Tuesday, 11 April 2017
মানুষের ক্যানভাস
Sunday, 9 April 2017
ইমসোমনিয়ার রাত
Saturday, 8 April 2017
নগরীর রাত
ইমেল নাঈম
নিয়েছিলে মনখানি দিয়ে দুটি আঁখি"
ভেসে আসে আশির দশক। গেয়ে চলেছেন শিল্পী তার দরাজগলায়। ঘড়ির কাঁটায় সময় দেখি, জানালার ও পাশে নিয়নবাতির সমাবেশ। আলো ম্লান হয়, সদ্য ছুটি পাওয়া ব্যস্ত সড়কের ট্রাফিক লিখে রাখে গ্লোবাল ওয়ার্মিং। আর্দ্রতার সেচ প্রকল্পে হাপিত্যেশ করা জীবনযাপন।
পায়ের মাপে লিখে রাখি পৃথিবীকে। হিসেবের খাতায় যা জমেছে তার নাম প্রহসন। ঘুমহীন বিরতিতে রেখে দিই পলাশ রাঙানো ভোরের পথ। মফস্বল পেরিয়ে গেছি, রেখে দিই ইরানের জাফরান, মখমলে কাপড় ঢেকে দিয়েছে দু'চোখ। মানে নেই, তবু গেয়ে উঠছে গানের দল। কম্পাসের ভিতর দিকনির্দেশনা নেই। দূরবীনের লেন্সে কোনো মুখ নেই। দৌড়ে চলে একদল লোক। বুকে বাজছে দীর্ঘতম বিরহের অর্কেস্ট্রা।
ব্যস্ততার পাঠ থামলে, পরাবাস্তব গল্পে মানুষের সামনে দাঁড়াই, এই দাঁড়ানোর কোনো মানে থাকেনা, তবুও ছন্দপতনের বিভ্রম জাগে। স্পর্শের কোনো মানে নেই। আবার নানান অর্থের জন্ম দেয় তারা। সেগুলোর ভাবানুবাদ হয়, সংঘর্ষ আর প্রলয়ের পর অপেক্ষায় থাকে কাল্পনিক কোনো চরিত্র। এসবের ব্যাখ্যা নেই, তার বিনিময়ে কোনো প্রাপ্তি নেই, স্বীকৃতিও নেই।
নগরীর রাতগুলো ঘুমোয় না, আমার মতো স্মৃতিচারণ করে নিজের সাথে কথা বলে শুধু।
প্রকাশকালঃ২৪ চৈত্র ১৪২৩
Wednesday, 5 April 2017
উলটো বাতাস
Tuesday, 4 April 2017
বিষণ্ণ রাতের গল্প
Saturday, 1 April 2017
বৃষ্টির দিনের কবিতা
ইমেল নাঈম
বৃত্তবন্দী কিছু প্রেম লেখা থাকে, বেয়ারিং চিঠির মতো বেয়াড়া।
ফিরে আসতে চায় পুরনো ঠিকানায়, পা ডুবে গেছে নোনাজলে
ফিরে আসার আগেই লিখে ফেলেছিলো জ্বরের গল্প, গা বেয়ে
ওঠা থার্মোমিটারের পারদের অপর নাম তুমি, উত্তাপ ছড়াও
আমিও বসে থাকি একদলা ওষুধ পথ্য নিয়ে, জলপট্টির তাপ...
কেউ দরজায় দাঁড়ায়, একটা সেলাই মেশিন ঘুরতে থাকে
বিরতিহীন শব্দের পরে কেউ তো আসে দরজার এই পাশে
প্রলাপের ফাঁকে পাশেই শুয়ে থাকে প্রিয় কবিতার বই
এরপর দিনভর বৃষ্টির কবিতা লিখা হয় চৈত্রের তাপদাহে।
প্রকাশকালঃ ১৮ চৈত্র ১৪২৩
Friday, 31 March 2017
জিগলো
ইমেল নাঈম
“তোমাকে আসতেই হবে আমার কাছে,
তোমাকে বসতেই হবে আমার পাশে”
মোবাইলের মিউজিক প্লেয়ার থেকে ভেসে আসে জয় শাহরিয়ার । নয়টা – সাতটা অফিসের শেষে ঘরে ঢুকতেই নয়টা ছুঁয়েছে দেয়ালঘড়ি। মোবাইলের টুপটাপ ম্যাসেজ জানিয়ে দেয় রাত এগারোটায় মিটিং। এমন মিটিং এ সময় লাগে কম, আয় রোজগার ভালো। শর্তাবলি আর স্বাস্থ্য সচেতন থাকলে সুখের ঘরে কোনো আঘাত আসেনা।
ফ্রেশ হয়ে বেড়িয়ে পড়ে – গন্তব্য জানে মুঠোফোন। শহরের রাজপথ ক্লান্ত, বাড়ী ফিরছে একদল লোক, আবার আরেকদল তারই মতো। পাবলিক বাস ছুটে চলে। জানালা দিয়ে দেখে নগরীর ফুলের দোকানের পাঠ সমাপ্তি। নিয়ন বাতি জ্বলছে অলিগলি বেয়ে, আর দুই পা বাকি পৌছুতে কাঙ্ক্ষিত গন্তব্যের। পৌঁছোবার আগ মুহূর্তে সময় মিলিয়ে নেয়।
এগারোটা বাজতে বাকি সতেরো মিনিট। অপেক্ষা নাকি আবারো ফোন – ভাবতে ভাবতে মুঠোফোনের আলো জ্বলে ওঠে। বার্তা খুলে দেখে 16D লেখা, মনে মনে হাসতে হাসতে ভাবে 36D হলে বেশ ভালোই হতো…লিফট পেরিয়ে উঠে যায় পনেরো তলায়। ডোরবেল বাজলে খুলে যায় দরজা…
প্রথমে হালকা পরিচয় আর এক পেগ শিভাস রিগালের পরে শুরু হয়ে খেলাধুলোর প্রদর্শনী। সিনেমার দৃশ্যগুলো ঘর্মাক্ত হয়, নানা রকম শারীরিক কসরতের পরে এক পিস গুদাং গারাম টানতে টানতে হাতে গুঁজে নেয় তিনটি কচকচে নোট। আর স্নান পর্ব শেষে আবার ফিরে চলে একই পথে অলিগলি দিয়ে রাজপথে….
রাত তিনটে, পাবলিক বাস নেই। ফিরতে হলে ক্যাবই একমাত্র ভরসা। হঠাৎ কে যেনো শিষ বাজিয়ে ওঠে, ফিরে তাকাতেই দেখে তার দিকে তাকিয়ে কেউ ইঙ্গিতপূর্ণ হাসিতে গাইছে, we…we…we will rock you… এই দৃশ্যে হঠাৎ ঘৃণায় গা গুলিয়ে ওঠে।
এটি মিলানের কোনো রাতের গল্প, নায়কটিকে রূপক শব্দেই রাঙিয়ে দিলাম আজ।
প্রকাশকালঃ ১৭ চৈত্র ১৪২৩
Thursday, 30 March 2017
অন্ধকারের গান
— ইমেল নাঈম
পথ ঝরানো অনেক গল্প, মানুষের কাছে ফিরতে হয় এপথ ধরে। অন্ধত্ব অনেক ভালো, সারাদিন অতৃপ্ত বাসনায় পেরোয়। পলেস্তারা খসলেই জেগে থাকে জীর্ণ চেহারা। তাকে ভুলতে পারি ভ্রমণের জীবন বৃত্তান্ত লিখে। ভয় পেও না বললেও ভীত হতে হতে ঢুকে গেছি অন্ধকারের ডেরায়। লীন হতে গিয়ে আবিষ্কার করি পরনের পোশাকের জোড়াতালি। হাভাতে মিটে গেছে খাবারের চাহিদা।
সহিষ্ণুতার পাঠ ভুলে গেছে ভূগোল। শোনা যায়, অন্ধকারের শ্লোগান। নায়িকার কণ্ঠে বেজে ওঠে অসহায়ত্বের গল্প। দাঁতাল মানবের বিকারহীন প্রলাপ, ছিঁড়ে খেতে চায় মানচিত্রের আঁচল। অন্ধকারের গুহায় গান গাইছে কারা যেনো... হায় ঈশ্বর, তোমাকে খুঁজতে চায়নি ওরা প্রেমে, অন্ধ অনুকরণে দাসত্ব মেনে নিয়েছে তোমার। অলীক আর বাস্তবের ফারাকটুকু ভুলে গেছে।
মানব অবয়ব দেখতে প্রায় একই রকম। পার্থক্য নেই, রেখে যাওয়া সময়ের শ্লোগানে মিছিল নেই। এখানে শাদা পায়রা ওড়েনা — মোমবাতির আলো রাজপথে হঠাৎ জ্বলে ওঠে - আর সেটির ফুটেজ খেতে ব্যস্ত একদল লোক। মসজিদ, গির্জা, প্যাগোডা আর মন্দিরে সভ্যতার মশাল জ্বালিয়ে কারা যেনো নিঃসঙ্গতার গান গাইছে যে যার মতো করে। নিজ অনুসারী নিয়ে তারা বিচ্ছিন্ন, কিম্বা নিজ অনুসারীর নানা দর্শন নিয়ে তারা বিচ্ছিন্ন।
এসবের মাঝেই কারা যেনো গায় ভিন্নধর্মী গান। মতবাদের বাইরে গিয়ে দাঁড়ান সবকিছু ভুলে গিয়ে। তাদেরকেও অন্ধকারের দিকে টেনে নিতে চায়। বাতাস গায়ে লাগতেই বুঝি উলটো স্রোতে গা ভিজছে এখন। এক সময়ের বিশ্ববিদ্যালয়ের উচ্ছল তরুণটিও আজ নিজেকে বৃত্তবন্দী করে ফেলেছে নানা অনুশাসনে।
এসবে হতাশায় মুষড়ে পড়ে ভিন্ন কোনো মুখ, হয়তো লজ্জাও পায় — যেমনটি পায় লজ্জাবতী ফুল।
প্রকাশকালঃ ১৬ চৈত্র ১৪২৩
Tuesday, 28 March 2017
গল্প কথকের গল্প
Sunday, 26 March 2017
মায়াডোর
Saturday, 25 March 2017
লরা ও ড্যানিয়েলের গল্প
লরা ও ড্যানিয়েলের গল্প
— ইমেল নাঈম
ড্যানিয়েলকে লেখা শেষ চিঠি, প্রেরকের নাম মুছে গেছে
গায়ে জমা ধুলোর স্তূপ প্রমাণ করে অবহেলিত ভালবাসা,
হয়তো কোনো হাত অযত্নে রেখে দিয়েছিলো চিঠিগুলোকে
পিওন আসেনি এপথে অনেকদিন। আর আসবেও না।
প্রেমিকের চিঠি বুঝেনি প্রেমিকা, হয়তো কোনো নাটকের
সংলাপ ভেবে ছুড়ে ফেলেছিল, এরচেয়ে বেশি নির্দয় হলে
আগুনে পুড়তো স্মারকচিহ্নটি। চিঠিগুলো প্রেমের বিজ্ঞাপন
হতে পারতো, হতে পারতো প্রত্যাখ্যাতের ইতিউতি
কিছু শব্দের মোড়কে রেখে দিয়েছিলো জিশুর নাম,
লরা... ক্ষণিকের নাম, রেখে দিয়েছিলো সময়ের আঙুল
রোববার চার্চে ফুল নিয়ে যাওয়া সেই মেয়েটি
সেমেটেরির পাশে নীরবে দাঁড়িয়ে থাকা সেই মুখ
দুঃখের বিপণনে গুটিসুটি সেই মায়াবী কিশোরীটি
বুকে কার ছবির প্রতিবিম্ব নিয়ে হাঁটছে দুপুর রোদে!
ড্যানিয়েল, প্রতিদিন চুরি করে দেখছিলে কাকে এভাবে?
দেখতে চেয়েছিলে বিষণ্ণ বালিকার একচিলতে হাসি
তোমাকে লেখা চিঠিগুলো গন্তব্য খুঁজে পেয়েছিলো
আর ঠিকানা খুঁজে পায়নি তার প্রতিউত্তরেরা
এভাবেই কেটেগেলো তোমার নিরুত্তাপ সময়ের গল্প।
সেমেটারির সূর্য হেলে যাচ্ছে পশ্চিমে, লরা আর ড্যানিয়েল
আজ মুখোমুখি দাঁড়িয়ে, ড্যানিয়েলের হাতে সেই শেষ চিঠি
সামনে এপিটাফ। লিখা — লরা ক্রিস্টোফার গোমেজ,
জন্ম ও মৃত্যুসাল ২৬.০৮.১৯৯৫ এবং ২৬.০৯.২০১৪।
প্রকাশকালঃ ১১ চৈত্র, ১৪২৩।
Thursday, 23 March 2017
ডাকাডাকি
― ইমেল নাঈম
মধ্যরাতে শব্দের ব্যঞ্জনা মৃত হয়ে ফিরে আসে ,
কলমের ব্যর্থ আঁচড়ে স্বপ্ন আঁকছেন যে কবি
তার কাছে নতজানু হয়েছো শেষ কবে?
কার কথায় পাচ্ছো আঘাত, আঘাত সহ্য
করে জন্মায় সব। নিজের বলেই অনেক
কিছু নেই, আবার প্রতিটি জিনিস নিজের
একটা গোলক ধাঁধায় ঘুরছি অবিরাম
নিয়ম মেনে... কক্ষপথ এখানে গন্তব্যের ছবি
আঁকেনা, সুরের ছবিতে কোনো চিহ্ন নেই
ঐকতানে বাজছেনা পাখিদের কলরব,
বাঁধা দিওনা, অবেলায় থামার পথ আঁকেনি
কোনো শিল্পী, পটে আঁকা দৃশ্যপটে রেখেছিলো
বুনোফুল, আর তার উপর কোনো চিহ্ন নেই
আঁকিবুঁকি খেলার শেষে কিছু স্পন্দন লুকিয়ে,
একই কথার পুনরাবৃত্তি পিছনপথে নিয়ে যায়
থামার সময়ে একবার শুধু একবার চিৎকার
করে বলেছিলঃ থামো! আঘাতে রক্তাক্ত করোনা...
এরপর কেটে গেছে অবহেলার অনেক গল্প
গল্পের শেষে রয়ে গেছে জীবনের কিছু পাঠ
পরিমিতবোধে গিলে খাচ্ছে অব্যক্ত শব্দেকে
প্রাত ধ্যানে, এখনো অস্পষ্ট শুনি সেই ডাক...
প্রকাশকালঃ ০৯ চৈত্র ১৪২৩
Wednesday, 22 March 2017
গল্পের সমাপ্তিতে
― ইমেল নাঈম
ভগ্নাংশের প্রহসন। পুরোটা পর্দা খুলে দেখিনি পর্দানশীন
বিমূর্ত রূপে কখন থেমে যায় জীবনের উল্লাসধ্বনি
কার কাছে দিব্যি খেয়েছিলে সোনালি পরশপাথর
ঘুরতে ঘুরতে একদিন দেখি দাঁড়িয়ে শুরুর বিন্দুতে
কপাল! তোমার উপরে বিশ্বাস নেই, নেই অবিশ্বাসও
মেহমানের মতো তুমি এসে হেসে-খেলে যাও শরীরজুড়ে
যান্ত্রিক প্রহসনে গল্প থাকে, থাকে ওষুধবাড়ীর যাতায়াতে
কিছু প্রসঙ্গ লীন হয়, নীলচে আলোয় ধরা পড়ে আঁধার
উত্তাপের পরের স্তরে থাকে নাইট্রোজেন শীতলতা
জমিয়ে দিয়ে স্তূপ বানিয়ে ফেলছে আমার গোপনীয়তা
কাউকে বলিনি, কেউ জানেনা শীতলতার বিপ্রতীপে
কিছু নিকাশ বেহিসাবি হয়ে ঘুরছে ঘুড়ির দেশে।
কাটাকুটি খেলায় হেরে যেতে দেখি সন্ধির পতাকা
অকারণে গাইছে বাতাস এক সর্বনাশা ঝড়ের গান,
সন্ধ্যা নামলো বলে দেখিনি নিয়নের সমাবেশে
ডানাভাঙা প্রজাপতি ভুল করে ঢুকে গেছে এই শহরে
উড়তে ভুলে গেছে, প্রান্তিক পথিকের সম্বল মাত্রই পা
সেও বাড়ী ফিরে চলে যায় পথের শেষ না দেখে
দরজার বুক চিঁড়ে এখন আর খেলছে না কোনো নাম
পর্দায় টেনে দেয়া পথের গল্প থামে এভাবেই, অবেলায়…
প্রকাশকালঃ ০৮ চৈত্র ১৪২৩