Sunday, 14 May 2017
জীবন ছবি
Saturday, 13 May 2017
জ্যামিতিবিদ
জ্যামিতিবিদ
ইমেল নাঈম
কম্পাসজুড়ে লাল নীল বৃত্ত, কুয়াশার গভীরতায়
বুজে আসে চোখ, পথ আঁকতে গিয়ে এঁকে ফেলি
ট্রাপিজিয়াম, জ্যামিতীয় ভাষার কিছু নকশাকে
কাঁটাছেঁড়া করতে গিয়ে জন্ম দিচ্ছি কবিতাদের।
আজও প্রবাহিত নীল নদ তার গভীরতা নিয়ে
অদৃশ্যমান সুতো বেঁধে দিয়েছে হাত আর পা,
দৌড়তে পারিনা সামনে, পিছনের পথ অচেনা
জীবনকে তিনপাতার উপন্যাসের আদলে মমিবন্ধী
করেছে সময়, ছোটোখাটো ভুল আর অবিশ্বাস।
ক্যাফেটেরিয়ায় কফি খেতে বসলে অচেনা দুচোখ
আমকে অনুসরণ করে, পাখিদের ভাষাকে রপ্ত
করতে হলে পাড়ি দিতে হতেও পারে সুদূর ব্রাজিল
কফির স্বাদ মিটে গেলে হারিয়ে যায় চোখ দুটো
পুরো দৃশ্যকে জাদুকরের ইল্যিউশন মনে হয়
মনেমনে আওড়াই, অহেতুক অনুসরণ করোনা
অচেনা বেশে। আমিও পলাতক মরুর দেশে।
সীলগালা করে দিয়েছি বুকের বাম ক্ষতকে
ওখানে কোনো স্থাপনা নেই, আছে প্রত্নতাত্ত্বিক
আবরণ, যেগুলোকে ভুলবশত ফেলে গেছে কেউ
বালুতে বৃত্ত আকি, মাঝে ব্যাস, সামনে নীলনদ।
প্রবাহিত ঢেউ জানে জ্যামিতিবিদের যত ভুল।
প্রকাশকালঃ ৩০ বৈশাখ ১৪২৪
Friday, 12 May 2017
স্মৃতিহীনের কোলাজ
— ইমেল নাঈম
কাটাকুটি খেলা, আঁকছিলাম ছবি চিকচিকে বালুতে
কখন যে এলে টের পাইনি, সেই থেকে লুকিয়ে ফিরছি
যাত্রাপথে মুখ দেখাবো না ভেবেও দেখে নিয়েছিলে
সহযাত্রী হাতেগোনা— সামনে এসে বাড়ালে হাত,
সেই থেকে কথায় পেরিয়ে যাচ্ছিলো তুষারমণ্ডিত সময়।
আমার আঁকা কার্টুন, তোমাকে দেয়া পোস্টকার্ড —
স্পর্শগুলো জীবন খুঁজে পায়, ঘুম আর জাগরণের মাঝের
সত্যটুকু কে বৃত্তবন্দী করে গ্রাস করে ফেলেছো অবসর
উড়ে আসে আবার। অঝোর ধারায় ভিজতে থাকি, নিজের
ভিতরের কোমলতা জানায় হেমন্তের বৃষ্টির রোমাঞ্চটুকু।
ভিজতে ভিজতে আমি স্বচ্ছতা লাভ করি নিজের কাছে।
দৌড়ে যাই নিজের কাছে, ডানা ঝাপটে উড়ছে রেইনবো
হাত বাড়ালেই মুঠোয় বসে, আদর খায়, আহ্লাদিত হয়
উলটে গেছে দৃশ্য, যুদ্ধের পরে বদলে গেছে পঞ্জিকাবর্ষ,
দু’জন স্মৃতিহীন মানুষ একে অপরকে ভালবেসে ফেলে।
মৃত্যুর পরোয়ানা
মৃত্যুর পরোয়ানা
ইমেল নাঈম
চোখ বেঁধোনা, আমিও মাতাহারির মতো
মৃত্যুর মঞ্চে দাঁড়িয়ে তোমার দিকে ছুঁড়বো ফ্লাইং কিস
তোমার ছোঁড়া বুলেট আমাকে আহত করে যাবে
মৃত্যু তো লিখে রেখেছিলো তোমার ওই নীল চোখ।
প্রস্থান সুনিশ্চিত জেনেও অট্টহাসিতে মাতবো
দেখবো সেই হাসির অনুরণন কতটা কাঁপায় বুক
সংসার জীবন অতীত হলেও পুতুল খেলায় টিকে
বর্ণাঢ্য জীবন, ধনাঢ্য জীবন থেকে সার্কাসের দলে
মুক্তো খচিত বক্ষবন্ধনীর যুদ্ধের কলাকৌশলে বাঁচে
প্রিয়তমা চোখ বেঁধোনা, মৃত্যু সমনজারি হলেও
প্রেমিকদের পৃথিবী দেখতে হয়, আনন্দ উপভোগ
করে সামনের দিকে এগুতে হয়। মৃত্যুর মুখোমুখি
দাঁড়ালেও পৃথিবী অনেক সুন্দর, প্রেমিক চোখ
জানে মৃত্যু পরোয়ানা লোকদেখানো প্রলাপ কেবল।
প্রিয়তমা, কিংকর্তব্যবিমূঢ় নীরবতা ভাঙুক অবশেষে
মুক্ত চোখে সুন্দর দেখে প্রস্থান লিখা আনন্দের।
প্রকাশকালঃ ২৯ বৈশাখ ১৪২৪
Thursday, 11 May 2017
চিহ্ন
ইমেল নাঈম
আঁকি স্বপ্নাতুর চোখে এক চিলতে মেঘ,
বুনোহাঁস উড়ে গেছে বসন্তের শ্লোগান আওড়ে
নীল আকাশে শুভ্রতা ছড়াতে গিয়ে দেখি
প্রান্তিক চাষাবাদে দেয়াল ঘড়ির বুকে ক্ষত।
কষ্টিপাথরে লিখি নিজের ভাগ্য, হাতরেখাকে
বিশ্লেষণ করলে ভেসে আসে গোপন ধ্বনি
ছিঁড়ে খাচ্ছে কেউ, টের পাচ্ছিনা পতনের দৃশ্য।
স্রোত পাড়ে এলেই দুষ্টু, মাঝখানটায় উলটো
গাঙচিল জীবন গভীরতা পরিমাপ করেনি
দুর্বোধ্য জীবনের সালতামামিতে পাখির গান,
মধ্যদুপুরে শুনি মর্মর ধ্বনি, কোনো চিহ্ন নেই।
চিহ্ন
চিহ্ন
ইমেল নাঈম
নীল ক্যানভাসে কিছু বিমূর্ত স্মৃতি লিখে রাখি
আঁকি স্বপ্নাতুর চোখে এক চিলতে মেঘ,
বুনোহাঁস উড়ে গেছে বসন্তের শ্লোগান আওড়ে
নীল আকাশে শুভ্রতা ছড়াতে গিয়ে থামি
প্রান্তিক চাষাবাদে দেয়াল ঘড়ির বুকে হাত।
গভীরতা মাপতে বসি, দিনক্ষণ ঠিক করিনি
কষ্টিপাথরে লিখি নিজের ভাগ্য, হাতরেখাকে
বিশ্লেষণ করলে ভেসে আসে গোপন ধ্বনি
ছিঁড়ে খাচ্ছে কেউ, টের পাচ্ছিনা পতনের দৃশ্য।
সিনেমার সিক্যুয়েল ভেবে ভুল করি বারবার...
দেনার পরিমাণ শূন্য, প্রাপ্তিও জমেনি খাতায়
স্রোত পাড়ে এলে দুষ্টু হয়, মাঝখানটায় উলটো
তবু গাঙচিল জীবন, সমুদ্রের গভীরতা মাপে নি
দুর্বোধ্য জীবনের সালতামামিতে পাখির গান,
মধ্যদুপুরে শুনি মর্মর ধ্বনি, কোনো চিহ্ন নেই।
প্রকাশকালঃ ২৭ বৈশাখ ১৪২৪
Tuesday, 9 May 2017
সৎকার
সৎকার
ইমেল নাঈম
সৎকার করে ফিরছি, চোখের নিচে জমছে কালি
নির্ঘুম রাতে লিখছি ব্রাহ্মীলিপির সনেট
প্রেমের কবিতা লিখতে বসে খেয়াল করিনি
কত লাশ ঝরেছে নামে, বেনামে, আনাচে, কানাচে
যখন একাগ্রচিত্তে প্রেমের কবিতা লিখছিলাম
তখন আঁচল খুবলে নিয়েছিলো কারা যেন…
মদ্যপ শুয়োরেরা খেলারছলে খেলো কোমলতা
দৈনন্দিন ইস্যুর হিসাব মিটলে মিটে যায় ক্ষুধা
পোশাক বদলালেও ভিতর আজো অপরিবর্তিত
চোখধাঁধানো বিজ্ঞাপনের ভিড়ে চোখে পড়েনি
বাবা মেয়ের ট্রেনে কাটা পড়া ছবি, কোনো এক মা
মেয়েকে রক্ষা করতে গিয়ে পলাতকা সেজেছেন
ব্যাংক লুট হবার সময় প্রেমের কবিতা লিখছিলাম
সমাজের প্রতি দায়বদ্ধতা আমি প্রেমেই লিখেছি
কবিতায় শব্দকে জড়ো করে হয়েছি ফেরিওয়ালা
অনেক অপ্রিয় সত্যকে এড়িয়ে গেছি ইচ্ছে করে।
শেষ নিঃশ্বাসের সময় আমি বসেছিলাম নির্বাক...
সৎকার করে ফিরছি, সৎকার করে ফিরছি নিজের
সৎকার করে ফিরছি, সততা, ন্যায়নীতি, আদর্শের
সৎকার করে ফিরছি ছাপ্পান্ন হাজার বর্গমাইল ভূমির।
প্রকাশকালঃ ২৬ বৈশাখ ১৪২৪
সৎকার
সৎকার
ইমেল নাঈম
সৎকার করে ফিরছি, চোখের নিচে জমছে কালি
নির্ঘুম রাতে লিখছি ব্রাহ্মীলিপির সনেট
প্রেমের কবিতা লিখতে বসে খেয়াল করিনি
কত লাশ ঝরেছে নামে বেনামে আনাচে কানাচে
দৈনন্দিন ইস্যুর মতো মিটলে মিশে যায় ক্ষুধা
যখন প্রেমের কবিতা লিখছিলাম তখন
আঁচল খুবলে নিয়েছিলো কারা যেন…
মদ্যপ শুয়োরেরা খেলারছলে খেলো কোমলতা
পোশাক বদলালেও ভিতর আজো অপরিবর্তিত
চোখধাঁধানো বিজ্ঞাপনের ভিড়ে চোখে পড়েনি
বাবা মেয়ের ট্রেনে কাটা পড়া ছবি, কোনো এক মা
মেয়েকে রক্ষা করতে গিয়ে পলাতকা সেজেছেন
ব্যাংক লুট হবার সময় আমি প্রেমের কবিতা লিখছিলাম
সমাজের প্রতি দায়বদ্ধতা আমি প্রেমেই লিখেছি
কবিতায় শব্দকে জড়ো করে হয়েছি ফেরিওয়ালা
কিছু অপ্রিয় সত্যকে লিখিনি ইচ্ছে করেই।
শেষ নিঃশ্বাসের সময় আমি বসেছিলাম নির্বাক...
এখন সৎকার করে ফিরছি, সৎকার করে ফিরছি নিজের
সৎকার করে ফিরছি, সততা, ন্যায়নীতি, আদর্শের
সৎকার করে ফিরছি, ছাপ্পান্ন হাজার বর্গমাইল ভূমির।
প্রকাশকালঃ ২৬ বৈশাখ ১৪২৪
৪৮
৪৮
এক চিলতে রোদ হেসে খেলে ওঠে মধ্য দুপুরে
ব্যস্ত অফিসপাড়া, চোখ ডুবিয়ে রাখছো তুমিও
মাঝেমাঝে উঁকিঝুঁকিতে রেখে দিই শান্তির বর্ণন
পৃথিবীর ঋণপত্রের ছেঁড়া তমসুকে লিখিত
গল্প কথার মাঝে বাস্তবের কোনো যোগসূত্র নেই
ঘড়ির কাটা দশটা ছুঁলে লেবু চা'র স্বাদ আসে
টোস্ট বিস্কুটকেকে মুখে পুড়ে ভদ্রতায় ডুব দিই
চোখ কী জানে, প্রতিটি অব্যক্ত প্রেমই ইকেবানা
তীব্র অসুখের সুখে ভেসে যায় আমার কলম
প্রেম আবিষ্কার করি চোখের অবাক স্পর্শ ফাগে
কাজের ফাঁকফোকরে জন্মানো স্পর্শনীয় মুহূর্তরা
বাগানের দৃষ্টিনন্দন স্থাপত্যকলা দৃশ্যমান হয়।
অন্যপ্রান্ত জানেনা ইশারায় অনাবাদী ফসলের
পূর্ণতা পায় সংসৃষ্টি, মন পাঠিকা কতটা সময় বাকী!
লুকোচুরি খেলার ফাঁকে উদ্বেগ গড়ে তুলে সখ্য
সময়ের সাথে আমার অংক... তোমার কাটাকুটি...
লুকোচুরি খেলায় পেরিয়ে যায় ফেরারি জীবন
অনেক হল খেলা, নেফারতিতি এবার পূর্ণতা আঁক!
Sunday, 7 May 2017
স্মৃতির মেঘপুঞ্জ
Saturday, 6 May 2017
পৃথিবীর মানচিত্র
পৃথিবীর মানচিত্র
ইমেল নাঈম
অবাক হলেও সত্য — ইদানীং ভুলপথে নামেন ঈশ্বর
ঘড়ির কাটা ব্যস্ত নিত্যনতুন আবিষ্কারের নেশায়
ঋণগ্রস্ত পৃথিবীকে দিই বাধ্যতামূলক অবসর
অনেক বোঝা আগলে বর্তমানে সেও অথর্ব
দৃশ্যত, প্রেমের গল্পে ঘুরেফিরে একই বিজ্ঞাপন
পলাশ ঝরছে, স্মৃতিকাতর হচ্ছি, ফিরেও আসছি।
ঈশ্বর আপনি বলুন, মুখোশের ব্যবহারবিধি।
অনেক হিসাব বাকী জেনে উদ্বিগ্ন হবেন না
এলেবেলে দাগ আছে সামান্য, বাকিটুকু নেই...
কবিতায় মানুষকে ভালবাসতে বলেন যে কবি,
সেও হয়তো ধাপ্পাবাজ এবং মামলার আসামী
নীতিবাক্য ঝাড়তে ঝাড়তে পৃথিবীও প্রবীণ
সবুজ শূন্যতায় ভরে যাচ্ছে, বটবৃক্ষ থেকে দূরে
থাকি, তার ছায়াতলে সব ছত্রাক আর পরজীবী
আমি সবুজ খুঁজতে বেরিয়ে দেখি পুড়ছে সব
হিসেব মিলেনা, অমিলকে নিয়তির খাতায় রাখি
শব্দহীন পথ চলে গেছে গোরস্থানে, কল্পনায় ভাবি
মুখ আর মুকের পার্থক্য আঁকছেন কোন ঈশ্বর?
আলোয় ঝলমলে রাস্তাঘাট, অন্ধকার নামেনা
শহরজুড়ে পালিয়ে বেড়াচ্ছেন এক কবি, সমাজ
থেকে দূরে, নিয়মকানুনের বাহিরে কবিতায়
লিখছেন নীতির কথা, তারপাশে অন্ধ পুরোহিত
শ্লোকের সুরে প্রতিদিনই নামিয়ে আনেন আযান।
প্রকাশকালঃ ২৩ বৈশাখ ১৪২৪
Thursday, 4 May 2017
ভিন্ন পথ
ভিন্ন পথ
— ইমেল নাঈম
ভুল স্পর্শের পর অনুশোচনায় ভেসে যায় বিছানা
দুঃস্বপ্নের অর্গাজমে লিপিবদ্ধ বিভ্রান্তিকর স্মারকলিপি
নীলচুল একমনে আঁকছে সমকামী রাতের কলরব
কলেজ বাস অবসরে গুঁজে রাখে একশলাকা দেশলাই।
আনন্দের বর্ণনায় রেখে দিয়েছি নগ্নতার পরিমাণ
সমুদ্র সৈকত সেও তো সাক্ষী — প্রেমের খোঁজে
পা মাড়িয়ে গেছো দূর্বাঘাস, রঙতুলির অর্কেস্ট্রায়
শব্দ লিখে রাখি — ভিন্ন রকমের স্বপ্ন বুনতে বসলে
বুঝতে পারি প্রতিটি চুমুর মানেই উষ্ণতার আস্বাদ।
বখাটে স্পর্শ মুছলে ঘুমের আড়মোড়া ভাঙতেই বলি
ঘুমচ্ছিলাম! ডাকলে কেন? সময় হয়নি তাকানোর
এরপর সকালটা অচেনা, আয়নায় মুখ দেখে বুঝতে
পারি বিচ্ছেদের নামতা পাঠ করছে সমপ্রেমে।
ভুল বোঝাবুঝিরর অবসানে ব্যর্থ দুটো কফি কাপ
দুজনের মাঝে গড়ে ওঠে অচেনা দেয়াল, ভাঙতে
গিয়ে আটকে যায় প্রেমিক হাতুড়ি, চিত্র প্রদর্শনীতে
দ্রুত বদলে গেলো পরিচিত নীলচুল ভিন্ন কোনো রঙে
আমিও পেরিয়ে যাই মিলনায়তন অলক্ষ্যে, ভিন্নপথে।
প্রকাশকালঃ ২১ বৈশাখ ১৪২৪