Tuesday, 21 March 2017

অন্ধের জন্য কবিতা


অন্ধের জন্য কবিতা
 ― ইমেল নাঈম

অবিশুদ্ধলোকে বেঁচে থাকার খুব ইচ্ছে হয়, হন্য হয়ে খুঁজে ফিরি
বিশুদ্ধ অক্সিজেন আর সবুজ পাতার সালোকসংশ্লেষণের আবাসন,
এর বাইরে কিছু শব্দ মৌন হতে জানে। তাদের জানাই কুর্নিশ!

সময়ের মারপ্যাঁচে অনেক ইতিহাস, সেগুলোর সবটুকু বর্ণিত নয়,
এরমাঝে কিছু ব্যবচ্ছেদ জন্ম নেয় কবিতার মতো করে,
কেউ চায় হাতে পড়ুক হাতকড়া, পায়ে বেড়ী, কবিতা হবে আজ্ঞাবহ
কবিতা হবে অনুগত, রচিত হবে রাষ্ট্রীয় প্রণোদনায় সুখের আবাদ,

কলমের কালিতে যে শক্তি তার বিরুদ্ধে ক্ষমতার প্রকাশ ঘটাও
দুটো মিলিয়ে যেই প্রাণের সন্ধান পাওয়া যাবে তাতে বের হবে
নতজানু সময়ের শ্লোগান। রুদ্ররা ভোলে না উদ্ধত তর্জনীর সুর…
রাষ্ট্রকে ধুয়ে দিতে পারে যে কলম তাকে আটকাও ছলেবলে

কেনো ভুল পথে উড়ে যায় তোমাদের অন্ধ যুদ্ধবিমান
ভুল পথে উড়ছে শাদা পায়রার দল। ধর্মের মোড়কে অধর্মের
আবাসনকে ছুটি দিয়ে দাও দ্বিধাহীন চিত্তে। রেখে দাও কিছু গোলাপ
দেখো কেউ কী আসে কিনা কাঁটা ঘেরা পথ মাড়িয়ে।

মুখকে খুলতে দাও দিন শেষে, স্বপ্নদ্রষ্টা বলুক তার কাব্যকথা
তাকে মেনে নাও অন্ধের সেবক, কিছুটা রোদের জন্ম লিখা হয়
কিছু শব্দ থাকে আলোর সন্ধানে মত্ত, তাকে চিনেনি অন্ধের দল।


প্রকাশকালঃ ৭ চৈত্র ১৪২৩।

Monday, 20 March 2017

চৈত্রে বৃষ্টির চিঠি


প্রিয়তা,
তুমি এখন অনেক দূরে। এখানে চৈত্র মাসে তুমুল বৃষ্টি। পথের সীমারেখা টানতে টানতে হাঁপিয়ে উঠেছিলাম আমরা দুজনেই। বৃষ্টি আমার খুব প্রিয়। বৃষ্টির শেষে পড়ন্ত বিকেলে নরম ঘাসের উপর খালি পায়ে হাঁটতে তুমি খুব পছন্দ করতে, কারণ পা ভেজানো এই আর্দ্রতা তোমার খুব প্রিয়। এই মুহূর্তে তুমুল বৃষ্টি পড়ছে না। চৈত্রের দিনে বৃষ্টি কাম্য নয়। তবুও তো আসে, ভিজছে বাহিরে এবং ভিতরে।

অফিসের জানালা দিয়ে চোখ মেললে ব্যস্ত সড়কের দিকে চোখ যায়। সাধারণত কর্মব্যস্ত মানুষের ঢল কমেনা এইখানে। আমিও নয়টা ― সাতটার নিয়ম মেনে দৈনন্দিন কাজ কারবারে পার করে দিচ্ছি ব্যস্ত ঘড়ির কাঁটার। অবকাশ নেই, অথচ এই বৃষ্টিতে কাজে মন টেকেনা। কবিতাপ্রেমীদের জন্য এই বিকেলের গল্পটা অন্যরকম হয়। তারা রবীন্দ্র সঙ্গীতে মন ডুবিয়ে ঝালমুড়ি খেতে খেতে প্রেমের কবিতা লিখে। আর আমি সবটাই অনুমান করে লিখছি, অফিসের কাজকর্ম ফাঁকি দিয়ে।

প্রিয়তা বৃষ্টি দিন এখন তোমার কেমন কাটে? আগের মতো? মানে বৃষ্টিতে ভিজে ভিজে হাঁটতে ভালবাসতে, পরের দিন ঠাণ্ডা, সর্দি, জ্বর বাঁধিয়ে একাকার। মানা করলেই বলতে ধুর কিছুই হবেনা। কিন্তু হতো, আর তোমার সাথে আমার দৈনন্দিন সাক্ষাতটা কমে গিয়ে নেমে যেতো তিন দিনে একবার। তবে তোমার ঘরে যাবার অজুহাত হিসেবে এটি অবশ্য মন্দ ছিলোনা। একদিন আমি বলেছিলাম বৃষ্টির সাথে ঠাণ্ডা, সর্দি, জ্বরের কোনো সম্পর্ক নেই। শুনেই তুমি খুশিতে টুপ করে গালে এঁকে দিয়েছিলে ভালবাসার পরশ। পরক্ষণেই লজ্জা পেয়েছিলে। আর আমি গোবেচারার মতো দরজার দিকে তাকাচ্ছিলাম। কেউ দেখেনি তো!

এই স্মৃতি আমার চোখে জ্বলজ্বল করতো। আমি অনুভব করতাম। তুমি জানো, এটিই প্রথম চুমুর স্বাদ নয় কিন্তু এটিতে লুকিয়ে ছিলো অন্যরকম একটা স্পন্দন। সেইথেকে এখনো নীরবে বাজছে আমার শরীরজুড়ে একটা শিহরণ। এখনো সেই স্মৃতি খুব চোখের সামনে দৃশ্যমান না হলেও কিন্তু খুব একটা অস্পষ্ট নয়। চৈত্র দিনে আমিও বৃষ্টি কাতরতায় ভুগছি। অনেক কথাই বলার ছিলো, শোনারও ছিলো অনেক শব্দ। অনেক শব্দ অল্পতেই উলটে গেছে গতিপথ ভুলে। কোনো অভিমান নেই, সুখ স্মৃতি অনেক কিছুই এঁকেছে। যদিও গল্পের শেষে আমি ফিরে যাই একলা, আর তুমি ছুঁয়ে থাকো কারো হাত।

হাত ধরার গল্পটাও তো বসন্তের। সেই গল্পটায় আমার নামে কোনো অধ্যায় নেই। আমার পুরোটা জুড়ে তুমি নেই। তবুও, তুমি আছো স্মৃতি বিস্মৃতির ডামাডোলে তুমি লুকিয়ে আছো গোপন এক অধ্যায়ে। এমন অনেক ছোটছোট গল্পের মাঝেই আমার শ্বাস প্রশ্বাস, অলিন্দের স্পন্দন।  আর সেইসব গল্পের রেশ নিয়ে আমি প্রতিবার থামি। থেমে যেতেই হয় আমাকে ঠিক আজকের মতো।

ইতি,
রোদ্দুর।
৬ চৈত্র ১৪২৩।

জিজ্ঞাসা

জিজ্ঞাসা
― ইমেল নাঈম


সতর্ক বাণী ভেসে আসে পত্রিকার পাতাজুড়ে
হাহাকারের ভাষায় লিপিবদ্ধ নতুন কোনো গল্পে
সভ্যতার পাঠ ভুলে গেছে গৃহবন্দী পাখি।

অভিমান নেই, জড়তা অনেক। সবকটা বৃত্তে
শুধুই অভিমান জন্মায় না, কিছু বৃত্তজুড়ে
অবিরাম বাজতে থাকে সর্বহারাদের সঙ্গীত।

দুঃসময়ে কার দিকে আঙুল তোলো হে স্বপ্নদ্রষ্টা?
কাকে প্রশ্নবাণে আহত করতে গিয়ে নিজেই ব্যর্থ
শূন্যতার মাপকাঠিতে নিজের দিকে তাকাও,

নিজেকে ধুলোর আবরণে খুঁজে দেখো,
ভাবো ― কী পেলে, তার বিনিময়ে কী হারালে
বিনির্মাণে টিকে থাকে খোয়াবনামার মোচ্ছব।
মাৎস্যন্যায়ে দুঃখরা গিলে খায় একে অপরকে

অ-গচ্ছিত হিসাবে থাকে পাওয়া না-পাওয়ার গল্প
কাটাকুটি খেলায় পার করে দিই নিজের দিন
এরপর নিজের বলে আর কীইবা থাকে বলো!

প্রকাশকালঃ ০৫ চৈত্র ১৪২৩

Friday, 17 March 2017

আনন্দ নগর
― ইমেল নাঈম

অন্ধকারের একটা শক্তি আছে। বর্ণনার শেষে রেখে যায় এর রেশ। পথের পাশ দিয়ে যেতেই কানে ভেসে আসে আনন্দ নগর। ভেসে যাওয়া ভেলায় উঠে বসি আমরা সকলে। নোঙর ফেলেছি কে কোথায় জানা নেই। শহর থেকে চলে যাই মেঠো পথের কাছে। মাটির সুরে রেখে দিয়েছি জীবনের আয়োজনে। রাত ফুরোলেই অনেক গল্প থাকে। কিছুটা বর্ণনার মাঝে লুকোনো থাকে অমিতশক্তি।

কারা যেন গেয়ে বেড়ায় মাটির গান। সোঁদা গন্ধে মৌ মৌ করে ওঠা স্বপ্নঘোর। পশ্চিমা বাদ্যে কে যেনো গেয়ে ওঠেন লালনফকির । আবার হাসন রাজার মরমিয়া সঙ্গীত খেলে যায় অন্ধকারে আলোর খেলা। ভেলায় চড়ে বসি আমরা। ভেসে যাই দূরান্তর। শার্ট পেন্ট পরিহিত গায়ক গেয়ে চলেন একের পর এক। দশ পেরিয়ে যায় অন্য দশের কাছে। দশের মাঝে আলো নয় অন্ধকারও ছড়ায় একের পর এক।

সত্য মিথ্যের খবর কেইবা রাখে। কার কাছে রেখে দিয়েছো সততার পারদ। আহা উঁহু শব্দটা শোনার খুব ইচ্ছে জাগে রাত বিরেতে। সমগ্র রাত কাটে কুকুর শুয়োরের অনবদ্য সাধনায়। নেশার গল্পে বিশ্বাসযোগ্যতা বেশি। কষ্টিপাথরে  খোঁজখবর নিয়ে বেড়াবে কয়জন। সকালের গল্পটা অন্যরকম। রূপ প্রকাশে ভীত হয়ে পড়েন গত রাতের স্রষ্টা । ঈশ্বরের নাম জপতে থাকেন সারাটা সময়। বিপদ কাটলেই সেই পুরনো রূপে ফিরে আসেন।

আনন্দ নগর থেমে যায় নগরীর কোনো ডাস্টবিনের সামনে। হায় মরমিয়া, মাটির গান আলো নয় আঁধারই নিয়ে আসে। অন্ধকারের সমান্তরালে দাঁড়িয়ে আলোর বার্তা ছড়াচ্ছে কারা এই অসময়ে? কী হবে লালন আর হাসনের গান গেয়ে যদি না মনের বাতিঘর না খুঁজে পায় আনন্দ নগর।

প্রকাশকালঃ ৩ চৈত্র ১৪২৩

Thursday, 16 March 2017

স্বেচ্ছামৃত্যুর আগে বা পরে

স্বেচ্ছামৃত্যুর আগে বা পরে
― ইমেল নাঈম 
 
কবি, স্বেচ্ছামৃত্যুর ঠিক আগ মুহূর্তে আপনি কার কথা ভাবছিলেন?
নিজেকে, পরিবার, বন্ধুবান্ধব, আত্মীয়স্বজন, কবিতা কিম্বা অন্যকেউ....
কার কথা ভাবতে ভাবতে হঠাৎ করে নিয়ে ফেললেন এমন সিদ্ধান্ত
আচ্ছা ধরুন সব আপনার মনমত, এতে কী জীবনের কোনো অর্থ আছে?

ভাবতে ভাবতে লিখে ফেললেন কবিতা, কিম্বা বিচ্ছেদের কোনো গান
রাতের খাবার খেয়ে এক গ্লাস দুধ খেতে খেতে ভাবতে পারেন
মৃত্যু আর জীবনের মাঝে ঘূর্ণায়মান শব্দগুলোকে...ভুলে যেতে পারেন
যা কবিতায় বর্ণিত জীবনের আনন্দপাঠ থেকে বঞ্চিত হবার ক্ষণ

এবার উলটোভাবে ভাবুন, স্রোতের বিপরীতে দাঁড়ান, ভাবুন জীবনের
সুন্দরটুকু উপলব্ধি করতে মৃত্যুর আয়োজনের গুরুত্ব। এরই মাঝে
ভাবতে পারেন আড্ডা মুখর পরিবেশে বন্ধু বান্ধব বা পরিবারের মুখ।

কবি আপনার প্রতি একটা ছোট্ট অনুরোধ স্বেচ্ছামৃত্যুর আগে অবশ্যই
চাঁদনিরাতে প্রিয় কবিতাপাঠ করে শোনাবেন ঝিঁঝিঁপোকার সমাবেশে
মন যা চায় তাই করে দেখবেন সমাজের অগ্নিচোখকে পরোয়া না করে
কবি এসব কাজ সমাপ্ত না করে ভুলেও মৃত্যুকে আলিঙ্গন করবেন না,

…
  কবি আপনি বলুন স্বেচ্ছামৃত্যুর পর আপনি এখন কার কথা ভাবছেন?
নিজেকে? পরিবার? বন্ধুবান্ধব? আত্মীয়স্বজন? কবিতা? বা অন্যকেউ?

প্রকাশকালঃ ২ চৈত্র ১৪২৩


Wednesday, 15 March 2017

রুমাল আর নকশা

রুমাল আর নকশা 
― ইমেল নাঈম 

রুমালে ভুল বানানে লেখা ভুলনা আমায়। একটা আবেগের আধার এই রুমাল। প্রতীক্ষায় রেখে দেওয়া এক রাশ শব্দমালার কাছে এরচেয়ে বেশি দাবী নেই। মনের অব্যক্ত অজস্র কথার ভিড়ে একটি শব্দ লিখে রাখা রুমালের পাতায়। ঠিক তার উপরে বিনি সুতোর ফুল আঁকা। শেষ কবে দেখা হয়েছিলো জানা নেই। কোনো একদিন সুন্দর সকালে চলে গেছে একটা রূপকথার গল্পকে সাথে নিয়ে। যাবার সময় পরম ভালবাসায় হাতে ধরিয়ে দিয়েছিলো এই রুমাল। 

এরমানে প্রতীক্ষার জন্ম। মাসের শেষে একটা খাম এলো ঘরের ঠিকানায়। দেরি হলে পোস্ট অফিস আর পিয়নের খোঁজ। টাকা গুঁজে দেয়া সময়মত চিঠির প্রত্যাশায়। মনে ধরে রাখা একটা উশখুশ ভাব, সন্দেহের দানা…. অভিযোগের তীর হাঁকিয়ে বলা  চিঠি পৌছায় না উৎকোচের অভাবে। আবদারের চেয়ে স্পর্শের মূল্য বেশি। উপহারের চেয়ে হাজার মাইল দূর থেকে আসা ভুলে ভরা চিঠির মূল্য বেশি। প্রতীক্ষায় যে বধূ স্বপ্ন বুনে আবার দেখা হবে তাকে কেউ কখনো বাঁধেনি কবিতায়। 

ওইদিকের অপেক্ষার গল্পটা জানা নেই আমার। প্রযুক্তির কল্যাণে অলস হয়ে ফিরছি আমরা। চিঠির পাতা দখলে নিয়েছে স্মার্টফোনের নানান আয়োজন। না চাইলেই মুখ দেখে কথা বলা যায়। সব সময় পাশে থাকা যায়। কেউ এখন লিখেনা রুমালে অপ্রকাশিত প্রেমের ব্যক্তিগত বিজ্ঞাপন। প্রযুক্তি বদলে দিয়েছে আমাদের প্রকাশভঙ্গি আর অভিব্যক্তি। কেউ এখন চিঠির অপেক্ষায় থাকেনা, আবার কেউ এখন আর চিঠি লিখেও না। 

প্রকাশকালঃ ১ চৈত্র ১৪২৩ 

Monday, 13 March 2017

দিন যাপনের গল্প

দিন যাপনের গল্প 
– ইমেল নাঈম 

চমকে ওঠা সময়ের দিব্যি নিজেকে নিয়ে লুকোচুরি খেলোনা – বেলা অবেলায় পেরিয়ে গেছে মধ্য দুপুর। ভ্রান্তি ছড়িয়েছে সামনের পথে, পিছনে লিপিবদ্ধ সোনালি সোপান। ক্লান্তি নেমে আসে চোখজুড়ে। তোমাকে চিনতে পারিনি , তাই বয়ে আসা সময়ের ফাঁকে রেখে দিয়েছি স্বর্ণকমল। 

বনসাই সভ্যতায় আকাশ ছুঁয়ে দেখছো মাটি থেকে অনেক দূরে। খুব সহজেই ইঞ্জিন চালিত নৌকায় পাড়ি দিচ্ছো কর্ণফুলী। সাম্পান বদলে যাচ্ছে – আকারে নয় , প্রযুক্তির কল্যাণে। আমিও পাল তোলা নৌকায় চড়িনি একবারও। ডিঙ্গি নৌকাটি অলস দিনযাপনের গল্প লিখে শান বাঁধানো শান্ত পুকুরে। 

অপেক্ষার প্রহর মিষ্টি নয়। জন্ম দিতে পারে বিচ্ছেদের গোপন অসুখ। খুব কম সময়ের জন্য হলেও একটা রেশ থেকে যায়। কাকে বাঁধা দিচ্ছ এই অবেলায়। যে হরিণ হৃদয় দৌড়ে চলে যাচ্ছে তোমার স্পর্শের বাইরে – তাকে বগলদাবা করতে যেও না প্রেমিক – দেখবে তোমার বুক রক্তাক্ত হয়ে গেছে তীব্র ক্ষরণে। 

বদলে গেছে জীবন যাত্রার পথ ঘাট। বাকী সব আয়োজনে রেখে দিয়েছি দৃষ্টির বিভ্রম। শ্লেষ ঝরছে তোমার গলায়। উড়াল সেতু, উঁচু অট্টালিকার ভারে তুমিও বেশ বদলে গেছো চারপাশটা নিয়ে। 

যদি নিজের চারপাশটা এখনো অচেনা লাগে, তবে বেরিয়ে পড়ো নতুন গন্তব্যে, আর পিছনে তাকিয়ে প্রশ্ন করো না – কেন, কোথায়, কী জন্য, কীভাবে, কার জন্যে... এই প্রশ্নের উত্তর জানে না আগামীর পথ। 

প্রকাশকালঃ ২৯ ফাল্গুন, ১৪২৩

Saturday, 11 March 2017

দূরত্বের গান

দূরত্বের গান
― ইমেল নাঈম

আপনাদের ওখানে বৃষ্টি কেমন হচ্ছে? প্রশ্নটা শুনেই বলে উঠতে পারলাম না। কোথায় বৃষ্টি , পুরো খাঁখাঁ করা মরুভূমি। নিজের ভিতরের চেপে রাখা মুহূর্ত―বিষণ্ণতা গিলতে গিলতে হারিয়ে গেছি পুরনো শব্দের কাছে। কবিতার খাতায় কিছু না লিখেও শেষ করে ফেলছি কালি। আহত জীবনের মায়ায় লিখে ফেলেছি প্রান্তিক জীবনের গল্পপাঠ। পাখির সন্ধানে চোখ রাখি জানলায়…. স্প্যাঙ্গল ডমপেড, বাডজি, কাকাতুয়ার জীবনের স্পন্দন আঁকা হয়ে গেছে।

জানি না আমার শহর ভিজেছে কিনা বসন্তের বৃষ্টিতে। বিকালের ঝালমুড়ি আর কফির কাপে নেমে আসা ছুটির দিনের বিশ্রাম। কবিতার বইয়ের পাতা বারবার জাগিয়ে দিয়ে যায় আমাকে অলীক কল্পনার জগত থেকে। আমি বেঁচে উঠি সবটা নিয়ে। তাকিয়ে দেখি বেলকনি জুড়ে অস্ট্রেলিয়ান  পাখিদের। নাগরিক সভ্যতায় দোয়েল নেই, জাপানিজ ক্রিস্টাল ঠিকই শোভাবর্ধন করছে অতিথিশালায়।

এই শহরে বসে আপনি জানতে চাইছেন বৃষ্টির কথা…. যেখানে নিজেকে খুঁজতে হয় অ্যাকোরিয়ামের মাছের আদলে। আকাশ বলতে মনে হয় ছয় ফুটি মেঘমালাকে। দুষ্টু ছেলের দল এখন কোথাও মার্বেল খেলে না। লাটিম আর ইয়োইয়ো খেলার প্রাচীন সংস্করণ লারেলাপ্পার মতো হারিয়ে যাচ্ছে অনুভূতিরা। পাখিরা উড়তে শিখেছে নির্দিষ্ট গণ্ডির মাঝে। সেখানে তুমুল বৃষ্টিতে নিজেকে পাবার মতন মুঠোফোনের বার্তায় বৃষ্টি নয়, ধূধূ মরুভূমি বেঁচে থাকে দুজনার মাঝে।

প্রকাশকালঃ ২৬ ফাল্গুন, ১৪২৩

Tuesday, 7 March 2017

পলাশের অপেক্ষা
― ইমেল নাঈম 

দুপুরবেলা। এলেবেলে পায়ে কেউ বুঝি এলো পলাশের ভিড়ে। জানালা খুলে দিই সুবাতাসের অপেক্ষায়। কোনো কারণ নেই অপেক্ষার। প্রেমের পরিমাপক যন্ত্রের নাম আবিষ্কার করতে ব্যস্ত  ভূগোলবিদ। সংজ্ঞাহীন থাকার মাঝেও একটা জিপসি আনন্দ আছে। অদ্ভুতুড়ে সাজে সজ্জিত কোনো এক ষোড়শী মেয়ে। গলায় পরেছে নক্ষত্রখচিত কাঠের হার। আমি আনমনে তাকিয়ে দেখি দূরান্তের দৃশ্যপট।

শহরতলী পেরিয়ে যেতে হয় পলাশের গাছের সন্ধানে। মন ― তাকে প্রবোধ দিই কী করে... উড়ুক্কু সময়ের খড়িমাটিতে লিখা একটি শব্দ। বারবার পড়ার চেষ্টা করি ― ব্যর্থ হই। সান্ত্বনার ভাজে ভাজে নিজেকে সিক্ত করি। হাপিত্যেশ ঝড়ানো প্রলেপে অপেক্ষায় থাকি। কেউ কী এলো পলাশ পেরিয়ে। এমন কারো দেখা মিললো যাকে দেখি নি আগে কখনো এই পথে।

থেমে যেতে হয়, তবুও থামি না। সকালের কুয়াশায় ঝরে যায় অজস্র পাপড়ি। তাদের কে বাঁধিয়ে রাখি বুকে? মেঠো পথ, লাল মাটির পরতে পরতে ছড়িয়ে ছিটিয়ে থাকা আহ্বান, সেসব কী প্রেমের কোনো বিজ্ঞাপন নয়! জিপসি সমাজ, অদ্ভুত আয়েশে পালিয়ে যায় আমার থেকে।

সবকিছুই মনের ভুল। কোনো ভাবেই এড়ানো যায় না। ঝরে যাওয়া পলাশও আমার মতো আক্ষেপ নিয়ে বাঁচতে শিখেছে। আগন্তুকের মুখ দেখতে না  পেয়ে ফিরে গেলো সবাই ― শুধু পলাশ সে এখনো প্রতীক্ষায় রয়ে গেলো।

প্রকাশকালঃ ২৩ ফাল্গুন ১৪২৩

Monday, 6 March 2017

তিতির কবিতা

তিতির কবিতা
― ইমেল নাঈম

একটা নীল খামে চিঠি এসেছিলো অনেক আগে। সময়ের উলটো স্রোতে ভাসতে গিয়ে হারিয়ে ফেলেছি নাম ঠিকানা। ছুটতে গিয়ে হারিয়ে গেছি। দোদুল্যমান পেন্ডুলাম হয়ে ফিরছি অনামা রাতের কাছে। কে শুনে যায় এমন বিরহী সঙ্গীত? বেপরোয়া রাত কাটে ভ্রান্ত আলাপনে। সাত নং পায়ে নয় নং জুতো পরে দৌড়ে চলেছি পুরো পথ।

চারপাশে কেউ হাসছে। কেউ দেখছে আমার এমন অদ্ভুত পাগলামো, মুঠোফোনে ভেসে আসে রিজওয়ান আর বিধুর ভালবাসি তোমায়.... মন কেমন করা দিনে অনেক শব্দই মুছে গেছে বলতে না পারার অনিচ্ছাকৃত অপরাধে। অকালের বৃষ্টিতে ভিজেছে দূরের শহরে। সবটুকুই তো প্রকাশিত, অপ্রকাশ্য কথারা এখনো টিকে আছে মায়ার বন্ধনে।

আমি বসন্তের সকালে এক ফুলওয়ালি ছোট্ট শিশুকে খুঁজি। মালা কিনে পরিয়ে দিবো তোমার খোঁপায়। তাকে দেখিনা ইদানীং। হারিয়ে যাবার পূর্বে শেষ মালাটা আমিই কিনেছিলাম দুটো রজনীগন্ধার বিনিময়ে। আমি তার চোখে মুখে আঁকছিলাম অনন্য এক হাসি। আজও চোখে ভাসে সেই মুখ আর হাসি।

একটা নীল খামের জন্য এখনো প্রতিদিন রঙ তুলির আঁচড়ে ছবি আঁকতে বসি জানালায়। আর সেই ছবির নাম দিই তিতির। তিতির জানে চিঠির অপেক্ষা ফুরবার নয়, তবুও অপেক্ষায় বসে থাকি এমন হরিত বিকেলগুলোতে।

প্রকাশকালঃ ২২ ফাল্গুন ১৪২৩

Sunday, 5 March 2017

রাকা তোমায় ভেবে কবিতা

রাকা, তোমায় ভেবে কবিতা 

― ইমেল নাঈম 


তোমায় নিয়ে আমার কোনো কবিতা নেই, চোখের ভাষায় কিছু শিহরণ থাকে ― বলি নি তাদের কথা কখনো। প্রশ্ন করিনি কখনো চুলের ভাজে নেমে আসে তিমির রাতের গল্প। চোখের কথা অনেক বারই বলেছি। সরাসরি ― কোনো উপমায় আঁকি নি আমাদের এই বন্ধুত্ব। 

রাকা, অবিশ্বাসী তুমি আযানের শব্দে, নামাজের সারিবদ্ধ আয়োজনে খুঁজে পাও শিল্প। আমি অবাক হই ― তোমার মতো করে কখনো খুঁজি নি। খুব গভীরে গিয়ে আঘাত করি নি নিজেকে। আয়নায় দাঁড়িয়ে প্রতিবিম্ব আঁকতে বসি নি রঙ পেন্সিলে। তুমি দূরের কেউ নও। খুব কী কাছের একজন ― এই ছোট্ট বাক্যাংশের কোনো জবাব নেই আমার কাছে। 

বড্ড উষ্ণতা পিয়াসী তুমি। শীতলতায় তোমার মাঝে বাস করে অদ্ভুত এক অবসাদ। তুমি শীত থেকে দূরে সরে যেতে যেতে চলে যাও সীমানার বাইরে। ব্যক্তিগত কোনো কথা নেই। দরজার ও’প্রান্তে কেউ হয়তো বুনে যায় অসময়ের নকশিকাঁথা। অজস্র কবিতার ভিড়ে কোনো কোনো মুখ কবিতা হয়। আর কোনো কোনো চোখ কবিতার জন্ম দেয়। 

তোমার চোখগুলো কে খুব ঈর্ষা করি। আর চুলগুলোকে ভালবাসি। এই ঈর্ষা আর ভালবাসার মাঝে প্রেম শব্দটার জন্ম হয়নি ব্রহ্মাণ্ডে। আমিও সূত্রের বাইরে সূত্র করে দেখি, কক্ষপথেরও বাইরে অন্য কোনো পৃথিবীর সান্নিধ্য মিলে যেতে পারে হুট করেই। 


প্রকাশকালঃ ২০ ফাগুন ১৪২৩ 

Friday, 3 March 2017

পাখি বৃত্তান্ত

পাখি বৃত্তান্ত
― ইমেল নাঈম


মানচিত্র ভুলে এখনো উড়ে যায় কিছু পায়রা। ঘরে ফেরেনা তাদের কিছু অংশ। জ্বালালি কবুতর তারও একটা ইতিহাস আছে স্মৃতিপটে। লেপটে গেছে অপ্রকাশিত স্পন্দনগুলো। কার পিছনে তাড়া করে ফিরছি ভুলপথে। কেনোই বা এ’ অবেলায় সাজানো পথে থোকায়থোকায় ফুটে আছে বুনোফুল।

তুমি গাইতে ভালবাসো। আমি শুনতে। তুমি গাইতে গাইতে হঠাৎ দেখলাম আমার রংধনু পাখিটা নাচতে তার ঘরের ভিতরে আনন্দে। সেও বুঝে গেছে তোমার আমার রসায়ন। তোমার সখের ব্লু স্কাই পাখিটির নাম দিয়েছিলাম নীলাকাশ। খুব আদুরে আর আহ্লাদ খেতে খেতে তার দিন কাটে খাঁচার বৃত্তে। অথচ উদাস দৃষ্টিতে তারও একটা প্রতীক্ষার গল্প থাকে অপ্রকাশিত।

আবদ্ধ প্রাণ তারও অনুনাদ স্পর্শ করে যায় আমাদের প্রাণ। তারা খুঁজে নেয় নিজের আনন্দ। সুখ দুঃখের অন্তরালে তারাও ভাগ করে নিতে জানে নীরবতা। মৌন আহবান রেখে যায় অব্যক্ত কথামালা। শব্দপুঞ্জে কোনো শিহরণ নেই। জ্বালালি কবুতরের মতো বাকবাকম করতে করতে পেরিয়ে যায় ফেলে আসা মুহূর্তগুলো।

সখের পাখি, প্রেম আর অপ্রেমের মাঝেও কীভাবে যেনো টেনে দিলো রেখা পথ।


প্রকাশকালঃ  ১৮ ফাগুন ১৪২৩।

Wednesday, 1 March 2017

স্মৃতি চারণ

 স্মৃতি চারণ 
― ইমেল নাঈম

অনুভূতিহীন শূন্য চাদরে আটকে গেছে যাবতীয় ভালোবাসা... বেশি শব্দ জমা নেই। ভ্রান্তি ছুঁয়ে গেছে আমার আকাশ জুড়ে। সৈকতের পায়ের ছাপের মতো দিনের গল্প দিনেই মুছে যায়। কিছুটা ঋণ থাকা ভাল, মনে রাখবে সেই সময়টুকু। হারিয়ে যাবার ব্যর্থ প্রয়াসে কেইবা আটকে রেখেছিলো নিজেকে। জানিনা এখনো ওপ্রান্তে মুঠোফোনের মিউজিক প্লেয়ারে ভেসে আসে এই নীল মণিহার। স্মৃতির মলাটে আর কিছুই রেখো না। সোনালী সন্ধ্যাও মিলিয়ে ম্লান হবে, কিছু পায়ের চিহ্ন অমলিন রবে হিসাবের ব্যারিকেড ভেঙে।

চলে যাচ্ছ পুরনো পথ ধরে অনেক দূরে। তোমার শহরে রাত কখনোই ঘুমোয় না। জেগে থাকে মলিন কিছু ঘটনাকে সাক্ষী করে। নিকোটিন সময় পেরিয়ে যায়। ক্যাম্পফায়ার জ্বালিয়ে বসে থাকি একা। কারাওকে ভেসে আসে পাশ থেকে। আমি দূর থেকে তাকিয়ে দেখি আনন্দঘন কিছু মুহূর্তকে। কোনও মলাটে বদ্ধ নেই, কেউ লিখে রাখে নি এমন কিছু মুখ আর মানুষকে। ফানুশ জীবনের বাঁকে বাঁকে শুধুই খেলাঘর। খেলে যাচ্ছি প্রত্যেকেই। হাসির আড়ালে প্রত্যেকেই দুঃখের কারিগর।

ওখানের আকাশ কতটা ম্লান জানি না। তুমি আমার বিপরীত মেরুতে। আমার রাত মানেই তোমার ঝলমলে দিন। আমি উৎসবের রেশকে জের টেনে গুনগুণ করে গাইছি.... "আমায় ডেকো না, ফেরানো যাবে না... ফেরারি পাখিরা গোলায় ফেরে না..."

হয়তো দৃষ্টিসীমার ওপারে দাঁড়িয়ে তুমিও...