Tuesday, 11 April 2017

মানুষের ক্যানভাস

মানুষের ক্যানভাস
— ইমেল নাঈম

কিছুই করার নেই — যখন সভ্যতা কেড়ে নেয়...
ভয়ানক চিত্রায়নে নিস্তার পায়নি ক্যানভাস
রাস্তার দু' পাশ জুড়ে সারিবদ্ধ মানব দেয়াল
মানুষের চিত্রপটে রক্তাক্ত ছবি আঁকা থাকে না

ভাষা মৌন হতে চায় অবাক দৃষ্টিতে, হাত পেতে
নেয় সন্ন্যাস জীবন, শ্রেষ্ঠত্বের দাবী করে শ্রান্ত
সেবকের দল, খুঁজে দেখেনি — বুঝেওনি মাহাত্ম্য... 
বিচ্যুতির ঘেরাটোপে কিছু মুখ ভিন্ন কথা বলে

সুখের অসুখে ভেসে যায় আমাদের চারপাশ
অদৃশ্য রক্ত ক্ষরণে লিখে রাখি সিমেন্ট সভ্যতা
বাধার প্রাচীর টেনে স্রস্টা আজ শীত ঘুমে ব্যস্ত
মোমের দেয়াল গলে বেরোয় জীর্ণশীর্ণ চেহারা

শুরু থেকে পুনরায় দৌড়তে গিয়ে বুঝতে পারি 
ভাবনার দুষ্টু চক্রে আঁটকে যায় পথের ছবি...

প্রকাশকালঃ ২৮ চৈত্র ১৪২৩

Sunday, 9 April 2017

ইমসোমনিয়ার রাত

ইমসোমনিয়ার রাত
ইমেল নাঈম

নির্ঘুম রাত। মুঠোফোনের মৃদু মন্দ আলো, খুলে রাখা অ্যাপ আর ম্যাসেঞ্জারে কিছু গল্পের অসুন্দর সমাপ্তি ঘটে। কৈশোর ঘর মানে অগোছালো জীবনপাঠ। ঘরের কোনায় অ্যাকোরিয়ামের আলো, বুদ্বুদ জল তরঙ্গ। ভিতরে দুটো মাছের পায়চারী, আকাঙ্ক্ষার বিন্দুগুলো জমছে। আবার ক্ষণিক বাদেই হারিয়ে যাচ্ছে কর্পূরের মতো।

কল্পনা করি যদি বৃষ্টি হতো, কেউ একজন ভিজে চলেছে খোলা ছাদে, নিক্বণের শব্দে নতুন কোনো সুরের জন্ম। আবার ভাবি, প্রেমিক প্রেমিকারা রোজকার কী এমন কথা বলে! দৈনন্দিন কথার ভিড়ে নতুন কী এমন গল্পের জন্ম হয়? নাকি গৎবাঁধা কিছু সংলাপেই লিখা হয়ে যায় প্রেমের উপন্যাস।

নির্ঘুম রাত মানেই হেডফোন গুঁজে রাতের সমাপ্তি। আর হরেক ছায়াছবির ভিড়ে নিজেকে খুঁজে ফেরা রূপক কোনো গল্পে।

সুবহে সাদিকের অনেক আগে, ইনসোমনিয়ায় ভোগা রাত পাহারা দেয় চারটি নেড়ি কুকুরকে। নির্মাণাধীন অট্টালিকার পাশেই বালুর স্তূপ। সেখানেই সংসার পেতেছে তারা। জানালা দিয়ে প্রতি রাতেই ভেসে আসে ঘেউ ঘেউ ডাকাডাকি। আমার কখনো জানতে ইচ্ছে করেনি, তাদের বাক্যালাপ। কেবল তারা নয়, আমি বুঝিনা অন্যান্য কোনো প্রাণীর এমন চিৎকারের মানে।

রাত বুড়ো হতে হতে হঠাৎ ভেসে আসে সুমধুর ধ্বনি...
"আসসালাতু খাইরুম মিনান নাওম..."

আমার চোখ দুটো বুজে আসে তন্দ্রায়।

প্রকাশকালঃ ২৬ চৈত্র ১৪২৩।

Saturday, 8 April 2017

নগরীর রাত

নগরীর রাত
ইমেল নাঈম


"তুমি ছিলে কাল রাতে জোছনার সাথী
নিয়েছিলে মনখানি দিয়ে দুটি আঁখি"

ভেসে আসে আশির দশক। গেয়ে চলেছেন শিল্পী তার দরাজগলায়। ঘড়ির কাঁটায় সময় দেখি, জানালার ও পাশে নিয়নবাতির সমাবেশ। আলো ম্লান হয়, সদ্য ছুটি পাওয়া ব্যস্ত সড়কের ট্রাফিক লিখে রাখে গ্লোবাল ওয়ার্মিং। আর্দ্রতার সেচ প্রকল্পে হাপিত্যেশ করা জীবনযাপন।

পায়ের মাপে লিখে রাখি পৃথিবীকে। হিসেবের খাতায় যা জমেছে তার নাম প্রহসন। ঘুমহীন বিরতিতে রেখে দিই পলাশ রাঙানো ভোরের পথ। মফস্বল পেরিয়ে গেছি, রেখে দিই ইরানের জাফরান, মখমলে কাপড় ঢেকে দিয়েছে দু'চোখ। মানে নেই, তবু গেয়ে উঠছে গানের দল। কম্পাসের ভিতর দিকনির্দেশনা নেই। দূরবীনের লেন্সে কোনো মুখ নেই। দৌড়ে চলে একদল লোক। বুকে বাজছে দীর্ঘতম বিরহের অর্কেস্ট্রা।

ব্যস্ততার পাঠ থামলে, পরাবাস্তব গল্পে মানুষের সামনে দাঁড়াই, এই দাঁড়ানোর কোনো মানে থাকেনা, তবুও ছন্দপতনের বিভ্রম জাগে। স্পর্শের কোনো মানে নেই। আবার নানান অর্থের জন্ম দেয় তারা। সেগুলোর ভাবানুবাদ হয়, সংঘর্ষ আর প্রলয়ের পর অপেক্ষায় থাকে কাল্পনিক কোনো চরিত্র। এসবের ব্যাখ্যা নেই, তার বিনিময়ে কোনো প্রাপ্তি নেই, স্বীকৃতিও নেই।

নগরীর রাতগুলো ঘুমোয় না, আমার মতো স্মৃতিচারণ করে নিজের সাথে কথা বলে শুধু।

প্রকাশকালঃ২৪ চৈত্র ১৪২৩

Wednesday, 5 April 2017

উলটো বাতাস

উলটো বাতাস
– ইমেল নাঈম

বাতাসে নড়ে ওঠে ধর্মের কল, কেউ গাইছে
বিতাড়িত হোক উৎসবের আয়োজন।
অলুক্ষণে বৃদ্ধাঙ্গুল বারবার ভেসে ওঠে চোখে

কেউ স্বর্গ নরকের বিনিময়ে কিনে নিচ্ছে ভয়,
বাধার প্রাচীরে রাখা কিছু গল্প, কিছু কথা
মিথলজির অন্ধ বিশ্বাসকে পুঁজি করে
কেউ লিখছে স্বর্গ নরকের হিসাব নিকাশ

ধর্মীয় সম্প্রীতি, মানবতাবোধের চিরস্থায়ী ছুটি
মিলিয়ে দিলে শুরু হয় দ্বিতীয় অধ্যায়,
এরমাঝে লিপিবদ্ধ হয় আয়-ব্যয়ের অংক।
অন্ধ মুরিদেরা দৌড়ে ফিরে পথ না খুঁজেই

চোখ নয় – কান নয় – বিবেককেও নয় 
চোখ রাখে তৃতীয় কোনো মুখের দিকে
আর তাকে বিশ্বাস করতে গিয়ে ভুলে যায়
পাঠ্য বইয়ের বাইরের যতসব ধারাপাত

ইশারায় নবান্নকে পাল্টাতে ব্যস্ত ধর্মীয় মোড়কে।
জানেনা ইতিহাস, তোঁতা পাখির মুখস্থ বুলি
পাঠ করেই দায়িত্ব পালন করে ধর্মের পাখি,
অন্য ইশারায় বন্ধ হয় আমিষের দোকান

এগুলো সফল হলে বাঁচবে ধর্মের দোকান
সেখানে রচিত হবে স্বর্গ নরকের হিসেবে 
মেরুদণ্ডহীন মানুষের রোজকার জীবন কর্ম।

প্রকাশ কালঃ ২২ চৈত্র ১৪২৩

Tuesday, 4 April 2017

বিষণ্ণ রাতের গল্প

বিষণ্ণ রাতের গল্প
— ইমেল নাঈম

রাখিনি হিসেব সময়ে — কোনো দাবী দাওয়া নেই। 
ভ্রান্ত পথ জানেনা কিছু, তবু ছুটছি অকারণে 
আহামরি নয়, মুক্তপ্রাণ আর তার উচ্ছল হাসিরা
উদ্বেল হয়ে ফিরে আসে গোপনে — পিছনের পথে।

ডুবেছে আলো, লোডশেডিংয়ে কাবু চৈতালি রাত
ফিরতে হয় বলে লুকিয়ে ফিরেছে পলাশের দল
এরবেশি কোনো কিছুই জ্ঞাত নয় — কেউ জানেনা —
একাদশী চাঁদ, ভগ্নাংশ দিয়ে লিখে রাখে প্রেম। 

মোমবাতির আলো ম্লান হয় ঘুম চোখে — আলস্যে — 
বাতি জ্বলে না ল্যাম্পপোস্টের, এ'রাত মধুর নয়
থেমে যাওয়া দেখি অনেক হিসাবের ফাঁক গলে
শহরে নেই ঝিঁঝিঁর ডাকাডাকি, মশার তাণ্ডবে
ক্লান্ত হয়ে ফিরছে শব্দরা, বিষণ্ণ রাতের গল্পে...

আমারো অনেক কথা বলার ছিলো, হলো না বলা...
প্রাপকের অভাবে ফিরে আসে তারা আমার কাছে
দৈনন্দিন ব্যস্ততার শেষে ব্যর্থতার আয়োজনে 
রাখিনি হিসেব সময়ে — কোনো দাবী দাওয়া নেই। 

প্রকাশকালঃ ২১ চৈত্র ১৪২৩
প্রথম সংশোধনঃ ৮ বৈশাখ ১৪২৪

Saturday, 1 April 2017

বৃষ্টির দিনের কবিতা

বৃষ্টির দিনের কবিতা
ইমেল নাঈম


বৃত্তবন্দী কিছু প্রেম লেখা থাকে, বেয়ারিং চিঠির মতো বেয়াড়া।
ফিরে আসতে চায় পুরনো ঠিকানায়, পা ডুবে গেছে নোনাজলে

ফিরে আসার আগেই লিখে ফেলেছিলো জ্বরের গল্প, গা বেয়ে
ওঠা থার্মোমিটারের পারদের অপর নাম তুমি, উত্তাপ ছড়াও
আমিও বসে থাকি একদলা ওষুধ পথ্য নিয়ে, জলপট্টির তাপ...

কেউ দরজায় দাঁড়ায়, একটা সেলাই মেশিন ঘুরতে থাকে
বিরতিহীন শব্দের পরে কেউ তো আসে দরজার এই পাশে

প্রলাপের ফাঁকে পাশেই শুয়ে থাকে প্রিয় কবিতার বই
এরপর দিনভর বৃষ্টির কবিতা লিখা হয় চৈত্রের তাপদাহে।

প্রকাশকালঃ ১৮ চৈত্র ১৪২৩

Friday, 31 March 2017

জিগলো

জিগোলো
ইমেল নাঈম


“তোমাকে আসতেই হবে আমার কাছে,
তোমাকে বসতেই হবে আমার পাশে”

মোবাইলের মিউজিক প্লেয়ার থেকে ভেসে আসে জয় শাহরিয়ার । নয়টা – সাতটা অফিসের শেষে ঘরে ঢুকতেই নয়টা ছুঁয়েছে দেয়ালঘড়ি। মোবাইলের টুপটাপ ম্যাসেজ জানিয়ে দেয় রাত এগারোটায় মিটিং। এমন মিটিং এ সময় লাগে কম, আয় রোজগার ভালো। শর্তাবলি আর স্বাস্থ্য সচেতন থাকলে সুখের ঘরে কোনো আঘাত আসেনা।

ফ্রেশ হয়ে বেড়িয়ে পড়ে – গন্তব্য জানে মুঠোফোন। শহরের রাজপথ ক্লান্ত, বাড়ী ফিরছে একদল লোক, আবার আরেকদল তারই মতো। পাবলিক বাস ছুটে চলে। জানালা দিয়ে দেখে নগরীর ফুলের দোকানের পাঠ সমাপ্তি। নিয়ন বাতি জ্বলছে অলিগলি বেয়ে, আর দুই পা বাকি পৌছুতে কাঙ্ক্ষিত গন্তব্যের। পৌঁছোবার আগ মুহূর্তে সময় মিলিয়ে নেয়।

এগারোটা বাজতে বাকি সতেরো মিনিট। অপেক্ষা নাকি আবারো ফোন – ভাবতে ভাবতে মুঠোফোনের আলো জ্বলে ওঠে। বার্তা খুলে দেখে 16D লেখা, মনে মনে হাসতে হাসতে ভাবে 36D হলে বেশ ভালোই হতো…লিফট পেরিয়ে উঠে যায় পনেরো তলায়। ডোরবেল বাজলে খুলে যায় দরজা…

প্রথমে হালকা পরিচয় আর এক পেগ শিভাস রিগালের পরে শুরু হয়ে খেলাধুলোর প্রদর্শনী। সিনেমার দৃশ্যগুলো ঘর্মাক্ত হয়, নানা রকম শারীরিক কসরতের পরে এক পিস গুদাং গারাম টানতে টানতে হাতে গুঁজে নেয় তিনটি কচকচে নোট। আর স্নান পর্ব শেষে আবার ফিরে চলে একই পথে অলিগলি দিয়ে রাজপথে….

রাত তিনটে, পাবলিক বাস নেই। ফিরতে হলে ক্যাবই একমাত্র ভরসা। হঠাৎ কে যেনো শিষ বাজিয়ে ওঠে, ফিরে তাকাতেই দেখে তার দিকে তাকিয়ে কেউ ইঙ্গিতপূর্ণ হাসিতে গাইছে, we…we…we will rock you… এই দৃশ্যে হঠাৎ ঘৃণায় গা গুলিয়ে ওঠে।

এটি মিলানের কোনো রাতের গল্প, নায়কটিকে রূপক শব্দেই রাঙিয়ে দিলাম আজ।

প্রকাশকালঃ ১৭ চৈত্র ১৪২৩

Thursday, 30 March 2017

অন্ধকারের গান

অন্ধকারের গান
— ইমেল নাঈম


পথ ঝরানো অনেক গল্প, মানুষের কাছে ফিরতে হয় এপথ ধরে। অন্ধত্ব অনেক ভালো, সারাদিন অতৃপ্ত বাসনায় পেরোয়। পলেস্তারা খসলেই জেগে থাকে জীর্ণ চেহারা। তাকে ভুলতে পারি ভ্রমণের জীবন বৃত্তান্ত লিখে। ভয় পেও না বললেও ভীত হতে হতে ঢুকে গেছি অন্ধকারের ডেরায়। লীন হতে গিয়ে আবিষ্কার করি পরনের পোশাকের জোড়াতালি। হাভাতে মিটে গেছে খাবারের চাহিদা।

সহিষ্ণুতার পাঠ ভুলে গেছে ভূগোল। শোনা যায়, অন্ধকারের শ্লোগান। নায়িকার কণ্ঠে বেজে ওঠে অসহায়ত্বের গল্প। দাঁতাল মানবের বিকারহীন প্রলাপ, ছিঁড়ে খেতে চায় মানচিত্রের আঁচল। অন্ধকারের গুহায় গান গাইছে কারা যেনো... হায় ঈশ্বর, তোমাকে খুঁজতে চায়নি ওরা প্রেমে, অন্ধ অনুকরণে দাসত্ব মেনে নিয়েছে তোমার। অলীক আর বাস্তবের ফারাকটুকু ভুলে গেছে।

মানব অবয়ব দেখতে প্রায় একই রকম। পার্থক্য নেই, রেখে যাওয়া সময়ের শ্লোগানে মিছিল নেই। এখানে শাদা পায়রা ওড়েনা — মোমবাতির আলো রাজপথে হঠাৎ জ্বলে ওঠে - আর সেটির ফুটেজ খেতে ব্যস্ত একদল লোক। মসজিদ, গির্জা, প্যাগোডা আর মন্দিরে সভ্যতার মশাল জ্বালিয়ে কারা যেনো নিঃসঙ্গতার গান গাইছে যে যার মতো করে। নিজ অনুসারী নিয়ে তারা বিচ্ছিন্ন, কিম্বা নিজ অনুসারীর নানা দর্শন নিয়ে তারা বিচ্ছিন্ন।

এসবের মাঝেই কারা যেনো গায় ভিন্নধর্মী গান। মতবাদের বাইরে গিয়ে দাঁড়ান সবকিছু ভুলে গিয়ে। তাদেরকেও অন্ধকারের দিকে টেনে নিতে চায়। বাতাস গায়ে লাগতেই বুঝি উলটো স্রোতে গা ভিজছে এখন। এক সময়ের বিশ্ববিদ্যালয়ের উচ্ছল তরুণটিও আজ নিজেকে বৃত্তবন্দী করে ফেলেছে নানা অনুশাসনে।

এসবে হতাশায় মুষড়ে পড়ে ভিন্ন কোনো মুখ, হয়তো লজ্জাও পায় — যেমনটি পায় লজ্জাবতী ফুল।

প্রকাশকালঃ ১৬ চৈত্র ১৪২৩

Tuesday, 28 March 2017

গল্প কথকের গল্প

গল্প কথকের গল্প
— ইমেল নাঈম

দাঁড়িয়ে আছি পথের শেষে। ভুল বৃত্তের পর পরিসীমা নেই
জ্যা আঁকতে গিয়ে ছেদক এঁকে দিয়েছে সম্পর্কে — দোষ নেই...
ভাষার পিঠে নতুন করে আর কোনো শব্দের জন্ম নেয়নি

গ্রামের শ্লোগানে ধান মাড়ানি কলের শব্দ পাওয়া যায়
কৃষকের আড্ডায় উঠে আসে, ট্রাক্টকের কোলাহল
সেচের জলে ডুবে গেছে গোড়ালি, মসজিদের আজান
জানান দেয় কর্মবিরতির সময়। আলিঙ্গনে কিছু
শব্দের জন্মান্তর লিখা হয়... হারিকেন আজও জ্বলে...

বিদ্যুতের বাতি নিভে গেলে কিছু স্বপ্ন লেখা যায়
উঠোন জুড়ে কিছু শান বাঁধানো রঙচঙে গল্প থাকে
দৌড়ঝাঁপ শেষ করে কেউ বসেনি পড়ার টেবিলে

ক্যাসিওর ডিজিটাল ঘড়ির দিনকাল ভালোই। সময়ের ভিড়ে
এখনো হাসছে কল্পনার বিভ্রমে। দিনালাপে থাকে মিথ্যে
প্রহসনে হাসছে একদল কিশোর মুখ, মুখোর স্বপ্নে বিভোর
হয়ে পেরিয়ে যাচ্ছে নির্ঘুম রাতের একরাশ একাকীত্ব

বহুদিন গ্রাম দেখা হয়নি আমার, তার ভগ্নাংশতেই ক্লান্ত
কপালের ঘাম মুছতে মুছতে বুঝতে পারি উষ্ণতার রকমফের
এমন গল্প অনেকক্ষণ শোনার পরেও মনে হয় গল্পের শেষ
আজো বাকি গল্প কথকের আঙুলের ভাজে ভাজে...

প্রকাশকালঃ ১৪ চৈত্র ১৪২৩


Sunday, 26 March 2017

মায়াডোর

মায়াডোর 
— ইমেল নাঈম 


এক কবি তার প্রেমিকার কথা বলতে গিয়ে হারিয়ে ফেলেছিল কলম। কবিতাকে বাঁধতে চেয়েছিলো পলাশ রাঙা ভোরের মেঠোপথে। ছড়িয়ে ছিটিয়ে থাকা ফুলের সমারোহ, হাতে ছুঁয়ে থাকে অন্য এক অদৃশ্য হাত। মন্ত্রমুগ্ধের মতো শ্রোতা হিসেবে জন্ম নিয়েছে মফস্বলের ধুলোবালি। পরতে পরতে জমে গেছে বসন্তের আর্দ্রতা। আসলেই বড্ড কুক্ষণে প্রেম নিবেদন করতে গেলো, অসময়ের জয়জয়কার এখন। মুখোশের ভিড়ে প্রান্তিক মুখের বন্ধনকে হালকা করতে শিখেনি। আর অল্পতেই জন্ম নিচ্ছে বিষাদ। 

অসুস্থতাকে ছুটি দিয়ে হঠাৎ করে চেয়ে দেখি, কোনো কোনো সকাল অন্যরকম গল্প বলে। টঙ দোকানের তিনপেয়ে টুলে বসে লেবু চা আর তক্তা বিস্কুটের ফাঁকফোকরে কিছু আলসে গল্প লিখা হয়। হঠাৎ শোঁশোঁ করে চলে যাওয়া সি.এন.জির ধোঁয়া, আর তার পিছুপিছু একদল কিশোর দৌড়ে ফেরে। এরই মাঝে ইশকুলের ঘণ্টা শুরু, এক ঝাঁক প্রজাপতি উড়ে বেড়ায়, নতুন এক স্বপ্ন বুনতে। কবির চোখে মফস্বলের সবচেয়ে মনোহর দৃশ্য এটি। 

ভবঘুরে কবি, ডান বাম দেখে উঠে পড়ে টুল থেকে, এরপরের গন্তব্য কোথায় জানা নেই। শব্দের খোঁজে পেরিয়ে যাচ্ছে পথ ঘাট, ইটের সলিঙ। পিচ ঢালা পথ হারিয়ে যাচ্ছে শহরের দিকে। কবি দাঁড়িয়ে আছেন তিন রাস্তার মাথায়। ভরদুপুরের চওড়া রোদ, মাথা হঠাৎ ঝিম মেরে ওঠে, তার প্রান্তিক জীবনের গল্প বলা হয়নি এখনো। শোনাও হয়নি নানা বয়সের রূপান্তরের গল্প। তবুও কবির চোখে স্বপ্ন থাকে — সে কল্পনা করে নগরীর শেষপ্রান্তে কোনো কবি ঠিক এভাবেই দাঁড়িয়ে থাকে। 

বন্ধু তোমাকে বলি, কবিকে সামলে রেখো, আনন্দের হিল্লোলে তাকে ডেকো, বেদনায় মুষড়ে পড়লে বুকে আগলে রেখো। তাকে চোখেচোখে রেখো, স্বপ্নের বাঁধনে রাখো। স্বপ্নিল না হলে তাকে কোনো মায়াতেই আটকাতে পারবেনা। 


প্রকাশকালঃ ১২ চৈত্র, ১৪২৩। 

Saturday, 25 March 2017

লরা ও ড্যানিয়েলের গল্প

লরা ও ড্যানিয়েলের গল্প
— ইমেল নাঈম

ড্যানিয়েলকে লেখা শেষ চিঠি, প্রেরকের নাম মুছে গেছে
গায়ে জমা ধুলোর স্তূপ প্রমাণ করে অবহেলিত ভালবাসা,
হয়তো কোনো হাত অযত্নে রেখে দিয়েছিলো চিঠিগুলোকে
পিওন আসেনি এপথে অনেকদিন। আর আসবেও না।

প্রেমিকের চিঠি বুঝেনি প্রেমিকা, হয়তো কোনো নাটকের
সংলাপ ভেবে ছুড়ে ফেলেছিল, এরচেয়ে বেশি নির্দয় হলে
আগুনে পুড়তো স্মারকচিহ্নটি। চিঠিগুলো প্রেমের বিজ্ঞাপন
হতে পারতো, হতে পারতো প্রত্যাখ্যাতের ইতিউতি

কিছু শব্দের মোড়কে রেখে দিয়েছিলো জিশুর নাম,
লরা... ক্ষণিকের নাম, রেখে দিয়েছিলো সময়ের আঙুল
রোববার চার্চে ফুল নিয়ে যাওয়া সেই মেয়েটি
সেমেটেরির পাশে নীরবে দাঁড়িয়ে থাকা সেই মুখ
দুঃখের বিপণনে গুটিসুটি সেই মায়াবী কিশোরীটি
বুকে কার ছবির প্রতিবিম্ব নিয়ে হাঁটছে দুপুর রোদে!

ড্যানিয়েল, প্রতিদিন চুরি করে দেখছিলে কাকে এভাবে?
দেখতে চেয়েছিলে বিষণ্ণ বালিকার একচিলতে হাসি
তোমাকে লেখা চিঠিগুলো গন্তব্য খুঁজে পেয়েছিলো
আর ঠিকানা খুঁজে পায়নি তার প্রতিউত্তরেরা
এভাবেই কেটেগেলো তোমার নিরুত্তাপ সময়ের গল্প।

সেমেটারির সূর্য হেলে যাচ্ছে পশ্চিমে, লরা আর ড্যানিয়েল
আজ মুখোমুখি দাঁড়িয়ে, ড্যানিয়েলের হাতে সেই শেষ চিঠি
সামনে এপিটাফ। লিখা — লরা ক্রিস্টোফার গোমেজ,
জন্ম ও মৃত্যুসাল ২৬.০৮.১৯৯৫ এবং ২৬.০৯.২০১৪।

প্রকাশকালঃ ১১ চৈত্র, ১৪২৩।

Thursday, 23 March 2017

ডাকাডাকি
 ― ইমেল নাঈম

মধ্যরাতে শব্দের ব্যঞ্জনা মৃত হয়ে ফিরে আসে ,
কলমের ব্যর্থ আঁচড়ে স্বপ্ন আঁকছেন যে কবি
তার কাছে নতজানু হয়েছো শেষ কবে?

কার কথায় পাচ্ছো আঘাত, আঘাত সহ্য
করে  জন্মায় সব। নিজের বলেই অনেক
কিছু নেই, আবার প্রতিটি জিনিস নিজের

একটা গোলক ধাঁধায় ঘুরছি অবিরাম
নিয়ম মেনে... কক্ষপথ এখানে গন্তব্যের ছবি
আঁকেনা,  সুরের ছবিতে কোনো চিহ্ন নেই
ঐকতানে বাজছেনা পাখিদের কলরব,

বাঁধা দিওনা, অবেলায় থামার পথ আঁকেনি
কোনো শিল্পী, পটে আঁকা দৃশ্যপটে রেখেছিলো
বুনোফুল, আর তার উপর কোনো চিহ্ন নেই

আঁকিবুঁকি খেলার শেষে কিছু স্পন্দন লুকিয়ে,
একই কথার পুনরাবৃত্তি পিছনপথে নিয়ে যায়
থামার সময়ে একবার শুধু একবার চিৎকার
করে বলেছিলঃ থামো! আঘাতে রক্তাক্ত করোনা...

এরপর কেটে গেছে অবহেলার অনেক গল্প
গল্পের শেষে রয়ে গেছে জীবনের কিছু পাঠ
পরিমিতবোধে গিলে খাচ্ছে অব্যক্ত শব্দেকে
প্রাত ধ্যানে, এখনো অস্পষ্ট শুনি সেই ডাক...

প্রকাশকালঃ ০৯ চৈত্র ১৪২৩

Wednesday, 22 March 2017

গল্পের সমাপ্তিতে

গল্পের সমাপ্তিতে
― ইমেল নাঈম


ভগ্নাংশের প্রহসন। পুরোটা পর্দা খুলে দেখিনি পর্দানশীন
বিমূর্ত রূপে কখন থেমে যায় জীবনের উল্লাসধ্বনি
কার কাছে দিব্যি খেয়েছিলে সোনালি পরশপাথর
ঘুরতে ঘুরতে একদিন দেখি দাঁড়িয়ে শুরুর বিন্দুতে

কপাল! তোমার উপরে বিশ্বাস নেই, নেই অবিশ্বাসও
মেহমানের মতো তুমি এসে হেসে-খেলে যাও শরীরজুড়ে
যান্ত্রিক প্রহসনে গল্প থাকে, থাকে ওষুধবাড়ীর যাতায়াতে
কিছু প্রসঙ্গ লীন হয়, নীলচে আলোয় ধরা পড়ে আঁধার

উত্তাপের পরের স্তরে থাকে নাইট্রোজেন শীতলতা
জমিয়ে দিয়ে স্তূপ বানিয়ে ফেলছে আমার গোপনীয়তা
কাউকে বলিনি, কেউ জানেনা শীতলতার বিপ্রতীপে
কিছু নিকাশ বেহিসাবি হয়ে ঘুরছে ঘুড়ির দেশে।

কাটাকুটি খেলায় হেরে যেতে দেখি সন্ধির পতাকা
অকারণে গাইছে বাতাস এক সর্বনাশা ঝড়ের গান,
সন্ধ্যা নামলো বলে দেখিনি নিয়নের সমাবেশে
ডানাভাঙা প্রজাপতি ভুল করে ঢুকে গেছে এই শহরে
উড়তে ভুলে গেছে, প্রান্তিক পথিকের সম্বল মাত্রই পা

সেও বাড়ী ফিরে চলে যায় পথের শেষ না দেখে
দরজার বুক চিঁড়ে এখন আর খেলছে না কোনো নাম
পর্দায় টেনে দেয়া পথের গল্প থামে এভাবেই, অবেলায়…

প্রকাশকালঃ ০৮ চৈত্র ১৪২৩