Thursday, 11 January 2018

পথ

পথ
ইমেল নাঈম

স্বপ্নের বালুঘড়িতে চেপে চুপচাপ নামে দুঃখের নহর
যেন আচমকা ঘুম ভাঙার পরমুহূর্তে একগ্লাস জল,
নীরবতাও বোঝা হয় হরিত সময়ের নিপুণ মানদণ্ডে
পরস্পরের সরে যেতে যেতে জন্মায় ব্ল্যাকহোল।

পরাহত হয়ে নতুন শব্দের জন্ম দিচ্ছি অভিধানে
বুকমার্কের ভিতরে জন্ম নেয়া অসংখ্য শব্দঋণ
অচেনা হবার পরে আবিষ্কারের নেশাও মুছে যায়
কেউ কাউকে চিনিনা এখন, অথচ সহযাত্রী...

ভারতনাট্যমের তাল ভুলে গেছে ইমন, চাঁদের
ঈর্ষা লালনপালন করছি, বিনিময়ে নির্মাণ করছি
খাঁচাবন্দী স্বাধীনতার মনুমেন্ট। হাতপাখার ভাজে
পৌষালী উষ্ণতা নিয়ে হারিয়ে যাচ্ছে প্রত্যাশা।

গল্পের শেষ প্যারাটা পড়েই লিখে নিচ্ছি আনন্দ
অথচ আমি কোথাও নেই — অদৃশ্য ছোটাছুটি...
উড্ডীন শব্দদের অন্বেষণে জেগে থাকা অভ্যাস
জানি নিজের জন্য প্রয়োজন একফোঁটা আলো
ব্যতিরেকে পথটি চলে গেছে অন্ধকারের দিকে।

Wednesday, 10 January 2018

ছন্নছাড়া মানচিত্র

ছন্নছাড়া মানচিত্র
— ইমেল নাঈম 

দক্ষিণ গোলার্ধে লেখা কবিতাগুলো ভীষণ ছন্নছাড়া
সূর্যের উষ্ণতা মাপছে বসে ঘেমে যাচ্ছে মেঘদূত
নির্বাণ আর অনির্বাণের মাঝে পাথুরে দেবীর অবয়ব
নিশ্চিত পরাজয়ের বৃত্ত আঁকতে বসেছি ভরদুপুরে।

দিন গেলো, রাতটিও চলে যাবে... নিয়ন বাতির
কবিতাগুলো যেন রাজপথ, সঙ্গী হয় পথচলার
আর শেষেরদিকে চলে যায় উন্মুক্ত পাখির ডানায়

একুরিয়ামের কবিতাগুলো অক্সিজেন ছাড়া বাঁচে
নগ্নতার চিত্রায়ন শেষে থেমিসও চোখ বাঁধে কাপড়ে
তারপর তরবারি আর দাঁড়িপাল্লা দু'হাতে ধরে

অবয়ব খুলে দেখেনি কেউ, ভিতরটা কালোই থাক
প্রত্যুষে ঘণ্টার ধ্বনিতে জেসাস... জেসাস... জেসাস
তুলসীপাতা জোগাড় করা বৃদ্ধার চোখে ভয় — শঙ্কা
তারও আগে আযানের কলরব পাখির কলতানে

অবিশ্বাসী মনে আবেদন নেই, প্রত্যাশার চাপ নেই
একটু ভালো থাকা আর রাখার মাঝের তফাৎটুকু
বুঝতে বুঝতে আবিষ্কৃত হয় নিপুণ ছলাকলাশিল্প
বিদীর্ণ সময়ের ভাজে চিৎকার করে দৈনন্দিন সকাল

মেঘ নামুক, বৃষ্টি হোক কিম্বা তীব্র উষ্ণতায় ভিজুক
তবু আমাদের গল্পের ঘড়ির কাঁটায় প্রেম নামুক
নিশ্চুপ — নীরবতায় মুছুক জীবনের সব আয়োজন। 

Tuesday, 9 January 2018

ডাকনাম

ডাকনাম
ইমেল নাঈম

আমাদের কোনও ডাকনাম নেই, বিশেষণও নেই।
সম্পর্কের মায়াজাল ছিন্ন করা অনুভূতি আছে কেবল
আছে নির্বাক মুখের ভাষায় বরফ জন্মের শুভ্র উষ্ণতা

আমাকে কেউ কোনোদিন ডাকনামে ডাকেনি
খুব চেয়েছিলাম কেউ একজন ডেকে উঠুক
অভিমানের এভারেস্ট গলে যাক সূর্যের তাপ বিরহে
মনোযোগহীনতা লিখে রাখে অবজ্ঞার উপন্যাস

লজ্জাবতীর মতো মরতে, শুকিয়ে যেতে স্পর্শ পেলে
আদিম অভ্যাসকে অবসরে পাঠিয়ে নামাতাম রাত
তাঁত-কাব্যের বুনটে একটা জীবন হলো ডাকনামহীন,

প্রাক্তনদের গল্পের সমাপনী নেই কোনো অঙ্গিকারনামা
সালতামামিতে ভিড় নেই, বিচ্ছিন্নের বিশাল মিছিল
কলরব মুছে গেলে ভাবতে বসে নির্বাক জীবন
প্রান্তিক সুর ছবিতে আঁকা কবিতার নেই ডাকনাম

একটা জীবন পার হচ্ছে ডাকনামহীন কলতানে
পাখিদের সমাবেশে অনেক পাখি হয় বেদুইন
উড়ে বেড়ায় এধার-ওধার ডাকনামের আশায়...

Sunday, 7 January 2018

আখড়া

আখড়া
ইমেল নাঈম

মিথ্যে আলোকচ্ছটা। ফানুশ ওড়ে। লুকোচুরি খেলা।
শব্দ আঘাত করে অন্য এক শব্দকে। প্রতিবিম্বজুড়ে
ঝরছে হাপিত্যেশ। নিজের সাথে নিজের কথোপকথন।

কথার ভিড়ে জমাটবদ্ধ বাক্যবন্ধরা নির্বিক, অসহায়।
যতি চিহ্নের হিসাব নিকেশে শুধু মারপ্যাঁচে হাহাকার
বৃত্তের বাইরে গল্পগুলো সরলরৈখিক সমান্তরালে…
অনুভূতিগুলো প্রেমহীন,
          স্পর্শগুলো জাজ্বল্যমান
                     স্মৃতির জাজিমে আলোকচ্ছটা
খাতায় আঁকা দুর্লভ কোনো রঙপেন্সিলের কারুকাজ।

বন্ধখাতার পরতে পরতে ছড়ানো গোপন ইশতিহার,
লড়াইয়ের গল্পে থাকে নিষিদ্ধ কিছু সাংকেতিক চিহ্ন
উড়ন্ত প্রজাপতির মতো উড়ছে একফোঁটা প্রেম…
           তারপর গল্পরা থেমে যায়,
                  দাড়ি কমা সেমিকোলন সমেত
                           নীরবতাও ভাসে গল্পের মোড়কে।

নতুন ট্যুইস্ট হিসেবে নিজেকেই সামনে আনি কেবল
গল্পের ভাজে সংশোধনাগার, আঁখড়া জমে স্মৃতিদের।

Saturday, 6 January 2018

মৃত নগরীর ক্যানভাসার


মৃত নগরীর ক্যানভাসার
ইমেল নাঈম

উদ্দেশ্য বিধেয় সবটাই অচেনা। হঠাৎ ভেসে আসা জীবনের আয়োজন। গল্পের ক্যানভাসে জমাটবদ্ধ শব্দ। অপেক্ষার ঋণে আটকে যায় কুহুতান। বেসুরো সংলাপে কোথাও আটকে গেছে জীবনের ধারাপাত। মন্ত্র পাঠের তান্ত্রিক নই। বিষণ্ণতা এঁকে ফেলি প্রতিদিনই। নির্ভার জীবনের পাঠাভ্যাস আর তার সমান্তরাল প্রতিবিম্বে কেবলই দুঃখের হিসাবনিকাশ। হয়তো কথার সমীকরণের অন্তে আনত হয় সৌখিনতা।

রুটিনবাঁধা সময়ের হাতঘড়ি অনুযায়ী সময়ের অংক, ভ্রান্তি ছড়ানো আকাশের মানচিত্র। কল্পনায় অশ্বের ডাকাডাকি আর বিনিময়ে লিখা হয় প্রাত্যহিক পরিক্রমা। দোপেয়ে জীবনের মালমসলা টানতে ব্যস্ত। নিজেকে প্রশ্ন করতে থাকি দিনের শেষে। উত্তরের অপেক্ষায় পার করে দিই জীবনের আয়োজন। অদ্ভুত জীবনকে টেনে নিয়ে চলি। বাঁধাহীন জীবনের ডাকাডাকি।

শহর জুড়ে নামে অদ্ভুতুড়ে নিস্তব্ধতা। কাউকে প্রশ্ন করার নেই। উত্তরের জায়গা শূন্য আর শূন্যতায় পরিপূর্ণ। মননের শেষ প্রান্তে এসে থমকে দাঁড়াই। গল্পের ভাজে লেখা গল্পগুলো চুপচাপ থমকে যায়। আহামরি আয়োজনে পার করছি জীবন। খাদক আর খাদ্যর মাঝের সময়টুকু।  মৃত মুখের প্রলাপ আঁকছি। নগরীর গল্প। ম্রিয়মাণ, করুণ সব কেচ্ছা। দুঃখায়নের মুহূর্ত, মাৎস্যন্যায়ের মতো গিলছে আমাকে। কার কাছে রেখেছি অমীমাংসিত ঋণ।

আমাদের গল্পের শেষ অধ্যায়ের নাম নেই। কেবল এলিজি থাকে। এপিটাফ লিখা হয়। নামের ভিটেমাটিতে ভুলের আবাস। মৃত্যু আঁকতে আঁকতে কখন যে আঁকা হলো মৃত নগরীর ক্যানভাস… সে খবর ছড়িয়ে ছিটিয়ে আছে প্রত্নতত্ত্ববিদের খাতায়, অনেকটা পম্পেই’রর মতো। শুধু নিদর্শন, বাকিটুকু আশা নিরাশার দোলাচল।

Thursday, 28 December 2017

বিভ্রম বিভ্রাট

বিভ্রম বিভ্রাট
ইমেল নাঈম

মন্দের ভালো। চাওয়া পাওয়ার ফাঁক গলে জেগে ওঠা মুহূর্ত। হিসেবের খাতায় জমছে মিছিল। বিচ্ছিন্নতার পাঠ করতে করতে ঘুমিয়ে গেছে বংশীবাদক। হারমোনিকা পড়ে থাকে অবহেলায়। ভেসে আসে বেসুরো সুর। স্টিং ছিঁড়া একুস্টিকের বুকেও অদ্ভুত নীরবতা।

গানের দেশে নেমেছে সূর্য, চাঁদ নেই। থেমেছে পৃথিবীর আয়োজন। কোনো জাদুকর আঙুলের ইশারায় থামিয়ে দিয়েছে দৈনন্দিন ব্যস্ততা। ভিড় ঠেলে প্রাপ্তবয়স্ক হচ্ছে ইচ্ছের গল্পরা। উপমার আঙ্গিকে সাজানো কথাগুলো সিঁড়ির মতো যোগাযোগ রক্ষা করছে।

শিল্পী তার রঙ তুলিতে আঁকছেন মোলায়েম দুঃখদের। চারপাশে ধূধূ মরীচিকা, আলোর বিচ্ছুরণে জেগে ওঠে অনেক প্রশ্ন। এই দরজায়, ওই দরজায় কড়া নেড়ে খুবই বিমর্ষ। নির্মোহ কথারা মৌনব্রত পালনে ব্যস্ত। রাতের নিস্তব্ধতায় ঢেকে যায় পুরো শরীর। মিছিলে শ্লোগান নেই। কেবলই হেঁটে চলেছে কিছু মানুষ কাঁধে কাঁধ মিলিয়ে।

হারিয়ে যাওয়া খাতাটায় টুকে রেখেছিলাম হারিয়ে ফেলা স্বপ্নগুলো। বিনির্মাণ প্রকল্পে কিছু রেশ জেগে থাকে। সময়ের হাতঘড়িতে কেবল ভ্রান্তি। খুব দূর থেকে উড়ে আসে পিয়ানোর সুর। ঘুম ভেঙে হয়তো চোখ খুলে তাকাবেন বংশীবাদক। আড়মোড়া ভাঙলেই বেজে উঠবে সঙ্গীত। অথচ রাতের গভীরতা মাপা হয়নি আমার। মাপতে বসেছি বিভ্রম বিভ্রাট...

Tuesday, 26 December 2017

সূত্র

সূত্র
— ইমেল নাঈম

বিউগল। উত্তাল সময়কে ধারণ করেছিলাম দুজনেই।
উচ্ছ্বাস মুছে গেছে, ছাই জমেছে হিসেবের অনুরণনে,
নির্ভুল বলে কিছু নেই, যেমন নেই একান্ত সময়গুলো।

নিঃসাড় হিসেবে চিলেকোঠায় নামে কাল্পনিক সুর
মোহভঙ্গ হলে বোঝার ভার নেমে যায় শূন্যে
ছুঁয়ে যেতে থাকে মায়াবী হাত — বিভ্রান্তির গলিপথে
অবান্তর ভাবনারা কেবল মিথ্যের ফুলঝুরি ছড়ায়

ছুঁয়ে যাক নিসর্গের উপাদান, যদিও বিমূর্ত দৃশ্যপটে
পিঠাপিঠি আঘাত এসে জর্জরিত করে চারপাশ
নিজেকে আবৃত করে রাখি দামি রেশমি কাপড়ে,
আবরণগুলো মুছে যেতে থাকে — থাকে অসময়।

খোলসহীন দেহে গল্পরা অন্যভাষায় লিপিবদ্ধ হয়
তবুও... আবরণ ভালো, মমী ঢেকে রাখে ব্যর্থতা
বহুকাল পরে হয়তো ভেসে ওঠে তুতেন খামেন

বুকের মানচিত্র বদলেছে, বদলেছে সুর সঙ্গীত
গতির তৃতীয় সূত্রের মতো, প্রত্যেক ক্রিয়ারই
একটা সমান ও বিপরীতমুখী প্রতিক্রিয়া আছে...
আমরা সমতায়নে ব্যস্ত পৃথিবীর দুপ্রান্তে দাঁড়িয়ে।

Sunday, 24 December 2017

দিনলিপির আয়োজন - ৬

দিনলিপির আয়োজন - ৬ 
ইমেল নাঈম

বিচ্ছেদের গল্পে গলে পড়ে মোম। গচ্ছিত উচ্ছিষ্টাংশটুকুও জমে থাকে অব্যবহৃত। ব্যাবচ্ছেদে জন্ম নেয়া নিঃশ্বাসটুকু মুছে যায় অবহেলায়। ছাড়পত্র পেলে উড়ে যেতে পারে পোষা জাপানিজ ক্রিস্টেড। পৃথিবী ছোটো, অল্পেই মিশে যায় ধুলোয়। বিবর্ণ সময়ের মারপ্যাঁচে ক্রুর সময় এগিয়ে চলে মধ্যবিত্ত সমাজের হাতেখড়িতে।

বুকে শীতকালীন উষ্ণতা। মাফলার জমানো ঠাণ্ডায় ইট পাথরের সভ্যতায় কেবলই কাঁটা ছেড়া। সময় মাপছি। নিজেকে নিয়ে মেডিটেশন। মনছবিতে কেবলই রূপকথা। মনোযোগ হারিয়ে ফেলেছি তান্ত্রিক মন্ত্রের মাঝখানে। এরপর চোখ বন্ধ করে সুরারোপ করছি মনের। নিজের মাঝে ঐকতানে বাজে অপ্রাপ্তি, হতাশা, দৈনন্দিন জীবনের যুদ্ধ, আর যুদ্ধবিরতির সাইরেনে বাজে নির্লিপ্ত ঘুম।

সকাল হলেই ক্যানেস্তারা। চুপচাপ দৌড়ে নামি। বাঁচার জন্য দৌড়। নিজেকে প্রতিনিয়ত এগিয়ে নিচ্ছি সামনের দিকে। হুমড়ি খেয়ে পড়ছি, আহত হচ্ছি, রক্তাক্ত হচ্ছে চারপাশ। নিজেকে নিয়ে দুটো মিনিট ভাবার সময় নেই। প্রশ্নবোধক! বিশাল প্রশ্নবোধক গড়ছে রোজকার ভাগ্য।

দিনান্তের গল্পে নিজেকে নিয়ে বেশি উচ্চাকাঙ্ক্ষা নেই। খুব বেশি হলে নিজেকে সার্কাসের ক্লাউন ভাবি। হাসি ফোটানোর জন্য কিম্ভুতকিমাকার অঙ্গভঙ্গি ছড়াই। ভাগ্য এরচেয়েও ভালো হলে সার্কাসের রিং-মাস্টার। পয়েন্টারে লিপিবদ্ধ করছি নিজের ভাগ্য। মধ্যবিত্ত মনে এরচেয়ে বেশি কিছু নেই। স্বপ্ন নেই, পাবার আকাঙ্ক্ষাও নেই। তার একমাত্র সফলতা হলো নির্লিপ্ততা।

Friday, 22 December 2017

দিনলিপির আয়োজন - ৫

দিনলিপির আয়োজন - ৫
ইমেল নাঈম

জানালা জুড়ে সুনসান নীরবতা। বারান্দায় নেই আলো।
শৈশব পেরিয়ে দুঃখরাও এখন প্রাপ্তবয়স্ক, তারা এখন
সহজে আহত হয়না, কাঁদেনা, দুমড়েমুচড়েও যায়না;
প্রবলে উৎসাহে দ্বিগুণ শক্তিতে ক্ষতবিক্ষত করে শুধু

এরপর স্বপ্ন দেখার আকাশ ছোটো হয়। মাঠ নয় —
বাড়ীর সামনের উঠোনও নয় — বারান্দাও নয় —
জানালা খুলে কেবল দেখি শূন্যতা ভর্তি আকাশ।

ইদ, পূজা, পার্বণ, সান্টা কতো এলো আর কত গেলো
যাবার সময় চুরি করে নিয়ে গেলো অলিখিত স্বপ্ন
খণ্ডিত সময়ের হিসাবে আকশটিও ভগ্নাংশ স্বরূপ...
আমাকে দেবার মতো অবশিষ্টাংশ নেই তার কাছে।

তবুও নিয়ন আলো দেখলে উৎসুক মন উঁকি দেয়
ল্যাম্পপোস্টের নিচের মানুষের আসাযাওয়া দেখি
তাদেরও কী অনাদরে স্বপ্ন পুড়েছে আমার মতন
চাঁদ দেখলেই বলে উঠি আহা কী অপরূপ দৃশ্যপট
অথচ আমি নিজেও অন্যের শক্তিতে নিভুপ্রায়,

খর্বিত শক্তিতে হাসছি লৌকিক পৃথিবীতে, উপলব্ধি
করছি স্বাধীনতার ভিতরে লুকোনো পরাধীনতাকে
বিনিময়ে মিলছেনা ব্যক্তিগত কোনো হিসেবনিকেশ,
সান্টা আসেনা, ইদের কোলাকুলি, পূজা পার্বণ
কেবলই একটি দিন, বাকিটা শুধু নীরব হাহাকার।

Wednesday, 20 December 2017

ব্যক্তিগত কড়চা

ব্যক্তিগত রোজনামচা
ইমেল নাঈম

সালতামামি। ব্যর্থতা। ঘুরে দাঁড়ানোর আস্ফালন
কোনো কিছুতেই নিজেকে খুঁজে পাচ্ছিনা,
মুখবইয়ের প্রতি পাতায় আমিত্ববোধ,
নিজেকে জাহির করার অদম্য প্রয়াসে ব্যস্ত...
কথারা চুপ থাক, নীরবতা নামুক কলমের নিবে

অনেক আগেই বন্ধ করেছি শব্দনির্মাণের কাজ
এখন সার্কাসের ক্লাউনের অঙ্গভঙ্গি দেখি
রিং মাস্টারের হাতের ছড়িতে কেবল প্রহসন
অচেনা শহরে সুরম্য অট্টালিকার ভিড়ে
একচিলতে আকাশ চুরি করে নিচ্ছে কৈশোর

যোগবিয়োগে ব্যস্ত নিজেকে প্রশ্ন করতে শিখিনি,
প্রাপ্তির খাতায় আঁকছি দাঁড়ি, কমা, সেমিকোলন
সমান্তরাল পথে মানুষের রঙ চেনা কঠিন,
লোকালয়ে তারা মিশে মুখোশ পরে,
ভালোমানুষের আড়ালে করে নিজের বিজ্ঞাপন

নাগরিক ব্যস্ততায় কেন আঁকছি বিশাল শূন্য?
বাধা দিওনা। আঁকতে বসে নষ্ট করবো চারপাশ;
ছোট্ট শিশুদের অঙ্কনে যেমন নষ্ট হয় দেয়াল
ঠিক তেমনি নষ্ট করবো সাজানো বাগান
তোমরা ভাবলেশহীন তাকিয়ে দেখবে নীরবে...

শিশুরা ধ্বংস করতে ভালোবাসে সৃষ্টির মানসে
আমি ধ্বংস করতে পারিনা। কেবলি আঁকিবুঁকি...

Tuesday, 19 December 2017

বৃত্তবন্দি হাহাকার

বৃত্তবন্দী হাহাকার
ইমেল নাঈম

প্রলেতারিয়া সুখে ভাসছে যাবতীয় পাপপুণ্য
দুয়ে মিলে লিপিবদ্ধ প্রহসন। সর্বভুক প্রাণে
দোলা দেয়া বসন্তের বাতাস — অচেনা পরিবেশ —
খেলাঘরের ভাঙাগড়া দেখতে দেখতে পেরোচ্ছি।

নীরবে শ্লোগান শুনি গত জীবনের ধারাপাতে
আচমকা সুনামির সাক্ষাত, থেমেছে আয়োজন।
দাগ মুছে গেছে — ক্ষত আজও বয়ে বেড়াই শরীরে
শব্দহীন হও — কঠোর ধ্বনিতে মুখরিত সৃষ্টি।

উড্ডীন পাখিদের সংসার নিয়েও চিন্তামগ্ন
নীরবে সয়ে যাচ্ছে সব — বাড়ছে ঋণ পৃথিবীর
রেশ থাকে শেষ হিসাবেও, থাকে ভুলের পাহাড়
বুকের গভীরে বুনো পাখির ধ্রুপদী ডাকাডাকি।

প্রাণের হাহাকার থামলে, উষ্ণতায় রাখো হাত
বুঝে নাও — অনুভব করো — বৃত্তবন্দী হাহাকার।

Sunday, 17 December 2017

দিনলিপির আয়োজন — ৪

দিনলিপির আয়োজন — ৪ 
— ইমেল নাঈম

উড়ে যায় বিষণ্ণ মেঘ, অভিধান থেকে খসছে শব্দ।
নির্বাণ করছি। বিনির্মাণ দেখি সুবিশাল মেঘমালার,
দেখছিনা কত সুন্দরে তারা মিশছে পূবালী বাতাসে
নির্ভার সময়ের প্রান্তে কিছু ঋণ লিখেছি অজান্তে।

নির্বাক হয়েছে গল্পের শেষ অধ্যায়ের প্রতিটা বাক্য
অতিকল্পিত চিত্রায়নে ঢেকেছে প্রান্তিক মনের কোণ
পাললিক কারুকাজে উড়ে আসে পরিযায়ী পাখিরা
ক্যানভাসের তৈলচিত্রে শৈল্পিক মন হয় বিমোহিত।

হিসাবের খাতায় মেলেনা বেপরোয়া হিসাব নিকাশ,
সালতামামিতে শুধু শব্দহীনতা — নির্বাক, চুপচাপ
রাস্তার নিয়ন আলোয় আঙুলজুড়ে নামে বিষণ্ণতা
পথিকের আসাযাওয়া দেখতে দেখতে লিখে ফেলি
দৈনন্দিন জীবনের সাপ লুডু, অর্থহীন কাটাকুটি

প্রতীক্ষার বিনিময়ে মেলেনা কিছুই, পরিভ্রমণকে
সময়ক্ষেপণ হিসেবে ধরে নিই, শেষ ট্রেন চেপে
চলে গেছি অনেকপথ। অপেক্ষমাণ নদী জীবনী।

ব্যস, থেমে যেতে যেতে ভুলে গেছি শুরুর বিন্দু
বিবর্তনে উড়ে আসে কেবল বিষণ্ণ মেঘের গল্প।
নিঃসঙ্গতার পাঠে থেকে যায় আঙুলের স্পর্শ...

Friday, 15 December 2017

স্বাধীনতা মানে

স্বাধীনতা মানে
ইমেল নাঈম

পেরিয়েছে সময়, মুহূর্ত পেরোচ্ছে তারচেয়েও দ্রুত
চাওয়া পাওয়ার হিসেবের খেলায় জমাটবদ্ধ ঋণ
বোঝা টানতে টানতে দিকভ্রান্ত হয়েছে সমাজ,
চুপসেছে সহাস্য মুখেরা, বিনিময়ে নীরবতা...

থেমেছে তর্জনীর গর্জন, এরপর থেকে স্বপ্ন দেখতে
ভুলেছে মানুষ, উদ্দেশ্যহীন ছোটাছুটিতে পেরিয়ে
যাচ্ছে দিনপঞ্জিকায় লিপিবদ্ধ যাবতীয় নথিপত্র
নির্বাক সময়ের হাতেখড়িতে স্বাধীনতা কেবল শব্দ

কবিরাও কবিতায় লিখছেন না স্বাধীনতার কথা
ব্যর্থদের কলমজুড়ে ফুটে ওঠে শ্লোগান, কবিতা নয়।
পারিজাত ফুল ঝরেছে কবেই! জেসমিনের ঘ্রাণ
বুকে জড়াতে ভুলেছে নিঃসঙ্গতাপ্রিয় মানবসমাজ।

আমিও অনেকদিন লিখিনি স্বাধীনতার কথা।
স্বাধীনতা বলতে বুঝি ছোট্ট শিশুর অনাবিল হাসি
লাজুক মুখে ঢেকে রাখা গ্রাম্য বধুর হাসি,
আমি চোখ বন্ধ করলেই শুনি লালন, হাসনের
স্নেহের পরশ, ভেসে আসে আব্বাসউদ্দিন,
আবদুল আলিমের কণ্ঠেও খুঁজে পাই স্বাধীনতা...

নদীর অববাহিকায় গড়ে ওঠা সভ্যতায় জন্মানো
অজস্র কবিতার ভিড়ে বিমোহিত করা রবিঠাকুর,
নজরুল, জীবনানন্দ'র কবিতায় জীবনের টঙ্কার।
স্বাধীনতা মানে অজস্র রক্ত, লাঞ্ছনার বিনিময়ে
পাওয়া লাল সবুজ পতাকা, অজস্র সুখের ঋণ।