Wednesday, 14 November 2018

ভুল বিক্রিয়া...

ভুল বিক্রিয়া... 
ইমেল নাঈম

সময়ের আলাপনে দিগভ্রান্ত হই। সুর কেটে যাওয়া কোনও গানের কলি এসে কানে জানিয়ে যায় ভুল ঋতুর সন্নিবেশের কথা। নিজেকে নিয়ে ব্যস্ততার মন্ত্র পড়ি, ঘড়ির কাঁটায় মেপে নিচ্ছি দুপুরের একাকীত্ব। খোলা জানালায় দৃষ্টি, মেঘ নেই, ফকফকা আকাশ, তবুও বিষণ্ণতা। গণতান্ত্রিক দুঃখগুলো বিরোধী দলের মতো— মিটিং, মিছিল, আল্টিমেটাম আর হুশিয়ারি জানিয়ে যায় জীবনের গাড় অধ্যায়ের বাঁকে।

সংলাপ, নাকি আত্মসমর্পণ। বারবার চুপসে যাই। মায়া জাগানিয়া শব্দের কাছে অভিমান জানাই। আয়নার ওই পাশের মানুষটাকে দেখে গালি দিই। ব্রিগেড ছুটে বুকের ভিতরে। সমাজতান্ত্রিক দাবিদাওয়া বুকে। সুখের মন্ত্র শিখি স্বৈরশাসকের কাছ থেকে। পুরনো মুখগুলোকে এঁকে ফেলি মোবাইল অ্যাপে। এরপরে রেখে দিই গোপন কুটিরে। পাসওয়ার্ড দিয়ে আটকে দিই, ব্যথাগুলো আমারই থাকুক।

বৈদ্যুতিক আবেশের দরকার নেই। পজিটিভ নেগেটিভের সন্নিবেশ না হোক আগের বারের মতো। সেগুলোকে সাজিয়ে রাখছি বুক সেলফে, রেকে তুলে রাখছি। কর্পূর দিয়ে অবহেলাগুলোকে যত্ন করে রাখছি। সপ্তাহে দুইদিন ঝেড়ে মুছে নিচ্ছি। রাতে ঘুম না এলে, খুলে দেখছি তাদের। ভালোবাসাগুলোর বিপরীতে কী দাঁড়ায়— অবহেলা নাকি ঘৃণা। এই সহজ সমীকরণটুকু বুঝতে পারছি না।

কত সহজে দ্বিতীয় পক্ষ মিলিয়ে নিয়েছিলো জটিল সব হিসেব। ভালোবাসার প্রথম পাঠেই দেখলাম বনসাই বৃক্ষ আর ইকেবানার বাণিজ্যিক সমাহার। অলংকারে ভরে গিয়েছিলো ভালোবাসার ঘর। আকাশ দেখতে অলিখিত নিষেধ এই ভালোবাসার, হাঁপিয়ে উঠছিলো পাখি মন। মুক্তির সংজ্ঞায় ইতিহাসের বইয়ে যা কিছু লিপিবদ্ধ তার পুরোটাই প্রহসন।

আমি ঠায় দাঁড়িয়ে আছি, পেরিয়ে যাচ্ছি সব রাস্তাঘাট। সুসজ্জিত দুঃখরা সঙ্গ দিচ্ছে। আমি বুঝে নিচ্ছি ভালোবাসার নীল মোহর— প্রভাবকের ভুল বিক্রিয়ায় যে কখনো মিলিত হয়নি কাঙ্ক্ষিত বিন্দুতে।

Sunday, 11 November 2018

একগুচ্ছ কোরাস

একগুচ্ছ কোরাস
ইমেল নাঈম

১।
বিক্রি করে দিচ্ছি নিজেকে,
মানে নেই করেও এড়িয়ে যাচ্ছি খুব
অপ্রাপ্তির খাতায় এখনো বিষণ্ণতা
উঁকি দিয়ে যায় পলাতক সাইরেনে।

২।
এড়িয়ে যেতে যেতে অচেনা হবো
একদিন থাকবে না কারো পদচিহ্ন
জীবনের রঙধনু রঙ মলিন হয়ে
ঝুলবে শুধু চিত্রাঙ্কন খাতায়

৩।
থেমে যাচ্ছি আবার দৌড়াচ্ছি...
হাঁপাচ্ছি কিন্তু গন্তব্য পাচ্ছি না খুঁজে
অদ্ভুত একটা চক্রযাপনে আটকে
ফেলেছি নিজেকে, শেষ দেখবো
বলে দৌড়াচ্ছি শুধু একই চক্রব্যূহে।

৪।
নীরবতাও একটা ভাষা, কথা বলে
সে ধ্রুপদী সংগীতের মতো, ঈজেলে
আঁকা ছবির মতো সেও প্রাণবন্ত
প্রেমিকের হৃদয় ভাঙলে পরিপূর্ণতা
পায়, শেষ হয় ভাষা শিক্ষার ক্লাস।

৫।
প্রেমিক হবো বলে এখনো অপেক্ষায়...
মুখ শীতের সকালের চেয়েও রুক্ষ
নিজেকে প্রেমিক ভাবছো, অথচ
জীবন গাইছে নিঃসঙ্গতার কোরাস।

Saturday, 10 November 2018

নিলাম

ছুটে চলার মন্ত্রটুকু আওড়ে নিই সবার অলক্ষ্যে
দোদুল্যমান দশার পুণরাবৃত্তি দেখছি শুধু
প্রান্তিক দৃশ্যপট মলিন হয়ে ওঠে

কিছু শিহরণ মুকুলে ঝরে যায় অকাল বাতাসে
তেজহীন পৃথিবীকে কিনে ফেলছি পেট্রোডলারে
বখে যাওয়া মানুষগুলোর হাসি জানান
দেয়— নাগরিক বিষণ্ণতা।

উপড়ে ফেলেছি শিকড়, শিখরে যাবার অদম্য
ইচ্ছেটাও ইঁচড়েপাকা অনুভব নিয়ে পালায়
নাগরিক রাজপথ শীতের বৃষ্টিতে ভিজে
অদৃশ্য কালিতে লিখে ফেলে নৈসর্গিক কালিমা

রাত বাড়লে হাসি নির্জনতাকে আবিষ্কার করে
ভুল বৃত্তে ঘুরেফিরে আসি শুরুর বিন্দুতে
নির্বাক শব্দের শেষে প্রহসনের মুহূর্ত
জেগে থাকে একক সঙ্গি হয়ে।

নিথর হয় প্রকৃতি। আটকে যায় মধ্যবিত্তের
ঘড়ি— অসহায়ত্বের মাপকাঠিতে
নিজেকে তুলে দিই বেনামী নিলামে।

Friday, 9 November 2018

গালগল্প

গালগল্প
ইমেল নাঈম

দিনের শেষে কাল্পনিক গল্পের আনাগোনা হয়
ভুলের পাহাড় চেপে উড়ে যেতে পারে
আমাদের দৈনন্দিন দুঃখের চাষাবাদ
বিনিময়ে কিছুই থাকছে না হাতের মুঠোয়।

প্রাঞ্জল কিছু অনুভূতি ব্যর্থ হয়ে ফিরছে,
গোল্ডফিশের মত স্মরণশক্তি, ভুলে যাচ্ছি
হিসেবের বাইরের যাবতীয় হিসাবনিকাশ
স্বল্প স্বল্প করে রুদ্ধ করে ফেলছি নিজেকে

পাহাড়ের রুক্ষ্মতা পড়া হয় নি আমার
নীলাভ আকাশকে এখনো চেনা হয় নি
নীরবতার ভাষা বুঝতে বুঝতে ভুলে
যাচ্ছি চেনাজানা ভাষা, চোখের ব্যাকরণ।

কম্পাসে আঁকছি, শূন্যতার বৃত্ত। দূরবর্তী
মাস্তুলের আলোর চিহ্নকে মুখস্থ করছি
বিষণ্ণতার ভাষাকে আয়ত্ত্ব করার জন্য
রাতদিন বসে থাকি, বিবর্ণ মুখের ইশারায়।

বিবরণে লিখে রাখছি নির্বাক কিছু প্রহসন
চুপিসারে একানে ওকানে রটে যায় গালগল্প।

Thursday, 8 November 2018

ব্যক্তিগত কড়চা

ব্যক্তিগত কড়চা
ইমেল নাঈম

ভাবতে ভাবতে কেটে গেলো বেলা, থেমে যাবার
আগে একবার দেখো ডানে-বামে
আত্মবিশ্বাস না থাকলে পা চালিয়ো না
বরং অপেক্ষা করো, একটু ভিড় কমুক
আর তখনই না হয় পেরিয়ে যাবে দৃষ্টিসীমা

আমি মুগ্ধ দর্শক, সার্কাস ভেবে বসে পড়েছি
ভুল করে, তোমাকে দেখে আটকেছে মনোজগৎ
আর সবকিছু তুচ্ছ, ব্যস্ততার বিজ্ঞাপনে
একদণ্ড স্বস্তি নেই, শুধুই প্রচার প্রচারণা...
স্পষ্ট যা কিছু ক্রমাগত ঝাপসা হয়ে আসছে।

ফোকাল পয়েন্ট থেকে সরে যাচ্ছে মনোযোগ
আর শূন্যস্থানে জায়গা করে নিচ্ছে অন্যকিছু
ট্রাফিক সিগন্যালে আটকেছে যানবাহন
রাস্তা পারের বিশাল ভ্রমণ শেষ করলে তুমিও

নিষিক্ত অনুভবে শুষ্কতা মাপছি অবেলায়
দক্ষতার মাপকাঠিতে অপরিপক্ব খেলোয়াড়
নিজেকে নিয়ে উঁচুদরের ভাবনা নেই
দাঁড়িয়ে থাকা ছাড়া আপাতত কাজ নেই
প্রতীক্ষা নেই, কল্পনা নেই, সবই নিরুত্তাপ...

আমাদের ব্যক্তিগত পরিভ্রমণে কেউ কাউকে
অতিক্রম করে যাই নি, দুজনেই ছুটছি
ভিন্ন কোনো কক্ষপথে, ব্লু মুনের মতো
দীর্ঘ অপেক্ষার পরে পাশাপাশি এসে দাঁড়াই,

দেখা হয় আমাদের অল্প কিছু মুহূর্তের জন্য
আর ভাবি, হরিত বিষণ্ণতাও কত সুন্দর!

Monday, 5 November 2018

কনফেসন

কনফেসন
ইমেল নাঈম

চুপচাপ পেরিয়ে যাচ্ছে সময়। পাঁচিল টপকালে অবশিষ্ট কিছুই থাকে না আমার। বারোয়ারি মেঘ উড়ে যায় শরৎ আকাশে। নির্বাক কিছু দৃশ্যের জন্য অপেক্ষমান। নিজেকে নিয়ে ব্যস্ত, কাছের মানুষগুলো দূরত্ব শিখে নিচ্ছে। গোপন, সূক্ষ্ম দৃষ্টিগুলো মুছে যাচ্ছে দ্রুত।

আঁচলে ঢেকে যায় মুখ। কোথাও রেখে দিচ্ছি পুরনো স্মৃতি। বিভ্রমে ঢেকে যায় চোখ। অচেনা পথ পাড়ি দিচ্ছি শুধু। নিজেকে নিয়ে আর কোনো প্রত্যাশা নেই। কাল্পনিক হিসাবগুলো ধ্রুব সত্য হয়ে উঠছে। প্রতিদিন পেরিয়ে যাচ্ছি নিজের আঙিনা।

সুর থেমে যায়। প্রাচীন কিছু বাক্যের কাছে গচ্ছিত অনেক ঋণ। প্রাপ্তি বাড়লে বিনিময়ে কিছুই নেই। নিজেকে নিয়ে বাস্তুসংস্থান, চক্রাকারে ঘুরতে থাকে পারম্পরিক গল্পের প্লট। সুরের পাখিরা থেমে যায়। নিজেকে নিয়ে ব্যস্ত সময়সূচি, এরবেশি প্রত্যাশা নেই।

বালু ঘড়িতে পেরিয়ে যাচ্ছে সময়। ভাবনার প্রলেপে রেখে দিচ্ছি শোকসভা। ভিতরের মানুষটার সাথে প্রত্যহ কথা হয়, সঙ্গোপনে কেটে যায় মৌন বেলা। হাতের ভাঁজে কথিত গল্পে থাকে অপ্রকাশিত ভালবাসা। বেজে ওঠে অপেরার সেক্সোফোন। গাইতে থাকি, ওয়ান ডে উই উইল মিট এগেইন, মাই ডিয়ার লাভ... ওয়ান ডে উই উইল মিট....

Sunday, 4 November 2018

জলীয়বাষ্প

জলীয়বাষ্প
ইমেল নাঈম

থমকে যাওয়া দেখছি রোজ,
অকারণে ছুটে বেড়াই অন্ধ-গলি
নিজেকে বসিয়ে রাখি দাঁড়িপাল্লায়
গাণিতিক মিটারে বাড়ে রেট,
মুছে দিচ্ছি গ্রীবা, কপাল, চোখ...

নির্বাসনের শেষ অধ্যায় অচেনা
সাজেশনের চোরাগলিতে হারায়
অনেক মুখ, ঘুড়ির মতো ওড়ে
জীবনের মানে বদলে যায় শুধু

নিত্য জীবনের নান্দনিক আবেশে
মেপে নিচ্ছি চোখের ব্যাকরণ
ব্যঞ্জনা মুছে যায়— অপ্রাপ্তির মিছিল
পেরিয়ে যাচ্ছে তোমার উঠোন

রাখি না খোঁজ রোজকার কাটাকাটির
খেলার ফলাফল। জানি, একা হলে
প্রাপ্তির খাতায় কিছুই থাকে না।
স্মৃতিরাও বিট্রে করে, বিভ্রমে
মুছে নিতে হয় বুকের জলীয়বাষ্প।

Saturday, 3 November 2018

নভেম্বর রেইন

নভেম্বর রেইন
ইমেল নাঈম

নভেম্বর রেইন, একটা কিশোরের নায়ক হবার গল্প মাথাচাড়া দিয়ে ওঠার সময়। পরিত্যক্ত গির্জা, সামনে গিটার হাতে স্ল্যাশ... সাধারণ একটা দৃশ্য গভীরে ছাপ ফেলে দিয়েছিলো নব্বইয়ের মাঝামাঝিতে। যদিও ঘরে ফিতার ক্যাসেটে বেজে উঠতো ওয়ারফেইজ, সঞ্জয় কামরান। আমার দৌড় ছিলো জাস্ট এটুকুই।

অনুভুতির দালানে অনেক প্রলেপ পড়েছে। আস্তরে আস্তরে পেরিয়ে গেছে সময়। পুরোনোদের ভিড়ে নতুনরা এসে বেঁধেছে বাসা। ক্যাসেট বদলেছে সিডিতে, প্রযুক্তির কল্যাণে সেও এখন জাদুঘরে। অথচ কৈশোরের প্রথম স্মৃতি দগ্ধ করে যায় প্রতিদিন, প্রতিমুহূর্ত।

হারিয়ে ফেলা অনেক কিছুই খুঁজতে থাকি। কল্পনায় বাসা বাঁধি, সুরেলা মুহূর্তগুলো বেজে ওঠে। নীরবতাকে আঁকড়ে ধরি। স্পন্দন এঁকে যায়। নদীর মতো এঁকেবেকে চলে যায় অসীমে। শূন্যতায় আঁকা আমার নভেম্বর। হেমন্তের বৃষ্টি, মোটেও নয় চিত্তাকর্ষক।

তবুও, আসে। বেজে ওঠে। নাগরিক পথঘাট ভিজিয়ে দেয়। আমি ভাবতে বসি হারিয়ে ফেলা কতকিছুর মাঝে কী কী জিনিস আজো অম্লান তাকিয়ে আছে। শিহরণ মুছে যায়। পালটে যায় রীতিনীতি। মোহ কাটিয়ে উঠার ব্যর্থ চেষ্টা করি।

বিমূর্ত কিছু অবয়ব, যা শুধুই কাল্পনিক। এখনও বৃষ্টি নামে আমার শহরে। অথচ, নভেম্বর রেইনে কোনও বৃষ্টি ছিলো না। অপেরার মেয়েদের কোরাস ছিলো সেইসাথে রোজের পিয়ানোর মূর্ছনা ছিলো। এসবে, ঈশ্বরকে খুব কাছ থেকে দেখা হয়ে যায় আমার। আমি জন্মান্তর লিখে ফেলি ভুল বানানে।

Thursday, 1 November 2018

বিবর্তন

বিবর্তন
ইমেল নাঈম

রোজকার আয়োজনে চুইয়ে পড়ছে নীরবতা
ঢেকে দিচ্ছি দুঃখসমগ্র, আহ্বান মুছে যাচ্ছে...
রেখে দিচ্ছি, পালিয়ে যাচ্ছে অনিচ্ছুক সত্তা

উপচে পড়ছে ট্রিক অর ট্রিপের ভাঁজে লেখা
সকল বিষয়াদি নিয়েই তলিয়ে যাচ্ছি শুধু
প্রতিবিম্ব দেখে নিজেকে অচেনা লাগছে
টেম্পল রান গেমের মতো পালাচ্ছি কেবল।

নিজেকে আবিষ্কার করতে পারছিনা একটুও
ছুটে চলছি এক প্রান্ত হতে অন্য প্রান্তে
দৌড়ে চলেছি ক্লান্তিহীন, মুখাবয়বগুলো
ধূসর হয়ে যাচ্ছে ক্রমাগত, নির্মল ক্রোধে।

শুরু থেকে থেমে যাওয়ার হুইসিল শুনি
সাময়িক কিছু গল্পের কাছে ধর্না দিচ্ছি
প্রাপ্তিফলের গল্পগুলো অমূলক সুরে হাসে

ইদানীং নিজেকে আয়নায় দেখা হয় না
পাপবোধ ঢেকে রাখছে আমার চারপাশ
নিষিদ্ধ আবেশটুকু মূল্যবান হয়ে উঠছে
ক্রমশ বিবর্তনের পথে হাঁটছি নিঃসঙ্গতায়।

Wednesday, 31 October 2018

ঋণ

ঋণ
ইমেল নাঈম

একদিন সব ভুলে যাবো। চাওয়াপাওয়ার হিসেব
ভুলে বিবর্ণ ঋণ লিখে যাবো, নির্বাক হয়ে দেখবো
ঈশ্বরের ঈর্ষা... কাপড়ে ঢাকবো প্রাণহীন মুখ।
নহরের ফোয়ারায় উড়ে যাবে বিষণ্ণ ইশতেহার।

অবসরে, হিসেব করি কে কার? কেনইবা কার?

চুপচাপ দেখে যাবো... ভাববো নশ্বর কবি জীবনে
অপ্রাপ্তিগুলোর শেষ ফলাফল।  কবিতার মতো
শব্দগুচ্ছ— যারা সরল, বিন্যাসে খেলে যায় শুধু।

মৌন থাকার অভ্যাস রপ্ত করি। মুসাফির বৃত্তে
ঘুরাফেরা করে যাই, শব্দের কাছে করজোড়ে
দাঁড়াই— মুহুর্মুহু আক্রোশ জমা রাখি দস্তানায়।

দিনান্তের সুরে বিষণ্ণতা রেখে দিই, বিকেলের
গম রঙা আলো নিভে যায় নম্রতা নিয়ে,
অভিভূত সময়ের সোপানে পেরিয়ে যাচ্ছি
পুরোনো মানচিত্র। ঐশ্বরিক একটা শিহরণে
রেখে যাচ্ছি দৈনন্দিন ঋণ— আওড়ে চলি—

কলম ব্যতীত আর কারো কাছে ঋণ নেই...
বাকিটুকু দোদুল্যমান পেন্ডুলাম, অপেক্ষমাণ।

Saturday, 27 October 2018

উপেক্ষিত সন্ধ্যা

উপেক্ষিত সন্ধ্যা
ইমেল নাঈম

উপেক্ষিত হয়ে যেতে হয়। অসমাপ্ত বাক্যগুলো বহন করে চলেছি কেবল। ভুলের বৃত্তে আটকে গেছি। নীরবতাকে সাক্ষী করে লিখে রাখছি ডেথ সেন্টেন্স। শপথ নামায় নতুন কোনও রসদ নাই। ছুটে চলার বিনিময়ে কাল্পনিক কিছু বিম্বকে দাঁড় করাই। নিজেকে নিয়ে ভাবছি না একদম। কতো মুখের ভিড়ে কতো ভাবনা হারিয়ে যায় অকাতরে।

নির্বাক জীবনের ধারাপাতে যাই শিখেছি তার পুরোটাই বিভ্রমের। কেটে যাচ্ছে আমাদের অনাদরের সময়টুকু। ব্যস্ত আঙিনায় মেলে দিচ্ছি পড়ন্ত বিকেলের শ্লোক। ব্যস্ত সড়কের ক্যাকোফনি আর যাদুকরী বিভ্রম নিয়ে স্বপ্নগুলো মুছে যাচ্ছে। দূরান্তের প্রতিধ্বনিতে শুধুই জেগে ওঠে বিমর্ষ আর্তনাদ। ফরিয়াদ শেষে, অদৃষ্টকে চাপড়াই। ছুঁড়ে দিই ক্ষোভ, শ্লেষ।

পথের ক্যানভাসের সব রঙ বিবর্ণ হয়ে যায়, বিষণ্ণ পিয়ানোর তাল কেটে যাচ্ছে শুধু। সন্ধ্যাটি লিখে রাখছে অন্যকিছু। স্পষ্ট নয়, আবছা... আংশিক মানে বুঝি, বাকিটা নয়। নির্বিবাদে কেটে যায় আমার দিন। প্রহসনের মুহূর্তগুলো নিজেকে নিয়ে ব্যস্ত। কমলারঙের দিনগুলোর মানে অন্বেষণে কেটে যায় বিষাদের দিন।

সপ্তাহান্তের সুর বেজে ওঠে। করুণ, গভীরে ক্ষত... আঁচড়ে দেয়, আহত করে যায় শুধু। নিজেকে নিয়ে এতোটা অবহেলা কখনো কেউ করে নি। সীমান্তের বাইরেও সীমারেখা আঁকি। ছুটে যায় আমার সান্ধ্য কালীন পাবলিক বাস। স্বপ্নহীন কিছু চোখ ক্রমাগত হতাশাকে গিলে খাচ্ছে। আমি নিজেও তাদেরই একজন, অথচ চোখে মুখে হতাশা নেই।

সব হারানোর মিছিলে যাযাবর হয়ে ফিরে আসি, নিজের বৃত্তে ঘুরপাক খাই। বিনিময়ে জমে যায় অপমানের ঘাম। বিবর্ণ কবিতায় ঢুকে যায় একফালি চাঁদ আর নিঃসঙ্গতার সালোকসংশ্লেষ।

Thursday, 11 October 2018

মুখোশ
ইমেল নাঈম

পথের শেষ! কাপাস তুলোর মতো উড়ছি শুধু।

প্রতিটি দিন মৌন শিহরণ জাগিয়ে ক্লান্ত
বিন্দু বিন্দু করে জমাটবদ্ধ কষ্টরা হাসিমুখে
মেনে নেয় তাদের না পাওয়া সব হিসাব
ব্যস্ত দিনের খসড়া খাতায় মলিন অঙ্কগুলো
অবেলায় ফুল হয় আর অনাদরে ঝরে যায়

অভিমানের খাতায় জমে উঠছে স্থবির গল্প
নিজেকে নিয়ে ভাবছি না, হিসাব করছি না
তবুও আড়াল দেখে দাঁড়াই অবচেতন মনে
ভুলভাল বকি, নিজেকে আটকাই একই বৃত্তে

হারিয়ে যাবার মুহূর্তগুলো অচেনা হচ্ছে রোজ
বাগানের ফুলেরা ঝরে গেছে অকালের বৃষ্টিতে
দলবদ্ধ প্রেমিক সেজেছে অন্যরূপ, প্রশ্ন করে
নিজেকে বিব্রত করছি না আর— বেহিসাবি
প্রেমিক হয়ে লুকচ্ছি তোমার আঙ্গিনা থেকে

অজানা আশঙ্কাকে বুকে জড়াচ্ছি, ভাবছি শুধু...
একদিন পালিয়ে গিয়ে অচেনা হয়ে যাবো
নিজের কাছে— তোমরা ভাববে ভুল পথে মানুষ
এসেছে এই পাড়াতে... চিনতে পারবেনা আমাকে।

Tuesday, 9 October 2018

বৃষ্টিদিন, জানালার কবিতা

বৃষ্টিদিন, জানালার কবিতা
ইমেল নাঈম

একটা মন কেমন করা সকাল দৌড়ে গেলো বৃষ্টি গায়ে মেখে। উদাসী চোখ তখনো আঁকছে দিনযাপনের সালতামামি। প্রেমের ইশতেহারে চুম্বনই শেষ কথা। প্রেমিক মাত্রই ভীষণ স্বেচ্ছাচারী। দিনকে বানায় রাত আর রাতের বেলায় অর্ধ নেশায় জুড়িয়ে নেয় চোখ। ক্লান্তি নামে তোমার দু'চোখে। আপেল বাগানটিও শান্ত। পাইন বনে ঝড়ের পূর্বাভাষ নেই। যদিও অবচেতনে এক কবি তোমাকে লিখে রাখছে  নীরবে। তার কবিতায় তোমার একাকীত্ব কবিতায় অবসাদ হয়ে ঝরে।

পুড়ে যায় নিকোটিন মুহূর্ত। অদৃশ্য ধূমায়িত কফির মগে লিখে রাখছো আত্ম ভাবনা। কাল্পনিক কিছু শব্দ জটের কাছে নতজানু হচ্ছ দুজনেই। কবি পড়ছে তোমাকে। আর তুমি? কাকে পড়ছো? কী ভাবছো? কিছুই জানা হলো না আমার। আমি কবি আর তোমার মাঝে দাঁড়ানো অন্য এক সত্তা, যে নিজেকে আজো চিনতে পারে নি। ত্রিভুজের মতো সম্পর্ক বজায় রাখছে প্রতিটা রেখার সাথে। শুধু ছেদকের থেকে পালিয়ে যাচ্ছে।

কবিতার শেষে নৈঃশব্দ্য কাটে পাখির গানে। আর নৈঃশব্দ্য কাটলে কেউ কারো নয়। তুমিও নও কবির, কবিও ভাবে না তোমায় একমুহূর্ত। আমিও হঠাৎ সব হারানো যুবকের মতো ফ্যালফ্যাল চোখে তাকিয়ে থাকি সম্মুখে। ভাবি এটা কি ইলিউশান? ডেভিড কফারফিল্ডের আকাশে উড়ে বেড়ানোর মতো মজাদার কিছু? নাকি সিনেমার আবেগময় এক দৃশ্যের শেষে অশ্রু আপ্লুত দর্শকের চোখ?

ভাবতে ভাবতে থেমে এলো বৃষ্টি। যদিও আকাশ ঢেকে আছে মেঘে। নীরবতা ভেঙে তুমিও চলে যাও জানালা ফেলে দূরে। কবিকে খুঁজে পাচ্ছি না অনেকক্ষণ। ভাবছি, সব চলে যাওয়ার পরে আর কেন অপেক্ষায় থাকা? আমার তো কোনো কারণ নেই দাঁড়ানোর। চোখের কবিতা নিয়ে ফিরে গেলে তুমি। প্রাপ্তির খাতায় কী পেলে কেইবা জানে? আমি তো কর্পূর, গোপনে এখানে এমনি এসে দাঁড়াই তোমার, কবি আর কবিতার রসায়নটুকু উপভোগ করতে, আর রোজই মিলিয়ে যাই ঘ্রাণ ছড়াতে ছড়াতে।