― ইমেল নাঈম
Wednesday, 15 March 2017
রুমাল আর নকশা
― ইমেল নাঈম
Monday, 13 March 2017
দিন যাপনের গল্প
Saturday, 11 March 2017
দূরত্বের গান
― ইমেল নাঈম
আপনাদের ওখানে বৃষ্টি কেমন হচ্ছে? প্রশ্নটা শুনেই বলে উঠতে পারলাম না। কোথায় বৃষ্টি , পুরো খাঁখাঁ করা মরুভূমি। নিজের ভিতরের চেপে রাখা মুহূর্ত―বিষণ্ণতা গিলতে গিলতে হারিয়ে গেছি পুরনো শব্দের কাছে। কবিতার খাতায় কিছু না লিখেও শেষ করে ফেলছি কালি। আহত জীবনের মায়ায় লিখে ফেলেছি প্রান্তিক জীবনের গল্পপাঠ। পাখির সন্ধানে চোখ রাখি জানলায়…. স্প্যাঙ্গল ডমপেড, বাডজি, কাকাতুয়ার জীবনের স্পন্দন আঁকা হয়ে গেছে।
জানি না আমার শহর ভিজেছে কিনা বসন্তের বৃষ্টিতে। বিকালের ঝালমুড়ি আর কফির কাপে নেমে আসা ছুটির দিনের বিশ্রাম। কবিতার বইয়ের পাতা বারবার জাগিয়ে দিয়ে যায় আমাকে অলীক কল্পনার জগত থেকে। আমি বেঁচে উঠি সবটা নিয়ে। তাকিয়ে দেখি বেলকনি জুড়ে অস্ট্রেলিয়ান পাখিদের। নাগরিক সভ্যতায় দোয়েল নেই, জাপানিজ ক্রিস্টাল ঠিকই শোভাবর্ধন করছে অতিথিশালায়।
এই শহরে বসে আপনি জানতে চাইছেন বৃষ্টির কথা…. যেখানে নিজেকে খুঁজতে হয় অ্যাকোরিয়ামের মাছের আদলে। আকাশ বলতে মনে হয় ছয় ফুটি মেঘমালাকে। দুষ্টু ছেলের দল এখন কোথাও মার্বেল খেলে না। লাটিম আর ইয়োইয়ো খেলার প্রাচীন সংস্করণ লারেলাপ্পার মতো হারিয়ে যাচ্ছে অনুভূতিরা। পাখিরা উড়তে শিখেছে নির্দিষ্ট গণ্ডির মাঝে। সেখানে তুমুল বৃষ্টিতে নিজেকে পাবার মতন মুঠোফোনের বার্তায় বৃষ্টি নয়, ধূধূ মরুভূমি বেঁচে থাকে দুজনার মাঝে।
প্রকাশকালঃ ২৬ ফাল্গুন, ১৪২৩
Tuesday, 7 March 2017
Monday, 6 March 2017
তিতির কবিতা
তিতির কবিতা
― ইমেল নাঈম
একটা নীল খামে চিঠি এসেছিলো অনেক আগে। সময়ের উলটো স্রোতে ভাসতে গিয়ে হারিয়ে ফেলেছি নাম ঠিকানা। ছুটতে গিয়ে হারিয়ে গেছি। দোদুল্যমান পেন্ডুলাম হয়ে ফিরছি অনামা রাতের কাছে। কে শুনে যায় এমন বিরহী সঙ্গীত? বেপরোয়া রাত কাটে ভ্রান্ত আলাপনে। সাত নং পায়ে নয় নং জুতো পরে দৌড়ে চলেছি পুরো পথ।
চারপাশে কেউ হাসছে। কেউ দেখছে আমার এমন অদ্ভুত পাগলামো, মুঠোফোনে ভেসে আসে রিজওয়ান আর বিধুর ভালবাসি তোমায়.... মন কেমন করা দিনে অনেক শব্দই মুছে গেছে বলতে না পারার অনিচ্ছাকৃত অপরাধে। অকালের বৃষ্টিতে ভিজেছে দূরের শহরে। সবটুকুই তো প্রকাশিত, অপ্রকাশ্য কথারা এখনো টিকে আছে মায়ার বন্ধনে।
আমি বসন্তের সকালে এক ফুলওয়ালি ছোট্ট শিশুকে খুঁজি। মালা কিনে পরিয়ে দিবো তোমার খোঁপায়। তাকে দেখিনা ইদানীং। হারিয়ে যাবার পূর্বে শেষ মালাটা আমিই কিনেছিলাম দুটো রজনীগন্ধার বিনিময়ে। আমি তার চোখে মুখে আঁকছিলাম অনন্য এক হাসি। আজও চোখে ভাসে সেই মুখ আর হাসি।
একটা নীল খামের জন্য এখনো প্রতিদিন রঙ তুলির আঁচড়ে ছবি আঁকতে বসি জানালায়। আর সেই ছবির নাম দিই তিতির। তিতির জানে চিঠির অপেক্ষা ফুরবার নয়, তবুও অপেক্ষায় বসে থাকি এমন হরিত বিকেলগুলোতে।
প্রকাশকালঃ ২২ ফাল্গুন ১৪২৩
Sunday, 5 March 2017
রাকা তোমায় ভেবে কবিতা
Friday, 3 March 2017
পাখি বৃত্তান্ত
― ইমেল নাঈম
Wednesday, 1 March 2017
স্মৃতি চারণ
অনুভূতিহীন শূন্য চাদরে আটকে গেছে যাবতীয় ভালোবাসা... বেশি শব্দ জমা নেই। ভ্রান্তি ছুঁয়ে গেছে আমার আকাশ জুড়ে। সৈকতের পায়ের ছাপের মতো দিনের গল্প দিনেই মুছে যায়। কিছুটা ঋণ থাকা ভাল, মনে রাখবে সেই সময়টুকু। হারিয়ে যাবার ব্যর্থ প্রয়াসে কেইবা আটকে রেখেছিলো নিজেকে। জানিনা এখনো ওপ্রান্তে মুঠোফোনের মিউজিক প্লেয়ারে ভেসে আসে এই নীল মণিহার। স্মৃতির মলাটে আর কিছুই রেখো না। সোনালী সন্ধ্যাও মিলিয়ে ম্লান হবে, কিছু পায়ের চিহ্ন অমলিন রবে হিসাবের ব্যারিকেড ভেঙে।
চলে যাচ্ছ পুরনো পথ ধরে অনেক দূরে। তোমার শহরে রাত কখনোই ঘুমোয় না। জেগে থাকে মলিন কিছু ঘটনাকে সাক্ষী করে। নিকোটিন সময় পেরিয়ে যায়। ক্যাম্পফায়ার জ্বালিয়ে বসে থাকি একা। কারাওকে ভেসে আসে পাশ থেকে। আমি দূর থেকে তাকিয়ে দেখি আনন্দঘন কিছু মুহূর্তকে। কোনও মলাটে বদ্ধ নেই, কেউ লিখে রাখে নি এমন কিছু মুখ আর মানুষকে। ফানুশ জীবনের বাঁকে বাঁকে শুধুই খেলাঘর। খেলে যাচ্ছি প্রত্যেকেই। হাসির আড়ালে প্রত্যেকেই দুঃখের কারিগর।
ওখানের আকাশ কতটা ম্লান জানি না। তুমি আমার বিপরীত মেরুতে। আমার রাত মানেই তোমার ঝলমলে দিন। আমি উৎসবের রেশকে জের টেনে গুনগুণ করে গাইছি.... "আমায় ডেকো না, ফেরানো যাবে না... ফেরারি পাখিরা গোলায় ফেরে না..."
হয়তো দৃষ্টিসীমার ওপারে দাঁড়িয়ে তুমিও...
Tuesday, 28 February 2017
ভাত ঘুমের অবসরে
Monday, 27 February 2017
অপেক্ষা
― ইমেল নাঈম
শুরুটা একই রকম মনে হয়। কারণ নেই তবুও খুঁতখুঁতে চোখে তাকিয়ে থাকি। উদ্দেশ্য ― বিধেয় কোনো কিছুই আমাকে আর তাড়া করছে না। তবে পালিয়ে বেড়াচ্ছি কার থেকে? পথ জানা নেই অথচ পথিক। দৃষ্টির ফাঁক গলে এড়িয়ে গেছে গত সময়ের খোয়াবনামা। জানি না তাই জোর নেই কোনো। হাপিত্যেশ নেই, হতাশা অনেক। রয়ে সয়ে যাওয়া কিছু গল্পের ভাঁজে রেখে দিয়েছি অপূর্ণ কিছু উপলব্ধি।
সকাল পেরোলে পাতাবাহারের কোনো আবেদন থাকে না। পিচ ঢালা পথ একচ্ছটা মরীচিকার জন্ম দেয় আলোর বিচ্ছুরণে। বারবার পথ ভুলে ঢুকে পড়ি সেই কক্ষপথে। বেরোবার পথ জানা নেই। আলোর দিকে ছুটতে গিয়ে ঢুকে গেছি চোরাবালিতে। মোহ! সেতো গিলে খাচ্ছে আমাকে রাত দিন। অলিক কল্পনায় ভাসিয়ে দিচ্ছি ডিঙ্গি। মাছরাঙার মতো দাঁড়িয়ে থাকি পানির মাঝে।
রাত বাড়লে চাঁদের প্রতিবিম্ব এসে ছড়িয়ে দেয় আলো। নীলাভ আলোয় আমি লীন হই। গুণগুণ করে গান গাইতে থাকি। ক্রমশ ভুলে যেতে থাকি অপ্রাপ্তি আর হতাশাগুলোকে। প্রার্থনা করি রাত দীর্ঘায়ত হোক। আর কাল সকালে ঝুল বারান্দায় অপ্রত্যাশিতভাবেই যেনো নয়নতারা ফুটুক।
কখনো মাছরাঙার চোখে, কখনো পিচ ঢালা পথের গোলকধাঁধা বুকে নিয়ে আমি কতকাল এমন সকালের অপেক্ষায় তাকিয়ে আছি।
Sunday, 26 February 2017
আত্মনিমগ্ন গান
Saturday, 25 February 2017
অপেক্ষা
― ইমেল নাঈম
সূর্যাস্তের গল্প বলেছিলাম গতকাল সন্ধ্যায়। মনের ফ্ল্যাশব্যাক এতোটা অতৃপ্ত নয় যে দু এক কথায় মিটে যেতে পারে আমাদের সুখের বিন্যাস। মাটির সরল পথ, পাহাড়ি জনপদ, বিকালের ছিমছাম রোদের আত্মকথা। হাবিজাবি কথার ভিড়ে মখমলে দিনের শ্রুতি কথাও থাকে ― নীরবে। কোলাহল ছেড়ে দাঁড়ায় এখান থেকে অনেক পথ দূরে। বাতাসের বুকেও আঁকিবুঁকি খেলা যায় এমন দিনে। সুযোগসন্ধানী আমিও সংলাপের পর সংলাপ লিখে শেষ করে দিই একেকটা অসমাপ্ত বর্ণনা।
শুরুর দিকে কোনো কথা থাকে না, অদ্ভুত মৌন সুর খেলতে থাকে কলমের নিব জুড়ে। হাহাকারের কোনো ¯পর্শ থাকে না। উপচে আসা কথাদের মাঝেও রেখে দিই জাফরান। পরের গল্পে অন্যরকম ― সেখানে ক্রমশ উর্বর শব্দের কাছে অনুর্বর অনুভূতিদের পরাজয় নামে। যেন অদৃশ্য যুদ্ধের পর দৃশ্যমান এক রিফুজি ক্যামম্প। দাঁড়িয়ে আছি রেড ক্রিসেন্টের গাড়ীর জন্য একা, আমার সামনে দাঁড়িয়ে উপেক্ষার সন্ধ্যা আর পিছনে সোনা ঝরা পাতাদের কলরব।
নৈঃশব্দ্যের কাছে ফিরে যাই অন্য এক সুরে। উষ্ণতার সান্নিধ্যে রেখে দিই অমায়িক গল্পের হাতছানি। নিজেকে সামলে নিই পাহাড়ের বুকে। ধৈর্য ধরতে ধরতে কখন যে পায়ে লেগেছে বেড়ি একটুকুও টের পাই নি। চুপ থাকতে থাকতে ভুলে গেছি মানুষের মুখ। বাস্তব মূকাভিনয়ে ব্যস্ত আমি দেখিনি আয়না কতকাল! দাঁড়িয়ে আছি প্রত্যাশা নিয়ে, যদিও ভুলে গেছি প্রয়োজনীয় নাম আর ঠিকানাটুকু।
Tuesday, 21 February 2017
কাঁঠালচাঁপার জন্য
― ইমেল নাঈম
থেমে যেতেই আবিষ্কার করি কাঁঠালচাঁপা গাছটি আমার ছিলো, অথচ গতকাল পর্যন্ত তার অস্তিত্ব আমাতে ছিলো না। এরপর কয়েক মিলিগ্রাম আক্ষেপের জন্ম হয়। সময়ে সময়ে সেগুলো কিছুটা বাড়ে, পুনরায় কমেও যায়।
কিসের মায়াজাল। পুরনো একটা আঙিনা, কেনোইবা টেনে নিয়ে যায় স্মৃতির মিনারে। কাঁঠালচাঁপা সেও তো মিশে যেতে চায় কুয়াশার চাঁদরে। আমি তো প্রতিজ্ঞাবদ্ধ নই বিগত সময়ের ধুলোমাখা স্মৃতির কার্নিশের কাছে। তবুও এক্কাদোক্কা খেলা, বায়স্কোপের ফাঁক গলে ভেসে ওঠা নায়ক নায়িকাদের ছবি। বাতাসা আর শনপাপড়ির মোহনীয় দুপুর সেও কেনো কড়া নাড়ে আমার দরজায়।
নাটকের সংলাপের মতো নিজেকে আওড়ে ফিরি, কোনো মানে নেই জেনেও বারবার হাতঘড়ির সময় দেখি। মফস্বলের সন্ধ্যায় রেখে দিই পুরনো সব আলিঙ্গন। চেনা ইশকুলের মাঠ, তার মাঝে আঁকাবাঁকা মেঠো পথ, দূরের হাতছানি দেখে কার ছবি আঁকছো পড়ন্ত বিকালে।
সাইরেন থেমে যায়, নিয়মানুগ ঘণ্টা বাজে কারখানার। জীবনের বাঁক নদীর মতো সরল নয়, অথচ জীবন বলতেই নদীকে বুঝি। নাব্যতার আগ মুহূর্ত পর্যন্ত গতি আর এরপর মৃত্যুর মিছিল। কেমন যেনো মিলে যায় জীবনের হিসাব নিকাশ। ক্ষণিকের অচেনা কাঁঠালচাঁপা― তুমি তো কখনোই আমার কাছের কেউ ছিলেনা। তবে... কেনো অদৃষ্টে খেলে যাচ্ছ অপরিচিত খেলা।
প্রকাশকালঃ ৯ ফাগুন, ১৪২৩