথচ জীবন বলতেই নদীকে বুঝি। নাব্যতার আগ মুহূর্ত পর্যন্ত গতি আর এরপর মৃত্যুর মিছিল। কেমন যেনো মিলে যায় জীবনের হিসাব নিকাশ। ক্ষণিকের অচেনা কাঁঠালচাঁপা― তুমি তো কখনোই আমার কাছের কেউ ছিলেনা। তবে... কেনো অদৃষ্টে খেলে যাচ্ছ অপরিচিত খেলা।

প্রকাশকালঃ ৯ ফাগুন, ১৪২৩