Tuesday, 11 July 2017

প্রশ্ন

প্রশ্ন
ইমেল নাঈম

প্রেমিকের মৃত্যুর সানাই বাজলে প্রেমিকাও মরে যায়।

দূরবর্তী সংকেত আর লাল নীল আলোর মহড়ায়
শেষ বিন্দু লিখে রাখে প্রেম — বিমূর্ত শব্দঋণের ভাজে
আড়াল হতে শিখেছে যে মুখ তাকে কীভাবে ফেরাই?

হসপিটাল বেড লিখে রাখে জন্ম-মৃত্যুর আমলনামা
অজস্র প্রিয় মুখ পালিয়ে যাচ্ছে, রেখে যাচ্ছে মুহূর্ত।
যেগুলোর কোলাজে অব্যক্ত থাকে প্রেম, চাহিদাপত্র
মিটে যায় রোজগারে জীবন, শূন্যতার নাকছাবি
পরে কাটছে নিকোটিন সময়। কেন — উত্তর নেই।

আমাদের কারোর কাছেই কোনোকিছুর উত্তর নেই
কারণ জানিনা কাছে আসার। যাবার কারণ অজানা।
শুধু স্মৃতি কাতরতায় ভিজছি অফিস ফেরত সন্ধ্যায়,
মাঝামাঝি সময় পেরোয় বৃত্তালপনার আঁকিবুঁকিতে।

অপরাধী নই। নিজেকে অপরাধী ভাবি। ঘুরে দাঁড়াবো
কিন্তু কতটা রক্তক্ষরণের পরে অণুচক্রিকায় জমবে...
খেলাঘরের সবচে কঠিন পাঠ শেখালো কে আমাকে?
জীবন নাকি প্রেম? অবচেতনে প্রশ্নটার সামনে দাঁড়াই

আমার এখন নোঙ্গর তুলে পাড়ি দেয়ার কথা দূরে
শূন্যতা আমাকে ফিরিয়ে আনছে পুরনো বন্দরে...

প্রকাশকালঃ ২৮ আষাঢ়  ১৪২৪

Sunday, 9 July 2017

কাটাকুটি - ২

কাটাকুটি -২
ইমেল নাঈম

নীল ঘড়ি থেমে যায়। বর্ষীয়ান পৃথিবী খুব ক্লান্ত
প্রতিদ্বন্দ্বীবিহীন মল্লযুদ্ধের পরিণতি টানতে টানতে,
মিথ্যে ফানুশ উড়াতে বুঝলাম চুপ হয়েছে মুখ
ক্লান্তি,  ব্যথা, অপমানের উপশমের ওষুধ নেই

আড়াল করতে গিয়ে হারিয়ে ফেলেছি নিজেকে
জোয়ারভাটার হিসেবে চলছে গাণিতিক জীবন
হিসেবের বাইরেও কিছু বর্ণমালা থাকে অবশিষ্ট...

নিজেকে আডাল করার শৈশবের প্রবণতায়
মুছে যায় জীবনের হিসাব, ব্যান্ডেজের ফাঁকে
বোঝা যায় ক্ষত। লাভক্ষতির মারপ্যাঁচে
নৈতিকতা অভিধান চ্যুত হলো অনেক আগে।

বিভ্রান্ত হবার সুযোগ নেই, বিভ্রমের কেন্দ্রে চড়ে
বৃত্ত পূর্ণ করে চলেছি কোনো আগপাছ না ভেবে।
মুছে দিতে চাই ভুলগুলো, জীবন ক্যানভাসে
লাল রঙ মুছে সবুজ রঙটাই আঁকতে চেয়েছি...

কাটাকুটি খেলায় কাটছি নিজেকে কেবল নিজে
বুঝতে শিখছি অনুভবের রেশ সম্পূর্ণটুকু মুছলে
কল্পনার রাজ্যপাট, সুতীব্র দহনের জন্ম হয়।

প্রকাশকালঃ ২৫ আষাঢ় ১৪২৪

Friday, 7 July 2017

সঙ্গীত

সঙ্গীত
ইমেল নাঈম

ভেসে আসে সঙ্গীত। নিজেকে আড়াল করতে করতে পালিয়ে গেছি। দীর্ঘ প্রতিযোগিতার শেষেও হিসেব করতে বসি জয় পরাজয়ের। অংকের পর অংক কষি। মুছে দিতে থাকি যতসব হিসেব নিকেশ। প্রান্তিক মুখ মেনে নিতে পারেনি শহুরে আদব। সেকেলে হতে হতে ফিরে আসে পকেট ঘড়ি। ব্যাটারি নয়, হৃদস্পন্দনে ঘুরছে আমাদের জীবন।

উড়োজাহাজের গতিবেগ মাপতে মাপতে হিসেব করে নিই চোখ, মুখ, নাক আর চুল। বাধাই করে রাখি কল্পনার ছবি। বাঁধা দিতে গিয়ে থেমেছি। নূপুরধ্বনি কানে বাজে। মিলিয়ে গেলো ভোরের আযান। নিষেধ সত্ত্বেও চলে গেছি দরজা পেরিয়ে অন্ধ গলি। ঘোড়সওয়ার আমি পালটে নিচ্ছি শহর। ভাগ্য অন্বেষণে ছুটছি কেবল। বাধা নেই, যদিও কম্পাস নেই হাতে।

একচোখা দূরবীন, যা দেখি ধূধূ মরু। বালুর উত্তাপ মাঝেমাঝে ছুঁয়ে দেখে আমাকে। সমুদ্র দেখতে গিয়ে হারিয়ে ফেলেছি নিজের স্পর্শগুলো। নেই নেই করেই পালিয়ে যাচ্ছি। আছে ভাবতেই জন্মাচ্ছে বিশাল শূন্যতা। নিজের ক্যানভাসে নিজের ছবি বিমূর্ত হয়ে যায়। কারণ জানা নেই। লুট হয়ে যাচ্ছে রঙ তুলি।

ঐকতানে বাজেনা সঙ্গীত। আহামরি স্বপ্নরা পেঁচিয়ে গেছে কলহে। অন্তর্দাহ দেখছি। ভুল গলিতে ঢুকছি বারবার। দিনশেষে নিজেকে প্রশ্ন করছি। উত্তরও খুঁজছি সেসবের। গল্পের আর প্রশ্নের পুনরাবৃত্তি শুনতে শুনতে সন্ধ্যা নামাচ্ছি প্রতিদিন।

প্রকাশকালঃ ২৩ আষাঢ় ১৪২৪

Wednesday, 5 July 2017

কাটাকুটি -১

কাটাকুটি -১
ইমেল নাঈম

পথ থেমে যায়। বৃক্ষের কাছে নতজানু সময়।
ক্লান্তি নামে। শহরের রাজপথ সৌখিন সাজে।
ভুল সময়ের ক্যানেস্তারা, পাশাপাশি দাঁড়ায়
ভালো আর মন্দ। উভয়ের এখন ঘোর দুর্দিন।

অভিমানের খাতায় কাটাকুটি খেলা চলে
দাঁত আর নখের অহমিকাপূর্ণ আভিজাত্য
চেপে যাই অভিমানের পরতে সোঁদা গন্ধ
ক্ষণিকের বৃষ্টি দিয়ে গেলো মিথ্যে ঘাম।

চেপে যাই সময়কে। বিনির্মাণের পথে নামি।
বিগত কয়েক দশক ধরে গড়ছি কবিতা
ইট, পাথর, সিমেন্টের সমন্বয়ে গড়ে উঠছে
কবিতার মতো কিছু লাইন, বিনিময়ে শূন্যতা...

কই যাচ্ছো পালিয়ে আঘাতের কথা চেপে
সব হিস্যা মিলেনা কবিতায়, গোপনে
বয়ে যায় প্রলেতারিয়া জীবনের গল্প
তাড়া করে ফিরছি অপূর্ণতার ঝুলি নিয়ে।

বাধা নেই, প্রাপ্তি নেই, কেবল সুখস্মৃতির ক্লাস
মনোটনাস সময়ে দৌড়চ্ছি, বাকিটা অভিনয়।

প্রকাশকালঃ ২০ আষাঢ় ১৪২৪

Tuesday, 4 July 2017

হন্তারক তুমি - অবলীলায় হত্যা করেছো প্রেম
কী অদ্ভুত! সমাজ তোমার গায়ে দেয়নি আঁচড়।

Monday, 3 July 2017

নিষিদ্ধ সম্পর্ক

নিষিদ্ধ সম্পর্ক
ইমেল নাঈম

বৃষ্টি বুকে নিয়ে সংজ্ঞাহীন কিছু স্পর্শ খেলছি
রেশ টানতে টানতে শিকার হচ্ছি প্রতিদিন
স্বীকার করতে গিয়ে হারিয়ে ফেলেছি নিজেকে

নিকুচি করি শৈশবের বইপত্রগুলোকে
নীতিকথার ভিড়ে কখন নেমে আসে সন্ধ্যা
বিপরীত মুখে বসে চালাচ্ছি হাওয়া কল
মানে নেই জেনেও ভাসাচ্ছি নিজেকে

কোথাও থামতে হয়, কোথাও ছুটে চলি...
মনের দরজায় কড়া নাড়লে বিধান ভুলে যাই
অশ্লীল ইঙ্গিতের কাছে ছোটার কারণ জানিনা,
মোহ, বাস্তবের সূক্ষ্ম পার্থক্যটা আমার জানা
তবু বাঁধাধরা নিয়মের সামনে এসে দাঁড়াই।

এমন কেসে বয়সকে বাড়িয়ে দিতে হয়,
নয়তো নিজ থেকেই কমিয়ে দেয় ওই প্রান্ত।
জগতের অংক ভুল সূত্রে মিলাতে হয়
বৃত্তের মাঝখানটায় আঁকতে হয় ছেদক।

বৃত্ত দুভাগ হলে চুষে খেয়ে নেয় সবটা রস
আড়ালের কানাঘুষা, প্রকাশ্য সাক্ষাতে সব চুপ
কেউ জানেনা কে খাদক — আমি না সে... 

প্রকাশকালঃ ১৯ জ্যৈষ্ঠ ১৪২৪ 

Sunday, 2 July 2017

শোকস্মারক

শোকস্মারক
ইমেল নাঈম

শহরের শেষপ্রান্তে হঠাৎ আলো জ্বলে ওঠে

মুছে গেছে কালিমা, ব্যর্থদের মিছিলে হাঁটছি
শহরের রাজপথ ভিজছে আষাঢ়ের বৃষ্টিতে
প্রেমের সরণি পেরিয়ে যাচ্ছি — একাকী।

নীরবতার মোড়কে বিক্রি হয় দুঃখবোধ
আগে আসলে আগে পাবেন ভিত্তিতে
মিটে যাচ্ছে যাবতীয় হিসেব নিকেশ ।

প্রথম চুমুকেও বিক্রি করে দিয়েছো ডলারে
অন্ধকারে যে খেলা খেলেছিলো দুটো শরীর
তাকে আজও অবিক্রীত রেখেছো ভাবতেই
অবাক হই। জাদুঘরে জায়গা নেই...
শূন্যস্থানও পরিপূর্ণ ছোটোখাটো আঘাতে

প্রত্নতাত্ত্বিকের মতো মাটি খুঁড়ে আনি,
আধুনিক ডাকবাক্সে রাখি অনির্ণীত সম্পর্ক
ক্লান্তি নামেনা আমার শহরে, বৃষ্টি নামলে
মন তোমার কাছে নয়, ভিন্ন গন্তব্যে যায়।

শহরের শেষপ্রান্তের আলোয় ‘তুমি’ নেই
সলো-লকিতে বর্ণনা করি তোমাকে
তীব্র ব্যথা, রক্তক্ষরণে লিখি শোকস্মারক।

প্রকাশকালঃ ১৮ আষাঢ়, ১৪২৪

Saturday, 1 July 2017

হিসাব

হিসাব
ইমেল নাঈম

একটা কস্টলি অতীত ডিপ্রেশনের গাড়ীতে চেপে চলে যাচ্ছে সামনে
বাঁধার প্রাচীর টানতে টানতে নিঃশব্দে দূরত্ব মেপে নিল মেগপাই গাছ

ডায়রির কতগুলো পাতা অবহেলায় ভরে ওঠে শুকনো স্পর্শে
হিসাবের বাইরের হিসাবের জের টানতে ঝরছে অনাবাদী বিকেল
সন্ধ্যা হলে পুরোনো মদের বোতল খুলে ঢকঢক করে গিলি জন্মান্তর।

অবিশ্বাসের গলায় পড়াই মাদুলি। ঝাড়ফুঁকে বিশ্বাসী নই, গ্রহের ফেরে
আটকে দিয়েছি অপ্রাপ্তিগুলোকে। গতরাতে যে উষ্ণ চুমুরা আমাকে
ক্ষতবিক্ষত করে গেছে, সেই মুখটিও মলিন হয়েছে সকালের রোদে

এরপর, কবিতার খাতায় ছবি আঁকা ছাড়া আর কোনো কাজ নেই
পেন্সিল স্কেচে আঁকতে থাকি, ক্যানভাসে উদ্দেশহীন আঁকাজোকা।

দিনশেষে নগ্নতার ছবি দেখি, নিজেকে দেখে নিজেই চমকে উঠি
আমি তো আমায় আঁকিনি কখনো , তবে কোন সে মুখ নীরবে
খেলে দিচ্ছে পাশার দান...? নিজের নীরবতা দেখে চমকে উঠি... 

আমি দেখতে থাকি পরিযায়ী পাখি উড়ে যায় আমার আকাশে

প্রকাশকালঃ ১৭ জ্যৈষ্ঠ ১৪২৪

Thursday, 29 June 2017

সমুদ্রের সাথে কথোপকথন

সমুদ্রের সাথে কথোপকথন
ইমেল নাঈম

সময় পেরিয়ে যায় খেলার ছলে। ঘড়ির কাটাটিও আটটায় এসে বিরতিতে নামে। চুপচাপ জলরাশি এসে খেলে যায় আমার সামনে। তীব্রতা মাপিনি তখনো। দেখতে দেখতে প্রশ্ন করিনি, কে কতটা নিঃসঙ্গ। সমুদ্র নাকি আমি...!

কোলাহল থেমে গেছে অনেক আগেই। সবাই ফিরে গেছে গন্তব্যে। গাঙচিল নেই, তার ডাকাডাকিও নেই। জীবন নির্বাহ করা স্থানীয় মুখেরাও বাক্স পেটরা গুছিয়ে চলে যাচ্ছে গন্তুব্য। মাঝেমাঝে দু একটা পর্যটক উট এখানে হাঁটাচলা করে।

সিগারেটের ধোঁয়া ওড়াতে ওড়াতে বুঝতে চাইছি, তারাও কি আমার মতো বিলাসী। অল্পেই হাহাকার করে ওঠা সাইরেনের ধ্বনি। নাকি তারাও গন্তব্যে চলে যাচ্ছে নিজেদের দৈনিক হিসাব বুঝে নিয়ে

শুধু সমুদ্র দর্শন আমার নেশা নয়। নিজের হিসাবটুকু মেলাতে মেলাতে সৌখিন সময়টুকু পার করে দিচ্ছি। বিয়ারের ক্যান, এখনো খুলেনি তার মুখ। সেও চুপচাপ দেখে যায় সামনের প্রশ্নবোধক।

নিজেকে চিনতে হলে সমুদ্রই ভরসা। তার মতো বিশ্লেষক আসেনি এই সৈকতে। বিকালের দিকে কিছু ঝিনুক কুড়িয়েছিলো একদল শহুরে কিশোর। আমি খুশিমনে তাকে দেখতে দেখতে কখন যে ডুবে গেছি বিষণ্ণতায়।

রাত বাড়লে বুঝে উঠি, নিঃসঙ্গতাও একটা সঙ্গীত। সবাই এটাকে ভালোমতো চেনে। অথচ, বাজাতে পারে কয়জন? হয়তো কেউই পারেনা। আমি কি পারি বাজাতে?

সমুদ্র তুমি বলে দাও, সঙ্গীতের শেষ নোটটা...

প্রকাশকালঃ ১৫ জ্যৈষ্ঠ ১৪২৪

Wednesday, 28 June 2017

সার্কাস

সার্কাস
ইমেল নাঈম

স্পর্শ মুছে যায়, পলিতে ভরে যায় উঠোন
নেই নেই করেও অনেককিছু নিয়ে পূর্ণ
পাপ পুণ্যের হিসাব রাখা নেই, করতলে
রাখা দাম্পত্যকাল, ঠোকাঠুকি করে শুধু।

উড়ুক্কু সময়ের মাপজোখ, আশ্বাস জন্মায়
কর্পূর মিলিয়ে যায় একবিন্দু আশা নিয়ে
হারিয়ে ফেলেছি প্রাপ্তিগুলো খেলার মাঠে
ছিঁড়ে খাচ্ছে হাপিত্যেশ জমানো আবেশ...

ভাগ করতে গিয়ে দেখি নিজেই ভগ্নাংশ
সরু চাঁদের ক্ষণস্থায়ী আয়ু, আনন্দ দিয়ে
মিলিয়ে যায়, তার জন্য অপেক্ষা করছি...

আনন্দ উৎযাপনের কোনো স্পষ্ট কারণ নেই
নিজের সাথে নিজের সম্মোহন করে চলি
যেনো রিংমাস্টারকে অনুসরণে ব্যস্ত ক্লাউন।

বিষণ্ণতাকে মুছে দিতে চাইলে মোছা যায়না
আরো কয়েক পেগ পেটে গেলে জীবনের
মানে ঘোলাটে হতে হতে শূন্যতায় মিলায়

জীবনকে সার্কাসের দু'ঘণ্টার শো মনে হয়,
রিংমাস্টারের আজ্ঞাবহ, বিনোদনের দাস
ভেবে পার করে দিতে হয় দাম্পত্য জীবন।

প্রকাশকালঃ ১৩ জ্যৈষ্ঠ ১৪২৪

Monday, 26 June 2017

পথের শেষপ্রান্তে চুরি যায় সোনালী রোদ
কষ্টিপাথরের ভাগ্য গণনায় সিনেমার সংলাপ
বিষণ্ণতাকে ছুঁড়ে ফেললে আকাশ দেখতে হয়
মেঘ ছুঁয়ে যায়, মেঠোপথ নিজেও খুব ক্লান্ত

ব্যাটারি চালিত ইঞ্জিন রিকশাতে পাড়ি দিই
আঁকাবাঁকা ইটের সলিং, পাকা, আধপাকা সড়ক
মাঝে উত্তাল সাগরের ঢেউ আঁকছে গ্রাম্য পথ
সিগন্যালবিহীন সময় কেবল মেঘটুকু ছুঁতে চায়...

অহেতুক রোদ ছুঁয়ে দেখে খামখেয়ালী সকাল
দুপুরের তেজ নিষ্ক্রিয় হয় গাছের ছায়ায়
শানবাঁধানো ঘাট, শান্ত জলের অখণ্ড অবসর
লিপিবদ্ধ করি পুরোনো ডায়রির পাতায়,

হিসেবের খাতা থেকে মুছে দিতে থাকি দিন
সেইসাথে মুছতে থাকে সারাদিনের ভাগ্যলিপি
জানি -- হাতের রেখায় কোনো সুসংবাদ নেই
আঙুলের কড়ে গুণে রাখি বিপদ সংকেত

ফ্লুয়িডে মুছে দিই কালো লেখা, শাদা দাগটিও
কলঙ্কের মতো জ্বলজ্বল করে আমার চারপাশে।

প্রকাশকালঃ ১৩ জ্যৈষ্ঠ ১৪২৪

Sunday, 25 June 2017

দাবাড়ু
ইমেল নাঈম

চলে যাও। পুরনো তানপুরাটা ফেলে দিয়েছি
কী দরকার অহেতুক ভিড় ঠেলে শূন্যতা আঁকার
মেঘলা দিনে আকাশও সাজছে বড়ো জ্যোতিষী

মিলে যায় প্রতিবেশীর কুকুরের হাঁকডাক,
হাতের কড়ে গুণে রেখেছিলাম গত শীতের প্রলাপ
প্রহসনে শব্দের কোনো স্পন্দন বাকি  থাকেনা

টানা বৃষ্টিতে অনেক আগেই মুছে যাবার কথা।
হলুদ উঠোনে ধ্রুপদী নৃত্যে ব্যস্ত প্রাচীণ জলধারা
ভিজছে অদৃশ্যমান যা কিছু আছে তার পুরোটা
শূন্যতার দুর্জয় শক্তিকে উপেক্ষা করে থেকোনা।

মধ্যরাতের ঝুমঝুম বৃষ্টিতে ঝাঁঝালো রেশ থাকে,
কিছু কবিতার লাইনের জন্ম হয় এমন সময়ে।
নষ্ট, সদ্যভেজা তানপুরাটাও বাজতে শুরু করে
করুণ সুরে, ওদিকে বাজনা বাদকও দাবার শেষ
চাল সম্পন্ন করে আমার দিকে তাকিয়ে হাসছেন।

কাল্পনিক দৃশ্য শেষ হবার পরও ঘামছি… আমি...

প্রকাশকালঃ ১১ জ্যৈষ্ঠ ১৪২৪

Friday, 23 June 2017

দৃশ্যপট

দৃশ্যপট
ইমেল নাঈম

মুছে যাচ্ছে পেন্সিলের দাগ, বিরতিহীন যাত্রাপথে
পেরিয়ে যাচ্ছে আমাদের গাড়ী, ফোর লেন সড়ক
পেরিয়ে যাই সবুজের খোঁজে, রাস্তার দু'ধারে
বৃক্ষের সারি টুপি খুলে দাঁড়িয়ে, সূর্যের প্রখরতা
মুছে যায় গতির কাছে, বাতাস কেটে ছুটেছিলাম।

মেঘ জমেছে, কিছু আর্দ্রতা লিখে রেখেছি প্রণয়ে
মণিকোঠায় উত্তাপ ছড়ায় শিহরণ, মেঠোপথের
আবেশ নেই, ভগ্নাংশ চাঁদের সৌন্দর্য নিয়ে
দাঁড়িয়ে গ্রাম। নাগরিক আঁচড় নিয়ে ক্ষতবিক্ষত
রাতের বেলা মাদুর পাতিয়ে আড্ডার জন্মপাঠ।

হঠাৎ চোখ পড়ে আকাশে অগুনিত তারার মেলায়
চুপচাপ স্বর্গ থেকে নেমে আসেন এস এম সুলতান
কল্পনায় অনুভব করি তিনি খোলাহাতে ভরিয়ে
দিচ্ছেন আকাশ, সেই ক্যানভাসে রাঙিয়ে চলেছি।
থেমে যায় কোলাহল, আবার গুটিয়ে নিই নিজেকে

ঘোরের বশে অনেক দৃশ্যকে পরাবাস্তব মনে হয়
চারপাশটা ঘোলাটে হতে হতে মিলিয়ে যায় তারা
সুবহে সাদিকের সুরটা ঠিক অন্যরকম, গতরাতের
চেনা দৃশ্যের সাথে মেলাতে পারিনা কোনোভাবে...

প্রকাশকালঃ ১০ আষাঢ় ১৪২৪