ইমেল নাঈম
Tuesday, 23 February 2016
মিসরিড
ইমেল নাঈম
Monday, 22 February 2016
সমবায় সমিতি
ঠিক পরিমাণ মতো কেটে নিন আদা
ছোট্ট একটা লেবুর টুকরো ভাসান
ধোঁয়া ওড়া উষ্ণ জলে। তারও আগে
দেড় চামুচ চিনি ঢেলে রাখুন কাপে
এরপর ছোট্ট একটা টি ব্যাগ ছেড়ে
নাড়ানাড়ি করলেই জন্ম নিতে পারে
একটা স্বতন্ত্র সমবায় সমিতি।
এরপর ঢুকে যান কোনো চিপাগলি
এরপর শুরু হোক টিয়াপাখির নামতা
কীর্তন গাইবার কিছু লোক তো আছে!
এখানেও থামা যাবে না একদম
কারণ নিজের সময়ের সেরা নিজে
এই বিশ্বাসটুকু জাপটে ধরে বাঁচুন।
কালি মন্দিরের ঢাকের শব্দে সবটা
কেউ শুনবে না। নিজেরাই নিজেদের
পিঠ চাপড়ে দিন সকাল হ'তে সাঁঝ
সবার সামনে গাইবেন সমবেত সঙ্গীত
যদিও সবার মেরুদণ্ড একই মাপে গড়া
হালকা বাতাসে নড়ে ওঠে অবলীলায়
কটমটে শব্দে প্রকাশিত সমবায় সমিতি।
এরচেয়ে চলুন নির্লজ্জ হয়ে পুনর্নির্মাণ করি
ভাই ভাই কবিতা সমবায় প্রাইভেট লিঃ
পিঠ চাপড়ানো সাহিত্য’র হোক পুনর্জন্ম।
Saturday, 20 February 2016
কপাল
স্বপ্ন দেখার রঙটুকু নীলচে বিষাদ হলে কী হতো!
হয়তো শারীরিক ওম খোঁজা কিশোরীটি হারাতো
তার মাথায় গুঁজে দেওয়া লালচে শিশু গোলাপ।
গোলাপ এখানে মূখ্য নয়, গতকাল রাতে বাসে
আমার সহযাত্রী নারী তাকে দেখে মনে হোলো
ডিপ্রেশনের রোগী।
খুল্লাম মন্তব্য শুনে তুমি হয়তো বোঝো নি
এতে বয়ে পড়া শ্লেষটুকু কোনো কবিতা নয়,
সেইটুকু অধিকার আমাদের দেয় নি মায়া আঁচল
বরং আমার রাত্রিকালীন দূঃখের প্রতিশব্দ হতে
পারতো সে...কিন্তু ক্ষণিকের আবরণে মুছে
যাবে বলেই কিছু শব্দের উৎপত্তি হলো।
শব্দগুলোকে চিনে রাখলাম জানালার ফাঁকে
যে যেতে চায় তার জন্য তালা চাবির অংক নয়
খালি রাখা ওয়ারপড্রোবটা নিক নতুন কেউ!
তুমি ক্লান্তি মুছে দাও আমার! অথচ,
ওই আঁচল কখনো ছোঁয় নি আমার কপাল।
Wednesday, 17 February 2016
পত্র
ফিরে এসো সুরঞ্জনা :
নক্ষত্রের রুপালি আগুন ভরা রাতে;"
জানতাম সুরঞ্জনাদের সাক্ষাৎ চাইলেই মেলে না। তবে তুমি যে গোপনে পিছনে দাঁড়িয়ে সবটাই শুনতে, জানতাম না। যেদিন তোমার উপস্থিতি কানে এলো সত্যি আমি লজ্জায় পরে গেছিলাম। এরপরে তুমি আমাকে একদিন জীবনানন্দের গদ্যসমগ্র কিনে দিলে। আর ভিতরের পাতায় লিখলে, এই লাজুক ছেলেটার প্রেমে পড়ে যাচ্ছি দিন দিন। সেদিন সত্যি লজ্জাই পেয়েছিলাম প্রিয়তা।
Tuesday, 16 February 2016
বাতিল কবির কবিতা
একদলা থুথু তাও গিলে ফেললাম অবহেলায়
সাহিত্যের শিক্ষক কে বহু আগেই করেছি বহিষ্কার
তারা আমায় থামতে বলে, অথচ আমি দৌড়োবার
জন্য প্রস্তুত। মোড়ল কে দিয়েদিলাম বটতলা...
তারা সাহিত্য সম্মেলন করুক ছানাপোনার সমন্বয়ে
কেউ শেখায় আমায় যতিচিহ্ন, বলে দেয় এভাবে নয়
ওইভাবে লিখো, অতোটা প্রকাশ নয়, এতোটুকু গোপনে
আমি চোর কে চোর ব্যতীত কিছুই ডাকতে শিখি নি
আর ডাকাত কে ডাকাত বলতেই ভালবাসি
তাও আবার প্রকাশ্যে, জনসম্মুখে।
আমাকে সবাই মিলে বাতিলের খাতায় লিখে রাখে
আমি দেখি সেখানে এক ফুলের বাগান,
কবিতার চাষাবাদে জন্মেছে অজস্র পঙক্তি।
ফুলের সৌরভে মৌ মৌ করছে, ওদিকে রক্তঝরা
কলম হাঁসফাঁস করে একটু অক্সিজেনের আশায়।
ওহে নগর ঝাড়ুদার পথ পরিষ্কার রাখো
এ'পথে বাতিল কবিরা একদিন হেঁটে যাবে
যদিও তুমি ব্যস্ত ফুটপাথে চাটুকারিতার অংকে।
Monday, 15 February 2016
জীবনের পাঠ
আমাদের কোনো অন্ধকার নেই, চাইলেই ফানুশ উড়িয়ে দিতে পারি এইখানে। ঠিক এইখানটায় তোমার আমার বসত। ওইখানে একটা শানবাঁধানো পুকুর ছিলো। সেখানে সেজো চাচার মাছের ঘের। আমার ছিপ দিয়ে মাছ ধরার ইচ্ছেটাতো তুমি জানো। বংশের ছোট সন্তান মানেই অতি আদরের বাঁদর। আমার এইসব অতিরঞ্জিত ছেলেমানুষি গুলোতে কখনোই কেউ কিছুই বলতো না। সেজো চাচা তো একদম মাটির মানুষ। তোমরা থাকতে ওই খানে। মানে ওই বাড়ীটায়। দোতলা পুরনো বাড়ী, মাঝেমাঝে তোমাকে দেখতাম বাড়ীর ছাদে। বেশিরভাগ সময়েই দেখতাম না।
কখনো যে তোমাকে ভালবাসবো বুঝি নি। ভালবাসাও যে কাউকে কিছু না বলে, এইভাবে আগন্তুকের বেশে এসে মিলেমিশে যাবে বুকের গভীর কোনো প্রদেশে। আর সেটাই নিয়ামক হয়ে ছড়িয়ে যাবে পুরো শরীরে কেই বা জানতো তা। তোমার সাথে আমার কোনো কাজেই মিলতো না। এমন কি তোমার যত অভিযোগ ছিলো আমার দিকে। আমার ক্রিকেট খেলা, মাছ ধরা, ছাদে উঠে ঘুরি ওড়ানো সবটাতেই যেন তোমাকে আড়চোখে দেখার জন্য। অথচ আমার কল্পনার কোনো স্তরেই তোমার দেখা পাওয়া দুষ্কর নয় একেবারেই দুঃসাধ্য ব্যাপার।
তোমার মনির মামার কথা মনে আছে, আব্বাকে একবার বিচার দিয়েছিলো আমি নাকি তোমার কলেজে যাবার পথে দাঁড়িয়ে থাকি। তোমার হাতে ধরিয়ে দিই কোনো চিরকুট। অথচ, আমার ওই রাস্তার মোড়ে যাওয়াই হয় না একদম। সেইদিন আব্বা আমাকে বেদম মেরেছিলো, আর তার ফলাফল ১০৩ ডিগ্রি জ্বর। অতঃপর ডাক্তার বাড়ী দৌড়াদৌড়ি। জানি না, এতে কি সুখ পেয়েছিলো তোমার মামা কিম্বা তুমি। এরপর বাবা অনেকটা শিশু বাচ্চার মতো কেঁদেছিলেন। পরের দিকে এটা নিয়ে কম দেন দরবার হয় নি।
আমার কবিতা লিখার অভ্যাস টা আমার মা ব্যতীত কেউ জানতো না। আমার বন্ধু রাতুলের কথা মনে আছে তোমার। ভুলে যাবার নয়। সবাই ভুললে অন্ততপক্ষে তুমি ভুলবে না, এটা আমি হলফ করে বলতে পারি। ব্যান্ড পাগল একটা ছেলে। ছন্নছাড়া, তবে মেধাদৃপ্ত চোখ। একটা গানের দল করতো। তুমিও তো সেই দলের সাময়িক সদস্য ছিলে। তারা পুরনো ক্লাব ঘরটায় নিয়মিত প্র্যাকটিস করতো। সেটার সূত্রে তোমার সাথে আমার সখ্যের ধারাপাত। আমি অবশ্য ওটার কোনো স্থায়ী বা অস্থায়ী কোনো ধরনের মেম্বার ছিলাম না। শুধু কবিতার জোরেই ওদের সাথে মেলামেশা।
জীবনানন্দ আমার খুব প্রিয়। অবসর পেলেই ওই কবিতাটা আওড়াতাম।
"সুরঞ্জনা, ওইখানে যেয়ো নাকো তুমি,
বোলো নাকো কথা ওই যুবকের সাথে;
ফিরে এসো সুরঞ্জনা :
নক্ষত্রের রুপালি আগুন ভরা রাতে;"
জানতাম সুরঞ্জনাদের সাক্ষাৎ চাইলেই মেলে না। তবে তুমি যে গোপনে পিছনে দাঁড়িয়ে সবটাই শুনতে, জানতাম না। যেদিন তোমার উপস্থিতি কানে এলো সত্যি আমি লজ্জায় পরে গেছিলাম। এরপরে তুমি আমাকে একদিন জীবনানন্দের গদ্যসমগ্র কিনে দিলে। আর ভিতরের পাতায় লিখলে, এই লাজুক ছেলেটার প্রেমে পড়ে যাচ্ছি দিন দিন। সেদিন সত্যি লজ্জাই পেয়েছিলাম প্রিয়তা।
এরপর কলেজ লাইফ পার করে বিশ্ববিদ্যালয়। তোমার আমার প্রেমটাও মফস্বল পেরিয়ে শহরে। তোমার মনির মামা তখনও আমাকে সহ্য করতে পারতেন না। আমরাও নাগরিক শালিক দম্পতি হয়ে টইটই করে ঘুরছি এক প্রান্ত হতে অন্য প্রান্ত। তুমিও ছেড়ে দিলে গান, যদিও রবীন্দ্র শুনতে তোমার গলায়....আমাদের ডিপার্টমেন্ট আলাদা, অথচ ক্যাম্পাসে আমরা পাশাপাশি সবসময়। জিইসির মোড়ে ক্যাফেটেরিয়ায়, বিশ্ববিদ্যালয়ের ঝুপড়ি ঘর। অনেক স্মৃতি টুকরো টুকরো প্রহরে আমাদের নাড়া দিয়ে যায়।
তুমি হয়তো ভুলে গেছো। আবার মনেও রাখতে পারো। আসলে আমাদের পথ এতোটাই বেঁকে গেছে মনে রাখাটাই অনুচিত। আচ্ছা দিপুর টঙ দোকানের চা খেতে খেতে কোনো এক অঝোর বৃষ্টি তে তোমার ঠোঁটে প্রথম চুমুটা....নাহ তাকেও ভুলে যাও। আমার তো খুব কষ্ট হয় প্রিয়তা।
ইতি,
রোদ্দুর
১৭ ফেব্রুয়ারি ১৬
Saturday, 13 February 2016
রোদ্দুরের প্রেমের চিঠি
রোদ্দুরের প্রেমের চিঠি
আজ তোমার প্রতি কোনো অভিমান নেই। কোনো অভিযোগেই তোমাকে রক্তাক্ত করে ছিন্নভিন্ন করার প্রয়াস নেই। আজ ফেব্রুয়ারির ১৩, আমার ভালবাসা দিবস। প্রিয়তা বাসন্তীরঙা শাড়ীটা পরো প্লিজ। কতদিন ভাসাই না সাম্পান কর্ণফুলীর জলে। তোমার হাত ধরে আঁকি না এবস্ট্রেক্ট কোনো পেইন্টিং।
প্রিয়তা, জানোই তো সব সুর ছিঁড়ে যাওয়ার পরে যে পাগলামো টা মাথাচাড়া দিয়ে ওঠে তার নাম প্রণয়। তার নাম এও হতে পারে সর্বহারার আনন্দ। আজ অভিযোগের সকল আয়োজন বৃথা। হাত ধরাধরির এই দিনে আমি চাইছি এক মৌন সন্ধ্যা। শহরের কোলাহল পেরিয়ে লোকালয়ের আড়ালে সমুদ্র বুকে।
প্রিয়তা, পথ বেঁকে গেছে অনেক আগেই। জানি নানান অযুহাতে এড়িয়ে যেতে পারো আমাকে। তুমি তো শিখে গেছো রাস্তা পারাপারের সকল কায়দা কানুন। এখন কিছুতেই ভয় পাও না। তোমার কি মনে পড়ে না....সেই প্রথম বছরের পহেলা ফাল্গুনের কথা। আমার তো গভীর ক্ষত, পুরো শরীর জুড়ে পোস্টমর্টেম। রিপোর্ট পেলেই বুঝবে প্রেমে শহীদ, এর বাইরে কোনোকিছুই ঝুলবে না গায়ে।
তোমার তো পাহাড় খুব প্রিয়। নির্জনতা বিলাসী। আমার বিপরীত মুখেই তোমার অবস্থান। তুমি ভুলে গেছো একটা রোদ্দুর কিভাবে মিলিয়ে যায় বিশালতার মাঝে। তুমি তো জানই একটা রোদ্দুর কতটা ভালবাসার কাঙাল হয়ে প্রতি সকালে পৃথিবী কে জানান দেয় শুভ সকাল বলে। আমি সকাল সন্ধ্যা হাজিরা দেওয়া প্রেমিক। কত দ্বারে হাজিরা দিয়ে আটকে গেছি ভুল সময়ের কাছে।
সময়! তাকে নিয়ে আয়োজন অনেক। প্রিয়তা তুমি কি এখনো গান গাও? কতদিন তোমার কণ্ঠস্বর শুনি না। তোমার খালিগলায় গাওয়া প্রিয় রবি দাদুর গান। রবীন্দ্রনাথ কে দাদু বললেই তুমি রেগে যেতে। বলতে রবীন্দ্রনাথ প্রেমিক, দাদু নয়। আমি বলতাম তাহলে আমি কি? তুমি অভিমান নিয়ে বলতে জানি না। আর আমিও তোমার সামনে বেশি দাদু বলেই ডাকতাম।
তোমাকে নিয়ে কবিতাগুলোকে একীভূত করলে চার ফর্মার কয়েকটা কবিতার বই হয়ে যাবে। আমি সেগুলো কখনো কোথাও প্রকাশ করি নি। আমি চাই নি প্রকাশিত তুমি আমার থেকে ছড়িয়ে পড়ো দশের কাছে। আমি তোমাকে আমার করে পেতে চাই আর একবার। চাই আরো একবার কবিতা হয়ে ওঠো আমার কাছে। আমি লিখতে চাই আরো কয়েকটি কবিতা। আমার কলম জানে তোমার বুকের তিলের সুখ।
শীতের সময় গোধূলি বড্ড গাঢ়তর হয়। আর এমন রোমাঞ্চকর পরিবেশকে দেখতে চাই হাতে হার রেখে। নেভালে উন্মুক্ত বাতাসে উড়িয়ে নিয়ে যাক তোমার এলোকেশী। তোমার চোখে গভীর বিস্ময় নামুক আজ বিকেল ৪ টায়। আসো আর একবার কবিতা হয়ে ওঠো দেবী আমার। আমি আরো একবার প্রেম নামক চোরাবালিতে ডুবে যেতে চাই।
আমি আছি অপেক্ষায় তোমার প্রিয় গমরঙা পাঞ্জাবি তে...
অপেক্ষায়,
রোদ্দুর
১৩/১২/২০১৬
Wednesday, 10 February 2016
রোদ্দুরের চিঠি ৩
Tuesday, 9 February 2016
রোদ্দুরের চিঠি
প্রিয়তা,
অনেক দিন বাদে আবার লিখছি। জানতে চাইছি না কেমন আছো? জানি ভালো আছো। এতো ভাল আছো যে সুখও তোমাকে দেখে ঈর্ষান্বিত। শুনেছি নতুন এক জীবনের হাতছানি দিয়ে ডেকেছে। ব্যবসায়ী পাত্র। অংকে তুমি বরাবরই কাঁচা, অথচ জীবনের অংকটা মিলিয়ে ফেললে প্রথমবারেই। অনেক দিন বাদে তোমার ম্যাসেজ আমার মুঠোফোনে, আশঙ্কা নিয়েই খুলে দেখি কষ্টের এক বিশাল আয়োজন নিয়েই এসেছে সে।
অতীত মনে করি না। কষ্ট বাড়ে খুব। আচ্ছা এই তাসনিম নাকি কি যেন লোকটার নাম, সে কি জানে আমার কথা। নাকি তাকে আড়াল করেই এগিয়েছো এতোটা পথ। মাঝে কিছুদিন আগেই খবর শুনেছিলাম কোন এক প্রবাসী ছেলের সাথে ফেসবুক, ম্যাসেঞ্জারে ভালোই সময় কাটাচ্ছিলে। সেও কি আমার মতোই অযোগ্য ছিলো? নাকি যোগ্যতার মাপকাঠিতে অন্যকোনো উপাদান বেশি থাকায় সেও হারিয়ে গেলো তোমার সামনে থেকে!
নাহ, তোমাকে অপরাধীর কাঠগড়ায় দাঁড় করাবো না। বস্তুত অধিকারহীন মানুষ এতোসব করতে পারেও না। ওভারড্রপের ড্রয়ারে তোমার দেয়া চিঠিগুলো এখনো আমার সাথে কথা বলে। প্রতিটা চিঠি যেনো একেকটি স্মৃতিকথা। তারাই মনে করিয়ে দেয় তোমার আমার মান অভিমান আনন্দ বেদনা আর প্রবঞ্চনা। নাহ, প্রবঞ্চনা টা বাদই দিই। এতে করে তুমি ছোট হও না, বরং ছোট হয়ে যায় আমার একমুখো ভালবাসাটুকু।
আজ মুঠোফোনের খুদে বার্তাটুকু বুকের জমিনটা আরেকটু ভিজিয়ে দিয়েছে। আমি মোটেও কাঁদছি না, অথচ ভেতরের প্লাবনটুকু বর্ণনাতীত। যার সাথে বিরহের এতো সুন্দরতম সহবাস তার চোখে জল আসে কী করে! আমার সারাবছরই বর্ষাকাল। ফরাসি আবহাওয়ার মতো এই বৃষ্টি, এই রোদ। বৃষ্টি বললেই তুমি রোমান্টিকতায় পরে যেতে। এখানের বৃষ্টি মোটেই রোমান্টিক নয়। বরং দিন শেষে কষ্টের দিন গুজারে পার হয়।
প্রিয়তা ভালো থেকো তাই চাই বরাবরের মতো। অন্তত তোমার চিরসুখ দেখে মনে হয় আমি না হলেও অন্য কেউ তো সুখে আছে। আমি না হয় সামান্য এই জীবনে বিরহের চাষাবাদে গড়ে তুলবো নিঃসঙ্গতার খামার।
ইতি,
রোদ্দুর
৯ ফেব্রুয়ারি, ২০১৬
Monday, 8 February 2016
রাত
হেইয়াহো হেইয়া....নিচে চাপকল শ্রমিকের রাতের খবর আপাতত এটাই। এর বেশি কখনোই প্রকাশ পায় নি। বয়স্ক এক লোক বিড়ি ধরালেন। যুবক তিনজন এখনো নলকূপের কাজে ব্যস্ত।
আমার জানালা খুললেই দেখা যায়। লবণ শহরে খুব একটা ঠাণ্ডা নেই। কুয়াশা জমলেও তা ল্যাম্পপোস্টের আলো কে আড়াল করতে শেখে নি। সস্তাদরের চাইনিজ মোবাইল, ভেসে আসে হিন্দি গান, বাংলা সিনেমার গানও শুনি মন খারাপের রাতে।
আর কতদিন এমন টা চলবে জানা নেই। আমি শব্দের কাছে ফিরতে চাই। আত্মনিমগ্ন হতে চাই আমার মাঝে। শুনশান নীরবতা নামুক আমার শহরে। আমি আধ মাতাল, আরো দু চার পেগ পেটে গেলেই ভেবে বসতে পারি নিজেকে মির্জা গালিব।
এমন রাত যেনো সহজে না পেরোয়। শুনেছি এমন রাতে প্রেমিকাদের শরীর জুড়ে গোলাপের ঘ্রাণ ছড়ায়। আমি কোনকালেই প্রেমিক নই। অথচ আমি স্বর্গের অচেনা অপ্সরীদের থেকে পালাতে চাই ওই গোলাপের জন্য। আমি ছুঁয়ে ছুঁয়ে পাপড়ি সরাবো সবটা তার। আমার নেশায় চোখ ভরে আসে। সকাল এসো না আর....আমি অন্ধকার হবো।
Saturday, 6 February 2016
অন্ধকার ৯
সেবক শব্দটির মধ্যে আমি কিছুটা গ্রিক মিথলোজির নিদর্শন পাই। এমন কিছু যা দৃশ্যত অদৃশ্য, কিংবা আভিধানিক পাতায় খুঁজে বের করা কোনো স্বপ্নকল্প। তৃতীয় বিশ্বে সেবক হলেন অঘোষিত ঈশ্বর। তাকে সন্তুষ্টিকরণে মোসাহেবি করেন রাজা থেকে প্রজা, মুচি থেকে শিল্পপতি।
পত্রিকার পাতায় মাঝেমাঝে ঈশ্বরকে নিয়ে প্রতিবেদন বের হয়। আমরা ওনার ক্ষমতা বিস্মিত চিত্তে পড়ি। শিহরিত হই। ঈশ্বরের বিপক্ষে কিছু বলা মহাপাপ। আর এখানে সবাই মহাপাপী। কারণ, প্রকাশ্যে নয়, অপ্রকাশ্যে রেখে যায় যতসব আলোচনা আর মাতামাতি।
আমরা বাধ্যগত। তাই মেনে নিই সবটা ফলাফল। মেনে নিয়েও শান্ত নই। নিজেকে ভাগ্যবান ভাবি। প্রবোধ দিই, এরচেয়েও নাকি খারাপ কিছু হতেও পারে। অথচ যাঁতাকল পিষ্টে যাচ্ছে সারা দেহ।
সহ্যসীমার অতিক্রম করার পূর্বেই ঈশ্বর বলে বসেন সহ্য করুন আর একটু। আমরা তো আপনারই সেবক।