Monday, 3 June 2019

স্মৃতির ক্যারাভান
ইমেল নাঈম

মূলত মানুষ একাই হয়। নিঃসঙ্গতার নিবাস গড়ে অলক্ষ্যে।
ভোরের আযান থেমে যাচ্ছে, স্মৃতির ক্যারাভানে নেই সংকেত
মৌন হওয়া মানুষগুলো হেসে ওঠে অকারণে

একোরিয়ামের জীবন, দানাপানিতে ভেসে যায় সূর্যমুখী
জানালায় উড়ে আসে সূর্যকিরণ, মুখস্থ জীবন পাড়ি দিচ্ছি,
অহেতুক সময়ক্ষেপণে কেটে যায় জীবন নৌকো,
ঢেউহীন নদী পাড়ি দিয়ে সাজছি বীর,

বীরগাথা থেমে গেলে শূন্যতার চাষাবাদ হয় কেবল,
মুহূর্মুহু আক্রমণে ভেসে যায় কল্পনার যত বিবাদ
বিরহ আঁকছে যে কবি তার চোখেও ঘৃণার নহর,
ব্যর্থতা আলিঙ্গন করা মানুষগুলো হাসে অকারণে

খেয়ালখুশিতে উড়িয়ে দেয় জীবনের শখ আহ্লাদ
অনুভূতিহীন মানুষ মিশে যায় অন্য মানুষের সাথে
ভুলের বৃত্ত পেরিয়ে যাই মূর্ছনার শেষ পর্যায়ে,
নীরবতা ভাঙতে বসে ছিঁড়ে ফেলি সুরের স্বরগ্রাম

ভুলের মাশুল টেনে ছিঁড়ে ফেলি মানুষের বন্ধন।

Friday, 1 March 2019

ক্যানভাসে...

ক্যানভাসে...
ইমেল নাঈম

থেমে যাবার আগে একটু দাঁড়ানো যেতেই পারে
মলিন ক্যানভাসে আঁকতে পারো মায়াবী পোর্ট্রেট
উড্ডীন পাখিদের দেশে রেখে দাও যন্ত্রণা
মিথ্যে প্রলোভন এঁকে দিচ্ছি দূরত্বের নিয়ম মেনে

একোরিয়ামের নীলচে জল, কোথাও নেই শান্তি
মেঘ গড়িয়ে নেমে আসে অশান্ত কিছু শব্দবাণ
ভাবছি, কে কার— কতটা দূরত্ব মাপা হয়
ক্যানভাসে ছবি আঁকা শেষ হলে প্রাপ্তিফল শূন্য হয়।

তবু ভ্রান্তি ফেরি করে ছুটে যাই দুরান্তের পথে
মায়ার জীবন কিছু দুর্বোধ্য চিত্রপট আঁকতে ক্লান্ত
আঁকা শেষ হলে মুছে দিতে হয় অভিমান বুকে...

হরিত সময়ের মূল্য দিচ্ছে কোন সে মহাকাল?
কতটা আড়াল হলে মানুষও হয় তার ছায়া
জানে না কিছুই তার ক্যানভাস, 
          জানে না কিছুই রং-তুলি,
শুধু গভীরে পাড় ভাঙা এক শব্দ শোনে, নীরবে।

Tuesday, 26 February 2019

ইলিউশন

ইলিউশন
ইমেল নাঈম

ভুলে যাই নি ব্যাকরণের প্রথম পাঠ। শিখেছিলাম গাছের সালোকসংশ্লেষণজুড়ে থাকে মৌন এক উপলব্ধি। গ্লোবাল ওয়ার্মিং গিলে খাচ্ছে তার পুরোটাভাগ। বিনিদ্র সময় লিখে রাখছে একাকিত্বের কিছু মেঘ প্রহর। দিন পেরিয়ে গেছে, হাতেখড়িতে ক্লান্ত সময় যাপন আজো গেয়ে যায় পুরোনো গান।

ভুলে যাওয়া যাপন— মানচিত্রে ভিন্নধর্মী গান... বখে যাওয়া মানুষের কণ্ঠে বকাটে পাখির আর্তনাদ লিখে রাখো জীবনের সব চোরাবালি। মুছে ফেলো— মিথ্যে আবরণে ঢেকে রেখো না চোখ। কিছু দৃশ্যপট চুপিসারে বলে যায়— মেঘের কাছে হেরে যাওয়ার গল্প ঠিক অন্যরকম। পোস্টমডার্ন ছায়া অথচ প্রাচীণ গোত্রীয় এক ঘোড়া টেনে নিয়ে যাচ্ছে মায়ার কলস।

মুখ মুছে গেছে। ভুলের বৃত্তে আটকে গেছে। দিনের হিস্যা নিয়ে অচেনা এক পথচারী। গল্পের ভাঁজে শুকনো ফুলের পাপড়ি। অপঠিত অধ্যায়ের অনেক গল্প আমাদের পঠিত নয়। কথা ছিলো, তোমায় অভিবাদন জানাবে পথে ছড়ানো জেসমিন। অথচ, দিনশেষে বুঝলে কেউ কখনো কারো কাছে আসে না।

আমাদের দেহমন্ত্র মুছে গেছে। বৃক্ষরা মৃত। নগণ্য জীবন শুধু থমকে যায়। হাতের ভাঁজে কাল্পনিক কিছু সময়যাপন। ভুলের ব্যাসার্ধে উত্তরপত্র শূন্যতায় ঠাসা। মৌন সময়গুলো উত্তরহীন, উত্তাপহীন কিছু মুহূর্তকে এঁকে যাচ্ছে চোরাবালির টানে।

Sunday, 24 February 2019

ধারাপাত

ধারাপাত
ইমেল নাঈম

ভাষারা মলিন হবে। রুক্ষতা এঁকে দিবে প্রলোভন। জীবনের পলেস্তারা খসছে। অনুভব করছি অন্যরকমের মায়ার জীবন। দূরের দ্বীপ বিচ্ছিন্নতার গান গাইতে গাইতে থেমে গেছে। জীবনের আয়োজন থেমে যাওয়া বাঁশীর সুর, যা গাইছে শুধু নির্জনতার সংগীত।

দেয়ালে ঝুলছে। নিজের জন্য অবশিষ্ট নেই কোনো কিছুই। প্রান্তিক জীবন কৃষক শ্রমে সমূলে উৎপাটন করছি ভালোবাসা। বৃক্ষের মতো হত্যাকে লিখছি। নিজেদের নিয়ে হারিয়ে ফেলেছি ভালোবাসার নীল চাদর। শিকড়হীন গাছের শিকড়ত্ব আকঁতে ক্লান্ত হচ্ছি খুব।

মায়াময় সময়, নিজের কাছে রেখে দিচ্ছি বখে যাওয়া সময়। কতটা দূরে সরে যেতে পারি। হিসেবে রাখি নি প্রত্যাখ্যান সমগ্রের দুঃখবিলাস। নিজের জন্য রেখে দিয়েছি ইরানি জাফরান, যার ঘ্রাণে লিখে রাখছো ভালোবাসার সকল ছোবল।

চুপিসারে পালিয়ে যাচ্ছে দীর্ঘশ্বাস। অনুভবে মুছে যাচ্ছে বুকের ভেজা অংশ। ক্লান্ত চোখের পাতাজুড়ে ব্যথা, দীর্ঘশ্বাস এঁকেবেঁকে চলে গেছে রূপকথার নদীর মতো। নিজেকে নিয়ে ভাসিয়ে দিচ্ছি তারই বিষাক্ত জলে। জীবন পুড়ে যাওয়া মানচিত্রের মতো, ভুগোল শিক্ষক হয়ে যায়... আর বারবার বলে এভাবে নয়, ওভাবেও নয়...।

আসলে কোনোভাবেই কী নয়...!

Friday, 22 February 2019

বিক্রয় মূল্য

বিক্রয় মূল্য
ইমেল নাঈম

ঢেকে যাচ্ছে দূরের আলাপন। মেঘ ছুঁয়ে যাচ্ছে ভ্রান্তিকাল।
মুহূর্ত মুছে যাচ্ছে, নিয়ে যাচ্ছে অহেতুক কালিমা—
পথ এঁকে নিচ্ছে নির্বাক সময়ের নির্যাস—
হাতের রেখায় মুছে যাচ্ছে প্রান্তিক আলাপের দুঃখ।

ছুঁয়ে দেখছি নিজের জন্য রাখা সময়গুলোকে
ভুলো মন ভুলিয়ে দিচ্ছে, হারিয়ে ফেলছি নিজেকে।
ক্রোধের সংজ্ঞায় রেখে দিচ্ছি নীরবতার ভাষা...।
ক্রান্তিকালে লিখে রাখছি জীবনের কিছু আয়োজন

মুছে যাচ্ছে জীবনের দিনপঞ্জি, গৎবাঁধা রুটিনের
ফাঁকে অশ্রুজলে ভিজিয়ে নিচ্ছি দিনের ক্লান্তি
থাকুক কিছু সময়— কথারাও বিমূর্ত হয় শুধু—
জীবন আঁকড়ে ধরছি, বিনিমিয়ে অপ্রাপ্তির খাতা
ভর্তি হচ্ছে মহাকালের নামে, মূর্খমুখ মূক নই।

বধিরতা কেটে যাচ্ছে— নিয়ে যাচ্ছে দূরের পথে
নিজেকে নিয়ে আয়োজনগুলো ক্রমাগত ব্যর্থ হয়
মূর্ছনা থেমে যাক— ঢাকবো নিজেকে কালো কাপড়ে...

মুহূর্তে, বিমূর্ত আলাপনে টিকে থাকে কাহিনির শেষে
আবরণে ঢেকে থাকে অচেনা প্রচ্ছায়া, নিজেকে ফেরি
করছি, বেচে দিচ্ছি চোখের জলে, গায়ে ক্রয়মূল্য লেখা—
যেন অপ্রাপ্তির জীবন তাড়া করে পলাতক আসামি...

Wednesday, 6 February 2019

বর্ণমালা

বর্ণমালা
ইমেল নাঈম

একদিন থেমে যাবে সকল আয়োজন
মানুষগুলো বিচ্ছিন্ন দ্বীপের মতো ছড়িয়ে-ছিটিয়ে
থাকবে সাড়াহীন, অথচ নিঃশব্দের তীব্রতাও
মাপা হয় নি আজতক, মেঘের ভাষা পড়তে
বসে হারিয়ে ফেলছি পৃথিবীর সব আয়োজন।

ভাষার প্রতিশব্দে কিছুই বাকী নেই আর,
দিনের অংকে বর্ণমালায় কেবলই হাহাকার
চুপচাপ ঝরে যাবে পাহাড়ি ফুল, বুনো ঘ্রাণে
আচমকা নেমে আসবে ঘন মহুলার বন,

নীরবতার ভাষা পড়ছি প্রতিটি মুহূর্তেই
মিলিয়ে যাচ্ছে জীবনের প্রতিটি আয়োজন
দায়বদ্ধতার ফাঁকে হেসে ওঠে কবিতার খাতা
অক্ষরবৃত্ত, স্বরবৃত্ত, মাত্রাবৃত্তের মাঝেও
হাসে দুঃখিনী বর্ণমালা, চিহ্ন আঁকছি শুধু...

কোথাও কোনো সংকেত নেই, মৌন সবকিছু
ভাগ করে নিচ্ছি অনুভব, অনুভাব; নিজের
জন্য নেই বাক্যের ফোয়ারা, আনন্দের ঝর্ণায়
ভাসিয়ে নিচ্ছে জীবনের মায়াভরা উপলক্ষ

উপলব্ধি করতে করতে বুঝে নিচ্ছি সৌন্দর্য
মেঘের ভাজে উড়ছে স্বর, মূর্ছনায় রাখছি
অস্তিত্ব, বর্ণমালার কাছেই লিপিবদ্ধ সব ঋণ।

Saturday, 26 January 2019

সকাল

সকাল
ইমেল নাঈম

এভাবেও এড়িয়ে যাওয়া যায়! গভীর শূন্যতা নিয়ে ডুবে যায় চাঁদ। সুবহে সাদিকের আকাশ লিখে রাখে যাযাবর প্রেম। মুঠোয় আটকে রাখি ছাতিমফুলের স্পর্শ। ভালোবাসার নেশায় নিঃস্ব হয়েছে যে প্রেমিক তাকে উড়িয়ে দাও আকাশে। সে দেখুক আকাশের রঙ কী! নিঃসঙ্গতার বিপরীত মানেই জুড়ে থাকা নয়, নয় কারো পাশে থাকা। একটা শৃঙ্খলা যাকে নিয়ে ভাবা যেতে পারে একটা সকাল।

শরীরের সাথে লেপ্টে থাকে অজস্র মন খারাপের উপকরণ। রঙহীন, স্বাদহীন ফেরিওয়ালা কাঁধে নিয়ে যাচ্ছে যাবতীয় প্রহসন। যেন ছোট্ট বেলায় সেই ঘুড়ি ওড়ানো বিকালের কিছু আলোকছটা। মনে হচ্ছে এইতো নিভে যাবে পুরোটা নিয়ে।! কোথাও তো লুকিয়ে থাকে অলক্ষ্যে, মেঘের দেশ পাড়ি দিলেও আকাশ ছোট হয়ে মুঠোবন্দী হয় না।

ইরানি গোলাপ পড়ে আছে বিকালের পথে। শীতের দিনে শিউলি ফোটে না, শহুরে আকাশ চিনে না পাখির গান। নাগরিক অরণ্য মানেই ইকেবানা আর বনসাই। উঁচু অট্টালিকার ভিড়ে আকাশটিও দখলে নিয়ে নিবে কর্পোরেট বেনিয়া। সুযোগের অভাবে সৎ মানুষ হিসেবে জেলজীবন পার করছি প্রত্যেকে।

আকাশ দখলে চলে গেলো সেই কবে। তার আগে দখল হলো মাটি। খেলার মাঠে জন্মালো শপিংমল। মানুষ বন্দী হলো মুঠো ভর্তি যন্ত্রের কাছে। অসুস্থ হচ্ছি না খুব। সুস্থতা নিয়েও থাকছে সংশয়। আলটপকা আটকে যাচ্ছি একটা অনিচ্ছাকৃত সকালের কাছে, যার কাছে আমার কোনও ঋণ নেই।

Monday, 21 January 2019

নিষ্প্রাণ নগরী

নিষ্প্রাণ নগরী
ইমেল নাঈম

গাছেরা কবিতা পড়ে না বলেই সিমেন্টের গাছ পুঁতছ নগরজুড়ে...
আপত্তিগুলো এখনো মাথাচাড়া দিয়ে জানান দেয়, 'আছি'
মাঝে বয়ে যায় অজস্র না জানা নহর, চোরাবালির সৈকত
অপেক্ষায় পেরিয়ে যাচ্ছে হরিত দৃশ্যপট, খুঁড়ে ফেলেছি রাস্তা...

নদীর পানিতে কারখানার ক্যামিকেল, নাব্যতাহীন নদীর
আছে ফেলে আসছি জাগতিক অভিমান, অভিনয় শেষে
হিসাব করিনা, কে সুখী? কতটা পারদ উঠলে উষ্ণতা
মাপা যায় অসুখের। বিত্তের পিছনে দৌড়ছে দোপেয়ে।

অর্থ দিয়ে কিনছে সামাজিক সম্মান, প্রভাব প্রতিপত্তি।
পাড়ায় পাড়ায় বাড়ছে উপাসনালয়, বাড়ছে অন্যায়
তার সমান্তরালে পাল্লা দিয়ে? কিশোর চোখ ডুবেছে
মুঠোফোনে, অন্তর্জালের খেলায়, সামাজিক মাধ্যমে...

কারো কাছে নেই অভিযোগ, অন্ধকারের পথে ছুটছি শুধু
আলো নেই, দূরের টানেলে কেবলই বিভীষিকার মরিচীকা
বিনিদ্র জীবন যেন এক্সিবিশন, আমরা সবাই ক্লাউন...
বিচিত্র অঙ্গভঙ্গিতে ঢেকে দিচ্ছি শৈশবের সকল আয়োজন।

মুছে যাচ্ছে সবুজের পাঠ, কৃত্রিম আবেশ ছড়াচ্ছে সৈকত,
বুকের জমিনে অনন্য এক হাহাকার, অভিধানজুড়ে শূন্যতা।

Saturday, 19 January 2019

পুরস্কার

পুরস্কার
ইমেল নাঈম

পদ্ধতি এখন অনেক সহজ। নিজেকে প্রকাশ করাটাও।
চাইলে মুদ্রিত হয়ে যায় কাঁচাপাকা, রূঢ় অনুভূতিগুচ্ছ
বিজ্ঞাপনও সহজলভ্য, ডাকযোগে পৌঁছে যায় জিনিস।

এখন ডায়েরির পাতাগুলো শূন্যই থাকে,
লুকনো থাকে না প্রিয় অনুভব,
গোপন কথা, প্রেম, অপ্রকাশিত যা আছে
মৃত্যুর পরে খুঁজেও পাওয়া যাবে না কিছু।

তবুও লোক দেখানো একটা মিছিল ছুটে যায় শহরে
শ্লোগান নেই, নীরবতাকে নিয়েই ছুটে চলে সেটি
শো-অফের পরে থাকে দামী মোবাইলের কারসাজি

মুখবইতে সহাস্যে ঝুলে নানাবিধ প্রাপ্তির খবর
শুভেচ্ছায় ভরে যায় মাথা হতে পায়ের তালু
নড়েচড়ে বসেন তারা, এই বুঝি জাতে উঠলো।
মুষ্টিমেয় বন্ধুদের ঘিরে রচিত সকল কার্যকলাপ

অথচ, অমরত্বের পথে হাঁটছে বামুন,
বনসাইয়ের চোখে তারাও অনেক বড়
আর, অমরত্ব অভিধানেরও বাইরে...

Friday, 18 January 2019

ক্ষরণ

ক্ষরণ
ইমেল নাঈম

দরজার ওপাশে কেউ অপেক্ষায় থাকে
বিমূর্ত শব্দগুলো খেলছে— দূরত্ব আঁকা
শেষ হলে অচেনা হই আমরা।

দিনান্তের সিগন্যালগুলো ধ্রুপদী স্পন্দন
নিয়ে থেমে যায়— ফানুশ ওড়া আকাশ
লিখে রাখছে নিঃসঙ্গতার মুহূর্ত।

প্রসঙ্গ বদলে যাক। আমাদের হিসাব
গোপনে রেখে দিচ্ছি— মুচলেকায় রেখেছি
পালিয়ে যাবার সব উপকরণ—
বিনির্মাণে লুপ্ত হচ্ছে বাসনা—

মুখস্থ বিদ্যায় রাখছি জীবন,
প্রজাপতি নয়, উড়ে যাচ্ছে ডানা
শান্ত নদীর কাছে পেতেছি হাত—

বয়ে যাচ্ছে শ্রান্ত, ক্ষান্ত জীবন
ক্ষয়ে যাওয়া পাড়ের মতো।

Tuesday, 11 December 2018

অনুভব
ইমেল নাঈম

মুছে দিলাম গোপন ইচ্ছেগুলো
অজস্র কষ্টকে আঁকছি খাতায়
ভুলের বৃত্ত পেরোবো বলে দৌড়ে
গেলাম শুধু— জানা হলো না
এক কক্ষপথ কতবার ঘুরলাম।

মিলিয়ে যাচ্ছে সব দাগ, অনুভব...
অভিমানে কেটে যাচ্ছে পুরো সময়
বেলায়, অবেলায়; অবহেলাই
পরম সত্য হিসেবে সামনে আসে।

অনুভূতিকে মাটি চাপা দিই,
রোজই মিছিল নামে এই শহরে
ছুটছে মানুষ... ছুটছে স্বপ্ন...

হ্যামিলনের বাঁশীওয়ালার মতো
আমাকে নিয়ে যাচ্ছে মূর্ছনায়
নিজেকে নিয়ে ভাবছি না কিছুই
সপে দিচ্ছি পরিস্থিতির কাছে।

পরাজয় নাকি জয়! থাকুক সেটি
তর্কবিতর্কে, অনুভব করছি কেবল
কবিতার চাদরে হারানো একটি মুখ।

Monday, 10 December 2018

মুছে দাও— থাকবে না জাগতিক মায়া
প্রচ্ছন্ন আবেশে জড়িয়ে থাকবে শুধু
নিজের জন্য নেই কোনো উপহার
আত্মকেন্দ্রিক মন হলুদ স্বপ্ন গড়তে ব্যস্ত

নির্বাসন লিখে রাখি। পরিকল্পনাহীন
চোখ গেয়ে যায় মরমি গান,
আয়নায় নিজেকে দেখি, থাকে নিশ্চল
এক আহ্বান— উপেক্ষা করতে পারি না।

এইখানে সোনার হরফে লেখা ছিলো,
ছিলো বুকের গভীরে চাপা অভিমান
রাজ্যহীন এক রাজার মতো ছুটে বেড়াই
প্রলেতারিয়া'র মতো ছুটছি শুধু

নিঃস্ব হয়ে ফিরছি
ক্লান্ত হয়ে যাচ্ছি
প্রলেতারিয়া'র জীবনে...

Saturday, 8 December 2018

জীবনের সাপলুডু

জীবনের সাপলুডু
ইমেল নাঈম


হঠাৎ থেমে যেতে পারে জীবনের আয়োজন। কথার বাঁকে জমাটবদ্ধ ঋণের বহর। বদলে যাবার মন্ত্রে বদলে যাচ্ছে গোটা শহর। ক্লান্ত অবসাদগ্রস্ত পৃথিবীর জন্য রেখে গেলাম কয়েকগুচ্ছ কবিতা। যেখানে আবেগের তোড়ে ভেসে যাওয়ার গল্প নেই। নেই কোনো প্রতিশ্রুতি। সস্তা কথার পাবলিসিটি নেই। বইয়ের ভাঁজে অদৃশ্য কালিতে দৃষ্টি বিনিময় আছে। আছে মেঘের সাথে প্রণয়ের লুকনো ছাপ।

লুকোচুরিতে পেরিয়ে যাচ্ছে স্বর্ণালি সময়। প্রলেপে ঢেকে দিচ্ছি খসে যাওয়া পলেস্তারা। নির্বাক জীবনের বাঁকে মুহূর্তগুলো দামী হয়। তারা আপন মনে খেলতে থাকে। ধ্বংসের সামনে দাঁড়িয়ে থাকি, ভেসে যায় আমাদের জীবনের ভেলা। স্রোতের সাথে মিলেমিশে যায় যাই, স্পষ্ট কোনো গন্তব্য লেখা নেই। পরিণতি ভাবতে ভাবতে সমূহ বিপদ নিয়ে ভাবা হয়ে ওঠে না কারো। অথচ সাবধানতার খোলসে আটকে ফেলেছিলাম নিজেদের।

চেকপোস্টে প্রহরী, সামনে যাওয়া নিষেধ। আইন অমান্য হলেই সাজা। নিজেকে গিনিপিগ ভেবে বসে থাকি। ঘড়িতে সময় মাপি। দিনের হিসাবে অপরীক্ষিত থাকে সকল আয়োজন। ভেসে যেতে যেতে পেতেছি সংসার— অথৈ সাগর নাকি ধূধূ বেলাভূমি— আজো যাচাই করে উঠতে পারি নি। ঐকতানে সুর নেই, তাল কেটে গেছে খঞ্জনির। উদাত্তকণ্ঠটিও থেমে গেছে অবেলায়।

নিজের জন্য শোকগাথা লিখছি। কাল্পনিক একটা আবেশ ঘিরে রেখেছে আমাকে সবসময়। নিজেকে বেঁধে ফেলছি আর ছুটে চলেছি পায়ে শিকল পরা হাতির মত। প্রজাপতির দিকে চোখ পড়লে নিজেকে অসহায় মনে হয়। কিছুই তো নেই সাথে তবুও গায়ের সাথে লেপটে থাকে অনেককিছু। যেমন একরাশ ধূসর সময়, কিছু মলিন স্মৃতি আর একটা নষ্ট হওয়া ক্যানভাস। আমার তো আর কিছুই নেই তোমাকে দেয়ার...