Thursday, 29 November 2018

বিভ্রান্তি মাখা প্রেম

বিভ্রান্তি মাখা প্রেম
ইমেল নাঈম 


তবে কী শুধুই বিভ্রান্তি লেখা! কোথাও কী নেই আলো?
ছুটে চলেছি প্রশ্নের পিছনে। উত্তর নিয়ে ভাবি নি।
নিজেকে দাঁড় করাই নি কোনো কাঠগড়ায়,
নীরবতার মানচিত্রে মৌন হয়ে ফিরছি
শব্দহীন মিউজিকে ভেসে আসে দিন বদলের গান।

অনুভব করো গোপন চোখ দিয়ে, তৃতীয় চোখে ভেসে
আসবে চাওয়া-পাওয়ার সূক্ষ্মাতিসূক্ষ্ম সব অংক
মিলবে না অনেক কিছুই, তবু ভ্রান্ত আশ্বাস
দেবে তোমাকে ঝাউ বনের স্নিগ্ধ অনুভব।
অকারণেই তুমি বুঝে নিবে সুখ মানে অন্যকিছু।

মানে খুঁজতে খুঁজতে নিজেকে নিয়ে যাবে ভুল পথে
ঈশ্বরকে প্রশ্ন করতে চাইবে। জায়নামাজজুড়ে
শান্ত এক ফল্গুধারা, নিজেকে নিয়ে ব্যস্ততম
দিনের সূচনা হবে অস্থিরতার কোরাসে।
মন্দিরে, গির্জার ঘণ্টায় থাকবে শান্তির আহ্বান,

দিনশেষে আমরা ছুটে যাবো এই ঘর থেকে অন্য ঘরে
ঘোরে, মোহে রেখে যাবো প্রেম নামের ব্যর্থতা,
মুছে যাবে সব নাম, আমরা অমরতার লোভে
চাষাবাদ করে যাবো ভুল প্রেমের মন্ত্র।
ইশকুল ঘরের দেয়ালে ঝুলবে কবিতার লাইন

অথচ, সবটাই বিভ্রান্তি মাখা, কোথাও নেই আলো।

Wednesday, 28 November 2018

নির্জনতার ক্যানভাসে

নির্জনতার ক্যানভাসে
ইমেল নাঈম


দ্রুত পেরিয়ে যাচ্ছি অন্ধকারাচ্ছন্ন অলিগলি
নম্রতার ব্যাকরণ ভুলেছি— হারিয়েছি অবিধান
ওল্ড টেস্টামেন্টে লেখা নেই কিছু... ধূসর...

মুখের দেশে মূকাভিনয়ের জয়োল্লাস শুনি
ক্লান্তিকর যাত্রায় লিখে রাখছি দিনের পরাজয়
কোমলতা ভুলেছি... আকর্ষণহীন এক স্পর্শকে
উপভোগ করি নির্জনতম একাকীত্বের আসরে

চুপিসারে বদলে যাচ্ছে আমাদের ভাষারীতি
নীতি বাক্যগুলো গেছে পুরনো বইয়ের ভাঁজে
হাহাকার জন্মানো জীবনকে খুঁজে চলেছি—
লাজহীন একটা সত্তা ছুটছে কবিতার মোড়কে

অনন্ত সময়ের হাতেখড়িতে লিখে রাখি নাম
প্রতিদানে মিলে গেছে প্রহসনের সুরের ব্যঞ্জনা
যাত্রা শেষ হয়—
মূর্ছনা থেমে যায়—
বিনয়ের মোড়কে ফিরে আসে কালচে অহংকার

ক্ষতবিক্ষত শরীরে লিখে রাখি পতনের সিম্ফনি
পিয়ানোর সুরে বেজে যায় মন ভাঙা গান
মঞ্চে উপস্থিত সুন্দর মুখের ভিড়ে চুপচাপ
বেরিয়ে আসে শরীরের ম্লান, উষ্কখুষ্ক আবরণ।

Tuesday, 27 November 2018

নির্জনতার ক্যানভাসে

নির্জনতার ক্যানভাসে
ইমেল নাঈম


দ্রুত পেরিয়ে যাচ্ছি অন্ধকারাচ্ছন্ন অলিগলি
নম্রতার ব্যাকরণ ভুলেছি— হারিয়েছি অবিধান
ওল্ড টেস্টামেন্টে লেখা নেই কিছু... ধূসর...

মুখের দেশে মূকাভিনয়ের জয়োল্লাস শুনি
ক্লান্তিকর যাত্রায় লিখে রাখছি দিনের পরাজয়
কোমলতা ভুলেছি... আকর্ষণহীন এক স্পর্শকে
উপভোগ করি নির্জনতম একাকীত্বের আসরে

চুপিসারে বদলে যাচ্ছে আমাদের ভাষারীতি
নীতি বাক্যগুলো গেছে পুরনো বইয়ের ভাঁজে
হাহাকার জন্মানো জীবনকে খুঁজে চলেছি—
লাজহীন একটা সত্তা ছুটছে কবিতার মোড়কে

অনন্ত সময়ের হাতেখড়িতে লিখে রাখি নাম
প্রতিদানে মিলে গেছে প্রহসনের সুরের ব্যঞ্জনা
যাত্রা শেষ হয়—
মূর্ছনা থেমে যায়—
বিনয়ের মোড়কে ফিরে আসে কালচে অহংকার

ক্ষতবিক্ষত শরীরে লিখে রাখি পতনের সিম্ফনি
পিয়ানোর সুরে বেজে যায় মন ভাঙা গান
মঞ্চে উপস্থিত সুন্দর মুখের ভিড়ে চুপচাপ
বেরিয়ে আসে শরীরের ম্লান, উষ্কখুষ্ক আবরণ।

Monday, 26 November 2018

প্রান্তিক দুঃখবোধ

প্রান্তিক দুঃখবোধ
ইমেল নাঈম


পরম্পরা। নিজেকে নিয়ে লিপিবদ্ধ কবিতাগুলো বিষণ্ণতার বিজ্ঞাপন দেয়। কত সুন্দর, সুশৃঙ্খল অথচ বাস্তব। দূর থেকে দেখলে সাজানো গোছানো। কাছে গেলে মেলে না কিছু। হিসাবের খাতায় কিছু মলিন দাগ, রঙ পেন্সিল অব্যর্থ হয়। স্কেচে ভরে ওঠে প্রাত্যহিক জীবনের হিস্যা। লুকোচুরি খেলে দূরে পালিয়ে যায়। নিজেকে খুঁজে দেখছি অন্তঃ লীন অনুভবে। বিবর্ণ ভালোবাসা ঝরে যায় দূরের ক্যানভাসে।

আঁকছি নিজেকে। প্রতিবিম্ব ঝুলছে দেয়ালে। পোর্ট্রেট ফটোগ্রাফি আমাকে দেখে অবজ্ঞার হাসি হাসে। বড্ড তির্যক সে হাসি। নির্মাণ করছে অবজ্ঞার অট্টালিকা। মোটের উপরে ঝুলতে থাকে নির্বাক জীবন। মর্মান্তিক জীবনে কিছু ছবি কথা বলে। টেনে হিঁচড়ে নিয়ে যাউ পিছন পথে। মুহূর্ত রঙিন হয়। অথচ প্রাণহীন রঙিন। ফেরি করে চলেছি ব্যক্তিগত দুঃখবোধ। মিছিল নয়, জনসমাবেশ নয়, লক্ষ্য, উদ্দেশ্য নয় পরিষ্কার। তবু ছুটে চলেছি পিছুপিছু একটা মোহের টানে।

ছুটে চলা মানুষ, কিছু চিহ্ন রেখে দাও আঙুলে। ভুলের প্রাচীর টেনে নিয়ে যায় আমাকে দূরে। কাছের মানুষগুলো গান গায়। নিজেকে নিয়ে ব্যস্ত সময় কাটাই। দুর্নিবার আকর্ষণে আমরা ছুটে যাই। মলিন মুখে ক্ষতচিহ্ন আঁকি। রক্তিম সিংহাসনে আঁকা হয় দুঃখবোধ। চুপিসারে পালিয়ে যাচ্ছে, কেবল ছুঁতে চাইছি নিজেকে।

প্রান্তিক জীবনের গল্প মলিন হয়। অনিঃশেষ জীবন, ছুটে চলেছি ভ্রান্ত পথে। বিভ্রান্ত সময়ের গ্যাঁড়াকলে নিজেকে ব্যস্ত রাখি সময়ের দোলাচলে। অনির্বাণ সময়ের সাক্ষী, পিছুটানে মুহূর্তগুলো মনের ক্যানভাসে আঁকা তৈলচিত্রের মতো জ্বলজ্বল করে। ধ্রুপদী হাহাকার বাড়িয়ে দেয় মনের ক্ষুধা। উড়িয়ে চলি নিজের ভিতরের হতাশা। সৌখিন অবসাদে ডুবে গেলে জীবনের মানে বদলে যায়। তাসের রঙয়ের মতো হাতে হাতে ঘুরে। ছুঁড়ে দিলেই বদলে যায় প্রেম, ভালোবাসার মানে...

Saturday, 24 November 2018

প্রত্যাবর্তন ও মুহূর্তের গল্প

প্রত্যাবর্তন ও মুহূর্তের গল্প
ইমেল নাঈম

প্রত্যাবর্তনের পথে নিজস্ব কিছু চিহ্ন থাকে। তারা একেবেকে চলে যায় গন্তব্যের দিকে। গৎবাঁধা নিয়মের বাইরে গোপনে দাঁড়ায় অন্যরকম নিয়ম। আইনের ফাঁক সর্বদা অট্টহাসি হাসে। বিনয় মুছে গেলে কিছুই থাকে না অবশিষ্ট। ফাঁকফোকরে বেরিয়ে আসে আসল রূপ। রঙিন পৃথিবী সাদাকালো হয়, মলিন হয়।

পর্দা টেনে দিচ্ছি সম্পর্কের। অভিমানগুলো ক্রমাগত মাথাচাড়া দিয়ে ওঠে। নিজেকে নিয়ে মুঠোয় রাখা কথাগুলো বলা এখনো হেসেখেলে উঠে। জামায় ঢেকে রেখেছি গায়ের ক্ষত। শেষ হয়ে যাচ্ছে নীরবতার সব অধ্যায়। ক্লান্তিকর যাত্রায় জিরিয়ে নেবার সময় নেই। অদৃশ্য ছায়া তাড়া করে ফিরছে সবসময়।

বিষণ্ণতার সব রঙ এক। কথপোকথন শেষে আমরা হিসাব করি, দুরন্ত সময় পেরিয়ে যায় মাটির ক্যানভাস। পলিমাটির তুলিতে আঁকছি বেলেমাটির রঙ দিয়ে। ধ্রুপদী দুঃখদের নিয়ে নতুন কোনটা বাক্য নেই। তাদের ভেবে অভিমানগুলো বৃথাই মন খারাপ করে। অর্থহীন কিছু ইশারার পিছনে ছুটছি।

তামাম সম্পর্ক একদিকে হেলে পড়ে
পাড়হীন নদী এঁকে নিচ্ছে জল রসায়ন
আমি মুসাফির। ক্রমাগত ছুটে চলেছি প্রধান সড়ক দিয়ে। প্রান্তিক মুহূর্তে শেষ বিন্দু দেখার জন্য অপেক্ষায়। প্রাণান্তকর প্রচেষ্টায় দাঁড় করাই এক প্রতিবিম্ব। বালু ঘড়িতে পালটে যায় সময়। বিম্বটিও খসে পড়ে জটিল গাণিতিক হিসাবের শেষে। আমার সামনে দাঁড়িয়ে থাকে অপেক্ষমাণ মুহূর্ত।

Wednesday, 21 November 2018

একগুচ্ছ নিঃসঙ্গতা

একগুচ্ছ নিঃসঙ্গতা
ইমেল নাঈম

১।
কেউ ফিরে আসে, আবার কেউ চলে যায়
প্রলোভন আটকে ফেলে কোনো এক প্রেমিককে
এরপর অপেক্ষা...সম্মোহনী শক্তিকে পাশ
কাটিয়ে চলে যায় ঘড়ির উল্টো পথে

২।
একোরিয়ামের বিলাসিতা পেট বুঝতে পারে না
শুধুই হিসেব করে— সাদা খাতায় পেন্সিল
দিয়ে আঁকিবুঁকি খেলে, ইরেজারে মুছে দেয়
দাগ মুছে গেলে শুরু হয় সান্ধ্যকালীন ক্লাস
আমি শিখে নিই নিঃসঙ্গতার শৈল্পিক অনুরণন।

৩।
পথে নামতে অনীহা। তবু তুচ্ছ কিছু শব্দের
কাছে নতজানু হয়ে থাকি, ঘাড় নিচু, শব্দহীন
আকাশ বদলে গেছে, মেঘ জমছে তুলোর মতো
ভ্যাঁপসা গরমে টলমল করছে শিরা উপশিরা
হাতঘড়িতে সময় মাপছি জীবনের দামে।

৪।
পালটে যাওয়ার সহজ সূত্রগুলো আওড়াই
গাণিতিক বিন্যাসে রেখাপার করি একাকীত্ব
ক্যালকুলেটরে হিসেব করে ফেলি অবসর
নীরবে সহবস্থান ছেড়ে সরে যায় দূরে,
পথে ঝরেছে পারিজাত, ইরানি জাফরান...

৫।
নিঃসঙ্গতা পড়া শেষে বাকি থাকে আরো
এক অধ্যায়— যা আগাগোড়া মোড়ানো
থাকে সাসপেন্স আর অজানা শিহরণে।
বরাবরই অধ্যায়টি অপঠিত থেকে যায়...

Tuesday, 20 November 2018

কবিতা

কবিতা
ইমেল নাঈম

অনেক দিন কেটে গেছে, প্রাচীর টেনেছি সম্পর্কে।
রুক্ষতা আঁকা শেষ হতে বিষণ্ণ ময়ূরকণ্ঠী ভাসে
জলটুকু এঁকে নিচ্ছে কবি তার কবিতায়
তার উপর কল্পনায় ভাসিয়ে দিচ্ছে পানকৌড়ি
মাছরাঙার আহার দৃশ্য, মাছের লুকোচুরি খেলা

বিমূর্ত ব্যাপারগুলো পানসে হয়ে ওঠে একলহমায়
একলব্য ঐকতান, উড্ডীন বেদুইন পাখির ঝাঁক,
নিজেকে নিয়ম করে ব্যবচ্ছেদ করা হয় না আর
এখানে গা ভাসিয়ে দিচ্ছি হাওয়ার অনুকূলে
এভাবে ভাসতে ভাসতে মিলে যেতেও পারে নীড়

অভ্যস্ত কবিতার বাঁকে কিছু মরীচিকা প্রলোভন
হাতছানি দিয়ে ডাকে ধ্রুপদী সংগীতের আহ্বানে
সাড়া দিতে গিয়েও পিছুটানে ফিরছি বারবার
পিছুটানে আটকে ফেলেছি, সময় আটকে গেছে
নিজেকে নিয়ে ব্যস্ত হবার মন্ত্রে ভুলে যাচ্ছি সব

হলদে সোডিয়াম নগরীতে মফস্বলি ঘ্রাণ আসে,
আকাশছোঁয়া অট্টালিকার পাশে বসিয়ে দিই
টিনশেডের ঘর, কাল্পনিক বিন্যাসে অম্লান সব
সব হারানোর মিছিলে অনেক কিছুই জুড়ি
সব মিলাতে গিয়ে দেখি এক গভীর অমানিশা
হা করে তাকিয়ে আছে গিলে খাবার জন্য...

বিমূর্ত অঙ্গিকার

বিমূর্ত অঙ্গিকার
ইমেল নাঈম

বিমূর্ত রাত ডেকে চলে নীরবতার হুইসিলে। শুনশান শহর। নিজেকে নিয়ে ব্যস্ত থাকার আপ্রাণ চেষ্টা। প্রচেষ্টাগুলো দামী হয় খুব। নিজেকে নিয়ে গল্পকথা শুনি খুব। প্রাত্যহিক জীবনে ডাকাডাকি আর তার বিনিময়ে হেসে ওঠে প্রাগৈতিহাসিক মুহূর্ত। রূপরেখা নেই, শুধুই উড়ে যায়। অভিযোগের তিরগুলো আহত করে। বোকার হাসি হেসে জানিয়ে যায় আমার অবস্থান।

দিনের হিসেবে নিজেকে নিয়ে ব্যস্ততার মন্ত্র পাঠ করি। নির্বাক শব্দের কাছে ফিরে যাই অন্ধ ঘোড়সওয়ার হিসেবে। তাসের রঙ খেলে যায় দিনান্তের সুরে, দাবার মন্ত্রী নিশ্চল দাঁড়িয়ে থাকে। হাহাকার খেলে যায় আভিজাতিক সত্তায়। মুসাফিরের মতো ছুটে চলি এই দরজা থেকে অন্য দরজায়। আয়নায় প্রতিবিম্ব দেখে ঘাবড়ে গেছি, অচেনা হতে হতে হারিয়ে ফেলেছি ঠিকানা।

দুঃখদের নাম জানা নেই, তারা পাপারাজ্জির মতো পিছনে ছুটে চলে। নীরব থেকে অনুসরণ করে। গোপনে তুলে রাখে আমার ব্যক্তিগত সুখ। আনন্দের রঙগুলো শুষে নেয়, বিনিময়ে লিখে রাখে চুলচেরা বিশ্লেষণ। পাপের পাহাড়, বোঝাগুলো আষ্টেপিষ্টে আকটে ফেলে আমাকে। নড়চড়হীন একটা পৃথিবী ঘোর অন্ধকারে আমায় ডেকে চলেছে মহাজাগতিক শূন্যতায়।

নির্বাক জীবনের গণিতে কেবলই পরাজয় লিখে রাখে। ছুটে যেতে থাকি দূরের পথে। উইন্ড-চাইমে আসা হাওয়াদের গল্প শুনি, ভিজিয়ে দিয়ে যায় আমার উঠোন, উষ্ণতায় ভিজে গেছে দূরের ক্যানভাস। রঙতুলিতে জমাটবদ্ধ প্রহসন। স্পর্শ ভুলে যাওয়া শরীরে এঁকে নিচ্ছো দুইশ বছরের দুঃখ। প্রান্তিক জীবন ডেকে চলে দূরের কক্ষপথে ছায়াদের মিছিলে।


Sunday, 18 November 2018

মেয়াদ উত্তীর্ণ মেডিসিন

মেয়াদ উর্ত্তীণ মেডিসিন
ইমেল নাঈম

ভুলে গেছি— মনে রাখি না অনেককিছুই
হাহাকারে পুড়েছে আমার যাপিত জীবন
আস্তানা ছেড়েছে মধ্য দুপুরের দুঃখ
বিবর্ণ বুকে নীরবতা লিখছি আনমনে,
ভুল প্রাচীরের পলেস্তারা খসে যায় শুধু।

প্রচারণার বাইরে অন্য এক জীবন ডাকে
প্রতি পরতে লিপিবদ্ধ মৌন দুঃখমালা
নীরবতাকে মিলিয়ে নিচ্ছি কবিতায়—
ডায়রিতে অবহেলার ধুলো, মোবাইল
স্ক্রিনে হাহুতাশ, কিবোর্ড থামে অবেলায়
জীবন মানে দাঁড়ায় বিষণ্ণ রূপক,

রূপকথায় আটকে ফেলেছি নিজেকে
প্রাচীরে খোদাই করা বাক্য, যোগ অংক
শ্যাওলা জমা ইটের সলিং, কুয়াশা
ভেজা পিচ্ছিল পথ, রূপকের ভিড়ে
নির্মম সত্য উঁকি দেয়— পরীক্ষা করে

নৈতিকতার পাঠ চুকেছে অনেক দিন
এরপরও গিলাফ জড়ানো বই রেখে
যাও সামনে— খুলে দেখি নি, ভিতরটা
আজো বুঝতে পারি নি, মন মাজারে
অবহেলার পাপপুণ্যর হিসাব করি শুধু

প্রাপ্তিফলে অবহেলার স্তূপ জমেছে
মেয়াদ উত্তীর্ণ মেডিসিনে।

Friday, 16 November 2018

ভুলের মাশুল

ভুলের মাশুল
ইমেল নাঈম

হাওয়া বদলে যায়, হয় ঋতুর পরিবর্তন
কোনো ভুলের মাশুল বুকে চেপে অপেক্ষায়,
কার্নিশে জমেছে ধুলো, অপেক্ষমাণ শব্দের
পরে বসে থাকি অন্যের স্মৃতির পাতায়।

নিজের জন্য সময়গুলোকে ছুটি দিয়ে দিই
প্রায়শ্চিত্ত করতে হয় রোজকার অভিনয়ের,
হাঁপিয়ে যাচ্ছি— ক্লান্তিহীন ছুটে চলায়
নিজেকে প্রশ্ন করছি, উত্তর খুঁজছি কেবল

গতজন্মের পাপের হিসেব করি, আজন্ম
ভুলের মানুষ, মাশুল দিতে দিতে ব্যস্ত সময়
পার করি, ভাবি— অর্থহীন সময়ের মূল্য...

ভাবলেশহীন মুহূর্তের কাছে পেতেছি ঋণ,
আক্রমণ প্রতি আক্রমণে বদলেছে দিনকাল
করিডোরে পায়ের ছাপ দেখে আতঙ্কিত
নিজেকে তুচ্ছ ভেবে হীনমন্যতায় ভুগছি

শুধরে নেওয়ার পালা, আমার অতর্কিতে
ঢুকে পড়া ভদ্র মানুষের আবাসে, দক্ষিণা
জানালায় ঘোরলাগা বাতাসে ঋণপত্র লিখি
নিজেকে হারানোর পরে বাকি নেই কিছু।

মিছিলে মিছিলে লিখি অচ্ছুতদের হারমনি
সর্বহারার গান গাই— আঙিনায় আঙিনায়।

Thursday, 15 November 2018

দুঃখ বিতান

দুঃখ বিতান
ইমেল নাঈম

প্রত্যাবর্তনের গন্ধ গায়ে লেগে থাকে। অপেক্ষা...উপেক্ষা...
পেরিয়ে যাওয়া শহুরে জ্যাম, তার বিবরণীতে ঘুরেফিরে
উড়ে আসে একই কথা। এলফেবেটিক্যাল বিন্যাস নয়,
এখানে লিপিবদ্ধ যা কিছু তার সবটাই প্রাগৈতিহাসিক।

প্রহসনগুলো শুনেছি এমনই হয়, রঙ মাখানো আবরণে...
সত্য নয়, ঢেকে রাখি মায়াবী মিথ্যেগুলো, সলতে আলোয়
ঢাকা পড়ে যায় পুরনো সবকিছু। স্মৃতি হাতড়ে দেখি
মুসাফিরজীবন চলে যায় হেঁটে রাস্তা ধরে দূরে বহুদূরে।

আমাদের জীবন সর্বোচ্চ এক হাজার টাকার প্রাইজবন্ড
নিজের জন্য ব্যস্ত সময় কাটাই, পৃথিবী হলো সরাইখানা।
নিজ ঘরেই নিচ্ছি অবসর, অবকাশ শেষে কিছুই থাকেনা
নিজের মতো, সাজিয়েগুছিয়ে নিচ্ছি নিজস্ব মালামাল...

প্রতারক সময়ের কাছে ধর্না দিই, হারাচ্ছে সুখসমগ্র
ভরছে প্রতিটি পাতা দুঃখদের খণ্ডকালীন আসাযাওয়ায়
সুনিপুণ সম্পর্কগুলো দেখি নিজেকে মাপছে নিক্তিতে
আজ তারা পাকা জহুরি, সবটুকুই মেপে নিবে নির্ভুল।

দুঃখদের সমাবর্তনে দেখি অসুখী মুখেরা অভিনয়ে ব্যস্ত
ক্রমশ আলাদা হয়ে পড়ি তাদের থেকে। মূকাভিনতা নই,
গড়েছি দুঃখ বিতান, নিজেকে স্বল্প মূল্যে বেচবো বলে।

Wednesday, 14 November 2018

স্বেচ্ছা নিঃসঙ্গতা

স্বেচ্ছা নিঃসঙ্গতা
ইমেল নাঈম

লারেলাপ্পার মতো ছুটে চলা, খেলাচ্ছলে
হারিয়ে ফেলছি নিজের সবটুকু
ভুলের মাশুল গায়ে চাপিয়ে ছুটছি
চলছে মুঠোমুঠো প্রেম আর চোখভর্তি
নিঃসঙ্গতার পাশাপাশি একান্ত সমাবেশ —

গল্পের মতো হারিয়ে ফেলেছি প্লটগুলো
নায়ক নায়িকার ভিড়ে পার্শ্বচরিত্রটিও
মুখ্য হয়ে ওঠে। আর; প্রান্তিক সংলাপে
মুখরিত হয়ে উঠে আমাদের মুখোশ।
বলে, শব্দ নয়, প্রতীক্ষা নয়, শুধুই
আস্ফালন... আর ব্যর্থতার মন্ত্রবিলাপ।

হেঁটে যাওয়া হয় রোজ, মখমলে ঘাস
পেরিয়ে যেতে যেতে আয়োজন করি
একাকীত্বের, ব্যস্ত সড়কে ব্যস্ত ফুটপাতের
মানুষগুলো একেকটি নিঃসঙ্গতার বিজ্ঞাপন
প্রেমিকার প্লাস্টিক হাসি দেখে বিমর্ষ হই
প্রেমিকের চোখজুড়ে থাকে নীল প্রতারণা।

মন যাপনের মুহূর্তগুলো বন্দী সিগারেটে
প্রতি ধোঁয়ায় উড়ে যায় চলমান দুঃখবোধ
ক্রমাগত শূন্য হয় ফুসফুস, বেরিয়ে আসে
ভিতরের হতাশাগুলো, কিছুটা সময়
নিজেকে বিক্রি করে দিই স্মৃতির কোলাজে

বদলে যাওয়া মানুষগুলোকে মমি করে
রাখি বুকের বাঁপাশে, নিঃসঙ্গতার সমান্তরালে।

মৌন বেলা

মৌন বেলা
ইমেল নাঈম

পেরিয়ে যাচ্ছে মৌন বেলা। রকমারি আয়োজন। জমাটবদ্ধ কিছু শিহরণ। শীতকালীন অবকাশের পর নেমে আসে বৃষ্টি। উপচে পড়া গল্প, আর সারিবদ্ধ আনন্দের মাঝে গোপনে লুকোনো কিছু হরিত সকাল। মলিনতা ছুঁতে পারেনি আমাদের। সাতসকালের নাগরিক শীত। কোথাও তো থেমে যেতে হয়। শহর প্রাণহীন। শীতে কাবু হয়নি এখনো। এরই মধ্যে মিথলজির আবরণে আসবে নতুন কিছু উপাদান।

উড়ে যাচ্ছে সকল হিসাবনিকাশকে তুচ্ছ করে। নিষেধের বাধাকে এড়িয়ে দিয়ে, সামগ্রিক পরিস্থিতিকে তুড়ি মেরে উড়িয়ে দিয়ে তফাৎ করে দিয়ে। অথচ পরিচয়ের প্রথম অধ্যায়ের শেষ পরিচ্ছেদটা অন্যরকম। মনকেমনিয়া সুরে ভিজে যায় গত শতাব্দীর সকল শোকসংগীত। অলস চার্চের গ্রেভ-ইয়ার্ডে কিছুটা নির্জনতা কেনা যায়। তবুও পরাজিত সাজতে হয় নতুন অধ্যায়ের পাঠের পূর্বে। জয় পরাজয়ের এই খেলা আপেক্ষিক। নিজেকে নিয়ে পেরিয়ে যায় ভাবনার মেঘ।

বিভ্রান্ত সময়ের পাড়ি দিই। আস্থার জায়গা নেই। নিজেকে খুঁজে যাই। ব্যস্ত সময়ের রুটিনে ঘড়ি জীবন। সময়ের কাঁটা বদলে যায়। চাওয়া পাওয়ার হিসেব বদলে যায়। মুহূর্তগুলো রঙিন হয়। ধ্রুপদী সংগীতের আয়োজনে বিমূর্ত কিছু শব্দের কাছে ছুটে চলি। নির্বাক চলচ্চিত্র। মূকাভিনয়ের শেষ পরিচ্ছেদে আটকে ফেলি জাগতিক জীবনের লাল নীল নকশায়। আর ভাবি, জীবনের রঙগুলো কেমন করে বদলে যাচ্ছে।

অজস্র গল্পের ভিড়ে ঠিক ঠাহর করতে পারিনা। সত্য-মিথ্যার কুণ্ডলী পাকায়। আর নিজেকে নিয়ে মুহূর্তগুলো উড়ে যায় ন্যাপথালিনের মতো। গল্পের বইয়ের ভাঁজে গচ্ছিত শিশু গোলাপটিও মলিন হয়, শুকিয়ে মর্মর হয়। প্রাপ্তির খাতায় ঋণ বাড়ে। নিজেকে নিয়ে গল্পের শেষটুকু লিখতে হয়। দূরত্বের নিরূপণে কিছু সময় থাকে একান্ত ব্যক্তিগত— যা শুধু নিজের সাথে নিজের কথোপকথন করে যায়।