Sunday, 11 February 2018

ছায়াবৃত্ত
ইমেল নাঈম

১।
নিজেকে আয়নায় দেখো — গভীর বলিরেখা
এই দাগগুলো জীবনের গাঢ় গল্প বলে
পাশাপাশি শুয়ে দুজনে রোমন্থন করে অতীত
বর্তমান ভাসছে... উড়ছে... সুলেমানি জায়নামাযে

২।
আরশে আজিমে চোখ রেখে মদ্যপান করি
পশ্চিমের আকাশে আযান, পূর্বে ঘণ্টাধ্বনি
শাদার পাশাপাশি রঙচঙের সহবস্থান
আরশে আজিম থেকে চোখ সরে যায়
তোমার নিটোল স্তনের দিকে...

৩।
তীর্থস্থানে আমারও যেতে ইচ্ছে করে
কিন্তু ওখানে একাকী প্রবেশাধিকার নিষিদ্ধ
কমপক্ষে দু'জন হলে খুলে যায় সদরদরজা
আমি আজও ছুঁতে পারনি তোমার হাত।

৪।
জমিনে বিছিয়ে দিই লালসালু
দিকে দিকে রটে যায় কানকথা
কাল্পনিক গল্পে হারিয়ে যাও, তুমিও...

Saturday, 10 February 2018

সার্কাস পার্টি
ইমেল নাঈম

জলবন পেরোলে এক মুঠো উষ্ণতা থাকে
রোজ সকালে গায়ে তাপ মাখায় অষ্টাদশী তরুণী
নিজেকে নিয়ে ব্যস্ততা মাপতে পেরিয়ে যাই
ছায়া ঘনীভূত হয়, উপরের প্রান্তিক অনুরণনে।

উপচে পড়া আলিঙ্গনে দেখি দিনযাপনের দুঃখ
জলের উপর হাতের পরশ থাকেনা
মাটিতেও রাখিনা পা, হাওয়াতেই ভাসি
কাল্পনিক বিন্যাসে মুখোমুখি হই — সমানে।

সামলে রাখি নিজেকে, প্রান্ত বদলে যায়
ষোলোগুটি খেলা কিশোরটিও হয় পরিণত
মার্বেল জীবন ছিদ্র খোঁজে ঢোকার জন্য
মানবজীবন শরীর নয়, মাথা লুকায় — উটপাখি
দেখতে দেখতে পার করে দিচ্ছি ক্যালেন্ডার।

মাছের জীবনে রয়ে যায় মূল্যহীন হালখাতা।
হুট করে পালিয়ে যেতে হয় দূরের পথে,
নিজেকে আলগাতে পারি চিকন দড়ির উপর,
সার্কাস পার্টি শেষে  রিং মাস্টার, জোকারের
পাশে দাঁড়ানো আমিটা খুব অচেনা…

সার্কাস টিম
ইমেল নাঈম

জলবন পেরোলে এক মুঠো উষ্ণতা থাকে
রোজ সকালে গায়ে তাপ মাখায় অষ্টাদশী তরুণী
নিজেকে নিয়ে ব্যস্ততা মাপতে পেরিয়ে যাই
ছায়া ঘনীভূত হয়, উপরের প্রান্তিক অনুরণনে।

উপচে পড়া আলিঙ্গনে দেখি দিনযাপনের দুঃখ
জলের উপর হাতের পরশ থাকেনা
মাটিতেও রাখিনা পা, হাওয়াতেই ভাসি
কাল্পনিক বিন্যাসে মুখোমুখি হই -- সমানে।

সামলে রাখি নিজেকে, প্রান্ত বদলে যায়
ষোলোগুটি খেলা কিশোরটিও হয় পরিণত
মার্বেল জীবন ছিদ্র খোঁজে ঢোকার জন্য
মানবজীবন শরীর নয়, মাথা লুকায় -- উটপাখি
দেখতে দেখতে পার করে দিচ্ছি ক্যালেন্ডার।

মাছের জীবনে রয়ে যায় মূল্যহীন হালখাতা
নিজেকে নিয়ে পালিয়ে যেতে হয় দূরের পথে
নিজেকে আলগাতে পারি চিকন দড়ির উপর
যেনো সার্কাস পার্টি শেষে  রিং মাস্টার আর
জোকারেরপাশে দাঁড়ানো আমিটা খুব অচেনা

Friday, 9 February 2018

উদ্দেশ্য
(উৎসর্গঃ বিন্দু'কে)

আমাদের কলম ছাড়া আর কোনো বন্ধু নেই
ভাষা প্রকাশের মাধ্যম হিসেবে কাগজকেই চিনি
তাতে লিখে রাখি দৈনন্দিন জীবনের প্রবঞ্চনা

কেউ চায় সবসময় নিচু থাক আমাদের ঘাড়
অথচ আমরা আকাশ দেখতে ভালোবাসি
তারা বলে অনুগত হতে প্রভুভক্ত কুকুরের মত
বিনিময়ে হাসতে হাসতে বলে উঠি বাঞ্চোদ

তারা মুখে এক, কাজেকর্মে আরেক।
আমাদের মুখ নেই, কাজ অনেক
তাদের অঙ্গভঙ্গি মূকাভিনেতার মত

আমরা কুর'আনের পাশেই রাখি বেদ
তার পাশেই স্থান দিই ওল্ড টেস্টামেন্ট
ত্রিপিটকও রাখি, সেইসাথে রাখি মার্ক্স।
এদের সাথে জড়িয়ে দিই নাস্তিক্যবাদ...

আমাদের মুখ নেই, অভিনয় নেই, কাজ অনেক
আকাশে ছুড়ি চালাই, দ্বিখণ্ডিত করব ব'লে
হাসতে হাসতে অপমানটুকু মাথায় তুলে নিই...
এরপরও বলি কলম এক স্বাধীনচেতা সত্তা

বিশ্বভূগোল বদলেছে আগে, তুমি বদলাবে কবে...
এখনো মোনায়েম খানের ভুত চাপিয়ে হাঁটছো?

আমাদের কথারা টুঁশব্দটিও করেনা
খাতায় লিখে রাখে প্রথাবিরুদ্ধ অভিযান।

Thursday, 8 February 2018


প্রোপোজ ডে
ইমেল নাঈম

"Can I cheat you again"
দশের চেয়ে আলাদা। দিনপঞ্জিকার পাতা উলটে যায় দিনের নিয়মে। কোনো হেরফের নেই দিনরাতের। চলেছে ঘড়ির কাটা, আহ্নিকগতি আর বিষুবরেখার পাঠে মলিন নয় মুখ। নিশ্চিত ঘুম শেষে সকালটিও অনন্য হতে পারে। নিজের কাছে প্রশ্নবোধক, বিস্ময়সূচক অনুভূতি জানান দেয় আর কত... আর কতটা বাকী খেলনাবাটি খেলার।

খেলাঘর ভাঙেনি, মিলনায়তনে আসছে নতুন মুখ। উদ্বেল জানান দেয় স্নায়বিক চাপ। বুকের গহীনে তাপমাত্রাও বাড়ে - নিজের কাছে হেরে যাওয়ার গল্প আত্মস্থ করি। কানে কানে শুনিয়ে যাচ্ছি পুরোনো কীর্তন। রাজা প্রজাদের ভিড়ে কেবলই রূপকথা নেমে আসে। বিনিময়ে মোহাচ্ছন্ন দিনলিপি লিখে রাখছি অন্যের চোখে।

হাত বদলে যায় হাতের স্পর্শে। প্রথম বলে আসলেই কিছু হয়না। প্রেমেও আবার দ্বিতীয় শব্দ বলে জানা যায়নি। খারাপ লাগাটাও শব্দটাও আপেক্ষিক। নিজের সাথে বিনম্র কথোপকথনে হারিয়ে যাবার পূর্বে তৃপ্তিস্বরে বেরোয় একটি শব্দ - "আহ"

দিনের গল্পে মুখচ্ছবি... মন খারাপের ভিড়ে নিজস্ব শব্দমালাগুলো ফিকে হতে হতে মুষড়ে যায়। নিবেদক হারায় তার আবেদন, বিস্ময়ের দোলাচলে নির্বাক হয় ধূসর পাণ্ডুলিপি। আর, প্রেমের আবেদনগুলো ত্রিমাত্রিক অবয়বে পালটে যায়।

Tuesday, 6 February 2018

কমরেড কে

কমরেড কে
ইমেল নাঈম

বলুন কমরেড, বিশ্ব বাজারে চাল, তেল, নুনের দাম
ক’টা কবিতা লিখে পরিশোধিত হয়... কতটা রক্তক্ষরণ
লিখে রাখতে পারে শব্দমণ্ডলী যা ব্যর্থ হয়না মহাকালে।

শেয়ালের ডাকে কী আগাম ধারণা করেন সকালের
ভবিষ্যৎবাণী ছাড়েন গ্রহ নক্ষত্র আর পাথর বিন্যাসে
বলুন লিডার, গণিতের সকল ভাষা এতো জটিল কেন

কেন যোগের পরেই বিয়োগের অংক কষতে হয়
ভাগের আগেই বা গুণ কেন করি বারবার
সাংকেতিক চিহ্নগুলো কেন রক্তাক্ত করে আমাকে
ভরদুপুরের হিসাবে কেন মিলেনা প্রাপ্তির যোগাংক।

হিমাংকের কথা লিখি নাতিশীতোষ্ণ বুকের উষ্ণতায়
কমরেড বলুন, গ্লোবাল ওয়ার্মিং ঠেকাতে কবিতা
কেন ব্যর্থ, আফ্রিকার মঙ্গায় ক’টা কবিতা জন্ম হয়

চুপ থাকবেন না লিডার, আপনি জানেন সবকিছু
আপনি আমাকে জানান, আলোকিত করুন হে মহান
বলুন, কবির মাংস কবিরা কেন খায় — এর স্বাদটুকু
কেনইবা নিতে তৃতীয় পৃথিবীতে এতো আস্ফালন

কমরেড বলুন, নদীর দেশে কবিতা কেন ব্যর্থ
রূপ বৈচিত্র্য নিয়ে কুলীন অবয়বে কতদূর হাঁটছি
আর কতটা পথ পেরুলে কোথায় হবে এর শেষ।
কমরেড জবাব দিন, চুপ থাকবেন না প্লিজ...

Thursday, 1 February 2018

শিরোনামহীন - ১

শিরোনামহীন - ১
ইমেল নাঈম

হিসেব তোলা থাকে হিসেবের ভেতরে
ম্লান মুখটিও ঝাপসা হয় মলিন সময়ে
জমছে কথা পাখির কোলাহলে।

শীতকালীন অবকাশে গোছানো জীবন
শাপলুডু খেলে, মুছে পাপবিদ্ধ সময়
যাযাবর হাতছানি, প্রশ্নবিদ্ধ নিজেকে
নিয়ে পাড়ি দিই গ্লানিমুখর রুদ্ধ পথ,

সব পথ মুছে যায় দুপুরের খেয়ালে
টিকে থাকে মুহূর্ত প্রান্তিক সভাস্থলে,
অভিমানের পারদ গলে সুতীব্র তাপে।
অচেনা পাখির ডাক... উইন্ডচাইম...

নৃত্যের মুদ্রায় প্রাণের নিত্য স্পর্শ বাঁচে
ডাকাডাকি থামলে নিঃসঙ্গ প্রান্তরও
প্রহর নামায় দিন দুপুরের অবহেলায়

সময়ের ভাজে অলীকতা বিভোর ক্ষণ
সম্মুখে তাকাই...এক বিশাল শূন্যস্থান...
অংকিত নেই কোনো চিহ্ন সময়রেখায়।

Wednesday, 31 January 2018

বীজগণিত ৩

বীজগণিত - ৩
ইমেল নাঈম
১।
কাটাকুটি খেলা , মেঘের দোটানায় বাড়াবাড়ি
খাতায় লেখা এলজেব্রিক কিছু রহস্য চিহ্ন

বন্ধ করে দাও খাতা, ভাবনা থাকুক চুপচাপ
কে আঁকে দুপুরে (3x +2y) + (3x - y)...

দিনের শেষে শূন্যখাতায় জ্বলছে ফায়ার বক্স

২।
রোদ পোহাতে এসে থেমে গেছে কৃষ্ণচূড়া
নগ্নপায়ের ছাপ অচেনা, কোনো স্পন্দন নেই

দিনের হিসেবে পালিয়ে যাচ্ছি আমরা বহুদূরে

যাযাবর হিসেবে কিছু মুহূর্ত ভুল ব্যাখ্যাত হয়
অংকের মতো জীবন যেনো মরীচিকা প্রহর

ভুল হয় a-{a-(a +1)}, দেখি তার মিছিল

৩।
গুণের পরে কেবল ভাগ অংকের সরল মায়া
মিথ্যের ভাজ খুলে রাখি আঙুলের ফাঁকে
ভিতর নিঙড়ানো আয়োজনে দুপুরের আভা
(x+5)(a-6) এর গুণফল মিলেছে সহজে

৪।
দুপায়ের ফাঁকে লিখে রাখি রাশিফলের কষ্ট...

Sunday, 28 January 2018

জয় পরাজয়

জয় পরাজয়
ইমেল নাঈম

বন্ধ ঘড়ি — আলোকচ্ছটা আর মিথ্যে কথার বুনট
রক্তিম সময়ের খুনসুটি ; প্রজাপতির উদার উড়াউড়ি
গল্পের মোড়কে শিহরণ লিপিবদ্ধ বন্ধ খাতায়...
প্রতারক সাজে প্রেমিক, ভুল দরজায় কড়া নাড়ে

বর্তুলাকার পৃথিবী, আপন সাজার ব্যর্থ প্রচেষ্টা
মিথলজিক্যাল ইফেক্টে কেবলই জলপ্রপাতের শব্দ
নিজের কাছে রেখে দাও গোপন সব অনুভব
কেউ জানেনা আড়ালের গল্প — মিথ্যের জয় সর্বত্র

আয়না রাখি সামনে, সামলে রাখি নিজের চোখ
কোথায় রাখি আটকে, দৃশ্যমান ঘটনার মরীচিকা
প্রহরকে আটকেছি, ভুলের বৃত্তে ক্ষয়িষ্ণু স্বরলিপি
নির্বাক জীবনের স্রোতে মিথ্যে হয় তাসের সব রঙ।

দাবার ঘুটিতে তুমি পাকা খেলোয়াড়। কেটে ফেলো
আমার রাজা, উজির, ঘোড়া। মন প্লাবনের অধ্যায়
থাকুক অচেনা। কিছু অপরাধ লিখে রাখি গোপনে
দেখো মায়ার ফানুশ ওড়ে মেঘের শীতল বাতাসে...

জয় পরাজয়ের হিসেবে জয় নিয়ে পরাজিত আমি
আবার পরাজিতের তিলক কপালে লাগিয়ে ছুঁটছি
অন্য এক আমি, দু' আমিতে অদ্ভুতুড়ে অমিল।

Friday, 26 January 2018

গোলাপ সম্পর্কিত

গোলাপ সম্পর্কিত
ইমেল নাঈম

পাপড়ি খসে পড়ে... এর কোনো আবেদন নেই
পুরনো বইয়ের মাঝের পৃষ্ঠায় শুকনো পাপড়িগুলো
একটা গোপন ব্যথা পুষে নিয়ে চলেছে বহুদিন।

ডায়রির ভাজে কী উজ্জ্বল প্রভা, টগবগে লাল রঙ!
আজও চোখে ভেসে আছে, কতশত স্মৃতির কোলাজ
তারা নিজেকে প্রশ্নবিদ্ধ করে বেখেয়ালে, অবচেতনে...
উত্তর নেই, পৃথিবীর সব রহস্যের মানে জানতে নেই

নাই বা জানা হলো, হারিয়ে ফেলা সেই সময়গুলো
চিঠির ভাজে বুকের ধুকধুকানি নেই ইদানীং
সংকেতগুলো মুছে গেছে, ভুল শুদ্ধের ব্যতিক্রমে।

তখন ফুলেরা মরে যেতো প্রেমিকের স্পর্শ পেলে
পাপড়ি খসতো বইয়ের গোপন ভাজের অবহেলায়,
অপূর্ণ, অর্ধপূর্ণ প্রেমের কথা জানতো মৃত গোলাপ,
পূর্ণ প্রেমের জোয়ারে ভরে উঠতো তার জীবন।

হয়তো গোলাপ পাপড়িরা এখনো অপেক্ষায় থাকে
লাল মোড়ক বাঁধানো বইয়ের গোপন কুঠুরির মাঝে
প্রেমিক তার প্রেমিকাকে ভালবেসে দেয়না উপহার
গোলাপ এখন শোভা পায় সকল অপ্রেমিকের বুকে...

Wednesday, 24 January 2018

ভাগ - ১
ইমেল নাঈম

ভাগ করলে কমে যায়, যেমন মানুষকে ভাগ করলে
একসমুদ্র অভিসম্পাত নিয়ে পড়ে থাকে নিথর দেহ,
একাকীত্বকে ভাগ করলে জন্মান্তর লিখা হয় প্রেমের
মুহূর্ত ছিঁড়ে দ্বিখণ্ডিত হলে সৃষ্টি হয় ক্ষণিকের আবেশ

পৌরাণিক গল্পের মতো প্রচলিত কিছু শব্দমালা,
শুরুর চমক নিয়ে থেমে গেছে আচমকা, মাদলের
ঝঙ্কারে নেচে উঠছে পরিযায়ী সময়ে বেদুইন মন
বুনোপাখির ডাকাডাকি, ভাগ করতে পারছি কই?

দিনের গল্প শেষে কেবলই শূন্যতা ঘিরে থাকে,
হাহাকার করা ধ্বনি কুহুতানে ভরিয়ে রাখে চারপাশ
এড়াতে পারিনা...ধরতে পারিনা...কেমন নিঃসঙ্গতা
আমাকে শুনিওনা বেদনার পাতা ঝরা কবিতা
শীত ঘুমের ব্যস্ততায় আঁকছি বিকেলের এলিজি

নিজস্বতা ভাঙলে কিছু কবিতার শব্দপতন ঘটে
মৌনভাব ছিঁড়ে ফেলতে পারেনি পুরোনো গল্পটুকু
উপড়ে ফেলতে বসেছিলাম সত্তাহীন অনুভাব
শোনাবো না দুঃখের শ্লোক, তোমার বাস শূন্যতায়
তোমায় ভাগ করবো না নিজের গোপন অনুভূতি

০÷১ মানেই অসীম, এই গান তোমাকে শোনানো
মানে বাড়বে ব্যক্তিগত নিঃসঙ্গতার আয়োজন...

Tuesday, 23 January 2018

বিয়োগ - ১
ইমেল নাঈম

ভাঙচুর...শব্দ শোনা যায়। প্রতারক বিকেলজুড়ে
সর্বনাশা গান। প্রথম কলি গাইলে নেমে আসে
অনিঃশেষ শব্দপতন — নির্বিকার; উচ্চগ্রামে
দূষণ আর ধুলোমাটি ভেজা দিনের বিকেলের
স্পর্শটুকুও মুছে যায় অন্তর্নিহিত কোনো অর্থে।

বাক্যাংশ মুছে গেছে নির্ভেজাল কিছু অনুরণনে
প্রান্ত বদল করা খেলোয়াড়ের মতো ক্ষিপ্রতাযুক্ত
আমিত্ববোধটুকু আগলে নিয়ে হাঁটছে কেবল,
নিজস্ব বিজ্ঞাপনে ঢেকে রাখে লোভী নীল চোখ,
ইন্দ্রজালিক আবেশে জড়িয়ে পালাচ্ছে সময়।

যোগের হিসেব থেমে যায়, ক্রমশ বিয়োগ শিখি।
২-১=০ হয়, একক বলে শব্দ নেই, সবটাই মায়া
ঘোর কাটলে খাঁখাঁ বিরানভূমি, পাখির কলরব
মুছে গেছে, স্মৃতির কার্নিশে কার্নিভালের ঘ্রাণ
পার্কের বেঞ্চিতে বসে, জনারণ্যর ব্যস্ততা মাপি।

আদত সবাই নিজেকে নিয়ে দৌড়ছে, ভাবছেনা।
ভাবনার উঠোনটুকু খেয়ে নিলো মুঠোফোন
ক্ষুদ্র অনুভূতিগুলো ম্লান হলো, মলিন মুখ দেখে
দীর্ঘশ্বাস, শব্দের তীব্রতায় একাকীত্বর শ্লোগান,

সাদাচোখে সবাই দেখে বিয়োগের শেষে ২-১=১,
আক্ষরিকভাবে অংকটা কেবল শূন্যতেই থামে
০ আমাদের ভাঙন লিখে, লিখে রাখে পথচলাও।

Monday, 22 January 2018

বীজগণিত ১
ইমেল নাঈম

"শূন্যতার শোকসভা,
শূন্যতার যত গান
দিলাম তোমার মুকুটে
আমার যত অভিমান।"

গল্পের ভাজে লুকোনো অনেক প্রশ্নবোধক। একেকটি সুবিশাল চোরাবালি। গভীর খন্দক পেরিয়ে যেতে লাগে অসীম সাহস। নির্বাক জীবনের প্রাপ্তিটুকু মিলিয়ে যায় ঘরোয়া সাজগোজের আয়োজনে। এরই মাঝে কেউ তো ডাকে, একাধিক যোগ অংকের সমষ্টিকে নিয়ে। অস্পষ্ট ডাক। কণ্ঠটি চেনা আর অচেনার মাঝামাঝি। কোনো এক যাদুশিল্পীর পরাবাস্তব হাতের মূর্ছনা।

অপেরায় ধ্বনিত হওয়া সুর, ভায়োলিনে ভেসে আসা বিদুর সঙ্গীত, নির্মোহ হয়ে শুনতে থাকি। শীত রাতের প্রখরতাও বাড়ে। নিজের সাথে কথোপকথন, কোথাও যেনো সুরটি তাল কেটে যায়। ভোকাট্টা ঘুড়ির মতো বারবার পাক খায় একই বৃত্তে। সাবকনসাস মাইন্ড মুহূর্তে বদলে ওঠে, চারপাশ তাকাই। কপালের ঘাম মুছি। দীর্ঘশ্বাস ছাড়ি।

এই সম্পর্কের কোনও সংজ্ঞা নেই, শুধুই তাড়না আছে। অনেকটা যোগ বিয়োগের খেলা। প্রতিশোধ পরায়ণ হতে পারি অবেলায়, অবহেলায়। রঙিন সময়টাকে বদলে দিতে পারি সাদাকালোয়। আকাশের রঙটিও হতে পারে ধূসর। গল্পের ভাজে ফাঁকফোকর খোঁজা আত্মাগুলো ফ্যাকাসে হয়ে ওঠে। কিন্তু ঐকতানে কেবলই অমিল, হাতকড়ায় সুখ।

পুণ্য নেই, পাপবিদ্ধ হচ্ছি প্রতিমুহূর্ত। ব্যস্ত দিনের ভাজে গণিতের খাতার ভাজে জমাটবদ্ধ শুকনো পাপড়ি প্রশ্নবিদ্ধ করছে আমাকে। নীরবে হাসছে ভুল করা বীজগণিত। সূত্রের মাঝে লাল বৃত্ত, আমাকে দেখে বিদ্রুপ করে।

চোখের ঝাপসা লেন্সে চোখ পড়ে, x3+y3=(x+y)(x2-xy+y2) মুহূর্তেই আমার তোমার মুখ মনে পড়ে...