Monday, 14 November 2016

নভেম্বরের কবিতা ৬

নভেম্বরের শোকগাথা
— ইমেল নাঈম

শান্তির বিউগল বাজেনা সিমেন্ট সভ্যতার বিজ্ঞাপনে
মাঝেমাঝে অতিথি এনে জন্ম দিয়ে দেয় ফোক উৎসব
আভিজাত্যের মোড়কে রেখে আড্ডামুখর থাকে নগরী
এমন চাঁদনী রাতে প্রেমিকা কোরাস গাইছে আপন মনে

সাঁওতালি চোখের আকাশ কেমন? ছাদ নেই, হা করা
চাঁদের আলো, নির্ভেজাল চাহনিতে কোনো গোপনীয়
কথা লিপিবদ্ধ থাকেনা। প্রহসন হিসেবে ত্রাণের মাল
আসে তাদের কাছে। জমি হারিয়ে শুকনো খাবার
তাও ফিরে যায় সরকারের নির্লজ্জ কোষাগারে,

চাঁদনী রাতে আমার খুব একটা প্রেম পায়না, বেকার
জীবন — শূন্যতায় ভরা এক গ্লাস বিষণ্ণতা পান করি
আমার কবিতারাও দিনদিন প্রেমহীন হয়ে যায়
চাঁদ তার রূপে আমাকে মোহিত করতে সম্পূর্ণ ব্যর্থ
আমি ভাবতে বসি হেমন্তকালীন অনাদরের গল্প,

ব্যক্তিগত লাভ লোকসানের হিসাব অনেক হলো
এরচেয়ে দেখি আকাশকে ছাদ করা মানুষ জীবন
কোনো মানে নেই, আক্ষরিক অর্থে আটকে গেছি
চার বর্ণের গালিময় জীবনের চোরাপথে। আকাশে
চাঁদ ওঠে, আবার ডুবেও যায়... গৃহহীন মানুষ কী
চাঁদের জ্যোৎস্নায় ভেসে যেতে শিখেছে এই দুর্দিনে!

Sunday, 13 November 2016

নভেম্বরের কবিতা ৫

নভেম্বরের কবিতা ৫
— ইমেল নাঈম

একবার ভাবুন, জিজ্ঞাসা আর ধমকের পার্থক্য
আক্রমণ আর বিনয়কে একসাথে গুলিয়ে খাওয়ান
সাধারণের মাঝে। ঢুকিয়ে দিন চেতনার ট্যাবলেট।
না না, মোটেও ব্যতিব্যস্ত হবেন না, সাহিত্যের সব
পদক আপনার ঘরে চলে আসবে যেকোনো পন্থায়

আপনি থাকতে অন্যকেউ পাবে পুরষ্কার, এও সম্ভব!
আপনি তো ইজারা দিচ্ছেন সাহিত্যের সব অলিগলি
পাইক পেয়াদা নিয়ে সাজাচ্ছেন অন্ধকার আসর,
পিঠ চাপড়ে দিচ্ছে নবীশ, আপনি পুলকিত হচ্ছেন।
এদের রেখে দিবেন ছোলা লুচি খাইয়ে, বিজ্ঞাপনের
খরচ একেবারে কমে ছোলা লুচিতেই নেমে আসবে।

প্রত্যাশায় না মিটলে মুখবইয়ে রঙচঙে বিজ্ঞাপন দিন
শেষ ভরসা হিসেবেও মিলে যেতে পারে পুরষ্কার
নিন্দুকেরা অনেক কথাই ছড়াবেন, এমন হাবভাবে
দুই একটা বেনসন জ্বালিয়ে মনোযোগী হতে পারেন
ডাকবাক্সে কোনো সুন্দরী রমণীর কবিতার দিকে,
না পড়েই বলতে পারেন পরিচর্যার লোভনীয় গল্প....

তারপর মোবাইল নাম্বার আদানপ্রদান, পরিচর্যাকেন্দ্র
হিসেবে নির্দিষ্ট করে দিন অন্ধকার গলির চোরাবালি
আশেপাশে সবাই বোঝে অথচ কেউ প্রশ্ন করেনা,
প্রশ্ন করা পাপ। এভাবে চলছে অদ্ভুতুড়ে পাঠদান পর্ব।

দৈনিক পত্রিকার সাহিত্যপাতার সম্পাদকের সাথে
দৈনন্দিন আলাপন হোক — কারণে বা অকারণে
পুরষ্কার আসতে থাকবে ঘরে, পাঠক চেনে আলো
আলেয়া চিনে নেয় নবীন কোনো কবি, মুখ ফুটে
বলতে ভুলে যায়, একসময় এতেই অভ্যস্ত হয় মুখ

এভাবে আপনি হয়ে যান জীবাশ্ম কবির বিজ্ঞাপন!

Friday, 11 November 2016

নভেম্বরের কবিতা ৪

ফেরিওয়ালা
— ইমেল নাঈম

অন্ধ ও বধিরের মাঝে কোনো প্রান্তিক স্পর্শ নেই
শখের বিলেতি কুকুরের মতো গায়ে গা ঘেঁষে
থাকে কেউকেউ বাধ্যগত মানুষের আবরণে

উপড়ে পড়া সময়ের বাতাবরণ শেষে
কিশোরীর মুঠোফোনে ভেসে বেড়ায় নাম
নিষিদ্ধ বারতা পাঠিয়ে যে যুবক দাঁড়িয়ে
তার চোখে মায়াবী প্রতারক লুকোনো

ঈর্ষাকে যত্ন নিয়ে পুষতে থাকো বুকের ঘরে 
কিছুটা অভিশাপ বৃত্তাকার পথে বাঁচুক
আক্ষেপের ঘরে নামতা পাঠের শেষে যে
হারিয়েছে কালো আংটি — গাও তার মুক্তির গান।

দাবী নেই খুব একটা, শৈশবের নীতিবাক্যরা
এখনো মদিরায় সুর তোলে, মাদল বাজিয়ে
নাচে এক পাহাড়ি সুন্দরী — চেয়ে দেখো তার 
চোখে প্রেম জিনিসটি ফুরিয়েছে অনেক আগেই।

আমি ফেরি করে বেড়াই পাহাড়ি সুন্দরীর ঘৃণা...

নভেম্বরের কবিতা ৪

নভেম্বরের কবিতা ৪

— ইমেল নাঈম


অন্ধ ও বধিরের মাঝে কোনো প্রান্তিক স্পর্শ নেই

শখের বিলেতি কুকুরের মতো গায়ে গা ঘেঁষে

থাকে কেউকেউ বাধ্যগত মানুষের আবরণে


উপড়ে পড়া সময়ের বাতাবরণ শেষে

কিশোরীর মুঠোফোনে ভেসে বেড়ায় নাম

নিষিদ্ধ বারতা পাঠিয়ে যে যুবক দাঁড়িয়ে

তার চোখে মায়াবী প্রতারক লুকোনো


ঈর্ষাকে যত্ন নিয়ে পুষতে থাকো বুকের ঘরে 

কিছুটা অভিশাপ বৃত্তাকার পথে বাঁচুক

আক্ষেপের ঘরে নামতা পাঠের শেষে যে

হারিয়েছে কালো আংটি — গাও তার মুক্তির গান।


দাবী নেই খুব একটা, শৈশবের নীতিবাক্যরা

এখনো মদিরায় সুর তোলে, মাদল বাজিয়ে

নাচে এক পাহাড়ি সুন্দরী — চেয়ে দেখো তার 

চোখে প্রেম জিনিসটি ফুরিয়েছে অনেক আগেই।


আমি ফেরি করে বেড়াই পাহাড়ি সুন্দরীর ঘৃণা...

Wednesday, 9 November 2016

নভেম্বরের কবিতা ৩

নভেম্বরের কবিতা ৩
ইমেল নাঈম

বিষণ্ণতায় লেখা নীলচে খাম লাল হয়ে যায় শেষে
কোথায় লেখা ললাটলিখন, দেখিনা তার রেশ
প্রান্ত বদলে যাওয়া মুখ, মুখোশ খুললেই অচেনা
সাজঘরের মেকাপ বক্স, উড়তে থাকা ঝাড়বাতি...
সাঁওতালি প্রেমিকা, তুমি তো পড়তে শেখনি অ আ

পুড়তে দেখেছো নিজ বাস, ঈশ্বরকে ভাবো দানব
আমরাও মুখোশকে মুখ ভেবে মণ্ডপ সাজিয়েছি
দূর্বাঘাস আর শিউলিতলায় ঝরে যাওয়া ফুলেদের
শিল্প ভেবে কবিতা লিখে কাটাচ্ছিলাম হেমন্তকাল

তোমার জন্য কেউ লিখে নি কবিতা, সংখ্যা তত্ত্বে
তোমাকে তালিকাভুক্ত করতে পারেনি গণিতবিদ
আমি তোমার ভাষা বুঝিনা, চোখটাই পড়তে পারি

তুমি লজ্জাবতী ফুল স্পর্শ পেলেই শুকিয়ে যাও
আগুনের তীব্র আঁচে মরে গেছো হয়তো, বাঁচলে
কার কীইবা যায় আসে, মরলেও বা কার চোখের
জল ঝরতো তোমার জন্য! আমিও অনেক দূরের
মানচিত্রের বুকে শুধুই গা বাঁচিয়ে চলতে শিখছি

তোমাকে উৎসর্গিত কোনো কবিতা নেই কারো
সবাই খুব ব্যস্ত। আইন আদালত বোঝো না তুমি।
অধিকারহীন প্রাণ বলে শিখোনি প্রতিবাদী কণ্ঠ
কবিতার খাতায় আজ অন্তত ভুল শব্দ চয়নে
অবহেলিত তোমায় ভেবে শিরোনাম জন্ম নিক।

Tuesday, 8 November 2016

নভেম্বরের কবিতা ২

বিচ্ছেদ নগরীর কবিতা
ইমেল নাঈম

একটা অহেতুক গল্প হা করে তাকিয়ে থাকে
ভেসে আসে দামী মুঠোফোনে উড়ে আসা
কিছু সংলাপ, হাপিত্যেশ বাড়ানো আগন্তুক
গল্প সমগ্রের পরিণাম ভাবতেই নামে সন্ধ্যা

শীত নামলে পানাম নগরে যেতে ইচ্ছে করে,
ওখানে কেউ নেই, তুমিও ছিলে না কখনো
কবিতার ডায়রির পাতাগুলো খালি থাকে
কেনো জানি লিখা হয় না, নভেম্বরের বৃষ্টিরা
থেমে গেলেও একটা অনুরাগ থেকে যায়
চোখে ভাসে প্রবীণ সাধকের সাধনার দৃশ্য

সব দেখাই সত্য হয় না, যেমন হয়নি অতীত
ভবিষ্যৎ বলতে শিখেছি এক নারীর সান্নিধ্যে...
ভুল সময় কাটিয়ে বুঝেছি, ডিসেম্বর'র আগে
শেষ জের টেনে দিয়ে মিলিয়ে দিতে হবে
ব্যালেন্স শিটের সকল হিসাব, মুদ্রাস্ফীতির
সাথে সাথে কমে যায় নদীর জোয়ারভাটা

সম্পর্কহীন সবকিছু, তবুও কাকতালীয় মিল...
অস্তিত্বহীন, লারেলাপ্পার মতো বারবার
আঙুল ছুঁয়ে নেমে যায় শেষ বিন্দুতে, বেশি
টানাহেঁচড়া করলে ছিটকে যায় অনেক দূরে

আমি তখন কবিতা পাঠ করি বিচ্ছেদ নগরীর।

Saturday, 5 November 2016

নভেম্বরের কবিতা ১

নভেম্বরের কবিতা ১
ইমেল নাঈম

অনেক কান্নার কোনো মানে থাকে না
কিছু প্রশ্নের কোনো ব্যাখ্যা নেই জমা
রাতের আঁধারে ঢেকে যায় পুরো মানচিত্র
স্বপ্ন দেখার জন্য অস্থির ফজরের আকাশ

রাতের আকাশে কারা আলো জ্বালায়
আবার কারা যেন পুড়িয়ে দেয় ঘরদোর
রাজনীতি তাকে ঘেন্না করিনা, দেখো
সেই পুড়িয়ে ফেলছে আমার পৃথিবী,
ব্যাখ্যা খুঁজিনি, শুধু মাথার ঠাঁইটুকুন...

দুবেলা আহার, এরবেশি স্বপ্ন দেখেনা
চোখের সামনে পুড়ে যায় নিজ পরিচয়
কীইবা থাকে পুড়ে গেলে? মানবতা?
তাকে ঘুম পাড়িয়ে দেয় স্বার্থের ইয়াবা।

পবিত্র কিতাব খুলে দেখো, কোথায় তুমি?
হঠাৎ হঠাৎ সরীসৃপের দেখা মিলে যায়...
মানুষ হতে কশেরুকা থাকতে হয় জানি
কবির কলম নীরব, মরচেধরা কলমে
কান্না আঁকার জন্য নেই কোনো শিল্পী

বিনোদন দাতাদের অল্পতেই মেলে বাড়ী
পুড়ে যাওয়া ঘরের হিসাব কেইবা জানি
ধর্ম দিয়ে কীইবা হয় যদি মানুষই না থাকে!

এতকিছুতেও গল্পটা অপরিবর্তিত থাকে
আলোর দিকে তাকিয়ে নিঃসীম অন্ধকার।

Friday, 4 November 2016

s

পৃথিবীটা আজ খুব অসুস্থ। হানাহানিতে ভরে গেছে মাটি, সহিষ্ণুতার জায়গায় ধান্ধা, ধৈর্যশক্তি নেই হয়ে গেছে। মানুষ আগে হুজুগে লাফাতো, আর এখন লাফানোর জন্য কোনো হুজুগই লাগেনা। ধর্ম পালনে নিয়মিত নয়, অথচ ধর্ম রক্ষায় কি প্রচেষ্টা। হাসিও পায়, কষ্টও লাগে।

Tuesday, 1 November 2016

সত্তা

সত্তা
ইমেল নাঈম

পেঁজা তুলোর মতো উড়ছি সারাদিন— গন্তব্য জানিনা,
বিবেকের কাঠগড়ায় দাঁড়িয়ে এক অদৃশ্য অপরাধী
প্রান্তিক চোখে বুনে রাখে গোপন ব্যথা আর জিঘাংসা

বিচারক গোপনে সারছেন বিচারকার্য, অদৃশ্যকালিতে
লিখলেন দৈনন্দিন জীবনের অপরাধের জটিল হিসাব
আমি অন্ধ কিন্তু জগত দেখি স্পষ্ট চোখে। অন্তরাত্মা
ঘুমিয়ে অনেকদিন। ডাকিনি কখনো, আবার ডেকেও
ভাঙাতে পারিনি জীবনের গানে আর গল্পের মোহনায়
পাপ ঢাকতে আয়োজন করি লোক দেখানো উৎসব
পরিনামে বাড়তে থাকে লৌকিকতা, নির্বাক দূরত্ব।

প্রেম নিয়ে প্রত্যাশার পারদ কমে আজ শূন্যের কোঠায়
ভালবাসতে গিয়ে আবিষ্কার করি স্বার্থপর এক মুখ
গির্জার যিশু ছলছলে চোখে তাকিয়ে দেখে মানুষ
আমার চোখেমুখে জ্বলজ্বল করে লোভ আর লালসা
আমি হিসাব রাখিনি প্রেমের অংকের, প্রতিদান নেই
বলেই  হয়তো একমুখো প্রেম আজ স্বর্গ নরকে এসে
কড়া নেড়ে জানাচ্ছে প্রেম সরে গেছে অনেক দূরে।

হায় মুহাম্মদ, কোথায় এতো প্রেম, যেখানে লালসা
গিলে খাচ্ছে আমাকে, পৃথিবীতে কেইবা আছে বাকী
যে আমাকে শেখাবে ভালবাসার মন্ত্র, আমি ঈশ্বর
থেকে সরে গেছি অনেক দূরে, যেখানে নিজের ছায়া
ব্যতীত অন্য কোনো সত্তাকে খুঁজে পাওয়া যায়না।

Saturday, 29 October 2016

সেপ্টেম্বরের চিঠি

সেপ্টেম্বরের চিঠি
ইমেল নাঈম

সেপ্টেম্বরের চিঠিগুলো অকারণেই পরে থাকে
সময় পেরিয়ে যায়, সামনের পথে দাঁড়িয়ে
কেউ নেই, তবুও অপেক্ষা থাকে, অবসরে
চায়ের কাপে একমুঠো বিষণ্ণতা লিখে রাখি।

এরই মাঝে ব্যস্ত সড়কের পাশে স্পেনিশ গিটার
বাজিয়ে গান গাইতে থাকা ভিক্ষুকটিও হাতের
ভাজ খুলে খেললো টুয়েন্টি নাইনের ট্রামকার্ড।
সেপ্টেম্বর, শুধু সেপ্টেম্বরই জানে প্রতীক্ষারত
কবি দুরবিন চোখে তাকিয়ে থাকে সামনে।

সেপ্টেম্বর জানে, চিঠিগুলোর কোনো প্রাপক নেই
উড়োচিঠির মতো উড়তে উড়তে আজ এখানে
আমি প্রত্নতাত্ত্বিক, সারাদিন মাটি খুঁড়ে বের করি
প্রেমের উপাখ্যান। এখনো ব্যর্থ নাবিকের মতো
হিসেব করি জোয়ারভাটার স্রোতের বেগ,

পাটাতনে বসে সময় কাটাই, একাকি সময়ে সঙ্গ
দেয় সেপ্টেম্বরের চিঠিগুলো, প্রেরক খুঁজে
পায়নি প্রাপকের নাম, আমি খুঁজে বের করে
সাজিয়েছি তাদের, সেখানে আমার অতীতের
কোনো গল্প নেই, স্মৃতিপটে মুছে গেছে সব নাম...

চিঠি

চিঠি
— ইমেল নাঈম

প্রিয় বাংলাদেশ খুব ইচ্ছে করে ওমরের মতো একটা চিঠি লিখি তোমাকে। নীলনদকে লিখেছিলো ওমর, আমি লিখবো তোমাকে। ওমর ছিলো খলিফা, আমিও রাষ্ট্রের মালিক যদিও বাস্তবে নই, শুধুই খাতা কলমে। ওমরের ক্ষমতা ছিলো অনেক, আমার কলম ছাড়া আর কোনো ক্ষমতাই নাই। 

আমার খুব ইচ্ছে একটা চিঠি দিই তোমাকে। শুনেছি কিশোরীর তাজা রক্তে নাকি নীলনদ ভরে উঠতো জলে। না পেলে শীতকালে অকারণেই শুকিয়ে চৌচির। চিঠির ভিতরে কি লিখা ছিলো আমি জানি না, শুনেছি নীলনদ চিরদিনের জন্য পানিতে ভরে উঠেছিলো ওই চিঠি পেয়ে।

চিঠি লিখতে বসে শুরু করলাম, কিন্তু শুরুর লাইনটা কি হবে সেটা জানি না। প্রযত্নে কাকে দিবো — সেটাও অজানা। একবার এক আল্লামার কণ্ঠে শুনেছিলাম, নীলনদকে লেখা চিঠির লাইনবিশেষ। আমিও ওটার অনুকরণে লিখা শুরু করলাম, হে বাংলাদেশ যদি তুমি মহান আল্লাহ্'র ইচ্ছায় নারী নির্যাতন, ভিন্নধর্মাবলম্বীদের উপরে এহেন নির্যাতন করো আমার কিছু বলার নাই, যদি তোমার স্বেচ্ছায় এমন হয় তবে আল্লাহ্'র কসম তোমার মতো....

বাকি অংশটুকু আমি আর লিখতে পারি না। আমার খুব ইচ্ছে হয় ইদানীং বাংলাদেশকে একটা চিঠি দিই, নীলনদকে যেভাবে দিয়েছিলো ওমর।

Tuesday, 25 October 2016

পাঁচ বছরের জন্য এলিজি

পাঁচ বছরের জন্য এলিজি
ইমেল নাঈম

পাঁচ বছরের জন্য কোনো কবিতা হয়না
পাঁচ বছর জানেনা জীবনের অর্থমূল্য
পাঁচ বছর থাকে জীবন মৃত্যুর সন্ধিক্ষণে
অপরাধ বোঝেনা, কিন্তু সে অপরাধী...

পাঁচ বছর এককাতারে দাঁড় করায় পৃথিবী
পাঁচ বছর কী জানে অন্যায়কারী অনেকে
মুখোশের আড়ালে লুকিয়েছে জনারণ্যে!

পাঁচ বছর জানেনা সাইফুল্লাহরা জন্মেছে
কারো পেট ফুটো করে, পাঁচ বছর বোঝেনা
সাইফুল্লাহরা আঁচলে ঘাম মোছে কপালের
উনত্রিশ বছর বোঝেনি সাইফুল্লাহদের
অসুস্থ মানসিকতার আগাগোড়া বিশ্লেষণ,

উনত্রিশ বোঝে পাঁচের মানে হয়না অংকে
হতে পারে সেটা আড়াই কিংবা সাড়ে তিন
হতেও পারে সাত বা আট বছরের পৃথিবী

উনত্রিশ বছর জানে এতকিছুর পরেও
সাইফুল্লাহরা বেঁচে থাকে অন্যায় নিয়ে
মরে পচে যায় পাঁচ বছরের অনেক গল্প।

Saturday, 22 October 2016

প্রিয়তাকে চিঠি

প্রিয়তা,

মাঝে বয়ে গেলো অনেক সময়। শরতের আকাশ ডুবে গেলো হেমন্তের বুকে। অনেক রাত পেরিয়ে গেছে নির্ভার স্বপ্নে। বাঁধা ছিলো না প্রজাপতির। ভাবি, শান্তিনিকেতনি কুয়াশা বুঝি প্রতি বিকেলে পা ভিজায় প্রিয়তার। দীর্ঘ বিরতি লিখে রাখে অনেক না বলা অভিমান। আমিও রেখেছি কিছুটা তার। বাকিগুলো ঝরে গেছে সকালের শিউলির মতো। লিখতে বসে অবিরত এটাই ভাবছি, প্রিয়তা অবসরে কী তুমি জীবনানন্দ পড়ো নাকি জীবনের আনন্দ কে পাঠ করো সারা সময় ধরে! মনে কী পড়ে বলেছিলে কবিতার বাঁধনে আঁকড়ে ওঠা রোমাঞ্চকর কোনো অধ্যায়ের নাম!

তোমার চিঠি বহুকাল পাইনি, শারীরিক অসুস্থতাও অনেকটা দূরে ঠেলে দিয়েছিলো আমায়। আমিও লিখতে পারি নি অনেক দিন। আসলে অনেক দিন বললে বাড়িয়ে বলা হয় খুব। মাত্র দুমাস। কিন্তু মনে হয় কতকাল। পুরোনো চিঠিগুলো পড়ছিলাম হসপিটালের সিটে বসে। কত স্নেহ, আবেগ আর ভালবাসা এসে জড়ো হলো চিঠিগুলোতে। জানো তো আমি স্বপ্নবিলাসী। কবিতার রঙে তোমাকে সাজাতে থাকি অনবরত। মুখবইয়ের মাঝেও অনুপস্থিত এই কয়েকদিন। প্রতিদিনই যেনো নতুন করে বাঁচার এক আনন্দ।

কোনো এক ডাকপিয়ন বলেছিলো তোমার মন খারাপ। বিশ্ববিদ্যালয়ের অভ্যন্তরীণ সমস্যা। ছাত্ররাজনীতি। তৃতীয় বিশ্বে আদর্শিক রাজনীতি কোনোকালেই কি ছিলো? আমার মনেই পড়ছে না। এখানের রাজনীতিকদের বাদ দিয়ে যদি প্রথম বিশ্বের দিকে তাকাও, দেখো হিলারি ক্লিনটন আর ডোনাল্ড ট্রাম্প ক্ষমতার লোভে কী নির্লজ্জভাবে আক্রমণ করছে একে অপরকে। এরাই আবার পৃথিবীকে সভ্যতা শেখাতে কত বড়বড় ডায়লগ ঝাড়বে ক্ষমতায় আসার পর। আর পৃথিবীও ভদ্রতার নামে মেনে নেয় তাদের সব কথা। কখনো বলে না তাদের এইসব নোংরামোর কথা। কবিতা ভালবাসি, তাই রাজনীতিও। আমারও সাম্যের গান গাইতে ওই মিছিলে হাঁটতে ইচ্ছে করে। অন্যায়ের বিরুদ্ধে সুউচ্চ কণ্ঠস্বর শুনে আমি ভাবি কোকিলের ডাক, সামনেই অনাগত এক বসন্ত।

সাম্প্রতিক সময়ে নোবেল নিয়ে ঝগড়া দেখলাম মুখবইয়ের কল্যাণে। আমার নিজেরও প্রিয় ছিলো হারুকি মুরাকামি। নাহ, উনি নন। পেলেন বব ডিলান। পুরোই থমকে গেলাম এই খবরটা দেখে। এরপরই শুরু হলো নোবেল প্রাইজ নিয়ে নানা ট্রল। আমি তো হতবাক। তবুও ভালো হাসপাতালের শেষ কয়েকটা দিন ভালোই কেটেছে বিতর্ক প্রতিযোগিতা দেখে। ওহ, আমাদের এখানকার প্রথম সারির একটা পত্রিকা একটা মজার কাণ্ড করেছে। নাম টা বলছি না, তবে পত্রিকাটে আমি দৈনিক সুবহে সাদিক নামেই ডাকি। ওনারা বব ডিলানের একটা গান কে বিচ্ছিরি ভাবে অনুবাদ করেছে। এইটা মানে গানটা তোমাকে হোয়াটস আপে পাঠাবো। আমার অবাক লাগে এতো উপরের মানুষ এতো খারাপ অনুবাদ কেমনে করে?

বাবা আশাকরি ভালো আছেন। আর এতোদিনে তোমার মেঠোপথের ক্যাম্পাসে ছাত্রছাত্রীদের পদচারণায় প্রাণোচ্ছল হয়ে উঠেছে। গান কেমন চলছে? কতদিন শুনিনি। জানোই তো মাত্র মেডিক্যাল ফেরত, সেভাবে সময় দেয়া হয়নি তোমাকে। আর তোমার মন খারাপের পরিমাণ কমবে আশাকরি এখন থেকে। আমার পরীক্ষাও কাছিয়ে এলো। কিছুই পড়িনি। সামনে যে দুর্যোগের ঘনঘটা। অবশ্য আমি একাডেমিক পড়াশোনাকে এতোটা গুরুত্বও দিই না। তাই ওটা নিয়ে ভাবছিও না খুব একটা। পড়াশোনার দরকার মননের জন্য, মানুষ হয়ে ওঠার জন্য।

তোমার নতুন চিঠির অপেক্ষায় রোদ্দুর। প্রিয়তা জানো তো, সব কবিতার মানে হয় না। প্রতিটা ভালবাসিও কেনো জানি বাসি হয়না। প্রতিটি মুহূর্ত মুহূর্তের মতোই কথা বলে। আসলে কবিতার মোড়কে যাই লিখে যাই তার সবটাই তোমাকে ভালবাসার গল্প।

ফিরে আসা
রোদ্দুর
চট্টগ্রাম।