Saturday, 3 November 2018

নভেম্বর রেইন

নভেম্বর রেইন
ইমেল নাঈম

নভেম্বর রেইন, একটা কিশোরের নায়ক হবার গল্প মাথাচাড়া দিয়ে ওঠার সময়। পরিত্যক্ত গির্জা, সামনে গিটার হাতে স্ল্যাশ... সাধারণ একটা দৃশ্য গভীরে ছাপ ফেলে দিয়েছিলো নব্বইয়ের মাঝামাঝিতে। যদিও ঘরে ফিতার ক্যাসেটে বেজে উঠতো ওয়ারফেইজ, সঞ্জয় কামরান। আমার দৌড় ছিলো জাস্ট এটুকুই।

অনুভুতির দালানে অনেক প্রলেপ পড়েছে। আস্তরে আস্তরে পেরিয়ে গেছে সময়। পুরোনোদের ভিড়ে নতুনরা এসে বেঁধেছে বাসা। ক্যাসেট বদলেছে সিডিতে, প্রযুক্তির কল্যাণে সেও এখন জাদুঘরে। অথচ কৈশোরের প্রথম স্মৃতি দগ্ধ করে যায় প্রতিদিন, প্রতিমুহূর্ত।

হারিয়ে ফেলা অনেক কিছুই খুঁজতে থাকি। কল্পনায় বাসা বাঁধি, সুরেলা মুহূর্তগুলো বেজে ওঠে। নীরবতাকে আঁকড়ে ধরি। স্পন্দন এঁকে যায়। নদীর মতো এঁকেবেকে চলে যায় অসীমে। শূন্যতায় আঁকা আমার নভেম্বর। হেমন্তের বৃষ্টি, মোটেও নয় চিত্তাকর্ষক।

তবুও, আসে। বেজে ওঠে। নাগরিক পথঘাট ভিজিয়ে দেয়। আমি ভাবতে বসি হারিয়ে ফেলা কতকিছুর মাঝে কী কী জিনিস আজো অম্লান তাকিয়ে আছে। শিহরণ মুছে যায়। পালটে যায় রীতিনীতি। মোহ কাটিয়ে উঠার ব্যর্থ চেষ্টা করি।

বিমূর্ত কিছু অবয়ব, যা শুধুই কাল্পনিক। এখনও বৃষ্টি নামে আমার শহরে। অথচ, নভেম্বর রেইনে কোনও বৃষ্টি ছিলো না। অপেরার মেয়েদের কোরাস ছিলো সেইসাথে রোজের পিয়ানোর মূর্ছনা ছিলো। এসবে, ঈশ্বরকে খুব কাছ থেকে দেখা হয়ে যায় আমার। আমি জন্মান্তর লিখে ফেলি ভুল বানানে।

Thursday, 1 November 2018

বিবর্তন

বিবর্তন
ইমেল নাঈম

রোজকার আয়োজনে চুইয়ে পড়ছে নীরবতা
ঢেকে দিচ্ছি দুঃখসমগ্র, আহ্বান মুছে যাচ্ছে...
রেখে দিচ্ছি, পালিয়ে যাচ্ছে অনিচ্ছুক সত্তা

উপচে পড়ছে ট্রিক অর ট্রিপের ভাঁজে লেখা
সকল বিষয়াদি নিয়েই তলিয়ে যাচ্ছি শুধু
প্রতিবিম্ব দেখে নিজেকে অচেনা লাগছে
টেম্পল রান গেমের মতো পালাচ্ছি কেবল।

নিজেকে আবিষ্কার করতে পারছিনা একটুও
ছুটে চলছি এক প্রান্ত হতে অন্য প্রান্তে
দৌড়ে চলেছি ক্লান্তিহীন, মুখাবয়বগুলো
ধূসর হয়ে যাচ্ছে ক্রমাগত, নির্মল ক্রোধে।

শুরু থেকে থেমে যাওয়ার হুইসিল শুনি
সাময়িক কিছু গল্পের কাছে ধর্না দিচ্ছি
প্রাপ্তিফলের গল্পগুলো অমূলক সুরে হাসে

ইদানীং নিজেকে আয়নায় দেখা হয় না
পাপবোধ ঢেকে রাখছে আমার চারপাশ
নিষিদ্ধ আবেশটুকু মূল্যবান হয়ে উঠছে
ক্রমশ বিবর্তনের পথে হাঁটছি নিঃসঙ্গতায়।

Wednesday, 31 October 2018

ঋণ

ঋণ
ইমেল নাঈম

একদিন সব ভুলে যাবো। চাওয়াপাওয়ার হিসেব
ভুলে বিবর্ণ ঋণ লিখে যাবো, নির্বাক হয়ে দেখবো
ঈশ্বরের ঈর্ষা... কাপড়ে ঢাকবো প্রাণহীন মুখ।
নহরের ফোয়ারায় উড়ে যাবে বিষণ্ণ ইশতেহার।

অবসরে, হিসেব করি কে কার? কেনইবা কার?

চুপচাপ দেখে যাবো... ভাববো নশ্বর কবি জীবনে
অপ্রাপ্তিগুলোর শেষ ফলাফল।  কবিতার মতো
শব্দগুচ্ছ— যারা সরল, বিন্যাসে খেলে যায় শুধু।

মৌন থাকার অভ্যাস রপ্ত করি। মুসাফির বৃত্তে
ঘুরাফেরা করে যাই, শব্দের কাছে করজোড়ে
দাঁড়াই— মুহুর্মুহু আক্রোশ জমা রাখি দস্তানায়।

দিনান্তের সুরে বিষণ্ণতা রেখে দিই, বিকেলের
গম রঙা আলো নিভে যায় নম্রতা নিয়ে,
অভিভূত সময়ের সোপানে পেরিয়ে যাচ্ছি
পুরোনো মানচিত্র। ঐশ্বরিক একটা শিহরণে
রেখে যাচ্ছি দৈনন্দিন ঋণ— আওড়ে চলি—

কলম ব্যতীত আর কারো কাছে ঋণ নেই...
বাকিটুকু দোদুল্যমান পেন্ডুলাম, অপেক্ষমাণ।

Saturday, 27 October 2018

উপেক্ষিত সন্ধ্যা

উপেক্ষিত সন্ধ্যা
ইমেল নাঈম

উপেক্ষিত হয়ে যেতে হয়। অসমাপ্ত বাক্যগুলো বহন করে চলেছি কেবল। ভুলের বৃত্তে আটকে গেছি। নীরবতাকে সাক্ষী করে লিখে রাখছি ডেথ সেন্টেন্স। শপথ নামায় নতুন কোনও রসদ নাই। ছুটে চলার বিনিময়ে কাল্পনিক কিছু বিম্বকে দাঁড় করাই। নিজেকে নিয়ে ভাবছি না একদম। কতো মুখের ভিড়ে কতো ভাবনা হারিয়ে যায় অকাতরে।

নির্বাক জীবনের ধারাপাতে যাই শিখেছি তার পুরোটাই বিভ্রমের। কেটে যাচ্ছে আমাদের অনাদরের সময়টুকু। ব্যস্ত আঙিনায় মেলে দিচ্ছি পড়ন্ত বিকেলের শ্লোক। ব্যস্ত সড়কের ক্যাকোফনি আর যাদুকরী বিভ্রম নিয়ে স্বপ্নগুলো মুছে যাচ্ছে। দূরান্তের প্রতিধ্বনিতে শুধুই জেগে ওঠে বিমর্ষ আর্তনাদ। ফরিয়াদ শেষে, অদৃষ্টকে চাপড়াই। ছুঁড়ে দিই ক্ষোভ, শ্লেষ।

পথের ক্যানভাসের সব রঙ বিবর্ণ হয়ে যায়, বিষণ্ণ পিয়ানোর তাল কেটে যাচ্ছে শুধু। সন্ধ্যাটি লিখে রাখছে অন্যকিছু। স্পষ্ট নয়, আবছা... আংশিক মানে বুঝি, বাকিটা নয়। নির্বিবাদে কেটে যায় আমার দিন। প্রহসনের মুহূর্তগুলো নিজেকে নিয়ে ব্যস্ত। কমলারঙের দিনগুলোর মানে অন্বেষণে কেটে যায় বিষাদের দিন।

সপ্তাহান্তের সুর বেজে ওঠে। করুণ, গভীরে ক্ষত... আঁচড়ে দেয়, আহত করে যায় শুধু। নিজেকে নিয়ে এতোটা অবহেলা কখনো কেউ করে নি। সীমান্তের বাইরেও সীমারেখা আঁকি। ছুটে যায় আমার সান্ধ্য কালীন পাবলিক বাস। স্বপ্নহীন কিছু চোখ ক্রমাগত হতাশাকে গিলে খাচ্ছে। আমি নিজেও তাদেরই একজন, অথচ চোখে মুখে হতাশা নেই।

সব হারানোর মিছিলে যাযাবর হয়ে ফিরে আসি, নিজের বৃত্তে ঘুরপাক খাই। বিনিময়ে জমে যায় অপমানের ঘাম। বিবর্ণ কবিতায় ঢুকে যায় একফালি চাঁদ আর নিঃসঙ্গতার সালোকসংশ্লেষ।

Thursday, 11 October 2018

মুখোশ
ইমেল নাঈম

পথের শেষ! কাপাস তুলোর মতো উড়ছি শুধু।

প্রতিটি দিন মৌন শিহরণ জাগিয়ে ক্লান্ত
বিন্দু বিন্দু করে জমাটবদ্ধ কষ্টরা হাসিমুখে
মেনে নেয় তাদের না পাওয়া সব হিসাব
ব্যস্ত দিনের খসড়া খাতায় মলিন অঙ্কগুলো
অবেলায় ফুল হয় আর অনাদরে ঝরে যায়

অভিমানের খাতায় জমে উঠছে স্থবির গল্প
নিজেকে নিয়ে ভাবছি না, হিসাব করছি না
তবুও আড়াল দেখে দাঁড়াই অবচেতন মনে
ভুলভাল বকি, নিজেকে আটকাই একই বৃত্তে

হারিয়ে যাবার মুহূর্তগুলো অচেনা হচ্ছে রোজ
বাগানের ফুলেরা ঝরে গেছে অকালের বৃষ্টিতে
দলবদ্ধ প্রেমিক সেজেছে অন্যরূপ, প্রশ্ন করে
নিজেকে বিব্রত করছি না আর— বেহিসাবি
প্রেমিক হয়ে লুকচ্ছি তোমার আঙ্গিনা থেকে

অজানা আশঙ্কাকে বুকে জড়াচ্ছি, ভাবছি শুধু...
একদিন পালিয়ে গিয়ে অচেনা হয়ে যাবো
নিজের কাছে— তোমরা ভাববে ভুল পথে মানুষ
এসেছে এই পাড়াতে... চিনতে পারবেনা আমাকে।

Tuesday, 9 October 2018

বৃষ্টিদিন, জানালার কবিতা

বৃষ্টিদিন, জানালার কবিতা
ইমেল নাঈম

একটা মন কেমন করা সকাল দৌড়ে গেলো বৃষ্টি গায়ে মেখে। উদাসী চোখ তখনো আঁকছে দিনযাপনের সালতামামি। প্রেমের ইশতেহারে চুম্বনই শেষ কথা। প্রেমিক মাত্রই ভীষণ স্বেচ্ছাচারী। দিনকে বানায় রাত আর রাতের বেলায় অর্ধ নেশায় জুড়িয়ে নেয় চোখ। ক্লান্তি নামে তোমার দু'চোখে। আপেল বাগানটিও শান্ত। পাইন বনে ঝড়ের পূর্বাভাষ নেই। যদিও অবচেতনে এক কবি তোমাকে লিখে রাখছে  নীরবে। তার কবিতায় তোমার একাকীত্ব কবিতায় অবসাদ হয়ে ঝরে।

পুড়ে যায় নিকোটিন মুহূর্ত। অদৃশ্য ধূমায়িত কফির মগে লিখে রাখছো আত্ম ভাবনা। কাল্পনিক কিছু শব্দ জটের কাছে নতজানু হচ্ছ দুজনেই। কবি পড়ছে তোমাকে। আর তুমি? কাকে পড়ছো? কী ভাবছো? কিছুই জানা হলো না আমার। আমি কবি আর তোমার মাঝে দাঁড়ানো অন্য এক সত্তা, যে নিজেকে আজো চিনতে পারে নি। ত্রিভুজের মতো সম্পর্ক বজায় রাখছে প্রতিটা রেখার সাথে। শুধু ছেদকের থেকে পালিয়ে যাচ্ছে।

কবিতার শেষে নৈঃশব্দ্য কাটে পাখির গানে। আর নৈঃশব্দ্য কাটলে কেউ কারো নয়। তুমিও নও কবির, কবিও ভাবে না তোমায় একমুহূর্ত। আমিও হঠাৎ সব হারানো যুবকের মতো ফ্যালফ্যাল চোখে তাকিয়ে থাকি সম্মুখে। ভাবি এটা কি ইলিউশান? ডেভিড কফারফিল্ডের আকাশে উড়ে বেড়ানোর মতো মজাদার কিছু? নাকি সিনেমার আবেগময় এক দৃশ্যের শেষে অশ্রু আপ্লুত দর্শকের চোখ?

ভাবতে ভাবতে থেমে এলো বৃষ্টি। যদিও আকাশ ঢেকে আছে মেঘে। নীরবতা ভেঙে তুমিও চলে যাও জানালা ফেলে দূরে। কবিকে খুঁজে পাচ্ছি না অনেকক্ষণ। ভাবছি, সব চলে যাওয়ার পরে আর কেন অপেক্ষায় থাকা? আমার তো কোনো কারণ নেই দাঁড়ানোর। চোখের কবিতা নিয়ে ফিরে গেলে তুমি। প্রাপ্তির খাতায় কী পেলে কেইবা জানে? আমি তো কর্পূর, গোপনে এখানে এমনি এসে দাঁড়াই তোমার, কবি আর কবিতার রসায়নটুকু উপভোগ করতে, আর রোজই মিলিয়ে যাই ঘ্রাণ ছড়াতে ছড়াতে।

Saturday, 29 September 2018

৭ সেপ্টেম্বর ২০১৮

৭ সেপ্টেম্বর ২০১৮
ইমেল নাঈম

তড়িৎ গতিতে ছড়িয়ে পড়ে অভিমান। দুঃখগুলোর নিষ্কাশন শেষে পাললিক হৃদয়ে ক্ষতচিহ্নগুলো উঠে আসে গোপন সব অনুভূতিকে জাগিয়ে দিয়ে। মুহূর্তগুলোকে আনন্দের মাঝে লুকিয়ে ফেলেছি অশ্রুজলে। নির্বাক নুহূর্তগুলোকে হাতের কড়ে মেপে ফেলি রোজকার গোপন হিস্যায়। যদিও ব্যর্থ কিছু অনুরণন তবুও অর্থবোধক প্রশ্নের মুখোমুখি হয়ে যাই রোজ। আর বিনিময়ে রেখে দিছি পাপ পূণ্যের নিপুণ অংক।

স্বার্থান্বেষী মেঘ উড়ে যায় আমার আঙিনার উপর দিয়ে। প্রান্তিক শব্দগুচ্ছ হানা দিয়ে যায় দক্ষিণা বারান্দায়। হ্যামিলনের বাঁশিওয়ালার মতো মোহাচ্ছন্ন সুর। ডেকে চলে আমাকে। দূরের পথ, কার্নিশে জমে থাকা ধুলোর আস্তর, ভেন্টিলেটরের মেহমান চড়ুই দম্পতিদের ফুড়ুৎ ফুড়ুৎ উড়ে যাওয়ার অন্যরকম কিছু দৃশ্যকে। বিভ্রম নিয়ে বসে থাকি শরতের দৃশ্যপটে। সেপ্টেম্বর ৭, লিখে রাখছে অব্যক্ত অনুভূতিগুলো এভাবে।

রোজকার দিনের বার্তাগুলো ভুলভাল খবর দেয়। ভাবনার করিডোরে মেঘ এসে  হানা দেয়। বৃষ্টি নেই, তুলোমেঘে বিষণ্ণতা উড়ে যায় কেবল। ছুটে চলাটা ভুলে যাই। উড়ে যাবার নেশা আমাকে মুগ্ধ করে দেয়, অজানা গন্তব্যে ছুটে চলার ফ্যান্টাসি আমাকে আহত করে দেয়। ক্লান্তি নামে শহরের ক্যানভাসে। নাগরিক বিকালগুলো মুগ্ধ করতে পারে না। টঙ দোকানে উড়ে চলে ভ্রান্তিকর কিছু মূর্ছনা।

দিনের হিসাবে বাকির খাতায় সব হিসাব। প্রাপ্তির খাতায় শূন্য। কলনার পাতায় নীলচে কিছু কালির আঁকাজোকা। বাস্তবের সামনে দাঁড়ালে মুছে যায় হিসাবের বারতা। সান্ধ্যকালীন বাতাসে উড়ে যায় মেঘ। ল্যাম্পপোস্টের আলো আঁধারিতে নিজস্ব অনুভবটুকু মুছে যায় দুর্বার গতিতে। প্রহসন মুছে যায়, ক্লান্ত বাতাসে পুড়ে যাই। পুড়ে যায় একটা তারিখ, গোটা একটা দিন।

Wednesday, 26 September 2018

জিপসির কবিতা

জিপসির কবিতা
ইমেল নাঈম

একদিন হুট করেই পালিয়ে যাবো। দূরের পথে অনাদরে পড়ে থাকা বুনো ফুলের দলকে মাড়িয়ে চলে যাবো দূরের পথে। ঝরে যাবে পরিচয়ের প্রতিটি ধাপ। অচেনার বেশে— জিপসি প্রেমিকের মতো নীরবে পাঠ করে যাবো শরীরের প্রতিটা বাঁক। হারিয়ে ফেলা পথে পথে ঘুরবো। সবটুকু ঘুরে আবার দাঁড়াবো পুরোনো জায়গায়।

পলাতকা সময় আঁকবো, নীরবতার বুকে ছুড়ি চালিয়ে পলাতক হবো। মানে খুঁজবো অকারণে। উপশম দেখে খুশিতে তালগোল পাকিয়ে ফেলবো। মফস্বলের ঘ্রাণটুকু বুকে, চিবুকে, চোখে, মুখে লাগিয়ে হাসতে হাসতে অবহেলার মন্তব্য শুনিয়ে ফেলবো।  অদ্ভুত হাসি হেসে জানান দিবো নিজেকে।

পথ হারিয়ে ফেলা মানুষের মধ্যে নিজেকে অচেনা মনে হবে না। শান্তির পায়রা উড়ে যাবে আকাশসীমায়। অথচ আকাশ আমার নয়। মাটি কী আমার? উত্তর জানি না। শুধুই জানি উদ্দেশ্যহীন উদ্দেশ্যে বেরিয়ে গেছি। নির্বাক সময়ের হাতেঘড়িতে কিছুটা ভুল অবধারিতভাবে নেমে আসবে আমার আঙুলে।

বিনির্মাণের ফাঁকে অনেক কিছুই জানা হবেনা আমাদের। রক্ষিত আলিঙ্গনগুলো পুরোনো হিসাব মেলাতে ব্যস্ত হবে।  আর তার মাঝে কিছু প্রহসনের মুহূর্ত গান গাইবে হেঁড়ে গলায়। প্রান্তিক সুখে কিংবা মৃদু বিলাসিতায় ভেসে যাবে শহর থেকে অনেক দূরে।

জিপসিরা পাখিদের মতো, পাখিরা বেহায়া। উড়ে যায় সকালে আকাশ থেকে। ফিরে আসে আবার সন্ধ্যায়। মাটিটিকেও আমার নয়, বরং আশ্রিতের চোখে দেখে ফেলি পৃথিবীর রূপ, ব্যঞ্জনা।

Thursday, 20 September 2018

দূরের হুইসেল

দূরের হুইসেল
ইমেল নাঈম

মুহূর্তগুলো রঙিন হয়। ধূসরে বাঁধা পৃথিবীটাও কেমন যেন সেজে ওঠে হঠাৎ। আবীর বিকেলগুলো রাঙিয়ে নেয় নিজেকে। দূরের জংশনে এসে থেমে যায় পৃথিবীর সকল যান। শীতল বাতাস বিনেদী কায়দায় এসে হুড়মুড় করে ভিজিয়ে দিয়ে যায় আমায়।

সান্ধ্যকালীন নীরবতাকে ছুঁয়ে দেখার এই মুহূর্তটুকু অমূল্য। দীর্ঘ আক্ষেপে পুড়ে যায় আমাদের চাওয়া পাওয়ার সব হিসাব। দৈনন্দিন চাহিদাগুলো মলিন হয়ে যায়।আকর্ষণহীন পড়ন্ত বিকাল হ্যালুসিনেসন ছড়াতে ছড়াতে লুকিয়ে যাচ্ছে ব্যস্ত সড়ক ফেলে জারুল বনের দিকে।

এই সুযোগে এই শহরের মানুষগুলোকে চিনে নিচ্ছি সিগারেটের ধোঁয়ায়, চায়ের কাপে বিষণ্ণতার দাম এখন ছয় টাকা মাত্র। প্রেমিকেরা চুমু খেতে ভয় পায়। সন্ধ্যাটিও সাদাকালো হয়ে উঠছে বেখেয়ালি আচরণে।

জাগতিক বিষণ্ণতা মাপা শেষ হলে উঠে দাঁড়াই। সৌখিন মানুষের কান্নার রঙ আঁকতে বসে হারিয়ে ফেলেছি সঙ্গীতেএ ভাষা। বখাটে যুবকের প্রেম দেখে হেসে ফেলেছি ভুল করে।

নিজেদের ভুলে অনাকাঙ্ক্ষিতভাবে আমরা সরে যাচ্ছি কাল্পনিকতার উপরে ভর করে। অথচ দূরের ইস্টিশন থেকে ভেসে আসে হুইসেল— অনাদরে, অবহেলায়।

Wednesday, 19 September 2018

প্রাহসনিক

প্রাহসনিক
ইমেল নাঈম

বহুদিন পরে একটা ঝড়ো বাতাসের সামনে দাঁড়ালাম
মেঘের কাছে রেখে দিলাম অভিযোগের বারতা
অথচ, আমাদের চোখের ফাঁকে অদেখা সমুদ্র হাসে
পেরিয়ে যাচ্ছি তেপান্তর, আড়ালে লুকচ্ছি কেবল

মেঘের দেশে প্রণয়ের ছাপ, মুছে যায় ক্ষতচিহ্নরা
চিহ্নিত ভালোবাসাও মুছে যাচ্ছে, রেখাগুলো ক্রমশ
স্পষ্ট হতে হতে দাগ কাটছে গভীরে— ক্ষতস্থানে;
ফানুশের মতো উড়ে যাচ্ছি, গন্তব্যহীন পথ ধরে

দূরত্বের মাপকাঠিতে যাযাবর! বেদুঈন প্রেমিক!
দূরবর্তী সংকেতের অপেক্ষায় কাটিয়ে দিচ্ছি
থেমে যায় পাখি জীবনের যতো বেখেয়ালি অংক
হেঁয়ালি বাতাসের মতো উড়ে যায় কল্পনার বীণ

নির্বাক কিছু শব্দের সামনে এসে দাঁড়াই
থেমে যাও, মুহূর্তের সামনে এসে
দেখা না হওয়া কিছু আলিঙ্গন লিখছি
ব্যস্ত খাতায় উড়ে যায় বিনিদ্র দিন

ঠকিয়ে যাচ্ছি নিজেকে, অভিনয়ের মঞ্চে দাঁড়িয়ে
বুঝেছি লিপিবদ্ধ যা কিছু তার পুরোভাগে প্রহসন

Thursday, 13 September 2018

মিথ্যে পালক

মিথ্যে পালক
ইমেল নাঈম

রেখে দাও একটু পালক, শোকসভার শেষে যাযাবরের
মতো কেউ তো চলে যায় দূরের পথে, রাখে না খবর
মিথ্যে প্রলোভনে গা ভাসিয়ে রেখে দিই পুরনো হিসাব

কপালের রেখাগুলো স্পষ্ট, তাতে রক্ষিত থাকে প্ররোচনা
হুঙ্কার ছড়িয়ে মিলিয়ে যাচ্ছে দূরে, ক্রমাগত অসহায়
হচ্ছি নিজের কাছে, খরগোশের মতো দৌড়চ্ছি
ক্রমশ আড়াল হচ্ছে দিনের সুখ, মোড়কের প্রহসনে।

দিনগুলো ম্লান হতে হতে মুছে যাচ্ছে রোজ, পুড়ে যাচ্ছে
অরক্ষিত আবাসন, প্রাচীর ঢাকা গোপন অট্টালিকা
সাইরেনে ভেসে যাচ্ছে সন্ধ্যার আকাশ, মুছে যাচ্ছে
লিপিবদ্ধ পাপ, চেনাজানা ব্যথারা নিমন্ত্রিত হয় রাতে

দূর দেশ থেকে ভেসে আসে, আত্মভাবনার শেষে
গতিময়তার কাছে হেরে যাচ্ছি রোজ, হাঁপিয়ে উঠছি...
ঝরে পড়ছে সকালের ফুল, বিরান হচ্ছে বাগান,
নির্বাক প্রহসন ছাড়া বাকি থাকছে না কোনো কিছু।

খোলসবদ্ধ কিছু সময়ের কাছে এসে হেরে যাচ্ছি
আত্মপ্রবঞ্চক হয়ে চলে যাচ্ছে একেকটি দিন
শব্দের কাছে এসে নতজানু হচ্ছি নিয়ম মাফিক
পুড়ে যাচ্ছে অদৃশ্য ঘর যার ছাইটুকুও অদৃশ্য।
এতো অদৃশ্যের মাঝে যত্নে থাকুক মিথ্যে পালক...

Saturday, 8 September 2018

অবাস্তব অনুভূতি

অবাস্তব অনুভূতি
ইমেল নাঈম

জীবনের অসমাপ্ত আয়োজন থেমে যাক অবেলায়। কোথাও থেমে যায় আয়োজন। দাঁড়াও রেখে যাও। কিছু স্পর্শ প্রজাপতি হয়ে ওড়ে। ক্লান্তি থামে, দূরের দেশে থেমে যায় বিরহ সঙ্গীত। ক্লান্তি নামে দুচোখে। দূরত্বের সাইরেন থেমে যায়, কিছু মুহূর্ত জেগে ওঠে বালুচরের মতো। সৈকতে থামে প্রহসনের সব অংক।

অঙ্কিত সব দৃশ্য, মোহনিয়া কিছু বাতাস এখনো উঁকি দেয় মনের বারান্দায়। রেশ টেনে আটকে দিয়েছি পিছনের দরজার। সামনে কেবলই ধূসর... নিজেকে নিয়ে ভাবছি না আর! বিশাল প্রশ্নবোধকের কাছে এসে থেমে যাই। নিজেকে প্রশ্ন করি। বিনিময়ে বেরিয়ে আসে একই ফলাফল। বিনিদ্র রাতের সঙ্গীতে সঙ ধরে যায় ভিতরের মানুষটি।

যাত্রাপথের শেষটুকু আজও জেগে আছে সবটা নিয়ে। ভ্রান্তি ছড়াচ্ছে শুধু। কল্পনার প্রেমগুলো রঙিন থেকে ক্রমশ সাদাকালো হচ্ছে, সাদাকালো থেকে আবছা... নিজেকে নিয়ে অনেক ভুলভাল খেলা হলো। সময় অপচয় করে থেমে গেছি শেষ প্রান্তে এসে, প্রান্তিক শিল্পীর মতো নীরবতার সন্ন্যাসে ব্রত হয়ে গেছি।

মোহ ভাঙলে নিজের জন্য কিছুই থাকে না। এশট্রেতে জমাটবদ্ধ ছাই, আর মুঠোফোনের জমে থাকা বার্তা। এরবাইরে ঘামের গল্প, আবেগের কাব্য, বাস্তবতার অংক। বহুত প্যারামিটার এসে থমকে দেয় আমার চারপাশ। অন্ধকার গভীর হলে কিছু সুর নিজের কাছে ফিরে আসে— কল্পনায়, অবাস্তব অনুভূতি নিয়ে। চোখ মুছতে মুছতে সকাল আঁকতে থাকি।

Monday, 3 September 2018

ক্ষয়িষ্ণু হৃদয়

ক্ষয়িষ্ণু হৃদয়
ইমেল নাঈম

১।
প্রহসনের মুহূর্তগুলো নির্বাক কথাচিত্র হয়ে যায়
বারবার শব্দরা এসে জানিয়ে যায় অনুভূতি
ক্যানভাসে আঁকা কিছু চিত্র, তাতে মিশে যায়
একটা আকাশ, নীল পৃথিবীর মায়াবদ্ধ ইতিহাস।

২।
দাবার ঘুটির মতো চক্রাকারে চলতে থাকে
আক্রমণ - প্রতি আক্রমণের খেলায় মৃত্যু হচ্ছে
সৈন্য, মন্ত্রী, উজির... ঘোড়ার পিঠে চড়ে
পালিয়ে যাচ্ছি — পতনের বিউগলে উড়ছে
সাদা পায়রা, যুদ্ধ বিরতি নামে আকাশজুড়ে।

৩।
এভাবেই রেখে যাই ক্ষতবিক্ষত চিহ্নজুড়ে
নিজের জন্য সময় রাখি নি, বাঁধি নি মায়াতে
আগুন জ্বালিয়ে বসে থাকি সন্ধ্যায়, পাহাড়ে
নেমে আসে নীরবতা— ক্লান্তি... ক্লান্তিতে
বুজে আসে চোখ, পৃথিবী ঘুমোচ্ছে... দেখো...

৪।
মুহূর্তগুলো বিমূর্ত হয়— রঙিন পৃথিবী সাদাকালো
হয়ে লিখে রাখে নিজের জীবনের গল্প
ক্লান্ত যুদ্ধের শেষে হেসে ওঠে পৃথিবীর মানচিত্র
থেমে যেতে যেতে শুনি জীবনের আয়োজন
ক্লান্তিকর যাত্রায় ক্ষয়িষ্ণু হৃদয় রক্তাক্ত হয়...