Wednesday, 30 December 2015
স্বপ্ন
Monday, 28 December 2015
কনফেশন
Sunday, 27 December 2015
অন্ধকার ৬
Wednesday, 23 December 2015
পোস্টমর্টেম
অন্ধকার গলিতে আটকে যেতে পারে আমাদের পরিচয়
দিন ফুরালে আমরা কেউ নই কারো। ছায়াবৃত্তে অবিশ্বাস
লুকিয়ে সারি দৈনন্দিন নৈশভোজ, তৃপ্তির ঢেঁকুর গিলতে
বসে আবিষ্কার করি খুব অচেনা নিজেকে, আয়নার চোখে
রাতের বিদ্যুৎ সাশ্রয়ী বাতির নিভু নিভু আলোকচ্ছটা
মুছে দিলে পুরোটা জুড়ে শুধু বাকি থাকে নিঃসীম অন্ধকার
এরপর অদ্ভুত চিন্তার পসরা সাজিয়ে গল্পের বিন্যাসে
প্রার্থনায় ডেকে যাওয়া নাম, ঢেকে যাওয়া নামের মিছিলে
নিঃশব্দে হেঁটে চলা পথের বুকে শুভ্রতার পাঁচিলে হারিয়ে
ফেলার মৃদু ঝাঁকুনি টা বড্ড রহস্যময় এখনো কানে বাজে
বিছানায় দৌড়ে চলে নিয়ন্ত্রণহীন গাড়ী, স্মৃতির কার্নিশে
কান পাতলে শুনি হৃদস্পন্দন, অনুভব করি প্রবাহিত
শিরা উপশিরা ভেদ করা রক্তকণাদের মুক্ত বিচরণে
উড়ে আসা ক্লেশ, ক্লেদহীন মাখামাখি সবাক চিত্রাঙ্কনের
পর অবশিষ্ট স্পন্দন মুছে যায়, জেগে থাকা চোখের ভিড়ে
অর্ধ অবচেতন মনের উঁকিঝুঁকি শেষে ক্লান্তির ভ্রমণে
কোথাও কোনো বৃত্ত নেই, নেই দীপ্ত শ্লোগান মুখর আজান।
Monday, 21 December 2015
একটা সাদামাটা দিন
ব্যাখ্যাত অনেক প্রশ্নের জানতে গিয়ে হারিয়ে
গেলো জন্মের দাগ, যাত্রা পথে অনর্গল ভ্রম।
এই কম্পাসের কাটায়, মানচিত্রের বুক জুড়ে
অর্গলে যে কাঁটায় ক্ষতবিক্ষত হয় অরণ্যের
সবটুকু আলিঙ্গন, তার কোনো সেবিকা নেই।
নেই নেই বলেই ঠায় দাঁড়িয়ে অসভ্য সমাজে
আঁধার ঘরে চব্বিশ ইঞ্চির একটা জানালা,
এনার্জি সেভিংস লাইট, সদ্য আগত শীত
কুয়াশার চাদরে আটকে যাওয়া লেপ ঘুম
অলসতার মোড়কে আটকে যায় বেড টি।
দিন ছোটো হতে হতে সূর্য সাক্ষাৎকার কঠিন
চোখ বন্ধ করে আরো কিছুটা সময় পার
আলসে দিনের মধ্যদুপুরে ঠিকই লুকিয়ে
সোনালি আকাশ মিষ্টি হাসিতে লুটিয়ে পড়ে
পশ্চিমে। পত্রিকার পাতা উল্টাই না আর...
সন্ধ্যাকালে বোকাবাক্সে চাটুকারিতার বিজ্ঞান
প্রতি ঘণ্টায় তোঁতা পাখির মুখস্ত বুলির
মতো রাশিফল পাঠিকা সহাস্য মুখে দিচ্ছেন
নিউজ বুলেটিন। পাড়ার দোকানে চা খেতে
বসে শোনা যায় অন্য লোকের মন্দ বিজ্ঞাপন।
সাদামাটা গল্পের সমাপ্তিতে ব্যক্তিগত প্রাপ্তিরা
অবহেলিত হতে থাকে খেয়ালে বেখেয়ালে,
ক্ষতরা ক্রমাগত বড় হলেই নাকি বিজয়ী হয়
একটা সাদামাটা দিন আমাকে এর চেয়ে
বেশি কিছু দিতে পারেনি কখনো, কোনোদিন।
Saturday, 19 December 2015
জ্বর
তাপমাত্রা পরিবর্তন এখন অনুভূতির শূন্যতা
ছাড়া আর কোনো আবেদন রাখে না
এন্ড্রোয়েডের হেডফোনে ভেসে আসে ব্লুজ
গিটারের ছয় তারে যেন ভিন্ন সুরের খেলা
নিজের কাছে অচেনা হলে ফেরার পথটি
মিশে যায় অনেকগুলো পথের মাঝে,
নিজের বলে কোনো কিছুই থাকে না।
অধিকার, প্রাপ্তি, অপ্রাপ্তি, ঈর্ষাবোধ, সখ্য
এসব শব্দগুলো হারিয়ে যেতে থাকে
অভিধান থেকে অনেকদূর...
ঠাণ্ডায় লেপ কাঁথার ভিড়ে ঋতু কাঁপানো
সময়টাও গ্রহণে অপারগ শরীরে দেখি
মানুষের উঁকিঝুঁকি, মুখবই জুড়ে ব্যক্তিগত
প্রচারণায় চোখে পড়ে দেখা সাক্ষাৎ,
ব্যক্তিগত সুখদুঃখ, অচেনা মানুষের ছবি
গেট টুগেদার কিংবা আড্ডামুখর মুখ
আমার হেড ফোনজুড়ে বাজতে থাকে
এক্সপেরিমেন্টাল রক,
প্রোগ্রেসিভ রক,
অল্টারনেটিভ রক,
ব্লুজ অ্যান্ড জ্যাজ রক,
আর টেবিলের এক কোণায় পরে আছে
উৎপলকুমার, একফ্লাক্স উষ্ণ পানি,
অর্ধেক খালি এক পাতা প্যারাসিটামল।
Saturday, 12 December 2015
ডাক
প্রতিবিম্বের ঘোর কেটে আসে দুঃস্বপ্ন
আলটপকা সময়ের কার্নিশজুড়ে
স্মৃতিদের আনাগোনা। ঘাসেদের ছুঁয়ে
ঝরে পড়ে একগুচ্ছ অবন্তিকা ফুল ।
রাত বাড়লে নীরব হয় ল্যাম্প পোস্ট
হেমন্তের কুয়াশা আর শীতের ছায়া
মনহরা সবকিছু, তবুও শূন্যতা।
ভিতরটা শুনশান, বাতিটা জ্বলছে...
ল্যাপটপে খসখস শব্দে আত্মনিষ্ঠ
এক শিল্পী নীরবে গড়ে যান স্থাপত্য।
এশট্রে জুড়ে ছাই, তবুও বেনসন
পুড়ে যায় ক্রমাগত, কফির পেয়ালা
ধোঁয়া ছড়াতে ছড়াতে ক্লান্ত নয় আর
কবিতার পাতা ভরে গেলে বেজে ওঠে
ক্লেডারম্যান, ইউটিউবে মগ্নতার
শীর্ষচূড়া ছুঁলেই রাত গভীর ঘুমে
আচ্ছন্ন হয়ে পড়ে ক্লান্তির ভিড় ঠেলে
তখন কান পেতে একটি বার শোনো
মায়াবতী নারী কণ্ঠ ক্রমশ ডাকছে
দেবাশীষ... দেবাশীষ... দেবাশীষ বলে...
ইমেল নাঈম'র কবিতা ভাবনা
বোহেমিয়ান
প্রাচীন দেয়ালের সাথে সখ্য পাততে গিয়ে অনুভূত হয়
মহাশূন্যের নীরব এক এস্রাজ কে, আত্মনিমগ্ন স্রষ্টাকে।
পলেস্তারার খসে পড়া শব্দে, ধুলো ঝড়, খড়কুটো জীবন
ভুল উপত্যকা ভ্রমণে অবিরাম ছুটে বোহেমিয়ান প্রেম,
আরব্য রজনীর রূপকথা, নিঃসঙ্গ রাজকন্যার আহ্বান
প্রতিবন্ধকতার আড়ালে হাসা অদ্ভুত হাসি — তাকেও ভয়,
চিন্তার ভাজে সকালের রোদ্দুরে ঝরে বিরক্তির উপাখ্যান
জিপসি যাযাবর, পথের পাশে পাতানো আমার সংসার
তাঁবুর ভিতরে অবিরাম ঢুকছে রাতের শীতল হাওয়া
দিনের তপ্ত বালুকণায় উটের পিঠে খাদ্যের অন্বেষণ
সময় পেরোলে যাবো নতুন কোনো শহরে জীবনের খোঁজে
প্রতিবার ভালবাসার কাছে অবহেলিত হয়ে হেরে যাই
তবু… নিক্কণের শব্দ, অদেখা হাসি, ভাবায় আমার পথকে।
প্রকাশিতঃ বুক পকেট
অঙ্গার
নিয়ন বাতির শহর, নীরবতা ভাঙার শব্দ
ক্লান্ত মুখ ছুঁয়ে যায়, মলিন পাতার স্পর্শ ধ্বনি
মর্মর করে ভেঙে পড়ে, চেয়ে থাকে অবাক চোখ।
এই দৃষ্টিপাতে ক্লান্তি নেই, শুধু মৌন রক্তপাত
অশ্রুকণা ঝরে, যেটুকু ব্যথা সম্পূর্ণ নৈসর্গিক
অপেক্ষারত এক তুমুল ঝড়, অদৃশ্য ভাঙন
পৃথিবী শান্ত হলেও ঠিকই উত্তাপ থেকে যায়।
ভঙ্গুর শরীরে উঠে দাঁড়াই, অবাধ্য যোগফল
প্রাপ্তির নিরিখে হেরে যাওয়া এক নাবিক মাত্র
প্রশ্ন করো না আর, উপভোগ্য হোক এ’ পরাজয়
কঠিন বাস্তবতার মাধ্যমে, বিজেতার কণ্ঠে স্তুতি।
পুড়ে যাওয়া হৃদয়, রক্তপাতে ভাসমান দুঃখ
জ্বালিয়ে অঙ্গার করে, গোপন রাখে নি বাকী কিছু।
অন্ধ পথিক
বিভ্রান্ত সময়ের সাথে ছুটে চলা পথ
ঘূর্ণন গতিতে দৌড়ে চলেছে ঘড়ি
ঘণ্টার কাটা শোনা যায় বারবার।
ভাবুকতা নিয়েই পড়ে থাকে মন
গল্পের শেষে টিকে থাকে অস্থির রাত
পূর্ণ চাঁদ অবহেলায় হেসে ওঠে
শোনা যায় দূরের সাইরেন, গাড়ীর হর্ন
ট্রেনের কুঝিকঝিক সুর তোলা ধোঁয়া
রাস্তার ধারে পড়ে থাকে অচেনা ফুল
থাকে অব্যাখ্যাত কী সব যুক্তি বিদ্যা!
কোথায় আগুন? শান্ত সব অলিগলি…
অহর্নিশ ডাকাডাকি, রাতবিরাতে
অন্ধ পথিক পথ খুঁজে নিশীথ রাত্রিতে।
প্রকাশিতঃ বুক পকেট
Friday, 11 December 2015
অন্ধকার ৫
Thursday, 10 December 2015
কিছু মুখ
রূপকথার মিহি শিল্প, উপদেশের ভাজে
খোদাই করা কিছু মুখ, হাসি, দৃষ্টিকোণ।
সূর্যের আলোতে পরিণত হয় চিন্তাজগত
রূপকথামালা হারিয়ে যায়, শূন্য পূর্ণ হয়
অন্যকোনো রসালো প্রাপ্তবয়স্ক উপকরণে,
সেলুলয়েড ফিতার দিনগুলো বড্ড টানে।
এই শহরের নিষ্প্রাণ সাজ বৃষ্টি দিনে,
জমাটবদ্ধ পানি, পাতাদের নীরব ঝরে পড়া
ফাঁকা রাস্তা, কেউ রাখে না হাত কারো হাতে
আয়নার সামনে নিজেকে অচেনা লাগে
চোখের সামনে যা কিছু দেখি কঠিন বাস্তব
চাকচিক্যময়তা থমকে দিয়েছে চারপাশ
কিছু নিভৃতচারী মুখ, হাসি, ইশপের গল্প
সাজিয়ে আমার দিকে তাকিয়ে আছে।
প্রকাশিতঃ বুক পকেট