Tuesday, 21 March 2017
অন্ধের জন্য কবিতা
Monday, 20 March 2017
চৈত্রে বৃষ্টির চিঠি
জিজ্ঞাসা
― ইমেল নাঈম
সতর্ক বাণী ভেসে আসে পত্রিকার পাতাজুড়ে
হাহাকারের ভাষায় লিপিবদ্ধ নতুন কোনো গল্পে
সভ্যতার পাঠ ভুলে গেছে গৃহবন্দী পাখি।
অভিমান নেই, জড়তা অনেক। সবকটা বৃত্তে
শুধুই অভিমান জন্মায় না, কিছু বৃত্তজুড়ে
অবিরাম বাজতে থাকে সর্বহারাদের সঙ্গীত।
দুঃসময়ে কার দিকে আঙুল তোলো হে স্বপ্নদ্রষ্টা?
কাকে প্রশ্নবাণে আহত করতে গিয়ে নিজেই ব্যর্থ
শূন্যতার মাপকাঠিতে নিজের দিকে তাকাও,
নিজেকে ধুলোর আবরণে খুঁজে দেখো,
ভাবো ― কী পেলে, তার বিনিময়ে কী হারালে
বিনির্মাণে টিকে থাকে খোয়াবনামার মোচ্ছব।
মাৎস্যন্যায়ে দুঃখরা গিলে খায় একে অপরকে
অ-গচ্ছিত হিসাবে থাকে পাওয়া না-পাওয়ার গল্প
কাটাকুটি খেলায় পার করে দিই নিজের দিন
এরপর নিজের বলে আর কীইবা থাকে বলো!
প্রকাশকালঃ ০৫ চৈত্র ১৪২৩
Friday, 17 March 2017
আনন্দ নগর
― ইমেল নাঈম
অন্ধকারের একটা শক্তি আছে। বর্ণনার শেষে রেখে যায় এর রেশ। পথের পাশ দিয়ে যেতেই কানে ভেসে আসে আনন্দ নগর। ভেসে যাওয়া ভেলায় উঠে বসি আমরা সকলে। নোঙর ফেলেছি কে কোথায় জানা নেই। শহর থেকে চলে যাই মেঠো পথের কাছে। মাটির সুরে রেখে দিয়েছি জীবনের আয়োজনে। রাত ফুরোলেই অনেক গল্প থাকে। কিছুটা বর্ণনার মাঝে লুকোনো থাকে অমিতশক্তি।
কারা যেন গেয়ে বেড়ায় মাটির গান। সোঁদা গন্ধে মৌ মৌ করে ওঠা স্বপ্নঘোর। পশ্চিমা বাদ্যে কে যেনো গেয়ে ওঠেন লালনফকির । আবার হাসন রাজার মরমিয়া সঙ্গীত খেলে যায় অন্ধকারে আলোর খেলা। ভেলায় চড়ে বসি আমরা। ভেসে যাই দূরান্তর। শার্ট পেন্ট পরিহিত গায়ক গেয়ে চলেন একের পর এক। দশ পেরিয়ে যায় অন্য দশের কাছে। দশের মাঝে আলো নয় অন্ধকারও ছড়ায় একের পর এক।
সত্য মিথ্যের খবর কেইবা রাখে। কার কাছে রেখে দিয়েছো সততার পারদ। আহা উঁহু শব্দটা শোনার খুব ইচ্ছে জাগে রাত বিরেতে। সমগ্র রাত কাটে কুকুর শুয়োরের অনবদ্য সাধনায়। নেশার গল্পে বিশ্বাসযোগ্যতা বেশি। কষ্টিপাথরে খোঁজখবর নিয়ে বেড়াবে কয়জন। সকালের গল্পটা অন্যরকম। রূপ প্রকাশে ভীত হয়ে পড়েন গত রাতের স্রষ্টা । ঈশ্বরের নাম জপতে থাকেন সারাটা সময়। বিপদ কাটলেই সেই পুরনো রূপে ফিরে আসেন।
আনন্দ নগর থেমে যায় নগরীর কোনো ডাস্টবিনের সামনে। হায় মরমিয়া, মাটির গান আলো নয় আঁধারই নিয়ে আসে। অন্ধকারের সমান্তরালে দাঁড়িয়ে আলোর বার্তা ছড়াচ্ছে কারা এই অসময়ে? কী হবে লালন আর হাসনের গান গেয়ে যদি না মনের বাতিঘর না খুঁজে পায় আনন্দ নগর।
প্রকাশকালঃ ৩ চৈত্র ১৪২৩
Thursday, 16 March 2017
স্বেচ্ছামৃত্যুর আগে বা পরে
― ইমেল নাঈম
কবি, স্বেচ্ছামৃত্যুর ঠিক আগ মুহূর্তে আপনি কার কথা ভাবছিলেন?
নিজেকে, পরিবার, বন্ধুবান্ধব, আত্মীয়স্বজন, কবিতা কিম্বা অন্যকেউ....
কার কথা ভাবতে ভাবতে হঠাৎ করে নিয়ে ফেললেন এমন সিদ্ধান্ত
আচ্ছা ধরুন সব আপনার মনমত, এতে কী জীবনের কোনো অর্থ আছে?
ভাবতে ভাবতে লিখে ফেললেন কবিতা, কিম্বা বিচ্ছেদের কোনো গান
রাতের খাবার খেয়ে এক গ্লাস দুধ খেতে খেতে ভাবতে পারেন
মৃত্যু আর জীবনের মাঝে ঘূর্ণায়মান শব্দগুলোকে...ভুলে যেতে পারেন
যা কবিতায় বর্ণিত জীবনের আনন্দপাঠ থেকে বঞ্চিত হবার ক্ষণ
এবার উলটোভাবে ভাবুন, স্রোতের বিপরীতে দাঁড়ান, ভাবুন জীবনের
সুন্দরটুকু উপলব্ধি করতে মৃত্যুর আয়োজনের গুরুত্ব। এরই মাঝে
ভাবতে পারেন আড্ডা মুখর পরিবেশে বন্ধু বান্ধব বা পরিবারের মুখ।
কবি আপনার প্রতি একটা ছোট্ট অনুরোধ স্বেচ্ছামৃত্যুর আগে অবশ্যই
চাঁদনিরাতে প্রিয় কবিতাপাঠ করে শোনাবেন ঝিঁঝিঁপোকার সমাবেশে
মন যা চায় তাই করে দেখবেন সমাজের অগ্নিচোখকে পরোয়া না করে
কবি এসব কাজ সমাপ্ত না করে ভুলেও মৃত্যুকে আলিঙ্গন করবেন না,
… কবি আপনি বলুন স্বেচ্ছামৃত্যুর পর আপনি এখন কার কথা ভাবছেন?
নিজেকে? পরিবার? বন্ধুবান্ধব? আত্মীয়স্বজন? কবিতা? বা অন্যকেউ?
প্রকাশকালঃ ২ চৈত্র ১৪২৩
Wednesday, 15 March 2017
রুমাল আর নকশা
― ইমেল নাঈম
Monday, 13 March 2017
দিন যাপনের গল্প
Saturday, 11 March 2017
দূরত্বের গান
― ইমেল নাঈম
আপনাদের ওখানে বৃষ্টি কেমন হচ্ছে? প্রশ্নটা শুনেই বলে উঠতে পারলাম না। কোথায় বৃষ্টি , পুরো খাঁখাঁ করা মরুভূমি। নিজের ভিতরের চেপে রাখা মুহূর্ত―বিষণ্ণতা গিলতে গিলতে হারিয়ে গেছি পুরনো শব্দের কাছে। কবিতার খাতায় কিছু না লিখেও শেষ করে ফেলছি কালি। আহত জীবনের মায়ায় লিখে ফেলেছি প্রান্তিক জীবনের গল্পপাঠ। পাখির সন্ধানে চোখ রাখি জানলায়…. স্প্যাঙ্গল ডমপেড, বাডজি, কাকাতুয়ার জীবনের স্পন্দন আঁকা হয়ে গেছে।
জানি না আমার শহর ভিজেছে কিনা বসন্তের বৃষ্টিতে। বিকালের ঝালমুড়ি আর কফির কাপে নেমে আসা ছুটির দিনের বিশ্রাম। কবিতার বইয়ের পাতা বারবার জাগিয়ে দিয়ে যায় আমাকে অলীক কল্পনার জগত থেকে। আমি বেঁচে উঠি সবটা নিয়ে। তাকিয়ে দেখি বেলকনি জুড়ে অস্ট্রেলিয়ান পাখিদের। নাগরিক সভ্যতায় দোয়েল নেই, জাপানিজ ক্রিস্টাল ঠিকই শোভাবর্ধন করছে অতিথিশালায়।
এই শহরে বসে আপনি জানতে চাইছেন বৃষ্টির কথা…. যেখানে নিজেকে খুঁজতে হয় অ্যাকোরিয়ামের মাছের আদলে। আকাশ বলতে মনে হয় ছয় ফুটি মেঘমালাকে। দুষ্টু ছেলের দল এখন কোথাও মার্বেল খেলে না। লাটিম আর ইয়োইয়ো খেলার প্রাচীন সংস্করণ লারেলাপ্পার মতো হারিয়ে যাচ্ছে অনুভূতিরা। পাখিরা উড়তে শিখেছে নির্দিষ্ট গণ্ডির মাঝে। সেখানে তুমুল বৃষ্টিতে নিজেকে পাবার মতন মুঠোফোনের বার্তায় বৃষ্টি নয়, ধূধূ মরুভূমি বেঁচে থাকে দুজনার মাঝে।
প্রকাশকালঃ ২৬ ফাল্গুন, ১৪২৩
Tuesday, 7 March 2017
Monday, 6 March 2017
তিতির কবিতা
তিতির কবিতা
― ইমেল নাঈম
একটা নীল খামে চিঠি এসেছিলো অনেক আগে। সময়ের উলটো স্রোতে ভাসতে গিয়ে হারিয়ে ফেলেছি নাম ঠিকানা। ছুটতে গিয়ে হারিয়ে গেছি। দোদুল্যমান পেন্ডুলাম হয়ে ফিরছি অনামা রাতের কাছে। কে শুনে যায় এমন বিরহী সঙ্গীত? বেপরোয়া রাত কাটে ভ্রান্ত আলাপনে। সাত নং পায়ে নয় নং জুতো পরে দৌড়ে চলেছি পুরো পথ।
চারপাশে কেউ হাসছে। কেউ দেখছে আমার এমন অদ্ভুত পাগলামো, মুঠোফোনে ভেসে আসে রিজওয়ান আর বিধুর ভালবাসি তোমায়.... মন কেমন করা দিনে অনেক শব্দই মুছে গেছে বলতে না পারার অনিচ্ছাকৃত অপরাধে। অকালের বৃষ্টিতে ভিজেছে দূরের শহরে। সবটুকুই তো প্রকাশিত, অপ্রকাশ্য কথারা এখনো টিকে আছে মায়ার বন্ধনে।
আমি বসন্তের সকালে এক ফুলওয়ালি ছোট্ট শিশুকে খুঁজি। মালা কিনে পরিয়ে দিবো তোমার খোঁপায়। তাকে দেখিনা ইদানীং। হারিয়ে যাবার পূর্বে শেষ মালাটা আমিই কিনেছিলাম দুটো রজনীগন্ধার বিনিময়ে। আমি তার চোখে মুখে আঁকছিলাম অনন্য এক হাসি। আজও চোখে ভাসে সেই মুখ আর হাসি।
একটা নীল খামের জন্য এখনো প্রতিদিন রঙ তুলির আঁচড়ে ছবি আঁকতে বসি জানালায়। আর সেই ছবির নাম দিই তিতির। তিতির জানে চিঠির অপেক্ষা ফুরবার নয়, তবুও অপেক্ষায় বসে থাকি এমন হরিত বিকেলগুলোতে।
প্রকাশকালঃ ২২ ফাল্গুন ১৪২৩
Sunday, 5 March 2017
রাকা তোমায় ভেবে কবিতা
Friday, 3 March 2017
পাখি বৃত্তান্ত
― ইমেল নাঈম
Wednesday, 1 March 2017
স্মৃতি চারণ
অনুভূতিহীন শূন্য চাদরে আটকে গেছে যাবতীয় ভালোবাসা... বেশি শব্দ জমা নেই। ভ্রান্তি ছুঁয়ে গেছে আমার আকাশ জুড়ে। সৈকতের পায়ের ছাপের মতো দিনের গল্প দিনেই মুছে যায়। কিছুটা ঋণ থাকা ভাল, মনে রাখবে সেই সময়টুকু। হারিয়ে যাবার ব্যর্থ প্রয়াসে কেইবা আটকে রেখেছিলো নিজেকে। জানিনা এখনো ওপ্রান্তে মুঠোফোনের মিউজিক প্লেয়ারে ভেসে আসে এই নীল মণিহার। স্মৃতির মলাটে আর কিছুই রেখো না। সোনালী সন্ধ্যাও মিলিয়ে ম্লান হবে, কিছু পায়ের চিহ্ন অমলিন রবে হিসাবের ব্যারিকেড ভেঙে।
চলে যাচ্ছ পুরনো পথ ধরে অনেক দূরে। তোমার শহরে রাত কখনোই ঘুমোয় না। জেগে থাকে মলিন কিছু ঘটনাকে সাক্ষী করে। নিকোটিন সময় পেরিয়ে যায়। ক্যাম্পফায়ার জ্বালিয়ে বসে থাকি একা। কারাওকে ভেসে আসে পাশ থেকে। আমি দূর থেকে তাকিয়ে দেখি আনন্দঘন কিছু মুহূর্তকে। কোনও মলাটে বদ্ধ নেই, কেউ লিখে রাখে নি এমন কিছু মুখ আর মানুষকে। ফানুশ জীবনের বাঁকে বাঁকে শুধুই খেলাঘর। খেলে যাচ্ছি প্রত্যেকেই। হাসির আড়ালে প্রত্যেকেই দুঃখের কারিগর।
ওখানের আকাশ কতটা ম্লান জানি না। তুমি আমার বিপরীত মেরুতে। আমার রাত মানেই তোমার ঝলমলে দিন। আমি উৎসবের রেশকে জের টেনে গুনগুণ করে গাইছি.... "আমায় ডেকো না, ফেরানো যাবে না... ফেরারি পাখিরা গোলায় ফেরে না..."
হয়তো দৃষ্টিসীমার ওপারে দাঁড়িয়ে তুমিও...